ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের লেনদেনে জড়ানোই তো হারাম হয়েছে। এখন তো আর কিছু করার নেই। প্রথমে নিজেরটা শোধ করুন, তারপর বাবারটা।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বাজারে এত পানির বোতল থাকতে মদের বোতল পরিস্কার করে কেন পানি পান করতে হবে সেটা বোধগম্য নয়। তবে পরিস্কার করে পবিত্র হলে পানি পান করা যাবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিকাশ সুদভিত্তিক একটি ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত, তাদের আয়ের মধ্যে হারাম-হালাল আছে। তাই তাকওয়র দাবি হলো এই টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদেরকে দিয়ে দেওয়া, আর যদি না গ্রহনের কোন সুযোগ থাকে তাহলে গ্রহন না করা। তবে তাদের টাকার মধ্যে হারামের সাথে হালাল টাকা থাকার কারণে অনেক আলেম নেওয়া জাযেজ বলেছেন। অনেকে আবার না জায়েজ বলেছেন, কারণ এর ভিতর সুদের হারাম টাকা থাকে। মোটকথা এগুলো থেকে বেঁচে থাকা একজন প্রকৃত মূ’মিনের দায়িত্ব।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি সেই টাকা তাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে খরচ করেন তাহলে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে না, তাদের জন্য যা কিনেছেন সেগুলো তাদের দিয়ে দিবেন। আর যদি নিজের ব্যক্তিগতকাজে খরচ করেন তাহলে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে, তাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কাজ না কারণে আপনি পরীক্ষার কারণে কোন পারিশ্রমিকও পাবেন না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। বেশী ছাড় দিতে সমস্যা নেই। তবে বেশী ছাড় দিলে ব্যবসা শেষ পর্যন্ত না টিকার সম্ভাবনা থাকে। বাজার যেভাবে চলে সেভাবে ব্যবসা করলে স্থায়ীত্ব পাবেন।
২। এ জাতীয় ওষুধের ব্যবহার হারাম হালাল হওয়াটা ব্যবহার বা সেবনকারীর উপর বর্তায়। দোকানে বিক্রি করলে সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
৩। প্যাকেটের গায়ে যা আছে তা নিলে তো আর ছাড় দেয়া হবে না। অবশ্যই ছাড় দেয়া যাবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনাকে আর ঐ টাকা ফেরৎ দিতে হবে না। অন্য কিছুও করতে হবে না। ঐ টাকার মালিক আপনি।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহ. এর মতে উক্ত পদ্ধতি জায়েজ আছেে। এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, وَلَوْ دَفَعَ دَابَّتَهُ أَوْ نَخْلَةً إلَى مَنْ يَقُومُ بِهِ وَلَهُ جُزْءٌ مِنْ ثَمَانِيَةٍ صَحَّ، وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَحْمَدَ অর্থ: যদি কোন ব্যক্তি কাউকে পশু কিংবা গাছ লালন-পালন বা দেখা-শোনার উদ্দেশ্যে দেয় আর তার জন্য তার (পশুর বা ফলের) একটি অংশ নির্ধারণ করা হয় তাহলে সহীহ হবে। এটা ইমাম অহমাদ থেকে বর্ণিত। হানাফী মাজহাবে জায়েজ নেই। তবে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ বলেছেন-এ পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাবে জায়েজ। তাই কোন এলাকায় যদি এটি ব্যাপক প্রচলন হয়, আর এ ছাড়া আর কোন পদ্ধতি সহজ না হয়, তাহলে উক্ত পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী আমাদের মাযহাবেও জায়েজ হিসেবে করা যাবে। {ইমদাদুল ফাতওয়া-৩/৩৪২-৩৪৩} সুতরাং বর্তমানে এটা জায়েজ হিসাবেই ধরা হবে,তবে বিরত থাকা উত্তম।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি যে সদাকার বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন সেটা ঈদুল ফিতরের শেষে সদকাতুল ফিতরের বিষয়ে বলা হয়েছে। অধিনস্ত বলতে নিজের না বালেগ ছেলে-মেয়ে এবং দাস-দাসী উদ্দেশ্য। বোন বা অন্যান্য আত্নীয়রা নয়। এমনকি নিজের স্ত্রীর এবং বালেগ ছেলে মেয়ের পক্ষ থেকেও এই সদকা দেয়া ওয়াজিব নয়। এই সদকা ওয়াজিব। এর বাইরে আপনি যে কোন নফল সদকা যে কারো জন্য করতে পারেন কোন সমস্যা নেই।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইসলামের দৃষ্টিতে দেন মোহর ফরজ। ইসলামের যে বিধানগুলো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বারবার বিভিন্ন আয়াতে বয়ান করেছেন ঐসব বিধানের অন্যতম হচ্ছে নারীর মোহর। কত প্রসঙ্গে কতভাবে যে আহকামুল হাকিমীন আল্লাহ এই বিধানটি বয়ান করেছেন! বিবাহ-বন্ধনের প্রসঙ্গে, বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রসেঙ্গ, ঈমানদার ব্যক্তি ও সমাজের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে, জাহেলী-সমাজের বর্বরতা রোধ প্রসঙ্গে মোটকথা অনেকভাবে অনেক জায়গায় মোহরের বিধান বর্ণনা করেছেন। তাই কুরআন মজীদে যেমন আছে এর আইন ও বিধানগত দিক তেমনি আছে নৈতিক ও মানবিক দিক, যা মুমিনের চিন্তা ও মস্তিষ্কের পাশাপাশি আলোড়িত করে তার কলব ও হৃদয়কেও। এই সকল কিছুর সাথে মুমিন নর-নারীকে স্মরণ করানো হয়েছে আল্লাহর আদালত ও বিচার-দিবসের অমোঘ সত্যের কথা।
অন্য ধর্মের লোকদের সাথে সাধারণ ব্যবসা বা লেনদেনে মুসলিমদের কোন সমস্যা নেই। তবে সেই ব্যবসার লাভের টাকা যদি তারা মুসলিমদের ক্ষতি করার পিছনে খরচ করে তাহলে আলেম ও ফকীহগণ বলেছেন তাহলে তাদের সাথে ব্যবসা করা যাবে না, জায়েজ নেই।
প্রয়োজনে ব্যাংকে টাকা রাখতে পারেন তবে ঐ টকার যে, সুদ হবে তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া কোন গরীব মানুষকে দিয়ে দিবেন। তবে সর্বাবস্থায় অন্য কোন সুযোগ থাকলে ব্যাংকে যে কোন ধরণের লেনদেন থেকে বিরত থাকা উচিত।