ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এক সালামেও পড়তে পারেন আবার দুই সালামেও পড়তে পারেন। বাধা ধরা কোন নিয়ম নেই। তবে আমার মনে হয় এক সালামে পড়াই ভাল।
দুই রাকআত নামায পড়তে তো ৫-৭ মিনিটই লাগার কথা। বক্তব্য তো লম্বা হতেই পারে। সমস্য কোথায় বুঝলাম না। নামাযের ওয়াক্তের ভিতর নামায পড়লেই তো হলো।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। না, কোন দলীল নেই। ২। স্পষ্ট করে প্রশ্নটি করুন। আপনি কী জানতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়।
আপনার ইচ্ছা। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ৩ খুতবা সম্বলিত পদ্ধতি এই কথাটি ঠিক নয়। এই ধরণের কথা আপত্তিকর।নিশ্চয় আপনি এই কথাটি নিজ থেকে বলছেন না, কারো থেকে শুনেছেন। জুমুআর খুৎবার আগে মানুষের বুঝার জন্য একটি বাংলা বক্তৃতা হয়। আর জুমুআর খুৎবার আগে বক্তৃতা করা সহীহ সূত্রে সাহাবীদের থেকে প্রমানিত। আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. খুতবা দিতে আসার পূর্বে মানুষদেরকে হাদীস শুনাতেন বলে হাদীসে বর্ণিত আছে। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৩৬৭। যারা আরবী জানেন তাদের জন্য হাদীসটির মূল পাঠ দিয়ে দিলাম। 7- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُومُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى جَانِبِ الْمِنْبَرِ فَيَطْرَحُ أَعْقَابَ نَعْلَيْهِ فِي ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ يَقْبِضُ عَلَى رُمَّانَةِ الْمِنْبَرِ ، يَقُولُ : قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ يَقُولُ فِي بَعْضِ ذَلِكَ : وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فَإِذَا سَمِعَ حَرَكَةَ بَابِ الْمَقْصُورَةِ بِخُرُوجِ الإِمَامِ جَلَسَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ ইমাম হাকীম হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, ইমাম সাহেব খুতবা দিতে আসার পূর্বে হাদীস বর্ণনা করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুআ ও চার রাকআত বাদালা জুমুআ পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। দুই দুই রাকআত করে পড়তে পারেন আবার চার রাকআত করেও পড়তে পারেন। জুমুআর শেষেও চার রাকআত পড়তে পারেন। ফরজ ও ওয়াজিব বাদে সব নামাযের নিয়ত এক। নফল সুন্নাত আলাদা করার কোন সুযোগ নেই।
চার রাকআত যুহর পড়বেন।
রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 0469 নং প্রশ্নের উত্তর্। জুমুআর ফরজের পরে দুই, চার বা এর চেয়ে বেশী সংখক রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় পারেন। নিচের হাদীসগুলো দেখুন: عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে সালাত আদায় করেছি যুহরের আগে দুই রাকআত, যুহরের পরে দুই রাকআত, জুমুআর পরে দুই রাকআত, মাগরিব পরে দুই রাকআত এবং এশার পরে দুই রাকআত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯। عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জুমুআর নামায পড়বে সে যেন তার পরে চার রাকআত আদায় করে । সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২০৭৩। উক্ত হাদীসদ্বয়ে আমরা দুই এবং চার রাকআত পড়ার প্রমান পায়। এছাড়া সাহাবীদের থেকে ছয় রাকআত পড়ার কথাও সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়। সুন্নাত নামায রাকআত নির্দিষ্ট নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নীচের হাদীসদুটি লক্ষ্য করুন।
أن أبا هريرة أخبره أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال إذا قلت لصاحبك يوم الجمعة أنصت والإمام يخطب فقد لغوتঅনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন তুমি তোমার পাশের জনকে জুমআর দিন বল-চুপ থাক এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছে, তাহলে তুমি অযথা কাজ করলে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৮৯২।
عن أبي الدرداء قال : جلس رسول الله صلى الله عليه و سلم يوما على المنبر فخطب الناس وتلا آية والى جنبي أبي بن كعب فقلت له يا أبي متى أنزلت هذه الآية قال فأبى أن يكلمنى ثم سألته فأبى أن يكلمنى حتى نزل رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال لي أبي مالك من جمعتك إلا ما لغيت فلما انصرف رسول الله صلى الله عليه و سلم جئته فأخبرته فقلت أي رسول الله انك تلوت آية وإلى جنبي أبي بن كعب فسألته متى أنزلت هذه الآية فأبى أن يكلمنى حتى إذا نزلت زعم أبى أنه ليس لي من جمعتي إلا ما لغيت فقال صدق أبي فإذا سمعت أمامك يتكلم فأنصت حتى يفرغ
আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে বসে মানুষের উদ্দেশ্যে খোতবা দিচ্ছিলেন। তিনি একটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। আমার পাশে ছিল উবাই ইবনে কাব। আমি তাঁকে বললাম: উবাই; এ আয়াতটি কখন নাযিল হয়েছে? তিনি আমার সাথে কোন সাড়া দিলেন না। আমি এরপরেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তারপরেও তিনি কোন সাড়া দিলেন না। এক পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিম্বার থেকে নামলেন তখন উবাই আমাকে বললেন: তুমি যে অনর্থক কথা বলেছ সেটা ছাড়া তুমি জুমার কোন সওয়াব পাবে না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামায শেষ করলেন তখন আমি তাঁর কাছে এসে বিষয়টি জানালাম: তখন তিনি বললেন, উবাই ঠিক বলেছে। যখন ইমাম কথা বলা শুরু করে তখন ইমাম কথা শেষ করা পর্যন্ত চুপ থাকবে”।মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৭৭৮, সুনানে ইবেনে মাজাহ, ১১১১। হাদীসটি সহীহ।
সুতরাং ঐ খাদেমের কথা সঠিক নয়। কোন খুতবা চলাকালীন কথা বার্তা বা অন্য কোন কাজ করা যাবে না।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাত বাদে অন্য সকল সালাত বাড়িতে পড়া যায় এবং বাড়িতে পড়াই উত্তম। সুতরাং জুমআর আগের সুন্নাতও বাড়ি পড়তে পারেন। এই বিষয়ে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। তার মধ্যে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة.হে লোকসকল! তোমরা বাড়িতে সালাত আদায় করো, কেননা ফরজ সালাত বাদে সকল সালাত নিজ বাড়িতে পড়া সর্বোত্তম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৩৯০-৩৯২। এছাড়া জুমুআর দিন মসজিদে এসে সুন্নাত সালাত আদায় করার কথাও হাদীসে আছে।
ওয়া আলাইকুমুস সালমা। হ্যাঁ, জুমুআর বয়ান মাইকে দেয়া জায়েজ আছে। কী ফিৎনা সৃষ্টি হবে বুঝলাম না। বর্তমানে অনেক মসজিদে মাইকে খুৎবা দেয়া হয়। আমাদের ”আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর আস-সুন্নাহ মাসজিদ কমপ্লেক্স” -এ ও খুৎবা-বয়ান মাইকে দেয়া হয়।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনি প্রশ্নটি আরো স্পষ্ট করলে ভাল হতো। কোন দেশে আছেন, মসজিদ কত দূরে, আপনার কতজন মুসলিম আছেন ইত্যাদি। তবে আপনার জন্য যদি মসজিদে যাওয়া সাধারণভাবে সম্ভব না হয় এবং যেখানে থাকেন সেখানে কোন স্থানে জুমার নামাযের জামাত কায়েম করার কোন সুযোগ না থাকে তাহলে জুহরের নামায পড়বেন। আর সম্ভব হলে জুমুআর নামায পড়বেন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে জুমুআর ফরজ নামাযের আগে পরের সুন্নাত-নফল নামাযের রাকআত সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং সহীহ হাদীসে আছে খুতবা আরম্ভ হওয়া পর্যন্ত সুন্নাত নামায পড়বে। জুমুআর পরে কোন কোন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. চার রাকআত পড়ার কথা বলেছেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৭৪), আবার কোন কোন হাদীসে আছে তিনি দুই রাকআত পড়েছেন (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৯)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে উল্লেখ আছে তিনি ফরজের আগে চার রাকআত পড়তে বলেছেন। আপনি যতটুকু পারবেন পড়বেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى
সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:
عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.
অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন,
وهذا سند صحيح لا علة فيه
অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى
সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:
عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.
অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদেরকে সুন্নাতের অনুস্বরণ করতে হবে।