প্রশ্নঃ 2152
আস্ সালামু আলায়কুম– যদি পেশাবের সাথে বীর্য নির্গত হয় তাহলে কি গোসল ফরজ হবে?
21 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, গোসল ফরজ হবে।
প্রশ্নঃ 2075
আস সালামু আলাইকুম। একবার আমি ওযু করে তারপর একটু শুয়েছি। শোয়ার পর চোখ বন্ধ হয়ে এসেছিল দুই কি তিন মিনিটের জন্য। সাথে সাথে উঠে আমি সেই ওযুতেই সালাত আদায় করি। এখন আমি বুঝতে পারছি না, সেটা কি নিদ্রা ছিল, নাকি তন্দ্রা। সন্দেহে ভুগছি। নিদ্রা হলে তো আমার ওযু ভঙ্গ হয়ে গিয়েছে। তাহলে সালাতও আদায় হবে না। এখন আমার কী করা উচিত? কাযা করবো, নাকি তন্দ্রা ধরে নিয়ে সন্দেহ দূর করে দিব?
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এমন সন্দেহ হলো কাযা করাই ভাল বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ 2058
আস্সামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। Washing machine নাপাক কাপড় ধুইলে কাপড় কি পাক হয়?
18 Jan 2026
প্রশ্নঃ 2041
ওজুতে ঘাড় মাছা করা সুন্নাত কিনা?
18 Jan 2026
ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫।
প্রশ্নঃ 2040
আসসালামু আলাইকুম, অফিস শুরু হয় সকাল ৯ টা থেকে আর বাসাই ফিরি সন্ধার পর। শয়তানের ওসওয়াসায় পড়ে মাঝে মধ্যে লিঙ্গ দিয়ে পিচ্ছিল তরল বের হয় এবং তা আন্ডারওয়্যার ও প্যান্টের মধ্যে লাগে। যেহেতু সন্ধার পর বাসায় ফিরি তাই কাপড় পাল্টানোর সুযোগ নাই । এমতাবস্থায় যোহর, আসর ও মাগরিব – এর নামায আদায় করার হুকুম কি।
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই কাপড় পরে নামায পড়া যাবে না। আপনাকে একটা উপায় বের করতেই হবে যাতে সময় মত সকল ওয়াক্তের নামায পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, নামায ফরজ ইবাদাত। নামায ব্যতিত নাজাত পাওয়ার আশা নেই। সুতরাং নামাযকে সর্বাগ্রে নামাযকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিন।
প্রশ্নঃ 2031
আসসালামু আলাইকুম… আমার প্রশ্ন হলো যে, আমরা বেশিরভাগ মানুষই বাথরুমে ওযু, গোসল করি… এতে করে পানি ছিটকে কমটে পড়তে পারে… বাথরুমে গোসল করে বা ওযু করে কি পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব? যদি না হয় তাহলে করণীয় কি?
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাথরুমে ওজু গোসল করতে কোন সমস্যা নেই।নিশ্চিন্তে বাথরুমে ওযু-গোসল করতে পারেন।
প্রশ্নঃ 2014
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল মেঝেতে নাপাকী শুকিয়ে গেলে এবং তার ওপর (ওযু করে) ভেজা পাঁয়ে হেঁটে গিয়ে জায়নামাজে উঠলে জায়নামাজ কি নাপাক হবে?
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, নাপাক হয়ে যাবে। শুধু শুকিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়, ভাল করে ধুয়ে দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 2004
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ… Washing Machine এ কোন নাপাক কাপড় ধোয়ার পর যদি পাক কাপড় ধুতে চাই, তবে কি উপায়ে washing mechine পরিষ্কার করতে হবে? অথবা আদৌও washing machine পরিষ্কার করতে হবে কিনা? আপনার নিশ্চয় জানা আছে যে, Washing Machine এ কাপড় ধোয়া শেষ হলে কাপড় ভেজা থাকেনা, কিন্তু ড্রামের গায়ে ভিতরের দিকে ফোটা ফোটা পানি লেগে থাকে। কি করণীয় জানালে উপকৃত হবো ইনশাল্লাহ।
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ওয়াশিং মেশিন অপবিত্র হবে না। সুতরাং পরিস্কার বা পবিত্র করতে হবে না।
প্রশ্নঃ 2000
আসসালামু আলাইকুম, ধূমপান করলে অযু ভেঙ্গে যাবে কি না? ধূমপান করে নামায পড়া যাবে কিনা?
18 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধুমপান করলে ওযু ভাঙলে তো সমস্যা ছিল না ওযু করে নিলেই হতো। ধুমপান একটি যঘন্য হারাম কাজ, বড় গুনাহের কাজ। সুতরাং প্রত্যেক মূমিনের উচিত ধুমপান থেকে বিরত থাকা। তবে ওযু ভাঙে না।
প্রশ্নঃ 1986
একজন শায়েখ বলেছেন যে এক বালতি গাভীর পেশাবে কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে সেই কাপড়ে সালাত আদায় করলে সালাত হয়ে যাবে(মানে গাভীর পেশাব পবিত্র)। এখন আমার প্রশ্ন, গরু- গাভীর পেশাব কি সত্যিই পবিত্র?কোন হাদীস পাওয়া যায় এসম্পর্কে?
17 Jan 2026
যে সব প্রাণীর গোশত হালাল তার পেশাব পবিত্র নাকি অপবিত্র এ নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকেই পবিত্র বলেছেন। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. কিছু রোগীকে উটের পেশাব খাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এছাড়া এই সব প্রাণী রাখার স্থানে নামায আদায় করার জন্যও তিনি বলেছিলেন। হাদীসগুলো সহীহ। হানাফী আলেমগণ ছোট পর্যায়ের নাজাসাত বলেছেন। কাপড়ের এক চতুর্থাংশে লাগলে মাফ, এর চেয়ে বেশী লাগলে নামায হবে না।
প্রশ্নঃ 1932
আস-সালামু আলাইকুম । অপবিত্র কাপড় যদি শরীরে থাকে এবং তা ঘামে ভিজে যায় বা অপবিত্র বিছানায় শুলে যদি তা ঘামে ভিজে যায় তাহলে কি শরীর অপবিত্র হয়ে যাবে?
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, অবিত্র হয়ে যাবে। এবং নামাযের জন্য শরীরের ঐ অংশটুকু ধুয়ে ফেলতে হবে।
প্রশ্নঃ 1926
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল পেশাব থেকে পবিত্রতা বিষয়ে। আমি যখন পেশাব শেষ করি এর পর অনেক্ষন অপেক্ষা করি কারন সম্পূর্ণ পবিত্র যেন হওয়া যায়। কিন্তু তারপরও দেখা যায় কিছু ফোটা ফোটা আসে। আবার দেখা যায় একটু পর বন্ধ হয়ে যায়। আবার আসে। আই অবস্থায় আমি যদি পেশাব ধুয়ে চলে আসি আর আর পর যদি আমার অন্তর্বাসে পেশাব লেগে যায় ওই ক্ষেত্রে আমি সালাত আদায়ের আগে কি করতে পারি(কারন আমি যখন অফিস থাকি আবার কাপড় বদলানো সম্ভব নয়) দয়া করে জানাবেন? আমি খুব দিধার মধ্যে থাকি। আমার কোন পেশাব সংক্রান্ত রোগ নেই।
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি রোগ না থাকে তাহলে পেশার করে উঠে আসার পর ফোটা ফোটা আসে কিভাবে? যদি রোগ না হয় তাহলে এটা আপনার মানসিক সমস্যা।এক্ষেত্রে করণীয় হলো পেশাবের পর পানি ব্যবহার করে অন্তর্বাসের উপর একটু পানি ছিটিয়ে দেয়া যাতে পেশাব কয়েক ফোটা আবার বের হয়েছে এরক ওয়াসওয়াসা না আসে। তবে যদি নিশ্চিত হন যে, পেশাব কাপড়ে লেগেছে তাহলে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই নামায হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 1925
আসসলামুআলাইকুম। হাত ও পায়ের নখ স্বাভাবিক (বড় ও ছোটর মাঝামাঝি) থাকা অবস্থায়, নকের কোণের অংশ দ্বারা ত্বক এমন ভাবে ঢাকা থাকে যে তাতে স্বাভাবিক ভাবে ওজুর সময় পানি পৌছেনা। এভাবে ওজু কি হবেনা? নাকি নখের অংশ দ্বারা ত্বক আবৃত থাকায় সেখানে পানি পৌছাতে হবেনা? আর ওজুর সময় নকের কত ভেতরে পানি পৌছানো ওয়াজিব?
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কথাটা ঠিক বুঝলাম না। স্বাভাবিকভাবে নখের নিচে পানি না পৌছালে নখতো অনেক বড় হওয়া দরকার। এত বড় নখ কেটে ফেলতে হবে তাহলে সহজেই সব জায়াগাতে পানি পৌছাবে। নখের ভিতরের শেষ পর্যন্ত পানি পৌছাতে হবে।
প্রশ্নঃ 1921
আসসালামু আলাইকুম। মনে করুন পবিত্রতা বিষয়ে কোন মাসআলা না জানার কারনে আমি অপবিত্র অবস্হায় পূর্বে অনেক নামাজ পড়েছি। এখন মাসআলাটি জানার পর আমাকে কী নামাজগুলো কাযা করতে হবে। উল্লেখ্য নামাজের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যাও মনে নেই।
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন সমস্যা হয়েছে সেটা নির্দিষ্ট করে লিখুন। নয়তো এভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ 1916
আসসালামুআলাইকুম । অপবিত্র কাপড় ধোয়ার পর বড় বালতি থেকে অবশিষ্ট পানি (বালতি অর্ধপূর্ন ও উপরের অংশেও পানি ছিটকে পরে) ফেলে দেয়ার পর সেটিতে আবার পূর্ন করে পানিপূর্ন করলে সেই পানি কী পবিত্র? তা দিয়ে কী ওজু হবে? আর, লোহা, কাচ, প্লাষ্টিক, চামড়ার তৈরী কোন কিছুতে তরল নাপাকি লাগলে এবং পরবর্তীতে এমনিতে শুকিয়ে গেলে এগুলো কী পবিত্র হয়?
