প্রশ্নঃ 2115
আসসালামুয়ালাইকুম, নফল রোজার জন্য সেহেরী খাওয়া নাকি বাধ্যতামূলক? কারন সেহেরী খাওয়া সুন্নত, আর সেই সুন্নত বাদ দিলে নফল (রোজা) আদায় হবে না, আমি এরকম শুনেছি। নফল রোজার জন্য রাত ১২ টায় সেহেরী খেলে সেহেরী আদায় হবে? মেহেরবানী করে উত্তর দিবেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমীন।
19 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন রোজার জন্যই সাহরী খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে খাওয়া সুন্নাত। রাত ১২ টায় খাওয়া হয়। সাহরী খাওয়া নয়। সাহরী বলতে শেষ রাতে খাওয়াকে বুঝায়। তবে যখনই খান বা না খান রোজা হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 2045
১০ মুহাররম উপলক্ষ্যে কয়টি রোজা রাখা সুন্নাত? সঠিক নিয়ম জানতে চাই।
18 Jan 2026
একটি রাখলেই সুন্নাত অনুযায়ী আমল হয়ে যাবে। দুটিও রাখতে পারেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।
প্রশ্নঃ 1989
আসসালামুয়ালাইকুম আমার প্রশ্ন হল আরাফার রোযার নিয়তের সাথে কেও যদি মানতের রোজার ও নিয়ত করে তাহলে হবে কিনা?
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, যে কোন একটার নিয়ত করতে হবে। হ্যাঁ, যদি এমন বলে আমি আরাফার দিন রোজা রাখার মানত করছি তাহলে এমন মানত করতে পারে।
প্রশ্নঃ 1967
আস্সালামু আলাইকুম, আমি আরাফাতের দিন রোজা রাখতে চাই। কিন্তু সেটা বাংলাদেশে কি বারে রোজা রাখব? কেননা সৌদি আরবের একদিন পরে আমরা ঈদ বা রোজা করে থাকি। দয়া করে তারিখটা জানাবেন…
ধন্যবাদ
17 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ রোজা রাখবেন। সেটা এবছর (২০১৭) আমাদের দেশে শুক্রবার।
প্রশ্নঃ 1944
শুধু আশুরার দিন রোজা রাখলে গুনাহ হবে কি? সাথে আরেকটি রাখতে চাইলে আগে রাখলে ভাল হবে নাকি পরে রাখলে ভাল হবে?
16 Jan 2026
গুনাহ হবে না। তবে আগে পরে একদিন মিলিয়ে দুদিন রাখা ভাল। হাদীসে এমন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রশ্নঃ 1847
বর্তমানে কিছু মানুষ দাবী করেন যে সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা রাখতে হবে,ঈদ করতে হবে। এর পক্ষে একজন যুক্তি দিল বাংলাদেশের মানুষ সৌদির পরদিন থেকে রোজা রাখলে বাংলাদেশের বেজোড় রাত্রিগুলো হবে সৌদির জোড় রাত্রি। তাহলে তাদের লাইলাতুল কদর আর আমাদের লাইলাতুল কদরও ভিন্ন ভিন্ন দিনে হয়ে যায়। এই যুক্তি কীভাবে খন্ডন করা যায়?
13 Jan 2026
নিচের হাদীটি লক্ষ্য করুন:عَنْ كُرَيْبٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِى آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ. فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ. فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ. فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِى بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- কুরাইব থেকে বর্ণিত যে, উম্মে ফজল বিনত হারেছ তাকে তাকে কোন কাজে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া রা. এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে আমার কাজ শেষ করলাম। আসম সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় রমাজানের চাঁদ উঠে। আমি জুমুআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। এরপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. চাঁদ প্রসঙ্গে আলাচনা করতে গিয়ে বললেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, জুমুআর রাত্রে। তখন তিনি বললেন, তুমি দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ এবং অন্য মানুষরাও দেখেছেেএবং রোজা রেখেছে, মুআবিয়া রা.ও রোজা রেখেছে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, আমরা শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। আমরা রোজা রাখতেই থাকবো যতক্ষন না ৩০ টা হয় কিংবা চাঁদ দেখি। আমি বললাম, মুআবিয়া রা. এর চাঁদ দেখা এবং রোজা রাখা কিযথেষ্ট নয়? তিনি বললেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮০। দেখুন, এই হাদীসে আমরা দেখছি যে, সিরিয়াতে জোড় রাত হলে মদীনায় বিজোড়। সাহাবীরা এটাই মেনে নিয়েছেন যে, দুই জায়াগার তারিখ দুরকম। যারা এইসব ফিতনা ফাসাদ করে বেড়াচ্ছে তার সম্ভবত সাহাবীদের চেয়েও বড় ফকিহ, না কি। যখন যেখানে চাঁদ উঠবে সেখানকার হিসাব সেখানে। আল্লাহর সওয়াবের অভাব নেই যে, দুই রাতে দিতে গেলে টান পড়বে। সাহাবীদের থেকে ধর্ম শিখুন এইসব মূর্খদের কাছে থেকে নয়।
প্রশ্নঃ 1770
Massalam. sir amar ques ta cad deka niya. Amader Banglades a onek a Sodi Arab ar cad dekar opor nirbor kore Roja o Eid palon kore. Sir amar ak Mama ai bocor teke oi niyom palon suru korece. sa ai bisoy a jasim uddin ar kicu lecture o akta boi pore ai siddanto niyaca. Oi boi a nake onek dolil ace.Tar sate onek jubok abar teke sodi onusare Roja o Eid palon korbe.So ai bisoy a amar druto o clear dolil soho ans dorker. Ate amra akta bul pot teke pire asbo. pls
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসলে তাদের কোন দলীলই নেই। হাদীসে আছে চাঁদ দেখে রোজা রাখতে হবে, ভা্ঙতে হবে। সাহাবীদের আমল থেকে আমরা পাই যে, যে এলাকাতে যখন চাঁদ উঠেছে সে এলাকাতে তখন তারা রোজা রেখেছেন। তবে সারা পৃথিবীর আলেমরা যদি এই বিষয়ে একমত হয় যে, এক দিনে রোজা রাখবে বা ঈদ করবে তাহলে জায়েজ হবে। অন্যথায় এমন করা জায়েজ নয়। নিচের হাদীটি লক্ষ্য করুন: عَنْ كُرَيْبٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِى آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ – رضى الله عنهما – ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ. فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ. فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ. فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِى بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- কুরাইব থেকে বর্ণিত যে, উম্মে ফজল বিনত হারেছ তাকে তাকে কোন কাজে সিরিয়ায় মুয়াবিয়া রা. এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে আমার কাজ শেষ করলাম। আসম সিরিয়ায় থাকা অবস্থায় রমাজানের চাঁদ উঠে। আমি জুমুআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। এরপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. চাঁদ প্রসঙ্গে আলাচনা করতে গিয়ে বললেন, তোমরা কোন দিন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, জুমুআর রাত্রে। তখন তিনি বললেন, তুমি দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ এবং অন্য মানুষরাও দেখেছে েএবং রোজা রেখেছে, মুআবিয়া রা.