ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কয়েক মাস পর একসাথে দান করতে পারেন, সমস্যা নেই। প্রতি মাসের শেষে দান করা জরুরী নয়। তবে মাস শেষে দান করলে আপনার জন্য হিসাব রাখতে ভালো হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে গরীব মানুষদের জন্যও কল্যানকর হবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সঠিক বিষয়টি বুঝান জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মানত পূরণ করার দরকার নেই। আপনার পিতার সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন এবং দান-সাদকা করুন। ২। মোবাইলের কম্পাস অনেক সময় ভূল হয়। তাই যেখানে থাকেবেন সেখানকার মসজিদকে অথবা স্থানীয় মানুষকে ফলো করে কিবলা নির্ধারণ করবেন। যদি সম্ভব না হয়ে তখন মোবাইলের কম্পাসের সহযোগিতা নিতে পারেন। যে দিকে ক্বিবলা দেখায় সেদিকেই দাঁড়াবেন, হালকা এদিক সেদিক হলে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
আপনি উক্ত মান্নত করার দ্বারা চরম অপরাধ করেছেন। প্রথমত: রাজারবাগীরা কঠিন শিরক ও বিদআতে লিপ্ত। সুন্নাত অনুসারী আলেমগণ তাদের ভ্রষ্ট ও ভ্রষ্টতার প্রচার এবং প্রসারকারী হিসাবে বিবেচনা করে। তাদের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখা জায়েজ হবে না। দ্বিতীয়ত: মান্নত আল্লাহ তায়ালার নামে করতে হয়। কোন দরবার বা মসজিদে নয়। কোন দরবারে বা মসজিদে বা অন্য কোথাও মান্নত করা সুস্পষ্ট শিরক। তৃতীয়ত: আপনার করা মান্নত নাজায়েজ হওয়ার কারণে আপনাকে মান্নত পূর্ণ করতে হবে না। চতুর্থত: আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া হিসাবে কিছু টাকা আপনি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে পারেন। সেটা হতে পারে কোন মাদ্রসায় দান কিংবা কোন গরীব মানুষকে সদকা, মসজিদ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে সহায়তা ইত্যাদি।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মানতের মাংষ মানতকারী এবং ধনীরা খেতে পারবে না। শুধু গরীবরা খাবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
১. মানুষ বিভিন্ন বিপদাপদে মানত করে থাকে। আর হাদীস মুতাবেক মানত না করে দান করাই উত্তম। মানত হলো শর্ত সাপেক্ষ দান: এটি হলে আমি এটি করব। আর দান বা সাদাকা হলো নিঃশর্ত দান। মানত না করে দান করাই উত্তম। মান্নত করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। ইবনে উমার রা. বলেন, : نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، عَنِ النَّذْرِ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ অর্থ: নবী সা. মান্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, মান্ত কোন কিছু কে বাধা দিতে পারে না। এদ্বারা শুধুমাত্র কৃপনের থেকে কিছু সম্পদ বের করা হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০৮। এমন অর্থের আরো হাদীস অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, সদকা অর্থাৎ নফল দান বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। এবিষয়ে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো, حُذَيْفَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ، أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ অর্থ: সাহাবী হুযায়ফা রা. বলেন, আমরা উমার রা. এর কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কে ফিৎনার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীস মুখস্ত রেখেছ? আমি বললাম, আমি, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) যেভাবে বলেছেন ( সেভাবে মুখস্ত রেখেছি);। উমার রা. বললেন, তুমি তো খুব সাহসী মানুষ। আমি বললাম, (রাসূল সা. বলেছেন,) পরিবার, ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মানুষ যে ফিতনা বা বিপদ আপদে পড়ে নামায, রোজা, দান সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ তা দূর করে দেয়। সহীহ বুখারী, হাদীস নং হাদীস নং ৫২৫। এই বিষয়ে সহীহ ও যয়ীফ সনদে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, দান সদকা সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নত কাম্য নয় বরং দান সদকা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে সর্বাবস্থায় মানত করলে তা পূরণ করতে হবে। কুরআনের অনেক আয়াত ও বহু হাদীসে দান করার জন্য ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। ২. পিতা-মাত সন্তানদেরকে ভাল পথে থাকার জন্য অসিয়ত করবেন। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মানুষকে কুরআন মানতে ওসিয়ত করেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৪০। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِىَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ সম্পদশালী যে মুসলিম ওসিয়ত করতে চায় তার জন্য উচিৎ নয় ওসিয়ত নামা লিখতে দুই দিনের বেশী অপেক্ষা করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪২৯১। সুতরাং মুসলিমদের জন্য উচিত নিজের সন্তানদের জন্য ভাল কাজের ওসিয়ত করা এবং কিছু সম্পদ আল্লাহ রাস্তায় দান করার ওসিয়ত করা। আপনার দুআ করবেন যেন আমরা আপনাদের উপকারে কাজ করতে পারি।