প্রশ্নঃ 2043
মাসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা হারাম, এ হাদীস সম্পর্কে জানতে চাই।
18 Jan 2026
মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। সুতরাং এখানে অপ্রয়োজনীও কথা না বলা উচিত। তবেস যদি কেউ প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বলে, তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়, তাহলে মস্যা নেই। হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ، وَلَا الْقَذَرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ অর্থাৎ মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৮৭। তবে মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা হারাম এই মর্মে কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই।
প্রশ্নঃ 1922
ইমাম তিরমিযী সুনান আত তিরমিযীতে অনেক হাদিসের শেষে বলেছেন,হাদিসটি হাসান,সহীহ ও গরীব। এর ব্যাখ্যা কী? একটা হাদীস একই সাথে হাসান,সহীহ ও গরীব হয় কীভাবে?
16 Jan 2026
আপনি এমন পেলে মনে করবেন হাদীসটির সনদে কোন এক পর্যায়ে বর্ণনাকারী একজন। তবে হাদীসটির মান ভাল। আমল ও দলীলযোগ্য। হাদীসিট সহীহ।
প্রশ্নঃ 1917
জইফ হাদিস কি কি খেত্রে প্রয়োগ করা জাবে। মুহাদ্দিস গনের মতামত জানাবেন। কে কি মতামত পেশ করেছন হাওলা সহ। কন কিতাব আসে কি এগুলার জন্নে বাংলায়।
16 Jan 2026
শুধুমাত্র ফাজায়েলের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে জইফ হাদীস দ্বারা আমল করা যায় । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীসহ বহু মুহাদ্দিস এই মত পোষন করেছেন। শর্তগুলো হলো: ১। হাদীসটি অতিমাত্রায় দুর্বল হবে না। ২।সহীহ হাদীসে উক্ত হাদীসের একটি ভিত্তি থাকতে হবে। যেমন, জুমুআর নামাযের উৎসাহ দিয়ে অনেক সহীহ হাদীস আছে। কোন দুর্বল হাদীসে জুমুআর নামাযে উৎসাহমূলক কোন কিছু বললে সেই হাদীটিকে গ্রহন করা যাবে। কারণ সহীহ হাদীসে জুমুআর নামাযের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ৩। কথাটি বা কাজটিকে রাসূল সা. করেছেন এমন বিশ্বাস করা যাবে না। প্রায় সকল প্রসিদ্ধ উলুমুল হাদীসের কিতাবে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলায় এই ধরণের কোন বই আছে বলে আমার জানা নেই।
প্রশ্নঃ 1896
ইমাম তিরমিযী সুনান আত তিরমিযীতে অনেক হাদিসের শেষে বলেছেন,হাদিসটি হাসান,সহীহ ও গরীব। এর ব্যাখ্যা কী? একটা হাদীস একই সাথে হাসান,সহীহ ও গরীব হয় কীভাবে?
14 Jan 2026
আপনি এমন পেলে মনে করবেন হাদীসটির সনদে কোন এক পর্যায়ে বর্ণনাকারী একজন। তবে হাদীসটির মান ভাল। আমল ও দলীলযোগ্য। হাদীসিট সহীহ।
প্রশ্নঃ 1892
জইফ হাদিস কি কি খেত্রে প্রয়োগ করা জাবে। মুহাদ্দিস গনের মতামত জানাবেন। কে কি মতামত পেশ করেছন হাওলা সহ। কন কিতাব আসে কি এগুলার জন্নে বাংলায়।
14 Jan 2026
শুধুমাত্র ফাজায়েলের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে জইফ হাদীস দ্বারা আমল করা যায় । হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীসহ বহু মুহাদ্দিস এই মত পোষন করেছেন। শর্তগুলো হলো: ১। হাদীসটি অতিমাত্রায় দুর্বল হবে না। ২।সহীহ হাদীসে উক্ত হাদীসের একটি ভিত্তি থাকতে হবে। যেমন, জুমুআর নামাযের উৎসাহ দিয়ে অনেক সহীহ হাদীস আছে। কোন দুর্বল হাদীসে জুমুআর নামাযে উৎসাহমূলক কোন কিছু বললে সেই হাদীটিকে গ্রহন করা যাবে। কারণ সহীহ হাদীসে জুমুআর নামাযের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। ৩। কথাটি বা কাজটিকে রাসূল সা. করেছেন এমন বিশ্বাস করা যাবে না। প্রায় সকল প্রসিদ্ধ উলুমুল হাদীসের কিতাবে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলায় এই ধরণের কোন বই আছে বলে আমার জানা নেই।
প্রশ্নঃ 1875
হাদিস সহি হবার জন্নে সনদ সহি হয়া বাদে আর কি কি ভাবে হাদিস সহি হই। সাহাবি, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এনাদের জদি কন আমল পাওয়া জাই জার হাদিস সনদ গতভাবে সহি নই। তাহলে কি সেতা সহি হয়ে জাই। আবার কুরান হাদিস থেকে বেশি বেশি নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেতার সনদি জদি না থাক্লে, তবু সেতা সহি কি না। বিস্তারিত বলবেন দয়া করে। কন কিতাব থাক্লে বাংলাই বলবেন।
14 Jan 2026
সাধারণ মানুষের এই আলোচনাতে যাওয়া কতটা ফলদায়ক সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। আপনার কোন হাদীসের সহীহ-যয়ীফ জানার ইচ্ছা থাকলে একজন ভাল আলেমের কাছ থেকে জানতে পারবেন। হাদীসে সহীহ হওয়ার জন্য শুধু সনদই যথেষ্ট নয়। আরো শর্ত লাগে যেমন, ঐ হাদীসের বক্তব্য কোন প্রসিদ্ধ হাদীসের বিপরীত হতে পারবে না।বাংলায় পরিপূর্ণ কোন কিতাব আছে কি না জানা নেই। তবে শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. লিখিত হাদীসের নামে জালিয়াতি বইয়ের ভূমিকাতে তিনি কিছুটা আলোচনা করেছেন সেটা দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ 1651
assalamualaykum owa ramatullah…..Mobile j tk dhar new hoi taa ki shud hisebe gonno hobe? jehetu 10 tk nile 12 tk dite hoi.
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১০ টাকা নিলে তো ১০ টাকায় কেটে নেয়। ১২ টাকা তো নেয় না। যদি নেয় তবুও সুদ হবে না বরং অন্যান্য সেবা বাবদ ২ টাকা নিয়েছে বলে গণ্য হবে।
প্রশ্নঃ 1541
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম মাসুদ খান। আমার বয়স ১৯। আমি বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে পড়ি। আমার কয়েকটি প্রশ্ন ছিল: ১. আমার বয়স ১৯ এই বয়সে দাড়ি কি আমাকে রাখতে হবেই? না কি এখন না-রাখলেও হবে। যদি না রাখলে হয় তাহলে কিভাবে কাটতে হবে? ব্লেড দিয়ে কাটবো না মেশিন দিয়ে কাটবো। ২. আমি ছোট বেলা থেকেই ইসলামিক আইনগুলো মানতে চেস্টা করি এমন কি আমি ১বছর যাবত সব ধরনের গান শুনা থেকে বিরত আছি। তো আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটা সমস্যা দিয়েছেন সেটা হলো আমি ঘন ঘন বিছানায় পস্রাব করে ফেলি যেটা আমার জীবনকে দুর্বিষহ করে দিচ্ছে। কোন নামাজ কালাম পড়তে পারি না আমার মনে হয় আমার জন্য আমার ঘরটাও নাপাক হয়ে যাচ্ছে। এখন আমার করণীয় কি? এভাবেই কি জীবনটা কাটাবো?
৩.আমি মনে হয় হানাফি কারন সবাই বলে। তো আমি সব আলেমদের বক্তব্য শুনে দেখলাম বুকে হাত বেধে নামাজ পড়া বেশি প্রমানিত। আমি কি হানাফি মাযহাবের পাশাপাশি বুকে হাত বেধে নামাজ পড়তে পারবো? কারন আমাকে কয়েকজন বললো, যেকোনো একটি মাযহাব নাকি মানতে হবে, তা না হলে না কি নামাজ হবে না।
07 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দাঁড়ি সকল মুসলিমদেরকে রাখতে হবে। আপনাকেও রাখতে হবে। দাঁড়ি না রাখার কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. দাঁড়ি রাখতে আদেশ দিয়েছেন, দাঁড়ি নিজে রেখেছেন, দাঁড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا حَجَّ ، أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ.অর্থ: নাফে ইবনে উমার রা. থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচারণ করো, তোমরা দাঁড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ কে কটে ফেলো। (নাফে বলেন,) আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার রা. যখন হজ্ব কিংবা উমরা করতে যেতেন তখন একমুষ্টির উপরের দাঁড়ি কেটে ফেলতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২। ২। আপনি একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। পাশাপাশী রোগমুক্তির দোআগুলো পড়তে থাকুন। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আল্লাহর কাছে দুআ করি আল্লাহ আপনাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করুন। ৩। যে একটি মাজহাবে মেনে চলায় ভালো। তবে বুকে হাত বেঁধে নামায পড়তে কোন সমস্যা নেই। এটা মাজহাবের বড় কোন বিষয় নয়।
প্রশ্নঃ 1395
নিচের হাদিস টির সত্যতার ব্যপারে চাইঃ একদা রাসুলে পাক ( সা:)
মৌমাছিকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি ভাবে মধু তৈরী কর?
মৌমাছি বিনয়ের স্বরে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা:) আমি বাগানে গিয়ে হাজার রকমের ফুলের রস চুষে নেই। পেটের ভিতর একত্রিত ও মিশ্রিত করে বের করলে তা মধুতে পরিণত হয়। রাসুলে করীম (সা:) বললেন, অনেক ফুলের রস তো টক ও তিক্ত। কিন্তু সব মধু মিষ্টি হয় কেন?
মৌমাছি উত্তরে বললো, গুপত চুঁ খানীমে বর আহমদ দরুদ,
মী শুওয়াদ শীরীনে ওয়া তালখী রারে বৌদ। __অর্থ্যাৎ- আমাকে আল্লাহ তায়ালা কুদরতী ভাবে শিক্ষা দিয়েছে যে, বাগান থেকে ফুলের রস নিয়ে বাসায় আসার সময় যেন আপনার উপর দরুদ শরীফ পাঠ করি। আর ঐ দরুদ শরীফের বরকতেই মধু মিষ্টি হয় এবং এ মধু সকল রোগের শেফা হয়। __সুবহানাল্লাহ !!!!(মসনবী_শরীফ)
05 Jan 2026
দেখুন, মসনবী শরীফ কোন হাদীসের কিতাব নয়। সুতরাং মসনবীতে থাকা না থাকার কোন অর্থ নেই। এই ধরণের কোন হাদীস আছে বলে মনে হয় না। তারপরও যদি কেউ আরবী পাঠ দেন তাহলে খঁজে দেখা যেতে পারে।
প্রশ্নঃ 1378
আসসালামুয়ালাইকুম। এক পীর সাহেবের অনুসারী তার বয়ানে জিকির করতে করতে লাফা লাফি করার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে একটি হাদিস পেশ করলেন, যার সারমর্ম এই যে রাসুল্লাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশার (রা) ঘরে ছিলেন, কিন্তু যখন আযান হল তখন তার চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল, তিনি কাওকে চিনতে পারছিলেন না, এমনকি আয়েশাকেও না, তিনি বললেন আয়েশা কে? যখন বলা হল, বিনতু আবি বকর, তিনি (সঃ) বললেন আবু বকর কে? যখন বলা হল, বিন আবু কুহাফা, তিনি বললেন আবু কুহাফা কে? … ইত্যাদি ইত্যাদি। ভিডিও লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=oy84l5SQ23k এখানে উল্লেখ্য যে আমি একটি হাদিস পরেছিলাম যেখানে আযান শুনার পর রাসুল্লাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল কাওকে না চিনার কথা ছিল না। এ ব্যপারে সহিহ হাদিসটি জানতে চাই, এবং লিঙ্ক এর ভিডিওটিতে যে হাদিস বয়ান করা হয়েছে তার সত্যতা জানতে চাই, যাযাকুমুল্লাহ।
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ. বলেন,
