আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 1703
আসসালামু আলাইকুম। স্যারের হজ্জের দোয়া, মাসালা উপর কোন বই আছে? না থাকলে অনুগ্রহ করে বাজারে পাওয়া এমন ভাল বই এর নাম জানাবেন।
08 Jan 2026

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। না, স্যার রহ. এর এই বিষয়ে কোন বই নেই। তবে আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট থেকে হজ্জ্বের উপর একটি বই প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 1110
Muhtaram assalamualaiqum. Amader HAZZ kafelate alim der moddhe entire bisoye motoved dekha diyeche ar take holo tawafe ifada te romol korar bisoye, Ekjon bollen tawafe ifada te romol kora sunnah, kintu Saudi arab email bili kora onek boite abong Islam QA website e ta nishedh kora hoyeche, Actual bisoy ti dolil soho janale upokrito hobo. Alim saheb aro bollen tawafer somoy kabar dike takano Zayej na. Kothatir sottota jante chai Zazakallahul khair
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে তাওয়াফের পর সায়ী করতে হবে সে তাওয়াফেই শুধু রমল করতে হবে। যে তাওয়াফের পর সায়ী নেই সে তাওয়াফে রমলও করতে হবে না।সুতরাং আপনি যদি প্রথমেই তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করেন তাহলে আপনাকে কুদুমের মধ্যে রমল করতে হবে। আর যদি আপনি তাওয়াফে ইফাদার পরে সায়ী করেন তাহলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে। তাওয়াফে কুদুমের পর সায়ি করলে তাওয়াফে ইফাদাতে রমল করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 948
আসসালামু আলাইকুম, ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের মুখ, হাত এবং পা ঢাকার নিয়ম কি? ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকার সহজ পদ্ধতি কি?নিজের অজান্তেই খুসকির সাথে চূল ঝরলে বা ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করতে দাড়ি ঝরলে দম দিতে হবে কিনা দয়া করে জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকা তথা কাপড় লাগিয়ে মুখ ঢাকা নিষেধ। তাই, এমন ভাবে মুখ ঢাকতে হবে যাতে মুখে কাপড় না লাগে। বর্তমানে ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢাকার জন্য বাজারে বিশেষ ধরের টুপি পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। হাত ও পা ঢাকবেন না। না, এই সব কারণে দম ওয়াজিব হবে না।

প্রশ্নঃ 910
আরাফার দিনের এবং জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের সুন্নত আমল অনুগ্রহ করে জানাবেন।
02 Jan 2026

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. জ্বিলহজ্ব মাসের আমল সম্পর্কে খুতবাতুল ইসলাম কিতাবে বলেছেন, বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ যুলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোনো কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৬৯; সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৪০। অন্য হাদীসে তিনি বলেন: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ، يَعْنِيْ عَشْرَ ذِيْ الْحَجَّةِ দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযীলতের দিন হলো যুলহাজ্জ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/২৫৩, ৪/১৭; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ২/১৫। হাসীসটি সহীহ। বিস্তারিত জানতে দেখুন, খুতবাতুল ইসলাম বইয়ের জ্বিলকদ মাসের শেষ খুতবা। আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ তা পূর্বের ও পরের এক বছরের গোনাহের কাফফারা। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৮০৪। যিনি যেখানে থাকবেন সেখান কার ৮ জ্বিলহজ্জ্ব এই রোজা রাখবেন। আবার কোন কোন আলেম বলেছেন, হাজীরা যেদিন আরাফাতে থাকবেন সেদিন এই রোজা রাখতে হবে। যে কোন একদিন রাখলেই হযে যাবে আশা করা যায়।

প্রশ্নঃ 881
আসসালামু আলাইকুম, ১. ইহরাম অবস্থায় কি জুতা বা সেন্ডেল (যার উপরিভাগ ঢাকা) তা কি পড়া যাবে? না কি ফিতাওয়ালা সেন্ডেলই পড়তে হবে? পুরুষ ও মহিলা ঊভয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি জানাবেন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহরিম ব্যক্তি এমন জুতা বা স্যান্ডেল পরবে না যা পরলে টাখনু ঢেকে যায়। টাখনু ঢেকে যায় এমন জুতা বা মোজা পরা নিষেধ। উপরিভাগ ঢাকলে কোন সমস্যা নেই। টাখুন ঢাকা হলে হাদীসে নিষেধ আছে। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ ، وَلاَ السَّرَاوِيلَ ، وَلاَ الْبُرْنُسَ ، وَلاَ الْخُفَّيْنِ إِلاَّ أَنْ لاَ يَجِدَ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ مَا هُوَ أَسْفَلُ مِنَ الْكَعْبَيْنِ আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের পোশাক পরিধান করবে? তখন নবী সা. বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা,পাগড়ি, পায়জামা, টুপী এবং মোজা। যদি তার জুতা (টাখনুর নিচে থাকে এমন জুতা উদ্দেশ্য) না থাকে তা হলে মোজা পরবে, তবে মোজা দুটি পায়ের গিরার নিচ হতে কেটে নিবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৫৪। উপরের হাদীসে আমরা দেখছি টাখনু ঢেকে যায় এমন মোজা পরতে রাসূলুল্লা স. নিষেধ করেছেন।