16 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অপিত্র পানি ফেলে দেয়ার পর সে পাত্রে পবিত্র পানি রাখলে সে পানি পবিত্র। সমস্যা নেই। লোহা, কাচ ইত্যাদী শক্ত জিনিসে না পাকি লাগলে ভাল করে মুছে ফেলতে হবে অথবো ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু রোদ্রে শুকালে পবিত্র হবে না।
প্রশ্নঃ 1900
আসসালামুয়ালাইকুম। আমার প্রশ্ন হল পেশাব থেকে পবিত্রতা বিষয়ে। আমি যখন পেশাব শেষ করি এর পর অনেক্ষন অপেক্ষা করি কারন সম্পূর্ণ পবিত্র যেন হওয়া যায়। কিন্তু তারপরও দেখা যায় কিছু ফোটা ফোটা আসে। আবার দেখা যায় একটু পর বন্ধ হয়ে যায়। আবার আসে। আই অবস্থায় আমি যদি পেশাব ধুয়ে চলে আসি আর আর পর যদি আমার অন্তর্বাসে পেশাব লেগে যায় ওই ক্ষেত্রে আমি সালাত আদায়ের আগে কি করতে পারি(কারন আমি যখন অফিস থাকি আবার কাপড় বদলানো সম্ভব নয়) দয়া করে জানাবেন? আমি খুব দিধার মধ্যে থাকি। আমার কোন পেশাব সংক্রান্ত রোগ নেই।
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি রোগ না থাকে তাহলে পেশার করে উঠে আসার পর ফোটা ফোটা আসে কিভাবে? যদি রোগ না হয় তাহলে এটা আপনার মানসিক সমস্যা।এক্ষেত্রে করণীয় হলো পেশাবের পর পানি ব্যবহার করে অন্তর্বাসের উপর একটু পানি ছিটিয়ে দেয়া যাতে পেশাব কয়েক ফোটা আবার বের হয়েছে এরক ওয়াসওয়াসা না আসে। তবে যদি নিশ্চিত হন যে, পেশাব কাপড়ে লেগেছে তাহলে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই নামায হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 1899
আসসলামুআলাইকুম। হাত ও পায়ের নখ স্বাভাবিক (বড় ও ছোটর মাঝামাঝি) থাকা অবস্থায়, নকের কোণের অংশ দ্বারা ত্বক এমন ভাবে ঢাকা থাকে যে তাতে স্বাভাবিক ভাবে ওজুর সময় পানি পৌছেনা। এভাবে ওজু কি হবেনা? নাকি নখের অংশ দ্বারা ত্বক আবৃত থাকায় সেখানে পানি পৌছাতে হবেনা? আর ওজুর সময় নকের কত ভেতরে পানি পৌছানো ওয়াজিব?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার কথাটা ঠিক বুঝলাম না। স্বাভাবিকভাবে নখের নিচে পানি না পৌছালে নখতো অনেক বড় হওয়া দরকার। এত বড় নখ কেটে ফেলতে হবে তাহলে সহজেই সব জায়াগাতে পানি পৌছাবে। নখের ভিতরের শেষ পর্যন্ত পানি পৌছাতে হবে।
প্রশ্নঃ 1895
আসসালামুআলাইকুম। মনে করুন পবিত্রতা বিষয়ে কোন মাসআলা না জানার কারনে আমি অপবিত্র অবস্হায় পূর্বে অনেক নামাজ পড়েছি। এখন মাসআলাটি জানার পর আমাকে কী নামাজগুলো কাযা করতে হবে। উল্লেখ্য নামাজের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যাও মনে নেই।
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন সমস্যা হয়েছে সেটা নির্দিষ্ট করে লিখুন। নয়তো এভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ 1891
আসসালামু আলাইকুম। অপবিত্র কাপড় ধোয়ার পর বড় বালতি থেকে অবশিষ্ট পানি (বালতি অর্ধপূর্ন ও উপরের অংশেও পানি ছিটকে পরে) ফেলে দেয়ার পর সেটিতে আবার পূর্ন করে পানিপূর্ন করলে সেই পানি কী পবিত্র? তা দিয়ে কী ওজু হবে? আর, লোহা, কাচ, প্লাষ্টিক, চামড়ার তৈরী কোন কিছুতে তরল নাপাকি লাগলে এবং পরবর্তীতে এমনিতে শুকিয়ে গেলে এগুলো কী পবিত্র হয়?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অপবিত্র পানি ফেলে দেয়ার পর, সে পাত্রে পবিত্র পানি রাখলে সে পানি পবিত্র। সমস্যা নেই। লোহা, কাঁচ ইত্যাদি শক্ত জিনিসে নাপাকি লাগলে ভাল করে মুছে ফেলতে হবে অথবা ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু রোদ্রে শুকালে পবিত্র হবে না।
প্রশ্নঃ 1874
আস-সালামু আলাইকুম। মাজুর ব্যক্তির ক্ষেত্রে (যার খুব সামান্য পরিমাণ প্রস্রাবের ফোটা কিছুক্ষণ পরপর বের হতে থাকে) প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের আগে কি কাপড় ধুয়ে নিতে হবে বা পরিবর্তন করতে হবে?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, কাপড় পরিবর্তন করতে হবে অথবা ধুতে হবে।
প্রশ্নঃ 1872
আসসালামুয়ালাইকুম ভাই, আমার প্রশ্ন হল পেশাবের করে বার হয়ে আশার পর যদি মনে হয় বা নিশ্ছিত হওয়া যায় কিছু ফোটা পরেচে তাহলে কি সালাত আদায়ের আগে শুধু অই জায়গাতে পানি ছিটিয়ে দিলে হবে আমি হাদিসে পানি ছিটানর কথা পরেছি । কারন ধুএ ফেলা বলতে আশলে কি বুঝায় পুরা টা ধুয়ে ফেলা? এইটা ত সবসময় সম্ভব না আর কাপর বদলানো সবসময় সম্ভব না?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যাদের ভিরত সন্ধেহের রোগ আছে তারা সন্দেহ থেকে বাচার জন্য পেশাবের পর কাপড়ের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। হাদীসে উপরুক্ত কথা বলা হয়েছে। নিশ্চিত হলে পানি ছিটালে হবে না। ধুতে হবে।
প্রশ্নঃ 1861
আসসালামু আলাইকুম… আমি উলংগ অবস্থায় গোসলের সময় ওযু সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি…১) গোসলের শুরুতে উলংগ হয়ে লজ্জাস্থান ধুয়ে এর পর ওযু করে গোসল করলে কি ওযুসহ ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে? ২) যদি উলংগ অবস্থায় করা ওযু, ওযু হিসেবে কবুল না হয় তবে ফরয গোসল হবেনা… আর যদি এই ওযুতেই গোসল হয়ে যায় তাহলে এই ওযুতেও কি সলাত হবে? নাকি নতুন করে ওযু করে সলাত আদায় করতে হবে?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। গোসলের শুরুতে উলংগ হয়ে লজ্জাস্থান ধুয়ে এর পর ওযু করে গোসল করলে ওযুসহ ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে এবং এই সালাত আদায় করা যাবে নতুর করে ওযু করার প্রয়োজন নেই।
প্রশ্নঃ 1859
আসসালামুআলাইকুম। ওজুতে চেহারা ধোয়ার সময় ভ্রুর চুল এই পরিমান যে নিচের চামড়া কিছুটা হলেও দেখা যায়, তাহলে ভ্রুর নিচের চামড়ায় পানি পৌছানো কী জরুরি? চেহারার অংশ কী থুতনির নিচ পর্যন্ত নাকি উপর দিকে গলার শেষ সীমা পর্যন্ত? যাযাকুমুল্লহ।
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভ্রুর নিচে পানি পৌছাতে হবে এবং উপর দিকে গলার শেষ পর্যন্ত ধৌত করবেন।
প্রশ্নঃ 1857
আসসালামু আলাইকুম।
১। আমি নিজে ও আমার পোশাক পবিত্র রাখার যথেষ্ঠ চেষ্টা করি কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। যখন সন্দেহ হয় তখন পোশাক পরিবর্তন করার সুযোগ থাকলে পোশাক পরিবর্তন করে নামায আদায় করি কিন্তু মাঝে মাঝে পোশাক পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে না তখন কি করব?
২। একজন শাইখ বলেছেন কেউ যদি মাযহাব মানে তাহলে তার ঈমাণ নষ্ট হয়ে যাবে। এটা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি?
৩। কারো কাছে বায়াত হওয়া কি জরুরী?
14 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।শুধু সন্দেহের কারণে পোশাক পরিবর্তন করবেন না। এটা এক ধরণের রোগ আপনি এটা করতে থাকলে এই রোগটি আপনাকে পেয়ে বসবে। ২। ঐ শায়েখ মাজহাবের অর্থ ভুল বুঝেছেন,তাই এমনটি বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে ঐ শায়েখও মাজহাব মানে। প্রতিটি মানুষের পক্ষে কুরআন-হাদীস থেকে পড়ে মাসআলা-মাসায়েল জানা সম্ভব নয়। হাদীসের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করাও প্রত্যেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষেরা কোন আলেমের থেকে এগুলোে জেনে নিয়ে আমল করে থাকে। এটাকেই সমাজ মাজহাব নাম দিয়েছে। এটা করলে যদি ঈমান নষ্ট হয় তাহলে ঈমান থাকবে কিভাবে? হাদীসের সহীহ যয়ীফ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেম পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের উপর নির্ভর করে, এর অর্থ হলো তারা পূর্ববর্তী ইমামদের মতামত মানছে তার মাজহাব মানছে। যে শায়েখ বলেছেন তিনিও হয়তো এর ব্যাতিক্রম নন। আসলে সবাই মাজহাব মানে, কেই বুঝতে পারে আর কেউ বুঝেও না বুঝার ভান করে। ৩। সৎ মানুষদের সহচার্যে থাকতে হবে। বায়াত কিছু না।
প্রশ্নঃ 1843
আসসালামুআলাইকুম। আমার একটি কাপড় (প্যান্ট) এ ওয়াশরুমের পানি ছিটকে পড়ে (অনেকটা নিশ্চিত তা অপবিত্র)। ফলে আমি তা খুলে রেখে দেই এবং তা শুকিয়ে যায়। কিছুদিন পরে আমি সেই কাপড় পরে ঘুমাই এবং সেটি পরেই ফজরের নামাজের আগে ওজু করি, ওজুর পানি কাপড়টিতে লাগায় কাপড়টি কিছুটা ভেজা ভেজা হয়ে যায়। তারপর ঘরে এসে আমি নতুন পবিত্র কাপড় পরি। এখন প্রশ্ন হলো, সেই অপবিত্র কাপড়টির ভিজে যাওয়ার কারনে কী আমার শরীর অপবিত্র হয়েছে?
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ঐ কাপড়ে নাপাকী থাকার কারণে এটা খুবই সম্ভব যে, নাপাকী আপনার শরীরেও লেগেছে। সুতরাং আপনার জন্য উত্তম হলো ঐ নামাযটি কাযা করা।
প্রশ্নঃ 1838
আস সালামু আলাইকু, ভাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি বিনা ওজু তে কুরআন শরীফ হাতে নিতে পারব অথবা মুখস্থ থাকলে তা কি পরতে পারবো কোনটা সঠিক নিয়ম তা আমাকে জানান?
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিনা ওযুতে কুরআন শরীফ হাতে নিতে পারবেন না। তবে মুখস্থ থাকলে মুখস্থ পড়তে পারবেন। আর গোসল ফরজ হয়ে থাকলে পড়তেও পারবেন না।
প্রশ্নঃ 1798
মিসেস ক এর গত এক বছর ধরে প্রতি মাসে দুই দিন করে পিরিওড হচ্ছে। কখনো আড়াই দিন ও হয়েছে। আবার কখনো দুই দিন পর এক দিন বিরতি দিয়ে আরেক দিন হয়েছে। এক্ষেত্রে সালাত-সিয়াম এর বিধান কী? পিরিওড এর সর্বনিম্ন সময়সীমা তিন দিন। যাদের নিয়মিত তিন দিনের কম হয় তাদের বিধান কী?
13 Jan 2026
পিরিয়ডের সর্বনিম্ন সময় নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতভেদ আছে। ইমাম আহমাদ ও ইমাম শাফেয়ী রহি. বলেছেন ১দিন। ইমাম মালেক রহি. বলেছেন সর্বনিম্ন কোন সময়সীমা নেই। ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেছেন, ৩ দিন। আপনি যদি আবু হানীফা রহি. এর মত মানেন তাহলে ৩ দিনের কম হলে সেটা পিরিয়ড তথা মাসিক হিসাবে গণ্য হবে না। নামায রোজা চালিয়ে যেতে হবে। তবে দুই দিন হয়ে বন্ধ হয়ে আবার হলে পুরো সময়টা মাসিক হিসাবে গণ্য হবে, কারণ এক্ষেত্রে মোট তিন দিন পার হয়ে যা্য়। আবু হানীফা রহ. এর মত মানার ভিতরেই অধিক সতর্কতা। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু ১/৫৪০।
প্রশ্নঃ 1759
ওজুতে গাড় মাসেহ করা জায়েয কিনা? আমি শুনেছি এটা নাকি বিদাত? দলিল সহ জানাবেন. ধন্যবাদ।
12 Jan 2026
ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 1755
রোযা অবস্থায় এহতেলামের কারণে ফরয গোসল করার সময় নাভির ভেতর পানি পৌছাতে হবে কিনা?
08 Jan 2026
শরীরের বাহ্যিক সকল অংশে পানি পৌছাতে হবে। সুতরাং নাভির ভিতরেও পানি পৌছাতে হবে।
প্রশ্নঃ 1753
আমি পশ্রাব করার পর কুলুপ ব্যবহার করি। তারপর কিছুক্ষণ পর অজু করি, অজু শেষএ দাঁড়ানোর পর দুই থেকে তিন ফুটো পশ্রাব বের হয়, তারপর সম্ভাব্য জায়গায় পানি দিয়ে, আবার অজু করি এবং নামায পরি, আমার অজু ও নামাজ হয়েছে কি?
08 Jan 2026
জ্বী, আপনার ওযু ও নামায হয়ে গেছে। এমন হলে যেখানে পেশার লাগার সম্ভাবনা সেই জায়গাটুকু ভাল করে ধুয়ে নিবেন।
প্রশ্নঃ 1628
১। গোসলের ফরজ আদায় না করলে কি গোসল হবে? যদি ফরজ গোসলে ওযু না করে গোসল করি তাহলে কি সেটা পবিত্র হবে? যদি তখন ওই অবস্থায় আমি খাবার খাই তাহলে কি তা হালাল হবে? ২। আমি যে কারণেই হোক বৌ কে তালাক বা ৩ তালাক মুখে দিয়ে ফেলছি তার সামনে। এখন তার সাথে কি সংসার করা জায়েজ কিনা?
৩। অনেক ইসলামিক স্কলার তার মুজা পড়েন কিন্তু তাদের পায়জামা টাখনুর নিচে থাকে?
07 Jan 2026
১। না, গোসলের ফরজ আদায় না করলে ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে না। ফরজ গোসলের আগে ওযু করা সুন্নাত। ওযু না করলেও পবিত্রতা অর্জিত হবে। গোসল ফরজ অবস্থায় খাবার খেতে কোন সমস্যা নেই।
২। না, তার সাথে সংসার করা জায়েজ নেই। চার মাজহাবের আলেমগণ এই বিষয়ে একমত।
৩। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশটুকু টাখনুর নিচে থাকবে সেই অংশটুকু জাহান্নামে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৮৭। কে পরলো সেটা দলীল নয়।
প্রশ্নঃ 1532
সম্মানিত শায়েখ,আমি খুবই হতাশার মধ্যে আছি। কিছুদিন হল আমি ইসলামের দিকে আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য ফিরে এসেছি। আমার যত খারাপ অভ্যাস বা কাজ ছিল তা আস্তে আস্তে ত্যাগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এরই মাঝখানে আমি শয়তানের নেক সুরতের ধোকার মধ্যে পতিত হলাম। কত কষ্টদায়ক, জঘন্য যে এই ওয়াস ওয়াসা তা যদি আমি আপনাকে বোঝাতে পারতাম। আগে ওযু নিয়ে, নামাযের রাকাত নিয়ে, নামাযের কেরাত নিয়ে ওয়াস ওয়াসা হত, আলহামদুলিল্লাহ এখন আর ওগুলো হয়না। যত ওয়াস ওয়াসা কে আমি পাত্তা না দেই,এবং সেগুলো থেকে কাটিয়ে উঠি। নতুন করে আরেকটা বাসা বাধে। এইরকম আমার প্রায় ৬ মাস ধরে চলছে। আমার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীও মাঝে মাঝে রাগ করে। আমি প্রায় নিয়মিত জিকির করি, লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ পড়ি। বিতাড়িত শঅয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তার পরও আমার নফসের গোলামি থেকে এবং এই ওয়াস ওয়াসা থেকে নিজেকে সরাতে পারছিনা। আমার শুধু মনে হয় এটা মনে হয় নাপাক, এই আমার হাত বুঝি নাপাক। বার বার পা ধুতে ধুতে আমার পায়ে ঘা এর মত হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার দ্বীন এত কঠিন এবং কষ্ট দায়ক তো নয়। এই সময়ে শুধু ধৈর্য ধরে আল্লাহর দয়ার আশায় রয়েছি। এবার প্রশ্নে আসি-
১. কিভাবে এই ওয়াসওয়াসা থেকে পুরো পুরি বের হব? অনেকে বলে ওয়াসওয়াসা কে পাত্তা না দিতে। যদি আমি পাত্তা না দেয় তাহলে দেখা যায় অনেক সময় নাপাকি লেগেছে কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ হলে যদি সন্দেহ কে পাত্তা না দিয়ে ওই কাপড় পরে ইবাদাত করি এবং যদি সত্যিই নাপাকি লেগে থাকে যে বিষয়ে আমি শিয়র না তাহলে কি করব?
