ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা মাকতাবাতুশ শামেলার ফাতহুল বারীর নাম্বার অনুযায়ী। যে কোন প্রকাশনীর ফাতহুল বারীতে মিলাতে পারবেন। কিতাবুত তাওহীদের এর ৪নং বাব। আশা করি পেয়ে যাবেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. এর বই এ হাদিস গুলর যেই রেফারেন্স নং থাকে সেগুলো কোন প্রকাশনীর তা বইয়ের শেষে দেয়া আছে। আপনি সেখান থেকে দেখে নেবেন। দ্বিতীয়ত যখন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের কথা উল্লেখ থাকে তখন তো যে কোন লাইব্রেরীর কিতাবে খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন আপনি যেটার কথা উল্লেখ করেছেন।৭৯নং অধায়, যার শিরোনাম কিতাবুত তিব এবং ৪৫ ন্ং পরিচ্ছেদ, যার শিরোনাম, বাবুল কাহানাহ। এভাবে খুঁজলে তো না পাওয়ার কথা নয়। তাছাড়া রাহে বেলায়াতে ভারতীয় নুসখার রেফারেন্সও দেয়া আছে। এটা তো আমাদের সকল মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
আমাদের জানা নেই। অনুবাদ না হওয়ারই কথা। আর এটার অনুবাদ পড়েও তেমন কোন উপকার হবে বলে মনেও হয় না।
প্রতি রাতে সূরা ওক্বিয়াহ আমল করলে কি ধন সম্পদ বৃদ্ধি পায় এই অর্থের একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে হাদিসটি যয়ীফ। হাদীসটি হলোمَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়বে, অভাব তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শুয়াবুল ইমান, হাদীস নং ২২৬৯। তবে হাদীসটি যয়ীফ। দেখুন, সিলাসিলাতুয যয়ীফা, হাদীস নং ২৮৯। অভাব মোচনের জন্য আপনি নিম্নের দুআ দুটি বিভিন্ন সময় পড়বেন। প্রথম দুআটি দু্ই সাজদার মাঝে পড়বেন। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ সূরা আল-বাকরা, আয়াত নং ২০১।
ফজরের সালাতের পর সূরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতের কোন গ্রহনযোগ্য হাদীস নেই। কিছু দূর্বল হাদীসে আছে।
গাযওয়া হিন্দের বিষয়ে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তার ভিতর একটি হলো: সাওবান রা. বলেন, قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : عصابتان من أمتي أحرزهما الله من النار عصابة تغزو الهند وعصابة تكون مع عيسى بن مريم عليهما السلام রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার উম্মাতের দুটি দলকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। একটি দল হলেঅ যারা হিন্দুস্থানের গাওয়াতে অংশগ্রহণ করবেন আর অপর দল হলো যারা ইসা. আ. এর সাথে থাকবেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৩১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৪৪৯। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহী বলেলেছন আর শায়খ শুয়াইবর আর নাউত হাসান বলেছেন। এছাড়া আবু হুরাইরা রা. থেকে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেগুলোর সনদে দূর্বলতা আছে।
হাদীসগুলোর আরবী পাঠ লিখে পাঠালে আমাদের জন্য উত্তর দেয়া সহজ হবে। এই ধরণের হাদীস সাধারণত বানোয়াট হয়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সে যুগে কিছু মানুষের বিশ্বাস অনেকটা এরকম হয়েছিল যে, রোগ নিজ ইচ্ছায় একজনের থেকে আরেক জনের কাছে যায়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ধারণাকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছেন রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই । আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ হাদীসে খাবার খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলার কথা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৮। ইমাম তিরমিযী রাহ. এবং শায়খ যাহাবী রাহ.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সে হিসাবে ওষুধ খাওয়ার আগেও বিসমিল্লাহ বলা সুন্নাত।
এই প্রসঙ্গে স্যার রহ. এর একটি আলোচনা তুলে দিলাম। আশা করি এখানে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাযথ পাবেন। শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, ঈমানের অন্যতম বিষয় আল্লাহর রাসূলগণে বিশ্বাস করা। মানুষের প্রতি মহান স্রষ্টার করুণা অসীম। তিনি তাকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও গুণাবলী দান করা ছাড়াও তাকে মঙ্গলের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন মানুষকে বেছে নিয়ে তাঁদের কাছে ওহীর মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান দান করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এসকল মানুষকে ইসলামের পরিভাষায় নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী (النبيّ) অর্থ সংবাদদাতা এবং রাসূল (الرسول) অর্থ প্রেরিত বা দূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী লাভ করে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথের নির্দেশনা দেন তাঁদেরকে নবী ও রাসূল বলা হয়। তবে সকল নবী-রাসূলের নাম বা পরিচয় আমরা জানি না। এ প্রসঙ্গে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙঙ্গীর রহ. বলেন, কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরীস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, লূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মূসা, হারূন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইল্ইয়াস, ইল্ইয়াসা, যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)। উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত। কিন্তু কুরআনে তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (r) বলেন: مَا أَدْرِيْ أعُزَيْرٌ نَبِيُّ هُوَ أَمْ لاَ আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না। মূসা (আ)-এর খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম আ.