كان النبي صلى الله عليه و سلم إذا سمع الأذان كأنه لا يعرف أحدا من الناس নবী সা. যখন আযান শুনতেন তখন তার এমন অবস্থা হত যেন তিনি কাউকে চিনতেন না। সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫।হাদীসটি মুরসাল, অর্থাৎ তাবেয়ী সরাসরি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীর নাম উল্লেখ নেই। এছাড়াও হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী যয়ীফ। হযরত আয়েশা রা. থেকেও এমন হাদীস বর্ণিত আছে। তবে সেই হাদীসটিতেও সমস্যা আছে। বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাতুদ যয়ীফাহ, হাদীস নং ৫৯৬৫। যাই হোক হাদীসে শুধু এতটুকুই বর্ণিত আছে। এর বাইরে যা যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে উক্ত বক্ত এটা বানান নি বলে মনে হয়। কারণ অনেক আগে থেকেই বহু বক্তা সনদ বিহীন এই জাল গল্পটি প্রচার করেন। এটা এমনই এক বানোয়াট গল্প যে, কোন জাল বানোয়াট হাদীসের কিতাবেও নেই। উক্ত যয়ীফ বা মুনকার হাদীসে যেটা আসে সেটা হলো আযান শুনলে বা নামাযের সময় হলে এমন অবস্থা হত যে রাসূল যেন কাউকে চিনতেন না। হাদীসে যেন শব্দটি উল্লেখ আছে। যেন চিনতেন না আর চিনতেন না কিন্তু এক নয়। আরেকটি বিষয় হাদীসটি যদি সত্য হয় তাহলে আযান শুনে তিনি কাউকে চিনতেন না। এমন নয় যে, কোন আউলিয়ার গল্প শুনে চিনতেন না। আরো একটি বিষয়, হাদীসে শুধু ঐ না চেনা পর্যন্তই, লাফালাফি-ঝাপাঝা িপ তো অনেক দূরের কথা। ইসলামকে ও রাসূলকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন সাহাবীরা, আমাদের এমন ভাবা উচিত নয় যে, আমরা তাদের চেয়েও এশকের সাগরে বেশী হাবুডুবু খাচ্ছি। আশা করি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্নঃ 1341
আসসালামু আলাইকুম… পরিচ্ছদঃ ৩২. মুখমণ্ডলে মারার নিষেধাজ্ঞা
৬৪১৭। নাসর ইবনু আলী আল যাহযামী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর ইবনু হাতিম বর্ণিত হাদীসেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ভাইকে প্রহার করে সে যেন তার চেহারা আঘাত করা থেকে বেঁচে থাকে। কেননা, আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম) কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। সহি মুসলিমের এই হাদিসটির ব্যাখ্যা কি? এখানে নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করা বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
05 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত কথাটির ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম নববী রহ. বলেন, وَأَنَّ مِنْ الْعُلَمَاء مَنْ يُمْسِك عَنْ تَأْوِيلهَا ، وَيَقُول : نُؤْمِن بِأَنَّهَا حَقٌّ ، وَأَنَّ ظَاهِرهَا غَيْر مُرَاد ، وَلَهَا مَعْنَى يَلِيق بِهَا ، وَهَذَا مَذْهَب جُمْهُور السَّلَف ، وَهُوَ أَحْوَط وَأَسْلَم একদল আলেম উক্ত কথাটির কোন ধরণের ব্যাখা থেকে বিরত থেকে বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি এটা সত্য, তবে বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়। নিশ্চয় এর একটি উপযোগী অর্থ আছে। এটাই অধিকাংশ সালাফদের (পূর্ববর্তী আলেমগণের ) মতামত। এটাই অধিকতর নিরাপদ ও সতর্কতাপূর্ণ কথা।
যেসব আলেম কথাটির ব্যাখা করেন তাদের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ااخْتَلَفَ الْعُلَمَاء فِي تَأْوِيله فَقَالَتْ طَائِفَة : الضَّمِير فِي ( صُورَته ) عَائِد عَلَى الْأَخ الْمَضْرُوب ، وَهَذَا ظَاهِر رِوَايَة مُسْلِم ، وَقَالَتْ طَائِفَة : يَعُود إِلَى آدَم ، وَفِيهِ ضَعْف ، وَقَالَتْ طَائِفَة : يَعُود إِلَى اللَّه تَعَالَى ، وَيَكُون الْمُرَاد إِضَافَة تَشْرِيف وَاخْتِصَاص كَقَوْلِهِ تَعَالَى : { نَاقَة اللَّه } وَكَمَا يُقَال فِي الْكَعْبَة : بَيْت اللَّه وَنَظَائِره . وَاَللَّه أَعْلَم .
আলেমগণ কথাটির ব্যখ্যা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন, সর্বনামটি প্রহৃত ভাইয়ের দিকে ফিরবে (অর্থাৎ প্রহৃত ব্যক্তিকে প্রহারকারীর আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। ) সহীহ মুসলিমের বাহ্যিক বর্ণনা দ্বারা এটাই বুঝা যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, আদমের আ. দিকে ফিরবে। তবে এটা দূর্বল মত। অন্য আরেকদল আলেম বলেছেন, সম্মানসূচকভাবে আল্লাহর দিকে সর্বনামটি ফেরানো হয়েছে। যেমন কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আল্লাহর উটনী । কাবা ঘরের ক্ষেত্রে বলা হয় বাইতুল্লাহ তথা আল্লাহর ঘর। আশা করি আপনি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্নঃ 1200
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্ন একদিন নবী মোস্তফা রাস্তা দিয়ে হাইটা যাই, হরিণ একটা বাধা ছিল গাছেরই তলায় বলে কোন হাদীছ অথবা কোরআন এর আয়াত আছে কি না।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআনে নেই। হাদীসে আছে বলেও আমাদের জানা নেই।
প্রশ্নঃ 1094
নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোর, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।
04 Jan 2026
নিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোনিচের হাদিসটি কি সহি? রেফারেন্স সহ বিস্তারিত জানতে চাই। তিন শ্রেনীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম। ১। যারা নেশাদার দ্রব্য পান করে, যেমন গাঁজাখোর, মদখোর, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।র, জুয়ারিখোর, ফেন্সিডিলখোর,বিড়িখোর,হিরোইন খোর,মদখোর, আলাখোর,জর্দাখোর ইত্যাদি। ২। যারা পিতামাতার অবাদ্য তারা জান্নাতে যাবে না। ৩। দাউস, অর্থাত যে ব্যাক্তি তার পরিবারে পর্দ চালু রাখেনি।
প্রশ্নঃ 1009
কোন প্রকাশনীর হাদিসের বাংলা অনুবাদ সবচেয়ে ভাল, লেখক কে, প্রকাশ স্থান, জানাবেন। গবেষণারর জন্য কোরাআনের বাংলা বা ইংরেজি কোন অনুবাদ ভাল
03 Jan 2026
আমরা আপনা জন্য দুআ করি আল্লাহ আপনাকে ইসলামের জন্য কবুল করুন। আপনি নিজের ব্যক্তিগত আমলের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত কুরআন এবং হাদীসের অনুবাদ পড়তে পারেন। শায়খ তকী উসমানী কুরআনের ইংরেজী অনুবাদ করেছেন, সেটা পড়তে পারেন। তবে এসব পড়বেন নিজের আমলে জন্য। গবেষনার জন্য নয়। গবেষনার জন্য অবশ্যই আপনাকে আরবী ভাষার গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আরবী ভাষা না জেনে অনুবাদ নির্ভর গবেষনা করলে আপনি সফল হবেন না, নিজেও বিভ্রান্তিতে পড়বেন আর অন্যদেরকেও ফেলবেন। আরো বিস্তারিত জানার জন্য ভাল কোন আলেমের সাথে যোগাযোগ করুন।
প্রশ্নঃ 929
Assalamualaikum. Is there any reference in Quran or Hadith that the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) is Habib (friend) of Allaah? Please provide evidence for what you say. Thanks, Md. Raquib Azam, email: raquib2@yahoo.com
03 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি, ভাই, হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. হাবিবুল্লাহ এ কথা উল্লেখ আছে। রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই বলেছেন, আমি হাবিবুল্লাহ। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৬। তবে হাদীসটি যয়ীফ। হাদীসটির পাঠ- حدثنا علي بن نصر بن علي حدثنا عبيد الله بن عبد المجيد حدثنا أبي صالح عن سلمة بن وهرام عن عكرمة عن ابن عباس قال : جلس أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم ينتظرونه قال فخرج حتى إذا سمعهم يتذاكرون فسمع حديثهم فقال بعضهم عجبا أن الله عز و جل اتخذ من خلقه خليلا اتخذ إبراهيم خليلا وقال آخر ماذا بأعجب من كلام موسى كلمه تكليما وقال آخر فعيسى كلمة الله وروحه وقال آخر آدم اصطفاه الله فخرج عليهم فسلم وقال قد سمعت كلامكم وعجبكم أن إبراهيم خليل الله وهو كذلك وموسى نجي الله وهو كذلك وعيسى روح الله وكلمته وهو كذلك وآدم اصطفاه الله وهو كذلك ألا وأنا حبيب الله ولا فخر وأنا حامل لواء الحمد يوم القيامة ولا فخر وأنا أول شافع وأول مشفع يوم القيامة ولا فخر وأنا أول من يحرك حلق الجنة فيفتح الله لي فيدخلنيها ومعي فقراء المؤمنين ولا فخر وأنا أكرم الأولين والآخرين ولا فخر قال أبو عيسى هذا حديث غريب قال الشيخ الألباني : ضعيف তবে সহীহ হাদীসে তাবেয়ী মাসরুক রাহ. রাসূলুল্লাহ সা. কে হাবিবুল্লাহ বলেছেন। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৬০৮৬। হাদীসটির মূল পাঠ: – حدثنا عبد الله حدثني أبى ثنا إسحاق بن يوسف قال ثنا مسعر عن عمرو بن مرة عن أبى الضحى عن مسروق قال حدثتني الصديقة بنت الصديق حبيبة حبيب الله المبرأة : ان رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يصلي ركعتين بعد العصر فلم أكذبها تعليق شعيب الأرنؤوط : حديث صحيح হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন।
প্রশ্নঃ 926
আসসালামুয়ালাইকুম।
১.আমার জানা মতে বুখারি শারীফ -এ হাদিসের সংখ্যা ৭৩৩৯৭ . কিন্তু আমি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশনীতে দেখলাম ৭০৫৩ টি, আসলে কোনটি সঠিক।
২. আমি আরবী ব্যাকরণ বুঝার জন্য কি করতে পারি?
02 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম বুখারী রহ. হাদীসে কোন নাম্বার দিয়ে যান নাই। পরবর্তীতে অনেকেই নাম্বার দিয়েছে। আর একেকজনের নাম্বার একেকে রকম হয়েছে। সুতরাং সবগুলই সঠিক বলে ধরে নিতে হব। তবে মনে রাখবেন হাদীস কিন্তু সব কিতাবে সমানই আছে। ফাতহুল বারী অনুযায়ী হাদীস সংখ্যা ৭৫৬৩। আরবী ভাষা না জানলে এবং ইলমে হাদীস সম্পর্কে না জানলে এই বিষয়টি বুঝা কঠিন। আরো বিস্তারিত জানতে ফোন করুন: 01734717299। কোন শিক্ষক ব্যাতিত আরবী ব্যাকরণের বই দিয়ে আপনি আরবী শিখতে পারবেন না। একজন শিক্ষকের শরনাপন্ন হন এবং তার কাছে পরামর্শ নিন আপনি কোন বই কিনবেন।
প্রশ্নঃ 833
মোহতারাম, জেনেছি, যে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরদেশে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না।
১) শহিদ
২) সীমান্তরক্ষী সৈনিক
৩) যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন
৪) আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক
৫) অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে
৬) পাগল ও বোকা লোক
৭) যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে
৮) যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে। উল্লিখিত বর্ণনা সঠিক কিনা?
02 Jan 2026
কিছু মানুষ আছে যারা কবরের আজাব ও পরীক্ষা থেকে মুক্ত থাকবে বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। কবরে সওয়াল জওয়াবের মুখোমুখী হবে না, হাদীসে এমন স্পষ্ট নেই। তারা হলেন, ১. আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারাদার। ২. শহীদ। ৩. যিনি নিয়মিত সূরা মূলক তেলাওয়াত করেন। ৪. পেটের অসুখে যিনি মারা যান। ৫.জুমুআর দিনে বা রাত্রে মারা যাওয়া ব্যক্তি । হাদীসগুলো গ্রহনযোগ্য। পাগলও মাপ পাবে। অপ্রাপ্ত বয়স্তক শিশুর ব্যপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ বলেন, কবরে প্রশ্ন করা হবে, আবার কেউ বলেন, হবে না।
প্রশ্নঃ 816
শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার লেকচার-এ বলেছিলেন যে- রাসুল (স) আমাদেরকে পাঁচটি পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।
১। সমাজে যখন অশ্লিলতা বেরে যাবে, তখন আল্লাহ তাদের কে গজব হিসেবে নতুন রোগ দিবেন। (হাদিস টা আমার মনে নেই, তবে মুল বক্তব্য হয়ত ঠিক আছে। শায়েখ আপনি সম্পূর্ণ হাদিছটি উল্লেখ করলে উপকৃত হব।
01 Jan 2026
পূর্ণ হাদীসটি নিম্নরুপ: – حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو أَيُّوبَ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَالِكٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ : أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا ، إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ ، وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ، إِلاَّ أُخِذُوا بِالسِّنِينَ ، وَشِدَّةِ الْمَؤُونَةِ ، وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ. وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ ، إِلاَّ مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ ، وَلَوْلاَ الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا. وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ ، إِلاَّ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ. وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ ، وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ ، إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের মাঝে এসে বললেন, পাঁচটি পাপে যখন তোমরা লিপ্ত হবে (তখন তোমরা আযাবে আক্রান্ত হবে)। আমি এগুলোতে তোমাদের লিপ্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ১। মানুষে প্রকাশ্য অশ্লীলতায় (ব্যাভিচারে) লিপ্ত হবে। তখন তাদের মাঝে এমন রোগ প্রকাশ পাবে, যে রোগ সম্পর্কে তাদের পূর্বপুরুষেরা জানত না। ২। মানুষ ওজনে কম দিবে। তখন তারা দূভিক্ষতে আক্রান্ত হবে। অভাব অনটনে আক্রান্ত হবে। ৩। মানুষ যাকাত দিবে না। তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে। চতুস্পদ পশু না থাকলে বৃষ্টি একদম বন্ধ হয়ে যেত। ৪। মানুষ আল্লাহ এবং তার রাসূলের সাথে কৃত অঙ্গিকার (বিধর্মীদের সাথে কৃত চুক্তি উদ্দেশ্য) লঙ্ঘন করবে তখন আল্লাহ তায়ালা অন্যদের (ইসলামের শত্রদের) থেকে কোন শত্রুকে শাসক হিসাবে চাপিয়ে দিবেন। আর তারা মুসলিমদের সম্পদ আত্মসাত করবে। ৫। তাদের শাসকরা আল্লাহর কিতাব দ্বারা ফয়সালা করবে না, আল্লাহ যে আইন অবতীর্ণ করেছেন তার দ্বারা বিচার করবে না। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের মাঝে বিপদ-মুসিবত দিবেন। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৯। শায়খ শুয়াইব আরনাউত এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আল্লামা বুসিরি রহ. বলেছেন, হাদীসটি আমলযোগ্য।
প্রশ্নঃ 813
আসসালামুয়ালাইকুম। আপনাদের এই প্রশ্নোত্তর সেশন জন্য আমরা খুবেই উপকৃত হচ্ছি। বিভিন্ন বিষয় জানতে পারছি। আল্লাহ্ আপনাদের চেষ্টা কবুল করুক। আমীন। নিম্নক্তো দুটি দোয়া বিভিন্ন জনে আমল করে এবং কিছু কিছু অনলাইন নিউজ পেপারে আমল করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্ত হাদিস নং বা কোন কিতাব কিছু লিখা নাই। আমারা প্রশ্ন হচ্ছেঃ
প্রশ্ন ০১ঃ আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিউল উম্মি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা এই দোয়া টি পড়লে কি ৮০বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়? হাদিসটি কি সহি?
প্রশ্ন ০২ঃ লা ইলাহা ইল্লালাহ ওয়াহদাহু লাশারীকালাহু আহাদান সামাদান লামইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ; এই দোয়া টি পড়লে কি ২০ লাখ নেকি পাওয়া যায়? হাদিসটি কি সহি?
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আপনানারা উপকৃত হচ্ছেন জেনে আমরা আনন্দিত।দুআ করবেন আল্লাহ যেন আমাদের এই চেষ্টা টুকু কবুল করেন এবং অব্যহত রাখার তাওফিক দেন। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। ১। এই দুআটি পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয় এমন কোন কথা কোন হাদীসে নেই। সহীহ, যয়ীফ,মাউযু কোন হাদীসেই নেই। তবে এটা আমাদের সমাজে প্রসিদ্ধ কথা। কথাটি ইমাম গাজ্জালী তার ইহইয়াউ উলূমিদ্দিন কিতাবে সনদ ছাড়া হাদীস হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এটা কোন হাদীস নয় সুতরাং এই আমল করা যাবে না। তবে অন্য একটি দরুদের কথা হাদীসে আছে যেটা পড়লে ৮০ বাার পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়। তবে সেই হাদীসটিও দুর্বল। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, ফাতাওয়া জান্নাত দায়েমা, ফাতাওয়া নং ১৯৬০৯; মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৭৫৩৮৬। ২। এই হাদীসটি ইবনু আদি রহ. আলকামীল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাদসটির আরবী পাঠ হলো: । قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قال لا إله إلاَّ الله وحده لا شريك له أحدًا صمدا لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد عشر مرات كتب الله تعالى له ألفي ألف حسنة ومن زاد زاده الله تعالى. হাদীসটি সর্বাক্যমতে দূর্বল। কারণ হাদীসটির একজন রাবী হলেন, ফায়িদ আবুল ওরকা। মুহাদ্দিসগণ তাকে মাতরুক (যার হাদীিস দলীল হিসাবে গ্রহন করা যায় না, বরং পরিতাজ্য। ) বলেছেন। এছাড়া কোন কোন হাদীসে ৪০ লাখ, ২০হাজার ইত্যদি বলা হয়েছে। দুআ সামান্য পবিবর্তন আছে। তবে প্রতিটি হাদীসই চরম পর্যায়ের যয়ীফ। বিস্তরিত জানতে দেখুন, আল ইসলাম সুয়াল জাওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আলমুনাজ্জিদ, ফাতাওয়া নং ২০৯৭৭৪। (আরবী)।
প্রশ্নঃ 801
আসসালামু আলাইকুম! নিন্মের বাণীটি কি হাদীস নাকি কোরআনের আয়াত? কোরআনের আয়াত হলে তার সূরা আয়াত নম্বর কত আর হাদিস হলে কোন কিতাবের, কত অধ্যায়ের, কত নম্বর হাদিস? *বাণী- তোমার দ্বীনকে খাঁটি করো, অল্প আমলেই নাজাত পাবে। ধন্যবাদ
01 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত বাণীটি হাদীসের। হাদীসটির আরবী পাঠ দেখুন: اخلص دينك يكفك العمل القليل । মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৭৮৪৪। তবে হাদীসটি সহীহ নয়, যয়ীফ। হাফেজ জাহাবী রাহ. বলেছেন, সহীহ নয় (তালীক, মুসাতাদরক) আর শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন যয়ীফ (সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, হাদীস নং ২১৬০।
প্রশ্নঃ 745
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহ। আমি ২টি হাদীসের পূর্ণাঙ্গ দলিল চাই। আর এই দলিল হতে হবে বাংলা অনুবাদকৃত পিডিএফ হাদীস গ্রন্থের দলিল, যাতে করে আমি সহজেই খুজে পাই। কেননা আরবী হাদীস গ্রন্থের দলিল হলে তো মিলাতে পারব না। হাদীস ২টি সংক্ষেপে লিখলাম-
১. কল্যাণের পথে আহ্বানকারীও কল্যাণকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। ২. প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা। আর এটা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
31 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই আমার কাছে পিডিএফ হাদীসগ্রন্থ নেই।প্রথম হাদীসটি পেতে দেখূন সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৬৭৪। আরবী পাঠ নিম্নরুপ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ:مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ، كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا দ্বিতীয় হাদীসটি পেতে দেখুন: সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৭৮৫। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরবী পাঠ নিম্নররুপ عن جابر بن عبد الله قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته, يحمد الله, ويثني عليه بما هو له أهل, ثم يقول:من يهد الله فلا مضل له, ومن يضلل فلا هادي له, إن أصدق الحديث كتاب الله, وأحسن الهدي هدي محمد, وشر الأمور محدثاتها, وكل محدثة بدعة, وكل بدعة ضلالة, وكل ضلالة في النار, ثم يقول:بعثت أنا والساعة كهاتين, وكان إذا ذكر الساعة احمرت وجنتاه, وعلا صوته, واشتد غضبه كأنه نذير جيش:صبحتكم الساعة ومستكم, ثم يقول:من ترك مالا فلأهله, ومن ترك دينا أو ضياعا فإلي أو علي, وأنا ولي المؤمنين
প্রশ্নঃ 705
খাবার খাওয়ার সময় বসার নিয়ম বা সুন্নাত বা তরীকাহ গুলী কি?
31 Dec 2025
বিভিন্ন সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, فالمستحب في صفة الجلوس للاكل أن يكون جاثيا على ركبتيه وظهور قدميه أو ينصب الرجل اليمني ويجلس على اليسرى অর্থ: খাবারগ্রহন কারীর বসার ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো, হাঁটুর উপর ভর করে দুই পায়ের উপর বসা কিংবা ডান পা সোজা করে (উচুঁ) করে বাম পায়ের উপর বসা। ফাতহুল বারী, ৯/৫৪২। আর অন্য একটি সহীহ হাদীস থেকে আরেকটি পদ্ধতি জানা যায় সেটা হলো উভয় হাটু উঠিয়ে বসা। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৪৫২।
প্রশ্নঃ 632
আস সালামু আলাইকুম। ফেসবুকের মাধ্যমে রাসুল (সঃ) এর মৃত্যু পূর্ব একটি ঘটনা পোস্ট করা হচ্ছে। এখানে বলা হয়েছে যে মালাকুল মউত রাসুল (সঃ) এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করছেন জান মোবারক কবচ করার জন্য। মালাকুল মউত এও বলছেন যে এ পর্যন্ত কোন মানুষের জান কবচের জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়না তবে আল্লাহর নির্দেশে তিনি নবীজির (সঃ) কাছে অনুমতি চাইছেন।রাসুল (সঃ) যদি অনুমতি না দেন তবে মালাকুল মউত যেন ফিরে যান। আপনার অবগতির জন্য ফেসবুকের পোস্ট টি আপনার মেসেজ অপশনে সংযুক্ত করেছি। এই ঘটনা কি সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত? নাক জাল? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
30 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উক্ত হাদীসট আলমজামুল কাবীর লিতত্ববরনী গ্রন্হের ২৮২১ নং হাাদীস। হাদীসটি সহীহ বা হাসান নয় যয়ীফ বা জাল পর্যায়ের। মুহাদ্দিসগণ এমনই বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ইন্টারনেটে, আল-ইসলাম, সুয়াল ও জাওয়াব, মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, ফতোয়া নং ৭১৪০০।
প্রশ্নঃ 561
আসসালামু আলাইকুম, আমাদের মসজিদের ইমাম একবার বলেছেন বুখারীতেও জাল যইফ হাদিস আছে। কিন্তু আমার জ্ঞান বুখারী ও মুসলিম শরীফে কোন যইফ হাদিস আনা হয়নি। আসলে কি তাই? যইফ হাদিস থাকলে তার রেফারেন্স কি দেয়া যাবে?
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ঐ ইমাম সাহেবকেই জিজ্ঞাসা করুন বুখারীর কোন হাদীসটি জাল বা যয়ীফ। আমাদের জানামতে বুখারী ও মুসলিম কোন জাল-যইফ নেই।
প্রশ্নঃ 522
আস সালামু আলাইকুম। অনেকে রাস্তাঘাটে ভুয়া কবর বানিয়ে সেখানে সালাম দেয়, চুমু খায়। ভুয়া কবর সম্পর্কে একটি হাদীস শুনেছি যা হচ্ছে: মান যারা কবরান বিলা মাকবূরিন কাআন্নামা আবাদাস সানাম। কিন্তু এ হাদীসটি কোন কিতাবে আছে, সহীহ না জাল তা জানতে পারি নি। দয়া করে যদি হাদীসটির তাহকীক জানান উপকৃত হতাম।
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা কোন হাদীস নয়। সহীহ জাল কোন কিতাবেই হাদীসটি পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রশ্নঃ 206
আসসালামু আলায়কুম। দাড়ি না রাখলে তার দিকে রসুলুল্লাহ সঃ ঘৃনাভরে তাকাতেন না, এমন কোন দলিল আছে কি? থাকলে দয়া করে ইনবক্সে জানাবেন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, এই বিষয়টি একটি হাদীস থেকে বুঝা যায। নিচে এই বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
রাসূলুল্লাহ সা. নিজে দাড়ি রেখেছেন। দাড়ি রাখতে আদেশ করেছেন। দাড়ি কাটতে নিষেধ করেছেন। এবং দাড়িবিহীন মানুষকে তিনি অপছন্দ করতেন। এই বিষয়ে দুটি হাদীস নিচে দেয়া হল:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى
অর্থ: ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেণ, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো, গোঁফ কাটো আর দাড়ি ছেড়ে দাও। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬২৫; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯৩। ইমাম তাবারী তার সনদে উদ্ধৃত করেছেন যে, পারস্যের সম্রাট রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট দুজন দূত প্রেরণ করেন:
دخلا على رسول اللهصلى الله عليه وسلم وقد حلقا لحاهما وأعفيا شواربهما فكره النظر إليهما ثم أقبل عليهما فقال من أمركما بهذا قالا أمرنا بهذا ربنا يعنيان كسرى فقال رسول الله لكن ربي قد أمرني بإعفاء لحيتي وقص شاربي
উক্ত দূতদ্বয়ের দাড়ি মুণ্ডিত ছিল ও গোঁফ বড় ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে অপছন্দ করেন। এরপর তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, তোমাদেরকে এরূপ করতে কে নির্দেশ দিয়েছে? তারা বলে, আমাদের প্রভু অর্থাৎ সম্রাট। তিনি বলেন, কিন্তু আমার প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমার দাড়ি বড় করতে এবং গোঁফ কাটতে
তারীখুল উমামি ওয়াল মুলূক, ২/১৩৩। এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি রাসূল (সা.) দাড়ি কাটাকে অত্যন্ত ঘৃণা করতেন।
প্রশ্নঃ 135
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে মুসাফাহ দুই হাতে করতে হয় না এক হাতে?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
বিভিন্ন হাদীস থেকে মুসাফাহা বা হাত মেলানোর আদব ও সুন্নাত জানা যায়। যেমন, মুসাফাহার সময় আল্লাহর প্রশংসা করা, ইসতিগফার করা, দুআ করা ইত্যাদী। মুসাফাহা অবশ্যই ডান হাতে হতে হবে। ওযর ব অক্ষমতা ছাড়া বাম হাত মেলানো ইসলামী আদবের ঘোর পরিপন্থি। একে অপরের শুধু ডান হাত ধরবেন, না অপরের ডান হাতকে নিজের দুহাতের মধ্যে রাখবেন তা নিয়ে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, এক হাতে বা দুহাতে যে কোন ভাবে ডান হাত মেলালেই মুসাফাহা হবে। হাদীস শরীফে বারংবার হাত মেলানোর কথা এবং ডান হাত মেলানোর কথা বলা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, শুধু ডান হাত মেলালেই হবে। তবে ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, প্রসিদ্ধ দুজন তাবি-তাবিয়ী হাম্মাদ ইবনু যায়িদ (মৃত্যু ১৭৯হি.) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (১৮১হি.) দু হাতে মুসাফাহ করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত
খুতবাতুল ইসলাম বইটির ৪২৬ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 120
আল্লাহ খুশি হলে তিনটি জিনিস প্রেরণ করেন বূষ্টি,মেহমান, ও কন্যসন্তান দেন। ---- সত্যতা কত টুকু?
22 Dec 2025
এটা কোন হাদীস নয়। তবে বৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত। কুরআনে অনেক জায়গায় বৃষ্টিকে আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন বলা হয়েছে। কন্যা সন্তানের পিতা জান্নাতে যাবেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। মেহমানদেরকে ইসলামে সম্মান দিতে বলা হয়েছে।
প্রশ্নঃ 52
বিড়ালের উচ্ছিষ্ট কি পাক? যদি কোন তরকারির ডিস থেকে বিড়াল ১ টুকরো মাছ উঠিয়ে খায় তবে কি ডিসের সব তরকারি নষ্ট হবে?
20 Dec 2025
হা বিড়ালের উচ্ছিষ্ঠ পাক,বিড়াল কোনকছিুতে মুখ দিলে বা খেলে তা নাপাক হয়ে যায় না বরং পাক থাকে। এব্যাপারে একটি হাদীসে এসেছে, আবু কাতাদাহ রাঃ বলেন: রাসূল সা. বলেছেন:
إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِىَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ
র্অথঃ নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র নয়, সে তোমাদের নিকট বশেী বশেী বিচরনণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলছেন এবং তিরমিযী রহঃ হাসান সহী বলছেনে। তিরমিযী, আস সুনান, তাহকীক, আহমাদ শাকরে ও আলবানী-১/১৫৩ ;হাদীস নং-৯২,
ইমাম তিরমিযী রহঃ বলেন: অধকিাংশ সাহাবী, তাবেয়ী এবং শাফী রহঃ ও আহমাদ রহঃ সহ পরবর্তি উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করছেনে। প্রগুক্ত। একবার দাউদ ইবনে সালেহ এর আম্মাকে দিয়ে তার মনিব হারিসা সহ (গোশত ও গম একত্রে মিশিয়ে প্রস্তুতকৃত খাদ্য বিশেষ) আয়েশা (রা.) এর নিকট পাঠালেন। তিনি বলেন: আমি তাকে নামাযরত পেলাম। তিনি আমাকে তা রেখে দেওয়ার জন্য ইশারা করলেন। এরপর বিড়াল এসে তার থেকে খেলো । নামাজ শেষে আয়েশা (রা.) বিড়ালের মুখ দেয়া স্থান থেকে খেলেন এবং বললেন,, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র নয়, সে তোমাদের নিকট বিচরনণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি রাসুল (সা.) কে বিড়ালের ঝুটা মিশ্রিত পানি দ্বারা অযু করতে দেখেছি। আবু দাউদ-১/২৯; হাদীস নং-৭৬। আল্লামাহ ইবনে আব্দুল বার, শাইখ আলবানী সহ অন্যান্য আলেমগন হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আল্লামাহ ইবনে আব্দুল বার বলেন: ইরাক ও হিযাযের প্রায় সব তাবেঈ উক্ত মত ব্যক্ত করেছেন। পরবর্তি জমহুর উলামায়ে কেরাম ও ইমামগণ বিড়ালের ঝুটাকে পবিত্র বলেছেন। যেমন মালেক রহঃ, লাইছ রহঃ, আওযায়ী রহঃ, সুফিয়ান সাওরী রহঃ, শাফেয়ী রহঃ, আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহঃ ইত্যাদি। আলইসতিযকার-১/১৬৪। আবু হুরাইরা রাঃ অপর এক হাদীসে রাসূল সাঃ থেকে বর্ননা করেন, রাসূল সাঃ বলেন:
يُغْسَلُ الإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَإِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً
অর্থঃ কুকুরে মুখ দিয়েছে এমন পাত্র সাতবার ধৌত করতে হবে,প্রথমবার বা (বর্ননাকারীর সন্দেহ) শেষবার মাটি দিয়ে। আর যেপাত্রে বিড়াল মুখ দিবে তা একবার ধৌত করতে হবে। ইমাম তিরমিযী রহঃ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন এবং শায়েখ আলবানী রহঃ সহীহ বলেছেন। তিরমিযী,আস-সুনান,তাহকীক,শায়েখ আলবানী রহঃ, ১/১৫১, হাদীস নং৯১। এহাদীসের আলোকে ইমাম আবু হানীফা রহঃ বিড়ালের ঝুটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে অজু করলে তা যথেষ্ঠ হবে বলেও মত দিয়েছেন। ইবনে আব্দুল বার রহঃ বলেন:আবু হানীফা রহঃ এর বিপরীতে তার ছাত্ররা বিড়ালের ঝুটাকে পবিত্র বলেছেন। আল-ইসতিজকার, ১/১৬৫, কিতাব, আত-তাহারাত, বাব, আত-তুহুর লিলউযুই।
প্রশ্নঃ 35
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত । এটা সহী কি না জানতে চাই?
20 Dec 2025
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য মুবারকবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোকপাত করা হল। الجنة تحت أقدام الأمهات মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত এখানে মায়ের মর্যাদা বুঝানো হয়েছে। তবে হাদীসটি উলামায়ে কেরামের ঐক্যমতে এই শব্দে জাল বা বানোয়াট । রাসূল সাঃ থেকে সহীভাবে হাদীটি প্রমাণীত নয়। কারন এই হাদীসের সনদে মূসা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আতা রয়েছে যিনি মিথ্যাবাদী এবং অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তি । তবে ভাবমর্ম সহী। পিতামাতার সাথে সদাচারন করার ব্যাপারে কোরআন এবং হাদীসে অসংখ্য জায়গায় স্পষ্টভাবে বারবার নির্দেশ এসেছে। যে সমস্ত উলামায়ে কেরাম হাদীসটিকে জাল বলেছেন তাঁরা হলেন, হাফেজ ইবনে আদী রহঃ, ইমাম উকায়লী রহঃ, ইমাম আবু যুরআহ রহঃ, ইমাম দারেকুতনী রহঃ, ইবনে হিব্বান রহঃ, ইমাম যাহাবী রহঃ, ইবনে হাজার রহঃ, এবং আলবানী রহঃ হাদীসটি সিলসিলায়ে যয়ীফাহ এর ভিতর উল্লেখ করে হাদীসটিকে জাল বলেছেন। পিতামাতার সাথে সদাচারন করার ব্যাপারে কোরআনের বাণীঃ
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
অর্থঃ আর তোমার প্রতিপালক ফয়সালা করেছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সাথে ভালব্যাবহার করবে। তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধ্যকে পৌছে যায় তাহলে তাদের সামনে উফ শব্দটুকুও করবে না এবং তাদেরকে ধুমুক দিবে না । তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে। সূরা আল-ইসরা, আয়াত,২৩। এব্যাপারে হাদীসের বাণীঃ
حديث معاوية بن جاهمة أنه جاء النبي صلى الله عليه وسلم قال : يا رسول الله أردتُ أن أغزو ، وقد جئت أستشيرك فقال : هل لك أم ؟ قال : نعم ، قال : فالزمها ؛ فإن الجنة تحت رجليها
অর্থঃ মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা রাঃ নামের এক ছাহাবী রাসূল সাঃ এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল সাঃ আমি যুদ্ধ করতে চাই। আর আমি আপনার কাছে পরামর্শ চাইতে এসেছি। তখন রাসূল সাঃ বললেন: তোমার মা কি বেঁচে আছেন। তখন ছাহাবীটি বললেন হা আছেন। তখন রাসূলে আকরাম সাঃ বললেন: তুমি তার কাছেই থেকে যাও। কেননা জান্নাত তো তাঁর পায়ের নিচে।নাসায়ী, তাবারানী, হাদীসের সনদ হাসান । তবে হাকিম রহঃ এবং যাহাবী রহঃ সহীহ বলেছেন আর মুনযিরী রহঃ স্বীকৃতি দিয়েছেন। অতএব কোরআন এবং হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় পিতামাতার সাথে ভালব্যাবহার করা এবং তারা কষ্ট পায় এমন কথা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকা আমাদের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রশ্নঃ 31
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সকল মানুষ পরস্পর ভাই ভাইএই হাদিসটি সুনানে আবু দাউদ,আদাব অধ্যায়ে বা অন্য কোন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে আছে কিনা? একজন ডঃ স্যার একটি আর্টিকেল এ হাদিসটি এনেছেন।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিচে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হল । জ্বী হ্যা ভাই, এমর্মে একটি হাদীস আছে যার আরবী উচ্চারণ হল - الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ । আর অর্থ হল মুসলমান মুসলমানের ভাই। হাদীসটি সকল নির্ভরযগ্য হাদীস গ্রন্থে এসেছে। নিম্নে কিছু গ্রন্থের তালিকা দেয়া হল। ১) বুখারী, আস- সহীহ, হাদিস নং, ২৪৪২, অধ্যায়, কিতাবু বাদ্ইল ওহী, পরিচ্ছেদ, লা ইয়াযলিমুল মুসলিমু...
২) মুসলিম, আস-সহীহ, হাদিস নং, ৬৭০৬, অধ্যায়, আল বির ওসসিলাহ, পরিচ্ছেদ, তাহরীমু জুলমিল মুসলিম। ৩) আবু দাউদ, আস-সুনান, কিতাবুল আদাব, বাবুল মুওয়াখাত, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৬৭০। (ভারতীয় সংস্করন)
৪) সুনানে তিরমিযী, তাহকীক, শাকের ও আলবানী। কিতাব - তাফসীরুল কোরআন,বাব-সুরা তাওবা। হাদীস নং ৩০৮৭।