প্রশ্নঃ 835
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. হজে গিয়ে প্রথম বাইতুল্লাহ বা কাবা দেখার পর মনে মনে যে নিয়াত করবে সে দুয়া পূরন হবে বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এর সত্যতা জানতে চাই। ২. হজের পর মদিনায়, মাসজিদে নববিতে একাধারে চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার কোন significance হাদিসে আছে কিনা, থাকে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। দুইটি বিষয়েই হাদীস আছে। তবে উভয় হাদীসই চরম পর্যায়ের দূর্বল। তবে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِى جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য ৪০ দিন জামায়আতে তাকবীরে উলার সাথে সালাত আদায় করবে যে জাহান্নাম থেকে এবং নিফাকী থেকে মু্ক্তি পাবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, হাদীসটি হাসান।

প্রশ্নঃ 831
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হল আমি হজ্জের প্রশিক্ষনের একটি ভিডিওতে শুনলাম trainer বললেন যে মুজদালিফাতে রাত্রিযাপন কালে যেহেতু তাহাজ্জুত সালাত নেই, তাই বিতিরও পড়তে হবে না, যেহেতু বিতির সালাত তাহাজ্জুতেরই অংশ। বিষয়টির সহিহ কিনা জানতে চাই (যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে নতুন মনে হল তাই প্রশ্ন করলাম) যাযাকুমুল্লাহ, জিয়া
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুজদালিফাতে রাত্রীযাপন কালে বিতর নামায পড়তে হবে বলে অধিকাংশ আলেম বলেছেন। শায়খ আলবানীসহ কিছু আলেম বলেছেন পড়া লাগবে না। তবে পড়ার ভিতরেই অধিক সতর্কতা। যারা বলেন পড়া লাগবে না তাদের দলীল: হযরত জাবের রা. বলেন, أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. মুজদালিফাতে এসে মাগরিব ও এশার সালাত এক আজান এবং দুই ইকামতে আদায় করলেন। দুই সালাতের মাঝে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেন নি। এরপর রাসূলুল্লাহ সা. ঘুমালেন। এভাবে ফজর হয়ে গেল। … সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০০৯। এই হাদীসে এশার সালাতের পর ঘুমিয়েছেন বলে উল্লেখ আছে। তাই এই আলেমগণ মনে করছেন তিনি বিতর সালাত পড়েন নি। অবশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে, তিনি বিতর সালাত আদায় করেন নি। আব্দুল্লাহ বিন বাযসহ অধিকাংশ আলেমের মতে পড়তে হবে। দলীল: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى ، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে অসিয়ত করেছেন তিনটি জিনিসের অসিয়ত করেছেন (অন্য বর্ণনায়: কখনো না ছাড়ার অসিয়ত করেছেন)। ১. প্রতি মাসে তিনিটি করে রোজা। ২.ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সালাত। ৩. ঘুমের পূর্বে বিতর সালাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮১। এই হাদীসে বিতরের কথা বলা হয়েছে কোন সময় ছাড়া যাবে না। এই হাদীস থেকে আরো একটি বিষয় বুঝে আসছে। তা হলো বিতর তাহাজ্জুদের অংশ নয়। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ যে ব্যক্তি ভয় করবে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাত্রেই বিতর পড়ে আর যে আশা করে যে, সে শেষ রাত্রে উঠতে পারবে সে শেষ রাত্রে বিতর পড়বে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮০২। এই হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে প্রথম রাত্রেও বিতর পড়া যায় সুতরাং রাসূলুল্লাহ সা. যে বিতর পড়েন নি তাওতো স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না। তাছড়া ঐ হাদীসে স্পষ্ট নেইও যে, তিনি বিতর পড়েন নি। এই সব দলীলের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলেম বলেন, সব সময়ই বিতর সালাত আদায় করতে হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 575
আমি নতুন বিয়ে করেছি। আমার ইচ্ছে ছিলো ওয়াইফকে নিয়ে হজ্ব পালন করার, বর্তমানে আমার হজ্ব পালনের এবিলিটি নেই। কিন্তু আমার বাবার এবিলিটি আছে আমাদেরকে হজ্বে পাঠানোর, এখন আমি বাবার টাকায় হজ্ব না করে নিজে ওমরা পালন করতে চাচ্ছি।ওমরা করার সামর্থ্য এখন আমার আছে। হজ্ব পালন না করে ওমরা করলে কি কোন গুনাহ হবে কিনা?
29 Dec 2025

