আমাদের সমাজে যেভাবে বিতর পড়া হয় সেভাবে পড়বেন। বিতর পড়ার আরো কয়েকটি পদ্ধতি আছে। তিনটি পদ্ধতি শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনে সেখানে দেখুন।
আপনি লিখেছেন যে, স্পষ্ট করিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে যে, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ। । কে এই কথাটি উল্লেখ করেছে? তার পরিচয় স্পষ্ট করে বলুন।দ্বিতীয়ত, বিতরের নামাজ ফরয নামাজের মত জরুরী নামাজ নয়। এই কথায় তো আমাদের কথা। প্রশ্ন হলো, বিতর সাধারণ সুন্নাতের মত নাকি তার গুরুত্ব বেশী যাকে অনেকে ওয়াজিব বলে। আমরা হাদীস উল্লেখ করে দেখিয়েছি এই নামাযের গুরুত্ব সাধারণ সুন্নাতের চেয়ে বেশী। অনেকে সুন্নাত বলে, এটা ঠিক আছে তবে আমরা ওয়াজিব বলে এটা বুঝাতে চেয়েছি যে, গুরুত্বের দিক দিয়ে বিতর অন্যান্য সুন্নাত নামায থেকে অনেক উপরে।হাদীস থাকলে আর বিস্তারিত রেফারেন্স লাগে না। হাদীস দুটি আবার পড়ুন আর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে, এটা কোন পর্যায়ের সুন্নাত? আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299
তাহাজ্জুদ নামাযের স্পেশাল কোন নিয়ম নেই। অন্যান্য সুন্নাত নামাযের মত ঘুম থেকে উঠে মধ্য বা শেষ রাতে আদায় করবেন।
সালাতুত তাসবীহ বিষেয়ে শাায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত বইয়ে লিখেছেন: যিকিরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ, তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার। সালাতুত তাসবীহ-এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিকিরগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিকিরগুলো আদায় করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা, তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার ।সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৯৯, সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৭। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিকিরগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিকিরগুলো আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমাদের দেশে যেভাবে বিতর নামায পড়া হয় সেটা সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 117, 167, 168 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নফল আর সুন্নাত মূলত একই জিনিস। করলে সওয়াব না করলে গুনাহ নেই। তাহাজ্জুদও সেরকম। অবশ্য কুরআনে তাহাজ্জুদকে নফল বলা হয়েছে। وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ আর রাত্রের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর নফল (অতিরিক্ত) হিসাবে। সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত ৭৯। সুতরাং এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। ফরজ বাদে সকল আমলকে নফল-বা সুন্নাত বলা যায়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দৈহিক নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য কাউকে দেয়া যায় মর্মে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে দান সদকা করে তার সওয়াব অন্যকে দেওয়া যায়। হাদীসে আছে, أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهْوَ غَائِبٌ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الْمِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا. সাদ ইবনে উবাদা রা. এর অনুপস্থিতিতে তাঁর আম্মা মারা গেলেন। তিনি নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনুপস্থিতিতে আমার আম্মা মারা গিয়েছেন, যদি আমি তার জন্য কোন কিছু সাদকা করি তাহলে কি তা তাঁর কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষী করে বলছি, মিখরাফের আমার বড় খেজুর বাগানটি তার জন্য দান করে দিলাম। সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৭৬২। জামে তিরমিযী, হাদীস নং৩৬৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি একটু বিস্তারিত বর্ণিত আছে। আলেমদের একাংশ অবশ্য বলেছেন, দান-সদাকার মত নামায-রোজার সওয়াবও দান করা যাবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে এই সময় শুধুমাত্র দুরাকআত ফজরের সু্ন্নাত আদায় করতে বলা হয়েছে। হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ يَسَارٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِى ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّى بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّى هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ . ইয়াসার বলেন, আমি একবার ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর সালাত আদায় করছিলাম তখন ইবনে উমার রা. বলেন, ওহে ইয়াসার, একদা আমরা এই সময় সালাত আদায় করছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, উপস্থিতরা অনুপস্থিতদের নিকট পৌছে দিবে যে, তোমরা ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়ার পর দুই রাকআত ছাড়া কোন সালাত আদায় করবে না। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৮০, মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৫৮১১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ. এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং বিতর সালাত দিনের বেলায় কাজা আদায় করবেন। ২। আপনি আপনার এলকাই যে সূচীটি সর্বাধিক প্রচলিত সেই অনুযায়ী ইফতার করবেন। যে সূচিই মানেন রোজা হয়ে যাবে। ৩। পুরুষ ও মহিলার সবার জন্যই কালো কালি ব্যবহার নিষেধ। তবে রোগের কারণে অল্প বয়সে চুল পাকলে অনেকেই বলেন জায়েজ আছে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যখন চার রাকআত পড়বেন তখন দুই রাকআত হয়ে যাচ্ছেই। না পড়লেও হবে এই প্রশ্ন তো অবান্তর। ্উক্ত চার রাকআতের পর এক রাকআত বিতর পড় হবে তবে সুন্নাত হলো আরো কিছু নামায পড়ে তার পর পড়া । নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ زَوْجِ النَّبِيِّ : وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ جَاءَ إِلَى مَنْزِلِهِ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ ثُمَّ قَالَ نَامَ الْغُلَيِّمُ ، أَوْ كَلِمَةً تُشْبِهُهَا ثُمَّ قَامَ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى خَمْسَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ ، أَوْ خَطِيطَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা, রাসূলুল্লাহ সা. এর স্ত্রী মায়মুনা রা. এর গৃহে রাত কাটালাম। সে দিন রাসূলুল্লাহ সা. তার কাছে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সা. ইশার (ফরজ) নামায পড়ে তার ঘরে আসলেন এবং চার রাকআত নামায পড়লেন। এরপর তিনি ঘুমালেন তারপর আবার উঠে নামায পড়লেন এবং বললেন, শিুশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর তিনি আবার উঠলেন এবং আমিও তার সাথে উঠলাম এবং তাঁর বাম দিকে নামাযে দাঁড়ালাম। তিনি আমকে ডান দিকে দাঁড় করালেন এবং ৫ রাকআত নামায পড়লেন তার আবার দুই রাকআত পড়লেন (ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত) এর আবার তিনি হালকা ঘুমালেন তারপর ফজরের নামাযের উদ্দে্শ্যে মসজিদে গেলেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭। সুতরাং বিতর পড়ার আগে আরো কিছু নামায পড়বেন। আর না পড়লে বিতর তিন রাকআত পড়াই ভাল। আল্লাহ ভাল জানেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উভয় হাদীসের বর্ণনাকারীগণ ছীকাহ।
এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও উক্ত অর্থের হাদীস সহী সনদে বর্ণিত আছে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং৭৩৫৩। উক্ত হাদীসের সমর্থনে একটি হাদীস সহীহ বুখারীতে আছে। সেখানে আছে রাসূলুল্লাহ সা. ইশার পরে চার রাকআত সালাত আদায় করেছেন। হাদীস নং ১১৭।
অর্থাৎ চারকাত পড়ার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সহীহভাবে প্রমানিত আর ফজিলতের বিষয়টি সাহাবীদের থেকে সহীহভাবে প্রমানিত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, প্রশ্ন নং ১৭৫৯১৪ (আরবী)।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি রাহে বেলায়াত থেকে বিতর সংক্রান্ত আলোচনাটি পড়লে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দলীলসহ জানতে পারবেন। ৪১৩ নং পৃষ্ঠ থেকে শুরু (সর্বশেষ সংস্করণ)। সংক্ষেপে উত্তর হলো, বিতর সালাত রাসূলুল্লাহ সা. শেষ রাত্রে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার পর পড়তেন। এটাই সবচেয়ে উত্তম। স্যার যেটা বলেছেন ঘুমানোর আগে পড়া এটা যারা শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না তাদের জন্য। কোন নফল সালাত ছাড়া রাসূলুল্লাহ সা. এক রাকাত বিতর পড়েছেন বলে আমার জানা নেই। তবে এক রাকআত পড়ার অনুমতি সহীহ হাদীসে আছে। শুধু বিতর পড়লে অন্তত তিন রাকআত পড়াই ভাল বলে মনে হয়। দুআ কুনুত নিদিষ্ট কোন দুআ নয়। ঐসময় যে কোন দুআ পড়া যায়। অনেকগুলো দুআ এক সঙ্গেও পড়া যায়। আবারো বলছি আপনি রাহে বেলায়াতের বিতর অধ্যায় পড়ুন। আপনার সমস্যা আর থাকবে না।