ও রোজা রেখেছে। তখন ইবনে আব্বাস বললেন, আমরা শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। আমরা রোজা রাখতেই থাকবো যতক্ষন না ৩০ টা হয় কিংবা চাঁদ দেখি। আমি বললাম, মুআবিয়া রা. এর চাঁদ দেখা এবং রোজা রাখা কি যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের আদেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮০। দেখুন, সাহাবীদের থেকে আমরা দেখছি যে, তারা এক এলাকার চাঁদ দেখাকে অন্য এলাকার জন্য যথেষ্ট মনে করেন নি। অথচ সিরিয়া এবং মদীনা দু্টোই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। কেউ যদি যুক্তি দেয় তখন জানা সম্ভব ছিল না তাহলে বলতে হবে কুরবানী ঈদের সময় তো দশ দিন সময় পাওয়া যায় তখন তো রাসূলুল্লাহ সা. বা কোন খলীফা চাঁদ দেখারে খোঁজ নেওয়ার জন্য দিক-দিগন্তে লোকজন পাঠালেন না। যদি বিষয়টি এমনই হতো তাহলে তারা অবশ্যই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে একসাথে ঈদ করতেন। বরং উল্টো তারা বলেছেন, সিরিয়ায় চাঁদ দেখার সিরিয়বাসীদর জন্য আর মদীনায় দেখা মদীনাবাসীদের জন্য। শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এই প্রসঙ্গে বলেছেন, হাদীস শরীফে চাঁদ দেখে সিয়াম শুরু করার ও শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহিত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের উপরেই আমাদের ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالْأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ যে দিন সকল মানুষ ঈদুল ফিত্র পালন করবে সেই দিনই ঈদুল ফিত্র-এর দিন এবং যেদিন সকল মানুষ ঈদুল আযহা পালন করবে সেই দিনই ঈদুল আযহার দিন।সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৮০২। ইমাম তিরমিযী এবং শাযখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মাসরূক বলেন, আমি একবার আরাফার দিনে, অর্থাৎ যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে আয়েশা (রা)-এর নিকট গমন করি। তিনি বলেন, মাসরূককে ছাতু খাওয়াও এবং তাতে মিষ্টি বেশি করে দাও। মাসরূক বলেন, আমি বললাম, আরাফার দিন হিসাবে আজ তো রোযা রাখা দরকার ছিল, তবে আমি একটিমাত্র কারণে রোযা রাখিনি, তা হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে মতভেদ থাকার কারণে আমার ভয় হচ্ছিল যে, আজ হয়ত চাঁদের দশ তারিখ বা কুরবানীর দিন হবে। তখন আয়েশা (রা) বলেন, اَلنَّحْرُ يَوْمَ يَنْحَرُ الإِمَامُ وَالْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ الإِمَامُ যেদিন ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান কুরবানীর দিন হিসাবে পালন করবেন সেই দিনই হলো কুরবানীর দিন। আর যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান ঈদুল ফিতর হিসেবে পালন করবে সেই দিনই হলো ঈদের দিন।আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী, হাদীস নং ৮৪৬৮। মুনযিরী, তারগীব ২/৬৮। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। হাযেরীন, মুমিনের জন্য নিজ দেশের সরকার ও সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ করা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ। অন্য দেশের খবর তো দূরের কথা যদি কেউ নিজে চাঁদ দেখেন কিন্তু রাষ্ট্র তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে তাহলে তিনিও একাকী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপরীতে ঈদ করতে পারবেন না। অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الصوم يوم تصومون والفطر يوم تفطرون والأضحى يوم تضحون তোমরা সবাই যেদিন রোজা রাখবে সেদিনই রোজা রাখার দিন, তোমরা সবাই যেদিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে সেদিনই ঈদুল ফিতরের দিন আর তোমরা সবাই যেদিন ঈদুল আযহা উদযাপন করবে সেদিনই ঈদুল আযহার দিন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৬৯৭। ইমাম তিরমিযী, রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, আর শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। সুতরাং সমাজের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে ঈদ করা হাদীসের লংঘন, না জায়েজ।
প্রশ্নঃ 1765
আমার বয়স ২৭ বছর আমার সন্তান হয়েছে আজ ৫ বছর এবং আমার গ্যাস্ট্রিক খালি পেটে থাকতে পারিনা, গ্যাস বেশি হওয়ায় এবং শরীরের দুর্বলতা বেশী হওয়ায় রোজা রাখতে প্যারি না —এর জন্য কি কাফফারা দিতে হবে?
13 Jan 2026
আপনার এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে পরবর্তীতে এই রোজাগুলোর কাজা করতে হবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তাহলে প্রতি রোজার বিনিময়ে একজন মিসিকিনকে এক দিনের খাবার দিতে হবে। সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৪।
প্রশ্নঃ 1720
প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত, শেষ ১০ দিন নাজাত রমজান সম্মন্ধে এটা কি হাদিসের কথা?
08 Jan 2026
এটা হাদীসের কথা। একেবারে বানোয়াট না। তবে হাদীসটি দূর্বল। হাদীসটির মূল পাঠ হলো” وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ অর্থ: রমাজানের প্রথম অংশ রহমত, মাঝের অংশ মাগিরাত এবং শেষের অংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি। সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৮৮৭; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৩৩৬। উক্ত হাদীসে আলী ইবনে জায়েদ ইবন জাদয়ান নামে একজন রাবী আছে। আল্লামা জাহাবী, ইমাম দারা কুতনী, ইমাম অাহমাদসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ তাকে দূর্বল বলেছেন। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিক দুর্বল বলেছেন। দেখুন,সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ৮৭১ । এই অর্থে আরো একটি হাদীস বর্ণিত আছে। সেটিকে শায়খ আলবানী রহ. মুনকার বলেছেন। দেখুন, সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ১৫৬৯।
প্রশ্নঃ 1701
রোযা রেখে কি মুখে ক্রিম ব্যবহার করা যাবে কি?
08 Jan 2026
প্রশ্নঃ 1696
ভাই আমি রোজা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি । একজন পরিবার সহ বিদেশে থাকে, দেশের নাম (ফিনল্যান্ড) সেখানে (মাএ 3 ঘন্টা রাত আর 21 ঘন্টা দিনের আলো থাকে) সেখানে তারা কি ভাবে রোজা থাকবে। বিষয়টা খুব জরুরী এবং জটিল, please খুব জরুরী ভাবে জানাবেন। সাথে রেফারেন্স দিলে ভালো হয় please
08 Jan 2026
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কোন আলেমের সাথে পরামর্শ করুন। রোজার সাধারণ নিয়ম সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এবং আমি জানতে পেরেছি যে, ফিনল্যান্ডর মুসলিমরা ২২ ঘন্টা রোজা রাখছেন।
প্রশ্নঃ 1695
আগামী মে মাসে অফিসিয়াল কাজে ১৫দিন স্কটল্যান্ড ও ৭ দিন ইংল্যান্ডে থাকতে হবে। এমতাবস্থায় রোজার হুকুম কি? রাখতেই হবে নাকি শিথিলতা রয়েছে।
08 Jan 2026
স্কটল্যান্ডের একাধিক শহরে যদি ১৫ দিন থাকেন তাহলে ঐসময় রোজা না রেখে পরে রাখলেও হবে আর ইংল্যান্ডেও রোজা না রেখে পরে রাখা যাবে। উল্লেখ্য সফর অবস্থায় রোজা না রেখে পরে রাখা যায়। শরয়ী দৃষ্টিতে সফর হলো বাড়ি থেকে ৮০ কি. মি দূরে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করা। ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশী সময় থাকার নিয়ত করলে সে মুসাফির হবে না। তবে একাধিক শহরে ১৫ দিন থাকলে মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে।
প্রশ্নঃ 1663
আসসালামু আলাইকুম। রোজা রেখে ব্লাড দান করতে পারবে? আর এই বিষয়ে স্যারের কোন বক্তব্য আছে কি?দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, রোজা রেখে রক্ত দান করা যায়, কোন সমস্যা নেই। স্যার রহ.-এর এই বিষয়ে কোন বক্তব্য আছে কি না আমার জানা নেই। খোজ করবো পেলে আমাদের ওয়েবসাইডে দিয়ে দিতে বলবো।
প্রশ্নঃ 1661
আসসালামুলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, যদি কোন স্বামী কোন রোজাদারকে বাসায় এনে ইফতার করায় তাহলে সে ঐ রোজাদারের পুর্ন সোয়াব পাবে। এক্ষেত্রে তার স্ত্রীও কি ঐ রোজাদারের সোয়াব পাবে নাকি শুধু স্বামী পাবে?