না, এতে কোন সমস্যা নেই। তবে হজে যাওয়ার সামর্থ থাকলে আগে হজ করা উচিৎ।

প্রশ্নঃ 498
আসসালামু আলাইকুম, হজ্জ, উমরা, যিয়ারাত by ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই বইটা থেকে কতটুকু আমল করা যাবে। এখানে পৃষ্ঠা ৬১ – ৮১ পর্যন্ত অনেকগুলো দোয়া আছে, এগুলো কি সহি?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বইটিতে অনেক উপকারী বিষয় আছে। আবার অনেক মনগড়া আমলের কথাও আছে। এই দুআগুলো হাদীস সম্মত নয়।

প্রশ্নঃ 483
আসসালামু আলাইকুম, ১. ওমরার সম্পূর্ণ নিয়ম কি (সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত)? ২. প্রতি চক্কর (তাওয়াফ) এর সময় কি আলাদা আলাদা দোয়া পরতে হয়।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

উমরা আদায়ের নিয়মঃ ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ

بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.

বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন। খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ. বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُবিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বাاللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ

 [البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন। গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ

 [البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ.

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ

لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ – সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না। ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।

প্রশ্নঃ 61
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, হজ্জের গুরুত্ব, ফযীলত, করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হল। হজ্জের গুরুত্বঃ হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদির মত হজ্জও একটি ফরয আঈন ইবাদত। কেউ হজ্জের আবশ্যকীয়তা বা ফরয হওয়া অস্বীকার করলে তাকে অমুসলিম বলে গণ্য করা হবে। আর যদি কোন সক্ষম ব্যক্তি হজ্জ ফরয মানা সত্বেও তা আদায় না করেন তাহলে তিনি কঠিন পাপের মধ্যে নিপতিত হবেন এবং ঈমান নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا
বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আল্লাহর জন্য হজ্জ আদায় করা ফরয। (সূরা আলে ইমরান,আয়াত ৯৭) নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে মক্কা শরীফে যাওয়ার খরচ বহনের ক্ষমতা হলেই মুসলিম পুরষ ও মহিলার জন্য জীবনে একবার হজ্জ আদায় করা ফরয হয়ে যায়। এমনকি কারো যদি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি থাকে, যে জমির ফসল না হলেও তার বৎসর চলে যায়, অথবা অতিরিক্ত বাড়ি থাকে যে বাড়ি তার ব্যবহার করতে হয় না, বরং ভাড়া দেওয়া, অথচ যে বাড়ির ভাড়া না হলেও তার বছর চলে যায় তবে সেই জমি বা বাড়ি বিক্রয় করে হজ্জে যাওয়া ফরয হবে বলে অনেক ফকীহ সুস্পষ্টত উল্লেখ করেছেন। আর হজ্জ ফরয হওয়ার পরেও হজ্জ না করে মৃত্যুবরণ করাকে কোনো কোনো হাদীসে ইহূদী-খৃস্টান হয়ে মরা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ বলেন:
إِنَّ عَبْداً صَحَّحْتُ لَهُ جِسْمَهُ وَوَسَّعْتُ عَلَيْهِ فِيْ الْمَعِيْشَةِ تَمْضِيْ عَلَيْهِ خَمْسَةُ أَعْوَامٍ لاَ يَفِدُ إِلَيَّ لَمَحْرُوْمٌ
যে বান্দার শরীর আমি সুস্থ রেখেছি এবং তার জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা দান করেছি, এভাবে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সে আমার ঘরে আগমন করল না সে সুনিশ্চিত বঞ্চিত ও হতভাগা। (সহী ইবনে হিব্বান, তাহকীক, শুয়াইব আরনাউত, হাদীস নং ৩৭০৩) হাদীসটিকে শাইখ আলবানী সহী বলেছেন,সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ১১৬৬। যখন যে বয়সেই তা ফরয হোক তা যতশীঘ্র সম্ভব আদায় করতে হবে। প্রকৃত সত্য কথা হলো, হজ্জ যৌবনকাল ও শক্তির সময়ের ইবাদত। কোনো বৃদ্ধ মানুষ সঠিকভাবে হজ্জ আদায় করতে পারেন না। সম্পূর্ণ বৈরি আবহাওয়ায়, লক্ষলক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যে মাইলের পর মাইল হাঁটা, দৌঁড়ানো, কাঁকর নিক্ষেপ করা ইত্যাদি ইবাদতের সুন্নাত পর্যায় রক্ষা করা তো দূরের কথা ওয়াজিব পর্যায় ঠিক রাখাও বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য কষ্টকর। এজন্য যুবক বয়সের হজ্জই প্রকৃত ও পরিপূর্ণ হজ্জ হতে পারে। হজ্জের ফযীলতঃ কুরআন ও হাদীসে অগণিত স্থানে বারংবার হজ্জের গুরত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিবেদিতভাবে, সর্বপ্রকার পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা মুক্ত হয়ে হজ্জ আদায় করলো, সে নবজাতক শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফিরল। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৫২১)
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةُ
একবার উমরা আদায়ের পরে দ্বিতীয়বার যখন উমরা আদায় করা হয়, তখন দুই উমরার মধ্যবর্তী গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। আর পুণ্যময়-পরোপকারময় হজ্জের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত। (বুখারী,হাদীস নং ১৭৭৩,মুসলীম হাদীস নং ৩৩৫৫)
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ
তোমরা বারবার হজ্জ ও উমরা আদায় কর, কারণ কর্মকারের ও স্বর্ণকারের আগুন যেমন লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা মুছে ফেলে তেমনিভাবে এ দুই ইবাদত দারিদ্র্য ও পাপ মুছে ফেলে। আর পুণ্যময়-পরোপকারময় হজ্জের একমাত্র পুরস্কার হলো জান্নাত। হাদীসটি সহীহ (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৮১০) হজ্জের মাধ্যমে গোনাহ মাফ ছাড়াও রয়েছে অগণিত পুরস্কার ও সাওয়াব। হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, হাজী যখন বাড়ি থেকে বের হন তখন থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহ তাকে অগণিত নেকী প্রদান করেন, তার ব্যয়িত প্রতিটি টাকার বহুগুণ এমনকি ৭০০ গুণ সাওয়াব প্রদান করেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ হাজীর দুআ ও ইসতিগফার কবুল করেন এবং হাজী সাহেব যাদের জন্য দুআ করেন তাদেরকেও আল্লাহ ক্ষমা করেন। হজ্জের সবচেয়ে বরকতময় দিন হলো আরাফাতের দিন। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, আরাফাতের দিনে আল্লাহ যত মানুষকে ক্ষমা করেন অন্য কোনো দিনে অত মানুষকে ক্ষমা করেন না। আরাফাতের দিনে সমবেত হাজীদের জীবনের পাপগুলি তিনি ক্ষমা করেন। হাদীসটিকে শাইখ আলবানী হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস নং ১১১২) এছাড়াও হজ্জের মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিকতা প্রশস্ততা লাভ করে, বৃহৎ মানব গোষ্ঠীর সকল জাতি ও বর্ণের পাশাপাশি সমাবেশ ঘটে। পরস্পরে বর্ণগত, ভাষাগত, দেশগত, জাতিগত সকল হিংসা, বিদ্বেষ ও রেষারেষি হজ্জপালনকারীর হৃদয় থেকে মুছে যায়। সে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে বিশ্ব কত বড় আর সকল মুসলিম কত আপন। মুসলিম জাতির মধ্যে সাম্য, ঐক্য ও সহযোগিতার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। হজ্জে করণীয় এবং বর্জণীয় বিষয় সমূহঃ নির্ধারিত স্থান থেকে ইহরাম করে মক্কায় যেয়ে জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে মক্কার প্রান্তরে আরাফাত নামক স্থানে অবস্থান করা ও এর আগে ও পরে কাবাঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ করা, মিনায় অবস্থান করা, মিনার জামারাতগুলিতে কাঁকর নিক্ষেপ করা, হজ্জের কুরবানী বা হাদী জবাই করা, মাথা মুন্ডন করা, এ সকল কর্মের মধ্যে আল্লাহর যিকির করা, দোয়া করা ইত্যাদি হলো হজ্জের কার্যসমূহ। মূলত আরাফাতের দিন দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের মাঠে অবস্থান করে আল্লাহর যিকর ও দুআয় কাটানোই মূলত হজ্জ। যারা হজ্জে যাচ্ছেন তারা এ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। ফ্রী খাবার জোগাড় করতে, হাজীদের সাথে গল্প করতে বা খাওয়া দাওয়ার পিছনে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। যথাসাধ্য একাকী হয়ে জীবনের সকল পাপ স্মরণ করে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে পাপী মনে করে আল্লাহর কাছে দুআ ও ইসতিগফার করুন। ক্লান্তি লাগলে আল্লাহর যিকর করুন। রাসূলল্লাহ (সাঃ) বলেন:
خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সর্বশ্রেষ্ট দুআ হলো আরাফাতের দিনের দুআ। আর আমি এবং আমার পূর্বের নবীগণ সর্বশ্রেষ্ঠ যে কথাটি বলেছি তা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুআ আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। হাদীসটি হাসান(সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৮৫) অধিকাংশ সময় হাজি সাহেব কিছু ইবাদত বন্দেগি, তাওয়াফ, সায়ী, দোয়া-মুনাজাত করেন। এরপর মানবীয় প্রকৃতি অনুসারে সাথীদের সাথে গল্পগুজব ও কথাবার্তায় রত হয়ে পড়েন। আর গল্প ও কথাবার্তার অর্থই হলো অকারণ বাজে কথায় সময় নষ্ট করা অথবা অনুপস্থিত কোনো মানুষের আলোচনা-সমালোচনা করে গীবত ও অপবাদের মত ভয়ঙ্কর পাপে লিপ্ত হওয়া। গল্প-গুজবের মধ্যে এ দুটি ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই। কেউবা বাজারে ঘুরাঘুরি করে সময় নষ্ট করেন অথবা পাপময় দৃশ্য দেখে পাপ কামায় করেন। এস্ বিষয়, বিশেষ করে গীবত ও পরচর্চা করা বা শোনা, টেলিভিশনে বা বাস্তবে অসুন্দর, তাকওয়াবিহীন বা আপত্তিকর দৃশ্য দেখা বা গল্প করা বা আল্লাহর ভয় ও যিক্র মন থেকে সরিয়ে দেয় এমন গল্পগুজব থেকে যথাসাধ্য আত্মরক্ষা করুন। হজ্জের আহকামগুলি সুন্দরভাবে জেনে নেবেন। বিশেষ করে সুন্নাত জানার ও মানার জন্য প্রাণপনে চেষ্টা করবেন। অমুক কাজ জায়েয, ভাল ইত্যাদি বিষয় দেখবেন না। বরং দেখবেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণ কিভাবে কোন্ কাজটি করেছেন। তাঁরা যে কর্ম যেভাবে করেছেন হুবহু সেভাবে তা পালন করুন। তারা যা করেন নি তা বর্জন করুন। এভাবে হুবহু রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর তরীকা অনুসারে ইবাদত পালন করতে পারা সৌভাগ্যের লক্ষণ। এতেই রয়েছে কবুলিয়্যাতের নিশ্চয়তা। বিশেষত মদীনা শরীফে ইবাদত-বন্দেগী, যিয়ারাত, দুআ ইত্যাদি সকল বিষয়ে অবশ্যই হুবহু সুন্নাতের মধ্যে থাকবেন। বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য ইমাম সংকলিত হাদীসে রাসূলুল্লহ (সাঃ) বলেন:
الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلا عَدْلٌ
আইর থেকে অমুকস্থান পর্যন্ত মদীনার সমস্ত এলাকা মহাসম্মানিত হারাম বা পবিত্রস্থান। এ স্থানের মধ্যে যদি কেউ নব-উদ্ভাবিত কোনো কর্ম করে, অথবা কেনো নব-উদ্ভাবককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাহলে তার উপর আল্লাহর লানত, ফিরিশতাগণের লানত এবং সকল মানুষের লানত। তার থেকে তাওবা, কাফ্ফারা বা ফরয-নফল কোনো ইবাদতই কবুল করা হবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৩৬) বড় ভয়ঙ্কর কথা। এত কষ্ট করে সাওয়াব অর্জনের জন্য সেই পবিত্রভূমিতে যেয়ে অভিশাপ অর্জন করে আসা! আরো ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, হাজীরা মদীনায় গেলেই নব-উদ্ভাবিত কর্ম বেশি করেন। মসজিদে নববীতে, রাওযা শরীফে, বাকী গোরস্থানে, উহদের শহীদদের গোরস্থানে, খন্দকের মসজিদগুলিতে, কুবা ও অন্যান্য মসজিদে ও অন্যান্য স্থানে যিয়ারত, সালাত, দুআ ইত্যাদি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে হাজীগণ আবেগ ও অজ্ঞতার সংমিশ্রণে অনেকভাবে সুন্নাতের ব্যতিক্রম নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুসরণ করেন। সাবধান হোন! যিয়ারতের সময় রাসূলুল্লাহ ৎ কি বলতেন, কিভাবে দাঁড়াতেন, কি করতেন তা সহীহ হাদীসের আলোকে জেনে নিন। কুবা, খন্দক, কিবলাতাইন ও অন্যান্য স্থানে গমন ও সালাত আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীগণের হুবহু পদ্ধতি সহীহ হাদীসের আলোকে জেনে নিন। তাঁরা যা করেন নি তা বিষবৎ পরিত্যাগ করুন। সাওয়াব কামাতে গিয়ে অভিশাপ ও ধ্বংস কামাই করবেন না। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকভাবে হজ্জম পালন করার তাওফীক দান করুন । হজ্জের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদির বিস্তারিত আলোচনা এ পরিসরে সম্ভব নয়। তবে অধিকাংশ হাজী হজ্জের নিয়মকানুন মেনে চললেও হজ্জ বিষয়ক মূল নির্দেশনার বিষয়ে সচেতন হন না। মহান আল্লাহ হজ্জ প্রসঙ্গে বলেছেন:
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ
এখানে মহান আল্লাহ হজ্জের সময় বিশেষ করে তিনটি বিষয় বর্জন করতে নির্দেশ দিলেন: (১) অশালীনতা, (২) পাপকর্ম ও (৩) ঝগড়া-বিতর্ক। অধিকাংশ হাজীই এ তিন প্রকারের পাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। (১) পর্দাহীনতা: হজ্জে লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষ জমায়েত হন। অধিকাংশ হাজীই পর্দার বিধান জানেন না। বিশেষত মহিলাদের জামাতে ও মসজিদে সালাত আদায়ের সুন্নাত নির্দেশিত নিয়ম ও বিধান না জানার কারণে প্রায় সকল মহিলা হাজী এবং তাদের পুরুষ সাথী হজ্জের সফরে অনেক অনেক কবীরা গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়েন। যেমন পরিপূর্ণ পর্দা ছাড়া রাস্তায়, মসজিদে বা হজ্জের ময়দানে গমন, মসজিদে সালাত আদায় বা তাওয়াফের জন্য পুরুষদের ভীড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হওয়া, পুরুষদের মধ্যে সালাতের জামাতে দাড়িয়ে পড়া, মসজিদের পুরুষদের দৃষ্টির মধ্যেই পরিধেয় পোশাক ঠিক করার জন্য নিজের ফরয সতর অনাবৃত করা, পুরুষদের মধ্যে ওযূ করা... ইত্যাদি। এছাড়া হজ্জের সময় হোটেল বা বাসায় এক কক্ষে কয়েকজন মহিলা অবস্থান করেন। স্বভাবতই এক মহিলার মাহরাম অন্য মহিলার মাহরাম নন। কিন্তু মহিলারা অনেক সময় গাইর মাহরাম পুরুষদের সামনে পূর্ণ পর্দা রক্ষা করেন না। অন্যের মাহরামের সামনে নিজেকে পূর্ণ আবৃত করেন না। ফলে একজন মহিলা বা পুরুষ হজ্জের চল্লিশ দিনের সফরে পর্দাহীনতার এত পাপ করেন যা হয়ত তিনি দেশের চল্লিশ বছরেও করেন নি। হজ্জে আগত অধিকাংশ মানুষই এরূপ। ফলে অনেকে আবার মনে করতে থাকেন হজ্জের সময় হয়ত পর্দা তেমন লাগে না! মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুন। (২) পাপকর্ম: হজ্জের সময় সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে, লক্ষলক্ষ মানুষের ভিড়ে হাজী সাহেব প্রায়ই বিরক্তি, রাগারাগি, গীবত, অন্যান্য হাদীসের সমালোচনা ইত্যাদি পাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। (৩) ঝগড়-বিতর্কঃ হজ্জের অন্যতম কর্ম ঝগড়া-বিতর্ক। হজ্জের সফরের ৩৫/৪০ দিনে হাজী সাহেব প্রায় ৪০ বৎসরের ঝগড়া-বিতর্ক করেন। দেশে সাংসারিক কাজে অতি ব্যস্ত থাকার কারণে বিতর্কের সময় পাওয়া যায় না। হজ্জের সময় অনেক অলস সময় পাওয়া যায়, ফলে বিতর্ক-ঝগড়া খুবই জমে। এছাড়া সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের মধ্যে ভাল মানুষেরাও আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিমান বন্দরে, বিমানের মধ্যে, জিদ্দা হজ্জ টার্মিনালে, মক্কার আবাসস্থলে, মসজিদে হারামে, মিনা-মুযদালিফা-আরাফায়, মদীনায় ... সকল স্থানেই হাজী সাহেবগণ অতি সাধারণ বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিতর্কে জাড়িয়ে পড়েন। এগুলো সবই হজ্জের মূল সাওয়াব নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে হজ্জের সময় বিভিন্ন মাযহাব ও মতের মুসলিম একত্রিত হন। এজন্য ধর্মীয় মাসআলা নিয়ে ভয়ঙ্কর সব বিতর্ক ও বিদ্বেষ শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সর্বদা নিজের গোনাহ এবং মহান আল্লাহর সানিধ্যের কথা মনে করতে হবে। অন্যকে নিয়ে ভাবনা ত্যাগ করতে হবে। নিজের নিকট গ্রহণযোগ্য মাসআলা অনুসরণের পাশাপাশি অন্যদের মত নিয়ে বিতর্ক বা নিজের মতের প্রাধান্য প্রমাণের চেষ্টা বর্জন করতে হবে। আমরা সকলেই হজ্জ মাবরূর পরিভাষা ব্যবহার করি। কিন্তু হজ্জ মাবরূর কী? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: إطعام الطعام وطيب الكلام/ لين الكلام খাদ্য খাওয়ানো এবং সুন্দর-বিন কথা বলাই হলো হজ্জের র্বির বা হজ্জে মাবরূর। (আল মুজামুল আওসাত হাদীস নং ১৫২৪, হাইছামী হাদীসের সনদটিকে সহীহ বলেছেন, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ,হাদীস নং ৫২৬৬) পানাহার নিয়ে সকল প্রকারের বিতর্ক পরিহার করে অন্যকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। পুরো হজ্জের সফরে যদি কারো সাথে কঠোর বা কর্কশ কথা না বলে সকল অবস্থায় সকলের সাথে সুন্দর, বিন্ম্র ও আন্তরীকতাময় কথা বলতে পারি তবে আমরা মাবরূর হজ্জ অর্জন করার আশা করতে পারি।
প্রশ্নঃ 471
আসসালামু আলাইকুম, ১. ওমরার সম্পূর্ণ নিয়ম কি ( সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত)? ২. প্রতি চক্কর (তাওয়াফ) এর সময় কি আলাদা আলাদা দোয়া পরতে হয়।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