এর পুত্র শীস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীস থেকে অন্য কোনো নবীর নাম জানা যায় না। কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। তাঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করি না। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করে অথবা এঁদের অবমাননা করে তবে সে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবে। কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারি না। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারি না যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানি না। আল-ফিকহুল আকবার, বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ১৭২।
নখ বা চুল কাটলে গোসল, ওযু বা তায়াম্মুম কোন কিছু ফরজ হয় না। বরং নখ ও চুল নিয়মিত কাটা সওয়াবের কাজ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ইসলাম সব সময় উৎসাহিত করে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَا تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَنْ قُتِلَ فِي سَبيلِ اللهِ فَهُوَ شَهِيدٌ . قَالَ: إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذَاً لَقَليلٌ. قالوا: فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي البَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَالغَرِيقُ شَهِيدٌ
“তোমরা তোমাদের মাঝে কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলেই বলে উঠল, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে যে নিহত হয়, সেই শহীদ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদ খুবই অল্প।” লোকেরা বলল, ’তাহলে তাঁরা কে কে হে আল্লাহর রাসূল?’ তিনি বললেন, “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায়, সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।” সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৪।
এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, দূর্ঘটনায় মারা গেলেও আল্লাহ রাসূল সা. তাদের শহীদ বলেছেন। আল্লাহ রাস্তায় স্বাভাবিক মারা গেলেও তাদেরকে শহীদ বলেছেন। তবে এই ধরণের শহীদদেরকে স্বাভাবিক নিয়মে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে দাফন করতে হবে। সওয়াবের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, দুনিয়ার হুকুমের দিকে দিয়ে নয়। পরিভাষায় এই শহীদদেরকে হুকমী শহীদ বলা হয়।
আর যারা যুদ্ধে নিহত হয় তারা সর্বোচ্চ স্তরের শহীদ, দুনিয়ার হুকুমের দিক দিয়ে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য, তাই তাদেরকে গোসল ও কাফন ব্যতীত দাফন করতে হবে। পরিভাষায় তাদের হাকীকী শহীদ বলে।
ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে।
তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।ইমাম ইবনে কুতাইবার বক্তব্য দিয়ে তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন যে, আবু হুরায়রা যেহেতু রাসূলের থেকে হাদীস শুনে নি তাই তার হাদীস গ্রহনযেগ্য নয়। একটা একদম ভুল কথা। সাহাবী যদি কোন কথা রাসূলের থেকে না শুনে রাসূলের দিকে সম্পৃক্ত করে বলে তাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় মুরসালুস সাহাবী বলে। আর মুরসালুস সাহবী দলীলযোগ্য এবংমানের দিক দিয়ে মুত্তাসিল ( রাসূল সা. থেকে সরাসরি শোনা হাদীসকে মুত্তাসিল বলা হয় হয়) হাদীসের মত। এই প্রসঙ্গে আল্লামা সাখাবী রহ. বলেন,
مرسل الصحابي: هو الخبر الذي أرسله الصحابي الصغير عن النبي - صلى الله عليه وسلم - ; كابن عباس، وابن الزبير، ونحوهما ممن لم يحفظ عن النبي - صلى الله عليه وسلم - إلا اليسير، وكذا الصحابي الكبير فيما ثبت عنه أنه لم يسمعه إلا بواسطة.
মুরসালুস সাহবী অর্থাৎ যে হাদীস কোন ছোট সাহাবী নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন”
এই হাদীসটি মুহাদ্দিসদের সর্বাক্যমতে জাল। মুসলিম শরীফে নেই। যারা বলে তাদেরকে বলবেন, তাহলে মুসলিম শরীফ থেকে দেখাও? এতেই সমাধান হয়ে যাবে।
জ্বী, যাবে।
না, পুরুষ মানুষে কোন অবস্থাতেই স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না। এই ব্যাপারে আলিমগণ একমত। হাদীসের প্রতিটি কিতাবে এই সম্পর্কে বহু হাদীস বিদ্যমান। সব হাদীস লেখা সম্ভব নয়। শুধু একটা হাদীস দিয়ে দিচ্ছি। আর আপনি তাকে বলুন কোথায় পরা হালাল হওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এবার হাদীসটি দেখুন: عن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : إن الله عز و جل أحل لإناث أمتي الحرير والذهب وحرمه على ذكورها আবু মুসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মাতের মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমকে হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য সেগুলোকে হারাম করেছেন। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫২৬৫; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৯৫২৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী, শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ.সহ সকল মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে স্বর্ণ মুসলিম পুরুষদের জন্য হালাল নয়। এবং এব্যাপরে কোন মতভেদও নেই। ঐ ব্যক্তি কেন এমন বলেছেন তা বোধগম্য নয়।
ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 0053 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন। পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত। উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল: ১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন। এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল: ১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14 ৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15 ৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16 ৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এগুলো থেকে বাাঁচার একটি উপায় সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে আর তা হলো পরস্পর সালাম দেয়া। এর বাইরে কোন দুআ আছে কি না আমাদের জানা নেই। ফরজ নামাজের পরে একা একা হাত তুলে দোয়া করলে কি বিদআত হবে না।
রাসূলুল্লাহ সা. একবার দুটি কবরে ডাল পুতেছিলেন। কেন এমন করেছিলেন তা হাদীসেই আছে। তিনি বলেছেন, যতদিন ডাল দুটি ভিজা থাকবে ততদিন তাদের কবরের আযাব হবে না। আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭৩৫। হাদীসটিকে শায়খ আলবানী রাহ. সহীহে বলেছেন। তবে মনে রাখবেন রাসূলুল্লাহ সা. কোনভাবে জেনেছিলেন যে, ডাল পুতলে কবরের আজাব হবে না।আর অন্যদের জন্য জানার কোন সুযোগ নেই তাই ডাল পুতলে কবরের আযাব মাফ হবে এমন বিশ্বাস রাখা যাবে না।
কোন হাদীসের মান কেমন তা জানতে হলে অবশ্যই আরবী ভাষা জানা থাকতে হবে। আরবী ভাষা না জানলে এটা সম্ভব নয়। বর্তমানে অধিকাংশ হাদীসের সহীহ যয়ীফ নির্ণয় করা হয়ে গেছে। আরবী ভাষা জানলে আপনি এসব কিতাব দেখে জানতে পারবেন। হাদীসের মান জানতে ইন্টারনেটেরও সহায়তা নেয়া যায়। তবে এখানেও আরবী ভাষা শর্ত। অন্যান্য ভাষায় এই কাজ খুব কমই হয়েছে। আরো জানতে চাইলে 01734717299
বাচ্চাদের কাঁধে নিতে কোন সমস্যা নেই। যিনি একথা বলেছেন তিনি তার মস্তিস্কপ্রসূত কথা বলেছেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ঈদের রাতে স্পেশাল কোন আমল গ্রহনযোগ্যসূত্রে পাওয়া যায় না। তবে কোন জাল-বানোয়াট বর্ণনা আছে।
ভাই, এই বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় হয়েছিল। আমি সেই উত্তরটি এখানে দিয়ে দিচ্ছি। প্রশ্নটি ছিল 63 নং প্রশ্ন। তারাবীহ বা রামাদানের কিয়ামুল লাইল: রামাদানে কিয়ামুল্লাইল আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) অন্য সময়ের থেকে অধিক তাকিদ প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه অর্থ: যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে নামায পড়বে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। 1 এজন্য রামাদানের কিয়ামুল্লাইলকে উম্মাতের আলিমগণ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সুন্নাত মুআক্কাদা বলে গণ্য করেছেন। সাহাবীগণ রামাদানে তাঁর পিছনে জামাআতে কিয়ামুল্লাইল পালন করতে অতীব আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফরয হওয়ার আশঙ্কায় তিনি একাকী তা আদায় করতেন এবং সাহাবীদেরকে এভাবে আদায় করতে পরামর্শ দেন। 2 পাশাপাশি তিনি জামাআতে রামাদানের কিয়াম আদায়ের ফযীলতে বলেন: مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ যে ব্যক্তি ইমামের কিয়ামুল্লাইল শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার জন্য পুরো রাত কিয়াম পালনের সাওয়াব লেখা হবে। 3 ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেনে। সাহাবীগণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমগণ রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায়ের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। যেহেতু শেষ রাতে উঠে তা আদায় করা অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, এজন্য অনেকেই সালাতুল ইশার পরেই মসজিদে বা বাড়িতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করে ঘুমাতেন। যারা কুরআনের ভাল কারী বা হাফিয ছিলেন না তারা অনেক সময় কোনো ভাল কারী বা হাফিযের পিছনে মসজিদে বা বাড়িতে ছোট জামাত করে তা আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ও তাঁর ওফাতের পরে প্রায় কয়েক বৎসর এভাবেই চলে। খলীফা উমার (রা) লক্ষ্য করেন যে, এভাবে মদীনার মসজিদে নববীতে ছোট ছোট জামাতে বা পৃথকভাবে একাকী অনেকেই সালাতুল ইশার পরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করছেন। তখন তিনি সাহাবী উবাই ইবন কাবকে বলেন, মানুষেরা দিবসে সিয়াম পালন করেন, কিন্তু অনেকেই ভাল হাফিয বা কারী নন; কাজেই আপনি তাদেরকে নিয়ে জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন।
পাশাপাশি তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা) নামক অন্য সাহাবীকে মহিলাদের নিয়ে মসজিদের শেষ প্রান্তে পৃথক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার নির্দেশ দেন। মহিলাদের জামাতের ইমামতি তামীম দারী (রা) নামক অন্য সাহাবীও করতেন। খলীফা উসমান ইবন আফ্ফনের (রা) সময়ে তিনি সুলাইমান ইবন আবী হাসমাহ (রা)-এর ইমামতিতে পুরুষ ও মহিলাদের এক জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায়ের ব্যবস্থা করেন। 4 অধিকাংশ মানুষ জামাতে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতে থাকেন। তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী ও যারা ভাল হাফিয ও আবিদ ছিলেন তারা সালাতুল ইশার পরে অথবা মধ্য রাতে ও শেষ রাতে একাকী রামাদানের কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. স্বয়ং সাহাবীদের কে নিয়ে কয়েক দিন রমজানের এই বিশেষ নামায তথা তারাবীহ নামায পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১২। রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে ঐরাতগুলোর তারাবীহর রাকআত সংখা নিয়ে কোন হাদীস বর্ণিত নেই। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে রাসূল সা. ২০ রাকআত পড়েছেন মর্মে যে হাদীসটি বর্ণিত আছে তা সর্বাক্যমতে দূর্বলু। কারন ঐ হাদিসের সনদে আবু শায়বা ইবরাহীম ইবনে উসমান নামে একজন রাবী আছেন যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ সহ সকল মুহাদ্দিস দূর্বল কিংব মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেছেন। 5 সহীহ হাদীস প্রমাণিত যে, রাতের নামাযে রাসূলুল্লাহ সা. এর রাকআত সংখা বিভিন্ন রকম ছিল। নিচে সংক্ষেপে বর্নণা করা হল: عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي অর্থ: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞাসা করেন, রমাদান মাসে রাসূলুল্লাহ সা.এর নামায কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি রামাদান এবং অন্য সময়ে ১১রাকআতের বেশী বাড়াতেন না। তিনি প্রথমে ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর আবার ৪ রাকআত পড়তেন। তুমি তার সোন্দর্য ও দীর্ঘতায় বিস্মিত হবে। এরপর ৩ রাকআত পড়তেন। ……….. 6হযরত আয়েশা রা. থেকে অন্য বর্নণায় আছে: عن عائشة قالت : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل تسع ركعات [ قال ] وفي الباب عن أبي هريرة وزيد بنخالد والفضل بن عباس অর্থ: হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. রাত্রে ৯ রাকআত পড়তেন ।7 ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাসান সহীহ আর শাইখ আলবানী বলেছেন, সহীহ। আয়েশা রা. থেকে আরেক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. কোন কারণে রাতের বেলায় নামায না পড়তে পারলে দিনের বেলায় ১২ রাকআত পড়তেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৫। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শাইখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। عن ابن عباس قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم يصلي من الليل ثلاث عشر [ ركعة হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, রাতে ১৩ রাকআত নামায পড়তেন। 8 ইমাম তিরমিযী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বর্ণনা বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারণে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, وأكثر ما روي عن النبي صلى الله عليه و سلم في صلاة الليل ثلاث عشرة ركعة مع الوتر وأقل ما وصف من صلاته بالليل تسع ركعات রাতের নামাযের ব্যাপারে নবী সা. থেকে যা বর্ণনা করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হল বিতরসহ ১৩ রাকআত আর সবচেয়ে কম হল ৯ রাকআত।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, রাতের নামায, রামাদান মাসে হোক কিংব অন্য সময় হোক রাসূলুল্লাহ সা. রাকআত সংখা নির্দিষ্ট করেননি। সাহবীদের থেকেও তারাবীর রাকআত সংখা নিয়ে বর্ণনা গুলোর মধ্যে ভিন্নতা আছে। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: হযরত উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তার সময়ে লোকেরা মসজিদে জামায়াতের সাথে বিশ রাকআত নামায আদায় করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ: عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً – قَالَ – وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينِ ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عُصِيِّهِمْ فِى عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ অর্থ: সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, লোকেরা উমার রা. আমলে রমজান মাসে বিশ রাকআত নামায পড়ত। তিনি বলেন, তারা একশ আয়াত পড়ত। দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হত তাই তারা উসমান রা. এর যুগে লাঠিতে ভর দিত। 9 ইমাম নববী, বদরুদ্দীন আইনি, আল্লামা যাইলায়ী, ইবনে হুমাম সব প্রমূখ মুহাদ্দীস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। 10 তবে শায়খ আলবানী ও আব্দুর রহমান মুবারকপুরী এই দুই আহলে হাদীস আলেম বলেছেন হাদীসটি সহীহ নয়। তাদের কথা ইলমের দৃষ্টিতে গ্রহনযোগ্য নয়। এই হাদীসটির বক্তব্যকে সমর্থন করে অনেক গুলো দূর্বল ও সনদ বিচ্ছিনন হাদীস (যে হাদীসের সনদ থেকে কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে যায় তাকে সনদ বিচ্ছিন্ন বা মুনকাতি হাদীস বলে)। তার কিছু নিচে দেয় হল:
১। উক্ত সাহবী (সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে) দূর্বল সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, كنا نقوم في زمان عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر অর্থ: আমরা উমার রা. যুগে বিশ রাকআত নামাযপড়তাম ও বিতর পড়তাম। মারিফাতুস সুনান লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং১৩৬৫। ২। ইয়জিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً অর্থ: মানুষেরা উমার ইবনে খাত্তারব রা. এর সময় তেইশ রাকআত (বেতার সহ) নামায পড়ত। 11 ইয়াজিদ ইবনে রুমান উমার রা. কে পাননি তাই হাদীসটির সনদ মুনকাতি। 12 ৩। আব্দুর রহমান আস সুলামী হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, دَعَا الْقُرَّاءَ فِى رَمَضَانَ ، فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ : وَكَانَ عَلِىٌّ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ অর্থ: তিনি (আলী রা.) যারা কোরআন পড়তে পারে তাদেরকে ডাকলেন। তারপর তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকআত নামায পড়াতে আদেশ দিলেন। আব্দুর রহমান আসসুলামী বলেন, আলী রাযি. তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়লেন। 13 এই হাদীসটির সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে কোন বায়হাক্কী রহ. কোন মন্তব্য করেন নি। এই কিতাবের ৪৮০৫ নং হাদীসে পৃথক সনদে আলী রা. থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ পড়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে তিনি দূর্বল বলেছেন।
এছাড়াও আরো অনেকগুলো সনদ দূর্বল হাদীস বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, হযরত উমার রা. এর যুগ থেকে বিশ রাকআত তারাবীহ সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত এবং অনেকগুলো দূর্বল হাদীস একে সমর্থন করছে, সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, বিশ রাকআত তারাবীহ সুন্নাহ সম্মত। সাইব ইবনে ইয়াযীদ থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে যে, উমার রা. উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে আট রাকআত তারাবীহ পড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যার আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، أَنَّهُ قَالَ : أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً قَالَ : وَقَدْ كَانَ الْقَارِئُ يَقْرَأُ بِالْمِئِينَ ، حَتَّى كُنَّا نَعْتَمِدُ عَلَى الْعِصِيِّ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ ، وَمَا كُنَّا نَنْصَرِفُ إِلاَّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ মুয়ত্তা মালেক, হাদীস নং ৩০২। হাদীসটির সনদ সহীহ। সহীহ সনদে সাহাবী সাইব ইবরে ইয়াযীদ থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদীসটি নিম্নরুপ: عبد الرزاق عن داود بن قيس وغيره عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أن عمر جمع الناس في رمضان على أبي بن كعب وعلى تميم الداري على إحدى وعشرين ركعة يقرؤون بالمئين وينصرفون عند فروع الفجر অর্থ: উমার রা. মানুষদেরকে একত্র করে উবাই ইবনে কাব এবং তামীম দারেমীকে ২১ রাকআত পড়ানোর জন্য ইমাম বানিয়ে দিলেন। তারা শত শত আয়াত পাঠ করতেন এবং ফজরের সময় ফিরে আসতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সাহাবীগণও মনে করতেন না যে, তারবীহর নামায নির্দিষ্ট । তবে অধিকাংশ আলেম তারাবীহ নামায ২০ রাকআত আদায় করারা পক্ষে মত দিয়েছেন। নিচে চার মাজাহাব ও অনুসৃত আলেমগণের মতামত সংক্ষেপে বর্ণনা করা হল:
১। ইমাম বায়হাক্কী রহ বলেছেন, দুই বর্ণনার (আট ও বিশ) মাঝে এভাবে সমন্বয় কারা যায় যে, প্রথমে তারা আট রাকআত পড়ত পরে বিশ রাকআত পড়ত। আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং ৪৮০২। রাকআত সংখা নিয়ে চার মাযহাব ও অন্যান্য ইমামগণের বক্তব্য: ২। হানাফী মাজহাব: يُسْتَحَبُّ أَنْ يَجْتَمِعَ النَّاسُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بَعْدَ الْعِشَاءِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ إمَامُهُمْ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ ، كُلُّ تَرْوِيحَةٍ بِتَسْلِيمَتَيْنِ ، وَيَجْلِسَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ مِقْدَارَ تَرْوِيحَةٍ ، ثُمَّ يُوتِرَ بِهِمْ অর্থ: মুস্তাহাব হলো লোকেরা রমজান মাসে ইশার পরে একত্রিত হবে এং ইমাম তাদেরকে নিয়ে পাঁচটি বিরতি দিয়ে নামায পড়বেন আর প্রত্যেকটি বিরতি হবে দুই সালাম বিশিষ্ট (অর্থাৎ বিশ রাকআত)। প্রত্যেক দুই বিরতির মাঝে সমপরিমান সময় বসে থাকবেন । এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়বেন। হেদায়া ১/৭০14