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে ইফতার করাবে সে সওয়াব পাবে। স্ত্রী যদি ইফতারের কাজে সহায়তা করে সেও সওয়াব পাবে। আল্লাহ কাছে সওয়াবের অভাব নেই। আমাদের একটু ভাল কাজের ইচ্ছাই আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
প্রশ্নঃ 1607
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার পিতা গত দুই বছর যাবত প্যারালাইস্ট। তিনি মানষিক ভাবে সুস্থ কিন্তু শারীরিক ভাবে দুবল ও চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি সওম পালনে অক্ষম। এখন তার সওম জন্য ইসলামে বিধান কি? কাফফারার বিধান আছে কি (গত সাওম গুলোতে এক জন রোজাদারের সেহরি ও ইফতারের খররচ দেওয়া হয়েছিল) কাফফারার বিধান থাকলে সেটি কিভাবে আদায় করতে হবে।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তিনি প্রতিটি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে এক দিনের খাবার দিয়ে দিবেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ আর যাদের জন্য তা (রোজা) কষ্টকর হবে তাদের উপর আবশ্যক হলো ফিদিয়া দেয়া অর্থাৎ একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৪। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 1554
আসসালামু ওয়ালাইকুম। আমি সামনের রমজান মাসে দুইবার কোরআন খতম দেওয়ার নিয়ত করেছিলাম। এখন কোনো কারণে মনে হচ্ছে সেটা সম্ভব হবে না। আমি তাড়াহুড়ো করে দুইবার শেষ না করে শুদ্ধ ভাবে সময় নিয়ে একবার শেষ করতে চাই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোনাহ হবে না। সুন্দর করে একবার পড়া উত্তম হবে ।
প্রশ্নঃ 1551
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, আজকে অযুর সময় নাকে পানি দিতে গিয়ে অনিচ্ছায় কিছুটা পানি মুখের গভীরে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তার পুরোটাই (ইন-শা-আল্লাহ) কুলি করে ফেলে দেই। পানি গলায় পৌছেছিলো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে আছি। রোজা রেখে সাবধানের সাথে মুখের মধ্যে যে কুলি করি পানিটা তার চেয়ে একটু ভেতরে গিয়েছিলো কিন্তু গলায় পৌছেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে কিন্তু পেটে যায় নি এব্যাপারে নিশ্চিত। এ অবস্থায় আমার কি রোজা ভেঙ্গে গেছে? আর এক্ষেত্রে কি কাফফারা দিতে হবে? আর কাফফারা দিলে কি রমজানের এই রোজার সমান সওয়াব পাবো?
জাজাকাল্লাহ খাইরান
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে গেলে কাজা করতে হয়, কাফফারা দিতে হয় না। আপনি ঐ রোজার বদলে একটি রোজা রেখে দিবেন।
প্রশ্নঃ 1544
সেহরি সময় শেষ হওয়ার ১ মিনিট পর আমি পানি পান করেছি। টাইমের ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। আমার রোজার কি সমস্যা হবে?
07 Jan 2026
জ্বী, ঐ রোজাটি কাজা করতে হবে। অর্থাৎ ঐ রোজাটি না হওয়ার কারণে আরেকটি রোজ রাখবেন।
প্রশ্নঃ 1473
I am using inhalar for my asthma disease. Can I use inhalar during saom (roza)?
06 Jan 2026
প্রশ্নঃ 1472
আমাদের দেশে আজকে আরবি মাসের ১৩তারিখ, আবার সউদি আরবে আজকে ১৪ তারিখ। সউদির আরাফা অনুযায়ী আরাফার রোযা রাখি। তাহলে আজকে ১৪তারিখের রোযা গেল নাকি ১৩তারিখের। প্লিজ জবাবের অপেক্ষা…
06 Jan 2026
এক্ষেত্রে সহজ ও নিরাপদ হলো যখন যেখানে থাকবেন তখন সেখানকার তারিখ হিসাব করা। সউদি আরাফা অনুযায়ী যদি রোজা রাখেন তাহলে সউদি অনুযায়ী আজকের তারিখ হিসাব করবেন। হয়তো একদিন বা দুইদিন বেশী হবে।
প্রশ্নঃ 1413
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রোজা রাখা যাবে কি?
06 Jan 2026
ঈদে মিলাদুন্নাবী বলতে শরীয়তে কিছু নেই। এটা পালন করা জঘন্য বিদআত। রাসূলুল্লাহ সা. এর জন্ম কোন তারিখে হয়েছিল তাও সঠিকভাবে জানা যায় না এবং জন্মদিন পালন করাকেও ইসলাম অনুমোদন করে না। সাহবীরা রাসূলুল্লাহ সা. এর এবং নিজেদের জন্মদিন পালন করেন নি। সুতরাং এ দিন উপলক্ষে রোজা রাখরে সওয়াব হবে না বিদআতের গুনাহ হতে পারে।
প্রশ্নঃ 1337
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
যখন কারো উপর রোজা করা ফরজ হল কিন্তু সে তার জীবনের প্রথম দিকের কয়েক বছর রোজা করল না । তাহলে হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি কি তাকে ঐ সব রোজা কাযা করে দিতে হবে? এটা পিরিয়ড কারণে ভাংতি রোজা না । সারা মাসের ভাংতি রোজা । আর এরকম কয়েক বছরের রোজা ।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, প্রতিটি রোজারই কাজা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না।
প্রশ্নঃ 1308
আসসালামু আলাইকুম উত্তর দেবার জন্যে ধন্যবাদ। সেই সাথে আমি খুব-ই দুঃখিত আমি আসলে ঠিক মতো বোঝাতে পারিনি। আমার পুর্বের কয়েক বছরের ফরজ কাজ্বা রোজা আছে যেগুলি ফরজ রোজার ভাংতি পিরিয়ড এর সময় করতে পারিনি,কিন্তু সেগুলা আমি পরে আর করিনি আমি এখন করতে চাই এক্ষেত্রে আমি কিভাবে তা আদায় করবো? একজায়গায় পড়েছি কাজ্বা আদায় এর পাশাপাশি প্রত্যেক কাজ্বা রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিন খাওয়াতে হবে। আমার প্রশ্ন মিসকিন কে কি একবেলা নাকি ৩ বেলা খাওয়াতে হবে? আর টাকা দিতে চাইলে বর্তমান বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট-এ মোট কত টাকা দিতে হবে প্রতি রোজার জন্যে? পুর্বের কয়েক বছরের কাজ্বা আদায়ের সহি পদ্ধতি কি? দয়া করে জানাবেন। আমি একান্তভাবে আশা করছি, আপনারা আমার এ প্রশ্নের জবাব দিবেন। কারণ উত্তরটি জানার জন্য আমার অন্তর ব্যাকুল হয়ে আছে। আমি শিগ্রই রোজা গুলি করতে চাই।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যতটি রোজা ভেঙেছেন ততটি রোজা রাখবেন। ধরুন কয়েক বছর মিলে আপনার ২৫ টি রোজা কাজা হয়েছে তাহলে আপনি ২৫ টি রোজা রাখবেন। কোন টাকা পয়সা বা খাবার-দাবা দিতে হবে না। আপনি যা শুনেছেন তা ভুল শুনেছেন।
প্রশ্নঃ 1265
I am using inhalar for my asthma disease. Can I use inhalar during saom (roza)?
05 Jan 2026
প্রশ্নঃ 1264
ami ki amar wife er sathe jamate namaj aday korte parbo?