সূরা ফাতিহার পর কোন নামাযেই নির্দিষ্ট কোন সূরা নেই। আপনি যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে বিতর নামায তিন বা তাহাজ্জুদ সহ আরো বেশী রাকআত পড়া উচিৎ।
বিতর নামাযের অনেকগুলো নিয়ম আছে। আমাদের দেশে যে নিয়মে বিতর পড়া হয় তাও সহীহ। বিতরের মোট বারটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন ইবনে হাযাম জাহেরী তার বিখ্যাত আল-মুহাল্ল কিতাবে। তার ভিতর তিনটি নিয়ম ড. শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। উক্ত নিয়মগুলোসহ বিতর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত ৪২৩-৪৩০ পৃষ্ঠা। এছাড়া আমাদের দেয়া 0105, 0153 নং প্রশ্নের উত্তরে আপনি অনেক তথ্য জানতে পারবেন। সেগুলো দেখতে পারেন। কুনুতের সময় হাত উঠানো: ফজরের নামাযের কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো, عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ. অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন, وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।
হ্যাঁ, তাহাজ্জুদ নামায প্রতিদিন কোন বিরতী ছাড়া পড়া জায়েজ আছে।
কিয়ামুল্লাইল এর জন্য আপনাকে ঘুম খুব একটা কমাতে হবে না। আপনি একটু আধা ঘন্টা বা ৪৫ মিনিট আগে ঘুমাবেন আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে ঘুম থেকে উঠবেন। দশ মিনিটে পবিত্র হয়ে সালাত শুরু করবেন। ফজর শুরুর আগ পর্যন্ত ২০-৩০ মিনিট সময় পাবেন। এভাবে আপনি কিয়ামুল্লাইল নিয়মিত আদায় করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কিয়ামুল্লাইল আদায় করার তাওফীক দিন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন আমলই না জেনে করা আমারদের জন্য ভাল কাজ নয়। আমল করার অগে আমাদের উচিৎ বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির নিকট থেকে জেনে নেয়া। এবার আপনার প্রশ্নে আসি। ১. হ্যাঁ, সাজদায়ে সাহু ওয়াজি হবে। ২. না, পড়তে হয় না। ৩. হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার বলতে হবে। ৪. প্রচলিত নিয়মে তুললেও সহীহ হবে। আবার ভিন্ন নিয়মও আছে। তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে হাদীসটি লক্ষ্য করুন, كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। বিতর পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে দেখুন রাহে বেলায়াত গ্রন্থের বিতর সম্পর্কীত আলোচনা। এছাড়াও আমাদের দেয়া 167 এবং 117 নং প্রশ্নের উত্তর দেখতে পারেন।
আপনি নিজের মত করে আল্লাহর কাছে ঘুম থেকে সময়মত উঠার জন্য দুআ করবেন। আর আধুনিক যন্ত্রগুলোর সাহায্য নিবেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাহাজ্জুদ নামায দুই দুই রাকআত করে ঘুম থেকে উঠে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে ৮ এবং তার চেয়ে বেশী রাকআত পড়ার কথা সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। তাহাজ্জুদের পর বিতর নামায পড়া উত্তম। বিস্তারিত জানতে হাদীসের কিতাব সমূহে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ অধ্যায়গুলো দেখতে পারেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণ নফল নামাযের নিয়ত করবেন। মনে রাখবেন নিয়ত মনের বিষয়ে মুখে করার বিষয় নয়। মনে এটা রাখতে হবে যে আমি নফল নামায পড়ছি।
নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. থেকে যখন কোন কারণে রাতের নামায ছুটে যেত তখন তিনি বার রাকআত আদায় করতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭৭। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সা. সাধারণত রাতে বিতরসহ এগার রাকআত আদায় করতেন। আর কোন কারণে না পড়তে পারলে দিনের বেলায় বার রাকআত পড়তেন। সুতরাং এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রাতের বেলায় কেউ বিতর আদায় না করলে দিনের বেলায় সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে এক রাকআত বেশী আদায় করবেন। আপনি যদি বিতর তিন রাকআত পড়েন তাহলে দিনের বেলায় চার রাকআত নামায পড়বেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জাওয়াব, শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফাতওয়া নং ৬৫৬৯২।