৩। মালেকী মাজহাব: মালেকী মাজহাবের প্রবীণ আলেম আল্লামা বাজী রহ. তার রচিত মুয়ত্তার ব্যাখ্যা গ্রন্থে (১/২০৮) তারবীহ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وروى نافع مولى ابن عمر : أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة. يوترون بثلاث. وهو الذى اختاره مالك অর্থ: মাওলা ইবনে উমার নাফে রহ. বর্ণনা করেন যে, তিনি মানুষদেরকে ৩৯ রাকআত নামায পড়তে দেখেছেন। তারা তিন রাকআত বিতর পড়ত । আর ইমাম মালেক রহ. এটাই পছন্দ করেছেন। 15
৪। শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, فَأَمَّا قِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصَلاَةُ الْمُنْفَرِدِ أَحَبُّ إلى منه وَرَأَيْتهمْ بِالْمَدِينَةِ يَقُومُونَ بِتِسْعٍ وَثَلاَثِينَ وَأَحَبُّ إلى عِشْرُونَ لأَنَّهُ روى عن عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ অর্থ: রমজানের নামায একাকী পড়াই আমার নিকট উত্তম। আমি মদীনাবাসীদেরকে দেখেছি তারা ৩৯ রাকআত পড়ে । তবে বিশ রাকআত আমার নিকট অধিক প্রিয়। কেননা উমার রাযি. থেকে তা প্রামানিত। আর এমনই (২০ রাকআত) পড়ে মক্কাবাসীগন। আর তারা তিন রাকআত বিতর পড়ে। 16
৫। হাম্বলী মাজহাব: প্রখ্যত হাম্বলী আলোম ইবনে কুদামা আল মুকাদ্দেসী (৬২০হি.) বলেন, قَالَ ( وَقِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً يَعْنِي صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ وَهِيَ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ অর্থ: রমজানের মাসের নাময অর্থাৎ তারবীহ বিশ রাকআত। এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। 17 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ . فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ অর্থ: এটা সাব্যস্ত যে, উবাই ইবন কাব রাযি. মানুদেরকে নিয়ে রমজানে বিশ রাকআত তারাবী ও তিন রাকআত বিতর পড়িয়েছিলেন। অধিকাংশ আলেম এটাকেই সুন্নত মনে করেন। কেননা তিনি তার করেছিলেন মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে আর তার কোন রকম আপত্তি করেন নি। মাজমউল ফাতাওয়া ২৩/ ১১২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তারাবীহ নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যারা বেশী কোরআন পড়তে পারেন তারা বাড়িতে একা একা উক্ত নামায পড়বে। আর তারাবীহর রাকআত সংখা বিশ হযরত উমার রা. থেকে সহীহ সনদে সাব্যস্ত। আর অধিকাংশ আলেমও বিশ রাকআতকে সুন্নাত মনে করেন। তবে শাইখ আলবানী সহ কোন কোন আলেম আট রাকআতের মত গ্রহন করেছেন। সুতরাং আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কর্তব্য হল অধিকাংশ আলোম যে বিষয়টিকে সুন্নাত বলেছেন সেটা মেনে নেয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা। তবে কেউ যদি এর কম বা বেশী পড়তে চান তাতে কোন অসুবিধা নেই। এমনটিই বলেছেন বিশেষজ্ঞ আলেমগণ। কেননা এটা সুন্নত নামায, রাকআত সংখা উদ্দেশ্য নয়। আরো জানতে ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত আল-ফিকহুল আকবার দেখুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আগের সমস্ত আমল কিভাবে নষ্ট হয় এই বিষয়ে বেশ কিছু আয়াত আছে। সেগুলোর মূল বক্তব্য হলো মুসলিম থেকে মুরতাদ হলে গেলে বা আল্লাহর কুরআনকে অস্বীকার করলে তার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যায়। আমি দুটি আয়াত এখানে দিয়ে দিচ্ছি: وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُوْلَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (217) যারা তাদের ধর্মত্যাগ করে (ইসলম ধর্ম) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের দুনিয়ার ও আখেরাতে সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সূরা বাকারাহ, আয়তা ২১৭। إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الِّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (21) أُولَئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ (22) নিশ্চয় যারা আমার নিদর্শণসমূহকে অস্বীকার করবে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে এবং মানুষদের মধ্য থেকে যারা ন্যায়নীতির কথা বলে তাদেরকে হত্যা করবে তাদেকে আপনি যন্ত্রনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিন। তারাই হলো ঐ সমস্ত লোক দুনিয়াতে এবং আখেরাত যাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ২১-২২। ২। প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অন্যদের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এর চেয়ে বেশী এখানে লিখতে চাচ্ছি না। প্রয়োজনে 01734717299
এই ধরণের আমলের ক্ষেত্রে হাদীস যয়ীফ হলেও আমল করা করা যায় বলে আলেমরা বলেছেন। তবে মুসল্লিদেরকে নিয়ে একসাথে সারা বছর করা উচিৎ নয়। বরং সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত আমলগুলোকে আরো বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত।
আপনি হয়ত জানেন না, প্রতিটি বইয়ের হাদীসের নাম্বার এক রকম না। আমি যেটা দিয়েছি ফাতহুল বারী কিতাবের নাম্বার অনুযায়ী দিয়েছি। আমি আপনার জন্য অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের নাম দিয়ে দিলাম। পরিচ্ছেদ:باب أَفْضَلِ الاِسْتِغْفَارِ. অধ্যায়: كتاب الدعوات. সমস্যা থাকলে জানাবেন: 01734717299
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দীসটির মূল পাঠ হলো: 2898 – حدثنا محمد بن مرزوق البصري حدثنا حاتم بن ميمون أبو سهل عن ثابت البناني عن أنس بن مالك : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من قرأ كل يوم مائتي مرة قل هو الله أحد محي عنه ذنوب خمسين سنة إلا أن يكون عليه دين وبهذا الإسناد عن النبي صلى الله عليه و سلم قال من أراد أن ينام على فراشه فنام على يمينه ثم قرأ قل هو الله أحد مائة مرة إذا كان يوم القيامة يقول له الرب يا عبدي أدخل على يمينك الجنة قال أبو عيسى هذا حديث غريب من حديث ثابت عن أنس وقد روي هذا الحديث من غير هذا الوجه أيضا عن ثابت قال الشيخ الألباني : ضعيف হাদীসটি যয়ীফ বা দূর্বল। ইমাম তিরমিযী এদিকে ইশারা করেছেন। এবং শায়খ আলবানী রহ. দূর্বল বলেছেন। আরো দেখুন, ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমাা, ফাতাওয়া নং ২১৬৮৩।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন-হাদীসে মুসলিমদের ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। দলে দলে ভাগ হতে হবে বলা হয় নি। বরং দলাদলি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আধুনিক রাজনীতি দীনী দাওয়াতের একটি অংশ। এই দাওয়াত অংশ নেয়া অবশ্যই ভাল কাজ। তবে অন্য দল যারা মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্ববান করছে তাদেরকে ঘৃনা করা খারাপ কাজ। নিজেদেরকে একে অপরের পরিপূরক মনে করতে হবে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর লেখা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জামায়াত ও এক্য এবং তার বই ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও এহইয়াউস সুনান।
আপনার উল্লেখিত হাদীসটির আরবী পাঠ হলো:
عن أنس بن مالك قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الدعاء لا يرد بين الأذان والإقامة।
সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২১২; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১২৬০৬।
হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী সহীহ বলেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত ও শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও সহী বলেছেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরনের কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।
এটি হাদীস নয় । স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক বা স্বামীর আনুগত্য বিষয়ে অনেকে উপরের কথাকে হাদীস হিসেবে পেশ করে থাকে। যার আরবী হল, الجنة تحت أقدام الأزواج । কিন্তু এ শব্দ-বাক্যে কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং এটিকে হাদীস হিসেবে বলা যাবে না। তবে কিছু বর্ণনায় এর মর্মার্থ পাওয়া যায়। মুআত্তা মালেক”
প্রশ্নে উল্লেখিত প্রতিটি বর্ণনায় বানোয়াট। কুরআন বা গ্রহনযোগ্য কোন হাদীসে এই সব কথা নেই। এগুলো বর্ণনা করা বা বিশ্বাস করা যাবে না।
হাদীসটি হাকীম রহ. সংকলিত আল-মুসতাদররক কিতাবে বর্ণিত আছে। হাদীস নং ৭৮৪৪। তবে হাদীসটি যয়ীফ। ইমাম যাহাবী রহ. বলেছেন, হাদীসটি সহীহ নয়। হাদীসটির মূল পাঠ নিম্নরূপ: حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب ثنا بحر بن نصر حدثنا عبد الله بن وهب أخبرني يحيى بن أيوب المصري عن عبيد الله بن زحر عن الوليد بن عمران عن عمرو بن مرة الجملي عن معاذ بن جبل رضي الله عنه : أنه قال لرسول الله صلى الله عليه و سلم حين بعثه إلى اليمن : يا رسول الله أوصني قال : اخلص دينك يكفك العمل القليل هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه تعليق الذهبي قي التلخيص : غير صحيح“
কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বহু জায়গায় রাসূলুল্লাহ সা. কে মানতে বলেছেন। তাঁকে মানার উপরই ইসলাম ধর্মের ভিত্তি। তাঁর কথা না মেনে তার উম্মত থাকবেন এটা কি হতে পারে? এখানে হাদীসে দরকার কেন বুঝতে পারছি না।
এই কথা এসেছে একটি আয়াতরে মর্ম বুঝার ক্ষেত্রে মতানৈক্যের কারণে। আয়াতটি হলো সূরা নূরের ২৪ নং আয়াত। আপনি আয়াতটির অর্থ দেখুন। আর সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম বাগাবী বলেছেন, قال أكثر المفسرين: الخبيثات من القول والكلام للخبيثين من الناس. { وَالْخَبِيثُون } من الناس، { لِلْخَبِيثَاتِ } من القول، [والكلام] (২) ، { وَالطَّيِّبَاتُ } من القول، { لِلطَّيِّبِينَ } من الناس ، { وَالطَّيِّبُونَ } من الناس، { لِلطَّيِّبَاتِ } من القول، والمعنى: أن الخبيث من القول لا يليق إلا بالخبيث من الناس والطيب لا يليق إلا بالطيب من الناس، فعائشة لا يليق بها الخبيثات من القول لأنها طيبة رضي الله عنها فيضاف إليها طيبات الكلام من الثناء الحسن [وما يليق بها] (৩) . অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, খারাপ কথা খারাপ লোকদের জন্য উপযোগী আর খারাপ লোক খারাপ কথার উপযোগী এবং ভাল কথা ভাল লোকদের উপযোগী আর ভাল লোকেরা ভাল কথার উপযোগী। অর্থাৎ খারাপ কথা খারাপ লোকের উপযোগী আর ভাল কথা ভাল লোকের উপযোগী। আয়েশা রা. এর সাথে কোন অশ্লীলতা যুক্ত হতে পারে না, কেননা তিনি পবিত্র। তার ব্যপারে ভাল কথাই বলতে হবে এবং তার উপযোগী কথাই বলতে হবে। এই ব্যখাটা নেয়ায় উত্তম। তাহালে জটিলতা থাকে না। এর বাইরে খারাপ লোকের জন্য খারাপ স্ত্রী এবং খারাপ মহিলার জন্য খারাপ স্বামী এই ব্যাখ্যা নিলে কিছুটা জটিলতা আছে। কোন কোন মুফাসসির অবশ্য এই ব্যাখ্যটাও করেছেন। আল্লাহ ভাল জানেন।
