ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কাযা নামায রাসূলুল্লাহ সা. ধারবাহিকভাবে আদায় করেছেন। অর্থাৎ যেটা আগে কাযা হয়েছে সেটা আগে। তারপর পরেরটা। এগুলো অবশ্য কয়েক ওয়াক্ত কাজার ক্ষেত্রে। অনেক নামায কাজা হলেও এভাবে পড়লে ভাল হবে। এর বাইরে বিস্তারিত বিধি বিধান হাদীসে পাওয়া যাবে না। কারণ তখন মুসলিমরা নামায কাজা করতো না। ২। না, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ নয়। তবে করলে ভাল।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রামাজানের কাজা রোজা সহাবাসের মাধ্যমে ভেঙে ফেললে শুধু কাজা করতে হবে কাফফারা দিতে হবে না। এই বিষয়ে ইমাম নববী রহি. বলেন, لو جامع في صوم غير رمضان من قضاء أو نذر أو غيرهما فلا كفارة وبه قال الجمهور وقال قتادة تجب الكفارة في إفساد قضاء رمضان কেউ যদি রমাজানের বাইরে রমাজানের কাজা রোজা, মান্নাতের রোজা কিংবা অন্য কোন রোজা রেখে ভেঙে ফেলে তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে কাফফারা দিতে হবে না। কাতাদাহ রহি. বলেছেন, রমাজানের কাজা রোজা ভাঙলে কাফফারা ওয়াজিব। আলমাজমু শারফিল মুহাজ্জাব, ৬/৩৪৫।
না, কোন কাফফারা, সদাকা প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে সাবধান হবেন যেন কুরআন শরীফের সাথে এমন না হয়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কাজা হয়ে যাওয়া সালাতগুলো একটু একটু করে আদায় করার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আশা করা যায় তিনি ক্ষমা করে দিবেন। ২। দেখুন, ইস্তিগফার এর অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। আপনি যে কোন দুআ দ্বারা কিংবা নিজের ভাষায় ইস্তিগফার করতে পারেন।
ইচ্ছাকৃত নামায কাযা করা বিরাট গুনহের কাজ। তবে যেভাবেই কাজা হোক কাজা নামায পড়তে হবে। চেষ্টা করবেন শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য।ইনশাআল্লাহ এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। ওযু ছাড়া সুরা পড়া যায় তবে কুরআন স্পর্শ করা যায় না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এটা কসম নয়, সুতরাং কাফফারা দিতে হবে না।
জ্বী, কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো অথবা দশ জন মিসকিনকে জামা-কাপড় দেয়া। এগুলো না পারবেল তিনটি রোজা রাখা। আলকুরআন, সূরা মায়িদাহ, আয়াত নং ৮৯।
অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,~ উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কসমের কাফফারা নিম্নরূপ : (তিনটির যে কোন একটি) (১) দশজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো। (২) দশজন মিসকীনকে সালাত আদায় করতে পারে এতটুকু পোশাক দেয়া। (৩) ত্রটিমুক্ত একজন মুমিন দাস মুক্ত করে দেয়া। কাফফারা আদায়কারী তিনটির যে কোন একটি বেছে নিবে। যদি উল্লেখিত কোন একটি না পায় তাহলে একাধারে তিন দিন রোযা রাখবে। ইরশাদ হচ্ছে : لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ (المائدة:৮৯) আল্লাহ তাআলা তোমাদের কসমগুলোর মধ্যে অর্থহীন কসমের জন্যে পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে ঐ কসকমসমূহের জন্যে পাকড়াও করবেন, যেগুলোকে তোমরা (ভবিষ্যত বিষয়ের প্রতি) দৃঢ় কর, (অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত শপথ)। (সুরা মায়েদাহ :৮৯) সুতরাং এর কাফফারা হচ্ছে দশজন অভাবগ্রস্থকে (মধ্যম ধরণের) খাদ্য প্রদান করা, যা তোমরা নিজ পরিবারের লোকদেরকে খাইয়ে থাক, কিংবা তাদেরকে (মধ্যম ধরণের) পরিধেয় বস্ত্র দান করা কিংবা একটা গোলাম বা বাঁদী মুক্ত করে দেয়া, আর যে ব্যক্তি সমর্থ না রাখে, সে একাধারে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা তোমাদের কসমের কাফফারা।