07 Jan 2026
জ্বী, ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহকে পাত্তা দেওয়া যাবে না। নাপাকী লেগেছে কিনা সন্দেহ হলে মনে করবেন নাপাকী লাগেনি। যদি নাপাকী লাগার বিষয়ে নিশ্চিত হন তাহলেই কেবল পাক হবেন। সন্দেহ হলে, মনে করবেন সবকিছু ঠিক আছে। হাত পা সুন্নাত অনুযায়ী ৩ বার ধৌত করবেন, মনের ভিতর যতই সন্দেহ আসুক, তিন বারের বেশী ধৌত করবেন না। এগুলোর পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। আমরাও আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন আপনার এই সমস্যা দূর করে দেন।
প্রশ্নঃ 1505
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
১) ঈশার সালাত সন্ধার কিছু সময় পরই শুরু হয়। কিন্তু সালাত রাত ৮-১০ টার মধ্যে বা তারো পরে পড়া হয়। ঈশার সালাতের সময় শুরু হয়েছে এবং আমি নিয়তও রেখেছি কিছু সময় পর সালাত আদায় করে নিব। কিন্তু সালাত আদায় করার আগেই হঠাত পিরিয়ড শুরু হল। এই অবস্থায় কি এই ঈশা ও বিতর সালাত পিরিয়ড সেরে গেলে কাযা আদায় করে নিতে হবে? আর পাপ হবে নাকি যেহেতু একটু দেরি করে আদায় করার চিন্তা করেছিলাম?
২) একটানা ২-৩ পিরিয়ড থাকে। এরপর আরো ২-৩ দিন থেকে থেকে পিরিয়ড থাকে অর্থাৎ কয়েক ঘন্টা পিরিয়ড অফ থাকে আবার পিরিয়ড চলে আসে। যখন অফ থাকে তখন যদি সালাতের সময় হয় তাহলে কি আমাকে ঐ সময়ের জন্য পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করতে হবে? যদিও পুরোপুরি সেরে যেতে ৫-৬ দিন সময় লাগে।
06 Jan 2026
যে কোন সালাতের সময় হওয়ার পর যদি একরাকআত সালাত আদায় করা যায় এমন সময়ের পর পিরিয়ড আসে তাহলে ঐ ওয়াক্তের সালাত কাযা আদায় করতে হবে। হাদীসে আছে, من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة যে সালাতের এক রাকআত পেল সে সালাত পেল।সুতরাং আপনি ঐ ওয়াক্তেন ইশার নামায পবিত্র হওয়ার পর কাযা আদায় করবেন। ২। পুরোপুরে সেরে যাওয়ার পর আপনি সালাত শুরু করবেন। পিরিওডের হুকুম আহকাম বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল জওয়াব, প্রশ্ন নং 70488 (আরবী, ইন্টারনেট)।
প্রশ্নঃ 1504
১/ অনেক সময় কোন নিজন জায়গায় প্রসাব করতে বসলে প্রসাব পাঁয়ে এসে পড়ে বা কাপড়ে এসে পড়ে যায় তাহলে কি গোসল করতে হবে নাকি পাঁ ধুয়ে ফেলতে হবে নাকি পুরো কাপড় ধুতে হবে? দয়া করে উত্তরটা দিবেন।
06 Jan 2026
না, গোসল করতে হবে না। শরীরের বা কাপড়ের যেখানে পেশাব লাগবে সেখানে ভাল করে ধুয়ে নিবেন।
প্রশ্নঃ 1480
Assalamualaikum . Amader library ase. sekhane amra Quran majid bikri kori. amar prosno hocche sob somoi oju thake na . oju chara dorle ki gunah hobe?
06 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফ সরাসরি স্পর্শ করলে অবশ্যই পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে। তবে আপনি অন্য কোন কাগজ দ্বারা কুরআন শরীফ ধরে ক্রেতাকে দিলে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1466
আসসালামু আলাইকুম, পুরুষ ও মহিলারা কি তাদের গোপনাঙ্গের লোম, বগলের লোম পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে Laser Treatment পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে? যাতে করে একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই কাজের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পারি। এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করলে রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতকে খাটো করা হবে কি?এবং পায়ু পথের আশেপাশের লোম পরিষ্কার করা বা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে Laser Treatment পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে কি?
06 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আমি এই বিষয়ে যথেষ্ট চেষ্টা করেও ইমাম পর্যায়ের কোন আলেমের বক্তব্য জানতে পারি নি। তবে আমার মনে হয় জায়েজ হবে। পরে জানতে পারলে আপনি জানিয়ে দেব।
প্রশ্নঃ 1438
আসসালামু আলাইকুম ওজুতে কুলি এবং নাক ধোত কি এক বার পানি নিয়ে করতে হবে নাকি আলাদা করে কুলি আলাদা করে নাকে পানি দিতে হবে।
06 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুটি পদ্ধতিই হাদীসে আছে। তবে আলাদা আলাদা পানি ব্যবহার করাটা পরিচ্ছন্নাতার জন্য ভাল বলে মনে হয়।
প্রশ্নঃ 1409
আমার প্রশ্ন হল, মাঝে মাঝে আমাদের বাস journey করতে হয় এবং অনেক সময় বিশেষ করে আসরের সময় বাস নামাজের বিরতির জন্য দাঁড়ায় না। সেক্ষেত্রে অজু না থাকলে বাসে কি করে সালাত পরতে হবে? আমার এক ভাই জানতে চেয়েছিল জানালার গ্লাসে তায়াম্মুম করা যাবে কিনা? আমি বলেছি scholar দের কাছে জেনে জানাব। তাই উত্তর টি আপনার কাছে জানতে চাই। যাযাকাল্লাহ।
06 Jan 2026
ভাই বর্তমানে পানি সংগ্রহ করা খুবই সহজ। যেমন আপনি বাসে ্ওঠার সময় ওজুর জন্য এক বোতল পানি নিয়ে উঠতে পারেন। যদি না নিয়ে উঠেন তাহলে বাসের হেলপার বা অন্য কাউকে বলবেন এক বোতল পানি কিনে নিয়ে আসতে। তায়াম্মুম তখন করা যায় যখন পানি পাওয়া অসম্ভব বা পানি ব্যবহার করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে একটিও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যদি তায়াম্মুম করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাহলে বাসের জানালার গ্লাসের ধুলা দিয়েও তায়াম্মুম করা যাবে।
প্রশ্নঃ 1379
এস্তেন্জা করার সঠিক পদ্ধতি কি? আমার অনেক সময় লাগে। মনে সন্দেহ দূর হতে চায় না।
05 Jan 2026
যাদের মনে সন্দেহ থাকে তাদের জন্য ইস্তেনযা করার সঠিক পদ্ধতি হলো ইস্তেনযা করে পানি ব্যবহার করে কাজ শেষ করা। আর কিছু করা লাগবে না, মনে যায় আসুক। কিছু ভাবা যাবে না। ভাবলেই সন্দেহ আসবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 1370
আসসালামুআলাইকুম । আমার একটি বেক্তিগত প্রশ্ন হল– স্বামী এবং স্ত্রী কাপড়ের উপর দিয়ে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে যদি উভয়ের লজ্জাস্থান মিলিত করে তাহলে কি তাদের উপর গোসল ফরজ হবে? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অধিকাংশ আলেমের মতে কাপড়ের উপর দিয়ে যদি সহবাস করে আর লিঙ্গের উপরিভাগ প্রবেশ করে তাহলে গোসল ফরজ। কোন কোন আলেম বলেছেন ফরজ নয়। আবার আরেকদল আলেম বলেছেন, যদি এভাবে স্বাদ পাই তাহলে গোসল ফরজ হবে অন্যথায় নয়। তবে তারা বলেন, গোসল করায় সতর্কতা।ইমাম নববী রহ. বলেন,ولو لف علي ذكره حرقة وأولجه بحيث غابت الحشفة ولم ينزل ففيه ثلاثة أوجه حكاها الماوردى والشاشي في كتابيه والروياني وصاحب البيان وغيرهم الصحيح وجوب الغسل عليهما وبه قطع الجمهور لان الاحكام متعلقة بالايلاج وقد حصل (والثاني) لا يجب الغسل ولا الوضوء لانه أولج في خرقة ولم يلمس بشرة وصححه الروياني قال وهو اختيار الحناطى (الثالث) ان كانت الخرقة غليظة تمنع اللذة لم يجب وان كانت رقيقة لا تمنعها وجب যদি ব্যক্তি তার লিঙ্গের সাতে কাপড় জড়ায় এবং তা প্রবেশ করায় এভবে যে, লিঙ্গের অগ্রভাব ভিতরে প্রবেশ করে কিন্তু বীর্জপাত হয় না সেক্ষেত্রে কী হুকুম তা নিয়ে তিনটি মতামত আছে। ..১। পুরুষ-মহিলা উভয়ের উপর গোসল ফরজ হবে, অধিকাংশ আলেম এটাই বলেছেন আর এটাই সহীহ ও সঠিক কথা। ২। গোসল ফরজ হবে না। ৩। যদি কাপড়টি মোটা হয় যা সহবাসের স্বাদ গ্রহনে বাধা দেয় তাহলে গোসল ফরজ হবে না আর যদি পাতলা হয়, সহবাসের স্বাদ গ্রহনে প্রতিবন্ধক না হয় তাহলে ফরজ হবে। আলমাজমুউ শারহুল মুহাজ্জাব, ২/১৩৪। হানাফী ফকীহ ইবনে নুজাইম রহ. বলেন, وَلَوْ لَفَّ على ذَكَرِهِ خِرْقَةً وَأَوْلَجَ ولم يُنْزِلْ قال بَعْضُهُمْ يَجِبُ الْغُسْلُ لِأَنَّهُ يُسَمَّى مُولِجًا وقال بَعْضُهُمْ لَا يَجِبُ وَالْأَصَحُّ إنْ كانت الْخِرْقَةُ رَقِيقَةً بِحَيْثُ يَجِدُ حَرَارَةَ الْفَرْجِ وَاللَّذَّةَ وَجَبَ الْغُسْلُ وَإِلَّا فَلَا وَالْأَحْوَطُ وُجُوبُ الْغُسْلِ في الْوَجْهَيْنِ যদি কেউ তার লিঙ্গে কাপড় জড়ায় এবং (মহিলার যৈানাঙ্গে) প্রবেশ করায় আর বীর্জপাত না হয় তাহলে একদল আলেম বলেছেন, গোসল ওয়াজিব হবে, আরেকদল বলেছেন, ওয়াজিব হবে না। তবে সঠিক কথা হলো, যদি কাপড়টি চিকন হয় আর সে সহবাসের স্বাদ পায় তাহলে গোসল ওয়াজিব হবে, অন্যথায় হবে না। তবে সতর্কতা হলো উভয় অবস্থাতেই (কাপড় মোটা হোক চিকন হোক, সহবাসের স্বাদ পাক বা না পাক) গোসল করা। বাহরুর রায়েক ১/৬৩ মোটকথা অধিকাংশ আলেমের মতে ফরজ। যারা ফরজ বলেন না তারাও বলেন যে, গোসল করার ভিতরেই সতর্কতা। আল্লাহ ভাল জানেন। আরো জানতে দেখুন, মারকাজুল ফাতাওয়া (ইন্টারনেট, অরবী), ফাতাওয়া নং ১৫২১৬১।
প্রশ্নঃ 1358
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম।আমার প্রশ্ন হলঃ ছোট পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে ওযু করা যাবে কিনা? নাকি একবার পাত্রে হাত ঢুকালে পানি ঝুটা হয়ে যাবে?