উমরা আদায়ের নিয়মঃ

ক) মক্কায় প্রবেশের পর মিকাত থেকে ইহরাম করে মক্কা পৌঁছানর পরে গোছল করা মুসাহাব, কারণ রাসুলুল্লাহ (সঃ) তা করেছিলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করিয়ে বলবেনঃ

بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم، من الشيطان الرجيم، اللهم افتح لى أبواب رحمتك.

বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহর উপর দরুদ ও সালাম। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত চেহারা, তাঁর অনাদি ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের – কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন।

খ) তাওয়াফের নিয়মঃ – কাবাঘরের কাছে পৌঁছে উমরা পালনকারী তালবিয়া (লাব্বাইকা…) পাঠ বন্ধ করবেন। এরপর হাজরে আসওয়াদের (কাল পাথরের) কাছে পৌঁছে সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার বলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু দিবেন। ভীড় থাকলে ঠেলাঠেলি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবেনা। বরং সম্ভব হলে শুধুমাত্র হাত দিয়ে বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং হাতে বা লাঠিতে চুমু দিবেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে দুর থেকে হাত দিয়ে اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে ইশারা করবেন, ঈশারা করার পর হাতে চুমা খাবেন না। – এরপর কাবা শরীফকে বামে রেখে তাওয়াফ শুারু করবেন। – রুকনে ইয়েমানী বা কাবাঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পৌঁছানর পর সম্ভব হলে بِسْمِ اللهِ وَاللهِ أَكْبَرُ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহ আকবার বা اللهُ أَكْبَرُ আল্লাহ আকবার বলে রুকনে ইয়েমানীকে স্পর্শ করবেন। তাকবীল একবারই বলতে হবে। ভীড়ের কারণে রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক ভাবে তাওয়াফ করে এগিয়ে যাবেন। হাত দিয়ে রুকনে ইয়েমানীর দিকে ঈশারা করার দরকার নেই, হাদীসে তা বলা হয়নি। – তাওয়াফ করার সময়ে কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই। কাজেই তওয়াফ কারা কালীন কুরআন তিলাওয়াত, বা তাসবীহ-তাহলীল বা জিকির করতেন পারেন, বা যে কোন ভাষায় যে কোন দোয়া করতে পারেন। শুধুমাত্র প্রতি চক্করের শেষে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর শেখান নীচের দোয়া বলবেনঃ

