সংগ্রাম বলতে আপনি যদি সসশ্ত্র যুদ্ধ বুঝান তাহলে তা এক্ষেত্রে নিষেধ। আর যদি চেষ্টা -প্রচেষ্টা বুঝান তাহলে এগুলো শাব্দিক অর্থে জিহাদ। পারিভাষিক অর্থে নয়। পারিভাষিক অর্থে জিহাদ হলো রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে সসশ্ত্র সংগ্রাম করা। ইসলামী দল বা ইসলামী রাজনীতি দীনি দাওয়াতের একটি অংশ। ফরজ নয় । বর্তমানে সমাজে যারা ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও প্রতিষ্ঠা চান না, তারা রাজনীতিকে ব্যবহার করে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ রোধ করেন। এ কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টার মুকাবিলা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিস্তারিত জানতে দেখুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত এহ্ইয়াউস সুনান বইয়ের ৪৬৬ পৃষ্ঠ থেকে ৪৭৭ পৃষ্ঠা।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা আপনাদের উপকার করতে পারছি জেনে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। আপনার সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একটি বইয়ে পাবেন। বইটির নাম ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ । লেখক, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত। তবে সংক্ষেপে উত্তর হলো: জিহাদ হলো ইসলামী রাষ্ট্রকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার যুদ্ধ। তবে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে যে কোন চেষ্টা প্রচেষ্টাকে শাব্দিক অর্থে জিহাদ বলা যেতে পারে, পারিভাষিক অর্থে নয়। জিহাদ হতে হবে রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে। হাদীসে আছে,وَإِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ রাষ্ট্র প্রধান হলেন ঢাল, লড়াই হবে তাকে সামনে রেখে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৫৭। এর বাইরে কোন ধরনের যুদ্ধকে বা লড়াইকে জিহাদ বলা যাবে না। সুতরাং রাষ্ট্রপ্রধান যখন জিহাদের জন্য বলবেন তখন জিহাদ ফরজ হবে। আর আমাদের কাজ হলো জিহাদের সুযোগ আসলে জিহাদ করা। আর সকলকে ইসলামরে পথে দাওয়াত দেয়া, আহ্ববান করা। দাওয়াতের প্রতিটি সাইডে কাজ করার জন্য চেষ্টা করা। অসহায় মানুষদের সাধ্যানুযায়ী আর্থিক ও মানসিক সাহায্য করা। আবু বকর রা. জিহাদের ঘোষনা দিয়েছিলেন শতাভাগ সত্য। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন জিাহাদের ঘোষনা দিতেই পারেন। তবে তার ঘোষনাটি ছিল তার প্রজাদের মাঝে যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে শাস্থির ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে। তার ঘোষনার সাথে সাধারণ মানুষের ঘোষনাকে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। আলেমদের সমালোচনা ভাল মানুষদের কাজ নয়। তাও আবার ঢালাওভাবে সকল আলেমের সমালোচনা। তিনি জিহাদের অর্থ না বুছে শুধু তাদেরকে দোষারোপ করছেন। আলেমদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব বা দায়িত্ব তা আমাদের দেশের আলেমগণ সর্বদা করে থাকেন। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
উক্ত আয়াতে জিহাদের কথা বলা হয়েছে। তাবলীগে বের হওয়া আর জিহাদ (পারিভাষিক জিহাদ অর্থাৎ যদ্ধ) কে মিলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
শরয়ী পরিভাষায় জিহাদ দ্বারা উদ্দেশ্যে কিতাল অর্থাৎ যদ্ধ। আর সেটা হতে হবে রাষ্টের নিয়ন্ত্রনে। হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ অর্থাৎ ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) হলেন ঢাল, তাকে সামনে রেখে যুদ্ধ করতে হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৫৭। সুতরাং শরয়ী পারিভাষিক জিহাদের সিদ্ধান্ত নিবে রাষ্ট্র প্রধান। রাষ্ট্র ব্যতিত একাকি বা দল বেঁধে কোন ধরনের লড়াইকে জিহাদ বলা যাবে না। এটা সন্ত্রাস বলে বিবেচিত হবে। তবে শাব্দিক অর্থে যে কোন ভাল কাজ করার চেষ্টা,যে কোন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও জিহাদ হিসাবে গণ্য। আল্লাহ ভাল জানেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি।
রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে শত্রুবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করাকে ইসলামী পরিভাষায় জিহাদ বলে। সুতরাং জিহাদ একা একা করা যায় না, জিহাদ হয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে।আর জিহাদের শাব্দিক অর্থ চেষ্টা করা। জাকির নায়েক সাহেবের জিহাদকে শাব্দিক অর্থে নিতে হবে। পারিভাষিক অর্থে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বিস্তারিত জানার জন্য ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি পড়ন।
ভাই, আপনি স্যার রহ. এর লেখা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি পড়ুন, তারপও যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে করবেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাধারণভাবে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত নিহত ব্যক্তিই শহীদ হিসাবে বিবেচিত আর শহীদদের সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম সমূহ এমন ব্যক্তির ক্ষেতেই প্রযোয্য। এছাড়া সহীহ হাদীসে আরো অনেক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সা. শহীদ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন পেটের পীড়া ও মহামারীতে মারা যাওয়া ব্যক্তি, নিজের সম্পদ রক্ষার্থে যিনি মারা যান, ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি, কোন কিছুতে চাপা পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মারা যায় (যেমন সালাত আদায় কিংবা ইলম শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তি), সন্তানের প্রসবের সময় যে মহিলা মারা যায়, সাপে কামড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হিংস্র পশুর আক্রমনে মারা যাওয়া ব্যক্তি, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে মারা যাওয়া ইত্যাদি। তবে জিহাদ কর মারা যাওয়া ব্যক্তিই সর্বোত্তম শহীদ। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৮০, ৫৭৩৩; সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৫০৪৯, ৫০৫০। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ত্বকীউদ্দিন নদবী, তালীক মুয়াত্তা মালিক, ২/৮১, হাদীস নং ৩০১।