যাযাকাল্লাহ।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাত পবিত্র থাকলে ছোট পাত্রে হাত ঢুকিয়ে পানি নিয়ে ওযু করা যাবে, কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1353
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, তায়াম্মুম এর সহিহ নিয়মটা কি? তায়াম্মুম এর জন্য কি মাটিতে হাত রাখা বাধ্যতামূলক? ঘড়ের ভিতরে টাইস বা পাকার উপর হাত রাখলে হবে কি, বিশেষ করে যখন গাড়িতে থাকলে তখন তায়াম্মুম কিভাবে করবো? কনুই পর্যন্ত হাত মুছাটা এই হাদিস টা কিছু বইয়ে জয়ীফ লেখা দেখলাম। সহিহ সম্পূর্ণ নিয়মটা কি? জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। তায়াম্মুমের জন্য শর্ত হলো মাটি বা মাটি জাতীয় কোন কিছুর ্উপর হাত রেখে ধুলা নিয়ে মুখ ও হাত মাসেহ করা। টাইলস এর উপর ধুলা থাকলে বা গাড়ীর জানালাতে ধুলা থাকলে সেখানে হাত রেখেরও তায়াম্মুম করা যায়। কতটুকু মাসেহ করতে হবে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে তবে কুনুই পর্যন্ত করার ভিতরই অধিক সতর্কতা ও উত্তম বলে মনে হয়। তাই আমাদের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করাই উচিৎ।
প্রশ্নঃ 1326
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, কিছু কিছু ইস্তেঞ্জার স্থান এমন যে, পবিত্রতার জন্য টিস্যু ব্যবহার করার পর, পানি নিতে গেলে দেখা যায়, মাটিতে পড়া পানিগুলার ছিটা আসে কাপড়ে । এমন স্থানে পানি নেওয়ার বিধান কি? আবার যে স্থানে পানি নেই বা পানি শেষ হয়ে গেছে, তখন কি করবো?
জাযাকাল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। সেটা শুধু টিস্যু দ্বার হতে পারে, শুধু পানি দ্বারাও হতে পারে। আর দুটিকে এক সাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। সুতরাং টিস্যু ব্যবহারের দ্বারাই আপনার পবিত্রতা অর্জন হয় যাবে। এখন যদি পানি ব্যহবহার করতে গিয়ে পানির ছিটা কাপড়ে আসে তাহলে পানি ব্যহার করবেন না। পানি না থাকলে বা পানি শেষ হয়ে গেলে শুধুমাত্র টিস্যু দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করবেন। এটাই যথেষ্ট।
প্রশ্নঃ 1322
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, কিছু কিছু ইস্তেঞ্জার স্থান এমন যে, পবিত্রতার জন্য টিস্যু ব্যবহার করার পর, পানি নিতে গেলে দেখা যায়, মাটিতে পড়া পানিগুলার ছিটা আসে কাপড়ে । এমন স্থানে পানি নেওয়ার বিধান কি? আবার যে স্থানে পানি নেই বা পানি শেষ হয়ে গেছে, তখন কি করবো?
জাযাকাল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। সেটা শুধু টিস্যু দ্বার হতে পারে, শুধু পানি দ্বারাও হতে পারে। আর দুটিকে এক সাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। সুতরাং টিস্যু ব্যবহারের দ্বারাই আপনার পবিত্রতা অর্জন হয় যাবে। এখন যদি পানি ব্যহবহার করতে গিয়ে পানির ছিটা কাপড়ে আসে তাহলে পানি ব্যহার করবেন না। পানি না থাকলে বা পানি শেষ হয়ে গেলে শুধুমাত্র টিস্যু দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করবেন। এটাই যথেষ্ট।
প্রশ্নঃ 1273
Assalamualaikum . Amader library ase . sekhane amra Quran majid bikri kori . amar prosno hocche sob somoi oju thake na . oju chara dorle ki gunah hobe?
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফ সরাসরি স্পর্শ করলে অবশ্যই পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে। তবে আপনি অন্য কোন কাগজ দ্বারা কুরআন শরীফ ধরে ক্রেতাকে দিলে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ 1256
আসসালামুলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
১) প্রায় সময় সাদা স্রাব নির্গত হয়। সালাতে শুরু করেছে হঠাত সাদা স্রাব চলে আসছে তখন সালাত ছেড়ে দিয়ে ওযু করে এসে আবার সালাতে দাড়ায় । কখনো কখনো ৪ রাকাত সালাতে ৩ বার ওযু করতে হয়েছে । সাদা স্রাব নির্গত হওয়ার পর যদি ওযু না করেই সালাত পড়ে তাহলে কি সালাত হবে?
২) বাসে লং জার্নি করার সময় হঠাত অসুস্থতার কারণে প্রসাব বের হয়ে কাপড়ে লেগে যায়। তখন জহর সালাতের টাইম ছিলো । ওযু করার মত পানি না থাকলেও তায়াম্মুম করার মাটি ছিলো । ঐ অবস্থায় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলে কি সালাত হত?
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রায় সময় সাদাস্রাব নির্গত হওয়া একটি রোগ, যেমনি ভাব ইস্তেহাযা একটি রোগ। রাসূলুল্লাহ সা. ইস্তেহাজাগ্রস্থ মহিলাদের নামাযের পূর্বমূহুর্তে ওযু করে নামায পড়ার নিদের্শ দিয়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮। আলেম ও ফকীহগণ এই হাদীসের উপর ভিত্তিকরে বলেছেন, সাদাস্রাব যাদের নিয়মিত বের হয় সেসব মহিলারাও নামাযের আগে ওযু করে নামায পড়বে এবং ঐ ওয়াক্তের যাবতীয় ফরজ ও নফল নামায পড়তে পারবে। নামাযের ভিতর বের হলেও কোন সমস্যা নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসায়মিন, ১/ ২৮৪-২৮৬; আল-ইসলাম সওয়াল জওয়াব, প্রশ্ন নং ৪৪৯৮০। (আরবী)। আরবীতে প্রশ্নটি হলো هل السائل الأبيض الذي يخرج من المرأة ينقض الوضوء ؟.।
প্রশ্নঃ 1216
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই? ১. ডঃ মুফতি মোহাম্মাদ ইমাম হোসাইন – উনি কি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সঙে জড়িত বা স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহঃ) এর ছাত্র ছিলেন? উনার ইলম সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছি। ২. ওজু করার পর যদি লজ্জাস্থানে চোখ যায়, বা সালাতের মাঝে লজ্জাস্থানে হাত লাগে তাহলে ওজু বা সালাত কি ভঙ্গ হবে, এই সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগন কি বলেছেন?
আসসালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আলহামদুলিল্লাহ। আমরা আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। ডঃ মুফতি মোহাম্মাদ ইমাম হোসাইন আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সাথে জড়িত নন। এবং তার সম্পর্কে আমাদের কোন কিছু জানা নেই।
২। ওজু করার পর লজ্জাস্থানে চোখ গেলে ওযু ভেঙ্গে যায় না। আর লজ্জাস্থানে কোন আবরণ ছাড়া হাত লাগলে ইমাম শাফী রহ. বলেছেন ওযু ভেঙ্গে যাবে। অন্যা্ন্য আলেমদের অভিমত হচ্ছে, ওযু ভাঙ্গে না। নামাযের মধ্যে এবং বাইরে লজ্জাস্থানে হাত লাগার হুকুম এক।
প্রশ্নঃ 1178
১) অজুর পানি না মুছার মধ্যে কোন ফজিলত আছে কি?
২) অজুর পর দাড়িয়ে পানি পান করার ফাজায়েল জানতে চাই ।
04 Jan 2026
শরীর থেকে ওযুর পানি মুছা এবং ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েজ। এর কোন ফজিলত আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে বসে পান করাই উত্তম।
প্রশ্নঃ 1089
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যদি জামাতে বা একা নামাজ পরার পর হটাত মনে পরে যে পরনের কাপড় বা শরীল পাক ছিল না। তখন কি করনীয়?
এই নাপাকি যদি ফরজ গোসল সম্পর্কিত হয় বা পোচ্ছাব বা পায়খানা জনিত হয় তাহলে কি মাসয়ালা ভিন্ন হবে?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। কাপড় বা শরীর নাপাক থাকা অবস্থায় নামায আদায় করলে পূণরায় কাপড় ও শরীর পবিত্র করে নামায আদায় করতে হবে। নামায সহীহ না হওয়ার দিক দিয়ে সব সমান।
প্রশ্নঃ 1059
আসসালামুয়ালাইকুম। মুহতারাম, সহবাস porobirti ফরজ গুসলের পর কনো isttir গোপনাঙ্গ (ভাগিনা) ঠেকায় যদি যৌন তাড়না চারাই কিছু পরিমান তরল (গলাটাই ধরনের) বেরিয়ে যাই, tobeki আবার তাকায় ফরজ ঘোষল কর্তায় হুবাই, নাকি শুধু উজু করেই নামাজ পরোটায় পারবেও?
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওযু করে নামায পড়লেই হবে, এমনই মনে হচ্ছে। কারণ ঐ রক্ত তো মাসিক নয়। তাই তাকে গোসল করতে হবে না।
প্রশ্নঃ 985
আসসালামুয়ালাইকুম। ইহরাম অবস্থায় গুছলের সময় যদি কে্উ শুরুটায় অজু করে এবং এরপর গুছলের মাঝে পরিষ্কার হয় অথবা গা মুছার পরে যদি গোপন অঙ্গে স্পর্শ লাগায় তাহলেও কি অজু থাকবে? এই অবস্থায় উমরাহ করলে কি উমরাহ হবে? যদি উমরাহ না হয় তবে এখন আমি কি করতে পারি? এটি কি আমার মূল হজ্জের কোন ক্ষতি করবে? উক্ত উমরাহ শেষ করে এখন আমি মুল হাজ্জ করার জন্য মক্কাতে অবস্থান করছি। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবি দুশ্চিন্তায় আছি।
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। না, আপনার ওযু নষ্ট হয় নি। আপনার ওমরাহ হয়ে গেছে, কোন সমস্যা নেই। আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা আপনার জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনার হজ্জকে কবুল করুন।
প্রশ্নঃ 951
৯৪৬ নাম্বার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশে আমার আসলে যেটা জানার ইচ্ছা ছিল, ছোট এস্তেঞ্জা করার পর যদি কেবলমাত্র ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করা হয় এবং পানি ব্যবহার না করা হয় আর তারপর যদি ঘামে আন্ডারউইয়ার ভিজে যায় তাহলে কোন সমস্যা হবে কিনা।
03 Jan 2026
না, ঢিলা বা টিস্যু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার পর ঘামে িআন্ডারওয়ার ভিজে গেলে কোন সমস্যা হবে না। এই অবস্থায় সালাত আদায় করা যাবে।
প্রশ্নঃ 946
ক) প্রস্রাব করার কত সময় পর পানি খরচ করা যাবে?
খ) যদি প্রস্রাব করার পর পানি খরচ না করা হয় এবং পরিধেয় বস্ত্র ঘামে ভিজে যায়, তাহলে কি তা নাপাক হয়ে যাবে?
03 Jan 2026
প্রস্রাব করার পর পানি, ঢিলা বা টিস্যু দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। কত সময় পর কেন প্রশ্ন করছেন এটা বুঝতে পারছি না। প্রস্রাব শেষ হওয়ার সাথে সাথে পবিত্রতা অর্জর করতে হবে। যদি কারো সঙ্গে সঙ্গে পানি খরচ করলে প্রস্রাব বের হবে বলে সন্দেহ হয় তাহলে উঠে টিস্যু ব্যবহা করে পানি ব্যবহার করবে। তবে হাটাহাটি পরিত্যাগ করবে, এটা ভাল দেখা যায় না। ঘাম নাপাক নয়, পাক বা পবিত্র। সুতরাং ঘামের কারণে কোন কিছু অপবিত্র হবে না।
প্রশ্নঃ 906
আমি গোসল করার সময় আগে পূর্ণাংগ রূপে ওযু করি,তারপর গোসল করি। কিন্তু গোসল করার সময় আমার মাঝে মাঝে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা হয়ে যায় মানে তা পরিষ্কার করার জন্য। আমি যতদূর জেনেছি,লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে নাকি ওযু ভেঙ্গে যায়। এখন আমার প্রশ্ন হলো,এই গোসলের পর সালাত পড়ার জন্য আমার আবার অজু করার দরকার আছে কি না? যেহেতু লজ্জাস্থান স্পর্শ করার কারণে ঐ মাসালার আলোকে আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছে!
02 Jan 2026
সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু না ভাঙ্গার মতটিই শক্তিশালী বলে মনে হয়। আপনি যদি এই মতটি মানেন তাহলে কোন সমস্যা নেই। আর যদি ভেঙ্গে যায় এই মতটি মানেন তাহলে আপনাকে নতুন করে ওযু করতে হব।
প্রশ্নঃ 865
১. কোন কাপড়ে যদি বীর্য লেগে শুকিয়ে যায় ওই কাপড় পড়ে নামাজ পড়া যাবে কি? কিভাবে?
২. একাকী থাকলে ভয় বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকার জন্য কি দোয়া পড়তে হবে?
02 Jan 2026
কাপড়ে বীর্য লাগলে ভাল করে ধুয়ে নিবেন। এরপর সেই কাপড়ে নামায পড়বেন। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে পড়ুন: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ. উ্চ্চারণ: আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বনিন ও হাম্মাতীন ও মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৭১।
প্রশ্নঃ 864
১. কুরআনের বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ভাল তাফসীরের নাম কি? কুরআনের যেমন তাফসীর আছে হাদিসেরও কি এমন তাফসীর আছে? বাংলা ভাষায়? তার নাম কি? নেটে কি pdf পাওয়া যায়? আপনাদের নিজস্ব ছাত্র-ছাত্রী বাদে বাহিরের কেউ কি আপনাদের আসসুন্নাহট্রাস্টে এলেম শিখতে পারবে? তার উপায় কি? ২.প্রস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি?
02 Jan 2026
১. আপনি কুরআনের তাফসীরের জন্য তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়তে পারেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যগ্রন্থ আছে। তবে বাংলা ভাষায় কুরআনের তাফসীরের মত হাদীসের ব্যাখ্যার গ্রহনযোগ্য কোন ব্যাখ্যাগ্রন্থ নেই। আরবীতে এবং উর্দুতে অনেক আছে। এই মুহুর্তে আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া একাডেমিকভাবে অন্যদের লেখা-পড়ার কোন সুযোগ নেই। ২. সহীহ হাদীস অনুযায়ী প্রস্রাব পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়া যায় পানি কিংবা ঢিলা দ্বারা। বর্তমানের টিস্যুও ঢিলা হিসাবে গন্য। তবে উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাকে ফকীহগণ উত্তম বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ৮৬ নং প্রশ্নের উত্তর।
প্রশ্নঃ 861
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমি শুনেছি যে কেউ যদি অপবিত্র অবস্তায় নামায পরে তাহলে সে কাফের হয়ে যায়। এখন আমার সমস্যা হচ্ছে যে,আমি বাসা থেকে বের হলে কোথাও প্রস্রাব করলে পানি দিয়ে প্রবিত্রতা অরজন করি । কিন্তু পানি নেওয়ার পরে প্যান্ট পরার পর প্রস্রাবের কিছু কাপরে লেগে যাচ্ছে। এজন্য কাফের হবার ভয়ে নামায(যোহর,আছর, মাগরীব) পরতে পারছি না। আবার নামাজ না পরলে ও কাফের হয়ে যাব,আমি কি করব। আমাকে একজন বলেছে বিসমিল্লাহ বলে তিনবার কাপর এর এক কোনা ধুলে কাপর পাক হয়ে যায়। একথা কি ঠিক। আর প্রস্রাব এর পর কিভাবে প্রবিত্রতা অরজন করবো? যদি জানাতেন।
02 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অপবত্রি অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত সহীহ হবে না। কাফরে হবে এই কথা ঠিক নয়। আপনি প্রেসাব করার পর পানি ব্যবহাররে র্পূবে টিস্যু ব্যবহার করবেন। আশা করি এমন করলে আপনার পোশাক অপবত্রি হবে না।
প্রশ্নঃ 858
আসসালামু আলাইকুম। অফিস টাইমে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় মাঝে মাঝে ১-২ ফোঁটা পানি (বীর্য না) বের হয়ে আমার আন্ডার ওয়ার ভিজে যায় । এমতবস্থায় আমি পানি দিয়ে আন্ডার ওয়ার এর সামান্য ওই অংশ টুকু ধুয়ে ফেলি। আর আন্ডার ওয়ার শুকানোর আগেই জামাতের টাইম হয়ে যায় বলে জামাতে শরিক হয়ে নামাজ পরে ফেলি। আপনার কাছে প্রশ্ন হল, ওই অংশটুকু ধোয়ার ফলে আমার কাপড় কি পাক হইতেছে? আর ওই অবস্থায় নামাজ পরলে আমার নামাজের কি কোন ক্ষতি হচ্ছে? আশা করি আমাকে উত্তরটি জানাবেন।
02 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি খুব ভাল করে ধুয়ে নিবেন। আপনি যতক্ষন না নিশ্চিত হন যে নাপাক নেই ততক্ষন ধুবেন। এভাবে আপনার পোশাক নামাযের উপযোগী হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ 844
আমার অফিসের আমাদের ব্যবহারিত টয়লেট গুলো হাই কমোডের। প্রসাব করতে গেলে প্রায় সময় দেখি কমোডের যে কবার টার উপরে বসবো সেই কবার টির মধ্যে পানি ছিটানো থাকে। আমি বুজতে পারি না এটা কি প্রসাব নাকি কুলুখের পানি। এমতবস্থায় সেখানে আর বসে প্রসাব করতে পারি না, বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে হয়। আমার প্রশ্ন হল এতে কি আমার গুনাহ হইতেছে?
বাসা অথবা অন্যান্য স্থানে আমি বসেই প্রসাব করি। এবং বসে প্রসাব করতেই পছন্দ করি। বিঃদ্রঃ আমার ভার্সিটি তে স্টুডেন্টদের জন্য কিছু টয়লেটে আছে। যেটাতে বসে প্রসাব করা যায়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই সেখানে স্টুডেন্টদের আনা-ঘোনা থাকে। এবং ওরা বিভিন্ন কথাবার্তায় ও হাসি তামাশায় লিপ্ত থাকে, আর ওখানে আমাদের কে দেখলে বিভ্রত হয়। যার দরুন সেখানে আমাদের যাওয়া হয় না। আশা করি উত্তর জানাবেন।
02 Jan 2026
আপনি যদি বুঝতে না পারেন যে, এটা পেশাব না পানি তাহলে একটু পানি দিয়ে স্থানটি ধুয়ে নিবেন। এরপর বসবেন। এটা কোন সমস্যা বলে তো মনে হচ্ছে না। তবে সত্যই যদি কোন সময় বসে পেশাব করা সমস্য হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পেশাব করা যেতে পারে।
প্রশ্নঃ 804
প্রশ্ন হলো,মহিলাদের জন্য কি একই মাসআলা? আসসালামুয়ালাইকুম। অনেক সময় স্ত্রীর সাথে কথা বলাতে (স্পর্শ না করেই) কিংবা বাহিরে কোন মেয়েকে অশ্লীল অবস্থায় দেখলে নিজের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষনপর বীর্য এর মত পানি চলে আসছে কিন্তু বের হয়ে পড়েনাই। এই অবস্থায় গোসল ফরজ হয়েছে কি? ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি ঐ পদার্থটা বের হয় তবুও গোসল ওয়াজিব হবে না, ওযু করতে হবে।
01 Jan 2026
হ্যাঁ, মহিলা পুরুষ সবার জন্যই এক মাসআলা।
প্রশ্নঃ 791
আসসালামুয়ালাইকুম। আমাকে এক ভাই বলেতেছে যে আমাদের ওজু হয়না, আর ওজু না হলে নামাজ হবে না। কারন কোরআনে ৫ নং সুরা মায়েদা, আয়াত নং ০৬ বলা হয়েছেঃ ওজুতে মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং মাথা ও পদযুগল মাসেহ কর। অথচ আমারা ওজুতে পা ধৌত করি যেটা কিনা কোরআনের আয়াতের বিরুদ্ধে যায়। এই জন্য পা মাসেহ না করলে ওজু হবে না। এই বিষয় বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, তাহলে তো আপনার ঐ ভাই ছাড়া কুরআন কেউ বুঝে নাই আর আপনার ঐ ভাইয়ের নামায ছাড়া পৃথিবীর কোন মুসলিমের নামায হয় না। আর আপনার ঐ ভাই যদি মসজিদে নামায পড়ে তাহলে তার নামযও হবে না কারণ তার মতানুযায়ী ইমাম সাহেবেরও ওযু হয়নি । আসলে তিনি কুরআন বুঝেন নি। আরবী ভাষা সম্পর্কে তার কোন জ্ঞানও নেই। তিনি যদি কুরআনের গ্রহনযোগ্য কোন তরজামাও পড়তেন তাহলেও এই মসস্যা হতো না। কুরআনে শুধু অঙ্গের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে মাথা মাসেহ পর পায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার আরবী ভাষার সামান্য জ্ঞান আছে সে বুঝতে পারবে যে, মুখ ও হাত ধোয়ার বিধানের সাথে পা ধোয়ার বিধান একত্রিত হবে, কারণ এই তিনটি অঙ্গের ইরাব ( আরবী ব্যকরণ অনুযায়ী যের যবার পেশ ইত্যাদী দেয়ার বিধান) এক। প্রতিটিই নসব হয়েছে (এখনে নসব হয়েছে যবর দ্বারা)। আর মাথার ইরব ভিন্ন। মাথার ইরাব হয়ে হয়েছে জ্বর দ্বারা ( এখানে জ্বর হয়েছে যের দ্বারা। আপনিও আরবী জানা কারো সহযোগিতা নিয়ে বিষয়টি দেখতে পারেন। সুতরাং সবার নামাযই হয় শুধু তার নামাযই হয় না। তবে আপনাকে বলে রাখি পথভ্রষ্ট শিয়ারা কুরআন এই বিধানটি অপব্যাখ্যা করেন, বলেন পা মাসেহ করতে হবে, আপনার ঐ ভাই শিয়া হয়ে গেল কিনা বা শিয়াদের কারো খপ্পরে পড়লো কিন সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়। আর আপনি আয়াতের যে অনুবাদ দিয়েছেন তা সঠিক নয়। গ্রহনযোগ্য কোন অনুবাদে এমন অনুবাদ করা হয় নি। অনুবাদ কেমন হবে দেখুন: তোমরা যখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে তোমরা তোমাদের (পুরো) মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত দুটো ধুয়ে নেবে, অত:পর তোমাদের মাথা মাসে করবেে এবং পা দুটো গোড়ালী পর্যন্ত (ধুয়ে নেবে)। কোরআন শরীফ, সহজ সরল বাংলা অনুবাদ, হাফেজ মুনির উদ্দিন আহমাদ। আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। আরো একটি অনুবাদ দেখুন: তোমরা যখন নামাযের জন্য উঠবে তখন নিজেদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত নিজেদের হাত ধুয়ে নিবে, নিজেদের মাথাসমূহ মাসেহ করবেে এবং টাখনু পর্যন্ত নিজেদের পা (-ও ধুয়ে নেবে)। । তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, মূল: শায়খ ত্বকী উসমানী, বঙ্গানুবাদ: মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। মাকতাবাতুল আশরাফ, ঢাকা।
প্রশ্নঃ 754
Assalamuwalikum owarahmatullah.
I have three question. It would be great to have all three answers. Here I go 1. Need to know details of Salatul Tajbeeh Namaz according to Sunnah. Does it permitted in Islam?
2. Can we touch Quran without having Wadu? if not then how can Islam permitted to give it non Muslim as a gift?
3. Its about Shab-e-Qadar. We all know shab-e-qadar can be found in any odd numbered nights of last ten days of ramadan like 21, 23, 25, 27, 29. The Holy Quran was sent down from Loh-e mehfooz to earth on that particular night, it was an exact time. So if we consider that time how can we consider region such as America, Bangladesh etc. as because when they (American) have 21st night of Ramadan we might passing 20nd Ramadan. Hope you understand my point. How you clarify this issue? Thanks
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। সালাতুস তাসবীহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়তা। সংক্ষেপে শুধূ বলি এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটিতে দুর্বলতা আছে। ২। শরয়ী হুকুম পালন করবেন মুসলিমরা । অমুসলিমরা নন। সুতরাং মুসলিমরা পবিত্রতা অর্জন ছাড়া কুরআন স্পর্শ করতে পারবে না। অমুসলিমরাতো আর ইসলাম মেনে চলবেন না সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নে অবান্তর। তার কুরআন স্পর্শ করলে আলাদা কোন গুনাহ হবে না। মূল গুনাহ মুসলিম না হওয়া। ৩। রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীদের কর্ম থেকে আমরা শিক্ষা পায় নিজ নিজ অঞ্চলের চাঁদ দেখে চাঁদের সাথে সম্পর্কীত ইবাদত পালন করার। সুতরাং যে যেখানে থাকবেন সেখানকার চাঁদের তারিখ অনুযায়ী আমল করবেন। বাকী চিন্তা আল্লাহর, আমাদের নয়। সওয়াবতো দিবেন আল্লাহ, তার কাছে সওয়াবের কোন অভাব নেই।
প্রশ্নঃ 739
মনে করুন আমি ছোট নাপাকি অবস্থায় আছি, এমতাবস্থায় আমি যদি কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন থেকে দেখে দেখে কুরআন পড়ি তাহলে কি কোন আপত্তি আছে? নাকি ওযৃ করে পড়াটাই উত্তম? যেহেতু মুখস্থ পড়ছি না, অর্থাৎ দেখে দেখে পড়ছি?
31 Dec 2025
সমস্যা নেই,তবে স্কীনে হাত লাগাবেন না। তবে ওযু করে নেয়া তো নি:সন্দেহে উত্তম।
প্রশ্নঃ 735
কেউ যদি শুধু ওযুর ফরয আদায় করে (ইচ্ছা করে বা অনিচ্ছাই যেমন- ব্যস্ততার কারণে, কিংবা জামাত শুরু হয়ে গেছে এই কারণে তাড়াতাড়ি করে সে শুধু ওযুর ফরয আদায় করল) তাহলে কি তার ওযু হয়ে যাবে? এরপর সে কি সালাত আদায় করতে পারবে?
31 Dec 2025
ফহীহগণ বলেছেন হয়ে যাবে। সালাত আদায় করতে পারবে।
প্রশ্নঃ 711
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর কেমন আসেন? আমি মালেশিয়া থাকি। এখানে অনেক মুসলিম ভাইদেরকে দেখি দাড়িয়ে প্রসাব করে ওদেরকে জিজ্ঞাসা করলে বলে দাড়িয়ে প্রসাব করা নাকি জায়েজ আছে, তাই হুজুর আমার প্রশ্ন হল দাড়িয়ে প্রসাব করা কি জায়েজ?
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দাঁড়িয়ে পেশাব করলে গুনাহ হবে না তবে কাজটা উচিত নয়। একটি হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. একবার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন। এছাড়া সকল হাদীসে বসে পেশাব করার কথা বলা হয়েছে। সাহাবীদের আমলও বসে পেশাব করা। একজন মুসলিমের উচিৎ রাসূলের এবং সাহাবীদের সন্নাতকে আকড়ে ধরা।
প্রশ্নঃ 655
Can I reciting quran without ozu? JajakAllah
30 Dec 2025
ওযু ছাড়া কুরআন পড়া যায় তবে ধরা যায় না।
প্রশ্নঃ 648
আসসালামুয়ালাইকুম। অনেক সময় স্ত্রীর সাথে কথা বলাতে (স্পর্শ না করেই) কিংবা বাহিরে কোন মেয়েকে অশ্লীল অবস্থায় দেখলে নিজের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কিছুক্ষনপর বীর্য এর মত পানি চলে আসছে কিন্তু বের হয়ে পড়েনাই। এই অবস্থায় গোসল ফরজ হয়েছে কি?
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি ঐ পদার্থটা বের হয় তবুও গোসল ওয়াজিব হবে না, ওযু করতে হবে।
প্রশ্নঃ 633
ওযু করার সময় ডান হাত দিয়ে পা ধোঁয়া যাবে না, অর্থাৎ বাম হাত ব্যাবহার করেই দুই পা ধৌত করতে হবে। এই কথাটা কি ঠিক?
30 Dec 2025
প্রশ্নঃ 499
স্যার কারো শারীরিক প্রব্লেম থাকলে সে কি দাড়িয়ে প্রসাব করতে পারবে এবং সে কি শুধু টিস্যু ব্যবহার করতে পারবে পানি ছারা?
29 Dec 2025
হাঁ, শরীরে সমস্যার কারণে বসে প্রসাব করা কষ্টকর হলে দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে পারবে। শুধু টিস্যু দ্বারা যদি পবিত্রতা অর্জন হয়ে যায়। তাই শুধু টিস্যু ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পানি ব্যবহারের বিশেষ ফজিলত হাদীসে উল্লেখ আছে।
প্রশ্নঃ 437
আসসালামু আলাইকুম।
আমার প্রশ্ন হল গোসল ফরজ অবস্থায় মোবাইলে বা ল্যাপটপে ওয়াজ শোনা যাবে কিনা? যাযাকুমুল্লাহ।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, যাবে।
প্রশ্নঃ 431
আসসালামু আলাইকুম।
অনেক বিজ্ঞ আলেম গন বলেন যে টিসু পেপার ব্যব হার করা বিদাত বা নাজায়েজ। কিন্তু আমার প্রস্রাব করার পরেও একটু একটু প্রস্রাব বের হয়। টিসু পেপার নিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলে প্রস্রাব বের হওয়া বন্ধ হয়। এই অবস্থায় আমি যদি টিসু পেপার ব্যবহার না করে সরাসরি পানি দিয়ে ধুয়ে নিই তাহলে কি কাপড় পাক থাকবে? আমি যতদুর জানি, প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে পবিত্রতা থাকে না। ধন্যবাদ।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পানি কিংবা টিস্যু পেপার যে কোন একটি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হয়। তবে উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাকে ফকিহগণ উত্তম বলেছেন। আপনার যদি এমন মনে হয় শুধু পানি ব্যবহার করলে পরে প্রসাব বের হবে তাহলে টিস্যু ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করবেন।টিস্যু ব্যবহার না জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এবং পরবর্তীরা ঢিলা ব্যবহার করতেন। বর্তমানে ঢিলার স্থানে টিস্যু ব্যবহার করা হয়। তবে টিস্যু নিয়ে হাটাহাটি করবেন না। যতটা সম্ভব বসেই টিস্যু ব্যবহার করবেন। একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁড়াতে পারেন তবে হাটাহাটি করবেন না। রাসূলুল্লাহ সা. কিংবা সাহাবীদের থেকে হাটাহাটির বিষয়টি পাওয়া যায় না। অনেকেই এই হাটাহাটিকে বিদআত বলেছেন।
প্রশ্নঃ 417
আমার প্রশ্ন : (১) সলাতে রফউল ইয়াদাইন করলে কি সলাত হবেনা?
(২) নবী (স) কি প্রথম যুগে রফউল ইয়াদাইন করেছেন আর শেষ দিকে করেন নাই?
(৩) নবী (স) এর যুগে কি কেউ বগলে মূর্তি রাখত বলে নবী (স) রফউল ইয়াদাইন করেতন?
28 Dec 2025
জ্বী, সালাতে রফউল ইয়াদাইন করলে নামায হবে। তদ্রুপ না করলেও সালাত হবে। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। নবীয়্যুল্লাহ সা. প্রথম যুগে রফউল ইয়াদাইন করেছেন আর শেষে করেন নি এমন কোন প্রমান হাদীসে নেই। বগলে মূর্তি রাখার কথাটি ভিত্তিহীন।
প্রশ্নঃ 341
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতু্ল্লাহ
প্রতিবার প্রস্রাব এর পর, ভালভাবেই টিস্যু ব্যবহার করি। কিন্তু এরপরেও প্রায়ই গোপনাঙ্গে প্রস্রাবের ফোটা জমা হয়। এমনকি ৩০/৪০ মিনিট পরেও দেখা যায় যে, গোপনাঙ্গের মুখে সামান্য প্রস্রাব জমা হয়ে আছে। এইসব কারণে নামাজের সমস্যা হয়। মসজিদ থেকে এসে, কাপড় পরিবর্তনের সময় দেখা যায় যে, আন্ডারপ্যান্টে প্রস্রাব এর ফোটা লেগে সামান্য ভিজে গিয়েছে। আমার নামাজ আদায় হল, কি হলনা… এই নিয়ে শংশয়ে থাকি। মাঝে মাঝে এইসব কারণে, একবার অজু করে এসে… আবার অজু করতে হয়। এখন আমার কি করা উচিৎ, প্লিজ একটু জানাবেন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রথমত এই বিষয়টির সমাধানের জন্য আপনাকে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে । দ্বিতীয়ত আপনি নামাযের এক থেক দুন্টা পূর্বে প্রস্রাব করবেন এবং নামাযের পূর্বে নতুন পোশাক পরে নামায পড়বেন। কোন কারণে যদি নতুন পোশাক পরতে না পারেন তাহলে পোশাকের উক্ত জায়গাটুকু ধুয়ে নিবেন। এটাও যদি সম্ভব না হয় আর নামাযের জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে আশা করা যায় অল্প প্রস্রাব লাগলে নামাযে কোন সমস্যা হবে না।
প্রশ্নঃ 316
(From Dr.Arjullah Mohammad Hossain,Maldives:) I need one answer: after taking bath, again ablution need for prayer .
And if anyone touch with bear hand genital organ, ablution breakdown or not
Sir, Pls explain
because i found this internet so confuse
before i knew after bath no need ablution if i had intention to pray after bath and ablution will not bresk by toch private part but internet different..
28 Dec 2025
كان رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يتوضأ بعد الغسل
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. গোসলের পর ওযু করতেন না। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ২৫২; আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫০; তিরমিযী, হাদীস নং ১০৭। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 301
আস্সালামুআলাইকুম শায়েখ ভালো আছেন।
আমি ট্রেণে যাত্রারত অবস্থায় ওযু বা তায়াম্মুম করার ব্যবস্থা না পেলে কি করব। যেমন ফযরের নামায পরতে পারলাম না তাহলে কি যোহরের সাথে একসাথে পরে নেয়া যাবে কি?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আলহামদুল্লিাহ।
দেখুন, যদি অবস্থা এমন হয় যে, আপনি নামাযের সময় ট্রেনে ভ্রমন করবেন তাহলে ট্রেনে উঠার সময় পানি বা মাটি সঙ্গে নিয়ে উঠবেন। আর ট্রেনেও পানির ব্যবস্থা থাকে। আর আপনি পানি বা মাটি সঙ্গে না নিলে বা ট্রেনেও পানির ব্যবস্থা না থাকলে আপনার কাজ হলো ট্রেনের গায়ে অনেক ধূলা-বালি থাকে সেখান থেকে তায়াম্মুম করা। আশা করি আপনি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 254
আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর রহমতে আমি আপনার একজন ভক্ত পাঠক। আল্লাহ স্বপ্নে একবার আপনার সাথে দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে আমি কানাডার টরন্টো শহরে পরিবার সহ বসবাস করছি। টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা হারাম সংক্রান্ত একটি হাদিস ফেসবুক/মুফতি আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের বক্তব্য থেকে নজরে আসায় আমি অনেক আগে থেকেই হাদিসটি আমল করার চেষ্টা করেছি। শীতপ্রধান এই দেশে যেখানে মাইনাস ৩০/৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকে, এক দেড় ফুট উচু স্নোতে রাস্তা ভরে থাকে, শরীরের কোন অংশ খোলা রেখে বাহির হওয়া যায় না, এখানে টাখনুর উপরে কাপড় পরিধানের হাদিস কিভাবে আমল করব? আর পায়ে মোজা থাকলে এটার বিধানই বা কি হবে? দয়াকরে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার আন্তরিকতা ও তাকওয়া-প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। আল্লাহ আপনার চেষ্টা কবুল করুন। পায়ের আবরণ হিসেবে অবশ্যই মোজা পরবেন। মোজা টাখনু আবৃত হলে বা আরো উপরে হলে কোনোই অসুবিধা নেই। শীতের দেশের জন্য উপযোগী যে কোনো মোজা আপনি পরতে পারেন।
তবে মোজা পরার পরেও প্যান্ট বা পাজামা টাখনুর উপরে রাখতে হবে।
প্রশ্নঃ 243
অযূতে ঘাড় মাসেহ করার বিধান জানতে চাই ।
27 Dec 2025
অযুতে ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি যয়ীফ হাদীসে এ বিষয়টি পাওয়া যায়। তাই এই বিষয়টিকে কোন কোন আলেম মুস্তাহাব বলেছেন, আবার কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন।
কুলি আর নাকে পানি এক সাথেও করা যায় আবার আালাদা আলাদাও করা যায়, দুই ধরনের হাদীসই আছে। আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে করবেন। আর ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন,
قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة
অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 238
আস্সালামু আলাইকুম মুহতারাম । মহান আল্লাহর নিকট আপনার জন্য আমার মনের অন্তস্থল থেকে আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন আপনাকে নেক হায়াত দান করেন। আপনি যেন এই উম্মাতে মোহাম্মিদির পরকালিন মুক্তির জন্য আরো বেশি করে মেহনত করতে পারেন। অতপর…আমার কাছে আপনার রচিত প্রায় 18 টি কিতাব সহ অসংখ্য ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহে রয়েছে যা থেকে আমি নিয়মিত অধ্যয়ন এবং শ্রবন করি। ফলশ্রুতিতে মহান আ্ল্লাহর অশেষ রহমতে তার একজন নেক বান্দা হওয়ার পথটা এখন আমার কাছে খুব পরিস্কার হয়েছে এবং হচ্ছে। তো তার ই ধারাবহিকতায়…. মোহতারামের নিকট আমার প্রশ্ন প্রসাব/পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য আমরা পানি ও টিস্যু ব্যবহার করি। আমি অনেক বক্তার বক্তব্য থেকে জানতে পেরেছি যে একই সাথে পানি ও টিস্যু ব্যবহার করাটা সুন্নাত সম্মত নয়। আর দ্বিতীয়তঃ পানি থাকলে টিস্যু ব্যবহার না করাই উত্তম। তাদের অনেক কেই আপনি চেনেন। আর আমাকে বর্তমানে যে বিষয়টা খুব পেরেশানীতে রেখেছে সেটা হল প্রসাব করার পর আমরা টিস্যু নিয়ে যে হাটাহাটি করি এটাও নাকি সুন্নাত সম্মত নয়। তাহলে ব্যাক্তিগত ভা্বে আমার কাছে মনে হয় যে আমি যদি টিস্যু নিয়ে প্রসাবের পর হাটাহাটি করিও তারপর ও মনে হয় যেন কিছু নাপাকি আমার কাপড়ে লেগে যাচ্ছে। তো জনাব মেহেরবানি করে যদি আমাকে এই প্রসাব পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার বিষেয়ে একটা সুন্নাত সম্মত দিকনির্দেশনা অবশ্যই বিস্তারিত দিতেন তাহলে এই অধম চির কৃতঞ্জ হতাম।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
পানি ও টিস্যু উভয়টি একসাথে ব্যবহার করাই উত্তম। তবে যে কোন একটি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হবে। দলীলসহ জানতে আমাদের দেয়া ০০76 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। টিস্যু ধরে হাটাহাটি করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তাই একান্ত প্রয়োজন না হলে হাটাহাটি করার দরকার নেই। আর আপনি যেটা লিখেছেন ব্যাক্তগিত ভ্বাে আমার কাছে মনে হয় যে আমি যদি টস্যিু নয়িে প্রসাবরে পর হাটাহাটি করওি তারপর ও মনে হয় যনে কছিু নাপাকি আমার কাপড়ে লেগে যাচ্ছে এটা শয়তানের ধোকা। আপনি টিস্যু এবং পানি উভয়টি ব্যবহার করুন। হাটাহাটি পরিহার করুন। ইনশাআল্লাহ আপনার পবিত্রতা যথায়থ ভাবে অর্যিত হবে।
প্রশ্নঃ 202
মুহতারাম আস সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন : অযু করার সময় কুলি করা এবং নাকে পানি নেওয়া কি একই কি সাথে করতে হবে নাকি আগে কুলি করে পরে নাকে পানি নিতে হবে এবং ঘাড় মাসেহ করা কি সুন্নাত, যদি সুন্নাত না হয় তাহলে যদি কেউ করে তা কি বিদাত হবে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
কুলি আর নাকে পানি এক সাথেও করা যায় আবার আালাদা আলাদাও করা যায়, দুই ধরনের হাদীসই আছে। আপনার যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে করবেন। আর ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন,
قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة
অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।
প্রশ্নঃ 199
খাবারের পর প্লেটে যদি কিছু খাবার থেকে যায়, খাবারে অরুচির কারণে যদিও জানি খাবর সম্পূর্ন শেষ করার কথা ইসলামে বলা আছে। আর প্লেটের সেই অবশিষ্ট খাবার যদি কোনো পশু/পাখিকে খাওয়ানো হয়,এই ক্ষেেএ ইসলাম কি বলে?
23 Dec 2025
না, এক্ষেত্রে কোন পশু-পাখিকে খাওয়ালে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 176
ওযু করার সঠিক নিয়ম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করলে উপকৃত হবো।
23 Dec 2025
ওযু করার নিয়ম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো: প্রথমে নিয়ত করবে এরপর তিনবার করে কুলি করবে এবং নাকে পানি দিবে। এরপর মুখ তিনবার ধুবে। এরপর হাত তিনবার কুনুহ সহ ধুবে। অতঃপর পুরা মাথা একবার মাসেহ করবে। এরপর টাকনু সহ দুপা তিনবার ধুবে। হাত ও পা ধোয়ার ক্ষেত্রে আগে ডান তারপর বাম।
প্রশ্নঃ 171
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। টাকনুর নিচে কাপর পড়ে সালাত আদায় করলে অজু নস্ট হবে কি না?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।না, টখনুর নিচে কাপড় পরে সালাত আদায় করলে ওযু নষ্ট হয় না। তবে টাখনুর নিচে কাপড় পরা সর্বাবস্থায় মারাত্নক গোনাহের কাজ । আবু হুরায়রা রা, থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ.
অর্খাৎ টাখনুর নিচের যে অংশে পায়জামা (পরিধানের পোশাক) থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ৫৭৮৭। পায়জামা বলতে এখানে লুঙ্গি, প্যান্ট এবং অন্যান্য সকল পোশাক উদ্দেশ্য। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 148
QUESTION ABOUT PERFUME
23 Dec 2025
এলকোহল একটি কেমিক্যাল টার্ম, এ দ্বারা সর্বদা মদ বুঝানো হয় না। পারফিউমে ব্যবহৃত এলকোহল সাধারণত মাদক হয় না, অনেক সময় বিষাক্ত হয়, যা পান করলে মাতাল না হলেও মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের এলকোহল মিশ্রিত পারফিউম ব্যবহার বা এলকোহল মিশ্রিত পানি দিয়ে জীবানুমুক্ত হওয়া ইত্যাদি বৈধ। এতে দেহ বা পোশাক নাপাক হবে না।
প্রশ্নঃ 147
mansur hallaj somporke apnader motamot janaben and Ibn Taymiyyah sufi der bepare and tar ek fatwa te fanafilla bepare ze akida poshon poshon koreche ta ki correct? answer gulo bistarito bhabe janaben.
23 Dec 2025
মানসূর হাল্লাজ সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর সবই অপ্রয়োজনীয় কাজ। কবরে বা হাশরে এ বিষয়ে কোনো মুসলিমকে প্রশ্ন করা হবে না। কোটি কোটি মুসলিমের মধ্যে তিনি একজন। তার কর্ম ও মতামত খুবই আপত্তিকর ছিল। তার লেখা বইগুলোও আপত্তিকর বিষয়ে ভরা। সাধারণ ভাবে তার যুগের আলিমগণ তাকে বিভ্রান্ত বলেছেন। কেউ কেউ তাকে ভাল মনে করেন এবং তার খারাপ কথাগুলোর জন্য ওজর বলেন। মানুষের দৃষ্টিতে মানুষের বিচার হবে বাহ্যিক কর্মের ভিত্তিতে। এ বিচারে তিনি বিভ্রান্তিকর মত ও কর্মের অনুসারী ছিলেন। মহান আল্লাহই ভাল জানেন। ইবন তাইমিয়া নিজেও একজন সুফী ছিলেন। তার গ্রন্থাবলির মধ্যে তাসাউফ বিষয়ে অনেক রচনা রয়েছে। অনেক সুফির তিনি প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি সুফিদের বিভ্রান্তির প্রতিবাদ করেছেন।
প্রশ্নঃ 146
Ekjon non Muslim ki wudu or gushal er dara pobitro hote parbe?
23 Dec 2025
যে সব শরয়ী হুকুম পালনের জন্য ওযু করতে হয় অমুসলিমেদের উপর সেই সব হুকুম প্রযোজ্য নয়। যেমন, নামায রোজা। সুতরাং তাদের পবিত্র হওয়ার কোন অর্থ নেই।
প্রশ্নঃ 145
Amra jani je salat er jonno wudu kora fard. kintu quran sporsho korbar jonno wudu kora nicher konti hote pare. 1. fard 2. wajib 3. sunnat 4. mustahab
23 Dec 2025
ফরজ। বিস্তারিত জানার জন্য এই বিষয়ে প্রদত্ত অন্য প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 142
TOUCHING QURAN
23 Dec 2025
বিভিন্ন সহীহ হাদীসের আলোকে উম্মাতের প্রায় সকল ইমাম ও ফকীহ একমত যে, ওযু বা গোসল বিহীন অবস্থায় কুরআন কারীম সরাসরি স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে বর্তমানে কতিপয় ফকীহ ওয বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। সংক্ষেপে বিষয়টি আলোচনা করছি। নাপাক অবস্থায় ও ওযু বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করার নিষেধাজ্ঞায় সহীহ হাদীস বর্ণিত । ইবন উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
لا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلاَّ طَاهِرٌ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। হাদীসটি সহীহ। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ১/৬১৬; আলবানী, সহীহুল জামি ২/১২৮৪, নং ৭৭৮০। অন্য হাদীসে তাবিয়ী আব্দুল্লাহ ইবন আবূ বাকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন হাযম আনসারী (৬৫-১৩৫ হি) বলেন, আমার দাদা সাহাবী আমর ইবন হাযমকে (রা) রাসূলুল্লাহ সা. যে পত্র লিখেছিলেন, তাতে তিনি লিখেছিলেন:
أَنْ لا يَمَسَّ اَلْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ
পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। এ হাদীসটি অনেককগুলো সনদে বর্ণিত। প্রত্যেক সনদেই কিছু দুর্বলতা বিদ্যমান। তবে সবগুলি সনদের ভিত্তিতে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বাল, ইমাম ইসহাক ইবন রাহওয়াইহি, ইমাম হাকিম, ইমাম যাহাবী, শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী ও অন্যান্য প্রাচীন ও সমকালীন মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলে নিশ্চিত করেছেন। মালিক, আল-মুআত্তা ১/১৯৯; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ১/১৫৮-১৬১, নং ১২২। উপরের হাদীসগুলোর ভিত্তিতে অপবিত্র - অর্থাৎ গোসল ফরয থাকা অবস্থায় অথবা অযু-বিহীন- অবস্থায় কুরআন মাজীদ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে চার মাযহাবের ইমামগণ-সহ মুসলিম উম্মাহর প্রায় সকল ফকীহ এ বিষয়ে একমত। আল-মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুওয়াইতিয়্যা ১৬/২৪০; ২৩/২১৬; ৩৫/৩৩৩; ৩৮/৬। প্রসিদ্ধ হাম্বালী ফকীহ ইবন কুদামা (৬২০ হি) বলেন:
وَلا يَمَسُّ الْمُصْحَفَ إلَّا طَاهِرٌ يَعْنِي طَاهِرًا مِنْ الْحَدَثَيْنِ جَمِيعًا، ... وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَصْحَابِ الرَّأْيِ ، وَلَا نَعْلَمُ مُخَالِفًا لَهُمْ إلَّا دَاوُد فَإِنَّهُ أَبَاحَ مَسَّهُ
উভয় প্রকারের নাপাকি থেকে পবিত্র না হয়ে কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়। ... আর এটি অন্য তিন ইমাম- মালিক, শাফিয়ী ও হানাফীগণেরও মত। একমাত্র (তৃতীয় হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ ফকীহ) দাঊদ যাহিরী (২০১-২৭০ হি) ছাড়া আর কেউ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। একমাত্র তিনিই অপবিত্র (ওযূ বা গোসল ছাড়া) কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। ইবন কুদামা, আল-মুগনী ১/২৫৬। সাহাবীগণের মধ্যে আলী, ইবন মাসঊদ, সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস, সায়ীদ ইবন যাইদ, সালমান ফারিসী, আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা.) ও অন্যান্য ফকীহ সাহাবী ওযূ বা গোসল বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ করেছেন। কুরতুবী, তাফসীর (জামিউ আহকামিল কুরআন) ১/২২৫-২২৭। ইবন তাইমিয়া (রাহ) বলেন, এদের বিপরীতে কোনো সাহাবী ওযূ বিহীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বৈধ বলেছেন বলে জানা যায় না। ইবন তাইমিয়া, মাজমূউল ফাতাওয়া ২১/২৬৬। উল্লেখ যে, ফকীহগণ শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ওযূ ছাড়া কুরআন স্পর্শ বৈধ বলেছেন। কারণ শিক্ষার জন্য বারবার কুরআন স্পর্শ করা তাদের জন্য প্রয়োজন এবং তারা নাবালেগ হওয়ার কারণে তাদের জন্য শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য নয়। এছাড়া কুরআনের তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, ও কুরআন সম্বলিত অন্যান্য সকল গ্রন্থ ওযূ ও গোসলবিহীন অবস্থায় স্পর্শ করা বৈধ বলে তাঁরা একমত। ড. ওয়াহবাহ যুহাইলী, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ১/৩৯৫; আল-মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুআইতিয়্যাহ ১৬/৫৩।
প্রশ্নঃ 86
স্যার আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন হল: পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি ব্যবহারের পূর্বে ডিলা-কুলুপ ব্যবহারের বিধান কি? আমরা অনেকেই মনে করি পানি ব্যবহারের পূর্বে ডিলা-কূলুপ ব্যবহার না করলে তার পবিত্রতা অর্জন হয় না। এছাড়া বলা হয় ডিলা-কূলুপ না নিলে তার হাতের খাবার খাওযা যাবে না?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। পবিত্রতা অর্জনের জন্য শুধু ঢিলা কিংবা শুধু পানি কিংবা উভয়টি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু পানি ব্যবহার করা শুধু ঢিলা ব্যবহার করা থেকে উত্তম। হাদীসে এমনটিই পাওয়া যায়। ঢিলা ও পানি উভয়টি একসাথে ব্যবহার করা ব্যাপারে হাদীসে তেমন পাওয়া যায় না। তবে উভয়টি এক সাথে ব্যবহার করাকে আলেমগণ সবচেয়ে উত্তম বলেছেন। আর ঢিলা ব্যবহার না করলে তার হাতের খাবার খাওয়া যাবে না এ কখা ঠিক না। নিচে দলীলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
শুধু ঢিলা ব্যবহারের দলীল:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ اتَّبَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ فَكَانَ لاَ يَلْتَفِتُ فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَقَالَ ابْغِنِي أَحْجَارًا أَسْتَنْفِضْ بِهَا ، أَوْ نَحْوَهُ ، وَلاَ تَأْتِنِي بِعَظْمٍ ، وَلاَ رَوْثٍ فَأَتَيْتُهُ بِأَحْجَارٍ بِطَرَفِ ثِيَابِي فَوَضَعْتُهَا إِلَى جَنْبِهِ وَأَعْرَضْتُ عَنْهُ فَلَمَّا قَضَى أَتْبَعَهُ بِهِنَّ
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী সা. সাথে ছিলাম আর তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলেন। তখন তিনি এদিক ওদিক তাকালেন না। আমি তার নিকটবর্তী হলাম। তিনি বললেন, কিছু পাথর কিংবা এ জাতীয় কোন বস্তু নিয়ে আস, তা দ্বারা আমি ইস্তেনজা করব। হাড় কিংব গোবর নিয়ে আসবে না। আমি আমার কাপড়ের আঁচলে কিছু পাথর নিয়ে আসলাম এবং তার পাশে রাখলাম। এরপর সেখান থেকে চলে আসলাম। তিনি যখন তার প্রয়োজন পূর্ণ করলেন সেগুলো ব্যবহার করলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৫
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قِيلَ لَهُ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ -صلى الله عليه وسلم- كُلَّ شَىْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ. قَالَ فَقَالَ أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِىَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ
হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তাকে বলা হল, তোমাদের নবী তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেয় এমনকি পেশাব পায়খানার বিষয়েও? তিনি বলেন, তখন তিনি বললেন, হ্যা, তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন কিবলার দিকে মুখ করে পেশাব পায়খানা করতে, ডান হাত দ্বারা ইস্তেনজা করতে, তিনটার কমে পাথর ব্যবহার করতে এবং হাড় ও গোবর দ্বারা ইস্তেনজা করতে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬২
শুধু পানি ব্যবহারের দলীল:
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاَءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ
আতা ইবনে আবী মায়মুনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনে মালিক রা. কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সা.পায়খানায় যেতেন আর আমি এবং একজন বালক পানির পাত্র ও লাঠী বহন করতাম। তিন তা দ্বারা ইস্তেনজা করতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২।
عن أبي هريرة : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال نزلت هذه الآية في أهل قباء { فيه رجال يحبون أن يتطهروا والله يحب المطهرين } قال كانوا يستنجون بالماء فنزلت هذه الآية فيهم
হযরত আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, এই আয়াত সেখানে কিছু লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে আর আল্লাহও তাদের ভালবাসেন কুবা বাসীদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন তারা পানি দ্বারা ইস্তেনজা করত তাই তাদের ক্ষেত্রে এই আয়াত তাদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১০০। হাদীসটি সহীহ। উভয়টি একসাথে ব্যবহারের দলীল:
عن ابن عباس قال: لما نزلت هذه الآية في أهل قباء {فيه رجال يحبون أن يتطهروا والله يحب المتطهرين} فسألهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: إنا نتبع الحجارة الماء
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন কুবা বাসীদের ক্ষেত্রে এই আয়াত নাযিল হল সেখানে কিছু লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে আর আল্লাহও তাদের ভালবাসেন তখন রাসূলুল্লাহ সা. তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তারা বলল,আমার ঢিলার পরে পানি ব্যবহার করি
মুসানাদে বাযযার। হাদীসটি মুহাদ্দিসদের সর্বাক্যমতে দূর্বল। আল্লামা নুরুদ্দীন হাইছামী বলেন,
رواه البزار وفيه محمد بن عبد العزيز بن عمر الزهري ضعفه البخاري والنسائي وغيرهما
হাদীসটি বাযযার বর্ণনা করেন, সনদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে উমার আযযুহরী নামে একজন বর্ণনাকারী আছে যাকে ইমাম বুখারী ও নাসায়ী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ দূর্বল বলেছেন। মাজমাউজ ঝাও-ইদ, হাদীস নং১০৫৩। এছাড়াও এই সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব নামে একজন রাবী আছেন যাকে মুহাদ্দিসগণ অত্যন্ত দূর্বল বলেছে। লিসানুল মিযান, নং ৪২৭৩। তার পূর্ণ নাম আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব আর রবঈ আবু সাইদ আল মাদানী আলইখবারী। তবে তৃতীয় হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক আবূ যাইদ আমর ইবন শুব্বা বাসরী (২৬২ হি) সম্পূর্ণ পৃথক সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হাদীসটির ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমর ইবন শুব্বাহ, তারীখুল মাদীনাতিল মুনাওয়ারা (বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৬ খৃ) ১/৩৩: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ দুওয়াইশ, তাম্বীহুল কারী আলা তাকবিয়াতি মা যাআফাহুল আলবানী (শামিলা), পৃষ্ঠা ৬২। হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেছেন,
فَأَتْبِعُوا الْحِجَارَةَ الْمَاءَ
অর্থ: তোমার পাথরের সাথে পানি ব্যবহার কর। আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী, হাদীস নং ৫২৯। আল্লামা জাইলায়ী রহ. বলেছেন, এটা একটি ভাল আছার। নাসবুর র-ইয়হা, ১/২১৯। আর সনদে বিচ্ছন্নতার কারণে শাইখ আলবানী বলেছেন, ভাল নয়। সিলসিলাতুন দ-ইফাহ, হাদীস নং ১০৩১। আলেমগণ দুটাকে একা সাথে ব্যবহার করাকে উত্তম বলেছেন, ফিকহের কিতাবগুলোতে তা উল্লেখ আছে। আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহি. (১২৫২হি.)বলেন,
اعْلَمْ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الْمَاءِ وَالْحَجَرِ أَفْضَلُ ، وَيَلِيهِ فِي الْفَضْلِ الِاقْتِصَارُ عَلَى الْمَاءِ ، وَيَلِيهِ الِاقْتِصَارُ عَلَى الْحَجَرِ وَتَحْصُلُ السُّنَّةُ بِالْكُلِّ
অর্থ: জানা আবশ্যক যে, পাথর ও পানি একসাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম। উত্তমের দিক দিয়ে তার নিকটবর্তী হল শুধু পানি আর তার নিকটবর্তী হল শুধু ঢিলা। তবে প্রত্যেক পদ্ধতির মাধ্যমেই সুন্নাত আদায় হবে। রদ্দুল মুহতার, ৩/৪১। আরো দেখুন, আলওয়াসিত লিল ইমাম গাযালী (৫০৫ হি.), ১/৩১০; আল ফিকহ ফি আহমাদ ইবনে হাম্বাল লি ইবনে কুদামা আলমাকদিসী, ১/৯৫; হিলয়াতুল উলামা, ১/৭১; আল ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবা,১/৮২। উপরের আলোচনা থেকে আমরা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ঢিলা ও পানি একসাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম এরপর শুধু পানি এরপর শুধু ঢিলা। সুতরাং ঢিলা ব্যবহার না করলে তার হাতের খাবার খাওয়া যায় না এ কথা সম্পূর্ণ বাতিল। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 71
আস- সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ,আপনার কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমরা যে কাপড়ের মোজা পরি তার মাসাহ করা বৈধ হবে কি? দলীল সহ জানালে উপকৃত হব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন:
وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম
দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। )
হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:
وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ
তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين
অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯, তাহকীক, আহমাদ শাকের। (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। সুতরাং আমাদের মুজা যদি মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে তার উপর মাসেহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 26
Is it strongly prohibited to touch the Holy Quran without wudu (ablution)? Would you please cite reference from Hadis? We want to memorize from Quran while we are travelling. It is quite tough to have wudu all time in that state. What will be your suggestion?
20 Dec 2025
মূল্যবান একটি প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর সহজে বোধগম্য হওয়ার জন্য আমরা প্রথমে অপবিত্রতাকে দুইভাগে ভাগ করে নিতে পারি । একঃ হদসে আসগার বা ছোট পবিত্রতা যে ক্ষেত্রে ওজু করলেই পবিত্রতা হাসিল হয়ে যায়, গোছলের প্রয়োজন হয় না। দুইঃ হদসে আকবার বা বড় ধরনের অপবিত্রতা যে ক্ষেত্রে ব্যক্তির উপর গোছল আবশ্যক হয়। চার মাযহাব, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরাম এব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, হদসে আসগার অথবা হদসে আকবার কোন অবস্থাতেই ব্যক্তি কোরআন স্পর্শ করতে পারবে না। দলীলঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ
(لا يمسه إلا المطهرون (الواقعة
অর্থঃ তা (কোরআন) কেবলমাত্র পবিত্র ব্যক্তিরাই স্পর্শ করতে পারবে। (সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৭৯)। আর কোরআন স্পর্শ করা ছাড়া প্রথম প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তি মুখে মুখে তেলাওয়াত করতে পারবে। কিন্তু দিত্বীয় প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তির জন্য এটাও বৈধ নয়। দলীলঃ
عن علي رضي الله عنه : أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج من الغائط وقرأ شيئا من القرآن وقال :هذا لمن ليس بجنب أما الجنب فلا ولا آية
হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণীত, তিনি বলেন যে,নবী সাঃ ইস্তেঞ্জাখানা (বাথরুম) থেকে বের হয়ে কোরআনের কিছু অংশ তেলাওয়াত করলেন এবং বললেন:এটা (অপবিত্র অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করার বিধান) ঐ ব্যক্তির জন্য যে জুনুবি (২য় প্রকারের অপবিত্র ব্যক্তি) নয়। পক্ষান্তরে জুনুবী ব্যক্তির জন্য একটি আয়াতও বৈধ নয়।মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাদীস নং ৮৭২, তাহকীক শুয়াইব আরনাউত, হাদীসের সনদটি হাসান।
প্রশ্নঃ 25
kaporar mojar upor mas a kora jaby ki na. aktu janaly upokrito hobo.
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। )
হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:
وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ
তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين
অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯, তাহকীক, আহমাদ শাকের । (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 24
AMRA JY KAPORAR MUGA PORI TAR UPOR MAS KORA JABY KI NA. DOLIL SOHO ANS DILY UPKRITO HOBO.
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুম সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিচে এব্যাপারে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে উত্তর খুজে পাবেন ইনশা আল্লাহ। মোজা বুঝাতে আরবীতে দুটি শব্দ রয়েছে: খুফ্ফ (الخف) অর্থাৎ চামড়ার মোজা এবং জাওরাব (الجورب) অর্থাৎ কাপড়, পশম ইত্যাদির মোজা। প্রথম প্রকারের মোজার উপর মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে সন্দেহাতীত ভাবে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন: একদল হাফেজে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য হল খুফ্ফাইনের (চামড়ার মোজার উপর) মাসাহ করার বিষয়টি রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণীত।ফাতহুল বারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। এব্যাপারে হযরত মুগীরা ইবরে শুবা রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
অর্থঃ আর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন এবং চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করলেন। বুখারী, আস-সহীহ, হাদীস নং(২০৪)। মুসলিম, আস - সহীহ, হাদীস নং (৬৪৯)। বুখারী এবং মুসলিম
দ্বিতীয় প্রাকারের মোজা তথা জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর রাসূল সা. মাসাহ করেছেন কিনা তা সহীসূত্রে পাওয়া যায় না। ফলে এবিষয়ে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়। তবে গ্রহনযোগ্য মত হল, যদি মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। যেমন ইমাম আহমাদ রহঃ বলেছেন : যদি তার উপর হাটাচলা যায় এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকে তাহলে তার উপর মাসাহ করতে কোন সমস্যা নেই । (ইবনে কুদামা, আল মুগনি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭৬। )
হানাফী মাযহাবের উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ ও মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে মোজা যদি মোটা হয় তাহলে তার উপর মাসাহ করা জায়েয। ইমাম আবু হানীফা রহঃ ভিন্নমত পোষণ করলেও শেষ জীবনে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেন। যেমন আল্লামা কাসানী রহঃ বলেন:
وَإِنْ كَانَا ثَخِينَيْنِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ ، وَمُحَمَّدٍ يَجُوزُ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ رَجَعَ إلَى قَوْلِهِمَا فِي آخِرِ عُمُرِهِ
তবে যদি পুরু এবং মোটা হয় সে ক্ষেত্রে আবু হানীফার মতে জায়েজ নেই । আর ছাহেবাইন রহঃ এর নিকট তার উপর মাসাহ করা বৈধ। বর্ণীত আছে যে, আবু হানীফা রহঃ জীবনের শেষ দিকে ছাহেবাইনের মত গ্রহন করেছেন।বাদাইউস সানাইয়ী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১০। আবু হানীফা রহঃ ছাহেবাইনের মত গ্রহন করার বিষয়টি তিরমিযী রহঃ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
سمعت صالح بن محمد الترمذي قال سمعت أبا مقاتل السمرقندي يقول دخلت على أبي حنيفة في مرضه الذي مات فيه فدعا بماء فتوضأ وعليه جوربان فمسح عليهما ثم قال فعلت اليوم شيئا لم أكن أفعله مسحت على الجوربين وهما غير منعلين
অর্থঃ (ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন:) আমি সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি, আমি আবু মুকাতিলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু হানিফার নিকটে তার মৃত্যু পূর্ব অবস্থায় গমন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি আনতে বললেন অতপর ওজু করলেন । আর তিনি তার পায়ে থাকা জাওরাবের উপর মাসাহ করলেন। এরপর বললেন : আমি আজ যেটা করলাম তা ইতিপূর্ব কখন করিনি। আমি শুধু জাওরাবের উপর মাসাহ করলাম । তিরমিযী, আস-সুনান, খন্ড ১,পৃষ্ঠা ১৬৯,তাহকীক, আহমাদ শাকের। (প্রকাশক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বইরুত, লেবানন)। মোটকথাঃ জাওরাব বা কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতবিরোধ আছে, তবে গ্রহনযগ্য মত হল,যদি তা মোটা হয়,মজবুত হয়, পায়ের সাথে এটে থাকে, চলাচল করার মত হয় তাহলে আশা করা যায় মাসাহ করা যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 12
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, কোন একটি ভোজসভার কিছু লোক খাবারের পর একটি ড্রামে হাত ধুলে উক্ত ড্রামের পানি দ্বারা অজু করা যাবে কিনা?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে মুবারকবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করা হল। আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন । ইনশাল্লাহ। যদি এক দুইজন ব্যাক্তি হাত ধোয় তাহলে পানির রং, ঘ্রাণ, স্বাদ পরিবর্তন না হওয়ার কারনে তা দ্বারা অজু করা বৈধ হবে । কিন্তু যদি এমন হয় যে, হাত ধোয়ার কারনে পানির রং, ঘ্রাণ, স্বাদ পরিবর্তন হয়েগেছে তাহলে উক্ত পানি দ্বার পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না।