[البقرة ২০১] رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া ক্কিনা আযাবান নার। হে আমাদের প্রভু, পামাদেরকে দুনিয়ার (পার্থিব) জীবনে কল্যাণ ও মঙ্গল দান কারন, পরকালের জীবনকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষ করুন। এই তাওয়াফের সময় কেবল পুরুষদের জন্য নিচের দুটি বিষয় সুন্নাতঃ ১) ইদতিবা অর্থাৎ গায়ে জড়ান চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচে রেখে দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপরে রাখা। এতে ডান কাঁধ খোলা থাকবে। সাত চক্কর তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে করা সুন্নাত। তবে তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময়ে ইদতিবা করবেন না, স্বাভাকিব ভাবে দুই কাঁধ ঢেকে চাদর পরবেন। বিশেষতঃ নামাজের সময়ে অবশ্যই দুই কাঁধ ঢেকে রাখবেন। ২) রমল, অর্থাৎ দৌড়ানর ভঙ্গিতে ছোট পদক্ষেপে তাওয়াফ করা। সাত চক্করের মধ্যে শুধু প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে। বাকী ৪ চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। – ৭ চক্কর তাওয়াফের পর সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে, অথবা হারামের যে কোন স্থানে ২ রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন ও দ্বিতীয় রাকাতে কুল হুয়াল্লাহ আহাদ সরা পড়া সুন্নাত। – নামাযের পর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নাত। এরপর সায়ী করার জন্য সাফার দিকে যাবেন।

গ) সায়ী করার নিয়মঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে করণীয়ঃ – সম্ভব হলে সাফা পাহাড়ের উপরে ওঠা উত্তম, অসুবিধা হলে এর পাদদেশে দাঁড়াবেন এবং নিচের আয়াতটি পড়বেনঃ

[البقرة ১৫৮] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ, ফামান হাজ্জাল বাইতা আওইতামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম। নিশ্চয় সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমুহের অন্তর্ভুক্ত, কাজেই যে ব্যক্তি হজ্জ বা উমরা করবে তাঁর জন্য এদুয়ের মাঝে সায়ী করা অনুচিত হবে না। আর যদি কেউ বেশী করে ভাল কাজ করে তাহলে আল্লাহ কৃতজ্ঞ ও জ্ঞানী। – এরপর মুস্তাহাব হল কিবলামুখি হয়ে বলবেঃ الحَمْدُ لِلّهِ اللهُ أَكْبَرُ আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার। এরপর বলবেঃ

لَاإلَهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ. لَا إِلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الًمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ. لَا إلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু, অহুয়া আলা কুাল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। অর্থাৎঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ, নেই তিনি একক, তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, মৃত্যু দেন এবং তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন,তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই সকল বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছেন। এরপর হাত তুলে ইচ্ছামত আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন।

সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর সময়ে করণীয়ঃ সাফা থেকে নেমে হেঁটে মারওয়ার দিকে যেতে হবে সবুজ চিহ্ণের কাছে এলে পুরুষেরা দৌড়াবেন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্ণ পর্যন্ত। এরপর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে উপরে বর্ণিত তাকবীর, তাহলীল ও দোয়ার পর সেখান থেকে সাফার দিকে এগোতে হবে। মহিলারা সর্বদা স্বভাবিকভাবে হাঁটবেন, তাদের জন্য দৌড়ান সুন্নাত নয়। – সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক বার সায়ী হয়, আবার মারওয়া থেকে সাফা গেলে আরেক সায়ী হয়। এভাবে ৭ বার সায়ী করতে হবে। এতে সাফা থেকে শুরু হবে এবং মাওয়াতে গিয়ে শেষ হবে। – সায়ী করার সময় যত বেশী সম্ভব দোয়া ও যিকর করা উচিত। এছাড়া ওজু অবস্থায় সায়ী করা উচিত। তবে ওজু ছাড়াও সায়ী জায়েজ হবে, কিন্তু তাওয়াফ ওজু ছাড়া হবেই না।

ঘ) সায়ীর পরে করণীয়ঃ ৭ বার সায়ী করার পর পুরুষেরা মাথা টাক করাবেন, অথবা চুল ছাঁটাবেন। পুরুষদের জন্য টাক করা উত্তম। তামাত্তু কারীর জন্য ছাঁটানো উত্তম, তিনি হজ্জের পরেটাক করবেন। টাক করা বা ছাঁটনো উভয় ক্ষেত্রেই পুরো মাথার চুল কাটতে বা ছাঁটতে হবে। আংশিক ছাঁটানো বা কাটানো জায়েজ নয়। মেয়েরা সর্বাবস্থায় নখ পরিমাণ চুল ছাঁটবেন।


কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD