ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুনিয়া থেকে আখেরাতে প্রত্যবর্তনের সিড়ি হলো মৃত্যু। রাসূলুল্লাহ সা., এর মৃত্যু হয়েছে এবং সকল মানুষের মৃত্যু হবে। মৃত ব্যাক্তিদের সালাম দেয়ার কারণ হলো রাসূলুল্লাহ সা. মৃত ব্যক্তিদেরকে সালাম দিতে বলেছেন। একজন মূমিনের জন্য এর চেয়ে বেশী কারণ খোঁজা দরকার নেই। রাসূলুল্লাহ সা. মৃত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললে আয়েশা রা. বললেন, কিভাবে করব? তখন তিনি বললেন, قُولِى السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَ অর্থ: বল, মূমিন এবং মুসলিম কবরবাসীদের উপর সালাম। আল্লাহ পূর্ববর্তীদের এবং পরবর্তীদের সকলের উপর দয়া করুন, অচিরেই আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হবো ইনশাআল্লাহ। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৩০১। অর্থাৎ যেহেতু রাসূলুল্লাহ সা. সালাম দিতে বলেছেন তাই আমরা সালাম দিব।
মুসলিম হিসাবে দাবিদার যেসব বিভ্রান্ত গোষ্ঠী মুসলিম উম্মাহ কতৃক কাফের হিসাবে স্মীকৃত নয় তাদেরকে কাফের বলা যাবে না। তবে যারা কাফের হিসাবে স্মীকৃত তাদেরকে কাফের বলতে হবে, যেমন কাদিয়ানী।
আয়াতটির ব্যাখ্যা স্পষ্ট। নবীরা আসলে তাদের কথামত চললে জান্নাত মিলবে, এটাই ব্যাখ্যা। এখানে তো নবী সামনে আসবে বা আসবে না সে সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি। পক্ষান্তরে সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে মুহাম্মদ সা. কে শেষ নবী স্পষ্ট বলা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যমতে তারা অমুসলিম, সুতরাং তাদের ব্যাখ্যা নিয়ে এত মাথা ঘামানোর দরকার নেই।
ভাই, আমি উক্ত প্রবন্ধটিতে চোখ বুলালাম।বুঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ এটি পড়লে কিছুটা সংশয়ে পড়বে। আপনিও হয়তো পড়েছেন। আপনার এবং যারা সংশয়ে পড়েছেন তাদের সংশয় দূরা করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত আলোচনার করবো না। প্রথমে আমাদের মনে রাখতে হবে মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কাদীয়ানীরা মুসলিম নয়। কিন্তু তারা এই আলোচনাটি এমন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছে যাতে মনে হচ্ছে তারা মুসলিমদের একটি উপদল বা গ্রুপ। শুরতে ইহুদী এরপর খৃষ্টান তারপর মুসলিমদের দুই ভাগ করে গয়রে কাদীয়ানী আর কাদীয়ানীতে বিভক্ত করেছে। এটা তাদের ধোঁকা। আবার কুরআন, হাদীসের দলীল দিচ্ছে। তারা যদি কুরআন হাদীস মানে তাহলে মুসলিম উম্মাহ কাছে তারা অমুসলিম হবে পরিচিত হবে কেন? মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ সা. কে খাতামান্নাবীঈন বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো শেষ নবী।এটাও তাদের ধোঁকা। তাদের সাথে মুসলিমদের মূল পার্থক্য তো এটাই যে, তারা মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী মানে না। গোলাম আহমাদ কাদীয়ানীকে নবী মনে করে। দ্বিতীয়ত তারা উদ্দেশ্যমূলক কুরআনের আয়াতের ভুল অর্থ করে মানুষকে সংশয়ে ফেলার চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে। আবার এক সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করে নিজেদের মিথ্যাকে লুকানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করা করেছে। কুরআনের যে আয়াতটির তারা ভুল অর্থ ও ভুল ব্যাখ্যা করে ইসা আ.কে মৃত বানিয়ে সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করা হয়েছে সেটা হলো: إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُواْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ৫৫ স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে ওফাত দেব তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর প্রধান্য দেব। অত:পর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ কর। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন ঈসা আ.কে ওফাত দিবেন। কাদীয়ানীরা দাবী করছে যে, ওফাত শব্দটির একমাত্র অর্থ মৃত্যু।কেউ যদি অন্য অর্থ দেখাতে পারে তাহলে সহ টাকা পুরস্কার। এখন আমরা দেখবো যে, ওফাত শব্দটির অন্য কোন অর্থ কুরআন-হাদীস তথা অরবী ভাষায় আছে কি না। কুরআন ও হাদীসে ও আরবী অভিধান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ওফাত শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। ১.