05 Jan 2026
আপনি মসজিদে জামাতে নামায পড়বেন। স্ত্রীর সাথে নয়। তবে কোন কারণে স্বামী স্ত্রী একসাতে নামায পড়লে স্ত্রী পিছনে দাঁড়াবে, এক কাতারে নয়।
প্রশ্নঃ 1254
আমাদের দেশে আজকে আরবি মাসের ১৩তারিখ, আবার সউদি আরবে আজকে ১৪ তারিখ। সউদির আরাফা অনুযায়ী আরাফার রোযা রাখি। তাহলে আজকে ১৪তারিখের রোযা গেল নাকি ১৩তারিখের। প্লিজ জবাবের অপেক্ষা…
05 Jan 2026
এক্ষেত্রে সহজ ও নিরাপদ হলো যখন যেখানে থাকবেন তখন সেখানকার তারিখ হিসাব করা। সউদি আরাফা অনুযায়ী যদি রোজা রাখেন তাহলে সউদি অনুযায়ী আজকের তারিখ হিসাব করবেন। হয়তো একদিন বা দুইদিন বেশী হবে।
প্রশ্নঃ 1236
আচ্ছালামু আলাইকুম হুজুর। একটা প্রশ্ন। আমার আম্মা গত রমজানে অসুস্থতার জন্য ১১টি রেজা রাখতে পারেননি। আমার ইচ্ছা আমি আমার আম্মার অসম্পূর্ণ রোজা গুলো রেখে পুরণ করে দিব। আমার এক বন্ধু বল্লেন আমি যদি কারো জন্য রোজা রাখি সেটা হবেনা। আমি এখন পর্যন্ত ৩টি রোজা রেখেছি। আমি কি আমার আম্মার জন্য রোজা রাখতে পারবো না? ইসলাম এ ব্যপারে কি বলে? জানালে উপকৃত হব।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার বন্ধু যা বলেছেন সেটাই সঠিক। আপনার আম্মা রোজা রাখতে না পারলে তিনিই পরবর্তীতে কাজা করবেন, আপনি করলে হবে না। কুরআনে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে অসুস্থাতার কারণে রোজা রাখতে না পাররে পরে তার কাজা করবে।
প্রশ্নঃ 1231
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই?
১. নফল বা সুন্নত রোযার জন্য কেউ যদি পূর্ব থেকে নিয়ত করে না রাখেন, আর ঘুম থেকে উঠে ফযরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরেও রোযা থাকার নিয়ত করতে চান, তাহলে কি সিয়াম হবে?
05 Jan 2026
হ্যাঁ, হবে দুপুরের আগে নিয়ত করলেই নফল রোজা হবে।
প্রশ্নঃ 1199
Assalamu alaikum, ami proti soptahe akta roja rakhte chai. so, soptahe kon dinti roja rakhar jonno uttom and kano?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি তাদেরকে অনুরোধ করবেন তারা যেন শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি না দেন। তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে আপনি এমন লেখা পাঠাবেন যে লেখাতে শরীয়া-বিরোধী কোন ছবি দেয়ার সুযোগই থাকবে না।
প্রশ্নঃ 1003
আজ আরবি মাস অর্থাৎ জিলহজ মাসের কতো তারিখঃ. …?
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ যে নফল রোযা আছে…সেটা কি হজ্জের আগের দিন হিসেব করে করতে হবে না কি আমাদের দেশে জিলহজ মাসের যে দিন ৯ তারিখ হবে সে দিন করতে হবে….কারণ সৌদি আরবে যে দিন ৯ তারিখ আমাদের সে দিন ৮ তারিখ…?
উত্তর টা জরুরি ভিত্তিতে দিবেন বলে আশা রাখি…..আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন, আমিন
03 Jan 2026
অধিকাংশ আলেমের নিকট স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী ৯ জিলহজ্জ রোজা রাখবে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফায় থাকবে সেদিন রোজা রাখবে। স্থানীয় তারিখ যাই হোক না কেন। বিস্তারিত জানতে এই ঠিকানায় স্যার রহ. এর এই ভিডিওটি দেখুন। শিরোনাম: ইয়াওমুল আরাফার রোজা কি আরবদেশের সাথে মিলিয়ে রাখবো? অথবা আমাদের দেয়া 0161নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। আজ (আমি যেদির উত্তর দিচ্ছি), রবিবার, জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ।
প্রশ্নঃ 888
গতবার যখন প্রশ্ন করেছিলাম তখন আপনি নিচের বর্ণিত উত্তর দিয়েছিলেন। [শায়েখ, আমি সাত বছর রমযান মাসের সিয়াম পালন করি নি। তাহলে আমি কি ভাবে সিয়াম কাযা আদায় করব?
আপনি উক্ত কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতিটি রোজা কাজা করুন। অর্থাৎ আপনাকে ২১০টির মত রোজা রাখতে হবে।]
এখন আমার প্রশ্ন হল আমি কি একসাথে ৩০টি করে রোজা কাজা আদায় করব, নাকি মোট ২১০টি (যেভাবেই হোক -যেমন প্রথম মাসে ১০, দ্বিতীয় মাসে ১৩…।) অর্থাৎ কি নিয়মে আদায় করব?
02 Jan 2026
মোট ২১০টি রোজা রাখবেন। এক সাথেও রাখতে পারেন আবার ভেঙে ভেঙেও রাখতে পারেন। আপনি যেটা বলেছেন (যেভাবেই হোক -যেমন প্রথম মাসে ১০, দ্বিতীয় মাসে ১৩………। )
প্রশ্নঃ 869
শায়েখ, আমি সাত বছর রমযান মাসের সিয়াম পালন করি নি। তাহলে আমি কি ভাবে সিয়াম কাযা আদায় করব?
02 Jan 2026
আপনি উক্ত কাজের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতিটি রোজা কাজা করুন। অর্থাৎ আপনাকে ২১০টির মত রোজা রাখতে হবে।
প্রশ্নঃ 787
ইচ্ছা করে কেউ স্ত্রীর সহবাস করে তার রোযা ভেঙে যায়। তবে সে যদি না যেনে এই কাজ করে তাহলে কি তার রোযা ভেঙে যাবে? তবে সে যদি এ বিষয় জানার পর আল্লাহর কাছ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চায়।
01 Jan 2026
একজন রোজাদারের উচিৎ রোজা সম্পর্কীত মাসআলাসমূহ ভালভাবে জেনে নেয়া। অধিকাংশ আলেমের মতে সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হবে। এটা যে ব্যক্তি জানে না, যে যদি সহবাস করে, তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হবে না । কাযা ও কাফফারা কোন কিছু ওয়াজিব হবে না। কোন কোন আলেম বলেছেন. কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। তবে যদি জানে যে সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব এটা না জানে। তাহলে কাযা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ১২৫৭৬৭ ও ২৪০৩২। আল্লাহ ভাল জানেন। আর ভুল করে ক্ষমা চাইলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন।
প্রশ্নঃ 777
আসাালামু আলাইকুম। যদি স্ত্রীর সহবাস ছাড়া রোযা খাকা অবস্তায় বীর্যপাত হয় সেইটা যদি ইচ্ছা কৃত ভাবে হয় তাহলে কি রোযার কোন ক্ষতি হয়? প্রমাণ সহ বলবেন দয়া করে।
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমে আপনাকে বলি স্ত্রী সহবাস বাদে যে কোন ভাবে ইচ্ছাকৃত বীর্জ বের করা সব সময় হারাম। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কেউ রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত এমন করে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। কাজা ও কাফফারা দুইটাই ওয়াজিব হবে। স্ত্রী সহবাস আর ইচ্ছাকৃত বের করার একই হুকুম। নিচের হাদীসটি দেখনু: هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي অর্থ: আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, মানুষের প্রতিটি আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০গুন বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তবে রেজা ভিন্ন, কেননা তা আমার জন্য আর আমি তার প্রতিদান দেব, রেজাদার আমার জ্ন্যই খাবার ও শাহওয়াতকে ( যৌন উত্তেজিত হয়ে সহবাস বা এ জাতীয় কিছু করা ) বর্জন করেছে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৫১। আর ইচ্ছাকৃত বীর্জপাত শাহওয়াত বর্জন নয় । সুতরাং তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কাজা ও কাফফারা্ উভয়টিই ওয়াজিব হবে। আরেকটি কথা বলি, যেখানে দলীল দরকার আমরা সেখানে দলীল দিই। তবে যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে দেই না। এটা এমন একটি বিষয় যেখানে দলীলের দরকার নেই। আপনি বলেছেন তাই দিলাম।
প্রশ্নঃ 774
আমার জানা মতে একজন বালক এর জন্য ১০ বছর থেকে রোজা ফরয হয়। উপরের তত্ত্ব-মতে আমার ৬ বছরের রোজা কাযা রয়েছে। এখন আমি সেই ৬ বছরের রোজা কিভাবে আদায় করবো?
01 Jan 2026
১০ বছর থেকে নয়, যখন আপনি বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়েছেন তখন থেকে আপনার উপর সিয়াম ফরজ। ছেলেরা সাধারনত ১২-১৪ বছরের মধ্যে বালেগ হয়্। আপনার যে কয় দিন রোজা রাখেন নি সে কয় দিন রোজা রেখে দিবেন। রমজান বাদে বছরের যে কোন সময় রাখলেই হবে। এভাবে হিসাব করে আপনি বিগত দিনের সিয়াম পালন করবেন।
প্রশ্নঃ 773
আমার জানা মতে একজন বালক এর জন্য ১০ বছর থেকে রোজা ফরয হয়। উপরের তত্ত্ব-মতে আমার ৬ বছরের রোজা কাযা রয়েছে। এখন আমি সেই ৬ বছরের রোজা কিভাবে আদায় করবো?
01 Jan 2026
১০ বছর থেকে নয়, যখন আপনি বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়েছেন তখন থেকে আপনার উপর সিয়াম ফরজ। ছেলেরা সাধারনত ১২-১৪ বছরের মধ্যে বালেগ হয়্। আপনার যে কয় দিন রোজা রাখেন নি সে কয় দিন রোজা রেখে দিবেন। রমজান বাদে বছরের যে কোন সময় রাখলেই হবে। এভাবে হিসাব করে আপনি বিগত দিনের সিয়াম পালন করবেন।
প্রশ্নঃ 749
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার এক বন্ধুর মা মারা গিয়েছে গতকাল। সে আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল, তা এই যে রমজানে কোন সাধারন মুমিন মারা গেলে এর কোন special significance আছে কি না? আমরা ছোট বেলায় শুনতাম রোজার মাধ্যে মারা গেলে কবরের আজাব হয় না। এটা সহিহ কিনা? যাযাকাল্লাহ।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রমজান মাসে মারা গেলে কোন ফজিলত আছে বলে হাদীস থেকে জানা যায় না তবে রোজা অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোযা রাখে অত:পর রোজা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৩৩২৪। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 731
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি ভাল আছেন। স্যার, আমি একটি বিষয় জানতে চাঁই। যদি কেউ রোজা রাখার জন্য সেহেরি খেতে দেরি করে ফেলে, যেমন আযান দিতেছে তখন সে খাবার খাচ্ছে এবং আযান শেষ হবার আগে তার খাবার শেষ হয়ে গেল। এখন তার রোজা কি হবে?
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সেহরীর শেষ সময় হলো সুবহে সাদিক উদিত হওয়া। মুয়জ্জিন সাহেব সঠিক সময়ে আযান দেন তাহলে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পরে দিবেন। তখন খেলে রোজা হবে না তবে সারাদিন কিছু খাওয়া যাবে না। এবং পরে কাজা করতে হবে, কাফফারা করতে হবে না।
প্রশ্নঃ 730
আসসালামু আলাইকুম, ইসলামি ফাউন্ডেশন এর সময়সূচীতে ৩ মিনিট পরে ইফতার এর টাইম দেয়া আছে । আমরা কখন ইফতার করবো? জানালে উপকৃত হব।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি যদি নিশ্চিত হনি তিন মিনিট আগেই ইফতারর সময় হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে তিন মিনিট আগেই করতে পারেন। তবে সংক্ষগরিষ্ট মানুষের সাথে থাকাই নিরাপদ।
প্রশ্নঃ 721
Assalmu Alaikum, Thanks a lot for the reply of my previous question regarding Iftar time of Siam. Dear Huzur, Please let me know: 1) Murid of Peer according to Sunnah
2) Why all Peer has separate Tarika? Tarika of Peer conflict with Quran and Sunnah? If no conflict why every Peer Tarkia is separated from other Peer?
3) What are the activities in Peer system not follow the rules of Quran and Sunnah Your kind clarification will be very helpful to know the real things of Islam. Salam again, Abdur Rahim /Natore/ 01712669027
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ভাই এই বিষয়ে স্যার রহ.এ র একটি ভিডিও লেকচার আছে। ঐটা শুনলে আপনার প্রশ্নের বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। ইউটিউবে গিয়ে এই শিরোনামে সার্চ দিন। পীরের হাত বাইয়াত শরীয়তের বিধান জানতে চাই। চমৎকার আলোচনা, আপনার খুব ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 702
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি বেলজিয়ামে থাকি। এখানে ইন্টারনেটে টাইম অনুযায়ী সুর্য্য ডুবার পরও আলো থাকে, যেন মনে হয় সুর্য্য ডুবেনাই। স্থানীয় মসজিদে ইফতারীর সময় ইন্টারনেটে পাওয়া সুর্য্য ডুবার টাইম থেকে ৫ মিঃ পরে। এখন আমার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইফতারির টাইম ফলো করা উচিৎ নাকি ইন্টারনেটে পাওয়া সুর্য্য ডুবার টাইম ফলো করা উচিৎ?
31 Dec 2025
স্থানীয় মসজিদের ইফাতেরর সময় ফলো করবেন।
প্রশ্নঃ 683
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন? আমার প্রশ্ন হলোঃ-
১. রোজা রাখার জন্য নিয়ত করতে হয়। কিন্তু এই নিয়ত এর জন্য কোন নির্দিষ্ট দুয়া পড়তে হয় কি? যেমন- আমাদের দেশে রোযার সময়সূচীতে রোযার নিয়ত করার দুয়া, ইফতারের দুয়া দেয়া থাকে? আর আমরা সেইগুলো পড়ে রোজা ও ইফতার করি। এইটা কি আমরা সুন্নাহ সম্মত করছি? এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) কিভাবে রোযার নিয়ত ও ইফতার করতেন?
২. আর রাতে সেহরিতে না জাগতে পারলে এবং না খেয়ে রোজা রাখলে – এইক্ষেত্রে কি রোজা হবে? এক্ষেত্রে নতুন করে কোন নিয়ত মনে মনে রাখতে হবে কি?
এই ছিল আমার প্রশ্ন। অনুগ্রহ করে প্রশ্নানুসারে, স্যার এর দেয়া উত্তরগুলা আমাকে বললে, উনি এই সম্বন্ধে কি বলেছেন, জানালে খুব ই উপকার হয়। আল্লাহ্ তাআলা স্যার কে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং আপনাদেরকেও উত্তম বিনিময় দান করুন।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রেজার যে নিয়্যাত দেয়া আছে তা বলে রোজায় থাকবেন না। তবে ইফতারের দুআ পড়া যেতে পারে। রাতে সেহরী না খেতে পারলেও রোজা হবে।
প্রশ্নঃ 645
after iftar we can late for magrib salah.how long?
30 Dec 2025
ইফতারের পরই মাগরিবের সালাত আদায় করবেন। বিনা কারণে দেরী করবেন না। তবে সালাতের সময় সাথে প্রায় ১ ঘন্টা।
প্রশ্নঃ 615
Assalamu Alaikum, Dear Huzur, We see some people raise their hand and pray before iftar time, is it according to Sunnah or Bidah (invention)? Is it (before Iftar of Siam) special time to accept Dua (prayer)? Clarify please to follow the Sunnah. Salam again Abdur Rahim / Natore / 01712669027
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. বলেন, অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদার ব্যক্তির দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না। قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إن للصائم عند فطره لدعوة ما ترد অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদার ব্যক্তির দুআ প্রত্যাখ্যাত হয় না। অর্থ: রাবী ইবেন মুলাইকাহ বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আমর ইবেন আস ইফতারের সময় এই দুআ করতেন, أفطر اللهم إني أسألك برحمتك التي وسعت كل شيء أن تغفر لي সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭৫৩। আল্লামা বুসিরি বলেন, সনদ সহীহ। তিনি যাওয়িদ এর মধ্যে কারণসহ ষিয়টি বর্ণনা করেছেন। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাসান। শায়খ ফুয়াদ আবুদল বাকী বলেছেন, সহীহ। তবে শায়খ আলবানী যয়ীফ বলেছেন। তার অনুসরন করে কিছু মানুষ যয়ীফ বলেন। তবে অন্য সকলের বিপরীতে শায়খ আলবান রহ. এর কথা গ্রহনযোগ্য নয়। সুতরাং ইফতারের পূর্বে আপনি দুআ করতে পারেন। এছাড়া অন্য একটি সহীহ হাদীসে রোজাদারের দুআ কবুল মর্মে উল্লেখ আছে।
প্রশ্নঃ 565
Assalamu Alaikum
Dear Huzur, please advise Iftary time of Siam. Now world is digital and everything calculate accurately. So As per Weather-Forecast of Bangladesh Meteorological Department, if Sun set time 6.47pm (today; Wednesday; 2016-06-15), then I suppose to take Ittar on 6.47PM. PM?
Salam again
Abdur Rahim/Natore/01712669027
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. তাঁর খৃতবাতুল ইসলাম বইয়ের মধ্যে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নাত সুর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। তিনি এত তাড়াতাড়ি ইফতার করতেন যে, অনেক সময় সাহাবীগণ বলতেন, হে আল্লাহর রাসূল, সন্ধ্যা হোক না, এখনো তো দিন শেষ হলো না! তিনি বলতেন, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতে হবে। বিভিন্ন হাদীসে রয়েছে যে, সাহাবীগণ সর্বদা শেষ সময়ে সাহরী খেতেন এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: لا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ যতদিন মানুষ সুর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৫৭। إِنَّا مَعْشَرَ الأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا بِتَعْجِيْلِ فِطْرِنَا وَتَأْخِيْرِ سُحُوْرِنَا আমরা নবীগণ আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রথম সময়ে ইফতার করতে ও শেষ সময়ে সাহরী খেতে। আলমুজামুল কাবীর লিত-ত্ববরনী, হাদীস নং ১১৩২৩। হাদীসটির সনদ সহীহ। উক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেই আমরা ইফতার করতে পারি। তবে সূর্য অস্ত যেতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। ৬.৪৭ যদি অস্ত যাওয়া শুরু হয় তাহলে অস্ত যেতে ৬.৫০ লেগে যেতে পারে। ৬.৫0 সময় ইফতার করা যেতে পারে। আমাদের দেশের ইফতারের সময়সূচী নির্ধারন করা হয় সতার্কতামূলক ৩ মিনিট যোগ করে। তাই একটু সময় বেশী মনে হয়। মোটকথা সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর আপনি ইফতার করতে পারেন আর এটাই সুন্নাত।
প্রশ্নঃ 477
আসসালামু আলাইকুম,
কেমন আছেন? মহানবী (সাঃ) এর জন্মদিন পালন করার সুন্নত উপায় ওই দিন রোজা রাখা, এছাড়া তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এখন প্রশ্ন হল আমাদের নিজেদের জন্মদিনে কি আমরা রোজা করতে পারব এবং প্রতি সোমবারের মত নিজেদের জন্মবারেও কি প্রতি সপ্তাহে ওই দিন রোজা রাখা যাবে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, জন্মদিন নয়। রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবুওয়াত পেয়েছেন। তাই তিনি রোজা রেখে এইবার পালন করেছেন। আপনি যদি জন্মবার পালন করতে চান তাহলে আপনকে নবুওয়াত পেতে হবে। এটা সম্ভব নয়্।
২. রাসূলুল্লাহ সা. জন্মবার পালন করেছেন, কিন্তু কোন সাহাবী পালন করেন নি। যদি রাসূলুল্লাহ সা. ব্যতিত অন্য কারো জন্মবার পালন করার অনুমতি থাকতো তাহলে সাহাবীরা নিজেদের জন্মবার পালন করতেন। কারণ সাহাবীগন রা. ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী তৎপর। সুতরাং কেউ যদি নিজের জন্মবার পালন করে সেটা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। তাই এই কাজ করবেন না।
প্রশ্নঃ 175
বাংলাদেশে আমরা আরাফার দিনের সিয়াম কত তারিখে রাখব? সাউদিতে যেদিন হাজী সাহেব্ রা আরাফাতে অবস্থান করেন সেই দিন না বাংলাদেসের ৯ জিলহাজ্জ। কেননা চাদের হিসাবে সৌদি তে যেদিন আরাফা সেদিন বাংলাদেশ এ ৮ তারিখ হয় (সাধারনত)। আবার বাংলাদেশে ৯ জিলহাজ্জ তারিখে তো হাজী সাহেব্ রা আরাফাতে থাকেন না। এমাতবস্থায় আমরা বাংলাদেসের হিসাবে না সাউদির হিসাবে সিয়াম রাখব?
23 Dec 2025
অধিকাংশ আলেমের নিকট স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী ৯ জিলহজ্জ রোজা রাখবে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফায় থাকবে সেদিন রোজা রাখবে।
প্রশ্নঃ 124
আস-সালামু আলাইকুম, স্যার হস্তমৈথুন করার ফলে রোজা ভঙ্গ হয়, এই রোজার জন্য কাজা বা এর অন্যান্য বিধান কি?
22 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহতমাতুল্লাহ।
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে। দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।
প্রশ্নঃ 127
আস-সালামু আলাইকুম, স্যার হস্তমৈথুন করার ফলে রোজা ভঙ্গ হয়, এই রোজার জন্য কাজা বা এর অন্যান্য বিধান কি?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রথমত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত কুরআন অধ্যয়ন করেন নি। কুরআনে হুরের বিষয়টির সাথে যৌনতা, দৈহিক সম্পর্ক ইত্যাদির সামান্যতম আবেশ নেই। বারংবার বলা হয়েছে যে, তাদেরকে জোড়া বানিয়ে দেওয়া হবে হুরের সাথে। আরবী ও অন্যান্য লিঙ্গ সচেতন ভাষায় সাধারণ বিধিবিধানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেই বিধিবিধান প্রদান করা হয়। এরপরও হুর শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আর মানবীয় প্রকৃতির সাথে একটি সুসমঞ্জস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে আত্মা ও মনের শান্তির জন্য জোড়া চায়। জান্নাতে মহান আল্লাহ তাদেরকে জোড়া প্রদান করবেন; যেন তারা মানবীয় প্রকৃতির প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: এ বিষয়টি যিনি বলেছেন তিনি সম্ভবত অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থও অধ্যয়ন করেন নি। বাইবেল, বেদ, রামায়ন, মহাভারত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি পর্নোগ্রাফিকেও হার মানায়। পিতা-কন্যার ব্যভিচার, ভাই-বোনের ভ্যবিচার, শ্বশুর-পুত্রবধুর ব্যভিচার, পিতার স্ত্রীদের প্রকাশ্যে ধর্ষণ, উলঙ্গ হয়ে নাচানাচি, মাতলামি ইত্যাদির বর্ণনায় পবিত্র বাইবেল পরিপূর্ণ। সাধারণ বিষয়ের বর্ণনাতেও অশ্লীল উপমা ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআনে স্বাভাবিক যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক বর্ণনাও সকল অশ্লীতার ছোয়া থেকে মুক্ত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ইহূদী, খৃস্টান, হিন্দু বা অন্য ধর্মের কোনো কোনো অনুসারী নিজেদের ধর্মগ্রন্থের অপবিত্রতম পর্নোগ্রাফীর চেয়েও অশ্লীল গল্পগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভির্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে না করলেও কুরআনের মধ্যে বিদ্যমান অশ্লীলতা বা দৈহিকতার সামান্যতম ছোয়ামুক্ত হুর বিষয়ক বক্তব্যগুলোকে ধর্মগ্রন্থের ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অসামাঞ্জস্য বলে দাবি করেন।
প্রশ্নঃ 102
শাওয়াল মাসের রোজা তিনটি রাখলে হবে না ছয়টি রাখতে হবে জানালে ভালো হয়
22 Dec 2025
আবূ আইয়্যুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
যে রামাদান মাসের রোজা রাখে এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে তাহলে এটা তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার মত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪২৫। হাদীসে বর্ণিত উক্ত ফজিলতের জন্য আপনাকে ছয়টি রোজাই রাখতে হবে। তিনটি রাখলে চলবে না। তবে তিনটি রাখলে সাধারণ নফল রোজার সওয়াব হবে।
প্রশ্নঃ 65
একজন মানুষ বিদেশে কায়িক প্ররিশ্রম করে । তাই সে দেশে একজন রোজাদারের সেহরী ও ইফতার দিয়ে মনে করছে তার রোজার হক হয়ে যাচ্ছে । এটা কি তার রোজার কাফফারা?
20 Dec 2025
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। না, এর দ্বারা তার রোজার কাফফারা হচ্ছে না। এটা তার ভুল ও বিপজ্জনক চিন্তা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
অর্থ: রামাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে......তোমাদের মধ্যে যে রামাদান মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫। সুতরাং প্রত্যেক সুস্থ মুসলিমের উপর রামাদানের রোজা রাখা ফরজ । অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে না পারলে সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে। আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেই কেবল ফিদিয়া দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ফিদিয়া সেহরী ইফতার দিয়ে নয় বরং একজন মিসকিনকে দুবেলা খাবার বা খাবারের টাকা দিয়ে আদায় করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে তাহলে তার জন্য অন্য দিনগুলো, (অর্থাৎ সে পরে সুস্থ হলে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসলে যে রোজাগুলো রাখতে পারে নাই সেগুলো রাখবে)। আর যারা রোজা রাখতে গিয়ে কষ্টের শিকার হবে তাদের উপর আবশ্যক হল ফিদিয়া একজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, কষ্টের শিকার ব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হল প্রচন্ড বৃদ্ধ মানুষ ( যারা রোজা রাখতে পারে না)। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৪। আধুনিক ফিকহী কিতাব আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর লেখক ড. ওহুবাহ আয যুহায়লি বলেন,
وتجب الفدية أيضاً بالاتفاق على المريض الذي لا يرجى برؤه، لعدم وجوب الصوم عليه
অর্থ: সর্বাক্যমতে ফিদিয়া ওয়াজিব হবে এমন অসুস্থ ব্যক্তির উপর যার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কেননা তার উপর তখন রোজা ওয়াজিব থাকে না। আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৬০৫। আরো দেখুন: আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবা ১/৪৪৫। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, প্রশ্নেল্লোখিত ব্যক্তির জন্য এভাবে রোজা না রেখে কাউকে সেহরী ইফতার করানো শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নেই। সুস্থ ব্যক্তিকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। সুস্থ হওয়ার আশা নেই এমন অসুস্থ ব্যক্তিই কেবল ফিদিয়া দিতে পারবে তথা তার উপর ফিদিয়া দেয়া ওয়াজিব। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 64
কীভাবে রোজার নিয়ত করবো
20 Dec 2025
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিয়্যাত হলো হৃদয়ের সংকল্প। ইবনে হাজার রহ. ফতাহুল বারীতে বলেছেন, নিয়্যাতের জায়গা হল অন্তর। অন্যান্য আলেমদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন ফাতহুল বারী, হাদীস নং ১। যে দিন রোজা রাখবেন তার আগের রাত্রে মনে মনে সংকল্প করবেন যে, আমি আজ রোজা রাখব। হাদীস শরীফে আছে, উম্মুল মূমিনীন হাফসা রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন,
قال من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له
অর্থ: যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোজার নিয়্যাত না করবে তার রোজা হবে না। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৭৩০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৭০০। হাদীসটি সহীহ। আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন। তবে ফকীহদের কেউ কেউ বলেছেন, সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়ার পূর্বে নিয়্যাত করলেও জায়েজ হবে। অবশ্য নফল রোজার নিয়্যাত সর্বাক্যমতে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত করা যায়। দেখুন জামে তিরমিযী ৭৩০ নং হাদীসের আলোচনা।
প্রশ্নঃ 45
ফেতরার বন্টন ঈদের সালাতের আগে না পরে?
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন। প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে নিচে সামান্য আলোচনা করা হল, আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন, উলামায়ে কেরামের নিকট মুস্তাহাব হল, ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বপর্যন্ত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। কেননা রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে তা আদায় করতেন। পাশাপাশি দরিদ্রশ্রেণীর মানুষেরা মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়ানো থেকে মুক্ত হয়ে নামাজে শরীক হতে পারে। ইবনে উমার রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَمَرَ بِإِخْرَاجِ زَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ
(অর্থঃ)রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম, আস-সহীহ, কিতাব,আয-যাকাত, বাব, আল আমর বিইখরাজি যাকাতিল ফিতর ক্ববলাস সালাত, হাদীস নং ২৩৩৬। তবে যদি কেউ এক-দুইদিন পূর্বে তা দিয়ে দেয় তা যায়েয আছে এবং তার ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। আল-মুগনি, বাব, সাদাকাতুল ফিতর,মাসআলাতু তাকদীমুল ফিতর ক্ববলাল ঈদ বিইয়াওমাইনি খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৯৪। বুখারীতে এসেছে
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : فَرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةَ الْفِطْرِ .....وَكَانُوا يُعْطُونَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمٍ ، أَوْ يَوْمَيْنِ.
(অর্থঃ) ইবনে উমার রাঃ থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ সাদাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন। ...আর সাহাবায়ে কেরাম ফিতরের পূর্বে(রমজানের রোজা একটি বা দুইটা বাকী থাকতে) তা আদায় করতেন। বুখারী, হাদীস নং ১৫১১। সহীহ ইবনে হিব্বানে এসেছে:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بإخراج زكاة الفطر أن تؤدى قبل خروج الناس، وأن عبد الله كان يؤديها قبل ذلك بيوم أو يومين
(অর্থঃ) রাসূল সাঃ ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। আর আব্দুল্লাহ (ইবনে উমার) রাঃ ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে ফিতরা আদায় করতেন। সহীহ ইবনে হিব্বান, তাহকীক, শুয়াইব আরনাউত, খন্ড-৮,পৃষ্ঠা-৯৩। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসের সনদটি সহীহ, সহীহ মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। আর নামাজের পরে দেয়ার বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামত দেখলে বুঝা যায় যে, তাদের মতে এবিষয়টি মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। ইবনে হাযাম রহঃ হারাম বলেছেন। ফাতহুল ক্বাদীরের লেখক আল্লামা ইবনে হুমাম রহঃ বলেন: যদি ঈদুল ফিতরের দিন ফিতরা কেউ না তাহলে তা তাদের থেকে রহিত হবে না, বরং পরবর্তিতে তা আদায় করা আবশ্যক। ফাতহুল ক্বাদীর খন্ড ৪ পৃষ্ঠা ২৬২। (শামিলা)। তাছাড়া পরবর্তিতে আদায় করলে ঈদের নামাজের পূর্বে দেয়ার যে ফযিলত ছিল তা পাওয়া যাবে না বরং তা সাধারন সদকা হিসাবে গণ্য হবে। হাদীসে এসেছে:
مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ فَهِىَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَهِىَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ.
(অর্থঃ) নামাজের পূর্বে যেটা আদায় করা হল সেটা মাকবুল যাকাত আর যেটা নামাজের পরে আদায় করা হল দান। সুনানে আবু দাউদ,বাব, যাকাতুল ফিতর, খন্ড ২,পৃষ্ঠা ২৫,তাহকীক, শায়েখ আলবানী। উক্ত হাদীসের ব্যাক্ষায় ড. ঝুহাইলী বলেন: সাদকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল অন্যান্য সময়ের ন্যায় সাধারন দান। আল ফিকহুল ইসলামীয়্যু ওয়া আদিল্লাতুহু,খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬২, মাকতাবাতু থানবী, দেওবন্দ। ফাতহুল ক্বাদীরের লেখক আল্লামা ইবনে হুমাম রহঃ বলেন: যদি ঈদুল ফিতরের দিন ফিতরা কেউ না তাহলে তা তাদের থেকে রহিত হবে না, বরং পরবর্তিতে তা আদায় করা আবশ্যক। ফাতহুল ক্বাদীর খন্ড ৪পৃষ্ঠা ২৬২। (শামিলা)। মোটকথা, ঈদের দিন ফযরের পর থেকে ঈদের নামাজের আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব। তবে যদি কেউ এক-দুইদিন আগে তা দিয়ে দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে। ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত বিলম্ব করা সকল ইমামদের মতে মাকরুহ। তবে তা যততাড়াতাড়ি সম্ভব দিয়ে দিতে হবে এবং সেটা সাধারন দান হিসাবে গণ্য হবে। অতএব আমাদের উচিৎ ঈদের নামাজের পর্বেই তা আদায় করার মাধ্যমে রাসূল সা. এর সুন্নাতের অনুসরণ করা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সবসময় রাসূল সা. এর সুন্নাতের এত্তেবা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 44
আসসালামু আলাইকুম, আমার বাবা গত বছর (২০১৪ ইং) রমজানের রোজার ৩/৪ টি রাখার পর অসুস্থ হয়ে পরে। যার কারণে আর রোযা রাখা সম্ভব হয়নি। এখনো পুরাপুরি সুস্থ হয়নি। তবে আল্লাহ চাহেতো এবার রমযানের রোযা রাখার নিয়াত করেছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো এ অবস্থায় পূর্বের রোযার হুকুম কি হবে? তিনি পূর্বের রোযা রাখার ব্যাপারে অনেকটা (অসুস্থতার কারনে) অপারগতা প্রকাশ করছেন। পূর্বের রোযা কি ফিদিয়া কিংবা মিসকিনকে খাওয়ানোর দ্বারা আদায় হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে না পারলে সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে। আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে ফিদিয়া দিতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে তাহলে তার জন্য অন্য দিনগুলো, (অর্থাৎ সে পরে সুস্থ হলে কিংবা সফর থেকে ফিরে আসলে যে রোজাগুলো রাখতে পারেনি সেগুলো রাখবে)। আর যারা রোজা রাখতে গিয়ে কষ্টের শিকার হবে তাদের উপর আবশ্যক হল ফিদিয়া একজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো। সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৪। এই আয়াতের ভিত্তিতে আলেগণের সর্বাক্যমতে যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তার জন্য ফিদিয়া দেয়া যাবে না। আর যদি সুস্থ হওয়ার আশা না থাকে তাহলে ফিদিয়া দিতে হবে। আধুনিক ফিকহী কিতাব আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু এর লেখক ড. ওহুবাহ আঝ-ঝুহায়লি বলেন,
وتجب الفدية أيضاً بالاتفاق على المريض الذي لا يرجى برؤه، لعدم وجوب الصوم عليه
অর্থ: সর্বাক্যমতে ফিদিয়া ওয়াজিব হবে এমন অসুস্থ ব্যক্তির উপর যার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায় না। কেননা তার উপর তখন রোজা ওয়াজিব থাকে না। আল ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৬০৫। আরো দেখুন: আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবা, ১/৪৪৫। উপরুক্ত দলীল সমূহে ভিত্তিতে যা বোঝা যায় তা হল, আপনার পিতা যেহেতু আগামী রমযানে রোযা রাখার ইচ্ছা করছেন, এতে বোঝা যাচ্ছে তিনি এমন অসুস্থ নন যে, তার সুস্থ হওয়া অসম্ভব, তাই আপনার পিতাকে অপেক্ষা করতে হবে। যদি তিনি সুস্থ হয়ে যান তাহলে রোজা কাযা করবেন আর যদি পরবর্তিতে এমন হয় যে তার সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে কোন আশা করা যাচ্ছে না তখন ফিদিয়া দিতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 23
নাকের পানি টানলে যদি তা গলা দিয়ে চলে যায় তাহলে রোজা ভাঙ্গবে কি না?
20 Dec 2025
হা, রোজা অবস্থায় যদি নাকের পানি টানা হয় এবং তা গলা দিয়ে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
প্রশ্নঃ 18
সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে কেউ যদি অপবিত্র হয়ে যায় তাহলে তার রোযা হবে কি না।
20 Dec 2025
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল। আশা করি তাতে আপনি আপনার উত্তর পাবেন। ইনশাল্লাহ।
রোজা সহীহ হওয়ার জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। সুতরাং কেউ যদি স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে বা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে জুনুবী বা বড় ধরনের অপবিত্র হয়ে যায় এবং এ অবস্থাতে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায় (যেমন কেউ ফজরের পূর্বে বা রাতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে গেল এবং ফজরের আযানের পর ঘুম থেকে জাগ্রত হল বা সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে গেল এবং স্বপ্নদোষ হল। এরপর সে ফজরের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠল) তাহলে তার রোজার কোন ক্ষতি হবে না। এ মর্মে আয়েশা রাঃ এবং উম্মে সালামা রাঃ থেকে বর্ণীত একটি হাদীসে এসেছে তারা বলেন:
كَانَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ وَيَصُوم
(অর্থ) রাসূল সা. স্ত্রী সহবাসের কারনে জুনুবী, এঅবস্থাতে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যেত। এরপর তিনি গোছল করতেন এবং রোজা রাখতেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৯২৬। ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন: অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামের আমল এ হাদীস অনুযায়ী ছিলো। তিরমিযী, আস সুনান,কিতাব, আস সাওম,বাব, আল জুনুবু ইদরিকুহুল ফাজরু। তবে এ অবস্থায় থেকে ফজরের নামাজ কাজা করা বা জামাত তরক করা একেবারেই অনুচিত । বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোছল সেরে পবিত্র হয়ে জামাতে শরীক হতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।