সহীহ হাদীস মানলে তো ফিৎনা হয় না, ফিৎনা হয় যখন সমাজে সহীহ হাদীস মোতাবেক কোন আমল চালু থাকে আর বিকল্প আরেকটি সহীহ হাদীস দ্বারা আমল শুরু হয় তখন। আপনি এই বিষয়টি ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র.) এর মুখ থেকে জানতে ইউটিউবে সার্স করুন নামাযে হাত কোথায় রাখব শিরোনামে।
এই বিষয়ে আমাদের দেয়া ২৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখুন। সংক্ষেপে বলি রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে এটা পাওয়া যায় না
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ ভাই, প্রকাশনী ভিন্ন হওয়ার কারণে হাদীসের নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনে কম বেশী হয়। হাদীস কমবেশী হয় না। যেমন, কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ স. থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করারা পর সে বিষয়ে কোন একজন সাহাবীর কথা কিতাবে থাকে। এখন নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন গ্রন্থে রাসূলের কথাকে এবং সাহাবীর কথাকে দুইট হাদীস বানিয়ে নাম্বার দেয় আবার কোন কোন কিতাবে উভয়টিকে একই নাম্বারের অধিনে নিয়ে আসা হয়। এভাবে বিভিন্ন কারণে নাম্বারের কমবেশী হয়, মূল হাদীস খুব কমই কমবেশী হয়।
কবলাল জুমুআ অর্থই হলো জুমুআর ফরজের আগের নামায। যদি নাই থাকে তাহলে যত খুশি পড়া যায় কিভাবে? আসলে তারা বলতে চান আমাদের দেশে যে চার রাকআত পড়া হয়ে এই সংক্রান্ত হাদীস দুর্বল। তবে তাদের কথা ঠিক নয়। তার যাকে বেশী মানেন সেই শায়খ আলবানীর রহ. বলেছেন সহীহ। এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. ্এর তত্বাবধানে দিয়েছিলাম। সেই উত্তরটিই আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। আশা করি আপনি তৃপ্ত হবেন। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا. অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।
ভাই, শবে কদর বা বরাতে দলবদ্ধ হয়ে কবর জিয়ারতের কোন হাদীস নেই। আমাদের ওয়েব সাইডে এ সম্পর্কে লেখা আছে। দেখে নিতে পারেন।
হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমসহ বহু কিতাবে আছে। দেখূন,সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৯৩, ২৪০৯, ২৭৫১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২৮। পূর্ণ হাদীসটির আরবী পাঠ নিম্ররূপ: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَزَادَ اللَّيْثُ قَالَ يُونُسُ كَتَبَ رُزَيْقُ بْنُ حُكَيْمٍ إِلَى ابْنِ شِهَابٍ – وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَئِذٍ بِوَادِي الْقُرَى – هَلْ تَرَى أَنْ أُجَمِّعَ وَرُزَيْقٌ عَامِلٌ عَلَى أَرْضٍ يَعْمَلُهَا وَفِيهَا جَمَاعَةٌ مِنَ السُّودَانِ وَغَيْرِهِمْ وَرُزَيْقٌ يَوْمَئِذٍ عَلَى أَيْلَةَ فَكَتَبَ ابْنُ شِهَابٍ – وَأَنَا أَسْمَعُ – يَأْمُرُهُ أَنْ يُجَمِّعَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سَالِمًا حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- قَالَ وَحَسِبْتُ أَنْ قَدْ قَالَ – وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي مَالِ أَبِيهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
উক্ত হাদীসটি সর্বাক্যমতে দুর্বল। দুর্বল হাদীস দ্বরা দলীল দেয়া যায় না। তবে শর্তানুসারে আমল করা যায়।
হ্যাঁ, এটা জাল হাদীস।
রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে আহলে হাদীস নামে কোন পরিভাষা ছিল না। সুতরাং হাদীসের ভিতর আহলে হাদীস শব্দ আসতে পারে না। আর যে কিতাবের রেফারেন্স দিয়েছেন হাদীসের ক্ষেত্রে এমন কিতাবের রেফারেন্স গ্রহনযোগ্য নয়। তারপরও যদি কথিত এই হাদীসটির আরবী পাঠ দিতে পারেন তাহলে দেখা যাবে।
ইমাম আবু হানীফা যঈফুল হাদীস এটা সর্ম্পর্ণ ভুল, অইলমী কথা। বিশেষ এক শ্রেনীর লোক আবু হানীফার নামে না জেনে কথা বলেন। আলফিকহুল আকবারের ভুীমকা পড়ুন, আবু হানীফা সম্পর্কে জানতে পারবেন। কোন কিতাবের কোথায় মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল কে সিকাহ বানিয়েছেন তা লিখে প্রশ্ন করুন। শুধু এতটুকু লেখায় যথেষ্ট নয়্।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হাদীসটি মুসতাদরক হাকিম (হাদীস নং ১৯৯০) এবং আলমুজামুল আওসাত (হাদীস নং৫০২৮)। হাদীসটির মধ্যে একজন বর্ণনাকারী আছেন যার নাম বিশর ইবন রাফে। তিনি যয়ীফ। সুতরাং হাদীসটির সনদ দূর্বল।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষয়টি কোন সহীহ কিংবা যয়ীফ হাদীসে আমরা পাই নি। আর এই ধরনের ঘটনা জাল হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসটি সর্বাক্যমতে জাল বা বানোয়াট।মোল্লা আলী ক্বারী রাহ.সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জাল বলেছেন।