মৃত্যু। ২. অবশিষ্ট না থাকা। ৩. পৌছানো। ৪. গণনা করা ৫. ঘুম ইত্যাদি। ঘুম অর্থে ওফাত শব্দটির ব্যবহার আমরা কুরআন শরীফে দেখতে পাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, { وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ بِاللَّيْلِ [وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ] তিনি ঐ সত্তা যিনি তোমাদেরকে রাতে ওফাত (ঘুম) দেন এবং তোমরা দিনের বেলায় যে সব কাজ করো তিনি তা জানেন। সূরা আনয়াম, আয়াত ৬০। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন।সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, { اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দেখছি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তিনি রাতে মানুষের ওফাত দেন। কোন পাগল কি বলবেন যে, রাতে আল্লাহ মানুষের মৃত্যু দেন? সবাই বলেবে ঘুম দেন। আর ঘুমকে এখানে ওফাত শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا অর্থ: আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। সূরা যুমার, আয়াত নং ৪২। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আমার কুরআন থেকে দেখলাম যে, ওফাত শব্দটির অন্য একটি অর্থ স্বয়ং কুরআন শরীফে আছে। এবার আমরা দেখবো হাদীসে মৃত্যু শব্দটিকে ঘুম অর্থে ব্যবহারের উদাহরণ। ঘুম থেকে উঠে রাসূলুল্লাহ সা. যে দুআটি পড়তে বলেছেন তা হলো الْحَمْدُ لله الَّذِي أحْيَانَا بَعْدَمَا أمَاتَنَا وإلَيْهِ النُّشُورُ অর্থ: সমস্ত প্রসংসা সে সত্তার যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবন দান করেছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭১১। আচ্ছা বলুন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন কী মৃত্যু থেকে জীবন লাভে করে? না, মোটেই না। বরং ঘুমের অচেতনতা থেকে জাগ্রত হয়। এটাকে আল্লাহর রাসূল মৃত্যু বলেছেন। তাহলে বুঝা গের ওফাত বা মৃত্যুকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করা কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত। এখন আমরা দেখাবে যে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে ( সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৫৫) তারা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সেই আয়াতের ওফাত শব্দের অর্থের ব্যাপারে মুফাচ্ছিরগণ কী বলেছেন? উক্ত আয়াতের তাফসীরে হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. বলেন, قال الأكثرون: المراد بالوفاة هاهنا: النوم، অধিকাংশ মুফাচ্ছিরের মতে এখানে ওফাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘুম। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। সুতরাং আয়াতের মূল অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা ঈসা আ.কে উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বে কিছু সময় ঘুম দিয়েছিলেন। দুয়েকজন তাফসীর কারক এটাকে কিছু সময়ের মৃত্যু বলে অভিহিত করেছেন। এটা নয় যে, তাকে আল্লাহ তাঁেক স্বাভাবিক মৃত্যু দান করেছেন। উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। ঈসা আ. দুনিয়াতে কত বছর ছিলেন এটা একটি ভিন্ন বিষয়। যত দিনই থাকুন না কেন তাঁর মৃত্যু হয় নি। সহস্র টাকা পুরস্কার এখন আপনি তাদের কাছে চাইতে পারেন। কিন্তু তাদেরকে পাওয়া যাবে না। এটাই মহা সত্য।
ভাই, আমি উক্ত প্রবন্ধটিতে চোখ বুলালাম। বুঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ এটি পড়লে কিছুটা সংশয়ে পড়বে। আপনিও হয়তো পড়েছেন। আপনার এবং যারা সংশয়ে পড়েছেন তাদের সংশয় দূরা করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। বিস্তারিত আলোচনার করবো না। প্রথমে আমাদের মনে রাখতে হবে মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, কাদীয়ানীরা মুসলিম নয়। কিন্তু তারা এই আলোচনাটি এমন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছে যাতে মনে হচ্ছে তারা মুসলিমদের একটি উপদল বা গ্রুপ। শুরতে ইহুদী এরপর খৃষ্টান তারপর মুসলিমদের দুই ভাগ করে গয়রে কাদীয়ানী আর কাদীয়ানীতে বিভক্ত করেছে। এটা তাদের ধোঁকা। আবার কুরআন, হাদীসের দলীল দিচ্ছে। তারা যদি কুরআন হাদীস মানে তাহলে মুসলিম উম্মাহ কাছে তারা অমুসলিম হবে পরিচিত হবে কেন? মাঝে মাঝে রাসূলুল্লাহ সা. কে খাতামান্নাবীঈন বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো শেষ নবী।এটাও তাদের ধোঁকা। তাদের সাথে মুসলিমদের মূল পার্থক্য তো এটাই যে, তারা মুহাম্মাদ সা. কে শেষ নবী মানে না। গোলাম আহমাদ কাদীয়ানীকে নবী মনে করে।
দ্বিতীয়ত তারা উদ্দেশ্যমূলক কুরআনের আয়াতের ভুল অর্থ করে মানুষকে সংশয়ে ফেলার চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে। আবার এক সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করে নিজেদের মিথ্যাকে লুকানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করা করেছে। কুরআনের যে আয়াতটির তারা ভুল অর্থ ও ভুল ব্যাখ্যা করে ইসা আ.কে মৃত বানিয়ে সহ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করা হয়েছে সেটা হলো: إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُواْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ৫৫ স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে ওফাত দেব তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর প্রধান্য দেব। অত:পর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মিমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ কর। সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫। উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেছেন ঈসা আ.কে ওফাত দিবেন। কাদীয়ানীরা দাবী করছে যে, ওফাত শব্দটির একমাত্র অর্থ মৃত্যু।কেউ যদি অন্য অর্থ দেখাতে পারে তাহলে সহ টাকা পুরস্কার। এখন আমরা দেখবো যে, ওফাত শব্দটির অন্য কোন অর্থ কুরআন-হাদীস তথা অরবী ভাষায় আছে কি না। কুরআন ও হাদীসে ও আরবী অভিধান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ওফাত শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। ১.মৃত্যু। ২. অবশিষ্ট না থাকা। ৩. পৌছানো। ৪. গণনা করা ৫. ঘুম ইত্যাদি। ঘুম অর্থে ওফাত শব্দটির ব্যবহার আমরা কুরআন শরীফে দেখতে পাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ بِاللَّيْلِ [وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ তিনি ঐ সত্তা যিনি তোমাদেরকে রাতে ওফাত (ঘুম) দেন এবং তোমরা দিনের বেলায় যে সব কাজ করো তিনি তা জানেন। সূরা আনয়াম, আয়াত ৬০।
সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন।সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দেখছি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, তিনি রাতে মানুষের ওফাত দেন। কোন পাগল কি বলবেন যে, রাতে আল্লাহ মানুষের মৃত্যু দেন? সবাই বলেবে ঘুম দেন। আর ঘুমকে এখানে ওফাত শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। সূরা যুমারের ৪২নং আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা ওফাতকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করেছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, اللَّهُ يَتَوَفَّى الأنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا অর্থ: আল্লাহ মানুষকে ওফাত দেন যখন তারা মৃত্যুবরণ করে আর যারা মৃত্যুবরণ করে না তাদের ওফাত দেন ঘুমের মধ্যে। সূরা যুমার, আয়াত নং ৪২।
উক্ত আয়াতে ওফাতকে এক জায়গায় মৃত্যু অর্থে আর আরেক জায়গায় ঘুম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আমার কুরআন থেকে দেখলাম যে, ওফাত শব্দটির অন্য একটি অর্থ স্বয়ং কুরআন শরীফে আছে। এবার আমরা দেখবো হাদীসে মৃত্যু শব্দটিকে ঘুম অর্থে ব্যবহারের উদাহরণ। ঘুম থেকে উঠে রাসূলুল্লাহ সা. যে দুআটি পড়তে বলেছেন তা হলো الْحَمْدُ لله الَّذِي أحْيَانَا بَعْدَمَا أمَاتَنَا وإلَيْهِ النُّشُورُ অর্থ: সমস্ত প্রসংসা সে সত্তার যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবন দান করেছেন। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২৭১১। আচ্ছা বলুন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠে তখন কী মৃত্যু থেকে জীবন লাভে করে? না, মোটেই না। বরং ঘুমের অচেতনতা থেকে জাগ্রত হয়। এটাকে আল্লাহর রাসূল মৃত্যু বলেছেন। তাহলে বুঝা গের ওফাত বা মৃত্যুকে ঘুম অর্থে ব্যবহার করা কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত। এখন আমরা দেখাবে যে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে ( সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৫৫) তারা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সেই আয়াতের ওফাত শব্দের অর্থের ব্যাপারে মুফাচ্ছিরগণ কী বলেছেন? উক্ত আয়াতের তাফসীরে হাফেজ ইবনে কাসীর রহ. বলেন, قال الأكثرون: المراد بالوفاة هاهنا: النوم، অধিকাংশ মুফাচ্ছিরের মতে এখানে ওফাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘুম। তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৫৫।
সুতরাং আয়াতের মূল অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা ঈসা আ.কে উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বে কিছু সময় ঘুম দিয়েছিলেন। দুয়েকজন তাফসীর কারক এটাকে কিছু সময়ের মৃত্যু বলে অভিহিত করেছেন। এটা নয় যে, তাকে আল্লাহ তাঁেক স্বাভাবিক মৃত্যু দান করেছেন। উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। ঈসা আ. দুনিয়াতে কত বছর ছিলেন এটা একটি ভিন্ন বিষয়। যত দিনই থাকুন না কেন তাঁর মৃত্যু হয় নি। সহস্র টাকা পুরস্কার এখন আপনি তাদের কাছে চাইতে পারেন। কিন্তু তাদেরকে পাওয়া যাবে না। এটাই মহা সত্য।
শিয়াদের ব্যাপারে শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. সংক্ষেপে সুন্দর ও চমৎকার আলোচনা করেছেন ইসলামী আকীদা বইয়ের ৬০৫-৬১৫ পৃষ্ঠায়। এছাড়া মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্তমতবাদ বইয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আপনি এগুলো পড়তে পারেন। এছাড় বাজারে ভাল লেখকের কোন বই আছে কি না খোঁজ করতে পারেন।
ওয়া আলা্কুমুস সালাম। ভাই, আমি জানি না শায়খ আলবানী রাহ. ইমাম বুখারীর রাহ. ব্যাপারে এমন বলেছেন কি না। তবে তিনি যদি বলেও থাকেন এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন- মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ তাতীলের অন্তর্ভূক্ত। তবুও তাঁর এই কথা দ্বারা কিছুতেই এই অর্থ নেয়া যাবে না যে তিনি বলেছেন, ইমাম বুখারী একজন অমুসলিম। যদি ধরে নিই ইমাম বুখারী এমন ব্যাখ্যঅ করেছেন তাহলে তা ভুল। মানুষ ভুল করে তিনিও ভুল করেছেন। তার ব্যাখ্যা কুফুরী ব্যাখ্যা হতে পারে, তিনি ভুল করে এটা করেছেন। তাই বলে ইমাম বুখারী অমুসলিম হয়ে গেল বিষয়টি এরকম মনে করার কারণ নেই। অনেক মানুষই তো কুফুরীমূলক কথা বলে, শিরকপূর্ণ কাজ করে তাই বলে কি তাদের কাফের বা মুশরিক বলা যায়। যায় না। শায়খ আলাবনী মনে করছেন তার কাজটি কুফুরী তাই তিনি এমন বলেছেন। তার এই বক্তব্য থেকে এই কথা বের করা যে, তিনি ইমাম বুখারীকে অমুসলিম বলেছেন তাহলে এটা তার উপর জুলুম হবে। আর এটা বাস্তবসম্মতও নয়। তিনি ইমাম বুখারী রহ. কিতাব থেকে হাদীস নিয়ে বিভিন্ন মাসআলায় দলীল দিয়েছেন। তিনি যদি অমুসলিম কনে করতেন তাহলে কি তাঁর কিতাবের হাদীস দিয়ে দলীল দিতেন? তবে তার এই কথা (যদি তিনি বলে থাকেন) এ ধরণের ব্যাখ্যা কোন মুমিন- মুসলমান দিতে পারে না। তিনি বলেন, এ ধরণের ব্যাখ্যা মূলতঃ কুফরী মতবাদ তাতীলের অন্তর্ভূক্ত। এটা সঠিক কিন সেটা ভিন্ন বিষয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।
ইসলাম সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা বা এ জাতীয় বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করে না। এগুলো ইসলামে হারাম। শত্রুর উপর হামলা করতে গিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা জঘণ্যতম পাপ। জঙ্গবীদ এখন ব্যপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। ইসলামের বৈধ জিহাদকেও অনেক সময় জঙ্গীবাদ বলে চালিয়ে দেয়া হয়। তবে কোন ধরনের সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড ইসলাম সমর্থন করে না। রাসূলুল্লাহ সা. এর বিরুদ্ধে যদি কেউ কটুক্তি করে আর অন্য কেউ শুনে তা সহ্য করতে না পেরে হামলা করে তাকে হত্যা করে তাহলেও হত্যাকারী ব্যক্তির বিচার হবে। তবে আদালত যদি এর সত্যতা পাই তাহলে তাকে খালাস দিবেন। তবে আদালতে তাকে যেতেই হবে। প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটিও সে রকম। তিনি হত্যা করার পর রাসূলুল্লাহ সা. বিচারের মাধ্যমে তাকে খালাস দিয়েছেন। মোটকথা আইন হাতে তুলে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। বিচার করবে রাষ্ট্র, আদালত। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. রচিত ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি।