আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এ আপনাকে স্বাগতম

প্রশ্নোত্তর

ক্যাটাগরি
সব প্রশ্ন অর্থনৈতিক আকিকা আকীদা নামায আখিরাত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদব আখলাক ইতিহাস ঈদ-কুরবানী ঈমান তাওহীদ রিসালাত জানাযা-কবর যিয়ারত জান্নাত-জাহান্নাম জিহাদ তাফসীর ত্বহারাত পবিত্রতা সফর জুমআ তারাবীহ নফল সালাত বিতর পোশাক-পরিচ্ছেদ ফারায়েজ ফিতরা বিচার-আচার বিবাহ-তালাক মানত যাকাত যিকির/দুআ/আমল রোজা লেনদেন শিরক-বিদআত সাধারণ দান-সদকাহ সিরাত/সামায়েল সুন্নাত হজ্জ হাদীস ও উসূলুল হাদীস হালাল হারাম বিবিধ কুরআন হাদীস বাতিল ফিরকা দাওয়াত ও তাবলিগ জাদু-টোনা মসজিদ মুসাফির রমযান সুদ-ঘুষ হালাল ইতিকাফ কাজা/কাফফারা গুনাহ জায়েয তায়াম্মুম ব্যক্তিগত ও তাবলিগ সদকাহ বিদআত কসর তাওবা জিন-পরি ব্যবসা-বাণিজ্য বই অসিয়ত
প্রশ্নঃ 2169
bidati alem er pichone ki namaz pora jabe?
21 Jan 2026

জামাত ত্যাগ করা যাবে না। কোন ভাল ইমাম না থাকলে বিদাতীর পিছনেই নামায পড়তে হবে।

প্রশ্নঃ 2153
Procholito poddotite Namaz aday kora shothik kina bistarito janaben please.
21 Jan 2026

প্রচলিত পদ্ধতি বলতে কী বুঝাচ্ছেন স্পষ্ট করে লিখলে ভাল হয়। আমাদের দেশে সাধারণত যে পদ্ধতিতে নামায পড়া হয় তা সহীহ সুন্নাহ সম্মত।

প্রশ্নঃ 2146
আস সালামু আলাইকুম। ফরজ, সুন্নাত, নফল সব নামাযেই কি দরুদের পরে দোয়ায়ে মাসুরা এর পরিবরতে অথবা এর পরে (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন আযাবিল কব্রি…) এই দোয়া পরা যাবে? একটু বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। 🙂
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সব নামাযের মধ্যেই পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 2145
আসসালামু আলাইকুম.. প্রশ্ন : আমার স্বাস্থ মোটা এবং ওজন বাড়ার ও কোমর ব্যাথার কারনে চেয়ারে বসে নামাজ পরি.. আমি দারিয়ে সব কিছু করি.. রুকু ঠিকমত দেই ৷ সিজদার সময় চেয়ারে বসে অর্ধেক ঝুকে সিজদা দেই ও চেয়ারে বসে তাশাহুদ পরি.. আমি সিজদা যদি কষ্ট করে দেইও.. আমি আর দাড়াতে পারিনা এবং ঠিকমত পা ভাজ করে বসতেও পারিনা… আমি খুব মানসিক কষ্ট পাচ্ছি.. আমার নামাজ হচ্ছে কি না? আমাকে কোন সহিহ মাছলা দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন৷
21 Jan 2026

আপনি যতটুকু সম্ভব দাঁড়াবেন এবং চেয়ারে বসে নামায পড়বেন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করে দিন।

প্রশ্নঃ 2143
আসসালামু আলাইকুম ১। জামায়েতের নামাযে যেকোনো রাকাতের যদি একটা সিজদাহ পর গিয়ে জামায়েতে অংশগ্রহণ করা হয় তাহলে কি করণীয়? ১ম- পরবর্তী রাকাতের জন্য অপেক্ষা করব? ২য়- তখনই নামাযে অংশগ্রহণ করব? ৩য়- যদি ২য় হয় তাহলে তো একটা সিজদাহ বাদ যাচ্ছে। তখন কি করনীয়? এই সিজদাহ কি আদায় করতে হবে? আর যদি করতে হয় কখন এবং কিভাবে আদায় করতে হবে? আশা করি প্রশ্ন বুঝতে পেরেছেন। ২। ওযু করার পর গান শুনলে বা টিভি দেখলে বা মিথ্যা বললে কি ওযু ভেঙে যায়? আমি যতটুকু জানি ভাঙে না কিন্তু আমাকে একজন বলল আবার ওযু করতে হবে। সঠিকটা জানতে চায়। ৩। মোবাইলে বাংলা অনুবাদসহ কুরআন শরীফ কি শুয়ে শুয়ে পড়া যায়?
21 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। তখনই নামাযে অংশগ্রহণ করবেন। তবে এটাকে রাকআত হিসেবে ধরা হবে না। সুতরাং ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর পূর্ণ এক রাকআত আদায় করতে হবে।

২। না, ওযু ভাঙ্গে না। আর ওয়ু ভাঙলেতো সমস্যা ছিল না, ওয়ু করলেই হয়ে যেত। কিন্তু এসব করলে তো মস্তবড় গুনাহ হয়। ওযু করে তো সেই গুনাহ মাফ হয়ে যাবে না। সুতরাং গান শোনা বা টিভি দেখা ছাড়ুন।

৩। হ্যাঁ, পড়া যায়।

প্রশ্নঃ 2125
আসসালামুয়ালাইকুম, বিভিন্ন সময় আমরা শুনি নামাজের শেষে সালাম ফিরার আগে দোআ কবুল হয়। নামাজের শেষে তো দোয়া মাসুরা (আল্লাহ হুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি)পড়ি তার পর কি দোআ পড়ব, যে দোআ গুলো সিজদায় পড়ি, বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে দুআ মাসুরা সাধারণত পড়া হয় সেটা ছাড়াও আপনি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়তে পারেন। দুআ মাসুরা অর্থ হলো কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত দুআ। যে দুআটির কথা আপনি লিখেছেন সেটাও একটি দুআ মাসূরা। সেটা বাদেও আপনি অন্য যে কোন দুআ মাসুরা পড়তে পারেন। একাধিক দুআও পড়া যায়। রুকু ও সাজদাতে তাসবীহ পড়া হয়. এগুলো দুআ নয়। কারণ দুআ হলো যেখানে কিছু চাওয়া হয় আর তাসবীহতে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করা হয়।

প্রশ্নঃ 2100
১. আসালামু আলাইকুম, ফরজ সালাতের সময় ২য় রাকাতে আমার সামনের ব্যক্তি (সম্ভবত ওজু নষ্ট) চলে যায়, সে ক্ষেত্রে আমি নামাজের মধ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় হেঁটে গিয়ে সামনের কাতার পুরণ করি, এক্ষেত্রে কি আমার নামাজের কোন সমস্যা হবে ? বা এটা করা কি জায়েজ ?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনার নামাযের কোন সমস্যা হবে না।  ডানে বামে না তাকিয়ে সামনে সোজা গিয়ে কাতার পূরণ করলে নামাযের কোন সমস্যা হবে না। 

প্রশ্নঃ 2122
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহ – প্রথমে আমার ভুল ক্ষমা করবেন । আমি নামায এর প্রথম তাকবির থেকে শুরু করে সালাম ফিরানো পর্যন্ত কোথায় কোন দোয়া বা কি কি করবো এসম্পর্কে সঠিক তথ্য সংক্ষিপ্ত করে আমায় দোয়া করে জানাবেন । যেমনঃ- ১. রুকুতে কোন দোয়া? ২. সিজদায় কোন দোয়া বা কোনটা পড়বো? ৩. দুই সিজদায় মাঝখানে কোন দোয়া পড়বো? ৪. দ্বিতীয় রাকাত শেষ করে প্রথমে কখন কোন দোয়া বা সুরা তারপর কোন দোয়া পড়বো তারপর কোনদোয়া? এবং অন্যান্য কিছু আমার ভুল ত্রুটি ক্ষমা কবেন ।
20 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করা কষ্টকর। তাই আপনি স্থানীও কোন আলেমের কাছ থেকে জেনে নিন। অথবা ফোন করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 2116
assalamualaikum, namaz er somoy pant er nicher ongsho vaz kore taknur upor porle namaz hobe kina? (pant vaz kore dile namaz hobe kina?)
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি, নামায হবে, কোন সমস্যা নেই। তবে একটি কথা, অনেকে মনে করে শুধু নামাযের সময় প্যান্ট বা পাজামা টাকনুর উপরে পরতে হয় অন্য সময় না উঠালেও সমস্যা নেই। এটা ভুল চিন্তা। হাদীসে সর্বাবস্থায় টাকনুর উপরে প্যান্টা/পাজামা পরার জন্য বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ. পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ টাকুনর নিচে থাকবে শরীরের সেই অংশটুকু জাহান্নামে যাবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৮৭।

প্রশ্নঃ 2113
আসসালামু আলাইকুম। আমার মনে হইছে রাতে আমি বাজে স্বপ্ন দেখেছি (তবে সিউর না), আমি ঘুম থেকে উঠে আমার পোশাকে কোনো দাগ বা ভেজা পায় নাই। তাই আমি গোসল না করে পোশাক না পাল্টায়ে নামায পড়েছি। কিন্তু সন্ধ্যা বেলায় আমি আমার বিছানার চাদরে ভেজা দাগ পাইছি। সারাদিন বাইরে ছিলাম তাই আগে দেখি নাই। তবে আমি সিউর বলতে পারতেছি না এটা কিসের দাগ। এখন আমার প্রশ্ন হলো আমাকে ওই নামায আবার পড়তে হবে? আর যদি তাই হয় তাহলে আমি কি গোনাহগার হয়েছি?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, আপনাকে নতুন করে নামায পড়তে হবে ন।

প্রশ্নঃ 2110
ভোরের আযানে আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম বাক্যটি মহানবী (সা) এর আমলে ছিল না। বরং দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাঃ এই বিদয়াত চালু করেন। [রেফারেন্সঃ Muwatta of Malik, Book 3, Hadeeth Number 3.1.8; Al-Farooq by Allama Shibli No mani, page 295, published in Karachi; Muwatta Imam Malik, Dhikr e Adhan. Izalatul Khifa, volume 3, page 328, Sunan e Adhan; Kanz al Ummal volume 4, page 270, Dhikr e Adhan; Seerat al Halabiyah, volume 2, page 303, Dhikr e Adhan; Nail al-Awtar, volume 2, page 43; Sunan al-Kubra, page 425, by al-Beyhaqqi; Tareekh Baghdad, volume 9, page 409; Mishkat al Masabeeh, Volume 1 page 142 মোয়াত্তাতে যা লেখা আছে তা এখানে তুলে ধরছি- একদিন ভোরে মুয়াজ্জিন এসে হজরত ওমরকে ডাকতে লাগল। হজরত ওমর তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তো মুয়াজ্জিন তাঁকে ডাকতে লাগলেন এবং বললেন আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম, নামায নিদ্রার থেকেও উত্তম। হজরত ওমরের এই বাক্যটি খুব ভালো লাগল এবং তার পর থেকে তিনি ভোরের আযানের সাথে এই বাক্যটি যুক্ত করার আদেশ দিলেন। এটা কি সত্যিই?
19 Jan 2026

ভোরের আযানে আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম বাক্যটি মহানবী (সা) এর আমলে ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই এটা শিক্ষা দিয়েছেন। একাধিক সাহাবী থেকে সহীহ সনদে এটি বর্ণিত। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০০, ৫০১; সুনানু নাসাই, হাদীস নং ৬৪৭, সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৭১৬। শায়খ শুয়াইব আরনাউত রহ., শায়খ আলবানী রহ.সহ সকল মুহাদ্দিস হাদীসটিগুলোকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 2107
আসসালামুয়ালাইকুম, আল্লাহ আপনাদের এই মহান কাজের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার প্রশ্ন স্বামী-স্ত্রী জামাত করে সালাত আদায় করতে পারবে কিনা?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পুরুষরা মসজিদে সালাত আদায় করবে, এটাই নিয়ম। তবে এমনটি করতে চাইলে স্বামীর পিছনে স্ত্রীকে দাঁড়াতে হবে।

প্রশ্নঃ 2105
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। ১। যোহরের ফরজ নামাজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়ার নিয়ত করে নামাজ পড়তেছি। ২ রাকাতের শেষের দিকে ফরজ নামাজের জন্য জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। আমি ২ রাকাতেই সালাম ফিরিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করলাম। আমার প্রশ্ন হলো আমার সুন্নাত কি আদায় হবে বা এমন করা যাবে কি? ২। যোহর নামাজ পড়তে মসজিদে যেয়ে দেখি জামাতের সময় আর বেশি বাকি নাই। আমি সুন্নাত ৪ রাকাত পড়তে গেলে ফরয নামাজ ১ বা ২ রাকাত আমি পাবো না তবে আমি ২ রাকাত পড়তে পারবো ঐ সময়ের ভিতরে। এই সময় আমার কি করা উচিত? ২ রাকাত কি সুন্নাত পড়া যাবে কি অথবা তাহিয়াতুল মসজিদ পড়ব? ৩। ইমাম সাহেবের পিছনে নামাজের সময় যদি আমাদের কোন ওয়াজিব অংশে ভুল হয় (যেমন ২ রাকাত পরে কেউ যদি না বসে উঠে যাই বা আত্তাহিয়াতু পড়তে ভুল হলে বা সিজদা বা রুকু তে তাসবিহ পড়তে ভুল হলে বা যেকোনো ওয়জিব ভুল হলে) কিন্তু ইমাম সাহেব ঠিকভাবে নামাজ পড়িয়েছেন সেক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়? আমাদের কি পুনরায় নামায পড়তে হবে? ৪। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কি আল্লাহ এর জিকির করা যাবে বা দরুদ শরীফ পড়া যাবে কি? রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মোবাইল এ হেডফোনের মাধ্যমে কুরআন শরীফ বাংলা অনুবাদসহ শুনা যাবে কি?
19 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১ ও ২। আপনি দুরাকাতেই সালাম ফিরিয়ে জামাতে অংশগ্রহন করবেন।হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. যুহরের আগে দুরাকাতো অনেকসময় পড়েছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৩৭।সুতরাং সময় কম থাকলে আপনি দুরাকাতই আদায় করবেন। ৩। আপনার নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। নতুন করে নামায পড়তে হবে না।

প্রশ্নঃ 2104
ফজরের সলাতে জামাত শুরু হয়ে গেলে কি সুন্নাতের নিয়ত করা যায়?
19 Jan 2026

এই বিষয়ে সাহাবীদের আমল দুই রকম। কেউ পড়েছেন। কেউ পড়ে পড়েছেন। অর্থাৎ অন্তত এক রাকআত পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হলে পড়া যাবে বলে অনেকে বলেছেন। আবার অনেকে বলেছেন ঐ সময় না পড়ে সূর্য ওঠার পরে পড়বে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে রাহে বেলায়াত দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 2096
আমার স্ত্রী নামাজ পড়ে না, পর্দা করে না। আমার কি পাপ হবে?
19 Jan 2026

জ্বী, আপনার পাপ হবে।  ভালো করার চেষ্টা করুন।   বিয়ের আগে এসব দেখে বিয়ে করতে হয়। বিয়ের পরে একবারে ভালো হবে না। ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন। এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। 

প্রশ্নঃ 2091
আমরা হানাফিরা সেভাবে সাহু সেজদা করি তার কি কোন সহিহ দলিল আছে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
19 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি। ১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসটি যয়ীফ এটা ঠিক নয়। মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে। আরো জানতে দেখুন, সুনানু তিরমিযী ২৯৬নং হাদীসে ইমাম তিরমিযী রাহ. এর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 2066
Asslamualaikum, Muhtaram sheikher rahe belaet kitabe ekta hadis porlam muajjin azane ja bole hubahu ta bolar por dorud pora tarpor osilar doa pora . Amr proso hocche amra ki namaze j dorud pori tai porbo? abr onkek k dekhi azaner sese kalema pore kalema porar por amra nobijir nam near pore (sa), boli seta bole osilar doa pore .ekhetre sahabider sunnot jante cai?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, নামাযের মধ্যকার দরুদ এই সময়ে পড়তে পারেন। রাহে বেলায়াত অনুযায়ী আমল করুন, এটা নিরাপদ হবে।

প্রশ্নঃ 2053
কেউ যদি ফজরের নামায আদায়ের পর টের পায় যে তার কাপরে নাপাকি ছিল তাহলে কি সেই নামায আবার আদায় করতে হবে? (ঘুমের ভিতর কি হয়েছিল সেই অবস্থা তার স্মরণ নেই, কিন্তু নামাযের পর বুঝতে পারল)
18 Jan 2026

জ্বী, পূনরায় আদায় করতে হবে। নামাযের জন্য পবিত্রতা শর্ত। পবিত্রতা ছাড়া নামায আদায় করলে তা পূনরায় আদায় করতে হয়।

প্রশ্নঃ 2051
আমার বাড়ী গাজীপুর। থাকি ময়মনসিংহে। শ্বশুর বাড়ি দারুস সালাম (ফুরফুরা দরবারের পাশে)। গাজীপুর থেকে ফুরফুরার দূরুত্ব প্রায় ৫০ কি.মি.। এখন আমি একই দিনে যদি দারুস সালাম হয়ে ময়মনসিংহ যাই, তাহলে দারুস সালামে থাকাবস্থায় নামাযের ওয়াক্ত হলে কছর করতে হবে কি না?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, যদি একা একা নামায পড়েন তাহলে কসর করবেন। আর যদি মসজিদে জামাতের সাথে পড়েন তাহলে তো আর কসর করতে হবে না।

প্রশ্নঃ 2048
আচ্ছালামু আলাইকুম, ফজরের ফরজ দুই রাকাত নামাজে ইমাম সুরা ফাতিহার পর একই সুরা দুই রাকাতেই পড়িয়েছে। কিন্তু সেজদাহ সাহু করে নাই। এই নামায কি হইছে নাকি আবার আদায় করতে হবে?
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায হয়ে গেছে। দুই রাকাতে ভিন্ন ভিন্ন সূরা পড়া আবশ্যক নয়। সাজাদায়ে সাহু দেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ 2047
সূর্যোদয় এর পরে ফজর সালাত পড়লে দুই রাকাত সুন্নাত পড়তে হয় কি না?
18 Jan 2026

হ্যাঁ, দু রাকআত সুন্নত পড়তে হবে। এক সফরে রাসূলুল্লাহ সা. এব সাহাবীগণ সূর্য উদয়ের পর ঘুম থেকে উঠলেন তখন বিলাল রা. আযান দিলেন আর সবাই প্রথমে দুই রাকআত সুন্নাত এরপর দুই রাকআত ফরজ পড়েন। হাদীসের শব্দগুলো হলো وَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّوُا الْفَجْرَ সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৭। হাদীসটি সহীহ। অন্য বর্ণনায় আছে রাসুলুল্লাহ সা. প্রথমে দুই রাকআত সুন্নাত পড়লেন তারপর ফরজ পড়লেন।হাদীসের শব্দগুলো হলো فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৫৯৪।

প্রশ্নঃ 2039
আসসালামুয়ালাইকুম ভাইধন্যবাদ আপনাকে আমার আগের প্রশ্ননের উত্তরের জন্য আমার প্রশ্ন ছিল আমি জেহেরি সালাত এ সুরাহ ফাতিহা না পরে শুনব আর সিররই সালাত(জহর+আসর+ শেষ রাকাত মাগ্রিব অও এশা) এ পরব যেন কুরানের আয়াত আর হাদিসের সমন্বয় হয় । ।আশলে ভাই আমি এই সমন্বয়টা নিজে নিজে করি নাই আমি জাহাঙ্গির স্যর তারপর কামাল উদ্দিন জাফ্রি স্যর উনাদের ভিডিও পাশাপাশি আর কিছু লেকচার শুনেছি। যদি সম্ভব হইয় একটু কষ্ট করে স্যর আর ভিডিওর শেষের অংশ টা দেখে জানাবেন আশলে কিভাবে পরা উচিত যদি আমি পরতে চাই। ধন্যবাদ https://www.youtube.com/watch?v=4SQkRR-L2pU
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যে পদ্ধতিটি জানতে চেয়েছেন সেটা হলো, ফজর, মাগরিব এবং এশার নামাযের কোন রাকআতেই আপনি ইমামের পিছনে পড়বেন না। জোহার এবং আসরের প্রথম দুই রাকআতে পড়বেন। শেষ দুই বা এক রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়া আবশ্যক নয় সুতরাং এই সময় কোন আলমই ইমামের পিছনে পড়াকে আবশ্যক বলেন নি। ইমামের পড়াই যথেষ্ট।

প্রশ্নঃ 2037
১। নামাজের উত্তম সময় কখন? প্রথম/মধ্যম/শেষ-কোনটি? ২। সেজদায় কোন দিকে দৃষ্টি দিতে হবে? ৩। তাশাহুদে কখন ইশারা করতে হবে? ইশারা করার সময় কি আঙ্গুল নাড়াতে হবে না স্থির রাখতে হবে? ৪। ইমাম নামাজে ভুল করলে কিভাবে ইমামকে সংশোধন করতে হবে?
18 Jan 2026

কোন কোন নামায প্রথম ওয়াক্তে পড়া উত্তম। আবার কোন কোন নামায বিলম্ব করে পড়া উত্তম। ইশার নামায বিলম্বে পড়া উত্তম। কেননা একদিন বেশী রাত হওয়ার পর এশার নামায আদায় করে রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন, لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي ، أَوْ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا عَلَى أُمَّتِي – لأَمَرْتُهُمْ بِالصَّلاَةِ هَذِهِ السَّاعَةَ. আমি যদি আমার উম্মাতের উপর (কঠিন হওয়ার) আশংকা না করতাম তাহলে এই সময় (ইশার) নামায পড়ার আদেশ দিতাম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৩৯। গরম বেশী হলে যুহরের সালাত বিলম্ব করে পড়া উত্তম। এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ.যখন গরম বেশী হবে তখন (যুহরের) নামায ঠান্ডা অবস্থায় পড়বে। সহীহ বুখরী, হাদীস নং ৫৩৫। অন্যান্য নামাযগুলো প্রথম ওয়াক্তে পড়া উত্তম। ২। এই বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। দৃষ্টি সাভাবিক রাখবেন। ৩। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্যার রহ. ইন্তেকালের পূর্বে এই প্রশ্নের একটি উত্তর আমরা তার তত্বাবাধানে দিয়েছি। যেটা আমাদের দেয়া ০২৪৯ নং প্রশ্নের উত্তর। আমি সেটা আপনার এখানে দিয়ে দিলাম। সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন, عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো আবার কোন কোন হাদীসে না নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০্ । মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা। ৪। সুবহানাল্লাহ বলা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 2036
সূরা ফাতিহা পড়া নিয়ে জটিলতা থেকে বাঁচার উপায় কি?
18 Jan 2026

সূরা ফাতিহা পড়া নিয়ে জটিলতা থেকে বাঁচার উপায় হলো ইমামের পিছনে কোন সূরা না পড়ে চুপ থাকা। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 2035
আসসালামুয়ালাইকুম ভাই আমার প্রশ্ন হল নামাজে সুরা ফাতিহা পরা নিয়ে আর আমি জানি এটা নিয়ে মতভেদ আছে। আমি হাদিস গুলো পরেছি আর জাহাঙ্গির স্যার সহ আরো বেশ কিছু হুজুর এর ভিডিও দেখার পর যতটুক বুঝেছি তা হল আমি যদি জেহেরি নামজে থাকি তখন ইমামের কিরাত শুনি তখন সুরা ফাতিহা পরি না আর যখন ইমামের কিরাত শুনা যায় না ( জোহর, আসর, আর মাগরিব+ এশার শেষ রাকাত) তখন সুরা ফাতিহা পরি যেন কুরানের আয়াত আর হাদিসের সমন্বয় করে নামাজ আদায় করতে পারি। আমার এ ভাবে ফাতিহা পরে সালাত আদায় করাটা কি সঠিক আছে কি না? আর যদি কোন ভুল থাকে দয়া করে জানাবেন। ধন্যবাদ।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন ও হাদীসের সমন্বয় আপনি নিজে নিজে করলে সেটা বিপজ্জনক হতে পারে। আপনাকে দেখতে হবে আপনার মত সমন্বয় কোন আলেম করেছেন কি না? এখন খোঁজ করুন এমন পান কিনা? আমার মনে হয় নিজে নিজে সমন্বয় না করে যে কোন একটা মত মেনে চলা অধিক নিরাপদ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 2033
যাদের জীবনে অনেক নামাজ কাযা হয়েছে (১০-১৫ বৎসর) এবং তার কোন সঠিক হিসাব নেই, এই ক্ষেত্রে শুধু তওবা করলে কি হবে নাকি সব কাজা নামাজ আদায় করতে হবে? যদি কাযা নামাজ আদায় করতে হয় তবে তা কিভাবে?
18 Jan 2026

অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। প্রত্যেক ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করার আগে বা পরে ঐ ওয়াক্তের কাজা নামাগুলো অল্প অল্প করে আদায় করা যেতে পারে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 2032
আসসালামু আলাইকুম, নামাযে সেজদারত অবস্থায় দোয়ার অনেক ফজিলত। মনে করেন, আমি দুই রাকাত নামযে ২য় রাকাতের শেষ সেজদায় অনেক মাসনুন দোয়া করলাাম। এই সেজদা অন্যান্য সেজদার তুলনায় অনেক লম্বা হয়ে যায়। সকল সেজদার দৈর্ঘ্য সমান থাকে না। এতে কি নামাযের কোন ক্ষতি হবে। আল্লাহ প্রিয় স্যার কে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক, এবং আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমিন।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সমস্যা নেই। তবে মসজিদে জামাতের সাথে নামাযে এমন করতে যাবেন না।

প্রশ্নঃ 2025
১। প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম স্যার, প্রশ্ন: সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত কসর নামাজ পড়া যাবে এবং কত মাইল দূরে গেলে কসর সালাত আদায় করতে হবে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব। ২। প্রশ্ন: নামাজে রুক, সেজদা এবং তাসাহুদে কোন দিতে দৃষ্টি দেতে হবে, দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারী রহ. বলেন, وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، وَابْنُ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُم ، يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا. ইবনে উমার এবং ইবনে আব্বাস চার বুরদ দূরে সফর করলে সালাত কসর করতেন এবং সিয়াম ত্যাগ করতেন। চার বুরদ হলেঅ ১৬ ফারসাখ। সহীহ বুখারী, ১০৮৬ নং হাদীসের আলোচনায়। আলেমগণের সর্বাক্যমতে ১৬ ফারসাখ দূরে কোথাও সফরের নিয়ত করলে সালাত কসর করতে হয়। আধুনিক হিসাবে ১৬ ফারসাফ ৮০ কি. মিটারের মত। ইবনে বাজ রহি. এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ৮০ কিলোমিটারের মত। আর মাইলের হিসাবে ৪৮ মাইল। দেখুন বিস্তারিত, একটি হাদীসে সূলুল্লাহ সা. বলেছেন তিনি বলেছেন, يَا أَهْلَ مَكَّةَ لاَ تَقْصُرُوا الصَّلاَةَ فِي أَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ হে মক্কাবাসীগণ তোমরা চার বুরদের কমে কসর করবে না। সুনানু দারে কুতনী, হাদীস নং ১৪৪৭। তবে হাদীসটির সনদে সমস্যা আছে। সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত কসর নামাজ পড়া যাবে এই বিষয়ে স্পষ্ট কোন হাদীস না থাকায় আলেমদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হাদীসের ব্যখ্যা করে তারা একাধিক মত পোষন করেছেন। ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে ১৫ কিংবা তার চেয়ে কম দিনের কম নিয়ত করলে কসর করা যাবে। আর ১৫ দিনের বেশী নিয়ত করলে আদৌ কসর করা যাবে না। ইমাম শাফেয়ী, মালেক রহ.সহ অনেকে বলেছেন ৪দিন অথবা তার কম নিয়ত করলে কসর করবে বেশী হলে আদৌ কসর করবে না। বিস্তারিত জানতে দেখুন মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৬২১৫ এবং এই ঠিকানায় ২। রুকুতে দৃষ্টি কোথায় রাখবে সে বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে কয়েকজন তাবেয়ী থেকে বর্ণিত আছে তারা সাজদার স্থানে রাখতে বলছেন। এবং ফকীহগণ এমনই মত দিয়েছেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। তাশাহুদুর সময় যে হাত দ্বরা ইশারা করা হয় সেই হাতের দিকে নজর রাখবে। রাসূলুল্লাহ সা. এমন করতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। হাদীসটির মূল পাঠ হলো عن عامر بن عبد الله بن الزبير عن أبيه : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان إذا قعد في التشهد وضع كفه اليسرى على فخذه اليسرى وأشار بالسبابة لا يجاوز بصره إشارته সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১২৭৫, হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 2022
আসসালামুলাইকুম, ঈশার সলাত দেরি করে পড়া কি ভাল? কারণ বুখারী শরীফের ৫৭১ নং হাদিস (তাওহীদ প্রকাশনী) পড়ে আমার মনেহইছে দেরিতে ঈসার সলাত আদায় করা ভাল। কিন্তু অনেকে বলে না। এই হাদিসের সঠিক দিক টা কি তাহলে? পুরুষেরা জামাতে সলাত পড়তে যায় কিন্তু মেয়েরা সাধারনত ঘরেই সলাত আদায় করে। এক্ষেত্রে মেয়েরা চাইলে এই হাদিসের উপর চলতে পারে।
18 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, ইশার সালাত দেরী করে পড়া মুস্তাহাব। তবে পুরুষের জন্য জামাতে সালাত আদায় করা জরুরী। তাই মসজিদে যখন জামাত হবে পুরুষেরা মসজিদে যাবেন আর মেয়েরা দেরী করে পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 2021
বর্তমানে মাগরিব নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং ইশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় ৭টা ১০মিনিটে। প্রশ্ন হলো- মাগরিবের নামায কি ৭ টা ১০ মিনিটের আগ পর্যন্ত আদায় করা যাবে।
18 Jan 2026

হ্যাঁ, মাগরিবের নামায ইশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পড়া যাবে। আপনার প্রশ্নমতে ৭ টা ১০ পর্যন্ত পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 2008
ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা না পড়লে নামাজ হবে কি? বা সঠিক নিওম কোনটা?
18 Jan 2026

ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। যে কোন একটি মতামত অনুযায়ী আমল করলেই নামায স হীহহ হবে। তবেদলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 2002
যদি পরিধেয় বস্ত্রে সামান্য পরিমাণ ছেড়া-ফাটা থাকে, যার কারণে নাভি হতে হাটু পর্যন্ত অংশের(সতর) সামান্য পরিমান দেখা যায়, তাহলে কি সেটা পরিধান করে সালাত করলে সালাত কবুল হবে?
18 Jan 2026

এমন কাপড় পরিধান করে সালাত আদায় করতে হবে যা পূর্ণ সতর কে আবৃত করে। তবে যদি কোন কারণে সামন্য পরিমাণ দেখা যায় যাকে মানুষ খারার হিসাবে মনে করে না তাহলে সালাত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. বলেন, فَإِنْ انْكَشَفَ مِنْ الْعَوْرَةِ يَسِيرٌ .لَمْ تَبْطُلْ صَلَاتُهُ نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ وَبِهِ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ যদি সতর সামান্য পরিমান খুলে যায় তাহলে নামায বাতিল হবে না। এমনেই বলেছেন, ইমাম আহামাদ এবং আবু হানীফা রহ.। আল-মুগনী ৩/১০। সামান্য পরিমানের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, যাকে সমাজে খারাপ মনে করা হয় না।

প্রশ্নঃ 1993
সালাতুল আওয়াবীন এর সময় কখন? মাগরিবের পরে নাকি সূর্যোদয়ের পরে?
18 Jan 2026

হাদীস অনুযায়ী সূর্যোদয়ের পরে সালাতুল আওয়াবীন এর সময়।এক হাদীসে আবু হুরায়রা রা. বলেন, أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلاثٍ: صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَيْ الضُّحَى (فَإِنَّهَا صَلاَةُ الأَوَّابِيْنَ) وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ আমার প্রিয়তম বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন: (১) প্রত্যেক মাসে তিন দিন সিয়াম পালন, (২) দোহা (চাশত)-এর দু রাকআত সালাত আদায় (কারণ তা সালাতুল আওয়াবীন বা আল্লাহওয়ালাদের সালাত) এবং (৩) ঘুমানোর আগে বিতর আদায়। মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৭৫৮৬; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৮১। এই বিষয়ে দলীলসহ বিস্তরিত জানার জন্য রাহে বেলায়াত গ্রন্থের সালাতুদ দোহা বা চাশ্তের নামায অনুচ্ছেদটি দেখুন।

প্রশ্নঃ 1987
আসরের ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? বস্তর ছায়া একগুণ হলে? নাকি দুইগুণ?
17 Jan 2026

্এই নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। তবে আপনার দায়িত্ব হলো যখন মসজিদে আসরের জামাত হয় তখন জামাাতের সাথে নামায আদায় করা।

প্রশ্নঃ 1983
আসসালামু আলাইকুম…নামাযের রুকন কয়টি ও কি কি, ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নত কি কি, আপনাদের প্রকাশনী থেকে কি কোন নামায শিক্ষার কিতাব বের করবেন। আর আমাদের জাতীয় সংগিত গাওয়া ও শুনা যাবে কি?
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযের ফরজ ওয়াজিব জানার জন্য যে কোন ফিকহী কিতাবের নামায অধ্যায় দেখুন। সালাত, দু’আ ও যিকর নামে আস্সুন্নাহ পাবলিকেশন্স এর একটি বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে— সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন:01715400640/01791666663/64

জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ব্যাপারে আলেমদের আপত্তি শুনিনি। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1794
আসসালামু আলাইকুম, যদি কোন স্থানে কিছু মানুষ সমবেত হয় এবং নামাজের সময় উপস্থিত হয়। সেখানে কিছু বয়স্ক মানুষ আছেন যাঁদের কোরানের বেশ কিছু অংশ মুখস্থ আছে এবং মোটামুটি সুদ্ধ উচ্চারণ করতে পারেন এবং নামাজের মাসায়েল সম্পর্কে ভালো জানা আছে। কিন্তু তাঁরা মাদ্রাসায় পড়ে নাই। সেখানে একজন হাফেজ আছেন, তাঁর বয়স ১০ বছর, সবেমাত্র কোরানে হাফেজ হয়েছেন, অন্য (মাসায়েল) বিষয়ে পড়াশুনা করেন নাই। সেখানে কে ইমামতি করবেন?
13 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে বয়স্ক মানুষের কুরআন মোটামুটি শুদ্ধ আছে সে ইমামতি করবেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ইমামতি নিয়ে ফকীহদের মধ্যে বিতর্ক আছে। 
প্রশ্নঃ 1970
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো –মুহতারাম আমি যেখানে বর্তমানে আছি সেখানে যে মসজিদে আমি নামায পড়ি সেই মসজিদে পার্মানেন্ট কোন ইমাম নেই — যে যখন পারে নামাযের ইমামতি করে — মাঝে মাঝে আমিও ইমামতি করি । এখন প্রশ্ন হল আমি তেমন মাসআলা-মাসায়িল জানিনা, জানার সন্ধানে আছি। ইমামতি করতে হলে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হয় — সে বিষয়ে বুঝিয়ে বলবেন।
17 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমামের জন্য অতিরিক্ত কোন শর্ত নেই। তবে তিনি ইমামতির নিয়ত করবেন। আরা নামাযে সাজদায়ে সাহু কখন দিতে হয় একটু জেনে নিবেন। আর বাকী শর্ত অন্য মুসল্লির মতই।

প্রশ্নঃ 1942
আসসালামু আলাইকুম, জি আমার প্রশ্ন হল ১-আমি হানাফি হয়ে কি রফ উল ইয়াদাইন করে পারি? ২- ফরজ নামাযের পর ইমাম সাহেব যে সম্মিলিত ভাবে মনাজাত করে তা কি বিদাত? নাকি জায়েয? দলিল সহ দয়া করে জানাবেন। জাজাক আল্লাহু খইর।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। জ্বী, পারেন। ২। আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1940
আসসালামু আলাইকুম। আমরা জানি আরবি মীম ও নূন হরফটির উপর তাশদিদ থাকলে গুন্নাহ করা ওয়াজিব। (1.) এখন নামাজের তিলাওয়াতে এই ওয়াজিব টি ছুটে গেলে কী সাহু সিজদাহ ওয়াজিব? (2.) নামাজে কোরআন তিলাওয়াত ব্যাতিত অন্য ক. ওয়াজিব স্থানে যেমন তাশাহুদ এবং খ. সুন্নাত স্হানে যেমন দরুদ ও দোয়া মাসূরা ইত্যাদি স্হানে এই ওয়াজিব গুন্নাহ ছেড়ে দিলে কী সাহু সিজদাহ দিতে হবে? হলে অতীতে যেসব নামাজে এই ভূলগুলো ছিল সেসব নামাজের কী হবে? (1 নং ও 2নংএর জন্য পৃথকভাবে )। (3.) ক. ইচ্ছে করে অথবা খ.কোন জরুরি কারনে নামাজে তাশাহুদের পর দরুদ ও দোয়া মাসূরা না পড়লে কী নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে? অতীতে কিছু নামাজে এমন করলে এখন করনীয় কী? বেশি প্রশ্ন করার জন্য দুঃখিত। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ওয়াজিব গুন্নাহ ছাড়ার কারণে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে না। দরুর ও দুআ মাসূরা পড়া সুন্নাত। সুতরাং ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দরুদ ও দুআ মাসূরা ছাড়লে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1938
আসসালামু আলাইকুম, ১.আমাদের মসজিদ পুনঃনির্মাণ করতে যেয়ে মসজিদের ভেতরে কয়েকটা কবর পরে গেছে, এখন প্রশ্ন হলো এই মসজিদে নামায হবে কি-না? ২.এলাকার প্রভাবশালীরা মিলে মাস্তান দিয়ে ইমাম সাহেবকে বিদায় করেছে, অপরাধ তিনি মিলাদে কিয়াম করতেন না, এখন নতুন খতিব রাখছেন যিনি তাদের কথা মত চলেন আবার কিরাআতেও সমস্যা, পাঁচ ওয়াক্ত যে পড়ায় তারো একই অবস্থা। এখন প্রশ্ন হলো, বেদাতি আর সূরা ভুল পাঠকারী ইমামের পিছে নামায হবে কি-না? ৩. এক্ষেত্রে আমি কি এলাকার মসজিদ পার করে শহরের মসজিদে জুমআর নামায আদায় করতে পারবো কি-না আর বাড়িতেই ওয়াক্তিয়া নামায পড়তে পারবো কি-না? উল্লেখ্য যে, আমার বাড়ি একেবারে মসজিদের সামনে।
16 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। হ্যাঁ, নামায হবে। ২। যদি এমন ভুল পাঠ করে যার দরুন অর্থ পাল্টে যায় তাহলে তার পিছনে নাামায হবে না। ৩। এক্ষেত্রে আপনি শহরের মসজিদে জুমার জন্য যেতে পারেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও অন্য মসজিদে পড়বেন যেখানে ইমাম ভাল।

প্রশ্নঃ 1935
আমি একজন হানাফি, সালাত আদায় করার সবচেয়ে বিশুদ্ধ পদ্ধতি কোনটি? ১) আহলে হাদিস ভাইদের কথা শুনে ও বুখারি শরিফ পড়ে বিতির নামায ১ রাকাত পড়ি –এটা কি ভূল? ২) নামাজ এর শেষে মুনাজাত থেকে বিরত থাকি, শুনেছি এটো বিদাতি কাজ, আমার জানা কি ঠিক? এইগুলি আমার মনে হয় খুব সাধারণ সমস্যা, যদি সঠিক ভাবে জান্তে পার্তাম তাহলে আমল কর্তে অনেক সুবিধা হত।
16 Jan 2026

হানাফী মাজহাবে যেভাবে সালাত আদায় করতে বলা হয়েছে সেটা সুন্নাহ সম্মত। তেমনি অন্য মাজহাবের নামাযগুলোও সুন্নাহ সম্মত। আপনি বুখারী শরীফ পড়ে নামায বদলাতে শুরু করেছেন, এটা ভাল উদাহরণ নয়। এভাবে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। বুখারী শরীফের কোথায় আছে আগে কোন নফল নামায না পড়ে এক রাকআত বিতর পড়ার কথা? বিতর তিন রাকআত পড়াই এক রাকআত থেকে উত্তম বলে মনে হয়। মুনাজাত নামাযের অংশ নয় সুতরাং মুনাজাত নিয়ে বাড়াবাড়ী নিস্প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 0019 নং প্রশ্নের উত্তর। আপনি যেভাবে নামায আদায় করছিলেন সেভাবেই করুন। যাতে ঝামেলা এড়াতে পারেন।প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1929
জামাতের শুরুতে, মানে…মাগরিবের ও আছরের জামাতের সময় যদি প্রথম ২/১ রাকাত মিস করি পরে রাফুল ইয়াদাইনসহ নামাজ শেষ করবো কিভাবে?
16 Jan 2026

বাকী রাকআতগুলো স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে হবে। যেসব রাকআত ছুটে গেছে সেসব রাকআতে যেভাবে ইমাম সাহেব কুরআন পাঠ করেছেন সেভাবে কুরআন পাঠ করবে।

প্রশ্নঃ 1927
ইমামের পিছনে কেরাত পড়া বাধ্যতা মুলক কি না?
16 Jan 2026

একদল আলেম ও ফকীহ শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়াকে বাধ্যতামূলক বলেছেন। আরেক দল পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকেরই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে হাদীস । আপনি যে কোন একটার উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1904
১. জামাতের শুরুতে, মানে…মাগরিবের ও আছরের জামাতের সময় যদি প্রথম ২/১ রাকাত মিস করি পরে রাফুল ইয়াদাইনসহ নামাজ শেষ করবো কিভাবে?
14 Jan 2026

বাকী রাকআতগুলো স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করতে হবে। যেসব রাকআত ছুটে গেছে সেসব রাকআতে যেভাবে ইমাম সাহেব কুরআন পাঠ করেছেন সেভাবে কুরআন পাঠ করবে।

প্রশ্নঃ 1901
ইমামের পিছনে কেরাত পড়া বাধ্যতা মুলক কি না?
14 Jan 2026

একদল আলেম ও ফকীহ শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়াকে বাধ্যতামূলক বলেছেন। আরেক দল পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকেরই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে হাদীস । আপনি যে কোন একটার উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1894
আসসালামু আলাইকুম ১। আমার ভাই কুমিল্লাতে একটা চাকরী করে এবং সেখানে ভাই ফ্যামিলী নিয়ে থাকে আর আমি থাকি ঢাকা। এখন আমি যদি সেখানে বেড়াতে যাই (২ বা ৩ দিন) তাহলে কি আমাকে নামায কছর পড়ব? না পূর্ণ নামায পড়ব? আর যদি মসজিদে পড়ি সেক্ষেত্রে কি করব? ২। ঈদের দিন কি কোলাকুলি করা বিদাআত? আর কোলাকুলি কয়বার করা যায় একবার না তিন বার? হাদিসের আলোকে জানাবেন দয়া করে। ৩। জুমআ নামাযে কাবলাল জুমআ বলে আমরা যে ৪ রাকাআত সুন্নত নামায পড়ি এটা কি হাদিস সম্মত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনাদের মূল বাড়ী যদি কুমিল্লাতে হয় তাহলে আপনি ওখানে পূর্ণ নামায পড়বেন আর যদি অন্য কোথাও মূল বাড়ী হয় তাহলে কসর করবেন। ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় পূর্ণ নামায পড়তে হয়। ২। ঈদের দিনে কুলাকুলি করার ব্যাপারে কোনা হাদীস পাওয়া যায় না। সুতরাং কুলাকুলি না করাই উত্তম। স্বাভাবিক অবস্থায় কোলাকুলি করার কোন কথা রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না বরং নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় তবে দূরবর্তী সফর থেকে ফিরে এলে সাহাবীরা কুলাকুলি করতেন বলে হাদীসে পাওয়া যায়। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أنس قال كان أصحاب النبي : إذا تلاقوا تصافحوا وإذا قدموا من سفر تعانقوا হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলের সাহাবীরা যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন মুসাফা করতেন আর যখন সফর থেকে ফিরতেন তখন কুলাকুলি করতেন। আল-মুজামুল আওসাত লিত-ত্ববারনী, হাদীস নং ৯৭। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।সিলসিলাতু সহীহা, হাদীস নং ২৬৪৭। সাধারণ অবস্থায় কোলাকুলি করতে রাসূল সা. নিষেধ করেছেন। নিচের হাদীসিটি দেখুন: عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ ؟ قَالَ : لاَ . قُلْنَا أَيُعَانِقُ بَعْضُنَا بَعْضًا ؟ قَالَ : لاَ ، وَلَكِنْ تَصَافَحُوا. হযরাত আনাস রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! একে অপরের দেখা সাক্ষাতের সময় কি ঝুকা যায়? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কোলাকুলি করা যায়? তিনি বললেন, না । তবে মুসাফাহ করবে। সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭০২। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত সফর থেকে ফিরে কোলাকুলি করা অন্যান্য সময় মুসাফা করা। ৩। হ্যাঁ, জুমুআর ফরজ নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নাতপড়া হাদীস সম্মত। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا অর্থ: (তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তবে চার রাকআত নির্দিষ্ট নয়। কম বেশী করা যাবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1880
যদি ঘুমের কারণে ফজরের সালাতের সময় উঠার পর দেখি সূর্যোদয়ের সময় তখন, তাহলে কি সূর্যোদয় শেষ হওয়ার পর কাযা আদায় করবো, নাকি সূর্যোদয় চলাকালীন সময়েই আদায় করবো?
14 Jan 2026

এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন, ঐ সময়েই পড়বে। আবার কেউ কেউ বলেন, সূর্য উঠার পর পড়বে। হাদীসের কারণেই এই মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্নঃ 1879
আসসালামু আলাইকুম… আমি আব্দুর রাজ্জাক সাহেবকে বলতে শুনেছি যে সলাত কেবল অনুমোদিত সময়ে পড়তে হবে… আর ইচ্ছা মতো সলাত পড়ার দুই জায়গা রয়েছে তা হলো জুমআর খুতবার আগে আর কাবা শরীফে… এর বাইরে দিনে রাতে মাত্র ১২ রাকাত বা ১৪ রাকাত পড়া যাবে… উনি ব্যাপারটা এমন ভাবে বলেছেন যেনো মনে হচ্ছে এই ১২ রাকাতের বাইরে আমি আরো নফল সালাত পড়লে তা বিদআত হবে…!! তাই আমি বিষয়টা নিয়ে সন্দিহান…! এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে,এই ১২ রাকাতের বাইরে সওয়াবের আশায় আরো নফল সালাত আদায় করা কি সুন্নাত সম্মত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনুমোদিত সময়ে আপনি যত ইচ্ছা নফল নামায পড়তে পারেন। ঐ কথা শুনলে তো তাহাজ্জুদও বাদ হয়ে যায়। কথাটি খুবই বানোয়াট, হাদীস বিরোধী।

প্রশ্নঃ 1865
আসসালামু আলাইকুম, আমরা নামেযের কোন সময় আমার পরিবার এবং আমার জন্য দোয়া করতে পারি। জানাবেন কি। মামুন, ০১৭১১০৮০৮৯৪, বাংলাদেশ
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাজের সাজদাতে এবং দরুদ শরীফ পড়ার পর পরিববার ও নিজের জন্য মাসনুন দুআ আরবীতে পাঠ করবেন।

প্রশ্নঃ 1863
১। সালাতে নজর কোন জাইগায় থাকবে দলিল সহ জানাবেন। ২! মুসাফা করার সময় কয় হাতে করতে হবে। আর পরে হাত বুকে লাগানোর দলিল। ৩! ওযুর সময় ঘাড় মাশেহ করার দলিল
14 Jan 2026

সাজদার স্থানে দৃষ্টি থাকবে। হাদীসে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৩০১২; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। ২। দুই হাতেও করতে পারেন এক হাতেও করতে পারেন। ৩।ঘাড় মাসেহ করার ব্যাপারে কয়েকটি দূর্বল হাদীস বর্ণিত আছে। তার একটি হলো, قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ ومسح عنقه لم غل بالأغلال يوم القيامة অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং ঘাড় মাসেহ করবে কিয়ামতের দিন তাকে শিকল পরানো হবে না। তারীখ আসবাহান, ১/২৪২। এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীসের বিশ্লেষন শেষে মোল্লা আলী কারী হানাফী রাহ. বলেন, قال أئمتنا إن مسح الرقبة مستحب أو سنة অর্থ: আমাদের ইমামগণ বলেছেন, ঘাড় মাসেহ করা মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত। আল-আসরারুল মারফুয়াহ, পৃষ্ঠা- ৩১৫। কোন কোন আলেম বিদআত বলেছেন। তবে দলিলের আলোকে বিদআত নয় বলেই মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1862
আসসালামু আলাইকুম, মুহতারাম—সাহুসেজদা কখন করতে হয়? উহার পদ্ধতিটা একটু জানাবেন।
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযের মধ্যে ভুলক্রমে কোন ওয়াজিব বাদ গেলে, কোন কাজ আগে-পিছে হয়ে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়। আমাদের সমাজে যে পদ্ধতিতে সাহু সিজদা করা হয় তা সঠিক। হাদীসে অন্য পদ্ধতিও পাওয়া যায়। বিস্তারিত দলীলসহ জানতে আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1856
১) সালাতে সালাম ফেরানোর আগে অথবা পরে সাহু সেজদা দেওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে যে একপাশে সালাম ফেরানোর পর সেজদা দেওয়া হয়,তা কি সুন্নাতসম্মত? ২) মুতাযিলীরা বিশ্বাস করে কুরআনুল কারীম মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্ট। আমি এব্যাপারটা ঠিক বুঝিনি। কুরআনকে মাখলুক বলা দ্বারা ঠিক কী বোঝানো হয়েছে?
14 Jan 2026

নামাযের মধ্যে এক দিকে সালাম ফিরানোর কথাও হাদীসে পাওয়া যায়। হাদীসটি হলো: عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানো হাদীসসম্মত। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1855
Nabhir niche hat badhar sahi hadiser dololil ki ache? Janale upokrito habo.
14 Jan 2026

নাভীর নিচে হাত বাধার যেমন সহীহ হাদীস নেই তেমনি বুকের উপর বাধারও সহীহ দলীল নেই। সহীহ হাদীসে সাহাবী ওয়ায়েল ইবনে হুজর রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى অর্থাৎ (রাসূলুল্লাহ সা. ) তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৩। সহীহ বুখারীতে এই বিষয়ে বর্ণিত আরেকটি হাদীস হলো, عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ. قَالَ أَبُو حَازِمٍ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم তাবেঈ আবু হাযিম সাহাবী সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মানুষদের আদেশ দেওয়া হতো সালাতের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখতে। আবু হাযিম বলেন, এই নির্দেশকে তিনি নাবীউল্লাহ সা. এর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন বলেই আমি জানি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭৪০। হাত রাখার ব্যাপারে সহীহ সূত্রে অনেক সাহাবী থেকে শুধু এতটুকুই জানা যায় অর্থাৎ বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। হাত রাখার স্থান নিয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো একটিও ইলমী গবেষণার আলোকে সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী রহ. এর বক্তব্য আমাদের এই বিষয়ে একটি সঠিক সমাধান দিতে পারে। অন্য একজন সাহাবী থেকে উপরের অনুরুপ একটি হাদীস বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم يرون ا يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة وكل ذلك واسع عندهم অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট আমল এর উপরই। তারা মনে করেন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন নাভির উপর রাখবে আবার কেউ কেউ মনে করেন নাভীর নিচে রাখবে। তাদের নিকট উভয় পদ্ধতি গ্রহনের অবকাশ আছে। জামে তিরমিযী,২৫২ নং হাদীসের আলোচনা। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, এই বিষয়ে মাতামাতি না করে আমাদের উচিৎ যে কোন একটি পদ্ধতির উপর আমল করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 1854
আসসালামু আলাইকুম। দুঃখিত। আমার পূর্বের প্রশ্নটিতে একুটু ভূল হয়েছিল। সংশোধিত রূপ: রুকু থেকে উঠে সামিআল….দাহ বলার পরে এক তাসবিহ পরিমাণ দাড়িয়ে না থাকলে ও পরে সাহু সিজদাহ না দিলে সালাত কি বাতিল হবে নাকি মাকরুহ হবে? ইমামের এই সমস্যাটি থাকলে তাঁর পেছনে কী মুক্তাদির সালাত হবে? না হলে কী করা উচিত?
14 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো আবশ্যক। এক তাসবীহ পরিমাণ না হলেও সালাতের সমস্যা হবে না। সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সাজদাতে গেলে বিষয়টি বিনয়ের সাথে ইমাম সাহেবকে বলতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1853
আসসালামু আলাইকুম… আমার প্রশ্ন হচ্ছে অসুস্থ হওয়ার কারণে কেউ যদি একেবারেই সলাত আদায় না করতে পারে সে কি গুনাহগার হবে যখন সে ৫ ওয়াক্ত আদায় করবে বলে ওয়াদাবদ্ধ..?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অসুস্থ হলেই সালাত ছাড়া যাবে না। শুয়ে পড়ে ইশারাতে হলেও নামায পড়তে হবে। তবে এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কেবল তার নামায মাফ।

প্রশ্নঃ 1852
রুকু থেকে উঠে সামিআল…….. দাহ বলার পরে এক তাসবিহ পরিমান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ও পরে সাহু সিজদাহ না দিলে স্বলাত কি বাতিল হবে নাকি মাকরুহ হবে। ইমামের এই সমস্যাটি থাকলে তাঁর পেছনে কি স্বলাত হবে?
13 Jan 2026

না, সালাতের কোন সমস্যা হবে না। বরং আমাদের সকলের সালাত এমন ধীরস্থীর হওয়া উচিত। এমন ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করা দরকার।

প্রশ্নঃ 1850
Assalamualaikum sir, Amake akjon bollo foroj salah sara j sokol sunnat 5 wakto salah er sate ase ta adai na korle gunah hobe. Asole ata ki thik j gunah hobe. Ami jantam na porle onek sowab theke bonchito hobe. asole konta thik gunah hobe na ki sowab theke bonchito hobe. Jummar salat er age o pore 4 rakat sunnah ki pora joruri? Na porle ki namajer khoti hobe?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার জানা সঠিক। ফরজকে পরিপূর্ণ করতে সুন্নাতের ব্যবস্থা। সুতরাং সুন্নাতে গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত সুন্নাত ছাড়া ঠিক নয়। তবে গুনাহ হবে না।

প্রশ্নঃ 1844
আসসালামু আলাইকুম… আমি নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের চেষ্টা করি… কিন্তু কখনো কখনো আমাকে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়… কখনো ৬ ঘন্টা, কখনো বা ১০ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় লাগে … এর মাঝে সময়মতো সালাত আদায় করা সম্ভব হয়ে উঠেনা… তাই মুসাফির কিভাবে এই সালাত আদায় করবে হোক ফজর,যোহর,আসর,মাগরিব বা এশার ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন সালাত কয় রাকাত পড়ব কখন পড়বো? বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে নাকি পরে? মুসাফিরের সালাতকে সম্ভবত কসরের সালাত বলা হয়…
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রতিটি সালাত তার ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মত আদায় করবেন। মাগরিবের সালাত ৩ রাকআত আর অন্যান্য সালাতগুলো ২ রাকআত আদায় করবেন। সালতের সময় দুয়েক মিনিট নয়। ঘন্টার উপরে। সুতরাং আপনি চেষ্টা করলে এর ভিতরে সালাত আদায় করে নিতে পারবেন। কোন কারণে না পারলে পরে পড়ে নিবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে কসরই করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1839
সিজদা সাহু করার সহি নিয়ম কি? কখন / কন ভুল এর কারনে সিজদা সাহু দিতে হয়?
13 Jan 2026

নামাযের মধ্যে কোন ওয়াজিব বাদ পড়লে বা কোন রুকন আগ-পিছ হয়ে গেলে তথা যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ভুলের জন্য সাহু সিজদা দিতে হয়। সাহু সিজদা সালামের আগে, পরে যে কোন সময় দেয়া যায়। অর্থাৎ তাশাহুদু, দরুদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরানো অথবা তাশাহুদু পড়ে কিংবা তাশাহুদুর সাথে দরুরদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা করে আবার পূনরায় সবগুলো পড়ে সালাম ফিরানো। সহীহ হাদীসে উভয় পদ্ধতিই আছে। আমাদের সমাজে সালামের পরে সাহু সিজদা দেয়া হয়, এটা সহীহ হাদীস সম্মত। দেখুন, জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫ও ৩৯৫। সাহু সিজদা সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 1465 নং প্রশ্নের উত্তর। 

প্রশ্নঃ 1830
আসসালামুয়ালাইকুম, আমি সব নামাজের সিজদায় সুবহানা রাব্বিয়িল আলা পড়ে, আরবি দোয়ার পাশাপাশি বাংলা দোয়া পরার চেষ্টা করি । বাংলা দোয়া পড়লে মনে তৃপ্তি পাই। প্রশ্ন ১/ সুন্নত ও নফল নামাজ এ নাকি দোয়া পরা যাবে, কিন্তু ফরজ নামাজের সিজদায় দোয়া পরা যায় না। ২/আরবি দোয়া পড়তে হয়, বাংলা পড়া যাবে না। বিষয় টি জানাবেন।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন নামাযের ভিতর আরবীতে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআ পড়তে হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত আরবী দুআ মুখস্ত করা। মুখস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়া যায় বলে আলেমদের মতামত থেকে বোঝা যায়। এই বিষয়ে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহি. রাহে বেলায়াত গ্রন্থে বলেছেন, মাতৃভাষায় যিকর ও দুআ পাঠ: রাসূলুল্লাহ সা.-এর শেখানো যিকর ও দুআগুলি অর্থ হৃদয়ঙ্গম করে মূল আরবীতে পাঠ করলেই মহান আল্লাহর যিকর ও দুআর প্রকৃত স্বাদ, তৃপ্তি, আনন্দ ও আধ্ম্যাতিকতা লাভ করা যায়। কারণ তাঁর ভাষার যে অপূর্ব কাঠামো ও পূর্ণতা তা কোনোভাবে অন্যভাষায় ভাষান্তর করা যায় না। মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বালী মাযহাবের ফকীহগণ সাধারণভাবে আরবীতে অক্ষম ব্যক্তির জন্য অনারব ভাষায় সালাতের মধ্যে যিকর ও দুআ পাঠ বৈধ বলেছেন। হানাফী মাযহাবের ইমামাগণ আরবীতে অপারগের জন্য সালাতের মধ্যে অনারব ভাষা ব্যবহার বৈধ বললেও পরবর্তী ফকীহগণ তা মাকরূহ বলেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম সারাখসী বলেন: وَلَوْ كَبَّرَ بِالْفَارِسِيَّةِ جَازَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ … وَلاَ يَجُوزُ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ إلاَّ أَنْ لاَ يُحْسِنَ الْعَرَبِيَّةَ … وَكَذَلِكَ الْخِلاَفُ فِيمَا إذَا تَشَهَّدَ بِالْفَارِسِيَّةِ যদি সালাতের তাকবীর র্ফাসী ভাষায় বলে তবে আবূ হানীফা (রাহ)-এর মতে তা জায়েয হবে। …আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মতে তা জায়েয হবে না, তবে আরবীতে পারঙ্গম না হলে জায়েয হবে। সালাতের মধ্যে তাশাহ্হূদ ফারসীতে পাঠ করা … ক্ষেত্রেও একই মতভেদ । আবূ বাকর সারাখসী, আল-মাবসূত ১/৩৬-৩৭। আরো দেখুন: আালাউদ্দীন সমরকন্দী, তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৩০; আলাউদ্দীন কাসানী, বাদাউউস সানাইয় ১/১১২-১১৩। সালাতের মধ্যে অনারব ভাষায় যিকর-দুআ প্রসঙ্গে আল্লামা শামী বলেন: الْمَنْقُولَ عِنْدَنَا الْكَرَاهَةُ … وَظَاهِرُ التَّعْلِيلِ أَنَّ الدُّعَاءَ بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ خِلَافُ الْأَوْلَى، وَأَنَّ الْكَرَاهَةَ فِيهِ تَنْزِيهِيَّةٌ… وَلَا يَبْعُدُ أَنْ يَكُونَ الدُّعَاءُ بِالْفَارِسِيَّةِ مَكْرُوهًا تَحْرِيمًا فِي الصَّلَاةِ وَتَنْزِيهًا خَارِجَهَا হানাফী মাযহাবের বর্ণিত মত যে তা মাকরূহ। … বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তা অনুত্তম বা অনুচিত পর্যায়ের এবং মাকরূহ তানযীহী। … অনারব ভাষায় দুআ করা সালাতের মধ্যে মাকরূহ তাহরীমী এবং সালাতের বাইরে মাকরূহ তানযীহী হওয়াও অসম্ভব নয়।ইবন আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার (হাশিয়াতু ইবন আবিদীন) ১/৫২১। সামগ্রিক বিচারে প্রত্যেক আগ্রহী মুমিনের উচিত মাসনূন দুআ ও যিকরগুরি অর্থ-সহ আরবীতে মুখস্থ করা এবং সালাতের মধ্যে তা পাঠ করা।একান্ত অক্ষম হলে যতদিন আরবী দুআ মুখস্থ না হয় ততদিন নফল বা তাহাজ্জুদের সালাতের মধ্যে ও সাজদায় মাসনূন দুআগুলির অর্থ মাতৃভাষায় পাঠ করা অনুচিত হলেও নিষিদ্ধ হবে না বলেই আমরা আশা করি। মাসনূন দুআগুলো মুখস্থ না হওয়া পর্যন্ত সালাতের বাইরে বই হাতে দেখে দেখে আরবী দুআ পাঠ করা যায়। প্রয়োজনে শুধু বাংলা অর্থ পাঠ করেও দুআ করা যায়। তবে চেষ্টা করতে হবে মাসনূন আরবী দুআ মুখস্থ করার। আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1817
আসসালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্ন আছরের সালাতের ওয়াক্ত আসলে কখন শুরু হয়? এক আহলে হাদিস ভাই বলছেন যে আমরা যে সময় আদায় করি আর অনেক পূর্বে নাকি ওয়াক্ত আরম্ভ হয় । এখন যেমন আমরা ৫ টায় পড়ি তারা ৪ টার সময় জামাত করতেছেন। এইটা কতটুকু সঠিক?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আসরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়া নিয়ে কিছুট বিতর্ক আছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের করণীও হলো মসজিদে যখন জামাত হয় তখন জামাতে সালাত আদায় করা।

প্রশ্নঃ 1815
আসসালামু আলাইকুম শাইখ। আমার ৩টা প্রশ্ন ১। অনেক সময় আমরা মসজিদে নামায পড়তে গেলে একটু দেরি হয়ে যায়, ইমাম সাহেব তেলায়াত শুরু করে দেন। আমরা আল্লাহু আঁকবর বলে হাত বেধে কি সানা পড়বো না ইমাম সাহেবের তেলায়াত শুনব। আবার এমনও হয় যে আমাদের সানা শেষ না হতেই ইমাম সাহেব তেলায়াত শুরু করে দেন সেক্ষেত্রে আমরা কি তেলায়াত শুনব না আগে সানা শেষ করব তারপর তেলায়াত শুনব। ২। যোহর আর আছর নামাযে ইমাম সাহেবের পিছনে প্রথম দুই রাকায়াতে আমরা কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বো না সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরাও পড়তে হবে? ৩। ৪ রাকায়াত বিশিষ্ট নামাযে যদি ৩ রাকায়াত পরে গিয়ে জামাত ধরা হয় তাহলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পরে বাকি নামায পড়ার বিধানটা জানতে চাচ্ছি। যেমন বাকি নামাযে কই বৈঠক হবে, কই নং রাকায়াতে বৈঠক হবে ইত্যাদি। আর মাগরিব নামাযের বিধানটাও বলে দিয়েন। যাযাকাল্লাহ খাইর
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইমাম সাহে তেলাওয়াত শুরু করে দিলে তেলাওয়াত শুনবেন আর না শুরু করলে সানা পড়বেন। তেলাওয়াত শুরু করে দিলে তেলাওয়াত শুনতে কুরআনে আদেশ করা হয়েছে। ২।এই বিষয়ে ফকীহদের মাঝে বিতর্ক আছে। আপনি যে কোন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। পড়া অথবা না পড়া। ৩। চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের তিন রাকআত না পেলে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়ে রুক সাজাদা দিয়ে বসে তাশাহুদ. দরুদ শরীফ ও দুআ মাসূরা পড়ে নামায শেষে করবেন। মাগরিবেও এক রাকআত না পেলে একই বিধান। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1812
আস-সালামু ওআলাইকুম। আজ জুম্মার দিন আমাকে ২০০ কিমি দূরে গিয়ে জুম্মার সালাত আদায় করতে হল। যাতায়াতে ১৬ ঘন্টা সময় লাগবে। ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন : জুম্মার সালাত কত রাকাত পড়তে। অন্যান্য ওয়াক্তের সালাত ও কত রাকাত পড়তে হবে জানালে উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাতগুলো আদায় করবেন। সাথে সাথে ফজরের ফরজের আগে দুই রাকআত, যোহরের আগে দুই বা চার রাকআত, মাগরিবের পরে দুই রাকআত এবং এশার পরে দুই রাকআত সুন্নাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বিতর সালাত অবশ্যই আদায় করবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত সুন্নাত সালাত আপনি আদায় করতে পারেন। জুমুআর ফরজের পূর্বে দুই বা চার বা তার চেয়ে বেশী রাকআত আপনি আদায় করতে পারেন। পরেও পূর্বের মত আদায় করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 354 নং প্রশ্নের ।

প্রশ্নঃ 1807
সালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্নটি হল, আমি ফজর নামাজ জামাতের সাথে পরতে জেয়ে দেখি ইমাম শাহেব ফরজ নামাজের দিতিয় রাকাতে আছেন এবং আমার মনে হইতেছে যে আমি জদি সুন্নত নামাজ পরা শুরু করি তাহলে ফরজ নামাজ ধরতে পারব না সে ক্ষেত্রে আমার কি করনিয়? ফজরের ফরজ নামাজের পর সুন্নত পরার কনো নিওম আছে নাকি? আশা করি বেপারটা ক্লিয়ার করলে উপক্রিত হবো।
13 Jan 2026

ওয়া আলােইকুমুস সালাম। আপনি এই অবস্থায় সু্ন্নাত পড়বেন না। জামাতে শরীক হবেন। পরে সুর্য উঠার পর সুন্নাত পড়তে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. নিদের্শনা দিয়েছেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৪২৩। শায়খ জাহাবী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1805
আসসালামু আলাইকুম, জ্বি, আমি শুনেছি অনেক আলিম বলেন সালাতে রুকুতে যাবার সময় ও রুকু থেকে উঠার সময় যে- রাফউল ইয়াদাইন –করা হয় তা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। এটা কি সঠিক?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এটা রহিত হয়েছে মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. থেকে সালাতের বিভিন্ন পদ্ধতি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে। এই রাফয়ে ইয়াদাইন বার বার করাও সহীহ হাদীস সম্মত আবার না করাও সহীহ হাদীস সম্মত । এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

প্রশ্নঃ 1802
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ২ টা প্রশ্নঃ ১। সুদখোর ইমামের পিছনে নামায হবে কি? ২। হজ্জের নিয়তে ব্যাংকে ডিপিএস করা বা হজ্জ প্যাকেজে টাকা জমানো যাবে কি?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামায হয়ে যাবে, তবে এমন ইমাম পাল্টানো জরুরী। ২। এখানে মূল বিষয় হলো জমানো টাকাতে সুদ আসে কি না? যদি সুদ আসে তাহলে ঐ সুদ নেয়া জায়েজ নয়। আর যদি সুদ না আসে তাহলে সমস্যা নেই। টাকার হেফাজতের জন্য আপনি এগুলো করতে পারেন তবে সুদ নেয়া যাবে না।

প্রশ্নঃ 1797
৪ রাকাত নামাজের জামাতে কয়েক রাকাত ছুটে গেলে বাকী নামাজ আদায়ের নিয়ম কি?
13 Jan 2026

ভাই, এভাবে প্রশ্ন করলে তো উত্তর দেয়া কঠিন। আপনি নির্দিষ্ট করে লিখুন আপনি কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে যদি এক রাকআত না পান তাহলে আপনার করণীয় হলো ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠে সূরা ফাতিহা এবং সাথে অন্য একটি সূরা পড়ে শেষ বৈঠক করে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

প্রশ্নঃ 1789
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার জানার প্রয়োজন ছিল যে, ১। ইমামের পিছনে নামাজে অনেক সময় খেয়াল থাকেনা- অন্য মনষ্ক হয়ে যাই। ইমাম সালাম ফিরানোর সময় হঠাত খেয়াল হয় আমিতো তাশাহুদই পড়িনি। এখন ইমামের পিছনে নামাজে প্রথম অথবা শেষ বৈঠকে যদি তাশাহুদই পড়তে ভুলে যাই সেক্ষেত্রে আমার নামাজ কি পুনরায় পড়তে হবে? নাকি নামাজ হয়ে যাবে? ২। আমি প্রায়ই নামাজে কম বেশি সম্পর্কে সন্দেহে পড়ি কিভাবে এই সন্দেহ দূর করতে পারি? ৩। বিতরের নামাজে শেষ রাকাতে সূরা পাঠের পরে আল্লাহু আকবার দিয়ে হাত উঠাতে ও কুনুত পড়তে ভুলে গেলে কি নামাজ পুনরায় পড়তে হবে? ৪। নামাজে সূরা ফাতিহার পরে অন্য সূরা পড়তে ভুলে গিয়ে রুকুতে গেলে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হবে? ৫। আমার নামাজে সকল ভুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ আমি নামাজে খেয়াল রাখতে পারিনা। আমি কিভাবে আমার নামাজ আরও খেয়াল দিয়ে মনোযোগের সাথে পড়তে পারি?
13 Jan 2026

ওয়া আালাই কুমুস সালাম। ১। নামায হয়ে যাবে, তবে এটা খুবই বাজে কাজ হবে। কারণ তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব। ২। নামাযে মনোযোগ নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। বেশী করে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত নিররযীম পড়ুন। ৩। সাজাদায়ে সাহু দিতে হবে। নামায শেষ করে উঠে পড়লে পূনরায় নামায পড়াই উত্তম হবে। ৪। সাজদায়ে সাহু দিতে হবে। ৫। যে কাজের যত গুরুত্ব সেই কাজে খেয়াল ততো বেশী থাকে। আমার মনে হয় আপনি নামাযকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারছেন না। যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দুআ করুন ইনশাআল্লাহ আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1782
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? কিছু প্রশ্ন ছিলঃ-১. সিজদারত অবস্থায় ২ পা অথবা ১ পা মাটি থেকে উপরে উঠে গেলে, সলাত কি ভঙ্গ হয়ে যাবে? বিশেষ করে ২ পা? ২. বিতর সলাত ৩ রাকাত পড়ার-তো অনেকগুলা নিয়ম আছে। যেমনঃ- ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে আলাদা ১ রাকাত পড়া। এইখানে নিয়ত টা কেমন হবে? প্রথমে যে ২ রাকাত পড়া হল এইটা কি সুন্নত নাকি নফল নাকি বিতর সলাত? এইটার নিয়ত কি হবে? আর পরে যে ১ রাকাত আলাদা পড়া হল এইটা কি সলাত?- এইটার নিয়ত কিভাবে হবে? ৩. পাখি যদি কাপড়ে হিসু / হাকু করে দেয়, এবং তা শুকিয়ে গেলে, সেই কাপড় পড়ে কি সালাত পড়া যাবে? যদি সেই অংশটুকু ধোয়া না হয়, তাহলে কি সেইটা নাপাক হিসেবেই গণ্য হবে কি না?
13 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সাজদারত অবস্থায় কোন একমহুর্তের জন্যও যদি পা মাটিতে না লাগে তাহলে সাজদা হবে না। তবে যদি লাগে আবার উঠে যায় তাহলে সমস্যা নেই। ২। আমাদের দেশে যেভাবে সাধারণত পড়া হয়, সালাম না ফিরিয়ে সেভাবে আদায় করুন। জটিলতা থাকবে না। ৩। এই ধরণের সমস্যাতে কাপড় ধোয়ার দরকার নেই। এতে কাপড় নাপাক হয় না।

প্রশ্নঃ 1780
১. অনলাইরে কিভাবে নামাজের ক্যালেন্ডার পব, মোবাইলের জন্য কি কোন সফটওয়ার আছে নামাযের সময় জানার জন্য, অনেক তো আছে এক একেক সফটওয়াররে এককে টাইম দেখায় । কোন সফট ওয়ার বা কোন ক্যালেন্ডার ভালো হবে, আসি সিলেটে থাকি। ২. কোরআন তিলাওয়াত শিখার কি কোন নির্ভযোগ্য ওয়েব সাইট আছে?
13 Jan 2026

ভাই, অনলাইনে কোন ক্যালেন্ডারটি ভাল তা আমার জানা নেই। তবে আপনি মুফতী আমিমুল ইহসান রাহ. কর্তৃক তৈরীকৃত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারটি দেখে সময় ঠিক করলে আশা করি সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে পারনেব। ২. কোরআন তিলাওয়াত শেখার নির্ভরযোগ্য কোন ওয়েবসাইট সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে আপনি চাইলে, সময়-সুযোগ মিললে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি। আমার সাথে যোগাযোগ করতে হলে, ফোনে 01734717299. ইমেইল titumirahmad@gmail.com স্কাইপে Titumir Ahmad

প্রশ্নঃ 1752
আসসালামু আলাইকুম। ১। ৪ রাকাত বিশিষ্ট সুন্নাত নামায কি ২ রাকাত ২ রাকাত করে পড়া উত্তম না এক সাথে ৪ রাকাত পড়ায় উত্তম? ২। যখন মসজিদে যাই তখন তাহিয়াতুল মসজিদের এর ২ রাকাত সুন্নাত পড়তে হয়। আমার প্রশ্ন হলো ফরয নামাযের আগে যে সুন্নাত গুলো আছে ঐগুলো পড়লে কি তাহিয়াতুল মসজিদের নামায হয়ে যাবে কি? যেমন ফজর, যোহর (৪ রাকাত)? না তাহিয়াতুল মসজিদের নামায আলাদা ভাবে আগে পড়তে হবে তারপর অন্য সুন্নাত পড়তে হবে? আশা করি আমার প্রশ্ন বুঝতে পেরেছেন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। ৪ রাকাত বিশিষ্ট সুন্নাত নামায এক সালামে চার রাকআত পড়বেন।

২। সময় থাকলে আগে তাহিয়্যাতুল মসজিদ দুই রাকআত পড়ে নিবেন। সময় না থাকলে ওয়াক্তের সুন্নাতই পড়বেন। তবে ফজরের নামাযের সুন্নাত মসজিদে পড়লে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার দরকার নেই। ফজরের সুন্নাত বাড়িতে পড়লে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে কিনা এই নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। আপনি যে কোন একটা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1749
আসসালামু আলাইকুম শাঈখ ১। ইমামের পিছনে নামায পড়ার সময় ইমাম যখন সামি আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে রুকু থেকে উঠেন তখন আমাদেরও কি এটাই বলে উঠে রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ……ফিহী বলব না আমরা উঠে শুধু রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ………ফিহী বলব? ২। নামাযের মধ্যে যদি প্রসাবের বেগ বা বায়ুর বেগ হয় কিন্তু সেটাকে কন্ট্রোল করে নামায পড়া হয় তাহলে কি নামায হবে বা নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا ، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا ، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا ، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য… যখন তিনি সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদাহ বলবেন তখন তোমরা রব্বানা ও লাকাল হামদ বলবে…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৪। সুতরাং মুক্তাদিরা শুধু রব্বানা ও লাকাল হামদ বলবে।

২। অধিক বেগ নিয়ে নামায না পড়াই ভাল।

প্রশ্নঃ 1742
মসজিদে প্রথম কাতারে মুসল্লীগণ বসে আছেন তাদের পেছনে অর্থাৎ দ্বিতীয় বা তার পরের কাতারে বসে কুরআন হাতে নিয়ে তেলাওয়াত করা যাবে কিনা?অনেক সময় কোন কোন ভাই সামনে গিয়ে তেলাওয়াত করতে বলেন কারও পেছনে বসে কুরআন তেলাওয়াত নাকি ঠিক না-কথাটি কি সহীহ?
08 Jan 2026

কারও পেছনে বসে কুরআন তেলাওয়াত ঠিক না কথাটি পুরোপুরি ঠিক না। তবে কুরআনের সম্মানার্থে সামনে বসে পড়া ভাল। তবে পিছনে বসেও পড়া যায়।

প্রশ্নঃ 1740
আসসালামু আলাইকুম, আমি আপনাদের এখানে থেকে জানতে পারলাম যে, পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের মধ্যে যদি তেমন কোনো পার্থক্য না থাকে তাহলে আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মহিলাদের নামায ত্রুটিপূর্ণ (এমনকি আমাদের পরিবারসহ)। এখন আমার প্রশ্ন হল স্যারের বা আপনাদের কাছে এমন কোনো বই আছে যাতে মহিলাদের নামাযের পুর্নাজ্ঞ বিবরণ দলীলসহ আছে। অথবা আপনি একটু বিস্তারিত বললে ভাল হয়। পুরুষ আর মহিলাদের নামাযের পার্থক্য কতটুকু হতে পারে হাদিস অনুযায়ী? কারন আমরা যদি এখন নামায সহি করতে বলি তাহলে কিছু দলিল দেখাতে বলবে বা দেখানো উচিৎ। আশা করি আমার প্রশ্ন বুঝতে পারছেন।
08 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালা্ম। আপনি বুঝতে ভুল করেছেন। পুরুষ ও মহিলার নামাযের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই, এই কথার অর্থ এই নয় যে, আমাদের সমাজের মহিলাদের নামায ত্রুটি পূর্ণ। বরং আমাদের সমাজের মহিলারা সহীহ পদ্ধতিতেই নামায পড়েন। তেমন কোন পার্থক্য নেই, তার অর্থ হলো, তাকবীর, সূরা-কেরাত, তাসবীহ- দুআ সবকিছুতেই মহিলা পুরুষ এক রকম তবে রুকু ও সাজদাতে তারা একটু জড়সড় হবে যা গ্রহনযোগ্য হাদীসে থেকে পাওয়া যায়। তবে পুরুষের মত নামায আদায় করলেও আদায় হয়ে যাবে। ইমাম বুখারী রহ. একজন তাবেয়ীর কথা এভাবে বলেছেন, وكانت أم الدرداء تجلس في صلاتها جلسة الرجل وكانت فقيهة. অর্থ: উম্মে দারদা নামাযের মধ্যে পুরুষের মত বসতেন। তিনি ফকীহ ছিলেন। সহীহ বুখারী, ৮২৭ নং হাদীসের পূর্বে। দেখুন যদি একই রকম হতো তাহলে এভাবে বলা যেত না যে, তিনি পুরুষের মত বসতেন। এভাবে বলা হয়েছে কারণ, অন্য মহিলারা পুরুষের মত বসতেন না, তবে উম্মে দারদা বসতেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 38 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
প্রশ্নঃ 1730
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহী ওয়া বারকাতুহু । ভাই আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,ডঃ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ স্যার,উনে কি ভাবে নামাজ আদায় করতেন। বুকের উপর হাত বেধে নাকি নাভির নিচে হাত বেধে। আমি জানি দুই ভাবেই নামাজ পরা যায়,কিন্তু স্যার কি ভাবে পতেন? স্যারের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই ধরণের প্রশ্ন করবেন না। তবে এতটুকু বলে রাখি স্যার সাধারণত হানাফী মাজহাব অনুসরণ করতেন।

প্রশ্নঃ 1727
আস সালামু আলাইকুম। আমি বালেগ হওয়ার পর অসাবধানতা আর অবহেলা বশত কয়েক বছরের নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে আদায় করিনি। পরবর্তীতে হেদায়েত পাই আল্লাহর রহমতে। এখন কি আমাকে এই কয়েক বছরের নামাজ কাযা আদায় করতে হবে? (উমরী কাযা নামে সমাজে যেটা প্রচলিত)। কিয়ামতের দিন সবার প্রথমে আমার নামাজের হিসাব নেয়া হবে। নামাজ অসম্পূর্ণ হলে সব আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। তাহলে কি আমাকে এই কয়েক বছরের এতগুলো নামাজ কাযা করতে হবে? নাকি আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করলে আল্লাহ মাফ করবেন? (যেহেতু হাদীসে ইচ্ছাকৃত নামাজ বাদের কাযার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি}
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে সহীহ হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮।

প্রশ্নঃ 1726
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লহি ওয়া বরকতুহু। এখন অনেক আলেমকে বলতে শুনছি যে, সম্মিলিত মোনাজাত নাকি বিদাআত। আর ফরয নামাজ পর আমরা যে মোনাজাত সেটাও নাকি বিদাআত। এই সম্পর্কে দলিলসহ বিস্তারিত জানতে চাই।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাতের কোন হাদীস নেই। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1722
হালত- আমার বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভায়। থাকি ময়মনসিংহে। বাড়িতে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা যাই,যার দূরত্ব ৮৮ কিমি। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভার সীমানা শুরু হতে আরও ১৫ কিমি। ১) বাড়িতে যাওয়ার সময় যদি গাজীপুর চৌরাস্তায় ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে পৌছাই,তাহলে জোহরের নামাজের জন্য কি জামাতের অপেক্খা করব না একাকী পড়ে কালিয়াকৈর রওয়ানা হব? ২) যদি একাকী নামায পড়ি তাহলে পুরা নামায পড়তে হবে নাকি কসর হিসেবে ২ রাকাত আদায় করলেই হয়ে যাবে? ৩) নাকি বাসায় গিয়ে পুরো নামায পড়তে হবে? উল্লেখ্য,গাজীপুর চৌরাস্তায় বাস পরিবর্তন করতে হয়। চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈরের দূরত্ব ১৫ কিমি হলেও জ্যামের কারণে মাঝেমাঝে ২ ঘন্টাও লেগে যায়। হালত-২ যদি জোহরের নামায জামাতের সাথে ময়মনসিংহ থেকে আদায় করার সময় সাথে আসরও একাকী পড়ে রওয়ানা হই,যাতে রাস্তায় গাড়ির সমস্যায় না পড়তে হয়-জায়েয হবে কিনা?
08 Jan 2026

১। আপনি তিনটিই করতে পারেন। নামায সব সময় জামাতে পড়াই উত্তম, তবে সফর হিসাবে আপনি একা একা পড়তে পারেন। একা একা পড়লে কসর করবেন অর্থাৎ দুই রাকআত পড়বেন।যদি জোহরের নামাযের সময় থাকতে থাকেত বাসায় চলে আসেন এবং নামায পড়েন তাহলে পুরো পড়তে হবে। ২। আসরের সময় সন্ধা পর্যন্ত থাকে তাই আপনি গাজীপুরে এসেই আসর পড়বেন। এভাবে দুই নামায একত্রে পড়লে নামায সহীহ হবে কি না তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভিন্নত্ আছে। সুতরাং এটা ত্যাগ করায় শ্রেয়।

প্রশ্নঃ 1699
সিজদাহ তে কপাল নাক মাটিতে লাগবে নাকি শুধু কপাল দলিল সহ বলবেন।
08 Jan 2026

এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। অধিকাংশ আলেমের মতে শুধু কপাল রাখলেই হবে, নাক রাখা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। ইমাম আহমাদসহ আরেকদল আলেমের মতে ওয়াজিব। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن أبي حميد الساعدي : أن النبي صلى الله عليه و سلم كان إذا سجد أمكن أنفه وجبهته [ من ] الأرض ونحى يديه عن جنبيه ووضع كفيه حذو منكبيه আবু হুমাইদ আস-সাইদী থেকে বর্ণিত যে নবী সা. যখন সাজদা করতেন তখন তিনি নাক ও কপাল ভূমির উপর রাখতেন এবং তাঁর হাতকে প্বার্শ থেকে আলাদা রাখতেন আর হাত রাখতেন কাঁধ বরবার।সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৭০। ইমাম তিরমিযীসহ মুহাদ্দীসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন, والعمل عليه عند أهل العلم أن يسجد الرجل على جبهته وأنفه فإن سجد على جبهته دون أنفه فقد قال قوم من أهل العلم يجزئه وقال غيرهم لا يجزئه حتى على الجبهة والأنف আলেমগণ এই পদ্ধতিতে আমল করতে বলেন যে, ব্যক্তি তার কপাল ও নাকের উপর সাজদা করবে। তবে যদি কেউ শুধু কপালের উপর সাজাদ করে নাক ব্যতিত তাহলে একদল আলেম বলেন, এটা যথেষ্ট হবে আর আরেকদল আলেম বলেন, যথেষ্ট হবে না যতক্ষন না কপাল ও নাকের উপর সাজদা না করবে। সুনানু তিরমিযী ২৭০ নং হাদীসের আলোচনা।

প্রশ্নঃ 1683
আস সালামু আলাইকুম। আসরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) এর মত হল বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ পরিমাণ হলে আসরের শুরু হয়। অন্যদিকে বাকি তিন মুজতাহিদ ইমাম বলেছেন, বস্তুর ছায়া সমপরিমাণ হলে আসরের সময় শুরু হয়। এখন প্রশ্ন হল, কোন মতটা সহিহ হাদীস অনুসারে জোরালো? আমি কোন মতটাকে গ্রহণ করবো? হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা দিয়ে বাধিত করবেন।
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি জামাতে সালাত আদায় করবেন । যখন যেখানে থাকবেন সেখানে মসজিদে যখন আসরের সালাতের জামাত হবে তখন জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন। সহীহ হাদীসের আলেকে প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে একগুণ হলে আসরের সালতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। আর ওয়াক্ত বাকী থাকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত। সুতরাং আপনি জামাতের সাথে সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1676
সালাতে কি পায়ের সাথে পা লাগাতে হবে নাকি হাতের সাথে হাত। হাদিস সহি না যইফ এর জন্য মুহাদ্দিসগণের মতামত এর কিতাব এর নাম বলবেন দয়া করে। এগুলা বাংলা /ইংরেজী এ পাওয়া জায় কি না। কুরআন এর সবচেয়ে সহজ সাবলিল এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির ২/১ তি নাম বলবেন।
08 Jan 2026

সালাতে লাইন সোজা করতে হবে এবং মাঝে ফাঁকা রাখা যাবে না। হাত-পা লাগানো মুখ্য বিষয় না। হাদীস সহীহ- যয়ীফ জানার জন্য একক কোন কিতাবে নেই, যেখানে আপনি সব হাদীসের হুকুম জানতে পারবেন। আর বাংলায় অনুবাদ হয়েছে তো খুবই খুবই কম। আরবী ভাষার জ্ঞান ছাড়া হাদীসের হুকুম জানা সম্ভব নয়। কুরআনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাব হলো তাফসীরে ইবনে কাসীর।

প্রশ্নঃ 1674
আসসালামু আ’লায়কুম, শাইখ। আমার প্রশ্ন দুটি : ১।একজন খতিব সাহেব বলেছেন যে, রাসুল (সা.) এর কথা লেখা নাকি শেষ হবে না, যদিও সব গাছ কলম হয় এবং সব সাগর কালি হয় এমনকি যদি আরও সাগর এর সাথে যুক্ত হয়।এটা কি সঠিক? ২।জামাতে সালাত আদায়ের সময় কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে কি করণীয়?
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে এই কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. এর বিষয়ে নয়। আয়াতটি দেখুন

وَلَوۡ اَنَّمَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ شَجَرَۃٍ اَقۡلَامٌ وَّالۡبَحۡرُ یَمُدُّہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ سَبۡعَۃُ اَبۡحُرٍ مَّا نَفِدَتۡ کَلِمٰتُ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکপৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সূরা লোকমান, আয়াত ২৭।

অন্য জায়গাতে আল্লাহ বলেন,قُلۡ لَّوۡ کَانَ الۡبَحۡرُ مِدَادًا لِّکَلِمٰتِ رَبِّیۡ لَنَفِدَ الۡبَحۡرُ قَبۡلَ اَنۡ تَنۡفَدَ کَلِمٰتُ رَبِّیۡ وَ لَوۡ جِئۡنَا بِمِثۡلِهٖ مَدَدًا আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’। সূরা কাহফ, আয়াত সুতরাং খতিব সাহেবের বক্তব্য সঠিক নয়। অথবা খতিব সাহেব আল্লাহর ব্যাপারেই বলেছেন, আপনি হয়তো শুনতে ভুল করেছেন।

প্রশ্নঃ 1672
Assalamualikum. Ami hsc pass korechi kichudin hoyeche. Ami ekhn higher study’s er jnno bideshe porte jete chai. Ekhn islami shariat bideshe porte jawar khetre ki bole ta jante chacchilam.
08 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে বাধা নেই। তবে এমন দেশে বা এমন পরিবেশে যাবেন না যেখানে শরীয়তের আবশ্যিক হুকুমগুলো পালন করতে বাধার সৃষ্টি হয়। ফরজ সালাতগুলো জামাতের সাধে পড়ার সুযোগ থাকে, হারাম বিষয় থেকে বেচেঁ থাকার যথেষ্ট সুযোগ থাকে, চোখের গুনাহ নিয়ন্ত্রনের ভিতরে থাকে এমন প্রতিষ্ঠানে পড়তে যেতে পারেন। অমুসলিম দেশে গেলে অনেক সময় ইমান-আমলে মারাত্মক সমস্যা হয়। তই অমুসলিম দেশেগুলো পরিত্যাগ করা উত্তম।

প্রশ্নঃ 1664
আমার এক ফ্রন্ডের দাদী ওকে সালাতুজ তাজবী নামাজ পড়াতে বলেছে। আমার ফ্রেন্ড টা ব্যস্ততার কারনে পড়াতে পারে নাই। দাদীটা এখন অসুস্থ। বলতে গেলে মৃত্যুশয্যায় আছেন। নামাজ আদায় করাতে না পারায় আমার ফ্রেন্ডের কোন গুনাহ হবে? আর এখন আমার ফ্রেন্ডের করনীয় কি?দয়া করে জানাবেন প্লিজ….
07 Jan 2026

দাদী বলেছে সে পড়ে নাই, এখানে গুনাহ হওয়ার কী আছে। সে যদি পড়তে চায় পড়বে। না চায়লে পড়বে না।

প্রশ্নঃ 1659
আসসালামু আলাইকুম, আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। প্রশ্নটা হলো: সেজদায় সুবহানা রব্বি আল আলা কি বিজোড় সংখ্যাই পড়তে হবে নাকি ইচ্ছে মতো যতবার খুশি পড়া যাবে।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। একটি যয়ীফ হাদীছে কমপক্ষে তিনবার পড়ার কথা বলা হয়েছে। হাদীসটি হলো রাসূল সাঃ বলেন: إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ,হাদীস নং ৮৮৬। এর বাইরে সংখ্যা ব্যাপারে কোন সহীহ বা যয়ীফ হাদীস আমাদের জানা নেই। সুতরাং আপনি জোড়- বেজোড় যে কোন সংখ্যক তাসবীহ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1658
আস সালামু আলাইকুম। মিসত্তয়াক করে নামায পরলে নামাযে ৭০ গুন বেশী সত্তয়াব হয়। এই হাদিসের তাহকীক জানলে একটু জানাইলে ভাল হয়
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।উক্ত অর্থের হাদীসটি একাধিক সাহবী থেকে একাধিক শব্দে বর্ণিত আছে। যেমন, আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হক্কীতে আছে: صَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ হাদীস নং ১৬৪। মুসনাদে আহমাদে আছে فضل الصلاة بالسواك على الصلاة بغير سواك سبعين ضعفا হাদীস নং এবং ২৬১৮৩। সহীহ ইবনে খুজায়মাতে আছে فضل الصلاة التي يستاك لها على الصلاة التي لا يستاك لها سبعين ضعفا হাদীস নং ১৩৭।প্রতিটি সনদই বিভিন্ন কারণে দুর্বল। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেন নি। তবে অনেক সংখ্যক দুর্বল বর্ণনা থাকার কারণে এবং মিসওয়াক করার বিষয়ে সহীহ হাদীসে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার কারণে ৭০ গুন সওয়াব হওয়া অসম্ভব নয়। বিস্তারিত জানতে صَلاَةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاَةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ লিখে ইন্টারনেটে সার্স নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1644
নামাযের শেষে সালাম ফিরানোর আগে দুয়া কুনুতের পর কি টাইপ দুয়া পড়া যাবে, মানে কোন কুরয়ান শরিফের আয়াত (যেমন সুরা আল ইম্রানের ২৬-২৭ নাম্বার আয়াত) পড়া যাবে কিনা নাকি কেবল কুরআন শরিফের আয়াত নয়। এমন দুয়া পড়তে হবে? প্লিজ জানাবেন
07 Jan 2026

নামাযের শেষে সালাম ফিরানোর আগে দুআ মাসূরার সময় আপনি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 1643
আসসালামু আলাইকুম! আমাদের মসজিদে প্রতিবার ফরয নামাজের পর ইমাম সাহেব সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করেন। শুনেছি এইভাবে মোনাজাত আল্লাহর রাসূল কখনও করেননি। দয়া করে কুরআন বা হাদীসের আলোকে জানাবেন!
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, এভাবে সম্মিলিত মোনাজাত রাসূলুল্লাহ সা. করেন নি। হাদীসে কোন সাহাবী এভাবে মোনাজাত করেছে বলেও জানা যায় না। এভাবে মোনাজাত না করায় উচিত। তবে যেখানে এভাবে মোনাজাত হয় সেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গাম সৃষ্টি করে মোনাজাত তুলে দেয়ার সুযোগ নেই। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1633
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহ। মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা যাবে? রাসুলুল্লাহ সাঃ কি কখনো মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করেছেন? এ বিষয়ে হাদিস থাকলে দয়া করে জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কোন ব্যক্তি যদি মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে মাটিতে বসেই ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি দাঁড়াতে পারে কিন্তু রুকু সাজদা দিতে পারে না সে ব্যক্তি প্রসিদ্ধ ও গ্রহনযোগ্য মতানুযায়ী দাঁড়িয়ে ইশারাতে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করবে। দাঁড়িয়ে কিংবা মাটিতে বসে ইশারায় রুকু সাজদা দিয়ে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে পারবে না সে ব্যক্তিই শুধু চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারে। অবশ্য কোন কোন আলেম বলেছেন, দাঁড়াতে অক্ষম হলে এবং বসে রুকু সাজদা দিয়ে সালাত আদায় করতে অক্ষম হলে চেয়ারে বসেও সালাত আদায় শুদ্ধ হবে, উত্তম হলো মাটিতে বসে ইশারা করে সালাত আদায় করা। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ লিখিত এই প্রবন্ধটি চেয়ারে বসে নামায : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর (দারুল উলূম করাচী-এর নতুন ফতওয়ার আলোকে)। মাসিক আলকাউসার, এপ্রিল ২০১৩ আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন। 

প্রশ্নঃ 1631
আসসালামুয়ালাইকুম। নামাজে আত্তাহিয়াতু, দরুদ এবং দোয়া মাসুরা তথ আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু….শেষ করার পর যথাক্রমেঃ রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া….ওয়্যক্ববিনা আযাবান্নার,রাব্বির হামহুমা…লা ইলাহা ইল্লাহ আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্বয়োলিমিন। এই তিনটা দোয়া পড়ার পর সালাম ফিরাইলে কি কোনো ভুল বা বিদয়াত এই জাতীয় কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি বা বলাটা কতটুকু সঠিক/যুক্তিযুক্ত?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এতে কোন সমস্যা নেই। বরং যত বেশী দুআ পড়া যায় তত ভালো।

প্রশ্নঃ 1629
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাত ছুটে গেলে করণীয় কী?
07 Jan 2026

ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে এবং রুকুতে যাবে। – حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ ، عَنْ أَشْعَثَ ، عَنِ الْحَسَنِ ، قَالَ : يُكَبِّرُ مَعَهُ فِي هَذِهِ مَا أَدْرَكَ مِنْهَا ، وَيَقْضِي الَّتِي فَاتَتْهُ وَيُكَبِّرُ فِيهَا مِثْلَ تَكْبِيرِ الإِمَامِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ. হাসান বসরী রহি. বলেন, ব্যক্তি নামাযের যতটুক পাবে ইমাম সাহেবের সাথে তাকবীর দিয়ে আদায় করবে এবং যে রাকআত ছুটে গেছে সেটা আদায় করবে, (ছুটে যাওয়া রাকআত আদায় করার সময়) ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকআতে যেভাবে তাকবীর দিয়েছে সেভাবে তাকবীর দিবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৫৮৬৩।

প্রশ্নঃ 1623
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মুসলিম, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত। আমার পরিবারও ঐ রাজনৈতিক দলে সাথে যুক্ত। কয়েক দিন ধরে কিছু মানুষ ফতোয়া দিচ্ছে আমরা নাকি কাফের, আমাদের জানাযা হারাম। আমরা তো আল্লাহর রহমতে নামাজ রোজা করি। আমাদের সম্পর্কে এটা বলা কি ঠিক?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আপনারা নামায রোজা করেন,এটা খুব ভালো। তবে ইসলাম শুধু নামায রোজা পালন করলেই হবে না। আল্লাহ কুরআনে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন, شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ অর্থঃ “তোমাদের জন্য দ্বীন তথা আনুগত্যের বিধান ধার্য করা হয়েছে যা নূহ (আঃ) কেও নির্দেশ করা হয়েছিল এবং যা তোমার নিকট অহী করেছি এবং যা ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ) কে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা দ্বীনকে (ধর্মীয় বিধি বিধান) কায়েম কর (প্রতিষ্ঠা কর) এবং এ বিষয়ে মতবিরোধ করো না। ” (সূরা আশ শূরা:১৩) আর দ্বীন বা ধর্ম আল্লাহর নিকটে শুধুমাত্র ইসলাম। إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ অর্থ: “নিশ্চয় আল্লার নিকট একমাত্র ইসলামই দ্বীন (জীবন বিধান)। ”-(সূরা আলে ইমরান: ১৯) وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ অর্থ: যে ইসলাম ছাড়া অন্য প্রকার আনুগত্যের বিধান চয় তার থেকে সেটা গ্রহণ করা হবে ন। ”-(সূরা আলে ইমরান: ৮৫) আর মুসলিম হিসেবে ইসলামের বিধান আংশিক মানার সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন: ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ অর্থ: “তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। ”-(সূরা আল বাকারা: ২০৮) আর ইসলাম কী? এই প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহর রাসূল বলেন, الإسلام أن تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان অর্থ: ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তার সাথে কোন কিছু শরীক না করা, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয় এবং রমাজানের রোজা রাখা। ( অন্য একটি হাদীসে হজ্জের কথাও আছে। সহীহ বুখারী,হাদীস নং4499। এই হাদীসে ইসলামের মৌলিক কিছু বিধি বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কুরআন ও হাদীসে যত বিধি বিধান, আদেশ-নিষেধ করা হয়েছে সবই ইসলাম ধর্ম। আর ধর্মের এই কাজগুলো শুধু ব্যক্তির উপরই ফরজ নয়। এগুলো জনগন যেন মেনে চলে সেটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের উপরও ফরজ। মূমিনদের গুনাগণ আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ কুরআনে বলেন, الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِএরা এমন সব লোক যাদেরকে আমি যদি পৃথিবীতে কর্তৃত্ব-ক্ষমতা দান করি তাহলে এরা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজ নিষেধ করবে (অর্থাৎ ধর্মের সকল বিধি বিধান কায়ম করবে)৷ আর সমস্ত বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে৷ সূরা হজ্জ, আয়াত ৪১। নাময-রোজা জাতীয় ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো আমরা সাধারণ মানুষেরা পালন করতে পারি, কিন্তু কুরআনের এমন কিছু বিধান আছে যেগুলো রাষ্ট্রই শুধু প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যেমন, সূরা মায়েদার ৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ “যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়। ব্যভিচারের শাস্তির বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ٱلزَّانِيَةُ وَٱلزَّانِي ۡلِدُواْ كُلَّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا مِاْئَةَ جَلۡدَةٖۖ وَلَا تَأۡخُذۡكُم بِهِمَا رَأۡفَةٞ فِي دِينِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ وَلۡيَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَةٞ مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢﴾ [النور: ٢] “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২] আরো একটি আয়াত দেখুন وَ کَتَبۡنَا عَلَیۡهِمۡ فِیۡهَاۤ اَنَّ النَّفۡسَ بِالنَّفۡسِ ۙ وَ الۡعَیۡنَ بِالۡعَیۡنِ وَ الۡاَنۡفَ بِالۡاَنۡفِ وَ الۡاُذُنَ بِالۡاُذُنِ وَ السِّنَّ بِالسِّنِّ ۙ وَ الۡجُرُوۡحَ قِصَاصٌ ؕ فَمَنۡ تَصَدَّقَ بِهٖ فَهُوَ کَفَّارَۃٌ لَّهٗ ؕ وَ مَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ﴿۴۵﴾ আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, আর দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমের বদলে অনুরূপ জখম। কেউ ক্ষমা করে দিলে তাতে তারই পাপ মোচন হবে। আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই যালিম। সূরা মায়েদা, আয়াত ৪৫। এই ধরণের বহু ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিধান কুরআন হাদীসে আছে। এগুলোই বলে শরীয়াাহ আইন। নীচের আয়তগুলো ভালে করে খেয়াল করুন: ﴿وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ﴾ [المائ

প্রশ্নঃ 1622
১. আমি নামাযে যাবার পূর্বে দেখেছি কিছু বের হয় নি। নামায থেকে এসে দেখি ছোট একটি দাগ। আমি টেরও পাই নি কখন বের হয়েছে। এমনকি নামায শেষে আমার লিংগের আগাও শুকনো পেয়েছি। আমি কোন উত্তেজনা ও অনুভব করি নাই কারন জামাতে যাবার তাড়ায় ছিলাম। শুধু মোটরসাইকেলে যাবার সময় সামনে একজন নারী পড়েছিলেন। এমতাবস্থায় নামায হবে কি? ২. মযী বের হলে কি ফরজ গোসলের পূর্বে যেমন প্রস্রাব করে লিংগের ভেতরের নাপাকি বের করে নেই, তেমনিভাবে প্রস্রাব করতে হবে? নাকি যেখানে লেগেছে তা ধৌত করলেই হবে? ৩. মযী/মযী লাগা কাপড় ট্যাপের প্রবাহমানপানি দ্বারা ধৌত করার সময় যে পানি নিচে পতিত হয়ে গায়ে এবং আশেপাশে ছিটা আসে এবং গড়িয়ে যাবার সময় পায়ে লাগে, তা কি নাপাক হবে? ৪. মযী কি উত্তেজনা ছাড়া বের হতে পারে এবং বের হলে কি আমি অবশ্যই টের পাবো নাকি নাও পেতে পারি? না টের পেলে কি প্রতি নামাজের আগে চেক করবো? ৫. যুবকদের মযী কি প্রায়ই বের হতে পারে? তাহলে বাইরে/ সফরে থাকাকালীন সময়ে কিভাবে নামাযের জন্য পবিত্রতা অর্জন করবো?
07 Jan 2026

১। মযী নাপাক। তবে ছোট দাগের মত নাপাকী কাপড়ে বা শরীরে থাকলেও নামায সহীহ হবে। নাপাকী একটি পয়সার পরিমাণের চেয়ে বেশী হলে তখন নামায হবে না। এর চেয়ে কম হলে নামায সহীহ হবে। তবে আগে থেকে দেখলে পবিত্র করে নেওয়া উত্তম। ২। লিঙ্গের ভিতের জমে থাকা মযি বাইরে চলে আসার একটা সম্ভাবনা থাকে,তাই প্রস্রাব করে ভালো করে পবিত্র হয়ে নিবেন। ৩। জ্বী, নাপাক মিশ্রিত পানিও নাপাক হয়ে যায়, তাই এই পানি যেন শরীরে বা কাপড়ে না লাগে সেদিকে খেয়াল করবেন। তবে নাপাক কাপড় বা শরীর থেকে দূর হয়ে যাওয়ার পর শরীরে বা কাপড়ে থাকা পানি আর নাপাক থাকে না। সেই পানি শরীরে বা কাপড়ে লাগলে কোন সমস্যা নেই। ৪। মযী উত্তেজনার সাথে বের হয় আবার কখনো কখনো দূর্বল পুরুষদের উত্তেজনা ছাড়াও বের হতে পারে। যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মযী বের হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে প্রতি নামাযের আগে চেক করতে হবে। তবে সুস্থ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মযী বের হয় না, তাদের কোন সময় চেক করার প্রয়োজন নেই। ৫। অসুস্থ মানুষের কেবল মযী যখন তখন বের হয়, সুস্থ মানুষের এমন হয় না। যদি এটা বেশী বের হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে নামাযের জন্য বিকল্প কাপড় সঙ্গে রাখতে হবে, এ জন্য ছোট একটি ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। মযী সাধারণত উত্তেজনার কারণে বের হয়, তাই উত্তেজনা আসে এই ধরণের পরিবেশ বর্জন করতে হবে।

প্রশ্নঃ 1620
আস্সালামু আলাইকুম, আমার স্ত্রী মাসিক অবস্থায় ভূলক্রমে ৩ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে ফেলে এখন আমাদের কি করণীয়?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, ভবিষ্যতে যেন এমন ন হয় খেয়াল রাখবেন।

প্রশ্নঃ 1608
আমাদের দেশে যে অনেকে বলে অমুক তরিকায় নামাজ আর তমুক তরিকায় নামায…আসলেও কি নামাযের আলাদা আলাদা কোন তরিকা আছে?আমাদের কে বুঝি তরিকা মেনে চলতে হয়..এই তরিকা বলতে আসলেও কি কুর আন ও হাদিসে কিছু আছে?
07 Jan 2026

নামাযের কিছু কিছু বিষয়ে একাধিক পদ্ধতি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। পূর্ববর্তী মুজতাহিদ আলেমগণের কেউ কেউ একটিকে উত্তম বলেছেন আবার আরেক জন আরেকটিকে উত্তম বলেছেন। যেমন: রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। ইমাম আবু হানীফা রহ. না করাকে উত্তম বলেছেন। ইমাম শাফেই রহ.সহ অনেকেই করাকে উত্তম বলেছেন। এইগুলো আমাদের দেশের স্বল্পশিক্ষিত মানুষেরা অনেক সময় হয়তো তরীকা বলেন। আমি শুনিনি তবে এমন বলতে পারেন যে, আবু হানীফার তরীকা এমন আর শাাফেয়ীর তরীকা এমন। এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। প্রয়োজনে 01734717299

প্রশ্নঃ 1604
যদি মুসলিম শরিফ ৭৪৭ নং হাদিস অনুযায়ী রুকুতে যাওয়ার আগে ও পরে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবির বাধি,তবে তা নাকি আমদের তরিকা অনুযায়ী সঠিক হবেনা। এটা কি ঠিক? আসলেও কি তরিকা বলে কিছু আছে? আর উপরের নিয়ম অনুযায়ী নামায পড়া যাবে কিনা নাকি গুনাহ হবে? প্লিজ জানাবেন।
07 Jan 2026

আপনার প্রশ্ন অস্পষ্ট। তবে আমার মনে হচ্ছে আপনি রুকুর আগে ও পরে রাফয়ে ইয়াদাইন তথা হাত তোলা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। এটা করলে কোন সমস্যা নেই।আরো জানতে 01734717299

প্রশ্নঃ 1592
namaz er modhhe jodi hawa ber hoye jay.. tahole ki namaz noshto hoye jabe?
07 Jan 2026

হ্যাঁ, নামায ও ওযু উভয়ই নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে ওযু করে নামায পড়তে হবে।

প্রশ্নঃ 1590
Assalamualikum, 1.Estekhar namaz hajot namaz keno pora hoy. 2. A 2 namaz er difference ki. 3.Moner basona puroner jonno koraner kono sura ba ayet ache ki.ref soho dile valo hoy.
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইস্তেখারার অর্থ যে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা একাধিক বিষয়ের মধ্য থেকে একটি বেছে নেয়ার অবকাশ আছে সেখানে আল্লাহর সাথে পরামর্শ করা। আল্লাহর সাথে পরামর্শ না করে কোন কিছু বেছে নেয়া বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মূমিনের জন্য উচিত নয়।আর হাজাত অর্থ কোন প্রয়োজনীয় জিনিস আল্লাহর কাছে চাওয়া। উভয় নামাযের পার্থক্য এই যে, ইস্তেখারার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য আল্লাহর কাছে পরামর্শ করা আর হাজতের ভিতরে নতুন কিছু চাওয়া বা প্রার্থনা করা। উল্লেখ্য যে, সালাতুল হাজত বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বল। এই বিষয়ে কোন সহীহ বা হাসান হাদীস নেই। ইমাম তিরমিযী সালাতুল হাজাতের হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন। হাদীসটি গরীব এবং হাদীসটির সনদে সমস্যা আছে। ফাইন ইবনে আব্দুর রাহমান (যিনি হাদীসের একজন রাবী) দুর্বল। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭৯। ইমাম তিরমিযীর মন্তব্যসহ হাদীসটির মূল পাঠ দিয়ে দিলাম। عن فائدة بن عبد الرحمن عن عبد الله بن أبي أوفى قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من كانت له إلى الله حاجة أو إلى أحد من بني آدم فليتوضأ فليحسن الوضوء ثم ليصل ركعتين ثم ليثن على الله وليصل على النبي صلى الله عليه و سلم ثم ليقل لاإله إلا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم الحمد لله رب العالمين أسئلك موجبات رحمتك وعزائم مغفرتك والغنيمة من كل بر والسلامة من كل إثم لا تدع لي ذنبا إلى غفرته ولا هما إلا فرجته ولا حاجة هي لك رضا إلا قضيتها يا أرحم الراحمين قال أبو عيسى هذا حديث غريب وفي إسناده مقال فائد بن عبد الرحمن يضعف في الحيدث و فائد هو أبو الورقاء মনের বাসনা বলতে কি বুঝাচ্ছেন স্পষ্ট করে লিখলে ভাল হবে। তবে দুনিয়া ও আখেরাতের যে কোন কল্যানের জন্য কুরআনের এই দুআটি পড়বেন। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ।

প্রশ্নঃ 1585
মেয়েদের নামাজে কেরআত সম্পকে জানতে চায়? আমি আমার বাসায় একাই থাকি । তাই আমি নামাজ এ জরে জরে সুরা বলি এতে মনোযোগ থাকে নামাজে । উচ্চস্বরে বলেলে কি আমার নামাজ হবে
07 Jan 2026

এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায বলেছেন, এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের হুকুম একই। নারীর নামাযে শব্দ করে কুরআন পড়তে পারবেন। তবে নন মাহরাম পুরুষ থাকলে নীচু স্বরে পড়বে, ফিৎনার আশঙ্কা থাকার কারণে আওয়াজ করে পড়বে না। https://binbaz.org.sa/fatwas/17622/%D8%AD%D9%83%D9%85-%D8%AC%D9%87%D8%B1-%D8%A7%D9%84%D9%85%D8%B1%D8%A7%D8%A9-%D8%A8%D8%A7%D9%84%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%A1%D8%A9-%D9%81%D9%8A-%D8%A7%D9%84%D8%B5%D9%84%D8%A7%D8%A9-%D8%A7%D9%84%D8%AC%D9%87%D8%B1%D9%8A%D8%A9

প্রশ্নঃ 1584
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন শাইখ? আমার প্রশ্ন হলঃ- ১. মসজিদ সালাত পরে বের হউয়ার সময় দেখি, আমার জুতা টা কেউ নিয়ে গিয়েছে আর তারটা রেখে গিয়েছে। জুতা দেখতে তারটা আর আমারটা প্রায় এক-ই রকম। আমার টা একটু সিলাই দেউয়া, আর উনার টা দেখতে খাটি, মনে হল বেশি দিন হয় নাই কিনেছে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করে, ইমাম সাহেব কে ঘটনা বললে, উনি বললো, জুতা নিয়ে যেতে পার, জায়েজ আছে। আমি কয়েকবার মসজিদে আবার আসছিলাম, যদি জুতার সন্ধান পাউয়া যায়। কিন্তু তা আর এখন ও পাই নি। আর উনার জুতাও আমি ব্যবহার করছি। এখন এইটা কি করা যেতে পারে, কুরান, সুন্নাহ অনুসারে সমাধান কি? ২. সূফি অর্থ কি? সূফি কারা? এদের আকিদা কি সহিহ? যাজাকাল্লাহু খাইরা। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ভাল আছে। দুআ করি আল্লাহ আমাদের, আপনাদের সবাইকে ভাল রাখুন। দেখুন, এক্ষেত্রে আপনার করণীও কিছু দিন খোঁজ খবর নেয়া। না পেলে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। সূফি অর্থ জানার তেমন কোন দরকার নেই। আপনি কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলবেন। সহজ কথায় আগের যুগে কিছু মানুষ সহজ-সরল জীবন-জাপন করতেন, সমাজের কঠিন সমীকরণে তারা প্রবেশ করতেন না তাদেরকে সূফি বলা হতো। বর্ত মানে সূফী নামে যা কিছু করা হয় তার সিংহভাগই ভন্ডামী।

প্রশ্নঃ 1583
আমি যে সব মসজিদে সালাত আদায় করি, প্রত্যেক মসজিদে ফরজ সালাতের পর ইমাম সাহেব সহ সকল মুসল্লি হাত তুলে দুয়া করে। এক্ষেত্রে আমার করনিয় কী?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এভাবে সম্মিলিত মোনাজাত রাসূলুল্লাহ সা. করেন নি। হাদীসে কোন সাহাবী এভাবে মোনাজাত করেছে বলেও জানা যায় না। এখন দেখুন আপনি কী করবেন। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1581
আমি যে সব মসজিদে সালাত আদায় করি, প্রত্যেক মসজিদে ফরজ সালাতের পর ইমাম সাহেব সহ সকল মুসল্লি হাত তুলে দুয়া করে। এক্ষেত্রে আমার করনিয় কী?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি দয়া করে এই নাম্বারে ফোন করুন 01734717299

প্রশ্নঃ 1562
চার রাকাত ফরজ নামাজের একরাকাত হয়ে গেলে,আমি নামাজে যোগ দেই। ইমাম সাহেব যখন চতুর্থ রাকাতে তাশাহুদ,দুরুদ এবং দোয়া মাছুরা পড়ে তখন আমি ও কি তাসাহুদ, দুরুদ ও দোয়া মাছুরা পড়বো। জানালে অনেক উপকৃত হবো।
07 Jan 2026

যদি আপনার কোন রাকআত ছুটে যায় অর্থাৎ ইমাম সাহেবের সাথে সব রাকআত না পান সে অবস্থায় ইমামের শেষ বৈঠকে আপনি শুধু তাশাহুদু পড়তে পারেন, সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে একটু লম্বা করে পড়ে ইমাম সাহবের সালাম ফিরানোর আগে শেষ করবেন। অথবা স্বাভাবিক নিয়মে তাশাহুদু, দরুদ, দুআ মাসূরা সব কিছু পড়বেন।

প্রশ্নঃ 1548
আস সালামু আলাইকুম, কেউ মাসবুক হলে ইমাম সাহেবকে রুকুতে অথবা সেজদায় পেলে কি তাকবির তাহরীমা দিয়ে আগে হাত অল্প সময়ের জন্য হাত বাধবে তারপরে ইমামকে অনুসরণ করবে নাকি শুধু তাকবির তাহরীমার পরে হাত না বেধেই ইমামকে অনুসরণ করবে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যে কোন একটি করলেই হবে। অল্প সময়ের জন্য বেঁধে তারপর নতুন করে তাকবীর দিয়ে ইমামের কাজ অনুস্বরণ করা ভালো দেখাই। হাত না বাঁধলেও সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 1539
মাকরূহ ওয়াক্তে মসজিদে উপস্থিত হলে তাহিয়াতুল মসজিদ স্বলাত পড়া যাবে কী? নাকি মাকরূহ ওয়াক্ত অতিক্রম হওয়া পর্য্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
07 Jan 2026

এই বিষয়ে ফকীহদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। মাকরুহ ওয়াক্তে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়াকে অনেকে জায়েজ বলেছেন। আবার অনেকে পড়তে নিষেধ করেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাজ রহি. বলেছেন, মাকরুহ ওয়াক্তে এই সালাত আদায় করা যাবে, এটা অধিকতর বিশুদ্ধ মত। বিস্তারিত জানতে

প্রশ্নঃ 1533
আসসালামু আলাইকুম, মুহাম্মাদ (সঃ) সুন্নত, নফল নামাজ সর্বদা বাড়িতে আদায় করতেন আমিও এই সুন্নত মেনে চলতে চাই কিন্তু মসজিদে ঢোকার পর বসার আগে ২ রাকাত নামাজ পড়তে হয় এ ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি, যেহেতু সুন্নত নফল নামাজ বাড়িতেই পড়তে পারলেই ভাল হয়। প্রশ্ন হচ্ছে মসজিদের এই ২ রাকাত নামাজ যেকোন এক সময় পড়লেই হবে নাকি পাঁচ ওয়াক্তই মসজিদে গেলেই পড়তে হবে? সঠিক এবং সুন্দর একটা উত্তর আশা করছি।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, إذا دخَلَ أحدُكم المسجدَ فليركَعْ رَكْعَتَيْنِ قبْلَ أنْ يجلسَ. যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখান বসার পূর্বে ২ রাকআত নামায আদায় করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৩। সুতরাং যখনই মসজিদে প্রবেশ করবেন বসার আগে ২ রাকআত নামায পড়বেন, এটা সুন্নাত। যত বার প্রবেশ করবেন ততবার পড়বেন। অন্যান্য সুন্নাত নামাযগুলো বাড়িতে পড়া উত্তম। মসজিদে প্রবেশের নামায বাড়িতে পড়ে আসা যাবে না।

প্রশ্নঃ 1529
আসসালামুআলাইকুম। আমরা অফিসে সালাত আদায় করি। মোটামুটি দুই কাতার হয়। তবে সামনে জায়গা কম থাকায় ইমাম সাহেব প্রথম কাতারের একটু অর্থাৎ ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি এগিয়ে দাঁড়ায়। এখন দেখা গেল সালাত শেষ হলে ইমাম মুক্তাদিদের সম্মুখে ঘুরে বসে। এবং তাতে দেখা যায় ইমামের সোজা ২য় কাতারে এক মুসল্লি তার বাকি নামায গুলো আদায় করে। সামনের কাতার ইমাম সোজা ফাঁকা। এভাবে কী ঠিক। দলিল সহ জানাবেন।
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাত শেষে ইমাম কোথায় গেল বা থাকলো এটা কোন বিষয় না। সালাত অবস্থায় ইমাম সাহেব অন্যদের সামনে থাকবেন। যায়গা না থাকলে এক কাতার সামনে না গিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে সালাত আদায় করা যায়। এমনকি জায়গা না থাকলে মুসল্লিদের মাঝেও দাঁড়ানো যায়। শা য়খ উসাময়মিন রহ. বলেন, تقدم الإمام على المأمومين سنة، فإذا كان لا يمكن لضيق المكان فلا بأس أن يكون بينهم في الوسط. ইমাম মুসল্লিাদের সামনে দাড়াবেন, এটাই সুন্নাত, তবে যখন জায়গা না থাকলে তখন মুসল্লিদের মাঝে দাঁড়াতে কোন সমস্যা নেই। মাজমাউল ফাতাওয়া, জামাতে নামায পরিচ্ছেদ।

প্রশ্নঃ 1521
আস-সালামুআলাইকুম। আমি বিতর নামাযের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। তিন রাকাআত বিতর নামায কি এক বৈঠকে শেষ করতে হবে নাকি দুই বৈঠকে?
07 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিতর নামাযের অনেকগুলো সুন্নাহ সম্মত নিয়ম রয়েছে। তিনটি নিয়মসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি, পৃষ্ঠা ৪১৩-৪১৭। এক বৈঠকে শেষ করলেও করতে পারেন আবার দুই বৈঠকও করতে পারেন। নিচের হাদীসটি দেখুন عن سعد بن هشام أن عائشة حدثته : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان لا يسلم في ركعتي الوتر অর্থ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বিত্রের দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন না। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৯৮। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ১১৩৯। ইমাম জাহবী এবং হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। এই হাদীস থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় তিনি দ্বিতীয় রাকআতে বসতেন। কেননা যদি নাই বসেন তাহলে সালাম ফিরানোর বিষয়টি আসে না। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 1520
১। জর্দা ছাড়া পান খাওয়া কি হারাম? আমি যে মসজিদে নামজ পড়ি সেই মসজিদের ইমাম নিয়মিত পান খায়। তার পিছনে কি নামাজ আদায় করা যাবে? ২। একটা বিষয় আমি আজো পরিস্কার হতে পারিনি সেটা হলো- ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করার সময় কি আমাকেও সুরা ফাতেহা পড়তে হবে? হোক সেটা জোহর (নিম্নস্বরে) বা মাগরীব (উচ্চস্বর) এর নামাজ। সুরা ফাতিহা এবং সাথে যে কোন সুরা পড়া ওয়াজিব। তবে কি আমি ইমামের পিছনে যদি সুরা না পড়ি সেক্ষেত্রে আমার নামাজ হবে না?
07 Jan 2026

১। পান খাওয়া হারাম নয়। তবে জর্দ্দা খাওয়াকে অনেক আলেমই হারাম বলেছেন। সুতরাং পান খেলে সেই ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়েজ, কোন সমস্যা নেই।

২। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে। সুতরাং আপনি পড়তে পারেন আবার না পড়লেও সমস্যা নেই। হানাফী মাজহাবে না পড়তে বলা হয়েছে। শাফেয়ী মাজহাবে সকল সালাতে এবংহাম্বলী মাজহাবে জোহর ও আসরে পড়তে বলা হয়েছে। প্রত্যেকের পক্ষেই সহীহ হাদীস আছে।

প্রশ্নঃ 1508
ak sathe 4 mazhab mana jabe ki. jemon hat badha hanafi moto amin shafi moto. onno masala maleki moto. jodi na mana jai tobe karon bolben. a somporkito kono valo kitab er nam bolben pls.
06 Jan 2026

দেখুন, আমাদের জন্য কুরআন হাদীস মোতাবেক চলা ফরজ। কুরআন ও হাদীস থেকে যারা সরাসরি মাসআলা জানতে পারে না তাদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে আলেমদের মতামত নিতে হয়, সেটাই মাজহাব নামে স্বীকৃত। সুতরাং সাধারন মানুষ যখন কোন সমস্যায় পড়বে তখন যে কোন আলেমের নিকট থেকে শুনে সে অনুযায়ী কাজ করবে। আপনি যদি কুরআন হাদীস ও হাদীস পড়ে কোন মতামত আপনার নিকট শক্তিশালী মনে হয় তাহলে আপনি কোন বিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে আপনার নিকট শক্তিশালী দলীল অনুযায়ী আপনি আমল করতে পারেরন।তবে এই নিয়তে নয় যে, এটা হানাফী মাজহাব আর এটি অন্য মাজহাব। মোটকথা বিভিন্ন মাজহাব মানা নয় আপনার কাছে হাদীসের দৃষ্টিতে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী মত যেটা সেটা আপনি পালন করতে পারেন। এটা কোন মাজহাবে আছে সেটা দেখার বিষয় নয়। তবে সাধারণ মানুষরে জন্য কোন একটি মাজহাব মেনে চলা তার জীবন-যাপনের জন্য সহজতর।

প্রশ্নঃ 1506
ইস্তিখারা করার পর আমাদের মন যা বলে তাই কি হবে? আর কতদিনের মদ্ধে এর ফল পাব?
06 Jan 2026

ইস্তিখারা করার অর্থ হলো আল্লাহর নিকট উত্তম ও সঠিক বিষয়টি চাওয়া। আল্লাহ যেন উত্তম বিষয়টি ফয়সালা করেন এটা প্রার্থনা করা। এখানে মন কিছু বলা বা ফলাফল পাওয়ার কিছু নেই। ইস্তেখারা করলে আল্লাহ কল্যানকর ও সঠিক বিষয়টি আশা করা যায় নির্ধারন করবেন।

প্রশ্নঃ 1477
আমার বাড়ি নাগেশ্বরী, কাজের জন্য ঢাকায় থাকি,দুই ঈদে বাড়ি যাই, বাড়ী গেলে নামায কি কসর হবে নাকি পুরা নামায পড়তে হবে?
06 Jan 2026

বাড়ি গেলে নামায পুরো পড়বেন।কসর করবেন না।কসর করতে হয় যখন বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল দূরে কোথাও ১৫ দিনের কম দিন থাকার নিয়তে যায় তখন।তবে আপনি বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় কসর করবেন।

প্রশ্নঃ 1469
আসসালামু আলাইকুম। সালাতের ভিতরে বা বাইরে কুরআন তেলাওয়াতের সময় সুরা সিরিয়াল অনুযায়ী না হলে কি কোনো সমস্যা হবে?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, কোন সমস্যা নেই। তবে সালাতের ভিতরে সিরিয়াল অনুযায় পড়াকে অনেকে ভাল বলেছেন।

প্রশ্নঃ 1465
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সাহু সিজদার বিস্তারিত নিয়ম জানালে খুবই উপকৃত হতাম। আমি বেশ কিছু আলেমের বক্তব্যে জানলাম যে দুইদিকে সালাম ফিরিয়ে দুই সিজদা দিয়ে আবার দুইদিকে সালাম ফেরাতে হবে। আবার দুই সিজদা দিয়ে দুইদিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করলেও সাহু সিজদা হবে। আমাদের ছোটকাল থেকে রীতি একদিকে সালাম দিয়ে দুইটি সিজদা দিয়ে আবার তাশাহহুদ, দুরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে উভয়দিকে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। আমি খুবই দিধাদন্দে আছি। তাই দয়া করে সাহু সিজদার বিস্তারিত নিয়ম জানালে খুবই উপকৃত হতাম।
06 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি।১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আপনি যেটা বলেছেন, এতে কোন মতাভেদ নেই। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। আপনি যে পদ্ধতিটি উল্লেখ করেছেন সেটা তার মধ্যে একটি।আরো একটি হলো আমরা ছোটকাল থেকে যা করছি। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে।

প্রশ্নঃ 1464
শাইখ মতিউর রহমান (উনাকে খাট করার জন্য বলতেছিনা) বললেন তাশাহুদ পড়ে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সেজদা করার হাদিসটি নাকি জঈফ। উনার আলোচনা শুনে আমি এখন দ্বিধাগ্রস্ত। সাহু সেজদা করার নিয়ম টা হাদিস থেকে বিস্তারিত বললে ভাল হত?
06 Jan 2026

হাদীসে সাহু সাজদা দেওয়ার নিয়ম প্রধানত দুটি। ১. সালাম ফিরানোর পূর্বে। ২. সালাম ফিরানোর পরে। সালাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সাজদা দিতে হয় সব কিছু পড়ে দুটি সাজদা দিয়ে তারপর সালাম ফিরানো। আর সালাম ফিরানোর পরে সাহু সাজদা দিলে কী কী পড়তে হবে হাদীসে তা স্পষ্ট নেই। তাই কিছুটা মতভেদ আছে। শেষ বৈঠকে তাশাহুদু পড়া ওয়াজিব আর দরুদ-দু;আ মাসুরা পড়া সুন্নাত তাই তাশাহুদুর পরে সালাম ফিরালেও সহীহ হবে। সুতরাং শুধু তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরালে কোন সমস্যা নেই। এখন বাকী থাকলো একদিকে সালাম ফিরাবে নাকি দুদিকে। স্বাভাবিক নিয়ম হলে সালাম ফিরানোর সময় দুদিকেই সালাম ফিরানো। হানাফী মাজহাবের অধিকাংশ কিতাবে সাহু সাজদা দেওয়ার সময় দুদিকে সালাম ফিরানোর কথাই বলা হয়েছে। তবে সালাতে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করারও সহীহ হাদীস আছে। ইমাম শাফী রহ. বলেছেন, যার ইচ্ছা এক দিকে সালাম ফিরাবে আর যার ইচ্ছা দুদিকে সালাম ফিরাবে। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সাজদা দিলেও জায়েজ হবে। তবে দুদিকে সালাম ফিরারোটাই ভাল মনে হয়। একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসিট নিম্নরুপ:عَنْ عَائِشَةَ, أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً تِلْقَاءَ وَجْهِهِ. হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একদিবে সালাম ফিরাতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং২৯৬; সুনানু ইবনু মাজাহ, হাদীস নং৯১৯; সহীহ ইবনু খুজা্য়মা, হাদীস নং ৭৩০। শায়খ আলবানী রাহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ ওশায়খ শুয়ািইব আর নাউত রাহ. বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ (সহীহ ইবনে হিব্বান, ১৯৯৫ নং হাদীসের টিকা)। এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সুতরাং একদিকে সালাম ফিরানোর হাদীসটি যয়ীফ এটা ঠিক নয়।মোটকথা দুদিকে সালাম ফিরানোই ভাল তবে একদিকে সালাম ফিরালেও সালাত সহীহ হবে। আরো জানতে দেখুন, সুনানু তিরমিযী ২৯৬ নং হাদীসে ইমাম তিরমিযী রাহ. এর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 1463
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ! ভাই আমার দুইটি প্রশ্ন। ১. জামাতে যদি (জুমআ বাদে) শেষ বৈঠক পাই তাহলে কি আমি জমাতের সলাত পেলাম? নাকি শেষ বৈঠক পেলে আর জমাতে শরিক হবো না? যদি আমি শুনেছি বা হাদিসে পড়েছি জুমআ সলাতে এক রাকাত না পেলে যোহর পড়তে। আসলে এটা কি সব সলাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নাকি জুমআ তে? আরেকটা প্রশ্ন। আমরা জানি হস্ত মৈথুন ইসলামে হারাম। আচ্ছা এটা কি ইজমা দ্বারা হারাম নাকি এ নিয়ে মতভেদ আছে? আমি বিবাহিত। যদিও হস্ত মমৈথুন করি নানা কিন্তু স্ত্রীর পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে খুব উত্তেজিত হয়ে যাই স্ত্রীর সংস্পর্শ থাকলে। আপনি জানেন এটা খুবই স্বাভাবিক। এমতাবস্থায় যদি আমার স্ত্রীর আলিঙ্গন এ আমি উত্তেজিত হয়ে হস্তমৈথুন করি তাহলে কি কোন সমস্যা আছে? দয়া করে জানাবেন। জাযাকাল্লাহ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জুমুআসহ সকল সালাতরে শষে বঠৈক পলেে আপনি জামাতে শরীক হবনে। তবে জুমুআর সালাতে কোন রাকআত না পলেে জুমুআর দুই রাকআত আদায় করতে হবে না কি জোহররে চার রাকআত আদায় করতে হবে এই নয়িে আলমেদরে মাঝে মতভদে আছ। ইমাম আবু হানীফা বলছেনে, তাশাহুদর আগে শরীক হলে জুমুআর দুই রাকআত আদায় করবে আর অন্যান্য ইমামগণ বলছেনে,জোহররে চার রাকআত সালাত আদায় করব। তবে আপনি যটো বলছেনে জুমুআর সালাতে এক রাকআত না পলেে যোহর পড়তে হবে এটা ঠকি নয়। নচিরে হাদীসটি দখেুন: عن أبي هريرة : عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : من أدرك من صلاة الجمعة ركعة فقد أدرك الصلاة আবু হুরাইরা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থকেে র্বণনা করছেনে, তনিি বলছেনে, যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতরে এক রাকআত পলে সে সালাত পলে। সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৮৫০।হাদীসটি সহীহ। সুতরাং এক রাকআত পলেে যুহর পড়তে হয় এই কথা ঠকি নয়। ২। কুরআন ও হাদীসরে আলোকে হস্তমথৈুন হারাম। দুই একজন আহলে জাহরে আলমে জায়জে বলছেনে কন্তিু এই মত বাতলি, তবে মুহাক্ককি আলমেগন বলছেনে, যদি জনিার (ব্যভিচারে) আশংকা হয় তাহলে হারাম হবে না। পবত্রি কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেনে, وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (৫) إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (৬) فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ (৭) আর যারা তাদরে লজ্জাস্থানকে হফোজত কর। ে তবে তাদরে স্ত্রী ও দাশীদরে ক্ষত্রেে সমস্যা নইে। তখন তারা নন্দিতি হবে না। সুতরাং যারা এদরে ছাড়া অন্য কোন মহলিাকে (যাৈন চাহদিা পূরণরে জন্য) খুঁজবে তারা সীমালংঘনকারী। সূরা মূমনিুন, আয়াত:৫,৬,৭ উক্ত আয়াত দ্বারা ইমাম শাফয়েী (র.) হস্তমথৈুন হারাম হওয়ার দলীল পশে করছেনে। আয়াতগুলো উল্লখে করার পর তিনি বলছেনে, فَكَانَ بَيِّنًا في ذِكْرِ حِفْظِهِمْ لِفُرُوجِهِمْ إلاَّ على أَزْوَاجِهِمْ أو ما مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ تَحْرِيمُ ما سِوَى الأَزْوَاجِ وما مَلَكَتْ الأَيْمَانُ ثُمَّ أَكَّدَهَا فقال عز وجل {فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذلك فَأُولَئِكَ هُمْ الْعَادُونَ} فَلاَ يَحِلُّ الْعَمَلُ بِالذَّكَرِ إلاَّ في الزَّوْجَةِ أو في مِلْكِ الْيَمِينِ وَلاَ يَحِلُّ الاِسْتِمْنَاءُ وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ শাফয়েী বলনে, স্ত্রী ও দাশী ছাড়া অন্য কোথাও যৌন চাহদিা পূরণ করা যাবে না এ কথার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, স্ত্রী ও দাশী ছাড়া অন্য যে কোন জায়গায় যৌনর্কম হারাম। এরপর আল্লাহ তায়ালা বিষয়টি আরো জোরালো করে বলছেনে, সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্য কোন মহলিাকে (যৌন চাহদিা পূরণরে জন্য) খুঁজবে তারা সীমালংঘনকারী। ফলে স্ত্রী ও দাশী ছাড়া যৌনর্কম হালাল হবে না এবং হস্তমথৈুন হালাল হবে না। আল্লাহ তায়ালা ভাল জাননে। কতিাবুল উম্ম, (ইমাম শাফী র.) হস্তমথৈুন অধ্যায় ৫/৯৪ আল্লামা ইবনে তাইময়িা রহ. বলনে, أَمَّا الِاسْتِمْنَاء بِالْيَدِ فَهُوَ حَرَامٌ عِنْدَ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ وَهُوَ أَصَحُّ الْقَوْلَيْنِ فِي مَذْهَبِ أَحْمَد وَكَذَلِكَ يُعَزَّرُ مَنْ فَعَلَهُ . وَفِي الْقَوْلِ الْآخَرِ هُوَ مَكْرُوهٌ غَيْرُ مُحَرَّمٍ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يُبِيحُونَهُ لِخَوْفِ الْعَنَتِ وَلَا غَيْرِهِ وَنُقِلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ أَنَّهُمْ رَخَّصُوا فِيهِ لِلضَّرُورَةِ : مِثْلَ أَنْ يَخْشَى الزِّنَا فَلَا يُعْصَمُ مِنْهُ إلَّا بِهِ وَمِثْلَ أَنْ يَخَافَ إنْ لَمْ يَفْعَلْهُ أَنْ يَمْرَضَ وَهَذَا قَوْلُ أَحْمَد وَغَيْرِهِ . وَأَمَّا بِدُونِ الضَّرُورَةِ فَمَا عَلِمْت أَحَدًا رَخَّصَ فِيهِ . وَاَللَّهُ أَعْلَمُ র্অথ:অধকিাংশ আলমেরে নকিট হস্তমথৈুন হারাম আর হাম্বলী মাজহাবরে বশিদ্ধ র্বণনা এটাই। যে এমন করে সে নন্দিার পাত্র। অন্য র্বণনাযয় মাকরুহ, হারাম নয়। অধকিাংশ আলমে কোন সময়ই এর বধৈতা দনেনি চাই ব্যভচিাররে ভয় হোক বা অন্য কোন কারনে হোক। তবে একদল সাহাবী এবং তাবঈে থকেে র্বণতি আছ, তারা প্রয়োজনরে সময় এটাকে বৈধতা দিয়েছেন। যেমন ব্যভিচারের ভয়, রোগাক্রান্ত হওয়ার ভয়। আর এটাই আহমাদ এবং অন্যান্যদের মত। আর আমি এমন কাউকে দেখেনি যে বিনা প্রয়োজনে এই বিষয়টির বৈধতা দিয়েছেন। মাজমুউল ফাতাওয়া,২৪/২২৯। বাবু সুয়লিা আনলি ইসতমিনা-ই।

প্রশ্নঃ 1462
আসসালামু ওয়ালাইকুম। প্রচলিত নিয়মে সেজদাতে মহিলারা যেভাবে মাটিতে কুনুই সহ হাত বিছিয়ে দেয় তা কি বিদাত? কারন অনেকে বলে এভাবে সেজদা করা জায়েজ নয়! ধন্যবাদ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলারা রুকু সাজদা দেয়ার সময় জড়সড় হওয়ার বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমানিত। আলেম ও মুজতাহিদগণও তাই বলেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া 38 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1450
আসসালামু আলাইকুম। নামাজের স্থায়ী সময়সূচীতে ওয়াক্ত শুরুর সময় আছে কিন্তু কোন সালাত কত সময় পর্যন্ত পড়া যাবে তা নেই। আবার কতটুকু সময় নামাজ নিষিদ্ধ তাও জানা দরকার। এব্যাপারে সারা বছরের জন্য নীতিমালাটা জানানোর অনুরোধ করছি। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাতের শেষ সময়ের ব্যাপারে সারা বছরের নীতিমালা নিম্নে দেওয়া হলো: ফজরের শেষ সময় সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। জোহরের শেষ সময় আসরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আসরের শেষ সময় সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের শেষ সময় ইশার সালাতের সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত আর ইশার শেষ সময় ফজরের সালাতের সময় শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1445
1.Majur namaji chair e bosey namajey Table e ba balishe sejda Jayej kina? 2.Eka namajey ayatey bhul holey abong char rakater prothom boithokeTasahud er por dorud path korley sahu sejda kortey honey ki? Plz clarify. M.Yunus
06 Jan 2026

না, চেয়ারে বসে বা অন্য কোন ভাবে সাজদার সময় মাটি ছাড়া কোন কিছুর উপর সাজদা করা যাবে না। মাটিতে সাজদা না করতে পারলে যতটুকু সম্ভাব মাথা নিচু করবে। ২। আপনার প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। তবে প্রথম বৈঠকে ভুল করে তাশাহুদুর পরে দরুদ পড়লে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে।

প্রশ্নঃ 1439
আস সালামু আলাইকুম, হজ্জের সময় আরাফার ময়দানে যোহর ও আসর এর সালাত কসর ও জমা করে পড়তে হবে কিনা বিস্তারিত জানালে খুশি হব। ধন্যবাদ
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দুটি বিষয়েই আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করা আমাদের জন্য উপযোগী বলে মনে হয়। আরাফার ময়দানে ইমাম সাহেবের পিছনে জোহর এবং আসর একসাথে জোহরের সময় আদায় করতে হবে। ইমাম সাহেব যেভাকে আদায় করবেন মুক্তাদিও সেভাবে আদায় করবেন। ইমাম সাহেবের পিছনি না পড়ে একা একা পড়লে একসাথে পড়তে হবে না আলাদাকরে জোহরের সময়ে জোহর এবং আসরের সময় আসর পড়তে হবে সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে একসাথে আদায় করাটাই উত্তম বলে মনে হয়। একাকী পড়লেও কসর করবে। মক্কাবাসী এবং মক্কার বাইরে সবার জন্য এই হুকম প্রযোজ্য ।

প্রশ্নঃ 1436
আসসালামু আলাইকুম ভাই। আশা রাখি ভালো আছেন।ভাই, আমি আলহামদুলিল্লাহ্ নিয়মিত যখন সলাতে যাই তখন মসজিদে ঢোকার পুর্ন দোয়া পড়ে ঢুকি আবার যখন বের হই তখনও পড়তে পড়তে বের হই। এক্ষেত্রে আমি মসজিদের মুল ফটক ব্যবহার করি। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল মসজিদে ঢোকার ক্ষেত্রে নাকি যেখান থেকে পায়ের জুতা খোলা হয় সেখান থেকেই দোয়া পড়তে হবে। এখন আমাদের মসজিদে ঢোকার তিনটি স্তর প্রথমে জুতা খুলে তারপর বারান্দা তারপর মূল ফটক। এখন আমার প্রশ্ন আসলে কোন নিয়মটা বেস্ট। জাযাকাল্লাহ!
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। স্বাভাবিকভাবে মসজিদসমূহে জুতা খুলার স্থানের পর থেকেই নামাযের জায়গা শুরু হয়, তাই জুতা খুলার স্থান থেকেই দুআ পড়া ভাল বলে মনে হয়।

প্রশ্নঃ 1432
Assalamu alaikum namazer age jokhon takbir dawa hoi tokhon hat badha thakbe naki sara thakbe,jodi badha thake tahole kono problem ase ki? Ami Tafsir ibna kasir ar bangla onubad kinta chai, kon publisher ar ta valo hobe? previous question ar answear dawar jonno dhonnobad.Allah apnader uttom protidan dan korun.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সময় হাত রাখার বিশেষ কোন নিয়ম নেই। বাধা রাখলেও সমস্যা নেই, ছেড়ে রাখলেও সমস্যা নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত তাফসীরে ইবনে কাসীর কিনবেন।

প্রশ্নঃ 1427
আসছালামু আলাইকুম ভাই বীতর নামাজে কুনুত পড়ার আগে কি রফুল ইয়াদাইন করতে হবে। এ সম্পর্কিত কি কোন হাদিস আছে থাকলে সনদ টা জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়ার বিষয়ে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, كَانَ عَبْدُ اللهِ لَا يَقْنُتُ إِلَّا فِي الْوِتْرِ، وَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ، يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতরের সালাতেই কুনুত পড়তেন। আর তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন কুরআন পড়া শেষ করতেন তখন তাকবীর দিয়ে কুনুত পড়তেন। শরহে মুশকিলিল আছার, হাদীস নং ৪৫০৪, ১১/৩৭৪। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে (হাদীস নং ৭০২১)ভিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে অনুরুপ বর্ণিত আছে। উভয় হাদীসের সনদে দূর্বলতা আছে। তবে দ্বিতীয় হাদীসটি প্রথম হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করায় শায়খ শুয়াইব আর নাউত প্রথম হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন: শরহে মুশকিলিল আছার, ১১/৩৭৪। এই হাদীসে আমরা দেখছি সাহবী ইবনে মাসউদ কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিতেন। কুনুতের সময় উমার রা. হাত উঠাতেন বলে বর্ণিত আছে। হাদীসটি হলো, عَنْ أَبِى عُثْمَانَ قَالَ : صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَرَأَ ثَمَانِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ ، وَقَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ ، وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالدُّعَاءِ حَتَّى سَمِعَ مَنْ وَرَاءَ الْحَائِطِ অর্থ: আবী উসমান রহ. বলেন, আমি উমার রা. এর পিছনে নামায আদায় করলাম তিনি সূরা বাকারাহ থেকে আশিটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তিনি রুকুর পরে কুনুত পড়লেন এবং তার দুহাত উত্তোলন করলেন এমন কি আমি তার বগলের সাদা অংশ দেখে ফেললাম। তিনি এতো উচ্চস্বরে দোয়া করলেন যে, দেয়ালের পিছনে যারা আছে তারাও শুনতে পেলো। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্কী, হাদীস নং৩২৭৪। একই হাদীস আরো দুটি সনদে তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন ৩২৭৩ এবং ৩২৭৫ নং হাদীস। ৩২৭৫ নং হাদীসের পরে ইমাম বায়হাক্কী রহ. বলেছেন, وَهَذَا عَنْ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ صَحِيحٌ এটা উমার রা. থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত। উপরের হাদীসটি আরো বর্ণিত আছে মুসান্নিফে ইবনে আবি শায়বাতে। হাদীস নং ৭১১৪ এবং ৭১১৫। এই হাদীসটির সমস্ত বর্ণনাগুলো একত্র করলে দেখা যায় এটা ফজরের নামাযের ঘটনা। আর বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি সহীহ কিংবা হাসান পর্যায়ের হবে। এই হাদীস থেকে বুঝা যায় দুআ কুনুত পড়ার সময় হাত উঠানো যায়। তবে হাত উঠিয়ে তিনি আমাদের দেশের মোনাজাত করার মত করতেন না কান পর্যন্ত উঠাতেন তা স্পষ্ট নয়। কোন কোন সাহবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা মোনাজাতের মত করে হাত তুলতেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১৬৭ ও ১১৭ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 1425
নামাজে কি কোন জায়-নামাজের দোয়া আছে সনদ সহ জানাবেন। আর না থাকে এখানে কোন দোয়া পরলে সে টা কি বেদাত?
06 Jan 2026

জায়নামাযে দাড়ানোর সময় যে দুআটি প্রচলিত আছে সে দুআটি এসময় পড়ার কথা হাদীসে নেই। এবং বিশেষ কোন দুআ এসময় আছে বলে আমাদরে জানা নেই।

প্রশ্নঃ 1424
Assalamu alaikum wa rahmatullah. Shomosto Proshongsha Akmatro Mohan AllahSubhanataallaher.Taar Oshes Doya O Shanti Kamona Kori Islamer Shebay Ei Mohot Kormer Jonno.Islamer Ei Sheber Jonno Mohan Allah Aapnader Kobul Korun. Aamin. Q:- Namajer Aadayer Shomoy Jodi Navir Nich Theke Taknor Upor Porjonto Pant, Pajama Othoba Lunggi Dara Aabrito Thake Abong Shart,T-Shart Othoba Paanjabi Dara Navi Dhaka Thake Tahole Ki Namaz Shuddo Hobe? #Please Give me Answer.
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যা, নামায শুদ্ধ হবে। নাভী সহ হাটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা থাকলেই পুরুষের জন্য নামায সহীহ হবে। নারীর জন্য হাত মুখ ও পা বাদে পুরো শরীর ঢাকতে হবে।

প্রশ্নঃ 1412
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের মাসজিদের ইমাম সাহেব বললেন, রুকু ও সিজদার তাজবিহ মনে মনে পরতে হয়, কারো তাজবিহ যদি পাশের জনের কান পর্যন্ত যায় ত তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। বেপারটা কি এতটাই কঠিন? আমিতো প্রায়ই পাশের মুসল্লির তাজবিহ কিছু কিছু শুনতে পাই! যাযাকুমুল্লাহ।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, ব্যাপারটি মোটেও এত কঠিন নয়। মনে মনে পড়তে গিয়ে অন্যের কানে যেতে পারে এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে অন্য কারো সালাতে সমস্যা সৃষ্টি যেন না হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা উচিত। আর সালাত নষ্ট হওয়ার কোন বিষয় এখানে নেই।

প্রশ্নঃ 1410
আস সালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হল, কোন কারনে ঈমাম খুব দ্রুত সালাত শেষ করার ফলে মুসল্লিরা তাশাহুদ পড়ার পর দূরুদে ঈবরাহীম পড়ে শেষ করতে পাড়েনি। এতে নামাযের কোন ক্ষতি হবে কি?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দরুদ পড়া ফরজ-ওয়াজিব কিছু নয়। সুতরাং কোন কারণে দরুদ না পড়লে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1404
আস সালামুআলাইকুম। একাকী ফরজ নামাজ পড়ার সময় যদি দেখি কিছু ভাই পরে এসে জামাত করে নামাজ পরতেছে, তাহলে কি আমি আমার নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের সাথে জামাতে শরিক হতে পারব কি না? আর যদি পারি তাহলে আমার নামাজ ছেড়ে দেয়ার কোন পদ্ধতি আছে কি না? আশা করি উত্তর টি জানাবেন।
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি আপনার সালাত শেষ করবেন। জামাতে শরীক হবেন না। অবশ্য মসজিদের মূল জামাত হলে সালাত ভেঙ্গে দিয়ে জামাতে শরীক হবেন।

প্রশ্নঃ 1403
আস-সালামুআলাইকুম। নামাজ কসর করার সময় আমি শুধু ফরজ নামাজ গুলো কসর করি। বাকি সুন্নত নামাজ গুলো পরি না, এখন এক্ষেত্রে ইসলামিক বিধান কি হবে? আমাকে কি সুন্নত নামাজ ও পড়তে হবে নাকি না পরলে ও চলবে? আশা করি দলিল সহকারে জানাবেন?
06 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, যেখানে সফরের কষ্টের কথা চিন্তা করে শরীয়ত ফরজকে কমিয়ে অর্ধেক করে দিয়েছে সেখানে সুন্নাত না পড়লে সমস্যা হবে, এটা কী কোন যুক্তিযুক্ত কথা হলো? এর আবার দলীলও দরকার! সুন্নাত সালাত ফরজেরর পরিপূরক। আপনি সর্বাবস্থায় কমবেশী সুন্নাত-নফল সালাত আদায় করার চেষ্টা করবেন।

প্রশ্নঃ 1402
১/ ফজরের ফরয সালাতের পর কেউ বসে যিকির/কুরআন পড়লে পূণ হজ্জ ও পূণ ওমরার নেকী পাবে (তিরমিযী হাদীস/৯৭১)। আমি শহরে থাকি। শহরের মসজিদগুলো ফজরের সালাতের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি কি আমার ঘরে এই আমল করতে পারি? ২/ জামায়াতে ৩য়/৪থ রাকাতে শরীক হলে অন্য রাকাতগুলোতে কি অন্য সূরা মিলাতে হবে? এবং সুন্নাত সালাতে ৩য়/৪থ রাকাতে কি অন্য সূরা মিলাতে হবে? ৩/ রুকু থেকে উঠে এবং দুই সিজদার মাঝে আমাদের নবী দীঘক্ষণ দোয়া করতেন দোয়াগুলো কি কি দয়া করে জানাবেন?
05 Jan 2026

জ্বী, এসব আমল আপনি ঘরে বসে করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। ২। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে আপনি প্রথম দুরাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মেলাবেন। বাদবাকী রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। সু্ন্নাত নামাযের সকল রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মেলাবেন। ৩। ভাই, এই বিষয়টি বিস্তারিত জানতে শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৩৩৭-৩৮২ দেখুন।

প্রশ্নঃ 1398
সালাতে সুরা ফাতিহা এর আগে কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা বাধ্যতামূলক (সকল রাকাতে)?
05 Jan 2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা সুন্নত, না বললেও সালাত আদায় হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1393
ফরজ নামাজের পরে সম্মিলিত মুনাজাত?
05 Jan 2026

নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘ্নিত যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। বিস্তারিত জানত দেখুন আমাদের দেয়া 29 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1392
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ১. কর্ম ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন যোহেরের নামাযের প্রথম চার রাকাত সুন্নত পড়া হয় না, এ ক্ষেত্রে হুকুম কী? ২. রুমের মধ্যে দরজা লাগিয়ে নামায আদায় করার সময় যদি কেউ কয়েক বার ডাকা-ডাকি করে এ ক্ষেত্রে কি নামাযে মধ্যে তার ডাকের উত্তর দেয়া যাবে, না কি উত্তর দিলে নামায ভেঙে যাবে? ৩. মসজিদে ফরজ নামায আদায়ের কতক্ষণের মধ্যে ঘরে এসে সুন্নত আদায় করা যায়? ধন্যবাদ
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. জোহরের চার রাকআত সুন্নাত সালাত নিয়মিত আদায় করতেন বলে সহীহ হাদীসে আছে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮২। যেসব সুন্নাত রাসূলুল্লাহ সা. নিয়মিত আদায় করতেন তা নিয়মিত ছেড়ে দেয়া মূমিনের জন্য উচিত নয়। ২। প্রয়োজনে উ্ত্তর নিতে হবে। তবে নামায ভেঙ্গ যাবে, পূনরায় নামায পড়তে হবে। ৩। এক্ষেত্রে কোন বাধা-ধরা নিয়ম নেই।

প্রশ্নঃ 1387
১। কর্ম ব্যস্ততার কারনে যোহরের প্রথম ৪ রাকাত সুন্নত পড়া না গেলে (প্রতিদিন) এর হুকুম কি? ২। যখন দরজা লাগিয়ে রুমের ভিতর নামায আদায় করি, তখন কেউ যদি কয়েক বার ঢাকা ঢাকি করে নামাযের মধ্যে তার উত্তর দেয় যয়েজ হয় না কি? ৩। ফরজ নামায মসজিদে আদায় করে, কতক্ষনের মধ্যে ঘরে এসে সুন্নত আদায় করার বিধান রয়েছে?
05 Jan 2026

১। হাদীসে আছে, عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সা. জোহরের পূর্বে ৪ রাকআত এবং ফজেরর পূর্বে দুই রাকআত ছাড়তেন না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮২। মুমিনের জন্য উচিত হলো সুন্নাতের অনুসরণ। সুতরাং নিয়মিত ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে নয়। ২। প্রয়োজনে উত্তর দিতে হবে তবে নামাযের মধ্যে উত্তর দিলে নামায ভেঙ্গে যাবে। নতুন করে নামায শুরু করতে হবে। ৩। কোন বাধা-ধরা নিয়ম নেই। সুবিধামত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 1384
আসসালামুআলাইকুম মুফতি সাহেব। আমি কয়েক দিন যাবত বড় একটা সমস্যায় আছি। পরিচিত বড় আলেম নাই বলে আমার সমস্যার সমাধান খুজে পাচ্ছি না। সমস্যা হলো আমাদের মসজিদের ইমাম কিছু কিছু সূরায় ভুল করে। তার মতো এত ভুল আমি অন্য কোনো ইমামের মাঝে পাইনি। একটা উদাহরন দেই:তিনি সূরা শামস এর শেষ আয়াতে বলেছিল ওয়ালা ইয়া খফুনা উক বা হা। (না) টা বাড়তি বলছে। তাকে অনেক ভুল ধরেছি, একটা ঠিক করলে আরেকটা বের হয়। তিনি আআসলে হাফেজ না। তাকে বলছি সূরা রিভিসন দেন। তিনি হয়তো দেন না আর নইলে তার মনে থাকে না। ঐদিন উপরোক্ত ষামস সূরার ভুল ধরে সব মুসল্লির সামনে অপমান করছি। যাতে শুধরাই। এরকম ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার ইচ্ছা নাই। আমাদের পাশের গ্রামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে অনেকে বলে বাড়ির কাছের মসজিদ রেখে দুরের মসজিদে গেলে গুণাহ হবে। আবার কেউ বলে ইমামের নামাজ ভুল হলেও তোমার নামাজ হয়ে যাবে। অন্য মসজিদে গেলে খারাপ দেখা যায়। তো আমাদের মসজিদের ঐ ইমামের পিছনে বাধ্য হয়ে নামাজ পগতে হয়। নামাজ পপগা অবস্হায় শুধু সন্দেহ হয় যে এএর পপিছনে নামাজ হবে না। এখন আমি কি করি?একাকী নামাজ পড়া আমি পছন্দ করি না। এখন কি করব মুফতি সাহেব?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনার জন্য প্রথম কাজ হলো উক্ত ইমাম সাহেবের পড়া কোন ভাল আলেমকে শোনানো। তিনি যদি মনে করেন, এভাবে পড়লে নামায হয় না, তাহলে আপনি কৌশলে মুসল্লিদের বিষয়টি বুঝান। যদি সমাধান হয় তাহলে তো ভাল আর যদি না হয় তাহলে আপনি অন্য কোন মসজিদে নামায আদায় করুন। এতে আপনার কোন গুনাহ হবে না বরং যাওয়ায় অপরিহার্য। একাকী নামায পড়বেন না। অন্য মসজিদ দূল হলেও সেখানে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1381
আমাদের অফিসের মসজিদের জায়গা কম থাকার কারনে মাঝে মাঝে ইমামকে সামান্য একটু সামনে রেখে আমরা ইমামের সাথে কাতার সোজা করে দাঁড়াই। যাতে করে একটা নামাজের কাতার বেশি হওয়ার সুযোগ হয়। মাঝে মাঝে কিছু নামাজের ওয়াক্তে মুসল্লি কম হয়, অথবা দ্বিতীয় জামাতে মুসল্লির সংখ্যা কম হয়। কিন্তু তখন ও পিছনে যায়গা খালি রেখে ওই অল্প সংখ্যক মুসল্লি ইমামের সাথেই প্রায় একি কাতারে দাঁড়ায়। অথচ ইমাম কে সামনে রেখে পিছনের কাতারে মুসল্লি দাঁড়ালেও মুসল্লিদের পিছনে আরও এক কাতার হবে এমন যায়গা খালি থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হল, পিছনে যায়গা খালি রেখে একি কাতারে ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পরলে নামাজের কোন ক্ষতি হবে কি না? এই ব্যাপারে আপনাদের ইসলাম সম্মত মতামত আশা করছি। আস সালামু আলাইকুম।
05 Jan 2026

যদি জায়গা থাকে তাহলে ইমাম সাহেব সামনে দাঁড়াবেন।আপনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেভাবে দাঁড়ালেও নামায হবে। তবে এটা উচিত নয়।

প্রশ্নঃ 1380
একটা প্রশ্ন ছিলো স্যার। নামাজের সঠিক নিয়ম কি। এবং তা সঠিক প্রমান হের সাথে প্রেশ করবেন। উত্তরটা জানাবেন…please
05 Jan 2026

আপনার এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য তো একটা বই লেখা দরকার।সংক্ষেপে আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, আমারা যেভাবে নাময পড়ি এটা সঠিক। একটা কথা মনে রাখবেন, নামাযের কোন কোন কাজের একাধিক পদ্ধতি সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত, সেসব কাজের বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হওয়া কাম্য নয়। যেমন, রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা। উভয়টিই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। ভাই, নামাযের নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে জানার থাকলে লিখবেন।

প্রশ্নঃ 1371
জায়নামাযের দোয়া ছাড়া কী নামায হবে?
05 Jan 2026

জায়নামাযের কোন দুআ নেই, তাই জায়নামাযের দুআ ছাড়া নামায হওয়া না হওয়ার কোন প্রশ্ন নেই। আমাদের দেশে জায়নামাযের দুআ নামে কুরআনের যে আয়াতটি পড়া হয় ঐ দুআটি জায়নামাযের দুআ মর্মে কোন হাদীস নেই।

প্রশ্নঃ 1363
আসসালামু আলাইকুন, হযরত আমি জানতে চাচ্ছি ফজরের পর মাকরুহ ওয়াক্ত কত সময়?১০ মিনিট না ২৩ মিনিট। দয়া করে জানাবেন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ وَعَنِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. দুই সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের সালাতের পর যতক্ষন না সূর্য উদিত হয়…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৪। অর্থাৎ সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর সালাত আদায় করা যাবে, মাকরুহ হবে না। এ বিষয়ে আমি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান মুফতী জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর নামায পড়া যাবে। পুরোপুরি উঠতে ২৩ মিনিট সময় লাগে না, আরো কম সময় লাগে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1357
আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন হচ্ছে ইশরাকের নামাযের সঠিক সময় কোনটি, সূর্যদোয়ের 12 মিনিট পর না 23 মিনিট পর। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবে আমি দুই রকমের সময় পেয়েছি। সঠিক উত্তরটি দলিল সহকারে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। আমার ও আমর পরিবারের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ وَعَنِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. দুই সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের সালাতের পর যতক্ষন না সূর্য উদিত হয়…। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৪। অর্থাৎ সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর সালাত আদায় করা যাবে, মাকরুহ হবে না। এ বিষয়ে আমি আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের হাদীস বিভাগের প্রধান মুফতী জাকারিয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর নামায পড়া যাবে। পুরোপুরি উঠতে ২৩ মিনিট সময় লাগে না, আরো কম সময় লাগে। আসা করি বুঝতে পেরেছেন।

প্রশ্নঃ 1350
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কেমন আছেন ভাই? আমার প্রশ্ন হল, জীবনে আমি অনেক সালাত পড়ি নাই। ১২-২০ বছরের মাঝে অনেক ফরজ সালাত অবহেলাবশত বা এখন যতটা বুঝি সেই সময় এতটা সচেতন না হওয়ায় অনেক ফরজ সালত ত্যাগ করেছি। যার কোন সঠিক হিসেব আমি দিতে পারবো না। আর ফরজ সালাত ত্যাগ করার যে বিধান হাদিস ও পূর্বের ইমামরা বলেছে, এই নিয়ে খুব-ই ভীত। প্রশ্ন হলঃ- আমার ছুটে যাওয়া ফরজ সালাত এখন কি করবো? অনেকে বলে উমরি কাজা পড়তে !! এই বিষয়টা আমি বুজতে পারলাম না। কুরআন ও সহিহ হাদিস অনুসারে সমাধান চাচ্ছি? জাযাকাল্লাহু খাইরান। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। উমরি কাজা মানে আগের নামায কাজা করা। বছর বছর যারা নামায কাজা করেছে তাদের নামাযের কাজা করাকে উমরি কাজা বলে। এ্টা বিশেষ কিছু না। এবার আপনার মূল প্রশ্নে আসি। আপনি কখনোই নিরাশ হবেন না, আগে বুঝতেন না, এখন বুঝেছেন। পূর্বের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর প্রতি নামাযের পরে বা আগে ঐ ওয়াক্তের পিছনের এক দিনের নামায পড়ুন। যেমন, আসরের সময় আসরের একটু আগে গিয়ে পূর্বের এক দিনের চার রাকআত সালাত আদায় করুন। এছাড়া নামাযের সময় যে সব সুন্নাত পড়া হয় সেগুলো একটু কমিয়ে পূর্বের ঐ ওয়াক্তের এক দিনের সালাত পড়তে পারেন। এভাবে আপনি চেষ্টা করতে থাকুন। আমরা দুআ করি আল্লাহ আপনাকে ধর্মের উপর অটল রাখুন। তবে চিন্তা করবেন না,নিরাশ হবেন না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, তিনি অবশ্যই ক্ষমা করবেন।

প্রশ্নঃ 1342
আসসালামুআলাইকুম আমার প্রশ্ন হলো (১),যানবাহনে চলাচলের সময় নামাজের নিয়ম কি? বিশেষ করে গাড়িতে চলার সময়। (২)আমি একজন চাকুরীজীবী। অফিস থেকে ফেরার পথে আসর নামাজ অথবা মাগরিবের নামাজের সময় গাড়িতে থাকতে হয়। অনেক সময় অজু করাও থাকে না। অজুর প্রয়োজন হয়। নামাজের টাইম হলে গাড়ি থেকে নেমে নামাজ আদায় করে আবার গাড়িতে উঠা খুব অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় অপচয় হয়। এই অবস্থায় আমার কি করনিয়ো দয়া করে জানাবেন। (৩) ফজরের ফরজ নামাজ শেষে সূর্য উদয়ের আগে সময় থাকলে ফজরের সুন্নত পরা যাবে কি না? না কি সূর্য উদয়ের পরে সুন্নত নামাজ পরতে হবে?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ নামায যানবাহনে পড়বেন না। এমন ভাবে সফর করবেন যেন, যানবাহনে থাকা কালীনে কোন নামাযের ওয়াক্ত শেষ না হয়ে যায়। (২) অফিস থেকে ফেরার সময় আসরের নামায পড়ে গাড়ীতে উঠবেন (জামায়াতের সময় না হলে প্রথম ওয়াক্ততেই একা একা আসর পড়বেন। ) এরপর মাগরিব শেষ ওয়া্ক্তে অর্থাৎ এশার সালাতের সময় শুরু হওয়ার পুর্ব মুহুর্তে আদায় করবেন। আর যদি নিজস্ব গাড়ী হয় তাহলে পথিমধ্যে যেখানে যে নামাযের জামাতের সময় হবে সেখানে কোন মসজিদে গাড়ী থেকে নেমে নামায আদায় করবেন, এক্ষেত্রে কোন শিথীলতা নেই। কুরআন ও হাদীসে ওয়াক্তমত নামায পড়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। (৩) ফজরের সুন্নাত না পড়ে থাকলে সূর্য উদয়ের পর পড়বে। কেননা হাদীসে ফজরের ফরজ সালাতের পর সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত অন্য কোন নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৮৪।তবে পড়লেও আদায় হয়ে যাবে। তবে সূর্য উদয়ের পর পড়াই উত্তম। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সমস্যা হলে যোগাযোগ করুন: 01734717299 এই নাম্বারে।

প্রশ্নঃ 1339
স্যার আসসালামুয়ালাইকুম আমার জানার বিষয়টি হল যে নামাজে দাঁড়ানোর সহিহ পদ্ধতি কোনটি? চার বা আট আঙুল ফাঁকা রেখে নাকি সুবিধা অনুযায়ী?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চার বা আট আঙ্গুল ফাঁকা করে নয় স্বাভাবিক ভাবে সুবিধা অনুযায়ী দাাঁড়ানোই নামাযে দাঁড়ানোর সহীহ পদ্ধতি।

প্রশ্নঃ 1310
মহিলারা নামাজে হাত কিভাবে রাখবে? মাটিতে মিশিয়ে নাকি মাটি থেকে উচু করে। তোমরা কুকুরের নায় সিজদা করো না মোটামুটি এই মর্মে একটা হাদিস শোনার পর মনে এই প্রশ্ন এসেছে। তারপর www.islamqa.info/en এ দেখতে গিয়ে আরো দ্বিধা দ্বন্দে পড়ে গিয়েছি। নিচের লিংকগুলা থেকে জানতে পারলাম মহিলা ও পুরুষের নামাজের পার্থক্যএর হাদিস গুলা নাকি যঈফ। https://islamqa.info/en/38162 – এই লিঙ্ক থেকে জানতে পারলাম যদি কোন পুরুষ দেখার সম্ভবনা না থাকে তবে মহিলারা পুরুষের মতই সালাত আদায় করবে, নতুবা জড়সড় হয়ে করবে। https://islamqa.info/en/9276 – আর এই লিঙ্ক থেকে জানতে পারলাম, ইবনে আবি শাইবা রহ. তার আল মুসান্নাফে পূর্ববর্তী কিছু বুজুর্গের কথা নিয়ে এসেছেন যেগুলো দ্বারা নারী ও পুরুষের নামাজের পার্থক্য আছে বলে বোঝা যায়। আর তারপরে আরও কিছু বুজুর্গের কথা নিয়ে এসেছেন যার দ্বারা নারী ও পুরুষের নামাজে পার্থক্য নাই বলে বোঝা যায়। তবে লিঙ্কের উত্তরদাতার মতে এক্ষেত্রে বুজুর্গদের কথা কোন দলিল না বরং আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লালহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথাই দলিল। হানাফি মাযহাব অনুসারে উপরোক্ত বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা সহকার বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হব। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আপনাদের উত্তম বিনিময় দান করুন।
05 Jan 2026

পুরুষ ও মহিলাদের নামাযের মাঝে মৌলিকেোকন পার্থক্য নেই। দুয়েকেটি পার্থক্য হাদীস ও সাহাবীদের কথা-কাজ থেকে পাওয়া যায়। তবে কোন মহিলা যদি পুরুষের মত করে নামায পড়ে তার নামায হয়ে যাবে। এই বিষয়ে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেঁচে থাকাকালীন একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছিল। সেটি এখানে হুবুহু দিয়ে দিলাম। (38) প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا. অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। ) মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।

প্রশ্নঃ 1309
আসসালামু আলাইকুম, ০১। অনেকে বিশেষ করে নারীরা সিজদার সময় মাটিতে দুই হাত বিছিয়ে দেয়। এই কাজটা হারাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তুমি যখন সিজদা করবে তখন তোমার হাতে তালুদ্বয় (যমীনে) রাখবে আর দুই কনুই উঁচু করে রাখবে। সহীহ মুসলিম। অন্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন দুই হাতকে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়। বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী। আমরা মেয়েরা তো কনুই পায়ের সাথে মিশিয়েই নামাজ পড়ি,যতটা সম্ভব জড়সড় হয়ে। ….কোনটা সঠিক দয়া করে জানাবেন? ছেলে মেয়ের নামাজে কি আসলেই কোনো পার্থক্য নেই? থাকলে কি কি? ০২। সাইয়্যেদুল এস্তেগফার : যে ব্যক্তি এই এস্তেগফার সকালে পড়বে, অতপর সন্ধ্যায় আগেই তার মৃত্যু হলে সে জান্নাতী হবে। অনুরুপভাবে কেউ সন্ধ্যায় পাঠ করে সকালের পূর্বেই মারা গেলে সে জান্নাতি হবে। এটা কি সহি?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
০১। মহিলা ও পুরুষের মাঝে নামাযে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। তবে রুক, সিজদা ইত্যাদী সময়ে অধিকতর পর্দা রক্ষার্থে এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ মিলিয়ে রাখা ভাল। অধিকাংশ ফকিহ ও ইমামের মত এটাই । হাদীসেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে আমাদের দেওয়া ৩৮ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

০২। জ্বী এটা সহীহ হাদীসে আছে। হাদীসটির নাম্বার দিয়ে দিলাম। হাদীসটি সহীহ বুখারীতে আছে। হাদীস নং ৬৩০৬

প্রশ্নঃ 1300
আসসালামু আলাইকুম, আমার সাহু সেজদা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর টি পেয়েছি। হয়ত আমার জ্ঞ্যানের সল্পতার জন্য বিষয়টি ক্লিয়ার করে বুজতেছিনা। জাযাকাল্লহু খইর। আমাকে শুধু এতটুকু বলেন আমাদের বর্তমান সমাজে যে ভাবে সাহু সেজদা করার নিয়ম প্রচিলত (আশা করি নিয়ম টি আপনাদের জানা আছে) এটা সহিহ কিনা, সহিহ হলে আলহামদুলিল্লাহ ভাল, আর সহিহ না হলে এর উত্তম পদ্ধতি টি সাধারন ভাবে বলে দিলে ভাল হত।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সহীহ। এভাবেই করুন। তবে অন্যান্য পদ্ধতিতেও করা যায়।

প্রশ্নঃ 1288
Assalamu Alaikum admin. Amra jani sahih hadis Onusare Bidati Imam er pichone namaj porle hobena. Bidatir Pichone Namj pora ki jayej ar jodi bidati Imam chara ase pashe kono mosjid na thake tahole kivabe namaj porbo?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেন সহীহ হাদীসে আছে বিদআতী ইমামের পিছনে নামায পড়া যাবে না সেটা রেফারেন্সসহ বললে উত্তর দেয়া সহজ হতো। যাই হোক, আপনি চেষ্টা করবেন সহীহ আক্বীদার ইমামের পিছনে নামায পড়ার। যদি সম্ভব না হয় তাহলে বিদআতি ইমামের পিছনেই নামায পড়বেন। জামাতা ত্যাগ করবেন না। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা।

প্রশ্নঃ 1287
মাগরিবের সালাতের সময় জামাতে দুই রাকাত না পেলে, সালাত আদায়ের নিয়ম কি? (একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে খুব ভাল হত)
05 Jan 2026

ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠবেন। তারপর সূরা ফাতিহাসহ আরেকটি সূরা পড়ে রুকু-সাজদা দিয়ে বসবেন এবং তাশাহুদু পড়বেন এরপর দাঁড়াবেন। তারপর সূরা ফাতিহার সাথে আরেকটি সূরা পড়ে রুক-সাজদা দিয়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে সালাত শেষ করবেন।

প্রশ্নঃ 1281
Asalamualikum orahmatullah amader Mosjid a sohih akidai salat adai korle onake kana gusa kore tobe ami oye sob care kori na kintu amader alakai manus k sohih akidai aante hole ki doroner podokkhep nita pari apnar shotik answerer opekhai roilam
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সহীহ আকীদার সালাত তো হয় না। সালাত সহীহ পদ্ধতিতে হয়। আমাদের দেশের মানুষ তো সহীহ পদ্ধতিতেই সালাত আদায় করে। আপনি আবার কোন সহীহ পদ্ধতি নিয়ে আসছেন সেটা স্পষ্ট নয়। যারা সালাত আদায় করে না তাদেরকে কিভাবে মসজিদে নিয়ে আসা যায় সেই চিন্তা করুন, যারা সালাত আদায় করছে তাদের সালাত সহীহ আকীদায় নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 1280
Assalamualaikum warahmatullah. Sir, আজকে একটি শহরের মসজিদে জোহর সলাত পড়ার আগে ইমাম সাহেব বললেন যে, সলাতের কিছু মাছায়েল জানা আমাদের দরকার। তারপর উনি বললেন যে কেউ দলিল চাইলে উনি দিবেন। কোন সমস্যা নেই। তারপর সবার উদ্দেশ্য বলল যে যারা টাই পড়েন তারা টাইটা খুলে সলাত পড়বেন। কেননা, গলায় টাই পড়া মাকরুহে তাহরিমি। এখন আমার প্রশ্ন টাই পড়ে সলাত পড়া কি আসলেই মাকরুহে তাহারিমি? নাকি ব্যক্তি বিদ্বেষ এর কারনে এই ফতোয়া। আর সলাতের ঠিক আগে এই ধরনের বিতর্কিত মাসায়ালা বলা কতটুকু যোক্তিক? কেননা, তার এই বিতর্কিত মাসায়ালা বা নতুন ফতোয়া আমার সলাতে আমার খুসু নস্ট করেছে। তাই আমি মনে হয়তো আরো মুসল্লিদের খুসুও নস্ট হতে পারে।যাই হউক আমি আপনাদের থেকে হক কথাটাই টাই পেয়ে থাকি বলে আমি মনে করি। আশা করি নিরাশ করবেন না। আর একটা প্রশ্ন। কোন মসজিদে যদি জামাত মিস করি তাহলে তারপর কয়েকজন মুসল্লি মিলে যদি সেই মসজিদের বারান্দায় আরেকটা জমাত করি তাহলে কি ইকামত দিতে হবে নাকি হবে না। আমি জানতাম একা সলাত পড়লেও ইকামত দিয়ে পড়া ভালো। কিন্তু একজন বলল একই মসজিদে দ্বিতীয় জমাত করলে নাকি একামত দেয়া যাবে না। আসলে সঠিক কোনটি? দয়াকরে জানিয়ে বাধিত করবেন। জাযাকাল্লাহ খইরান।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ এমন পোশাক পরা যাতে তার ধর্মীয় পরিচয় ফুটে উঠে। আমরা যাকে বলি তাকওয়া প্রকাশ পায় এমন পোশাক। টাই মুসলিমদের পোশাক নয়, তাকওয়া প্রকাশ পায় এমন পোশাক নয়। তাই একান্ত বাধ্য না হলে প্রতিটি মুসলিমের টাই বর্জন করা উচিৎ। তবে টাই পরা সাধারণভাবে না জায়েজ নয়। আলেম সমাজের উচিৎ এমন কোন কাজ না করা যার দ্বারা সাধারণ মানুষ তাদের থেকে দূরে সরে যায়। ২। এটা একটি বিতর্কিত বিষয়। আপনি যে কোন একটির উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1279
While praying magrib/ isha / fazar salat alone, can anyone recite surah silently?
05 Jan 2026

হ্যাঁ, একাকি নামায পড়লে যে সব নামাযে জোরে সূরা পড়তে হয় সেসব নামাযে আস্তে আস্তে সূরা পড়লেও জায়েজ হবে তবে জোরে পড়াই ভাল।

প্রশ্নঃ 1276
আসসালামু আলাইকুম। ১. এখনকার magician রা যে যাদু দেখায়, (যা প্রধানত মানুষের বিনোদনের জন্যে, এবং জীনের মাধ্যমে না এবং কারো ক্ষতিকর কিছু না করে) তা দেখা এবং শিখা এবং তার মাধ্যমে আয় করা কি জায়েজ আছে? ২. ঢাকার এক মসজিদের সালাত আদায় করার আগে ইমাম সাহেব কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বললেন যে অবস্থা যদি এমন হয় যে বাসে বা অন্য বাহনে সালাতের সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু অজু নেই, এবং তায়াম্মুমের ও সুযোগ নেই, তবে সালাতের রুকু সিজদার মত অঙ্গভঙ্গি করবে কিন্তু দুয়া-জিকির বা সুরা পাঠ করবে না এবং পরে এই সালাতের কাজা আদায় করবে? এই মাসালাটা কি দলিল ভিক্তিক? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। যাদু শেখা, প্রদর্শন করা, কোনটিই জায়েজ নেই। আলেমগণ এই বিষয়ে একমত। উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন। ২. পানি এবং মাটি একটিও না পেলে কি করতে হবে এটা কোন হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। কারণ সাহাবীরা এমর পরিস্থিতির সম্মুখিন হন নি। যেহেতু হাদীস নেই তাই এই সময় কী করতে হবে তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। কেই বলেছেন, ঐ ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে হবে না, কেউবা বলেছেন, ঐ অবস্থাতেই অপবিত্র অবস্থায় আদায় করতে হবে আবার কোন কোন আলেম বলেছেন, আপনি যে ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন সেটা। যে কোন একজন আলেমের মত মানলেই ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে।

প্রশ্নঃ 1262
নামাযে বসা অবস্থায় দুই পা এর অবস্থান কেমন থাকবে? পায়ের আঙ্গুল এর অবথসান কেমন থাকবে?
05 Jan 2026

নামাযে কিভাবে বসবে এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কিছুটা মতভেদ আছে। একদল আলেম বলেন, শেষ বৈঠকে বাম পা ডানদিক থেকে বের করে দিবে এবং ডান পা সোজা রাখবে। আর প্রথম বৈঠকে ডান পা বিছিয়ে তার উপর বসবে আর বাম পা সোজা রাখবে। অবশ্য দু রাকআত বিশিষ্ট নামাযের ক্ষেত্রে তারা ডান পায়ের উপর বসতে বলেছেন। আবার আরেক দল বলেন, উভয় বৈঠকে ডান পায়ের উপর বসে বাম পা সোজা রাখবে। এই মতভেদটি মুস্তাহাব কেন্দ্রিক। যেভাবেই বসেন প্রত্যেকের মতে নামায হয়ে যাবে। উভয় মতের পক্ষে সহীহ হাদীস আছে।

প্রশ্নঃ 1261
Assalamualaiqum. Ami lokmokhey sunechi jay sunnat o nafal namaj basal pora uttom. Er sopokkhayki kono sohih dolil achay? Keo jodi Ajan sunar por, oi oakter sunnat namaj (jeti forojer agay portay hoi) basai poray mosjiday jai taholay ki shay mosjiday giye foroj namajer agay tahiatul wujuur namaj portay parbay? (Orthath shekhetray foroj namajer agay sunnat namaj porar niyom thakleo, foroj namajer agay tahiatul wujuu hoye gelo jar agay sunnat pora holo). Dolil soho bishoyti jantay parlay khushi hobo. Maassalam.
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাত বাদে অন্য সকল সালাত বাড়িতে পড়া উত্তম। এই বিষয়ে অনেকগুলো হাদীস বর্ণিত আছে। তার মধ্যে একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة.হে লোকসকল! তোমরা বাড়িতে সালাত আদায় করো, কেননা ফরজ সালাত বাদে সকল সালাত নিজ বাড়িতে পড়া সর্বোত্তম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৩৯০-৩৯২। বাড়িতে ওয়াক্তের সুন্নাত পড়ে এসে মসজিদে অন্যান্য সুন্নাত সালাতও পড়তে পারবেন। এতে কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্নঃ 1243
আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হুজুর আমার প্রশ্নটা হলোঃ- (১) আমি একটা বাড়ীতে টিউশনি করি। আমি যে বাচ্চাকে পড়াই তাকে নামাজ পড়ানো শেখাতে প্রথমে- আমি তাকে বললাম জায়নামাজের বিছানা ফেলানোর সময় ইন্নি ওয়াযাহাতু অজিহা লিল্লাযি ফাতারাহ সামাহ ওয়াতিওয়াল আরদা হানিফা মিনাল মুশরিকিন বলতে কিন্তু এই কথাটি তার মা জানতে পেরে, আমাকে বলল, আপনি আমার বাচ্চাকে এসব শিখাবেন না। কারণ রসূল (সঃ) এসব করেনি। তিনি বললেন, নামাজের নিয়ত মুখে বলতে নেই এটা মনে মনে বলতে হয়, আর সূরা কিরাত ও আল্লাহুআকবর, সামিয়াল্লা হুলিমান হামিদা এগুলো মুখে বলতে হয়। হুজুর সঠিক কি সহি হাদিস ও দলিল দ্বারা আমাকে জানালে খুশি হব। (২) আর তিনি বললেন বেতর নামাজ এর দ্বিতীয় বৈঠকের সময় তাশাহুদ না পড়ার জন্য। এটা আমার জানা ছিল না। সহি হাদিস ও কুরআন দ্বারা আমাকে জানালে উপকৃত হব।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। জায়নামাজের বিছানা ফেলানোর সময় ইন্নি ওয়াযাহাতু অজিহা লিল্লাযি ফাতারাহ সামাহ ওয়াতিওয়াল আরদা হানিফা মিনাল মুশরিকিন বলতে হয় মর্মে কোন হাদীস নেই। নিয়ত মনের বিষয় মুখের বিষয় নয়। রাসূলুল্লাহ সা. এবং সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায় না যে, তারা আমাদের মত নাওয়াতু… বলে নিয়ত করেছে। তাসবীহগুলো মুখে বলতে হয়ে।

২। বিতর নামাযের দ্বিতীয় বৈঠকে তাশাহুদু পড়তে হবে। সকল সালাতের প্রতিটি বৈঠকে তাশাহুদু পড়তে হবে। হাদীসে আছে,

فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا ، وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ

রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসবে সে যেন বলে, আত্তাহিয়্যাতু… ( তাশাহুদু শেষ পর্যন্ত । সহীহ বুখারী. হাদীস নং ৬২৩০। উক্ত হাদীসে ব্যাপকভাবে সকল বৈঠকে তাশাুহুদু পড়তে বলা হয়েছে। এখন যদি কেউ বলে বিতর সালাতে পড়তে হবে না তার জন্য আলাদা দলীল প্রয়োজন, এমন কোন দলীল আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

প্রশ্নঃ 1220
আসসালামু আলাইকুম। আমার আব্বা মনের ভুলেও নামাজ পড়তে চায় না। বললে আরো কথা কাটাকাটি করে। তবুও অনেকভাবে বলেছি। এইজন্য আমি তার সাথে (প্রয়োজন ছাড়া) বলিনা। এতে কি আমার গোনাহ হবে।
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

কথা বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক কথা বলবেন। আপনার দায়িত্ব শুধু দাওয়াত পৌছে দেয়া । কোন অবস্থাতেই খারাপ ব্যবহার করবেন না। দুআ করতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন ।

প্রশ্নঃ 1215
Assalamolikum, আমাদের মসজিদে যখন জমায়েতে নামাজ আরম্ভ একামত সুরু করে দিলেও কিছু লোক বসে থাকে যতখণ না হ্যাঁ আলাল ফালা বলা হচ্ছে,এটা সম্পর্কে কিছু যানাবেন?
05 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

কিছু মানুষ না বুঝে এমন করে থাকে। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। নিচের হাদীসদুটি দেখুন: .১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬।

উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে। .২عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২।

হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। আরো জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া 66 নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 1183
আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমার প্রশ্ন হল নামাজে হাত বাধার সঠিক নিয়ম কোনটা? যদি আমাকে একটু পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতেন।
04 Jan 2026
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযে হাত বাঁধতে হবে এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু কোথায় বাঁধতে হবে সে বিষয়ে গ্রহনযোগ্য কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে সাহাবী এবং তৎপরবর্তী আলেমগণ কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়)। অর্থাৎ হাত বাধান দুটি পদ্ধতি সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। এক. নাভীর উপর। দুই. নাভীর নিচে। আপনি যে পদ্ধতিতেই আমল করেন সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। এ নিয়ে কারো থেকে অহেতুক বিতর্ক কাম্য নয়।
প্রশ্নঃ 1172
রুকু থেকে মাথা তুলে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হামদ বার বার পড়া যায়? জাহাঙ্গীর স্যারের ওয়াজ অনুযায়ী তো বলা যায় Video Link : https://www.youtube.com/watch?v=ExgVEZ5Uh0Qfeature=youtu.bet=12m22s
04 Jan 2026

এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে রাব্বানার লাকাল হামদ বলবে। সংখ্যা বলা হয়নি। এর থেকে সাধারণত এক বারই বুঝা যায়। তবে এটা ঠিক রাসূলুল্লাহ সা. এর সালাত অনেক সময় লম্বা হতো। তিনি অনেক বেশি দুআ পড়তেন। তবে স্বাভাবিকভাবে একবারই পড়তেন বলে হাদীসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়।

প্রশ্নঃ 1163
ইমাম সাহেব রুকুতে থাকা অবস্থায় জামাতে শরীক হলে রুকুর কতটুকু সময় ইমামের সাথে পেলে ওই রাকাত নামাজের রাকাতের হিসাবে গণ্য হবে?
04 Jan 2026

একমুহুর্ত পেলেই রাকআত পেয়েছে বলে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ 1160
আস সালামু আলাইকুম। ১. আমি পূর্বে ইমামের পিছনে জামাতে সালাত আদায় করার সময় সিররী / যেহেরী কোন নামাজেই সুরা ফাতেহা পরতাম না। কিন্তু স্যার এর একটা আলোচনা শুনার পর থেকে জোহর এবং আসর এর সালাতের প্রতি রাকাতেই সুরা ফাতেহা পাঠ করি। এবং মাগরিব ও এশার সালাতের পরের ১ এবং ২ রাকাতে ফাতেহা পাঠ করি। অধিকাংশ সময় আমি সুরা ফাতেহা পুরো-পুরি পাঠ করতে পারি না, তার আগেই ইমাম সাহেব রুকুতে চলে যান, যার দরুন ওই অবস্থায় আমি ও রুকুতে চলে যাই। বিশেষ করে পরের ২ রাকাতে এটা হয়ে থাকে। আপনাদের কাছে প্রশ্ন হল উক্ত কারনে আমার নামাজের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না? ২. আমার ২য় প্রশ্ন হল আমি যতটুকু জানি কোরআন পাঠ আউজুবিল্লাহ দিয়ে শুরু করতে হয়। এখন প্রশ্ন হল, আমি জোহরের সালাতের ২য় রাকাতে এসে শরীক হলে সুরা ফাতেহা পাঠের আগে কি আউজুবিল্লাহ দিয়ে শুরু করব, নাকি বিস্মিল্লাহহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করলেই হবে? আশা করি উত্তর গুলো জানাবেন। জাজাকাল্লাহু খইর।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

১। আপনি শুধু জোহর ও আসরে পড়বেন অন্য সময় পড়বেন না।

আর একটা কথা বলি সমাজে প্রচলিত আমলটি যদি সুন্নাহসম্মত হয় তাহলে তা থেকে সরে না আসা উচিৎ, এতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়, যেমন আপনি পড়েছেন। স্যার বলেছেন, জোহর আসরে পড়তে আপনি অন্য সময়ও পড়া শুরু করেছেন। আপনি শেষ দুরাকাতে কিছু পড়বেন না।

২। এগুলো পড়া না পড়ার উপর নামায সহীহ হওয়া নির্ভর করে না। আপনি যে কোন একটা করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1159
আসসালামু আলাইকুম। আস সুন্নাহ ট্রাস্ট এইরকম প্রশ্ন উত্তর এর সুযোগ করে দেওয়ায় অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়। আল্লাহ্ আপনাদের এই দাওয়াত কে কবুল করুন। জাযাকাল্লাহ ……আমি অধ্যাপক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম। স্যার এর যেভাবে নামায পড়তেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বইটিতে একটা লেখা পড়েছি। বইটি পরিমার্জনে উপাধ্যক্ষ হাফেয মাহমুদুল হাসান আল মাদানী, ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া মজুমদার, ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মুহাদ্দিষ শাহ মুহাম্মাদ ওয়ালী উল্লাহ স্যার রাও রয়েছেন। **** কথাটি হলঃ- রাসুল (সাঃ) রাফলইয়াদাইন করতেন মর্মে ৩৩ টির মত সহিহ হাদিস রয়েছে। ইমাম বুখারি রাফলইয়াদাইন এর পক্ষে সহিহ ও দইফ মিলিয়ে মোট ১৯৮ টি হাদিস জমা করেছেন। অপরদিকে রাফলইয়াদাইন না করার পক্ষেও দলিল রয়েছে। সেটি সাহাবি ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তবে এর সংখ্যা মাত্র ১ টি। আর দুর্বল হাদিস ও সহিহ আছার মিলিয়ে এর পক্ষে আরো ৪/৫ টা বর্ণনা পাওয়া যায়। সার-সংক্ষেপ হল, রাফলইয়াদাইনের পক্ষের হাদিস সংখ্যা অনেক বেশি, এগুলোর শুদ্ধতা ও সাউয়াবও অনেক বেশি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, হাদিস সহিহ হলে এটাই আমারি মাজহাব। অতএব হানাফি হলেও এমন একটা সুন্নাত আমলের মধ্যে মাজহাবের কোন সমস্যা নেই। রাফলইয়াদাইন এর মাসাআলাটি সর্বসম্মতক্রমে সুন্নাত। আর এ মাসাআলাটি নিয়ে পরস্পর বিভক্ত হয়ে যাওয়া গুনাহের কাজ। সুতরাং, এ ব্যাপারে কেউ যেন কারো উপর খড়গহস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। (ভাই এই কথাটা কি সঠিক জানাবেন ইমাম ইবনুল কাইয়িম (র.) বলেছেন, রাসুল (সাঃ) আজীবন রাফলইয়াদাইন করেছেন (যাদুল মাআদ)। বিষয়টি নিয়ে একে অপরকে কটাক্ষ না করি। বিশেষ করে আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবত রাফলইয়াদাইনে অভ্যস্ত নই তারাও মনে দ্বিধা-সংকোচ না রেখে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাত অনুসরণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেই । বর্তমানে এইসব অনেক আলেমগন রাফলইয়াদাইন এর ব্যাপারে প্রচুর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই সম্পর্কে ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার কি বলেছেন? এখন সকল আলেম, হাদিস, স্থান ও ওপরের সব কিছু বিবেচনা করে স্যার একজন মুসলিমকে কি করতে বলেছেন? সব সময় সব জাইগাতেই কি রাফলইয়াদাইন করবে? **** নূরুল ইসলাম স্যার এর বইটিতে বিতর সম্পর্কে এইও বলেছেন যে, রুকুর আগে, দুয়া কুনুত পড়ার শুরুতে তাকবিরে তাহরিমার মত পুনরায় দু হাত উঠানো অর্থাৎ রাফলইয়াদাইন করা এবং সে সময় আল্লহু আকবার বলে তাকবির দেউয়ার পক্ষে কোন সহিহ হাদিস খুজে পাউয়া যায় না। কাজেই এইটা করা অনুচিত। ভাই আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় রলাম….. ভালো ভালো আলেমরা বলে সঠিক আবার ভালো ভালো আলেমরাই বলে বেঠিক। ভাই শয়তানের বিরাট ওয়াস ওয়াসায় আছি। আল্লাহ এ থেকে আপনাদের ও আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন। আসসালামু আলাইকুম।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, এটা একটি পুরানো বিতর্ক, এই বিষয়ে আমরা আর জল ঘোলা করতে চাই না। আপনি যাই করুন হাদীস অনুযায়ী হলে আপনার সালাত সুন্নাহ অনুযায়ী হবে। স্যার রহ.এই আলোচনা দুটি দেখলে আপনার কাছে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। আমি ইউটিউবের ঠিকানা দিয়ে দিলাম। https://www.youtube.com/@SunnahTrust/

প্রশ্নঃ 1156
নামযের সহল তাসবীহ সমূহের বাংলা অর্থ কি দয়া করে দিতে পারবেন?
04 Jan 2026

রুকর তাসবীহর অর্থ আমার মহান প্রতপালকের পবিত্রতা ঘোষনা করছি। সাজদার তাসবীহর অর্থ আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষনা করিছ। বাদবাকীগুলো নির্দিষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করুন।

প্রশ্নঃ 1154
পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পার্থক্য কি কি?
04 Jan 2026

প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য । حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا. অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।

প্রশ্নঃ 1152
আচ্ছালামু আলাইকুম,অনেক সময় বাসে দূর যাত্রায় নামাযের সময় বিরিতি না দিলে বাসের মধ্যেই সীটে বসে ইশারায় নামায আদায় করে ফেলি! এতে কি কোন সমস্যা আছে নাকি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। দূরের যাত্রার সময় বাস মাঝে বিরতি দেয়। চেষ্টা করবেন তখন নামায পড়ার জন্য। এছড়া যুহরের সালাতে শেষ ওয়াক্তে বা প্রথম ওয়াক্তে পড়তে পারেন। মাগরিবও শেষ ওয়াক্তে ইশার আগে পড়তে পারেন। কোন ভাবেই যদি বাসের ভিতরে ছাড়া নামায আদায় সম্ভব না হয়। তাহলে যতটা সম্ভবি ক্বিবলামুখি হয়ে সাজদা দিয়ে নামায আদায়ের চেষ্টা করবেন। ইশারা ছাড়া অন্য কোন উপায় যদি না থাকে তাহলে ইশারায় করতে পারবেন। তবে এমন মনে হয় হয় না।

প্রশ্নঃ 1139
রুকু থেকে মাথা তুলে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাববানা অলাকাল হামদ বার বার পড়া যায়?
04 Jan 2026

এই তাসবীহগুলো একবার পড়াই সুন্নাত। আপনি বার বার পড়বেন না।

প্রশ্নঃ 1136
মহিলাদের নামাযের ক্ষেত্রে মোজা দিয়ে পা ঢাকা কি জরুরী? মানে শুধু পায়ের পাতা খোলা থাকলে কি নামায হবেনা?
04 Jan 2026

পা মোজা পরলে ভালো। তবে না পরলেও সমস্যা নেই। পায়ের পাতা ঢেকে পোশাক পরবেন।

প্রশ্নঃ 1127
1. The Imams of Macca and Madina will remain in right path, they will not be misguided even in the dark times. Is it a sahih hadith? If yes, please give me the reference. 2. I saw most of the Imams (almost all) offered their salah in keeping their hands just under the chest, not under navel. What is your opinion?
04 Jan 2026

১। এই ধরণের কোন হাদীস আছে বলে মনে হয় না। তবে আপনি আরবী পাঠ পেলে জানালে আমাদের জন্য সহজ হবে। আমরা বহু চেষ্টা করেও পাই নি। আর সালাতে মধ্যে হাত বাধার ব্যাপারে সহীহ হাদীস আছে। তবে কোথায় রাখতে হবে তা কোন সহীহ হাদীসে নেই। তবে সাহাবী-তাবেয়ীগণ হাত কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়)। সুতরাং নাভীর নিচে বা উপরে এক জায়গায় বাঁঁধলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ 1118
Assalamu Alaikum. Kemon Achen Vai Apnara? Amar prosno gulo holo : ১. মাছবূক মানে কি? জামাতে যদি কোন রাকাত ছুটে যায় তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর আমি উঠে পড়বো। তখন কি আমাকে ছানা, আউজুবিল্লাহও পড়তে হবে? ২. আমার ফুপা অসুস্থ। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুইয়ে থাকতে হয়। তাই পবিত্র হয়ে থাকা তার জন্য একটু কষ্টদায়ক হয়। আর আমার ফুপিকে বার বার অপবিত্র কাপড়গুলা ধুতে হয়। যার কারনে কাপড় ধোয়ার সময় ঐ পানি ফুপির কাপড়েও লাগে, কাপড় ধুয়ার সময় উনার কাপড়ে ছিটকাও আসে যা অনেক সময় বুঝাও যায় না। এজন্য সালত পড়ার জন্য বার বার কাপড় পরিবর্তন করতে হয়। এখন ঐ কাপড় পড়েই কি সালাত আদায় করতে পাড়বে অথবা এর সমাধান কি জানাবেন। Assalamu Alaikum. JazakAllahu Khairan.
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই আমরা ভাল আছি, আশা করি আপনারাও ভাল আছেন। 

০১. আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো মুসল্লি যদি জামাতে নামায পড়তে গিয়ে এক বা একাধিক রাকআত না পায় তাহলে ঐ মুসল্লিকে মাসবুক বলে। মাসবুক ব্যক্তি ছানা ও আউযুবিল্লাহ পড়বে।

২। আপনার ফুপির উচিত যখন তিনি নাপাক কাপড় ধুবেন তখন আলাদা কাপড় পরে নিবেন। ধোয় শেষ হলে আবার ভাল কাপড় পরবেন। এছাড়া সামান্য একটু পানি লাগলে কাপড় নাপাক হয় না।

প্রশ্নঃ 1121
আসসালামূআলাইকুম? ভাই আমার ১ তারিখ হতে পরিক্ষা শুরু হবে আর পরিক্ষা ১টা থেকে হবে ৫ পযন্ত হবে, এর মাঝে আমার যুহর ও আছরের স্বলাত পরতে মিস হয়ে যাবে। এখন কি আমি ফজরের স্বলাত আদায় করে তারপর যুহর ও আছর স্বলাত আদায় করতে পারব ঐ সময়ই? তা না হলে কিভাবে কখন ঐ দুই ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করব? হাদিসের রেফারেন্স সহকারে বলবেন ভাই?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এখন দুপুর বারোটার আগেই যুহরের সালাতের ওয়াক্ত এসে যায়। সুতরাং আপনি যুহরের সালাত আদায় করার পর পরীক্ষা দিতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবেন। আর আসরের সময় থাকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত, তাই পরীক্ষা শেষ করে আপনি আসরের সালাত আদায় করবেন। দলীল জানতে নিচের হাদীস দুটি লক্ষ করুন: عن جابر بن عبد الله : أن جبريل أتى النبي صلى الله عليه و سلم يعلمه مواقيت الصلاة فتقدم جبريل ورسول الله صلى الله عليه و سلم خلفه والناس خلف رسول الله صلى الله عليه و سلم فصلى الظهر حين زالت الشمس অর্থ: হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একদা জিব্রিল আ. এসে নবী সা.কে সালাতের সময় শিক্ষা দিলেন। জিব্রিল আ. সবার সামনে দাঁড়ালেন, রাসূলুল্লাহ সা. তার পিছনে দাড়ালেন এবং মানুষেরা রাসূলুল্লাহ সা. এর পিছনে দাঁড়ালেন। তিনি যুহরের সালাত আদায় করলেন সূর্য ঢলে যাওয়ার পরপর। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৫১৩, মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৫৭৮। হাদীসটিকে মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ ، وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ. অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন.. যে ব্যক্তি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের এক রাকআত পাবে সে আসরের সালাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে। সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৭৯; সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীস নং ১৫৮৩। আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

প্রশ্নঃ 1114
জোহর ও আছর এর নামায জামাতে পড়ার সময় মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব কিনা?
04 Jan 2026

এটা পুরাতন প্রশ্ন । এই বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ ওয়াজিব বলেছেন আবার কেউ কেউ পড়তে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেকের পক্ষে সহীহ দলীল আছে।

প্রশ্নঃ 1112
ভাই একটা প্রশ্ন ছিল। আমার এক ফ্রন্ডের দাদী ওকে সালাতুজ তাজবী নামাজ পড়াতে বলেছে। আমার ফ্রেন্ড টা ব্যস্ততার কারনে পড়াতে পারে নাই। দাদীটা এখন অনেক অসুস্থ। বলতে গেলে মৃত্যুশয্যায় আছেন। নামাজ আদায় করাতে না পারায় আমার ফ্রেন্ডের কোন গুনাহ হবে? আর এখন আমার ফ্রেন্ডের করনীয় কি?দয়া করে জানাবেন প্লিজ…
04 Jan 2026

ভাই, সালাতুত তাসবীহ পড়াতে বলেছেন এর অর্থ বুঝলাম না। এটা কাউকে পড়ানো যায় না, নিজে পড়তে হয়। আপনার প্রশ্ন যদি হয় পড়তে বলেছেন তাহলে উত্তর হলো সে যদি পড়তে চায় এখনো পড়তে পারে আর না পড়ার কারণে গুনাহ হবে না। তবে যদি সে প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে প্রতিশ্রুদি ভঙ্গের গোনাহ হতে পারে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।

প্রশ্নঃ 1103
নামাজ পরতে পরতে মাথায় কাল দাগ পরে যায় এটা কি ভাল লক্ষণ না খারাপ..?
04 Jan 2026

এটা ভাল-খারাপ কিছু নয়। এটা ন্যাচারাল বিষয়। সম্ভবত মানুষের ত্বকের ভিন্নতার কারণে এমনটি হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ 1101
ফরজ নামাজ ৪ রাকাত হলে ৪ রাকাতেই কি সুরা পড়বো? ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজে ৪ রাকাতেই কি সুরা মিলাতে হবে?
04 Jan 2026

ফরজ নামাযে প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলাবেন। ্এবং অন্যন্য সকল নামাযে (ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল) প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মেলাবেন।

প্রশ্নঃ 1099
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ নামাযে কোন সুরার ১টি আয়াত ছুটে গেলে কি বড় ধরনের গোনা হবে।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, নামাযে কোন সূরার ১টি আয়াত ছুটে গেলে কোন গোনাহ হবে না। বড় ছোট কোন গোনাহ হবে না ।

প্রশ্নঃ 1088
আসসালামু আলাইকুম। আমি ফজরের সময় বাসা থেকে সুন্নত পড়ে মসজিদে গিয়ে দেখলাম এখনো ফরজ নামাজ শুরু হতে কিছু দেরী হবে। তখন কি তাহিয়াতুল মসজিদের দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পারবো নাকি বসে থাকব?অনেকে বলে ফজরের ফরজ ও সুন্নতের মাঝে কোন নামাজ নাই।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে ফজরের সুন্নাতের পর নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, আবার অন্য হাদীসে মসজিদে এসে নামায পড়তে বলা হয়েছে। এই কারণে বিষয়টি ইজতিহাদী হয়ে গেছে। সাহবীদের মধ্যেও এই বিষয়টিতে দুটি মত ছিল। পড়বে এবং পড়বে না। আপনি যে কোন একটির উপর আমল করতে পারেন।

প্রশ্নঃ 1086
আসসালামু আলাইকুম। ১. জামাতের সালাতে নিয়াত বাধার পর হেটে সামনের কাতারের ফাকা জায়গায় যাওয়া যাবে কিনা? গেলে কতটুকু পর্যন্ত হাটা যাবে? কেননা বড় জামাতে বিশেষ করে আমি দেখেছি মাসজিদুল হারামে বা নববিতে প্রায়ই নিয়াত বাধার পর সামনের কাতারের ফাকা জায়গা পুরন করতে হলে মাঝে মাঝে চার-পাচ কাতারও হাটতে হয়। সেক্ষেত্রে তা করা জায়েজ হবে কিনা? ২. জামাতের সালাতে মুক্তাদিদের কেও ভুলে তাশাহুদের পর দুরুদ ও দুয়া মাসুরা পরতে ভুলে গেলে এবং ইমামের সাথে সাথে সালাম ফিরালে সালাত কি সঠিক হবে? না আবার একাকি পরতে হবে? যাযাকুমুল্লাহ।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. সামনের কাতার পূরণ করে সালাতের নিয়ত করা উচিৎ। তবে নিয়ত বাধার পর যদি সামনের কাতার ফাঁকা দেখে তাহলে সালাতের ভিতর হেঁটে গিয়ে কাতার সোজা করতে পারবে বলে আলেমগণ বলেছেন। শায়খ উসায়মিনসহ অন্যান্য আলেম উক্তমত পোষন করেছেন। বিস্তারিত জানতে ইন্টারনেটে শায়খ উসায়মিন রহ. এই প্রশ্নের উত্তরটি দেখুন। إذا رأى المصلي أمامه فرجة فماذا يفعل؟ এবং এই প্রশ্নের উত্তরটি। – حكم الحركة في الصلاة لسد فرجة في الصف দরুদ এবং দুআ মাসূরা না পড়রে সালাতের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1085
অন্ধ কারে নামাজ পড়া যাবে?
04 Jan 2026

অন্ধকার স্থানে নামায পড়াতে কোন সমস্যা নেই। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন,

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلاَيَ، فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي، فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ، فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا، قَالَتْ: وَالبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ

অর্থ: হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাঃ এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম। তখন আমার দুপা থাকতো তার সামনের দিকে। যখন তিনি সেজদা দিতে চাইতেন, তখন আমাকে [আলতু] খোঁচা দিতেন, আমি তখন পা গুটিয়ে নিতাম। আবার যখন তিনি দাঁড়িয়ে পড়তেন, তখন পা বিছাতাম। আয়শা রাঃ বলেন, সে সময় আমাদের ঘরে কোন বাতি ছিল না। সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮২।

প্রশ্নঃ 1082
আমার মা আসুস্থ, তিনি জানতে চান তাসাহুদে বসার ক্ষেত্রে মেয়েদের ডান ও বাম পা যেভাবে রাখা হয়, ঠিক তার উল্টাভাবে বাম ও ডান পা রাখা যাবে কি ?
04 Jan 2026

আমার মা আসুস্থ, তিনি জানতে চান তাসাহুদে বসার ক্ষেত্রে মেয়েদের ডান ও বাম পা যেভাবে রাখা হয়, ঠিক তার উল্টাভাবে বাম ও ডান পা রাখা যাবে কি ।

প্রশ্নঃ 1069
আসসালামু আলাইকুম। নামাজ নিয়ে আমার ৩ টা প্রশ্ন: ১.স্যার এর একটা ভিডিও তে শুনলাম নামাজে মেয়েদের মুখ এবং হাত ছাড়া সারা শরীর ঢেকে রাখা ফরজ,তাহলে কি পায়ের পাতাও ঢেকে রাখা ফরজ? ২.আমি রুকু থেকে সেজদাহ তে যাবার সময় আল্লাহু আকবার বলে বসি তারপর আবার আল্লাহু আকবার বলে সেজদাহ করি। তেমনি ভাবে আল্লাহু আকবার বলে সেজদাহ থেকে বসি,আবার আল্লাহু আকবার বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়াই। এই ২ বার করে বলা তে কি আমার নামাজ নষ্ট হয়ে যায়? ৩.বাসায় সাধারণত চুলটা একটু উঁচু করেই পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে বেঁধে রাখি,এভাবেই নামাজের বড় হিজাব পরে নামাজ পড়ি। এভাবে কি নামাজের কোনো ক্ষতি হয়? উটের কুঁজের মতো যে হিজাব এর কথা বলা হয় (কঠিন গুনাহ) এটা একটু বুঝিয়ে বলবেন দয়া করে। আসলে মেয়েদের চুল বাধার সুন্নাহ পদ্ধতি কি?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১. পা সতরের অংশ কিন তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছ। একদল আলেম বলেন, সতরের অংশ। আরেক দল বলেন, অংশ নয়। হানাফী মাজহাবের আলেমগণের মতে অংশ নয়। সুতরাং পায়ের পাতা না ঢাকলেও নামায সহীহ হয়ে যাবে। তবে ঢেকে রাখা ভাল। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল ও জওয়াব, ফতোয়া নং 193034(আরবী)। ২. আপনি একবারই আল্লাহু আকবার বলবেন, দুবার বলবেন না। আপনার নামায নষ্ট হযেছে তা আমি বলবো না তবে সু্ন্নাত হলো একবার বলা। আপনি দুবার বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন। ৩. এভাবে চুল বেঁধে নামায সহীহ হবে। বাইরে বের হওয়ার সময় চুল উপরের দিকে উঠিয়ে বাধবেন না। চুল কিভাবে বাঁধবেন বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা বইটি।

প্রশ্নঃ 1063
চার রাকাত সুন্নাত নামাজে সুরা ফাতেহার পর ১ম রাকাতে সুরা ইখলাস, ২য় রাকাতে সুরা ফীল, ৩য় রাকাতে সুরা নাস এবং শেষ রাকাতে সুরা মাউন পড়লে কোন সমস্যা আছে কি? রাকাতের ক্রম এর সাথে আয়াত বা সুরার ক্রম এর সামঞ্জস্য রাখার ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাই।
04 Jan 2026

সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করাকে আলেমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। তবে ক্রম বা ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1057
স্যার আজকে আমাদের এলাকায় একটু দুরবর্তি স্থানে একটি ঈদগাহ পুরো জায়গাজুরেই কবরস্থান যদিও মাঝখানে একটি দেয়াল আছে। এতে কি আসলে কি কোন সমস্যা আছে? যদি বিষয়টা মারাত্মক অনুচিত হয় ইসলামি শরিয়তে তাহলে আমি এই ঈদগাহ কমিটিকে বিষয়টা অবগাহ করব ইন শা আল্লাহ্ জাযাকাল্লাহ!
04 Jan 2026

না, এতে কোন সমস্যা নেই। তাদের নামাযের কোন্ ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ 1049
আস-সালামু আলাইকম। আমি period থেকে ভাল হয়ে বারদিন পর আবার period হই, এই অবস্থা য় আমি এটাকে অসুস্থতা ধরে নামায পরি। এটা কি আমি ঠিক করলাম না গুনাহ করলাম। খুবই tension এ আছি। medical science বলে 21 -29 দিনের মধ্যে period হয় সেটা normal .plz আমার উত্তরটা দিবেন।
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমস সালাম। আপনার যদি কোন পিরিয়ডের কোন অভ্যাস না থাকে তাহলে আপনি ১২ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত ইস্তিহাযা (রোগ) ধরবেন এবং এই দিনগুলো আপনার নামায পড়তে হবে। ১৬দিন থেকে আপনি পিরিয়ড তথা মাসিক ধরে নামায পড়বে না। বিস্তারিত জানতে স্থানীয় কোন আলেমের নিকট যোগাযোগ করুন। দুই পিরিয়ডের মাঝে সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন।

প্রশ্নঃ 1047
Assalamu Alaikum. Amar prosno holo – * ২ অথবা ১ রাকাত বিশিষ্ট সালাতে তাওয়াররুক হবে? ** কোন ব্যক্তি সালাত পড়াকালীন সময় তার সামনে দিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু ঠিক কতটুকু পরিমাণ ব্যবধান থাকলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। তাওয়াররুক কারা করবে কখন করবে তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ আছে। একদল আলেম বলেন, পুরুষরা করবে না আর মহিলারা করবে। আরেক দল বলেন, সালাত চার রাকআত হলে প্রথম বৈঠকে করবে না দ্বিতীয় বৈঠকে করবে আর দুই রাকআত বিশিষ্ট হলে করবে না।অন্য আরেক দল বলেন, শেষ বৈঠকে করবে, সালাত যে কয় রাকআত বিশিষ্ট হোক না কেন। যারা বলেন, পুরুষেরা তাওয়াররুক করবে না তাদের দলীল, وَكَانَ يَقُولُ فِى كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى রাসূলুল্লাহ সা. প্রতি দুই রাকআতে তাশাহুদু পড়তেন এবং তিনি তার বাম পা কে বিছাতেন এবং ডান পা কে উঁচু করে রাখতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৩৮। অন্য হাদীসে আছে, عن وائل بن حجر قال : قدمت المدينة قلت لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه سولم فلما جلس يعني للتشهد افترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى يعني على فخذه اليسرى ونصب رجله اليمنى অর্থ : ওয়ায়েল ইবনে হুজর বলেন, আমি মদীনায় গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর সালাত লক্ষ করতে লাগলাম, যখন তিনি তাশাহুদের জন্য বসতেন তখন বাম পা কে বিছাতেন এবং বাম হাতকে বাম রানের উপর রাখতেন এবং ডান পা কে উঁচু করে রাখতেন। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২। হাদীসটি সহীহ। এই দুই হাদীসের আলোকে তারা বলেন সালাতের ভিতর পুরুষেরা তাওয়াররু্ক করবে না। হানাফী মাজহাবের অভিমত এটাই । আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আমল এটাই। যারা বলেন, শেষ বৈঠকে করবে, সালাত যে কয় রকআত বিশিষ্ট হোক না কেন তাদের দলীল,রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ যখন শেষ বৈঠকে বসবে তখন বাম পা কে অগ্রবর্তী করবে আর অ্ন্য পা কে (ডান পা কে) উচুঁ করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮২৮। শাফেয়ী মাজহাবের আলেমগণের অভিমত এটাই। উপরের হাদীসগুলোকে সমন্বয় করে আরেক দল বলেন, সালাত দুই রাকআত বিশিষ্ট হলে তাওয়াররুক করবে না, আর চার রাকআত বিশিষ্ট হলে শেষ বৈঠকে তাওয়াররুক করবে। হাম্বলী মাজাহাবের মত। শায়খ বিন বায, উসমায়মিন রহ.ও এই মত পোষন করেন। যারা তাওয়াররুক করতে চান তাদের জন্য এই মতটিই সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে হয়। বিস্তারতি জানতে দেখুন, আল-ইসলাম সুয়াল জওয়াব, ফতাওয়া নং ১০৩৮৮৬ ও মারকাযুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া নং ৩৫৯৪৩। নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، أَوْ شَهْرًا، أَوْ سَنَةً নামাযরত ব্যক্তির সামানে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি যদি জানতো এতে কি পরিমাণ গুনাহ হয় তাহলে সে সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ ( দিন,মাস কিংবা বছর উদ্দেশ্য, বর্ণনা স্পষ্ট নয়) দাঁড়িয়ে থাকাকে উত্তম মনে করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১০। মুসনাদে বায-যারে (হাদীস নং ৩৭৮২)আছে চল্লিশ বছর। তবে সামনে কতুটুকু পরিমান জায়গার মধ্যে যেতে পারবে না সে বিষয়ে মতভেদ আছে। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, وَاخْتُلِفَ فِي تَحْدِيدِ ذَلِكَ فَقِيلَ إِذَا مَرَّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مِقْدَارِ سُجُودِهِ ، وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ رَمْيَةٍ بِحَجَرٍ অর্থ: এর সীমা নিয়ে মতভেদ আছে। কারো মতে, সিজাদা দেয়ার স্থান পর্যন্ত, কেউ কেউ বলেন, তিন হাত, আবার কেউ কেউ বলেন, পাথর নিক্ষেপ করলে যতুটুকু যায় সেই পরিমাণ। ফাতহুল বারী, ১/৫৮৫ (শামেলা)। এজন্য সর্বদা সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া পরিহার করবেন। একান্ত বাধ্য হলে অন্তত দু কাতার দূর থেকে যাবেন।

প্রশ্নঃ 1035
আসসালামু আলাইকুম, ১। আমি জানি যে স্বামী-স্ত্রী জামায়াতে সালাত আদায় করতে গেলে- প্রথমে স্বামী এবং নিচের কাতারে স্ত্রী দাড়াবে। কিন্তু যদি জামায়াতে নাহয়ে এমনি সুন্নত বা নফল সালাত পড়ার সময় একই কাতারে দুজনের মধ্য ফাকা রেখে দাড়িয়ে যার মত সেই পড়া যাবে কি? ২। শশুর-শাশুড়িকে বাব- মা ডাকা, এ ব্যাপারে শরিয়াতের বিধান কি? কি বলে ডাকা বা সম্মোধন করা উত্তম?
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জামাতের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী পিছনে দাড়ানো শর্ত। জামাত ছাড়া এ শর্ত প্রযোয্য নয়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী সুন্নাত বা নফল নামায পাশাপাশি পড়তে পারবে, সমস্যা নেই। শ্বশুর- শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা যাবে, না-জায়েজ নয়। এবং এভাবেই ডাকা উচিৎ। কেননা অনেক সময় এই নিয়ে পরিবারে সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নঃ 1034
আমি মাঝে মাঝে আমাদের অফিসে নামাজের ইমাম হিসেবে নামাজ আদায় করি, আমি যখন রুকুতে থাকি, মাঝে মাঝে কিছু ভাই নামাজ পড়তে এসে তারাহুড়া করে রুকুতে শামিল হওয়ার চেষ্টা করে। তাই, আমি ইচ্ছা করে রুকুতে একটু বেশি সময় নিই ওই ভাইদের রুকুতে শরীক করার জন্য। আপনার কাছে প্রশ্ন হল, নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃত এই কাজটি করার জন্য আমার নামাজের কোন ক্ষতি হল কিনা? বা নামাজের মধ্যে এই রকম করা জায়েজ হবে কিনা? আশা করি জানাবেন।
04 Jan 2026

না, ভাই, এতে কোন সমস্যা নেই। বরং ইমামদের উচিৎ রুকু সাজদাতে একটু বিলম্ব করা। আপনি এমনিতেই রুকু সাজদায় একটু বিলম্ব করবেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, وروي عن عبد الله بن المبارك أنه قال أستحب للإمام أن يسبح خمس تسبيحات لكي يدرك من خلفه ثلاث تسبيحات আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, ইমামের জন্য মুস্তাহাব হলো তাসবীহ পাঁচবার পরা যাতে মুক্তাদিরা অন্তত তিনবার পড়তে পারে। সুনানু তিরমিযী, ২৬১ নং হাদীসের আলোচনা। এছাড়া সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. ইমামকে মুক্তাদিদের দিকে লক্ষ রাখতে বলেছেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০৪।

প্রশ্নঃ 1027
আসসালামু আলাইকুম, আমি যখন নিজ এলাকায় অবস্থান করি তখন নিয়মিত জামায়াতের সাথে নামায আদায় করি, কিন্তু যখন অন্য এলাকায় অবস্থান করি তখন ঠিকমত নামায আদায় হয়না . এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি এবং যে নামায আদায় হলোনা সেক্ষেত্রে করণীয় কি বুঝিয়ে বলবেন. ওয়াসসালাম
04 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি যেখানে থাকবেন সেখানেই মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করবেন। মনকে দৃঢ় করুন যে, যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন নামায ছাড়বেন না। কোন কারণে মসজিদে না যেতে পারলে যেখানে থাকবেন সেখানেই নামায আদায় করবেন। নামায ছেড়ে দেয়া কোন অবস্থাতেই গ্রহনযোগ্য নয়। তবে কোন কারনে যদি নামায কখনো ছুটে যায় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আদায় করে নিতে হবে। যেটাকে আমাদের দেশে কাযা নামায বলা হয়।

প্রশ্নঃ 1020
Mohtaram, assalamu alaikum. Is there any Kitab regarding SALAT with reference? With rewards.
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, সালাতের কিছু বিষয় আছে এমন যার একাধিক পদ্ধতি সহীহ হাদীসসম্মত। বাজারে বাংলা ভাষাতে সম্ভবত এমন কোন বই নেই যেখানে এই একাধিক পদ্ধতি দলীলসহ বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু বই আছে যেখানে একটা পদ্ধতিই শুধু দলীলসহ উল্লেখ আছে। যেমন, শায়খ ইলিয়াস ফয়সাল রচিত নবীজীর নামায, শায়খ আলাবানী রহ. রচিত সিফাতুস সালাত যেটা বাংলাতে রাসূলুল্লাহ সালাত নামে বের হয়েছে। এই দুটি বই একত্রে পড়লে আশা করি আপনি সালাত বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এছাড়া ড. আসাদুল্লাহ আলগালীব লিখিত একটি সালাতের বইও বাজারে পাওয়া যায়। তবে এগুলোর কোনটিতেই সকল সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি একত্রিত করা হয় নি।

প্রশ্নঃ 1012
আসসালামুআলাইকুম, ফজরের সুন্নাত ফরজের আগে না পড়তে পাড়লে,ফরজের পর সূর্য উদয়ের আগে পড়া যাবে কি? না সূর্য উদয়ের পর পড়তে হবে। দয়া করে জানাবেন।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সূর্য উদয়ের পরেই পড়বেন। সহীহ হাদীসে রাসূলু্ল্লাহ সা. এমনই বলেছেন। সনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৩৮৮+। অবশ্য ছুটে যাওয়া আশংকা থাকলে ফরজের পরপরও আদায় করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৫।

প্রশ্নঃ 1008
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ! ভাই, আমার এক বন্ধুর প্রশ্ন ছিলো ওর পায়ে একটা কাটা থেকে সামান্য রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়েছিলো সলাতের সময়। এখন ওর সলাতের কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা? যদি হয়ে থাকে এমতাবস্থায় ওর করনীয় কি? সলাত কি ক্বাযা করবে? নাকি সলাত হয়ে গেছে? আমি জেনেছি কাটা ছেঁড়া বা ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পুজ পানি বের হলে বা গড়িয়ে পড়লেও নাকি সলাতের কোন সমস্যা নেই আর ইমাম আবু হানিফার রঃ এর ফিকহে অজু নস্ট হয়ে যায়। এখেত্রে আমার ফ্রেন্ডের জন্য বেস্ট অপশন কোনটি বা আমরা আসলে কোনটা বেশি প্রাধান্য দিবো। জাযাকাল্লাহ খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে ওযু নষ্ট হয়ে যাবে কিনা তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে। একদল বলেন, নষ্ট হবে আরেক দল বলেন হবে না। প্রত্যেক দলের হাদীস থেকে দলীল আছে। আমাদের দেশে নষ্ট হবে এই মতটিকে সাধারনত মেনে চলা হয়। এই মতটা মানাই অধিককত শতর্কতা বলে মনে হয়। আপনার বন্ধু আগামীতে যেন এমন অবস্থায় আর সালাত আদায় না করে। যেটা হয়ে গেছে আশা করি আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নিবেন।

প্রশ্নঃ 1002
assalamo allikum ami rafadayen kortachi kintu amar parar lokera khub gura ar rafadayen korla tara amaka samalochana korba ami ki kori jodi khakhono kakhono rafadayen kori abar khokono na kori asubidha acha? ar amader masjida sakal belai salatul farz ar para ya nabi salam ali ka,ar salato salam para hai, ami suna chilum khandokar sir bola chilen ya nabi salam alika beyadabi, abar masjida samasto musalli para ami na porla amar upar fatwa diba amar satha tara valo vaba misba na, samalochanao korba .daya kora apni amaka aman akta process bolen jata ami tader satha thaakta para kintu bidat thaka banchta pari amra pori ya nabi salam alika
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি স্যার রহ. এর এই ভিডিও ক্লিপটি দেখুন। শিরোনাম: নামাজে হাত কোথায় রাখবো

প্রশ্নঃ 999
আসসালামু আলাইকুম! এলকোহল তো পারফিউম এ থাকে। এটা ব্যবহার করে নামাজ পড়া যাবে কী?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সব এলকোহলই মদ নয়, হারাম নয়। সাধারনত পারফিউমগুলোতে যে এলকোহল থাকে তা হালাল। সুতরাং এতে নামাযের কোন সমস্যা হবে না। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে,কোন এলকোহলে মদ আছে বা হারাম কিছু আছে তাহলে তা ব্যহার করবেন না। নামাযতো পড়বেনই না।

প্রশ্নঃ 998
আসসালামু আলায়কুম, আমি জানতে চা্ই যে, যখন বাড়ীতে সালাত আদায় করবো তখন আযান দিয়ে সুন্নাত নামায আদায় করলাম তারপর ইকামাত দিয়ে ফরয সালাত আদায় করলাম, এটা সঠিক নিয়ম হলো? আর যেসব নামায নিঃশব্দে পড়া হয় সেই সব নামাযে নিয়াত করার পরে আল্লাহু আকবার বলার সময় রুকুতে যাবার সময় রুকু থেকে উঠার সময় দুয়া আর নামাজের বাকি সময়ে ইমাম সাহেব যেমন বলেন সেই রকম করবো নাকি চুপ থকিবো।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ নামায সমসজিদে গিয়ে পড়বেন। বিনা-কারণে বাড়িতে ফরজ নামায পড়া ঠিক নয়। বাড়িতে পড়লে আপনি যা লিখেছেন সেই নিয়মে পড়া ঠিক আছে। আর্ একা একা নামায পড়লে ফজর, মাগরিব ও ইশার সালাতে সূরা স্বশব্দে পড়বেন, জোহর ও আসরের নামাযে নি:শব্দে পড়বেন যেভাবে ইমাম সাহেব মসজিদে পড়েন। একা একা নামায পড়লে সূরা না পড়ে চুপ করে থাকলে নামায হবে না। আমি দু:খিত যে, আপনাকে মোবাইল নাম্বারটা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। মোবাইল নাম্বারটা হলো, 01961651547

প্রশ্নঃ 995
আসসালামু আলাইকুম. মুনাজাতের শেষে মুখ মাসেহ করা জায়েয কি? দয়া করে কোনআন বা হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এই বিষয়ে শায়েখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রাহে বেলায়াত বইয়ের ১৪২ পৃষ্ঠাযা বলেছেন: দুআর শেষে মুখমণ্ডল মোছা: দুআ বা মুনাজাতের সময় হাত উঠানোর বিষয়ে যেরূপ অনেকগুলি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়, দুআ শেষে হাত দুটি দ্বারা মুখমণ্ডল মোছার বিষয়ে তদ্রুপ কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে দুই একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে অত্যন্ত দুর্বল সনদে। একটি হাদীসে বলা হয়েছে : إِذَا فَرَغْتُمْ فَامْسَحُوا بِهَا وُجُوهَكُمْ দুআ শেষ হলে তোমরা হাত দুটি দিয়ে তোমদের মুখ মুছবে। হাদীসটি আবু দাউদ সংকলিত করে বলেন : এ হাদীসটি কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোই অত্যন্ত দুর্বল ও একেবারেই অচল। এ সনদটিও দুর্বল। আবূ দাউদ (৮-কিতাবুল বিতর, ২৩-বাবুদ দুআ) ২/৭৮, (ভারতীয় ১/২০৯). মুসতাদরাক হাকিম ১/৭১৯। অন্য হাদীসে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ রাসূলুল্লাহ r যখন দুআয় হস্তদ্বয় তুলতেন তখন হস্তদ্বয় দ্বারা মুখ না মুছে তা নামাতেন না।তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ দাআওয়াত, ১১-বাব..রাফইল আইদী) ৫/৪৩২, নং ৩৩৮৬, (ভা. ২/১৭৬)। তৃতীয় হিজরীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু যুরআ (মৃ. ২৬৪ হি) বলেন: হাদীসটি মুনকার বা একেবারেই দুর্বল। আমার ভয় হয় হাদীসটি ভিত্তিহীন বা বানোয়াট। একারণে কোনো কোনো আলিম দুআর পরে হাত দুটি দিয়ে মুখ মোছাকে বিদআত বলেছেন। কারণ এ বিষয়ে একটিও সহীহ, হাসান বা অল্প দুর্বল কোনো হাদীস নেই। এছাড়া দুআর সময় হাত উঠানো সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগে পরিচিত ও প্রচলিত ছিল, কিন্তু দুআ শেষে হাত দিয়ে মুখ মোছার কোনো প্রকার উল্লেখ পাওয়া যায় না।সুয়ূতী, ফাদ্দুল বিয়া, পৃ. ৫২-৫৩; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল ২/১৭৮; সাহীহাহ ২/১৪৪-১৪৫। অপরদিকে ইবনু হাজার আসকালানী (৮৫২ হি) বলেন, হাদীসটির সনদ দুর্বল হলেও অনেকগুলো সূত্রে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে মূল বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বা হাসান বলা উচিত। ইবনু হাজার, বুলুগুল মারাম, পৃ. ২৮৪। সুনানে তিরমিযীর কোনো কেনো পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায় যে ইমাম তিরিমিযী হাদীসটি হাসান বা সহীহ বলেছেন। কিন্তু ইমাম নববী (৬৭৬ হি) বলেন যে, সুনানে তিরমিযীর সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রচলিত কপি ও পাণ্ডুলিপিতে ইমাম তিরমিযীর মতামত হিসেবে উল্লেখ আছে যে, হাদীসটি গরীব। ইমাম নববীও এ বিষয়ক সকল হাদীস যয়ীফ বলে উল্লেখ করেছেন।নাবাবী, অল-আযকার,পৃ. ৫৬৯। ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম বাইহাকী (৫৬৮ হি) বলেন : দুআ শেষে দু হাত দিয়ে মুখ মোছার বিষয়ে হাদীস যয়ীফ, তবে কেউ কেউ সে হাদীসের উপর আমল করে থাকে। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/২১২। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক সানআনী (২১১ হি) তার উস্তাদ ইমাম মামার ইবনু রাশিদ ১৫৪ হি) থেকে ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী (১২৫ হি) থেকে বিষয়টি বর্ণনা করে বলেন: কখনো কখনো আমার উস্তাদ মামার এভাবে দুআর শেষে মুখ মুছতেন এবং আমিও কখনো কখনো তা করি।আব্দুর রাজ্জাক সানাআনী, আল-মুসান্নাফ ২/২৪৭। এ থেকে বুঝা যায় যে তাবিয়ীগণের যুগে কেউ কেউ দুআ শেষে এভাবে মুখ মুছতেন। এভাবে আমরা দেখি যে, দুআর সময় হাত উঠানো যেরূপ প্রমাণিত সুন্নাত, দুআ শেষে হাত দুটি দিয়ে মুখমণ্ডল মুছা অনুরূপ প্রমাণিত বিষয় নয়। এ বিষয়ে দুএকটি দুর্বল হাদীস আছে, যার সম্মিলিত রূপ থেকে কোনো কোনো আলিমের মতে এভাবে মুখ মোছা জায়েয বা মুস্তাহাব। আল্লাহই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 987
আচ্ছালামু আলাইকুম,সফরে থাকা অবস্থায় আমি কি সালাত জমিয়ে আদায় করতে পারবো? মানে জোহর আর আসর দুই রাকাত আলাদা করে আসরের সময়ে এবং মাগরীব ও ইশা যথাক্রমে তিন রাকাত ও দুই রাকাত ইশার টাইমে কি এভাবে জমিয়ে পড়া যাবে?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি জোহরের নামায পড়বেন জোহরের শেষ সময়ে আর আসরের নামায পড়বেন আসরের শেষ সময়ে। তদ্রুপ মাগরিব পড়বেন মাগরিবের শেষ সময়ে আর ইশা পড়বেন প্রথম সময়ে। এই নিয়মটা উত্তম। এর বাইরে আপনি যে পদ্ধতিটি জানতে চেয়েছেন তা নিয়ে আলেমদের মাঝে বিতর্ক আছে।

প্রশ্নঃ 982
আসসালামু আলাইকুম, ১. আমরা জানি সূর্য উদয়ের সময় নামাজ পরা হারাম এবং ২৩ মিনিট পর নামাজ পরতে হবে। আবার জানি নিয়মিত নামাজী যখন ঘুম থেকে উঠবে তখনি ফহরের নামাজ পরে নিবে। তখন যদি সূর্য উদয়ের টাইম হয়? এর সঠিক মাসআলা কি? ২.সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় নামাজ পরা হারাম এবং ২৩ মিনিট অগে থেকে নামাজ পরা বন্ধ করতে হবে। আবার জানি মাগরিবের আজান পর্যন্ত আসর নামাজ পরতে পারবে যদি ওজর থাকে। তখন যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার টাইম হয়? সঠিক মাসআলা কি? দয়া করে জানাবেন…
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ১। যদি কোন ব্যক্তি সূর্য উদয়ের সময় ঘুম থেকে উঠে তাহলে সে কখন ফজরের নামায পড়বে তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুইটি মত বিদ্যমান। অনেক আলেম বলেন, তখনই পড়বে। আবার একদল আলেম বলেন সূর্য পুরোপুরি উঠার পর অর্থাৎ ২৩ মিনিট পরে পড়বে। যারা বলেন, সূর্য উঠার সময়ই পড়বে তাদেল দলীল: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ليس في النوم تفريط إنما التفريط في اليقظة فإذا نسي أحدكم صلاة أو نام عنها فليصلها إذا ذكرها অর্থ: ঘুমের মধ্যে কোন ধরপাকড় নেই, ধরপাকড় জাগ্রত অবস্থার মধ্যে। যখন তোমাদের মধ্য থেকে কোন ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে তাহলে যখন তার স্বরণ আসবে তখন সে নামায আদায় করবে। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ১৭৭; সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ৬১৫। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ বলেছেন। অপরদিকে যারা বলেন সূর্য পরিপূর্ণ ওঠার পর পড়বে তাদের দলীল: عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِىَّ يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّىَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ অর্থ: উকবা ইবনে আমের রা. বলেন, তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে নামায আদায় করতে এবং জানাযা করতে নিষেধ করেছেন। সূর্য ওঠার সময় যতক্ষন না পরিপূর্ণ উঠে উঁচু হয়, ঠিক দুপুর বেলা যতক্ষন না সূর্য হেলে পড়ে এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহুর্তে যতক্ষনা সূর্য ডুবে যায়। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৬৬। অন্য হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. মক্কার রাস্তায় শেষ রাত্রে বিশ্রাম নেয়ার সময় সূর্য উঠে গেলে তিনি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে পরিপূর্ণভাবে উঠার পর সাহাবীদেরকে নিয়ে নামায আদায় করেছিলেন। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ২৮। ইমাম আবু হানীফা রহ. দ্বিতীয় মতটি পোষনকারীদের অন্যতম। আপনি ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতামত অনুযায়ী চলতে পারেন। তবে প্রথম মতটি কেউ মানলে তাকে তিরস্কার করবেন না। ২। সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় ঐদিনের আসরের নামায সর্বক্যমতে আদায় করা যাবে। দলীলসহ উক্ত মাসআলাগুলো বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-ফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ১/৫৯৫-৬০০। সুনানু তিরমিযী, ১৭৭ নং হাদীসের নিচে ইমাম তিরমিযীর আলোচনা।

প্রশ্নঃ 972
আসসালামু আলাইকুম, ১। ফরজ,সুন্নত,নফল যে কোন নামাজে সালাম ফিরানোর আগে (১)আল্লা-হুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওযা শুকরিকা…., (২) আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা…., (৩) আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার…., (৪) আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন…., (৫) রাব্বির হাম হুমা কামা ……, (৬) আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্বাবরি, ওয়ামিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়ায়া ওয়াল মামাতি, ওয়ামিন শাররি ফিতনাতি মাসিহিদ দাজ্জাল। (৭) রব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া…, এ দুয়াগুলা কি পড়া যাবে? যদি আমি ইমাম বা মুক্তাদি হয়? ২। কুরআনে বর্নিত যে দূয় গুলি আমরা পড়ি তার আগে কি আল্লা-হুম্মা যোগ করে পড়তে হয়, যদি তাই হয় তবে সেটা কি আবশ্যিক? জাজাকাল্লাহু খয়রান.
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, আপনি উক্ত দুআগুলো যে কোন নামাযে সালাম ফিরানোর আগে পড়তে পারেন। আর কুরআনে বর্ণিত দুআর আগে আল্লাহুম্মাে যোগ করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্নঃ 964
১) মাঝে মাঝে খুব সামান্য পরিমাণ মজি বের হয়ে যায়, যার ফলে আন্ডারউইয়ার এর অল্প অংশ (মটর দানা পরিমাণ) ভিজে যায় । কর্মক্ষেত্রে থাকা অবস্থায় কাপড় পরিবর্তন করা বা ধোয়া সম্ভব হয় না । এই পরিস্থিতিতে নামাজ পড়তে হলে করনীয় কি? ২) মাসবুক ব্যাক্তি ইমামের উভয় সালাম ফিরানো শেষ হবার পূর্বেই দাড়াতে পারবে কি? অনেক কে দেখা যায় প্রথম সালাম শেষ হলেই দাড়িয়ে যায় । ৩) একাকি নামাজের সময়, নামাজের মধ্যে কত রাকাত হয়েছে ভুলে গিয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে পারলে কি করতে হবে?
03 Jan 2026

এতটুকু ভিজলে সমস্যা নেই। এই অবস্থায় নামায হয়ে যাবে। তবে আপনি চেষ্ট করবেন ঐ অংশটুকু ধয়ে নিতে। ২। দুই দিকে সালাম ফিরানোর পরই দাড়ানো উচিত তবে এক দিকে সালাম ফিরানোর পর দাঁড়ালেও নামায হয়ে যাবে। ৩। নামাযে রাকআতের সংখ্য মনে না থাকলে করণীয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِى صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاَثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ যখন তোমদের কেউ নামাযের মদ্ধে সন্দেহে পড়বে য, সে কত রাকআত পড়েছে তিন না চার রাকাত, তখন সে সন্দেহকে দূর করে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের উপর আমল করবে (অর্থাৎ কমটার উপরে)। এরপর দুইটা (সাহু) সাজদা দিবে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৩০০। অন্য হাদীসে স্পষ্ট আছে, وَإِذَا شَكَّ فِى الاِثْنَتَيْنِ وَالثَّلاَثِ فَلْيَجْعَلْهَا اثْنَتَيْنِ ، وَإِذَا شَكَّ فِى الثَّلاَثِ وَالأَرْبَعِ فَلْيَجْعَلْهَا ثَلاَثًا দুই এবং তিন নিয়ে সন্দেহ হলে দুই রাকআত মনে করে বাকী নামায আদায় করবে আর তিন ও চার রাকআত নিয়ে সন্দেহ হলে তিন রাকআত ধরে নিয়ে বাকী এক রাকআত আদায়করবে। । আস-সুনানুল কুবরা লিল বাযহাক্কী, হাদীস নং ৩৯৬৯। হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 945
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হল: আমার যদি জামাতে কোন রাকাত ছুটে যায় যেমন জহরের সালাতের ২রাকাত ছুটে গেল তখন আমি কি ইমাম এর সাথে ২রাকাত পরার পর ইমাম এর সাথে সালাম ফিরিয়ে তাঁরপর দাড়িয়ে সালাত পূর্ণ করব নাকি ইমাম এর সাথে সালাম না ফিরিয়ে দাড়িয়ে বাকী নামায আদায় করবো?
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সালাম না ফিরিয়ে বাকী রাকআতগুলো আদায় করবেন। তবে ভুল করে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কোন সমস্যা নেই। তারপর উঠে বাকী রাকআতগুলো আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 941
আসসালাম ওয়া আলাইকুম জনাব, চাশতের সালাহর ব্যাপারে আমাকে কুরআন এবং হাদিসের আলোকে তা আদায় করার পদ্ধতি, ফাজিলাত এবং তা প্রমানিত কিনা জানালে উপকৃত হবো । জাযাকাল্লাহ খইর মুহাম্মাদ রাশিদ খালেদ
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চাশতের সালাত তথা ফজরের পর সূর্য উঠে গেলে যে সালাত আদায় করা হয় তা সহীহ সুন্নাহ সম্মত। এই বিষয়ে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ … تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতে আদায় করে বসে বসে আল্লাহর যিকির করবে সূর্যোদয় পর্যন্ত, এরপর দুই রাকআত সালাত আদায় করবে, সে একটি হজ্ব ও একটি ওমরার সাওয়াব অর্জন করবে: পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ (হজ্ব ও ওমরা)। হাদীসটি হাসান। তিরমিযী (আবওয়াবুস সালাত, ৫৯-..জলূস ফিল মাসজিদ…) ২/৪৮১, নং ৫৮৬, (ভারতীয় ১/১৩০); আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/২৬০। আবু উমামমাহ ও উতবাহ ইবনু আবদ (রা) বলেন, রাসূলুলুল্লাহ সা. বলেছেন: مَنْ صَلَّى صَلاَةَ الصُّبْحِ فِيْ جَمَاعَةٍ ثُمَّ ثَبَتَ حَتَّى يُسَبِّحُ للهِ سُبْحَةَ الضُّحَى كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ وَمُعْتَمِرٍ تَامًّا لَهُ حَجُّهُ وَعُمْرَتُهُ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতে আদায় করে বসে থাকবে দোহার (চাশ্তের) সালাত আদায় করা পর্যন্ত, সে একটি পূর্ণ হজ্ব ও একটি পূর্ণ ওমরার মতো সাওয়াব পাবে। হাদীসটি হাসান। আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/২৬১। এভাবে বসতে না পারলেও দোহার সালাত পৃথকভাবে আদায়ের জন্য হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. নিজে মাঝে মাঝে দোহার (চাশতের) সালাত আদায় করতেন। যে কোনো মুসলিম, ফজরের জামাতের পরে যিক্র করুন বা না করুন, সূর্যোদয়ের পর থেকে দ্বি-প্রহরের মধ্যে দু-চার রাকআত দোহার সালাত আদায় করলেই বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত অশেষ সাওয়াব ও বরকতের আশা করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইটি, পৃষ্ঠা, ৪৯৪-৪৯৮।

প্রশ্নঃ 936
আচ্ছালামু আলাইকুম, ভাইয়া মসজিদে গিয়ে যদি কোন নামায না পড়ে সরাসরি বসে পড়ি তাহলে কি গুনাহ হবে? যেহেতু হাদীসে এসেছে কেউ মসজিদে প্রবেশ করে দু রাকাত নামায না পড়ে যেনো না বসে। আর আমদের আহলে হাদীসের ভাইয়েরা এটা অনেক স্ট্রিক্টলী ফলো করে যা দেখে মনে হয় যে মসজিদে প্রবেশ করে কেউ বসে পড়লে গুনাহ হয়ে যাবে। প্লীস একটু জানান।
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে মসজিদে প্রবেশ করে না বসে দুরাকআত নামায পড়ার কথা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন । মূমিনের উচিৎ রাসূলুল্লাহ সা.এর সুন্নাত অনুযায়ী জীবনকে পরিচালিত করা। তবে এটা সুন্নাত নামায, না পড়লে গুনাহ হবে এমন কথা কেউ বলেন নি।

প্রশ্নঃ 931
Assalamualaikum warahmatullah sir. আশা করি আল্লাহ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার একটা ছোট্ট প্রশ্ন ছিলো। যদি ফ্রি থাকেন, স্যার আজ এশার সলাত পড়ার সময় ইমাম সাহেব মাঝ বৈঠকে একটু সময় নিয়েছিলো আর আমার মনে হয় উনি দুরুদে ইব্রাহিম ও দোয়ায়ে মাছুরাও পড়েছিলো যার কারনে উনি সহু সাজদা দেন। অবশ্য আমি ভেবেছিলাম উনি সহু সাজদা দিবেন না। তারপর শেষ বৈঠকে আমিও দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর উনি এক সালাম দিয়ে দ্রুত আবার সাজদায় যান মানে সহু সাজদা দেন। তারপর আমি ও তার সাথে সাথে সাজদায় যাই। সমস্যা হলো আমি উনার সাথে এক সালাম না দিয়েই সহু সাজদা করি। এজন্য আমি ভাবছি যে ইমাম সাহেব এর সাথে এক সালাম না ফেরানোয় কি আমার নামাজের কোন ক্ষতি হলো কিনা। তাই আমি এশার ফরয সলাতের পর সুন্নত ও বেতের পড়িনি। এই বিষয়টা জেনে পড়ব ভাবছি। স্যার দয়া করে জানাবেন? জাযাকাল্লাহু খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার সালাত হয়ে গেছে। ইমাম সাহেবের সাথে সালাম না ফিরিয়ে সাজদাতে যাওয়ায় আপনার সালাত নষ্ট হয়ে যায় নি। কারণ সালাম ফেরানো ওয়াজিব। ইমামের সাথে থাকা অবস্থায় কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে নামায বাতিল হয় না।তবে কোন ফরজ ছুটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা আদায় করে নিবেন। যেমন, ইমাম সাহেবের সাথে যদি একটি সাজাদা ছুটে যায় তাহলে নিজে নিজে আদায় করে নেবেন। আর আপনার জন্য সুন্নত ও বিতর ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নি। আপনার সন্দেহের কারণে অন্তত নিজে নিজে আবার ফরজ সালাত আদায় করার পর সুন্নাত ও বিতর সালাত আদায় করা দরকার ছিল।

প্রশ্নঃ 930
Assalamualaikum warahmatullah sir. আশা করি আল্লাহ সুবহানুতায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। স্যার একটা ছোট্ট প্রশ্ন ছিলো। যদি ফ্রি থাকেন, স্যার আজ এশার সলাত পড়ার সময় ইমাম সাহেব মাঝ বৈঠকে একটু সময় নিয়েছিলো আর আমার মনে হয় উনি দুরুদে ইব্রাহিম ও দোয়ায়ে মাছুরাও পড়েছিলো যার কারনে উনি সহু সাজদা দেন। অবশ্য আমি ভেবেছিলাম উনি সহু সাজদা দিবেন না। তারপর শেষ বৈঠকে আমিও দুরুদে ইব্রাহিম পড়ার পর উনি এক সালাম দিয়ে দ্রুত আবার সাজদায় যান মানে সহু সাজদা দেন। তারপর আমি ও তার সাথে সাথে সাজদায় যাই। সমস্যা হলো আমি উনার সাথে এক সালাম না দিয়েই সহু সাজদা করি। এজন্য আমি ভাবছি যে ইমাম সাহেব এর সাথে এক সালাম না ফেরানোয় কি আমার নামাজের কোন ক্ষতি হলো কিনা। তাই আমি এশার ফরয সলাতের পর সুন্নত ও বেতের পড়িনি। এই বিষয়টা জেনে পড়ব ভাবছি। স্যার দয়া করে জানাবেন? জাযাকাল্লাহু খইর
03 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার সালাত হয়ে গেছে। ইমাম সাহেবের সাথে সালাম না ফিরিয়ে সাজদাতে যাওয়ায় আপনার সালাত নষ্ট হয়ে যায় নি। কারণ সালাম ফেরানো ওয়াজিব। ইমামের সাথে থাকা অবস্থায় কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে নামায বাতিল হয় না।তবে কোন ফরজ ছুটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা আদায় করে নিবেন। যেমন, ইমাম সাহেবের সাথে যদি একটি সাজাদা ছুটে যায় তাহলে নিজে নিজে আদায় করে নেবেন। আর আপনার জন্য সুন্নত ও বিতর ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নি। আপনার সন্দেহের কারণে অন্তত নিজে নিজে আবার ফরজ সালাত আদায় করার পর সুন্নাত ও বিতর সালাত আদায় করা দরকার ছিল।

প্রশ্নঃ 911
আসসালামুআলাইকুম, আমরার জানি নামাজে তাকবিরে তাহরিমা বলা ফরজ। যখন ইমামের সাথে জামাতে নামাজ পরবে তখন মুসল্লির তাকবিরা তাহরিমা বলতে হবে কিনা? এক রাকাত পরে নামাজ শুরু করলে তখন কি করতে হবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, যখন ইমামের সাথে নামায পড়বেন তখনও তাকবীর তাহরীমা ফরজ। এক রাকআত বা কয়েক রাকআত হয়ে যাওয়াার পরে আসলেও তাকবীরে তাহরীমা ফরজ। মোটকথা সর্বাবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা ফরজ। তাকবীরে তাহরীমা ব্যতিত নামায সহীহ হবে না।

প্রশ্নঃ 904
আস্সালামুআলাইকুম, আমি অসুস্থ মানুষের সুস্থতার জন্য কোনো বিশেষ নামাজ আছে কিনা তা জানার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি। আমার এক বন্ধু ব্লাড ক্যান্সার এ আক্রান্ত। বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে ডাক্তাররা কোনো আশা রাখতে পারছেন না। বিদেশে নিলে তার চিকিৎসা খরচ এতো বেশি যেটা সম্ভব কিনা আমি জানি না আর তাতে লাভ হবে কিনা নিশ্চিত না। এখন তার সুস্থতা তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর হাতে আর মানুষের হায়াৎ তো উনি ঠিক করেন। আল্লাহ এর কাছে বিশেষ ভাবে চাইলে আল্লাহ তা পূরণ করতেও পারেন আমি যতটুকু জানি। এখন ওর সুস্থতা কামনার জন্য এমন কি কোনো বিশেষ নামাজ আছে যেটা হয়তো আল্লাহ কবুল করতে পারেন।অন্তত হায়াৎ আরো অনেক দিন যেন লম্বা হয়। একমাত্র আল্লাহ এর মিরাকেল ছাড়া আর কোনো কিছুই আমাদের করার নেই বলেই মনে করি। আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ এবং দুঃখিত। আপনাদের জ্ঞান এর সহযোগিতা কামনা করছি।আল্লাহ আমাদের সবার কল্যাণ করুক।আমিন।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমরা তার জন্য দুআ করি আল্লাহ যেন তাবে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন। অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন বলে হাদীসে এসেছে। অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য বিশেষ কোন নামায আছে বলে আমরা পাই নি। তবে তাহাজ্জুদ নামাযের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। এছাড়া সুস্থতা চাওয়ার কিছু দুআ রাসূলুল্লাহ সা. আমাদেরকে শিখিয়েছেন। নিচে দুটি দুআ দিয়ে দিলাম। ১। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى وَارْحَمْنِى وَاهْدِنِى وَعَافِنِى وَارْزُقْنِى । উচ্চারণ: আল্লাহুমমাগফির লি ওয়ার হামনি ওয়াহ দিনি-ওয়াআ-ফিনি-, ওয়ার ঝুকনি। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর দয়া করুন, আমাকে হেদায়াত দান করুন, আমাকে সুস্থ রাখুন এবং রিযিক দান করুন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭০২৫।দুআটি দুই সাজদার মাঝে ও অন্যান্য সময় পাঠ করবে। ২। أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৭৫। এই দুআটি নামাযের সাজদাতে এবং অন্যান্য সময় পাঠ করবে। বিপদ-আপদ ও রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন. ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত রাহে বেলায়াত বইটি।

প্রশ্নঃ 890
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্ন হলো- ১. ধুমপান (smoking) করা কি হারাম? ২. ধুমপান (smoking) করে নামায পরলে কি নামায হবে? ৩. ধুমপানকারী (smoker) ইমামের পিছনে নামায পরলে কি নামায হবে?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধুমপানের মাধ্যমে শরীরের ক্ষতি হয় আর অর্থের অপচয় হয়। এর মধ্যে ক্ষতি ছাড়া কোন কল্যানকর কিছু নেই। তাই বিশ্বের অধিকাংশ আলেমের নিকট ধুমপান হারাম। কোন কোন আলেম অবশ্য মাকরুহ বলেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বেচেঁ থাক কালীন আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হারাম। আমি বলালাম অনেকে যে, মাকরুহ বলে? তিনি তখন বললেন, সিগারেটের কথা স্পষ্ট হাদীসে উল্লেখ না থাকায় অনেকে মাকরুহ বলেন। তবে মুল বিষয় একই সকল আলেমই ধুমপানকে মূলত হারামই মনে করেন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। কোন একটি পাপ কাজ করলে অন্য ভাল কাজ কবুল হবে না বিষয়টি এমন নয়। ভাল কাজের সওয়াব মানুষ পাবে। তবে এমন ধুমপানকারী ইমামের পিছনে সালাত না করে যিনি করেন না এমন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করবেন । আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে ঐ ইমামের পিছনেই আদায় কর হবে। জামাত ত্যাগ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 889
আমার বাসা মোহাম্মদপুর, ঢাকা। আজান শোনা যায় না। সহীহ চিরস্থায়ী ক্যালেনডার জানতে চাই। যোহর শেষ সময় ও আসরের সময় নিয়ে মতভেদ আছে। সঠিক কোনটি।
02 Jan 2026

আপনি মুফতী আমিমুল ইহসাল রা. এর প্রস্তুতকৃত চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করুন। যোহরের শেষ সময় নিয়ে মতভেদ আছে। আপনি প্রথম সময়ে যোহর আদায় করুন। আর আসরের ব্যাপারেও ঐ ্ক্যালেন্ডার অনুসরণ করুন। দেখুন ঐ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসরের সালাত আদায় করলে সকল আলেমের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। মতভেদের কারণে কোন সমস্য হবে না। আর আগে পড়লে মতভেদের ভিতরে পড়ে যাবেন। যতটা সম্ভব মতভেদ এড়িয়ে যাওয়ায় ভাল।

প্রশ্নঃ 882
আসসালামু আলাইকুম, সালাতুত তাসবীহ নামক নামাজ সুন্নাত সম্মত কিনা? এবং এই নামাজ কমপক্ষে বছরে ১ বা জীবনে ১ বার পড়া নিয়ে যে হাদীস আছে তা কি?এই নামাজ থাকলে তার সঠিক পদ্ধতি কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. বলেছেন, সালাতুত তাসবীহ: যিকিরের মূল চারটি বাক্য: তাসবীহ সুবহানাল্লাহ তাহমীদ আল-হামদু লিল্লাহ, তাহলীল লা- ইলাহা ইল্লল্লাহ এবং তাকবীর আল্লাহু আকবার। সালাতুত তাসবীহ-এর মধ্যে সালাতরত অবস্থায় এ যিক্রগুলো পাঠ করা হয়। চার রাকআত সালাতে প্রতি রাকআতে ৭৫ বার করে চার রাকআতে মোট ৩০০ বার উক্ত যিক্রগুলো আদায় করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ e তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে বলেন: চাচাজি, আমি আপনাকে একটি বিশেষ উপহার ও বিশেষ অনুদান প্রদান করব, যা পালন করলে আল্লাহ আপনার ছোট, বড়, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, প্রকাশ্য, গোপন সকল গোনাহ ক্ষমা করবেন। তা এই যে, আপনি চার রাকআত সালাত আদায় করবেন। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো একটি সূরা পাঠ করবেন। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য যে কোনো সূরা পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَر উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লা-হু আকবার । (পূর্বোক্ত যিকর নং ৫, ৪, ১ ও ১০ একত্রে)। এরপর রুকুতে গিয়ে রুকু অবস্থায় উপরের যিক্রগুলো ১০ বার, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার, সাজদা রত অবস্থায় ১০ বার, প্রথম সাজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার, দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সাজদা থেকে উঠে (বসা অবস্থায়) ১০ বার। এ মোট এক রাকআতে ৭৫ বার (চার রাকআতে মোট ৩০০ বার)। সম্ভব হলে আপনি প্রতিদিন একবার, না হলে প্রতি সপ্তাহে একবার, না হলে প্রতি মাসে একবার, না হলে প্রতি বছর একবার, না হলে সারা জীবনে একবার এ সালাত আপনি আদায় করবেন। সালাতুত তাসবীহ সংক্রান্ত অধিকাংশ হাদীসই অত্যন্ত যয়ীফ সনদে বর্ণিত। একমাত্র এ হাদীসটিকে অনেক মুহাদ্দিস সহীহ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটির ভাব ও ভাষা বিষয়েও আপত্তি করেছেন। ইমাম তিরমিযী প্রখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১৮১ হি) থেকে সালাতুত তাসবীহ-এর আরেকটি নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এ অতিরিক্ত যিক্র আদায়ের নিয়ম: নামায শুরু করে শুরুর দুআ বা সানা পাঠের পরে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে ১০ বার, রুকুতে ১০ বার, রুকু থেকে উঠে ১০ বার, প্রথম সাজদায় ১০ বার, দুই সাজাদার মাঝে ১০ বার ও দ্বিতীয় সাজদায় ১০ বার মোট ৭৫ বার প্রতি রাকআতে। অর্থাৎ, এ নিয়মে কিরাআতের পূর্বে ও পরে দাঁড়ানো অবস্থায় ২৫ বার তাসবীহ পাঠ করা হয় আর দ্বিতীয় সাজদার পরে বসা অবস্থায় কোনো তাসবীহ পড়া হয় না। পূর্বের হাদীসে বর্ণিত নিয়মে কিরাআতের পূর্বে কোনো তাসবীহ নেই। দাঁড়ানো অবস্থায় শুধু কিরাআতের পরে ১৫ বার তাসবীহ পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকআতে দ্বিতীয় সাজদার পরে বসে ১০ বার তাসবীহ পড়তে হবে। ইবনুল মুবারক বলেন, যদি এ সালাত রাত্রে আদায় করে তবে দু রাকআত করে তা আদায় করবে। অর্থাৎ, দু রাকআত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দু রাকআত আদায় করবে। আর দিনের বেলায় ইচ্ছা করলে একত্রে চার রাকআত অথবা ইচ্ছা করলে দু রাকআত করেও আদায় করতে পারে। সালাতুত তাসবীহ-এ রুকু ও সাজদায় প্রথমে রুকু ও সাজদার তাসবীহ সুবহানার রাব্বিয়্যাল আযীম ও সুবহানা রাব্বিয়্যাল আলা নূন্যতম তিন বার করে পাঠ করার পরে অতিরিক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করতে হবে। রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৪৩১-৪৩৪।

প্রশ্নঃ 880
সাহু সিজদা করার নিয়ম কি? আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়ম (শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুইটা সিজদা দিয়ে আবার আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ পড়ে সালাম ফিরানোর নিয়ম) সঠিক কিনা বিস্তারিত জানতে চাই। অন্য কোন নিয়ম থাকলে কোন নিয়ম সবচেয়ে ভাল বলে আপনাদের মনে হয়?
02 Jan 2026

হ্যাঁ, আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়মটিও সহীহ। সাহু সাজদার আরো নিয়ম আছে। তার একটি হলো সাহু সাজদা দিয়ে দুই দিকে সালাম ফিরানো।

প্রশ্নঃ 878
আসসালামু আলাইকুম, আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে খুব উপকৃত হব। প্রশ্নটা হলো: সেজদায় সুবহানা রব্বি আল আলা কি বিজোড় সংখ্যাই পড়তে হবে নাকি ইচ্ছে মতো যতবার খুশি পড়া যাবে।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিজোড় সংখায় পড়তে হবে বলে কোন নির্ভরযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয় নি। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বলেন: : إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৮৬। এই হাদীসটিতেও সমস্যা আছে। ইমাম আবু দা্উদ রহ. বলেছেন, মুরাসাল। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, যয়ীফ। অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যত খুশি ততবার পড়তে পারবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১৩ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 873
assalamualaikum, তাহাজুদ সালাতে দেখে দেখে কোরান পড়া যাবে কি?
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। নফল সালাত তথা তাহাজ্জুদের সালাতে কোরআন মুখস্ত পড়াই সুন্নাত। তবে একটি হাদীসে আছে وَكَانَتْ عَائِشَةُ يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ الْمُصْحَفِ অর্থ: আয়েশা রা. এর গোলাম যাকওয়ান কুরআন থেকে দেখে দেখে পড়ে (তারাবীহ সালাতে) তাঁর ইমাম হয়ে সালাত পড়িয়েছিলেন। সহীহ বুখারী, ৬৯২ নং হাদীসের পূর্বে; মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বা, হাদীস নং ৭২৯৪। হাদীসটিকে ইবনে হাজার আসকালানী, ইমাম বাইহাক্কীসহ মুহাদ্দিগণ হাসান বলেছেন। এই হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ ওলামায়ে কিরাম নফল তথা তাহাজ্জুদের সালাতে কোরআন দেখে পড়াকে জায়েয বলে থাকেন। তবে হানাফী ফকীহগণ সব সালাতের বিষয়েই নাজায়েয বলে থাকেন।

প্রশ্নঃ 871
সালাতরত অবস্থায় মহিলাদের পা এর টাকনুর নিচের অংশ খোলা থাকলে কি সালাতে কোন সমস্যা হবে?
02 Jan 2026

না, কোন সমস্যা হবে না।

প্রশ্নঃ 867
১। দোয়া কবুলের সময় কোনগুলো? এমন কেউ কি আছে যার দোয়া শতভাগ কবুল হয়? ২। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন সময়ে বা পরীক্ষা থাকার কারনে জামাতে নামাজ পড়া সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে একাকী নামাজ পড়তে হয়। এতে কি গুনাহ হবে?
02 Jan 2026

১. দুআ কবুলের বিশেষ সময়গুলো হলো: শেষ রাত, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর, আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, রমযান মাস, ফরজ বা নফল সিয়াম অবস্থায়, ইফতারের সময়, যমযমের পানি পান করার সময়, শুক্রবারদিন মাগরিবের পূর্বমূহুর্তে ইত্যাদি। ২. সর্বাবস্থায় আমাদের জামাতে নামায আদায় করা উচিত। একান্ত সম্ভব না হলে একাকী পড়বেন। আশা করি গুনাহ হবে না।

প্রশ্নঃ 856
আসরের নামাজের সময় শুরু হয় কখন? আর কোনো বস্তুু তার সমপরিমাণ ছায়া দিলে আসরের সময় শুরু হয়। এ কথা কী সহহি? দয়া করে জানাবেন।
02 Jan 2026

জ্বী, কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া ব্যতিত সম পরিমান হলে আসরের সালাতের সময় হয়ে যায় বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৯।তবে আসরের সালাতের সময় কখন শুরু হয় তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে দুটি মত আছে। ১. মূল ছায়া ব্যতিত কোন বস্তুর ছায়া তার সমপরিমান হলে। ২. মূল ছায়া ব্যতিত কোন বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলে।

প্রশ্নঃ 846
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আমার সালাত সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সঙে শেয়ার করছি । আমার কোথাও ভুল হলে দয়া করে সংশোধন করে দিবেন। ১. রফলইয়াদাইন ১ বার করা এবং ১ বারের বেশি করা দুইটাই সহিহ হাদিস সম্মত। সেই ক্ষেত্রে আমি দুইটাকেই ভালোবাসি এবং মহাব্বত করি। কারো সঙে দ্বন্দে লিপ্ত হই না। হাদিসের মতন আমাদেরকেও উদার হতে হবে। দ্বন্দে লিপ্ত হওয়া মানে শয়তানকে সুযোগ করে দেয়া, এছাড়াও আরোও অনেক সমস্যাও হতে পারে। আমার সমাজে প্রায় সবাই হানাফি মাজহাবের। সমাজের ঐক্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে আমি জামাতের সাথে সালাত পড়াকালীন সময়ে রফলইয়াদাইন করি না। কারন ঐক্য রক্ষা করা খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ, যা স্যার খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন। তবে রফলইয়াদাইন ১ বারের বেশি করা সম্পর্কে যেহেতু প্রচুর সহিহ হাদিস আছে, সেই ক্ষেত্রে আমি বাসায় মাঝে মাঝে নফল ইবাদত/একাকী যে কোন সালাত পড়ার সময় রফলইয়াদাইন করি। আবার যেইখানে রফলইয়াদাইন মানুষ বেশি করে সেইখানে আবার রফলইয়াদাইন করি। এতে আমার কোন ভুল হয়ে থাকলে, দয়া করে সংশোধন করে দিবেন। ২. রুকু থেকে উঠার পর পুনরায় হাত বাঁধা এবং হাত ছেড়ে দেওয়া – এই দুইটা হাদিস আমাকে বুঝিয়ে দিবেন? এইক্ষেত্রে দুইটাই সঠিক হলে, আমি বাসায় মাঝে মাঝে এই ২ টা হাদিসের উপর আমল করতে পাব কি? স্যার এর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ/মাদরাসা/দ্বীনী কাজে/এতিমদের সাহায্য করার জন্য আপনাদের কোন Bkash নাম্বার থাকলে, নাম্বারটা দয়া করে দিবেন। আপনাদের সকলকে আল্লাহ্ উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনাদের সকলের প্রতি আমার মহাব্বত, ভালোবাসা, দুয়া ও সালাম জানাচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথম প্রশ্নে আপনি যেটা বলেছেন সেটা করতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। ২। রুকু থেকে উঠে হাত বাধা বা ছাড়ার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন হাদীসে বলা নেই তবে পূর্ব থেকে হাত ছেড়ে দেয়ার উপরই আমল হয়ে আসছে। বর্তমানে কোন কোন আলেম হাত বাধার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে হাত না বাধাটাই ভাল বলে মনে হয়। আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারী সাহেবেন নাম্বার দিয়ে দিচ্ছি। আপনি টাকা পয়সা দিতে চাইলে উনার সাথে আলাপ করে দিবেন। ০১৭১৮১৩৬৯৬২।

প্রশ্নঃ 842
আসসালামুয়ালাইকুম, হুজুর সাহেব নামায এর জন্য যে সব দুআর কথা বলেন… ঐ সব দুআগুলো কোন কিতাবে পাওয়া যাবে যদি একটু বলতেন —খুব উপকার হয়ত।
02 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত সহীহ মাসনুন ওযীফা অথবা রাহে বেলায়াত গ্রন্থটি সংগ্রহ করুন। ওখানে সব দুআ আছে। প্রথমটিতে সংক্ষেপে আর দ্বিতীয়টিতে বিস্তারিত। প্রয়োজনে 01788 99 99 68 কল করুন।

প্রশ্নঃ 827
Q 1: চার রাকাত নামাজে, দুই রাকাত নামাজ পরে আত্তাহিয়াতুর পর কি দুরুদে ইব্রাহিম পড়া যাবে? Q 2: নিষিদ্ধ সময় কি তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ পড়া যাবে? Q 3: নিষিদ্ধ সময় কি তাহিয়াতুল ওযু নামাজ পড়া যাবে?
02 Jan 2026

না, পড়া যাবে না। শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন।আপনি যে নামাযগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন এই নামাযগুলো নিষিদ্ধ ওয়াক্তে পড়া যাবে কিনা তা নিয়ে আলেম ও ফকীহগণের মাঝে মতভেদ আছে। তবে না পড়াই ভাল বলে মনে হয়। তবে যদি কেউ পড়ে তাকে দোষারোপ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 814
দুই সেজদার মাঝের দুআ (আল্লাহুমাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী … … ) কি আমি দুই সেজদার মাঝে বার বার পড়তে পারবো?
01 Jan 2026

জ্বী, বার বার পড়তে পারবেন। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 812
প্যান্ট নাভির নিচে, কিন্তু গায়ে শার্ট রয়েছে; এতে কি সালাতে কোন সমস্যা হবে?
01 Jan 2026

সালাত আদায়কালীন সময়ে যদি নাভীর নিচের কোন অংশ বের না হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 810
আসসালামু আলাইকুম । হুজুর প্রশ্ন টা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক। তবুও বিষয় টা জানার একান্ত প্রয়োজন। স্বামী-স্ত্রী সহবাস না করে উলঙ্গ অবস্থায় যদি উভয়ে উভয়ের লজ্জাস্থানে চুমু খায়, এবং হাত দ্বারা স্পর্শ করে এবং এতে বীর্য পাত না হয় তাহলে কি তাদের উপর গোসল ফরজ হবে? এবং এই অবস্থায় নামাজ পরা যাবে কি না?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। লজ্জাস্থানে চুমু দেয়া একটি নষ্ট কাজ, বাজে, রুচিহীন কাজ। এর থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে আপনি যা বলেছেন এর কারণে গোসল ফরজ হবে না। নামায পড়া যাবে।

প্রশ্নঃ 806
আসসালামু আলাইকুম, আমি সূরা ফাতিহা ঠিক মত উচ্চারণ আয়ত্ব করতে এখনো পারি নাই, চেষ্টা আছে । আমি সূরা টি জানি । আমি কি সূরা টি পড়বো না সুবহানাল্লাহ পড়বো সালাতে?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রশ্নটি করার পর তো কয়েক দিন কেটে গেছে। এতো দিনে তো সূরা ফাতিহা ভালভাবেই শিখে ফেলা হয়ে গেছে মনে হয়। না হলেও আপনি সূরা ফাতিহাই পড়বেন।

প্রশ্নঃ 802
আস্সালামুআলাইকুম, সিজদাতে গিয়ে কোরানিক দুআ গুলি সরাসরি করা যাবে কি। নাকি এর আগে আল্লাহুম্মা যোগ করে পড়তে হবে। যেমন-(আল্লাহুম্মা) রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়ি আতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা আল আবরার।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, সরাসরি করা যাবে। কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 800
আসসালামু আলাইকুম। উমরি কাযা সম্পরকে জানতে চাই। এর দলিল কি কুরআন সুন্নাতে আছে? থাকলে তা বিস্তারিত জানতে চাই। যদি না থাকে তবে আমার জীবনের এত অগনিত কাযা সালাত কি করে আদায় করব? যাযাকুমুল্লাহ।
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। এই সম্পর্কে কুরআনে কিছু নেই। আর রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সুতরাং সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 790
আমাদের দেশে আসর নামাজের জন্য যে সময়টা দেয়া থাকে তার আগে পর্যন্ত কি যোহর নামাজ পরা যাবে (কোন কারণে দেরি হয়ে গেলে)? অন্য দেশে আসর নামাজের সময় বেশ আগেই হয়ে যায়। তাহলে আমাদের দেশের টাইম কি ঠিক?
01 Jan 2026

যুহরের সালাতের সময় শেষ হলে আসরের সালাতের সময় শুরু হয়। যুহরের সালাতের সময় কখন শেষ হয় এই বিষয়ে হাদীসের আলোকে আলেমদের মধ্যে দুটি মত বিদ্যমান। এক. কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে তার সমপরিমাণ হওয়া। এটা অধিকাংশ আলেমের মত এবং হাদীসের আলোকে অধিকগ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়। দুই, মূল ছায়া বাদে দ্বিগুন হওয়া। আমাদের দেশে এই মতটি মেনে চলা হয়। সুতরাং আপনার উচিৎ হলো কোন বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে সমপমিান হওয়ার আগেই যুহরের সালাত আদায় করা। এর চেয়ে দেরী করা ঠিক হবে না। এর ভিতরেই সতর্কতা। কোন কারণে দেরী হয়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করে নিবেন। আর আসরের সালাত আমাদের দেশে যে সময়ে পড়া হয় সে সময়ে আদায় করার ভিতরই অধিক সতর্কতা। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 780
সুরা ফাতিহা না পড়লে নামায হয না (সহীহ বুখারী তাওহীদ প্রকাশনি 1ম খণ্ড 367 পৃঃ হাদিস নং 756) আমার প্রশ্ন জামাতে নামায পড়তে গিয়ে যদি দেখি ইমাম সাহেবের সুরা ফাতিহা তেলওয়াত শেষ তখন কি আমি একা সূরা ফাতিহা পড়ে নিব? অনেকে বলে ইমাম সাহেব পড়লে পিছনে যারা নামায পড়ে তাদের পড়া হয়ে যায় এই কথার কী কোন সহীহ হাদিস আছে? প্রমাণ সহ উত্তর দিবেন দয়া করে
01 Jan 2026

ভাই, এটা অনেক পুরাতন প্রশ্ন। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া বিষয়ে ফকীহদের মতামত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ১৪০ নং প্রশ্নের উত্তর। ইমামের পিছনে সূরা পড়তে হলে কখন পড়তে হবে এই নিয়ে যারা পড়তে বলেন তাদের মাঝেও অনেক মতভেদ আছে। আপনাকে যারা বলেছে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, এই অবস্থায় আপনি কি করবেন। যে সব সালাতে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সেসব সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতহা পড়তে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসসহ বিস্তারিত দেখুন, আমদের দেয়া ২৫৯ নং প্রশ্নের উত্তরে। ইমাম পড়লে পিছনে যারা পড়ে তাদের পড়া হয়ে যায় এই মর্মে দুটি হাদীস নিচে আলোচনা করছি: হযরত জাবের রা. বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ অর্থযা: র ইমাম থাকবে ইমামের পড়াই তার পড়া। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৬৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুয়াইব আরনাউত (তালীক মুসনাদ আহমাদ) ও শায়খ আলবানী রহ. (ইরওয়াউল গলীল, হাদীস নং ৫০০) হাসান বলেছেন। অপর একটি হাদীসে তাবেয়ী নাফে বলেন, عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ: هَلْ يَقْرَأُ أَحَدٌ خَلْفَ الإِمَامِ؟ يقول: إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ خَلْفَ الإِمَامِ فَحَسْبُهُ قِرَاءَةُ الإِمَامِ، وَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيَقْرَأْ، قَالَ: وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لاَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. এর কাছে যখন জানতে চাওয়া হতো ইমামের পিছনে কি মুক্তাদি পড়বে? তখন তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ ইমামের পিছনে সালাত আদায় করবে তখন ইমামের পড়াই তার জন্য যথেষ্ট। আর যখন একাকী সালাত আদায় করবে তখন পড়বে। নাফে বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ইমামের পিছনে পড়তেন না। মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস নং ১৯২। হাদীসটি সহীহ। ইমাম মালেক রহ. অবশ্য বলেছেন, এটা স্বশব্দে কুরআন পড়া সালাতে ক্ষেত্রে প্রযোয্য। হাদীসে স্পষ্টভাবে এটা উল্লেখ নেই। স্যার রহ. স্বশব্দে পড়া হয় এমন সালাতে সূরা ফাতিহ না পড়া এবং নি:শব্দে পড়া হয় এমন সালাত সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলতেন।সাহাবী আবু হুরায়রা রা. বিষয়টি এভাবেই বলেছেন, عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। তবে কেউ যদি সূরা ফাতিহা ইমামের পিছনে পড়তে চা্ই তার অনুমতি আছে। আদেশ নয়। অন্য একটি হাদীস থেকে তা আমরা দেখতে পাই। عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 772
নামায শেষে এক সাথে মোনাজাত করা কি বেদাত? নামাযের সময় কোথায় হাত বাধাসব চেয়ে বেশিউত্তম? সহীহ হাদিসের প্রমাণ সহ উত্তরটি দিবেন দয়া করে।
01 Jan 2026

মোনাজাতের বিষয়ে আমাদের দেয়া ৭৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। নামাযের সময় হাত বাধার বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই। নাভির নিচে বা উপরে বাধতে পারেন।সাহাবী ও তাবেঈরা কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়) সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো নাভির নীচে হাত বাঁধতেন, কখনো নাভির উপরে। কিন্তু বুকে হাত বাঁধার কথা কোনো সহীহ হাদীসে নেই এবং তা কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর আমল দ্বারাও প্রমাণিত নয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত সালাতে হাত বাধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 771
নামাযের মধ্যে দুই রাকাত পর ও শেষ বৈঠকে আঙুল ইশারা কি একবার করতে হবে না কি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ইশারা করতে হবে? দলিল সহ প্রমাণ দিবেন
01 Jan 2026

মোনাজাতের বিষয়ে আমাদের দেয়া ৬৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। নামাযের সময় হাত বাধার বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই। নাভির নিচে বা উপরে বাধতে পারেন।সাহাবী ও তাবেঈরা কোথায় বাঁধতেন তা ইমাম তিরমিযী (রহ.) নিন্মেক্ত বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তিনি বলেন, وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِى الصَّلاَةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا فَوْقَ السُّرَّةِ. وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَضَعَهُمَا تَحْتَ السُّرَّةِ. وَكُلُّ ذَلِكَ وَاسِعٌ عِنْدَهُمْ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী আহলে ইলমের কর্মধারা এমনই । অর্থাৎ তাঁরা নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখাকে নামাযের নিয়ম মনে করতেন। তাঁদের কতক নাভির উপরে এবং কতক নাভির নীচে রাখাকে উত্তম মনে করতেন। তবে উভয় পদ্ধতিই তাঁদের সকলের মতে বৈধ ছিল। (জামে তিরমিযী ২/৩৩, হাদীস-২৫২- এর আলোচনায়) সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো নাভির নীচে হাত বাঁধতেন, কখনো নাভির উপরে। কিন্তু বুকে হাত বাঁধার কথা কোনো সহীহ হাদীসে নেই এবং তা কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর আমল দ্বারাও প্রমাণিত নয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.রচিত সালাতে হাত বাধার বিধান বইটি।

প্রশ্নঃ 767
যদি কোনো যুবক ছেলের রাত্রে সপ্নদোষ হলো, আর এমন অবস্থায় ফরাজের সালাত আদায় করা যাবে কি?
01 Jan 2026

না, স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা ফরজ। গোসল ছাড়া কোন সালাতই আদায় করা যাবে না।

প্রশ্নঃ 760
আসসালামু আলাইকুম । আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের এলাকার মসজিদে রমজান এর শেষ ১০ দিন জমাতে তাহাজ্জুত পড়ান হয় রাত ১.৩০ এর সময় হাদিস এই ব্যাপারে কি বলে? যদি একটু বিস্তারিত বলতেন?
01 Jan 2026

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রমাজানে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামায) জামায়াতের সাথে রাসূলুল্লাহ সা. তিন বা চার দিন পড়িয়েছেন বলে বুখারী-মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তাহাজ্জুদ কিয়ামুল লাইলরই অংশ। সুতরাং তাহাজ্জুদ জামায়াতের সাথে পড়াতে কোন সমস্যা নেই বরং সুন্নাত।

প্রশ্নঃ 757
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আমাকে একজন বোন বলেছেন, প্রতি ফরজ নামাজের পর যদি কেউ সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি এবং সুরা এমরান এর ১৮,২৬,২৭,আয়াত পড়ে তাহলে অনেক ফজিলতের কথা বলেছেন – আল্লাহ গোপন চোখ্ দিয়ে তার প্রতি ৭০ বার রহমতের দৃষ্টি দান করেন। এই আমলটা কতটা সহীহ — এটা কি করা যাবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদিসটি জাল, ভিত্তিহীন। ইবনে হিব্বান (র:) (আল মাজরুহীন ১/২১৮) তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়ার বিষয়ে রাসুল (সা:) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন যে ব্যাক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসী পড়বে সে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর, হাদীস নং ৭৫৩২। হাদীসটি সহীহ। আর অন্যান্য আয়াত সম্পর্কে যে ফাজায়েল বলেছেন এগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্নঃ 747
আসসালামুয়ালাইকুম, ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে কি না?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, সুন্নাত-নফল সালাতের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে।

প্রশ্নঃ 746
আস সালামু আলায়কুম………আমি ছাত্র ও চাকুরীহজীবি হিসাবে ১০ বছর ধরে চট্রগ্রাম আছি। আমি ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার এই থাকাটা কি পার্মানেন্ট নাকি অস্থায়ী? আমার বারি চট্রগ্রাম থেকে ৮০ কিঃমিঃ দূরে, গ্রামে আব্বা আম্মারা সবাই থাকে। আমি যদি চট্রগ্রাম থেকে বাড়ীতে যাই নামাজ কসর করতে হবে কি? কয়দিন পর্যন্ত কসর করে পড়তে হবে? যদি সকালে গিয়ে বিকালে চট্রগ্রাম চলে আসি তাহলে কি উভয় জায়গাতেই নামাজ কসর করতে করতে হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। চট্টগ্রামে আপনি যদি স্থায়ীভাবে থাকেন তাহলে বাড়ি এসে কসর করবেন। আপনি স্থায়ীভাবে আছেন না স্বাময়ীক আছেন সেটা আপনি জানেন। শুধু লেখাপড়ার জন্য কোথাও থাকলে সেটা মোটেও স্থায়ীভাবে থাকা নয়। স্থায়ীভবে না থাকলে বাড়ি আসলে আপনি পূর্ণ সালাত আদায় করবেন। যতটুকু সময়ের জন্যই আসুন না কেন। আর রাস্তায় থাকাকালীন কসর করবেন। যদি স্থায়ীভবে চট্টগ্রাম থাকেন তাহলে গ্রামে কসর করবেন। ১৫দিনের বেশী থাকার নিয়ত হলে পূর্ণ সালাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ 744
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি মোঃ আমির হোসেন মিজান। আমি ময়মনসিংহ থেকে লিখছি। কেমন আছেন? আমার প্রশ্ন হলোঃ- ১. জামআতে ইমাম সাহেব কে রুকুতে পেলে, আমি কত তাসবিহ পরিমাণ বলতে পারলে ঐ রাকাতটি পাব? নাকি বিষয়টি তাসবিহ- এর সঙে জড়িত নয়? রুকু পেলেই কি রাকাত পাওয়া যাবে? ২. জামআতে ইমামের সাথে শেষ ১ বা ২ অথবা ৩ রাকাত পেলে, ইমাম তার শেষ বৈঠকে থাকাকালীন আমি কি শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়বো? নাকি দুরুদ শরীফ সহ দোআ মাসূরা সবগুলোই পড়বো? ৩. যখন ইমাম মনে মনে নিঃশব্দে কিরাআত পড়েন (যেমনঃ- যোহর ও আসরের প্রথম ২ রাকাত), তখন মুক্তাদি কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, নাকি সঙে অন্য কোনো সূরাও পড়বে? ৪. জুমআর দিন মসজিদে ইমাম সাহেব, জুমআর ২ রাকাত ফরয নামাজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়তে বলে। এ সম্পর্কে কি কোন সহীহ হাদিস রয়েছে? জুমআর ২ রাকাত ফরয নামাজের আগে সুন্নাহ সম্মত সালাত পড়ার বিধান কি? ৫. আমি জেনেছি, ওজু শেষ করে কালিমা শাহাদাত আসমানের দিকে তাকিয়ে পড়তে হয় – এইটা কি সহিহ হাদিস সম্মত? নাকি শুধু কালিমা শাহাদাত পড়লেই হবে? ৭. আমাদের সমাজে দেখা যায়, কারো শরীরে পা লাগলে, সঙে সঙে তাকে হাত দিয়ে ছুঁয়ে সালাম করেন। এইটা কি কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত? এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় কি? ৮. আমাদের সমাজে তাবলীগ নামে একটি জামাআত রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট এলাকার মসজিদ থেকে বিভিন্ন এলাকার মসজিদে গিয়ে থাকেন। যার সময়সীমা ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লা ইত্যাদি। যার মাধ্যমে দেখা যাই, এখানে গিয়ে অনেকের মাঝে পরিবর্তন আসে। আবার তাবলিগের বইগুলোকে নিয়ে অনেক কথা শুনেছি, যা কিনা কোরআন ও সহিহ হাদিস সম্মত নয়! এখন আমার প্রশ্ন হল ৩ দিনের জামাআত অথবা ৪০ দিনের এক চিল্লায় গিয়ে এইসব বইগুলো থেকে তালিম করার সুন্নাহ সম্মত বিধান কি? স্যার এই সম্বন্ধে কি বলেছেন, জানালে খুব ই উপকার হয়।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ভাই, আপনি একসাথে ৮টি প্রশ্ন করেছেন। আগামীতে একসাথে দুইটির বেশী প্রশ্ন করবেন না। প্রশ্ন বেশী হলে উত্তর যথাযথভাবে দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। চারটি প্রশ্নের উত্তর দিলাম।বাকীগুলো আবার করবেন। ১।ইমামের সাথে রুকু পেলেই মুক্তদি রাকআত পেয়েছে বলে গণ্য হবে। তাসবীহ পরিমান শর্ত নয়। সকল আলেম ও ইমাম এই বিষয়ে একমত যে, রুকু পেলেই রাকআত পেয়েছে বলা ধরা হবে। বর্তমানে কিছু মানুষ না বুঝে বলছে সূরা ফাতিহা না পড়ে শুধু রুকু পেলে রাকআত পাওয়া হবে না । এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। এই বিষয়ে দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ০০৬৮ নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন। ২। আপনি তাশাহুদু ধীরে ধীরে পড়বেন যেন ইমামের সালাম ফিরানো পর্যন্ত পড়তে পারেন। আর সবগুলো পড়লেও নামাযেন কোন ক্ষতি হবে না। ৩। পড়লে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। অন্য কোন সূরা পড়বেন না। তবে কোন কিছু না পড়লেও নামায হবে বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। ৪। জ্বী, জুমুআর দিন ফরজ নামাযের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাত পড়া সহীহ হাদীস সম্মত । জুমুআর ফরজ নামাযের আগে সুন্নাত পড়ার বিষয়ে স্যার রহ. এর ইন্তেকালের পূর্বে একটি প্রশ্নের উত্তর তাঁর তত্ববধানে দেয়া হয়েছিল। সেটা এখন আপনার জন্য দিয়ে দিলাম। এখানে বিস্তারিত আলোচনা আছে। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতরে র্পূবে সুন্নাত সালাত আদায়রে জন্য বলছেনে। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى সালমান ফারসী রা. থকেে র্বণতি, তনিি বলনে, রাসূলূল্লাহ সা. বলছেনে, যে ব্যক্তি জুমুআর দনি ভালভাবে গোসল করে তলে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজদি)ে গমন করবে অতঃপর (মসজদি)ে কাউকে না ডঙিয়িে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দয়োর জন্য বরে হবে তখন চুপ করে তা শুনব,ে তার এক জুমুআ থকেে অপর জুমুআর মাঝরে সব গুনাহ মাফ করে দয়ো হব। ে সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নর্দিষ্টি করা হয় ন। ি আলমেগণ বলছেনে দুই রাকআত থকেে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়ব,ে যত বশেী পড়বে সওয়াব ততো বশেী হব। ে রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বভিন্নি সাহবী থকেে বভিন্নি সংখ্যা র্বণতি আছ। ে দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদ। ি চার রাকআতরে বষিয়ে নচিরে হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا. র্অথ: ( তাবঈে) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলনে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদরেকে জুমুআর র্পূবে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নর্দিশে দয়িছেনে। এরপর আলী রা. আমাদরেকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নর্দিশে দয়িছেনে। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটরি বষিয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলছেনে, وهذا سند صحيح لا علة فيه র্অথ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নইে।সলিসলিাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসরে আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম য,ে প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদশে দয়িছেনে। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম য,ে জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থকেে রাকআত সংখ্যা বষিয়ে কোন কছিু র্বণতি হয়ন। ি সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পার। ে একজন সাহবী থকেে চার রাকআত পড়ার নর্দিশে এসছেে তাই নঃিসন্দহেে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। জুমুআর পরে সুন্নত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানতি। সুতরাং জুমুআর পরে নামায পড়া সুন্নাত। আমাদরেকে সুন্নাতরে অনুস্বরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ 741
আসসালামু আলাইকুম, ১। ফরজ, সুন্নত, নফল যে কোন সালাতে সালাম ফিরানোর আগে আততায়হিয়িতু, দুরুদ, দোয়া মা সূরার সাথে আর কোনো দোয়া পড়া য়ায়? যদি অন্য দোয়া পড়া যায় তাহলে কি কি পড়া যাবে, দয়াকরে হাদিসসহ জানাবেন? ২। সালাতে সূরা ফাতেহার পরে অন্য কোন সূরা মিলানোর সময় যদি কোন আয়াত বাদ পড়ে বা উচ্চারনে সমস্যা হয় বা আয়াত ওলট পালাট হলে সালাত কি বাতিল হবে, না সাহুসিজদা দিলে হবে? একই ভুল যদি আততায়হিয়িতু, দুরুদ, দোয়া মা সূরার সময় হয় তাহলে কি করতে হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহামাতুল্লাহ। ১। দুআ মাসূরা অর্থ হলো কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআ। আপনি যে কোন দুআ মাসূরা অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ সালাতের মধ্যে সালামের পূর্বে পড়তে পারেন। একধিক দুআ মাসূরাও পড়তে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِى الصَّلاَةِ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِى السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ অর্থ: যখন তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে বসে সে যেন বলে, আত্যাহিয়্যাতু লিল্লাহি…. আবদুহু ও রসূলুহু অত:পর সে যা ইচ্ছা করবে তাই চাইবে। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৯২৪। এই হাদীস দ্বারা আমরা বুঝতে পারি আমাদের যা কিছু প্রয়োজন আমরা তা আল্লাহর কাছে এই সময় চাইতে পারবে। আমরা যে দুআ মাসূরাটি সাধারণত সালাতের মধ্যে পড়ি তা ছাড়া আরো অনেক দুআ রাসূলুল্লাহ সা. এই সময়ে পড়ার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো, (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৫২) اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ২। সাহু সিজদা দিলেই হবে।

প্রশ্নঃ 736
১। চলার পথে(রাস্তায়) কোন প্রানি (গরু/ছাগল..) বাঁধা থাকলে তার দড়ি ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে কোন নিষেধ আছে কি? ২। জামাতের সালাতে কোন রাকাত/একরাকাত না পেলে ইমাম ছালাম ফিরানোর পর সে রাকাত পূর্ন করতে হয়, কিন্তু কেউ যদি মনের ভুলে ইমামের সাথে দুই পাশেই ছালাম ফিরিয়ে ফেলে এবং সাথে সাথে বা কিছু সময় পরে মনে পড়ে যে তার এ রাকাত পূর্ন করা হয়নি, তাহলে কি পুরো সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে? না আগের সালাতই হয়ে যাবে?
31 Dec 2025

১। না, এ ব্যাপারে হাদীসে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। ২। সালাম ফিরিয়ে ফেললেও কোন সমস্যা নেই। কারো সাথে কথা বলার আগ পর্যন্ত তার যদি ভুলের কথা মনে আসে তাহরে দাঁড়িয়ে সালাত পূর্ণ করবে। আর যদি কথা বলে ফেলে তাহলে পুরো সালাত পূনরায় আদায় করতে হবে।

প্রশ্নঃ 733
Assalamu Alaikum, বিতির নামাজ সম্পরকে জানতে চাচ্ছিলাম, রাসুল (স) বলেন : তোমরা বিতিরের নামাজ মাগরিবের মত পড় না বরং অবিচ্ছিন্ন ভাবে পড়, এর মানে কি ২ রাকাত পড়ার পর আত্তাহিয়্যাতু না পড়েই দাড়িয়ে গিয়ে ৩ রাকাত শুরু করা? আর দুয়া কুনুত রুকুর আগে নাকি পরে পড়ব? বিতির নামাজ কি ১ রাকাত পড়া যায়?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। না, মাগরিবের মত পড় না এর অর্থ হলো তিন রাকআত পড়ো না এর সাথে আরো দুই বা ততোধিক রাকআত পড়ো। অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সাথে বিতর পড়। দুআ কুনুত রুকুর আগে পড়বেন। বিতর নামায রাসূলুল্লাহ সা. কখনো শুধু এক রাকআত পড়েন নি। তাহা্জ্জুদ পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে একরাকআত দিয়ে পুরা নামাযকে বিতর বানিয়েছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন, আমাদের দেয়া ১১৭ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 732
ফজর নামায এর পর নাকি মুনাজাত করতে নাই? আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে নাই….কিন্তু আমরা তো জানি দিবার মালিক আল্লাহ যা চাওয়ার তার কাছেই চাইব তাহলে নামায শেষে মুনাজাতে চাওয়া যাবেনা কেন? যদি তাই হয় তাহলে কোখন ও কিভাবে চাইব?
31 Dec 2025

আপনি যা লিখেছেন তা ঠিক নয়। আপনি ফজরসহ সব নামাযের পরে এবং যে কোন সময় আল্লাহর কাছে দুআ, মুনাজাত করতে পারেন। ফরজ নামাযের পর দুআ কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সময় বলে হাদীসে এসেছে।

প্রশ্নঃ 729
Assalamu Alaikum Dear Huzur, which Salah are better According to Sunnah, Tarabi or Tahajjad? According to my knowledge after midnight Allah come down in lower Sky (Asman) and ask Human being whatever you want? Anybody want Anything? Usually Tahajjad Salah time after midnight (Before Salah of Fazr). I like Tahajjad Salah more than Tarabi, please give me correct knowledge according to Sunnah to perform better Amol and clarify according Sunnah which is better Salah, Tarabi or Tahajjad? Sincerely yours Abdur Rahim/Natore/01712669027
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নিচের হাদীসটি লক্ষ করুন: عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ يُصَلِّي الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ وَيُصَلِّي الرَّجُلُ فَيُصَلِّي بِصَلاَتِهِ الرَّهْطُ فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي أَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلاَءِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ قَارِئِهِمْ قَالَ عُمَرُ نِعْمَ الْبِدْعَةُ هَذِهِ وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ ، وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَه অর্থ: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী থেকে বর্ণিত তিন বলেন, আমি উমার রা. এর সাথে রমাযানের এক রাতে মসজিদে গেলাম। তখন মানুষেরা বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করছিল। উমার রা. বললেন, আমি মনে করছি যে, যদি আমি এদেরকে কোন একজন কারীর (কুরআন তেলাওয়াতকারী) পিছনে একত্র করে দিই তাহলে খুব ভাল হবে। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এবং উবাই ইবনে কাবকে ইমাম বানিয়ে মানুষদেরকে তার পিছনে একত্র কর দিলেন (জামাত করে দিলেন)। এরপর আরেক দিন রাত্রে আমি তার সাথে বের হলাম, তখন মানুষেরা তাদের ইমামের সাথে জামাাতে সালাত আদায় করছিল। তখন (তা দেখে) উমার রা. বললেন, কতই না সুন্দর ব্যবস্থা তবে যারা এখন ঘুমাচ্ছে তারা এখন যারা সালাত পড়ছে তাদের থেকে উত্তম। তিনি বলতে চেয়েছেন, শেষ রাত্রে যারা সালাত আদায় করে (এখন ঘুমিয়ে) তাদের কথা। মানুষেরা সাধারনত প্রথম রাত্রে সালাত আদায় করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০১০। রমাজান মাসে রাত্রে সালাত আদায় করা বিশেষ সওয়াবের কাজ। আর প্রথম রাত্রী থেকে শেষ রাত্রী উত্তম, আমরা হাদীস থেকে সেটা জানতে পারলাম। প্রথম রাত্রে যেটা আদায় করা হয় পরিভাষায় তাকে তারাবীহ বলে আর শেষ রাত্রে যা আদায় করা হয় তাকে তাহাজ্জুদ বলে। রাতের সালাত একা একা শেষ রাতে আদায় করায় অধিক সওয়াবের কাজ।

প্রশ্নঃ 724
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. জামাতের সালাতে কোন কারনে কাতার থেকে কেও চলে গেলে ফাকা জায়গা কিভাবে পুরন করতে হবে? ডানে বা বায়ের মুক্তাদি ডানে বা বায়ে সরে আসবে না কি ফাকাই থাকবে, ন্নাহর আলোকে জানতে চাই। ২. ইদানিং facebook এ একটি পাথরের মুরতি দেখা যায় যেখানে লিখা আছে তা লুত (আ) এর স্ত্রী, যে কিনা পাথর হয়ে গিয়েছিল, ঘটনাতা কি সাত্যি? যাযাকাল্লাহু খাইর।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, فإذا قمتم إلى الصلاة فاعدلوا صفوفكم وسدوا الفرج অর্থ: যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াবে তখন কাতার সোজা করবে এবং ফাঁক জায়গা পূর্ণ করো। এই হাদীসের ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেছেন, যখন কাতারে থেকে কোন লোক বের হয়ে যাবে তখন অন্যরা তা পূর্ণ করবে। ফাঁকা রাখবে না। ২। এই সব বাজে কথা।

প্রশ্নঃ 720
আস্সালামু আলাইকুম। জনাব,আমি সৌদি আরবে থাকি, আমার রুম থেকে কর্মস্থলের দুরুত্ব ৭০ কিঃ মিঃ। আমাকে প্রত্যেক দিন সকালে যেতে হয় এবং সন্ধায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসতে হয়। আমি কি কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় নামাজ কসর করবো?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কসর আপনি তখনই করতে পারবেন যখন আপনি আধুনিক হিসাব অনুযায়ী ৭৮ কি, মি দূরে সফর করবেন। আপনি তো ৭০ কি. মি. দূরে যান । সুতরাং এখানে কসর করতে পারবেন না।

প্রশ্নঃ 719
আসস্লামুয়ালিকুম… আমি আনওয়ার হুসাইন চট্রগ্রাম থেকে … আমার প্রশ্ন হল… আমার অফিস ছুটি হয় ৪:৩০, অফিসের গাড়ীতে করে বাসায় যেতে মাগরিবের সময় হয়ে যায়, এখন আমি যদি ৪:২০এ আসরের নামাজ পড়ি, আমার নামাজ হবে কি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বী, আপনি এমন পরিস্থিতিতে ৪.২০ মিনিটে পড়তে পারবেন। গাড়ীতে না পড়ে পড়ে যাওয়ায় আপনার জন্য হুকুম। হাদীস অনুসারে এ সময়ে অধিকাংশ ফকীহর নিকট আসরেরর নামাযের সময় হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ 712
আসসালামুয়ালাইকুম, ১. যদি বেতের নামাজে দুয়া কুনুত ভুলে না পড়া হয় তাহলে কী সাহু সিজদা দিতে হবে? সাহু সেজদা ছাড়া পরে থাকলে কি নামাজ আবার পরতে হবে না কি নামাজ হয়ে যাবে? ২. তারাবি নামাজ যদি এশার পর ৮ রাকাত এবং সেহেরীর আগে ৪,৬,৮ এবং ১ রাকাত বেতের নামাজ পড়া হয় তাহলে কি পুরোটা তারাবিহ হিসাবে গন্য হবে?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। যদি কুনুত না পড়েন আর সময় থাকে নতুন করে সালাত আদায় করার তাহলে নতুন করে আদায় করবেন। আপনি তারাবীর যে নিয়ম বলেছেন সেভাবে আদায় করলেও হবে। কোন সমস্যা নেই। বরং শেষ রাতে এবং একা একা আদায় করাকেই হাদীসে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ 708
আসসালামু আলাইকুম, ১। আমি চার রাকআত তাহাজ্জুদ পড়ি আর এক রাকআত বিতর পড়ি এটা হবে কি? ২। আসসালামু আলাইকুম, ভাই্, জামায়াতে যেতে দেরি হওয়ার কারনে আমার প্রথম রাকায়াত ছুটে যায় । আমি দ্বিতীয় রাকায়াত থেকে নামাজ সুরু করি, ২ রাকায়াত পর ইমাম সাহেব আত্যাহিয়াতু পরার জন্য বসেন,এখন কি আমিও আত্যাহিয়াতু পরব? আমার তো এক রাকাত হয়েছে, প্রথম রাকায়াত ছুটে গাছে। এমনি ভাবে ইমাম সাহেব ৪ রাকায়াত পর যখন আত্যাহিয়াতু পরবে থকন ত আমার তিন রাকায়াত হবে তখনও কি আমি আত্যাহিয়াতু পড়ব?যদি আমি উপরের দুই জায়গাতেই পড়ি তাহলে ইমাম সাহেব এর সালাম ফিরানোর পর আমি বাকি এক রাকায়াত পরার পর ও কি আত্যাহিয়াতু পড়ব? তাহলে কিন্তু আমার আত্তাহিয়াতু তিনবার হয়ে যাচ্ছে … আর ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি যখন এক রাকায়াত পড়ব তখন কি সুধু সূরা ফাতিহা পড়ব নাকি ফাতিহার সাথে আরও একটি সূরা পড়ব? বিসয় টি আমাকে জানাবেন খুবই দরকার। ৩। বুখারি শরীফ কোন পাবলিকেশন এরটা কিনতে পাড়ি?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। জ্বি, আপনি চার রাকআত তা্হাজ্জুদ আর এক রাকআত বিতর পড়তে পারেন। নামাযে যোগ দেয়ার পর ইমাম সাহেব যা যা করবে আপনি তাই তাই করবেন। আত্তহিয়্যাতু তিনবার কেন চারবা হলেও দোষ নেই। শেষ রাকআতে আপনি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বুখারী শরীফ কিনবেন।

প্রশ্নঃ 707
আসছালামু আঁলাইকুম। আমাদের দেশের অনেক আলেমই মহিলাদের জামাআতে সলাত আদায়ে নিরুতসাহিত করেন। আমি যতটুকু জানি বিষয়টা ঠিক নয়। এই প্রথম আমাদের গ্রামে ঈদের জামাআতে মহিলাদেরও সলাত আদায়ের ব্যবস্থা করছি। বিষয়টি যদি খোলাসা করেন? তাহলে ভালো হয়।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে আসা দায়িত্ব নয় বরং বাড়িতে সালাত আদায় করায় তাদের জন্য উত্তম। তবে তাদের জন্য সুযোগ আছে যদি মসজিদে ব্যবস্থা থাকে মহিলাদের সালাতের। হাদীসে রাসূলুল্লা সা. বলেছেন, لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ অর্খ: তোমরা তোমাদের মহিলাদের মসজিদে যেতে বাধা দিও না, তবে তাদের বাড়ি তাদের জন্য উত্তম। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫৬৭; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ৫৪৭১। হাদীসটি সহীহ। শায়খ আলবান ও শায়খ শুয়াইব আরনাউতসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।হযরত আয়েশার রা.বলেন, لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِى إِسْرَائِيلَ অর্থ: যদি রাসূলুল্লা সা. মহিলাদের বর্তমান কাজকর্ম দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন যেমন ভাবে বনি ইসরাইলের মেয়েদের নিষেধ করা হয়েছিল। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১০২৭; সুনানু আবু দাউদ,হাদীস নং ৫৬৯; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮৬৯। ভাই ্এর বিপরীতে এখটি হাদীসও নেই যেখানে মহিলাদের জামাতে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাহলে আপনিই বলুন, আপনি উৎসাহিত করবেন না নিরুৎসাাহিত করবেন? তবে আমরা কিছুই করব না। হাদীসে যেমন আছে তেমন করব। আসলে বাধা দেব না তবে বলবো বাড়িতে পড়াই উত্তম। ইদগাহে যেতে সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. মহিলাদের উৎসাহ দিয়েছেন। সুতরাং পর্দাসহ ব্যবস্থা থাকলে যেতে পারে।

প্রশ্নঃ 703
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আমার প্রশ্ন হলোঃ- ১. তাশাহুদে শাহাদাত আঙ্গুল উঠানোর সঠিক নিয়ম কি? বিশেষ করে ইশারা ও নাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি কি? আমি হাদিসে, দোআ করা ও তা নাড়ানো এমনটা শুনেছিলাম। এবং স্যার এর একটি ভিডিও লেকচারে, উনি বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরার এক পর্যায়ে এইটার কথা বলেছিলেন এবং উনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুলেন বলেছিলেন। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ২. সাহু সেজদা করার সঠিক নিয়ম কি? ▶ আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ডান দিকে ১বার সালাম ফিরিয়ে ২টি সেজদা করে পুনঃরায় পুরু তাশাহুদ পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরানো নাকি – ▶ আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরিফ, দোআ মাসুরা সম্পূর্ণ পড়ে ২টি সেজদা করে তারপর ডানে বামে সালাম ফিরানো? কোনটা সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত? ৩. দুয়া কুনুত এবং বিতর সালাত ৩ রাকাত পড়ার সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি কোনটি? ▶ ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে তারপর ১ রাকাত পড়া? এইক্ষেত্রে প্রথম ২ রাকাত কি নফল সালাত এবং শেষ ১ রাকাত বিতরের নিয়ত করে পড়তে হবে? ▶ মাগরিবের মতন করে ৩ রাকাত পড়া? এইক্ষেত্রে একটা হাদিসে, বিতরকে মাগরিবের মতন করে পড়তে মানা করা হয়েছে শুনেছিলাম। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ▶ কোথাও না বসে একটানা ৩ রাকাত পড়া। অর্থ্যাৎ, ২য় রাকাতে না বসে, শুধুমাত্র শেষ রাকাতে বসা। কোনটা সঠিক ও সুন্নাহ সম্মত? ৪. ৩য় রাকাতে দুয়া কুনুতের আগে যে তাকবীর দেয়া হয়, আমি শুনেছি এইটা সঠিক নয় – বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please ৫. দুয়া কুনুত রুকুর আগে বা পড়ে কখন পড়া উত্তম? এইক্ষেত্রে রুকুর আগে পড়লে হাত উঠিয়ে মুনাজাতের মতন করে পড়তে হবে নাকি হাত বেঁধে পড়তে হবে? এবং রুকুর পড়ে পড়লে কিভাবে পড়বো এবং দুয়া শেষে মুখে হাত মাসেহ করার বিধান কি? এই ছিল আমার প্রশ্ন। অনুগ্রহ করে প্রশ্নানুসারে, স্যার এর দেয়া উত্তরগুলা আমাকে বললে খুব-ই উপকার হয়। স্যার এর সঙে দেখা করার ও অনেক কিছু জানার অনেক আগ্রহ ছিল। আল্লাহ্ তাআলা উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং আপনাদেরকেও উত্তম বিনিময় দান করুন। আমিন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আঙ্গুল দ্বারা ইশারার বিষয়ে স্যার রহ. এর তত্বাবধানে দেয়া একটি প্রশ্নের উত্তর নিচে দিচ্ছি। এখান থেকে আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। এটা আমাদের দেয়া ২৪৯ নং প্রশ্নের উত্তর। সাহাবী ওয়াইল ইবনে হুযর বলেন, عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ قَدْ حَلَّقَ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى ، وَرَفَعَ الَّتِي تَلِيهِمَا ، يَدْعُو بِهَا فِي التَّشَهُّدِ আমি রাসূলূল্লাহ সা. কে দেখেছি, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি এক সাথে করে গোলাকার করলেন এবং ঐ দুই আঙ্গুলির সাথে যুক্ত আঙ্গুলিটি (শাহাদাৎ আঙ্গুলি) উচুঁ করলেন এবং তা দ্বারা তাশাহুদের মধ্যে দোয়া করলেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৯১২। হাদীসটি সহীহ। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে এমন অর্থের অনেক হাদীস বহু সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে। কোন কোন হাদীসে আঙ্গুল নাড়ানো বা নাড়ানোর কথা আছে। এর মধ্যে না নাড়ানোর হাদীসটি সহীহ বলে মনে হয়। হাদীসটি আছে সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৯৮৯, সুনানু নাসায়ী,হাদীস নং ১২৭০্ । মোট কথা ইশারা করার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত, তবে কখন থেকে ইশারা শুরু করবে, কিভাবে করবে সে ব্যাপারে সর্বাক্যমতে সহীহ কোন দলীল পাওয়া যায় না, এ কারণে ইশারার ধরন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। সুতরাং যেভাবেই করুন আপনার ইশারার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইশারার একটি সুন্নাত পদ্ধতি পুরো বৈঠকে শাহাদাৎ আঙ্গুলি উচুঁ করে রেখে আঙ্গুল না নাড়িয়ে ইশারা করা। আর আপনি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ নাম রাখতে পানের কোন সমস্যা নেই। সাজদায়ে সাহু সালামের আগে পরে দুই সময়ই দেয়া যায়। যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরন করলেই সুন্নাত আদায় হবে। উভয় পদ্ধতির হাদীসই সুনানু তিরমিযীতে আছে। তবে একদিকে সালাম ফেরানোর চেয়ে দু্ দিকে ফিরানো উত্তম। আর একদিকের কথাও হাদীসে আছে। স্যার এমনই বলতেন। বিতর সালাত নিয়ে আপনি যে সব প্রশ্ন করেছেন ইনশাআল্লাহ তার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পাবেন স্যার রহ. এর ইন্তকাল পূর্ব তার তত্বাবধানে দেয়া ১০৩ এবং ১৫৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখলে। যেখানে অনেক বিষয় তিনি নিজ হাতে লিখেছেন। যেমন, বিতর কে মাগরিবের মত করো না আর অর্থ হলো মাগরিবের মত তিন রাকআত করো না বরং আরো কিছু রাকআত মিলিয়ে পাঁচ বা আরো বেশী করো। সবই পাবেন এই দুটি প্রশ্নের উত্তর দেখলে। তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। আর আমরা প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে সবসময় স্যারের চিন্তাধারাকে মেনে চলব ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 701
আল্লাহর ওয়াস্তে ফজর এর ২ রাকাত ফরজ নামায পরতেছি আউভাবে মনে মনেভাবে নিওত করলে কি বিদাত হবে?
31 Dec 2025

না, বিদআত হবে না। এটাই নিয়ম মনে মনে থাকবে যে আমি অমুক ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করছি।

প্রশ্নঃ 697
প্রিয় এডমিন ভাই, আমি স্যারের অনেক ভক্ত। উনায় বিদায় সত্যি অনেক বেদনাদায়ক! আল্লাহ্ আজওয়াজাল উনাকে বেহেস্ত নসিব করুন! আমিন। আমার একটা প্রশ্ন ছিলো ভাই এডমিন। আমাদের প্রায় সকল মসজিদেই তারাবীহ সলাত দ্রুত পড়ায়। বিশেষ করে খতমে তারাবীহ। আর সুরা তারাবীহ কেমনে পড়ায় জানি না। তবে মনে হয় সুরা তারাবীহ খতমে তারাবীহর থেকে একটু স্লো হতে পারে। শায়েখের কথায় বুঝা গেলো খতমে তারাবীহ পড়তে গিয়ে সওয়াবের আশায় আমরা সাধারণত গুনাহই করছি। এখন কথা হচ্ছে, এখেত্রে আমার করনীয় কি? আমি ফাসেকি করতে চাচ্ছি না। আমি সুরা জামাত পড়ব নাকি বাড়িতে সলাত পড়ব। যদি বাড়িতে পড়ি তাহলে সাধারনত যদি প্রতি রাকাতে আমি ৫ মিনিট সময়ও নিই( যেহেতু আমার বড় বড় সুরাগুলো এখনও মুখস্ত নেই) ১০০ মিনিট বা প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা সময় বা ২ ঘন্টায় আমার ২০ রাকাত সলাত পড়তে সময় লাগবে। আমার জন্য বেস্ট অপশন কোনটা? ১! সুরা তারাবীহ জামাতে আদায় করা। ২! বাড়িতে নিজে সলাত আদায় করা ধীরেসুস্থে। দয়া করে জানালে খুসি হবো। জাজাকাল্লাহ।
31 Dec 2025

আপনার মত অনেকেই এমন সালাতে তৃপ্তি পায় না। আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে আপনার বাড়িতে সালাত আদায় করাই উত্তম। আপনি বাড়িতেই পড়ুন। হাদীসে একাকী তারাবীহ সালাত আদায়কেই উত্তম বলা হয়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময় কম থাকার কারনে বিস্তারিত বলতে পারলাম না বলে দু:খিত।

প্রশ্নঃ 696
কেউ নফল বা সুন্নত নামাজ পড়তে থাকলে ঐ সময় তার পিছনে জামাতে ফরজ পড়া যাবে কিনা?
31 Dec 2025

বিষয়টি নিয়ে আলেমগনের মাঝে মতভেদ আছে। তবে আমাদের দেশে পড়া না যাওয়ার মতটির উপর আমল করা হয়।

প্রশ্নঃ 694
Assalamu alikum Shaik amar ammi khub mota.mati te bose namaz porle khub komor jontrona hoy.uni ki chair a bose namaz porte parbe?
31 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নামাযে যখন দাঁড়ানোর সময় তখন তিনি দাড়াবেন। আর বসার সময় চেয়ারে বসে ইশারায় রুকু সাজদাহ দিবেন।

প্রশ্নঃ 677
আসসালামু আলাইকুম। আমার জানার বিষয় হলো ১. জোহরের নামাজে আমি ইমাম সাহেবের সাথে শেষ দুরাকাত পেলাম। তা হলে আমি কিভাবে নামাজ পড়ব? আমার কী সূরা ফাতিহার সাথে কোন সূরা পড়তে হবে? ২. আমি আসরের নামাজে ইমাম সাহেবের সাথে ২য় রাকাতে মরীক হলাম, আমি যে রাকাত(১ম) নামাজ পাইনি তা কিভাবে পড়ব? জাযাকাল্লাহ, মো: আহ্সান হাবীব হাসান
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম।

১। জ্বি, আপনি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা পড়বেন।

২। আপনি ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে একরাকআত আদায় করবেন। সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাবেন।

প্রশ্নঃ 672
নামাযের সিজদারত অবস্থায় সুবহানা রাব্বিয়াল আলা ৩ বার পড়ার পরে, বাংলায় দোআ করা যাবে কিনা দয়া করে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানাবেন
30 Dec 2025

আপনি বাংলায় যে দুআ করবেন তার অর্থ সম্বলিত কোন মাসনুন দুআ শিখে নিন। মাসনুন দুআ পাঠ করবেন। তবে যতদিন শিখতে না পারবেন ততদিন মাসনুন দুআর অর্থ সম্বলিত কোন বাংলা দুআ নফল নামাযের সাজদায়পাঠ করতে পারেন। এটাই শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. এর অভিমত। এর বাইরে ভিন্নমতও আছে।

প্রশ্নঃ 668
যখন ইকামাত দেওয়া হয়, তখন আমাদের করণীয় কি?
30 Dec 2025

ইকামতের জবাব দেয়া।

প্রশ্নঃ 667
যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে এক ওয়াক্ত ছলাত ছেড়ে দিল তাকে কি কাফের বলা যাবে? যেমন সে চার ওয়াক্ত পড়ে আর ইচ্ছা করে বা কুপৃবৃত্তির কারণে বা কষ্টের কারণে অর্থাৎ শরীয়তী কারণ ছাড়াই এক ওয়াক্ত ছলাত পড়ে না। যারা শুধু জুমুআর ছলাত আদায় করে, আর মাঝে মাঝে ছলাত আদায় করে যেমন রমজান মাস আসলে পড়ে, পরে আর পড়ে না, তাকে কি কাফের বলা যাবে? আসলে ছলাত ত্যাগকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে কাফির বলার মূলনীতি কি? কাফির হলে কি সে ইসলাম খেকে বেরিয়ে গেল? এরূপ ব্যক্তি আবার কিভাবে ইসলামে প্রবেশ করবে?
30 Dec 2025

সালাত তরক করলেই কাউকে কাফের বলা যাবে না। কখন মানুষকে কাফের বলা যায় জানতে পড়ুন, ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. রচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা বইয়ের ৫১৭-৫২১ পৃষ্ঠা।

প্রশ্নঃ 660
ফযরের সুন্নাত যদি কাযা হয়ে যায় তাহলে কি সেই কাযা আদায় করতে হবে?
30 Dec 2025

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেনঃ من لم يصل ركعتي الفجر فليصلهما بعد ما تطلع الشمس যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের সুন্নাত পড়েনি, সে যেন তা সূর্য উদয়ের পর আদায় করে। সুনানু তিরমিযি, হাদীস নং ৪২৩ হাদীসটি সহীহ।সুতরাং সুন্নত হলো সূর্য উদয়ের পরে পড়া। তবে আগে পড়লেও হয়ে যাবে বলে অন্য একটি হাদীস থেকে জানা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত এর সালাত সংক্রান্ত অধ্যায়।

প্রশ্নঃ 657
ইকামাতে হাইআলাল সলা বলল সময় নামাজে দাডানো কী সুনন্দা সম্মত?
30 Dec 2025

ইকামতের সময় কখন দাঁড়ানো সুন্নত তা আলোচনা করা হলো: ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরুপ: .১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে। .২عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল। النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে। عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 654
সময় কম থাকায় যোহর সালাতের ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ পরের ২ রাকাতের পরে পরে ২ রাকাত পরলে জোহরের আগের ৪ রাকাত আদায় হবে কিনা?
30 Dec 2025

আপনি এভাবে পড়তে পারেন, কোন সমস্যা নেই। তবে ঐ চার রাকআত আদায় করতে চাইলে পরে চার রাকআত একবারে আদায় করতে হবে।

প্রশ্নঃ 642
কাযা নামাযের বিস্তারিত বিধিবিধান জানতে চাই
30 Dec 2025

নামায কাজা কম হোক বেশী হোক আদায় করতে হবে। শুধু ফরজগুলো আদায় করতে হবে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে আমাদের দেয়া ২৪৭নং প্রশ্নের উত্তর দেখুন।

প্রশ্নঃ 638
সালাতে প্রথম রাকাতে কি সূরা নাস পড়া যাবে না? অর্থাৎ শেষের দিকের সূরা কি আগে পড়া যায় না? ধরুন, দুই রাকাত সালাত আদায় করছি। আর এই দুই রাকাতে সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়বো। আর এই ক্ষেত্রে প্রথম রাকাতে সূরা ফালাক ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা নাস পড়তে হবে। ব্যাপারটা কি এই রকম। সূরা মিলানোর ব্যাপারে বিস্তারিত দলিলসহ জানাবেন।
30 Dec 2025

প্রথম রাকআতে সূরা নাস পড়লে নামাযের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। ফকীহগণ মাকরুহ বলেছেন। তবে নি:সন্দেহ হয়ে যাবে । কুরআনের যে কোন সূরা পড়লেই নামায হবে। সূরা মিলানোর জন্য আলাদা কোন দলীল প্রমান লাগবে না।

প্রশ্নঃ 635
ফরজ নামাজের সেজদায় রাব্বানা আতিনা পড়া যাবে কি?
30 Dec 2025

সহীহ হাদীসে সাজদাতে দুআ করার কথা বলা হয়েছে। সালাত নির্দিষ্ট করা হয়নি ফরজ বা সুন্নত। সুতরাং কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআ পড়া যাবে ।

প্রশ্নঃ 634
Should we pray tahajjud for every day or Should we give break 1/2 days.
30 Dec 2025

আপনি যদি প্রতিদিন পড়তে পারেন তাহলে তা নিঃসন্দেহ ভাল। ২/১ দিন পর পরও পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 624
ফরয সালাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদির কোন ভুল হয়, যেমন- সে অমনোযোগী হওয়ার কারনে সূরা ফাতিহা পড়ল না অথবা রুকুর তাসবিহ কিংবা সিজদার তাসবিহ একবার ও বলল না, এই ক্ষেত্রে কি তার সালাত বাতিল বলে গণ্য হবে? তাকে কি আবার নতুন করে সালাত আদায় করতে হবে?
30 Dec 2025

আপনি যে কারণগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোর জন্য নতুন করে সালাত আদায় করা লাগবে না।

প্রশ্নঃ 623
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, মুহতারাম আমার বাসায় আমার বাবার ছবি টাঙানো আছে এবং কিছু মাটির খেলনা আছে, এখন আমার বাসায় কি নামায আদায় করা যাবে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ছবি টানিয়ে রাখা বা মাটির পুতুল ঘরে রাখা মারাত্নক গুনাহের কাজ। তবে নামায হবে।

প্রশ্নঃ 616
sir Assalamu Alikum. I am student of Engineering. Sometimes it happens that i lose my concentration on my work, study though it is time to do work but then i usually go to internet and wast my time. in this situation can i offer Nafal Salah and in Sizdha, can i pray to Allah (swt) to prevent me from Saetan and guide me to concentrate in my work? jazāk Allāhu khayran.from Dhaka.
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অফিস সময়ে অফিসের কাজ করাই আপনার দায়িত্ব। অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে অন্য কিছু করা আপনার জন্য জায়েজ নেই। নফল ইবাদতের মাধ্যমে এই গুনাহ মাফ হবে না।

প্রশ্নঃ 611
সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের সময় যেখানে চার আলিফ, তিন আলিফ, দুই আলিফ টান সেখানে যদি আমি শুধু এক আলিফ টান দিই বা একদম টান না দিয়ে পড়ি তাহলে কি ভুল হবে? টান কম-বেশি হওয়ার দরুন কি অর্থের বিকৃতি হতে পারে? এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই?
30 Dec 2025

একেবারে টান না দিলে অবশ্যই ভুল হবে। টান দেওয়া বা না দেওয়ার কারনে অর্থের বিকৃতি হয়। তবে কম-বেশী দেয়ার কারণে ভুল হবে না।

প্রশ্নঃ 605
আসসালামুয়ালাইকুম, সালাতের জামাত শুরু হয়ে জাবার পরে গিয়ে জামাতের দুই রাকাত পেলাম। এখন বাকি দুই রাকাতে কি সুধু সুরা ফাতিহা দিয়ে আদাই করবো নাকি সুরা ফাতিহা এর সাথে অন্য সুরা মিলিয়ে আদাই করবো। ধন্যবাদ।
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। সূরা ফাতিহাসহ অন্য সূরা পড়বেন।

প্রশ্নঃ 604
bus এর মাঝে থাকার সময় নামায কাযা হলে কি ইশার সাথে আসর, মাগরিব কসর হিসেবে পড়তে হবে?
30 Dec 2025

আসসালামুয়ালাইকুম, সালাতের জামাত শুরু হয়ে জাবার পরে গিয়ে জামাতের দুই রাকাত পেলাম। এখন বাকি দুই রাকাতে কি সুধু সুরা ফাতিহা দিয়ে আদাই করবো নাকি সুরা ফাতিহা এর সাথে অন্য সুরা মিলিয়ে আদাই করবো। ধন্যবাদ

প্রশ্নঃ 596
আসসালামুয়ালাইকুম, মুহতারাম আমরা সবাই জানি ফরয নামায ১৭ রাকাত এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে সুন্নাত নামায ৫ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত এবং প্রতি ওয়াক্তেই কি সুন্নাত নামায আছে?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ, প্রতি ওয়াক্ততেই সুন্নাত নামায আছে। যেমন, ফজরের নামাযে ফরজের আগে দুই রাকআত, যুহরের আগে চার বা দুই পরে দুই ইত্যাদি। এগুলোর কিছু অপেক্ষাকৃত বেশী গুরুত্বপূর্ণ আবার কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি স্থানীয় কোন আলেম থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।

প্রশ্নঃ 594
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, যদি কোনো অসুস্থ মানুষ মাটিতে বসে নামাজ পড়তে চান তাহলে ইশারায় সিজদা করতে হলে হাত কোথায় রাখতে হবে? মাটিতে নাকি হাটুর উপর?
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ইশারায় সাজদা দেয়ার সময় হাত হাঁটুর উপর রাখবেন।

প্রশ্নঃ 585
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ১. ওজু করার মাঝা মাঝি / অজু শেষ করার আগে যদি বায়ু নির্গত হয় তাহলে কি আবার প্রথম থেকে অজু করতে হবে? ০২. বর্তমানে আমরা নামাজ পড়তে মুখে নিয়াত উচ্চারণ করিনা কিন্তু যদি আমি ইমাম হয়ে নামাজ পরতে চাঁই তাহলে কিভাবে নিয়াত করবো?
30 Dec 2025

হ্যাঁ, প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ইমাম হয়ে নামায পড়ালে মনে মনে এটা রাখবেন যে, আপনি ইমাম।

প্রশ্নঃ 579
ফরজ সালাতের পর ঈমাম সাহেবের সাথে সম্বলিত মুনাজাত করা যাবে কী?
30 Dec 2025

এ বিষয়ে দলীল-প্রমাণসহ আমরা আমাদের দেয়া ২৯ নং প্রশ্নের উত্তরে আলোচনা করেছি। আপনি দয়া করে সেটা দেখুন। তবে সংক্ষেপে বলি হাদীসে এমন কোন প্রমান নেই যে, সাহাবীরা ফরজ নামাযের পরে সম্মিলিত মুনাজাত করেছেন।

প্রশ্নঃ 578
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমার একটা প্রশ্ন আছে। প্রশ্নটি নিম্ন রূপ আমি জুম্মার সালাত আদায় করার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদ গামী হয়েছি। এখন আমি একটি হিন্দু এলাকার মধ্য দিয়ে সেই মসজিদের দিকে রওনা হয়েছি। এখন পথিমধ্যে দেখি যে কিছু মানুষ রাস্তার পাশের একটি চাপকলে কিছু একটা করছে। তাদের মধ্যে একটি অল্পবয়সী ছেলে (১০-১৩ বছর) বালতিতে পানি তুলে গোসল করছে। এখন আমি বেশ দূর থেকে দেখছি যে, সে যখনি পানি মাথায় বা শরীরে ডালছে, তখনি কিছু পানি এসে রাস্তায় পড়ছে। এখন আমি যখন তাদের অতিক্রম করা শুরু করলাম তখনি আমার মনে হলো কিছু পানি ছিটে আমার গায়ে এসে পড়েছে। আমি স্বাভাবিক ভাবে হেটে মসজিদে যেয়ে সালাত আদায় করে আসলাম। কিন্তু সে ঘটনার পর থেকে আমার মনে সন্দেহ কাজ করছে যে, ওই পানি (ছিটে আসা পানি ) আমার কাপড়ে লেগে আমার কাপড়কে না পাক করে দিল কিনা? আর ওই অবস্থায় নামাজ আদায় করাতে, আমার নামাজ ঠিক ভাবে হলো কিনা? এখন স্যার, আমাকে এই বিষয় সম্পর্কে একটু জানাবেন। আল্লাহ হাফেজ
30 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার নামায হয়ে গেছে। গোসলের পানি নাপাক নয়। গোসলের পানি দিয়ে অন্য কেউ অযু-গোসল করতে পারবে কিন তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে গোসলের পানি কারো গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কোন সমস্যা নেই। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।

প্রশ্নঃ 569
আস্ সালামু আলাইকুম, আমার একটি প্রশ্ন আছে দয়াকরে উত্তর দিবেন। প্রশ্ন: নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ্র কাছে সাহায্য চাওয়া ভাল, নাকি ইজতেমার মোনাজাতে অংশ নেওয়া ভাল। আর যদি এমন হয় যে আমার কোনো কাছের লোক আমাকে ডাকলো তাকে কোনো কাজে সহযোগিতা করার জন্য। তখন আমার জন্য কোনটা করা ঠিক হবে, ১। ইজতেমার মোনাজাতে যাওয়া ২। খুব কাছের লোকটার সাথে যেয়ে তাকে সহযোগিতা করা
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম। কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামায এবং সবরের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে বলেছেন। সুতরাং নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়াই আপনার জন্য উত্তম। মুনজাতে অংশগ্রহনের জন্য কোথাও যাওয়া সাহাবী, তাবেয়ীদের থেকে পাওয়া যায় না। আপনি ইজতেমায় ওয়াজ-নসীহত শুনতে যেতে পারেন। মানুষের প্রয়োজনে তাকে সাহায্য করা অবশ্যই কোথাও মুনাজাতে অংশ নেয়ার চেয়ে উত্তম। মুনজাতে অংশ নেয়া কোন ধরণের সওয়াবের কাজ এমন কথাও ঠিক নয়। তবে সাধারণভাবে দুআ করা কুরআন নির্দেশিত নেক আমল।

প্রশ্নঃ 567
আসসালামুয়ালাইকুম। ঈশার সালাতে কসর ২ রাকাত পরার সময় ভুলে দিতীয় রাকাতে সালাম ফিরানোর বদলে দাঁড়িয়ে যাই। সুরা ফাতেহা পরার পর মনে হয়। এমাতবস্থায়, কি করা উচিত? তিন রাকাত পরে সাহু সিজদাহ সহ সালত শেষ করব? নাকি চার রাকাত পুরা করে সাহু সিজদাহ সহ সালত শেষ করব? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালম।আপনার উপর কর্তব্য হচ্ছে দ্বিতীয় রাকাআতের বসায় ফিরে যাওয়া। এবং সাজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করা।

প্রশ্নঃ 559
আসসালামু আলাইকুম। প্রশ্ন ১ঃ আমি তুর্কিতে থাকি। এইখানে যখন সবাই মিলে সম্মিলিত দরূদ পাঠ করে তখন তারা সুরে সুরেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা সাইয়্যেদেনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিন উম্মিয়ি, ওয়া আলা আলীহি ওয়া আসহাবি ওয়া সাল্লিম এই দরূদ এর কোণ দলীল কি হাদীস থেকে পাওয়া যায়? তাদের সাথে এইভাবে দরূদ পড়া যাবে কিনা। আমাদের জানা মতে সাঃ এবং নামাযের দরূদ এই ২টাই জানি। প্রশ্ন ২ঃ এইখানে অনেক্ষেত্রে ইমাম খুব দ্রুত নামায আদায় করে। এমন ও হয়েছে যে সিজদায় যাওয়ার পর (আমি) হাই উঠানোর কারনে একবার ও তসবিহ পড়ার আগেই ইমাম সিজদাহ শেষ করে উঠে যান। সেক্ষেত্রে আমি সিজদাহ মিস করে ফেললাম এবং সিজদাহ মিস করার কারনে আমাকে কি ঐ রাকআত আবার পড়া লাগবে নাকি ইমাম উঠে গেলেও আমি ৩বার তাসবিহ পড়ে তারপর উঠবো। বাংলাদেশে যেখানে দ্রুত তারাবীর নামায পড়া হয় সেখানেও এরকম হওয়ার সম্ভবনা আছে। প্রশ্নের উত্তর যদি ইমেইলের মাধ্যমে দিতেন তাহলে খুব ভালো হত। জাজাকাল্লাহু খাইরান। A F M Suaib Akhter PhD Student Department of Computer and Information Engineering Sakarya University Sakarya, Turkey
29 Dec 2025

ওয়াআলাইকুমুস সালাম। শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. তাঁর বিখ্যত গ্রন্থ রাহে বেলায়েত এ হাদীসে বর্ণিত শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে দরুদ বা সালাত-সালাম পড়া সম্পর্কে বলেন, সালাত ও সালামের বাক্যাবলির রূপরেখা: আমরা দেখেছি, মুমিন যে কোনো ভাষায় ও বাক্যে আল্লাহর যিকর বা প্রার্থনা করলে তিনি মূল ইবাদতের সাওয়াব ও ফল পেতে পারেন। তবে মুমিনের শ্রেষ্ঠ বাসনা সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণ করা। যিকর ও দুআর ক্ষেত্রে তাঁর শেখানো বা আচরিত বাক্যগুলো হুবহু ব্যবহার মুমিনের সর্বোচ্চ কাম্য ও দায়িত্ব। এতে সাওয়াব ও কবুলিয়্যাতের আশা অনেক বেশি। সাহাবী-তাবিয়ীগণ মাসনূন বাক্যাবলি ব্যবহারের পাশাপাশি কখনো কখনো অন্যান্য বাক্য ব্যবহার করতেন। তবে সুন্নাতের ব্যতিক্রম বাক্য দ্বারা যিকর, দুআ বা দরুদ-সালাম পালন রীতিতে পরিণত করলে মাসনূন বাক্যাবলির প্রতি অনীহা এবং এ বিষয়ক সুন্নাতের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব জন্ম নেয়, মাসনূন বাক্যাবলি বা সুন্নাতের মৃত্যু ঘটে এবং এভাবে খেলাফে সুন্নাত থেকে বিদআতের জন্ম হয়। এ মূলনীতির ভিত্তিতে মাসনূন বাক্যগুলোর অর্থবোধক যে কোনো বাক্যে রাসূলুল¬াহ সা.কে সালাত ও সালাম জানানো যেতে পারে। তবে মাসনূন বাক্যাবলির ব্যবহার সর্বোত্তম। রাহে রেলায়াত, সর্বশেষ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৯২-১৯৩। তিনি এহইয়াউস সুনান গ্রন্থের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন, অপর দিকে যারা সালাত-সালাম পাঠ করেন তাদের মধ্যেও অনেক খেলাফে-সুন্নাত কাজ রয়েছে। যেমন, সমবেতভাবে সমস্বরে দরুদ ও সালামপাঠ করা…। দরুদ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় বিস্তারিত জানতে উক্ত বইদুটির সালত ও সালাম সংক্রান্ত আলোচনা ভালভাবে পড়ুন। অর্থাৎ হাদীসে বর্ণিত বাক্যে সালাত-সালাম অর্থাৎ দরুদ পড়া সবচেয়ে উত্তম। তবে হাদীসের বাক্যের সাথে মিল রেখে অন্য শব্দেও দরুদ পড়লে সওয়াব হবে। আর সমস্বরে দরু পড়া খেলাফে সুন্নাত কাজ। আল্লাহ ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 556
আসসালামু আলাইকুম হুজুর আমি অনেক বছর ৮-১০ বা তার বেশী বছর নামাজ পড়িনি। আমি মাঝে পড়তাম তা খুবি কম জুমাবার ও মাঝেমধ্যে পড়িনি। তার জন্য আমি ভিষণ অনুতপ্ত, আমি কিভাবে ওই নামাজের কাজা পড়তে পারি? আমি অনেক কে জিজ্ঞেস করেছি এই বিষয়ে কেউ বলেছে হে পড়তে হবে প্রতি নামাজের সাথে ফরজ নামাজ এর কাজা, আবার কেউ বলে লাগবে না আপনি শুধু নফল পড়েন তাতেই হয়ে যাবে। হুজুর আমি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাই আমি কি করতে পারি, আমি খুবি চিন্তিত, আমাকে একটু যদি বলেন আমি কি করব? দয়া করে জানাবেন।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। আপনি কোন চিন্তা করবেন না। যথা সম্ভব ভাল কাজ করার চেষ্টা করুন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকুন, অবশ্যই তিনি ক্ষমা করবেন। আমরা আপনার জন্য দুআ করি যেন তিনি আপনাকে সঠিক পথে অবিচল রাখেন এবং ক্ষমা করে দেন। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।

প্রশ্নঃ 536
প্রশ্ন ১) স্যার জোহর আর আসরের সালাতে ইমাম সাহেবের পিছনে আমি শুধু সুরা ফাতিহা পড়ি। আমার প্রশ্ন হলো-প্রথম দুই রাকাতে আমি সুরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সুরা মিলাবো কি? প্রশ্ন ২) বিতরের নামায এক রাকাত পড়লে কোন সমস্যা আছে কি? প্রশ্ন ৩) সুর্যদয়ের টাইম যদি ৫ঃ৩০ হয় তবে কি এরপরের ২৩ মিনিট মানে ৫ঃ৫৩ এর পর নামায পড়বো নাকি এই ২৩ মিনিট হলো ৫ঃ৩০ এর আগের ১২ মিনিট আর পরে ১১ মিনিট? সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে নিয়মটা কি? প্রশ্ন ৪) আপনি আপনার মুনাযাত ও নামায বই এ সেজদাহ এর মধ্যে যেসব দোয়ার উল্লেখ করেছেন তা কি ফরজ নামাযের ক্ষেত্রে পড়তে পারবো?
29 Dec 2025

১। আপনি যদি পড়তে চান,তাহলে শুধু মাত্র সুরা ফাতিহা পড়তে পারেন। ইমামের সাথে সুরা ফাতিহা ব্যতিত অন্য কোন সুরা মিলানোর প্রয়োজন নেই।

২। এক রাকাত বলতে মূলত কোন নেই। রাসুল সা. শুধুমাত্র এক রাকাত সালাত পড়েছেন যার আগে কোন নফল সালাত পড়েননি এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না। হাদীসের আলোকে আপনি যা করতে পারেন তা হল, ২ রাকাত নফল সালাত পড়ে আপনি সালাম ফিরাবেন অতঃপর ১ রাকাত সালাত পড়বেন। হাদীসের আলোকে এমনটি করাই জোরালো বলে মনে হয়। বিতর সালাত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে রেলায়াত পৃষ্ঠা ৪১৩-৪১৭।

৩। সূর্যদয়ের পর থেকেই হিসাব শুরু হবে,এর আগ থেকে নয়। কুরআনে এবং হাদীসে উল্লেখিত যে কোন দুআ ফরজ নামাযের ক্ষেত্রে পড়তে পারবেন।

প্রশ্নঃ 526
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। শাইখ আমার একটা প্রশ্ন ।রাকআত ছুটে যাওয়া ফরজ নামায কি?ভাবে আদায় করব এবং সুরা সহ। যেমন যোহর ৪ রাকআত আমি পাইচি ১ রাকআত অথবা ২ রাকআত অথবা ৩ রাকআত। মাগরিবের ৩ রাকআতের ১ রাকআত। ফাতিহা সহ সুরাগুলি কিবাবে পড়তে হবে। জাযাকাল্লাহু খাইর। যানালে আমার অনেক উপকার হবে । এতে আমার যদি কোন বুল হলে আমি কি করব । বিতির নামায ১ রাকআত আদায় করলে কি হবে। আমি দুবাই থেকে মোঃ বেলায়েত হোসেন বলছি।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। রাকআত ছুটে গেলে ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর পর আপনি উঠবেন। ওঠার পর প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়বেন। দ্বিতীয় রাকআতেও সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। তবে তৃতীয় রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বেন। অর্থাৎ ওঠার পর এমনভাবে সালাত শুরু করবেন যেন আপনি সালাত প্রথম থেকে শুরু করেছেন। তবে বৈঠকের ক্ষেত্রে পূর্বের রাকআত ধর্তব্য হবে, অর্থাৎ আপনি ইমামের সাথে এক রাকআত পেলে আপনি উঠে এক রাকআত পড়ে বৈঠক করবেন। পূর্বে কোন ভুল করে থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। শুধু এক রাকআত সালাত আদায় করার বিষয়টি হাদীসে পাওয়া যায় না। হাদীসে যেটা আছে সেটা হলো রাসূলুল্লাহ সা. তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে করতে যখন দেখতেন ফজরের সময় হয়ে গেছে তখন তিনি তাহাজ্জুদ সালাতের সাথে এক রাকআত অতিরিক্তি করে বিতর করতেন। এই ভাবে করা যায়। বিতর সালাত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত গ্রন্থের ৪১৩-৪১৭ পৃষ্ঠা। এই বিষয়ে আপনি হাদীসের কিতাবগুলোতে বিতর অধ্যায়ও দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ 524
আসসালামু আলাইকুম। ফরয সালাতে প্রথম দুই রাকাতের কোন এক রাকাতে ফাতিহার পর সুরা মিলাতে ভুলে গেলে কি সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানতে চাই। যাজাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফরজ সালাতের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে কোন একটি সূরা মেলানো সহীহ হাদীসের সকল ইমাম ও ফকীহের নিকট আবশ্যক। সুতরাং এই সময় সূরা না মেলানো একটি বড় ধরনের ভুল। আর হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সা. সালাতের ভিতর কোন ভুল হয়ে গেলে সাজদায়ে সাহু দিতেন। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: عن عمران بن حصين : أن النبي صلى الله عليه و سلم صلى بهم فسها فسجد سجدتين ثم سلم সাহাবী ইমরান ইবনে হুসাইন বলেন, নবী সা. ইমাম হয়ে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি ভুল করলেন এবং সাজদায়ে সাহু দিলেন এরপর সালাম ফিরালেন। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১২৩৬। হাদীসটি সহীহ। ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

প্রশ্নঃ 519
আচ্ছালামু আলাইকুম. আপ নার কাছে আমার একটা প্রশ্ন, দয়া করে উত্তর দিলে খুশি হব। নাবী ( সঃ ) যখন মেরাজ থেকে আসেন আল্লাহ পাক ৫ ওয়াক্ত সালাত ২ রাকাত করে ফরজ ছিল। হাদিস মুসলিম এবং বুখারীতে আছে, কিন্তু পরে কখন এবং কিভাবে আছর, যোহ্র,এবং এশা ওয়াক্তে ৪ রাকাত এবং মাগরিবে ৩ রাকাত সালাত ফরজ হয়েছে তা দলিল সহ বিস্তারিত জানাবেন?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। প্রথমে সালাত দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। তবে মাগরিব প্রথম থেকেই তিন রাকআত ছিল। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَتْ: كَانَ أَوَّلَ مَا افْتُرِضَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةُ : رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ، إِلَّا الْمَغْرِبَ، فَإِنَّهَا كَانَتْ ثَلَاثًاৃ হযরত আয়েশা রা. বলেন, প্রথমে রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর সালাত দুই দুই রাকাআত করে ফরজ হয়েছিল। তবে মাগরিব ব্যতিত। কেননা তা তিন রাকাতই ছিল…। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬৩৮১। শায়খ শুয়াইব আরনাউতসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এরপর হিজরত করে মদীনায় যাওয়ার পর ফজর বাদে অন্যান্য সালাতের রাকআত সংখা বৃদ্ধি করা হয়। নিচের হাদীসটি দেখুন: عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَفُرِضَتْ أَرْبَعًا وَتُرِكَتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الأُولَى. আয়েশা রা. বলেন, সালাত দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। অত:পর নবী সা. হিজরত করলেন তখন চার রাকআত করে ফজর হলো আর সফরের ক্ষেত্রে পূর্বের অবস্থাতেই থাকলো। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯৩৫। عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ هَاجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَفُرِضَتْ أَرْبَعًا وَتُرِكَتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الأُولَى উক্ত হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সালাত প্রথমে দুই রাকআত করে ফরজ ছিল। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সা. মদীনায় হিজরত করেন। তারপর সাধারন অবস্থায় যুহর, আসর ও এশার সালাত চার রাকআত করা হয়।আরো জানতে দেখুন, ফাতহুল বারী; ইবনে হাজার আসকালানী রহ., ১/৪৬৪।

প্রশ্নঃ 517
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? প্রথমেই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাব, ইসলামের পথে মানুষকে আহব্বান করার জন্য। আল্লাহ আপনার এই দাওয়াতকে কবুল করুন এবং ইসলামের পথে আপনার জ্ঞানকে বাড়িয়ে দিন এবং আমাদেরকে বিভিন্ন জানা-অজানা বিষয়ে জানার সুযোগ করে দিন। আমীন। আমার প্রশ্ন হল : জামাআতে যখন সালাত পড়ি, তখন বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও এশার সালাতে ইমাম সাহেব জোরে কিরাত পড়েন। তখন আমি মুক্তাদি কি সূরা ফাতিহা পড়বো? কেননা আমি জেনেছি যে, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়লো না, তার সালাত হয় না। এই ক্ষেত্রে আমি বড় বড় আলেমদের অনেক মত ই দেখেছি। আপনি আমাকে সবচেয়ে ভালো মতটি ও নিঃসন্দেহে সালাত পড়তে পাড়বো এমন মতটি বলেন। আমি একটা হাদিসেও পেয়েছিলাম যে, শুধু সূরা ফাতিহা পড়ার কথা। বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলবেন Please. আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন.
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। বিষটি নিয়ে আলেম ও ইমামগণের মাঝে বিভিন্ন মতামত বিদ্যমান। তবে এই বিষয়ে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রহ. সহীহ হাদীসের আলোকে যে মতামত পেশ করতেন তা হলো স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন সালাতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না আর নি:শব্দে পড়া হয় এমন সালাতে পড়বে। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের দেয়া ২৭৬ নং প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্নঃ 509
রুকু এবং তাশাহুদে নজর (দৃর্ষ্টি) কোথায় রাখবো?
29 Dec 2025

রুকুতে দৃষ্টি কোথায় রাখবে সে বিষয়ে হাদীসে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে কয়েকজন তাবেয়ী থেকে বর্ণিত আছে তারা সাজদার স্থানে রাখতে বলছেন। এবং ফকীহগণ এমনই মত দিয়েছেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ৬৫৬২, ৬৫৬৩ এবং ৬৫৬৪। তাশাহুদুর সময় যে হাত দ্বরা ইশারা করা হয় সেই হাতের দিকে নজর রাখবে। রাসূলুল্লাহ সা. এমন করতেন বলে সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। সুনানু নাসায়ী, হাদীস নং ১২৭৫, হাদীসটি সহীহ।

প্রশ্নঃ 504
Sir Salam.I want to know about hadith in bokhari that if someone isnt here the sound or smell so his odu will not broke. What does that means. If some is feel something come still is odu is valid.
29 Dec 2025

উক্ত হাদীসটি যারা সন্দেহের রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন। সাভাবিক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে নয়। সুস্থ মানুষ কোনভাবে বিষয়টি নিশ্চিত রূপে বুঝতে পারলেই তার ওযু ভেঙ্গে যাবে। তবে শুধুমাত্র সন্দেহ হলে ওযু ভাঙ্গবে না।

প্রশ্নঃ 500
Dear Sir, My question is do I need to make Niaht in Salah? or only my intention will be enough. I was making Niaht in Arabic before, but recently I was told it is Bidat. Rasulullah did not do it. Secondly, where I will find how to do every steps of Salah accoring to Hadith? Kind regadrs, Ashraf
29 Dec 2025

নিয়ত হচ্ছে হ্নদয়ের ইচ্ছা। সুতরাং ইচ্ছাটাই এখানে মুখ্য। মুখে নিয়ত করা না করা কোন বিষয় নয়। মুখে নিয়ত করার কথা হাদীসে উল্লেখ নেই তাই মুখে নিয়তের বিশেষ কোন ফজিলত নেই। বর্তমানে বাংলা ভাষায় এই বিষয়ে কোন ভাল বই আছে বলে মনে হয় না। রাহে বেলায়াতএ সালাত বিষয়ে একটি অধ্যায় আছে। সালাত বিষয়ে একটি বই বাংলা ভাষায় আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নঃ 497
আসসালামু আলাইকুম আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশে জুম্মার খুথবার আগে অনেক সময় ওয়াজ হয় এটা কি বিদআত। জুম্মার ২ রাকাত নামাজ এর আগে কাবলাল জুম্মা ৪ রাকাত পড়ব নাকি ২ রাকাত করে নফল পড়ব।
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

না, এটা বিদআত নয়। জুমুআর খুৎবার আগে বক্তৃতা করা সহীহ সূত্রে সাহাবীদের থেকে প্রমানিত। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ৩৬৭। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:

عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى

সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:

عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.

অর্থ: (তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। দুই দুই রাকআত করে পড়তে পারেন আবার চার রাকআত করেও পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ 494
নামাজের কাতার থেকে শিশু-কিশোরদের সরিয়ে দেয়া কতটুকু সঠিক? হাঁটুর উপর কাপড় উঠে গেলে কি ওজু ভেঙে যায়?
29 Dec 2025

শিশু-কিশোররা নামাযে কোন অসুবিধার সৃষ্টি না করলে তাদেরকে কাতার থেকে বের করে দেয়া ঠিক নয়। তবে তারা নামাযের পিছনের কাতারে দাঁড়াবে বলে হাদীসে উল্লেখ আছে। হাঁটুর উপর কাপড় তুললে ওযু ভঙ্গ হবে না, কিন্তু গুনাহ হবে। কারণ হাঁটুর উপরিভাগ সতরের অন্তভূক্ত।

প্রশ্নঃ 491
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, এক ওয়াক্ত নামায কাযা করলে ২ কোটি ৮৮ লাখ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে। এটা কি সাহিহ?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

না, উক্ত কথা সহীহ নয়। এমন কোন কথা হাদীসে বর্ণিত নেই। তবে নামায না পড়লে কাফের হয়ে যাবে এমন কথা সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে।

প্রশ্নঃ 490
আসসালামু আলাইকুম, স্যার, অজুর আগে মেসওয়াক করে নামায আদায় করলে ৭০ গুন বেশী সাওয়াব। এটা কি সাহিহ হাদিস?
29 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

মেসওয়াক করে নামায পড়লে ৭০গুন সওয়াব হবে মর্মে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়, যয়ীফ। তবে শায়েখ ইবনুল কায়্যুম রা. বলেছেন, মেসওয়াকের ফজিলত বিষয়ে যত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাতে মনে হয় এমনটি হওয়া সম্ভব। দেখুন, আলমানরুল মুনিফ, হাফেজ ইবনুল কায়্যুম।

প্রশ্নঃ 481
১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025

ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত না পড়লেও সালাতে ইমামতি করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। কাজা নামায ব্যতিরেকে অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতিতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ 455
স্যার, নামাজে যখন তেলাওয়াত করা হয় তখন যদি আমি নামাজে অংশ নেই তাহলে কি আমি সানা পড়বো নাকি তাকবির দিয়ে তেলাওয়াত শুনবো?
29 Dec 2025
নামাযে তেলাওয়াত শুরু হওয়ার পর অংশ নিলে তেলাওয়াত শুনবেন। সানা পড়বেন না।
প্রশ্নঃ 454
আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই আনন্দিত যে আমার আগের দুইটি প্রশ্নেরই উত্তর পেয়েছি। আজ আমি জানতে চাই – ১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025
শুকরান জাযাকুমুল্লাহ। আপনি প্রশ্নের উত্তর পাওয়াতে আমরাও আনন্দিত।
(১) ইমামতি করতে পারবেন, সুন্নাত না পড়লেও সমস্যা নেই।
(২) আপনি সালাতের ইমাম, মনের ভিতর এই বিষটি রাখবেন।
প্রশ্নঃ 452
জামাআত ১ কাতার পূরা হয়ে গিয়েছ। ১ জন বাকি আছে সামনের কাতারে জায়গা নেই। দীতিয় কাতারে কী একা দাড়াবে না কী? বিস্তারিত জানতে চাই।
29 Dec 2025
লোকটি চেষ্টা করবে পূর্বের কাতারে ঢুক পড়ার। যদি সম্ভব না হয় তাহলে সামনের কাতার থেকে একজনকে টেনে তার সাথে দাড়াবে। একটি হাদীসে এমন আছে, তবে হাদীসটি যয়ীফ। মুসনাদ আবু ইলা, হাদীস নং ১৫৮৮। তবে এতে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে (আমাদের বাংলাদেশে এই মাসআলাটি বেশীরভাগ লোক না জানার কারণে অনেক সময় সমস্যা সৃষ্টি হয়) একাকীই দাড়াবে। পূর্বের কাতারে দাঁড়ানোর সক্ষমতা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে নামায পড়তে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। একজন এমন করলে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে পূণরায় নামায পড়তে বলেছিলেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৬৮২। হাদীসটি সহীহ।
প্রশ্নঃ 450
মুহতারাম: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নঃ ফজরে ও মাগরিবের সালতের পর সুন্নাত যিকির হিসাবে ৩ বার করে ইখলাস, ফালাক ও নাস পরতে হয়, তা কিভাবে পরব? একবার করে ইখলাস, ফালাক ও নাস পরে তিন বার repeat করব? নাকি তিন বার ইখলাস পরে, তিন বার ফালাক ও তার পর তিন বার নাস পরব? কোন পদ্ধতি উত্তম? যাযাকুমুল্লাহ
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যে কোন পদ্ধতিতে পড়লেই হবে। তবে হাদীসের ভাষ্য থেকে মনে হয় তিনবার ইখলাস এরপর তিনবার ফালাক তারপর তিনবার নাস পড়াই উত্তম।
প্রশ্নঃ 439
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। ১. ফযরের ওয়াক্তে এমন সময় ঘুম থেকে উঠেছি যে ওযু করতে করতে সময় মাত্র শেষ হয়েছে। এখন আমি কি সাথে সাথেই ফযরের সালাত আদায় করব, নাকি ২৩ মিনিট আপেক্ষা করে সালাত আদায় করব? ২. সাহু সিজদা করার সঠিক পদ্ধাতি হাদিসের আলোকে জানতে চাই। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান কারুক। আমিন
29 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আপনি সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ২৩ মিনিট অপেক্ষা করবেন। সাহু সিজদা সালামের আগে, পরে যে কোন সময় দেয়া যায়। অর্থাৎ তাশাহুদু, দরুদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরানো অথবা তাশাহুদু পড়ে কিংবা তাশাহুদুর সাথে দরুরদ ও দুআ মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা করে আবার পূনরায় সবগুলো পড়ে সালাম ফিরানো।সহীহ হাদীসে উভয় পদ্ধতিই আছে। আমাদের সমাজে সালামের পরে সাহু সিজদা দেয়া হয়, এটা সহীহ হাদীস সম্মত। দেখুন, জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫ও ৩৯৫।
প্রশ্নঃ 412
আসসালামু আলাইকুম স্যার। ইকামতের জবাব মুসল্লী দিতে পারবে কিনা। জাযাকাল্লাহু খইরান।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, ইকামতের জবাব মুসল্লি দিতে পারবে, ইকামতের জবাব দেয়া মুস্তাহাব।
প্রশ্নঃ 409
মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ আমি বিতিরের সালাত দুই নিয়তে (২+১) পরি। প্রশ্ন হল, প্রথম দুই রাকাত পরার সময় মনে মনে কি নিয়ত করব? বিতিরের দুই রাকাত না কি রাতের সালাতের দুই রাকাত? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
যে কোন আমলের ক্ষেত্রেই সমাজে প্রচলিত কোন সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতির বাইরে অন্য কোন সুন্নাতের অনুসরন করতে হলে তা ভাল করে জেনে নেয়া জরুরী। আপনার নিয়াত এমন থাকবে যে, আমি শেষে এক রাকআত বিতর পড়ব তার পূর্বে দুই রাকআত পড়ছি।
প্রশ্নঃ 405
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম সাজ্জাদ, আমার পরিছিত একজন আল্লাহর নামে শপথ করেছে যে সে প্রতিদিন জামাতে প্রথম রাকাতসহ আদায় করবে।কিন্তু সে তা পারে নি।তাকে কি কাফফারা দিতে হবে। ।পরপর কয়েক্তি ছারার কারনে কি প্রতির জন্য আলাদাভাবে দিতে হবে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, কসম ভাঙ্গার কারণে তাকে কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে দুবলো খাবার প্রদান করা। অথবা দশজন মিসকিনকে একসেট করে কাপড় প্রদান করা। কাফফারা একবারই দিতে হবে।
প্রশ্নঃ 402
আসসালামু আলাইকুম, কুনুতে নাযিলা পড়ার বিধান জানতে চাচ্ছি। দোয়া করে ইমেইলে জবাব দিলে খুশী হব। ধন্যবাদান্তে, সাজ্জাদ সালাদীন। পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সমাজ, রাষ্ট্র বা উম্মাতের কোনো কঠিন বিপদ, রোগব্যাধি বা বিপর্যয়ের সময় ফজরের সালাতে এবং প্রয়োজনে সকল সালাতের শেষ রাকআতের রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর সমবেত মুসল্লীদের নিয়ে দুআ করাকে কুনুতে নাযেলা বলা হয়। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন যে, হানাফী মাযহাবে এরূপ কুনুত বৈধ নয়। চিন্তাটি অজ্ঞতাপ্রসূত। হানাফী ফকীহগণ বলেন, বিপদ-বিপর্যয় ছাড়া কুনুতে নাযেলা পাঠ করবে না। তবে বিপদ-বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ফজরের সালাতে ও অন্যান্য সালাতে কুনুতে নাযেলা পাঠ করবে। আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী হানাফী (১০৮৮ হি) বলেন:
ولا يقنت لغيره إلا لنازلة فيقنت الإمام في الجهرية وقيل في الكل
বিতর ছাড়া অন্য কোনো সালাতে কুনুত পাঠ করবে না; তবে বিপদ-বিপর্যয়ের সময় সশব্দে কুরআন পাঠের সালাতে (ফযর, মাগরিব, ইশা) ইমাম কুনুত পাঠ করবেন। দ্বিতীয় মতে সকল সালাতেই কুনুত পাঠ করবেন। হাসকাফী, আদ-দুররুল মুখতার (বৈরুত, দারুল ফিক, ১৩৮৬) ২/১১। এ কথার ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবন আবিদীন শামী উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ হানাফী ফকীহ বিপদ-বিপর্যয়ের সময় শুধু ফজর সালাতে কুনুত পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ কেউ সশব্দ সালাতগুলোতে কুনুত পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা বলেছেন যে, সালাতুল ফজরের কুনুত মানসূখ বা রহিত হয়েছে তাদের কথার অর্থ সাধারণ অবস্থায় বিতর ছাড়া অন্য সালাতে কুনুত পাঠ রহিত হয়েছে। তবে বিপদাপদ বা বিপর্যয়ের সময় ফজরের বা সশব্দের সালাতে কুনুত পাঠ সুন্নাত। ইমাম যদি মনে মনে কুনুত পড়েন তবে মুক্তাদীও মনে মনে পড়বেন। আর ইমাম যদি সশব্দে কুনুত পড়েন তবে মুক্তাদী আমীন বলবেন। আর নাযিলা বা বিপদাপদের কুনুত শেষ রাকাতের রুকুর পড়ে পড়তে হবে। ইবন আবিদীন শামি, রাদ্দুল মুহতার (হাশিয়াতু ইবন আবিদীন) ২/১১। একাধিক দুআ কুনুত হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে। চারটি দুআ কুনুতসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা-৪২০-৪৩১।
প্রশ্নঃ 401
আসসালামুয়ালাইকুম। জানি যে রসূল সঃ কয়েক ভাবে বেতের সালাত আদায় করতেন। তাহলে আমরাও কি একেক সময় একেক ভাবে বেতের সালাত পড়তে পারব?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জ্বী, একেক সময় একেক পদ্ধতিতে আপনি বিতর সালাত আদায় করতে পারেন। তবে যে পদ্ধতিতেই পড়বেন ভাল ভাবে শিখে নিবেন, জেনে নিবেন। পদ্ধতিটি যেন সুন্নাহ সম্মত হয়।
প্রশ্নঃ 397
শায়েখ,আমার একটি প্রশ্ন দয়া করে উত্তর দিবেন-ওয়াহদাতুল উজুত এর ব্যপারে যার আকিদা আল্লাহ্ সবজায়গায় বিরাজমান, আল্লাহ নিরাকার, তার পিছনে নামাজ পড়া যাবে কি না?
28 Dec 2025
সুস্পষ্ট ও র্দ্ব্যথহীন কুফর-শরিক পাওয়া গলেে তার পছিনে সালাত আদায় করা যাবে না। ওয়াহদাতুর উজুত নিঃসন্দহে কুফরী আকীদা। অনকেে না বুঝে এমন বশ্বিাস করনে। তাই এমন ব্যক্তকিে কাফরি বলা মুশকলি।কোন ব্যক্তরি মধ্যে সুস্পষ্ট ও র্দ্ব্যথহীন কুফর-শরিক না পাওয়া র্পযন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ওয়াহদাতুল উজুত ও আল্লাহ সর্বত্র বরিাজমান দুটি আকীিদা এক নয়। আমাদরে দশেে অনকেইে মনে করনে আল্লাহ র্সত্র বরিাজমান। আপনি যদি তাকে প্রশ্ন করেন যে, তিনি কি সাপ, ব্যাং বা মাছরি মাথার মধ্যে বা বাথরুমরে মধ্যওে বরিাজমান তবে তনিি তা অস্বীকার করবনে, বরং বলবনে তার জ্ঞান বা ক্ষমতা সর্বত্র বরিাজমান। এরূপ ব্যক্তরি আকীদা ভুল তবে তনিি মুশরকি বা কাফরি নন। মহান আল্লাহ বলনে:
وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الأَرْضِ
তিনিই আল্লাহ আসমান সমূহরে মধ্যে এবং পৃথবিীতে (সূরা আনআম-৩)। সাধারণত এ আয়াতরে ভুল র্অ বা ব্যাখ্যা এক্ষত্রেে ব্যবহার করা হয়। আর কুরআন বা হাদীসরে ব্যাখ্যার ভুল জনতি আকীদার কারণে মানুষকে বভ্রিান্ত বলা যায়, কন্তিু কাফরি বলা যায় না। আপনি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। প্রসদ্ধি কালামবদি ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলনে,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণি ত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফরে পছিনে সালাত আদায় করতনে (মুসান্নফিে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলদি দয়িানাহ, ১/২০। দলীলসহ বস্তিারতি জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচতি আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বলোয়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮।
প্রশ্নঃ 393
হুজুর আমার প্রশ্ন হল যখন কেউ নামাজের ইমামতি করে তখন ঐ ইমামের নিয়ত কি ভিন্ন হবে নাকি আমরা সাধারণত যেই ভাবে করি সেইভাবে হবে?
28 Dec 2025
দেখুন নিয়ত অর্থ হলো মনের সংকল্প। আমাদের সমাজে নিয়ত হিসাবে যা কিছু প্রচলিত তা হাদীসে নেই। ইমামের জন্য নিয়ত হলো তিনি নামায পড়াচ্ছেন এতটুকু সংকল্প তার মনে মনে থাকা।
প্রশ্নঃ 378
Assalamualaikum would you mind to inform me something about the Kerat we recite during Salah? why we recite sometimes loudly sometimes silently (Johor-Asor)? is there any logic/reason behind that? or only were following as written in Hadith?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
ইবাদত রাসূলুল্লাহ সা. এর শেখানো পদ্ধতিতেই হতে হবে। আর হাদীস দ্বারা এই পদ্ধতিটি প্রমানিত। অর্থাৎ ফজর, মাগরিব ও এশার সালাতে স্বশব্দে পড়া এবং জোহর ও আসরের সালাতে নি:শব্দে পড়া। না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
( انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح ) فقال : ( هل قرأ معي منكم أحد آنفا ) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع ) . [ قال أبو هريرة : ] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [ وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام ] )
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 371
Assalamu alikum.. Amr nam farjana …amr proshno ta holo bitor namz ar j niyom ta apnara bolsan ta ame sothik vaba bujta parsi na.. Amra toh 2 rakata bosa attahiyatu pori o 3 rakata fatihar satha onno surah miliya pora abr takbir dai Allahu Akbar 3 br boli tr por dua kunut pori nd sijda diya attahiyatu durud soreef o dua a masura pora salam firiya salat sas kori.. Akhon amak doya kora sothik niyom ta sundor vaba bujiya bolun jata ame nij sothik vaba abong amr poribarar sobi k sothik niyom ta bolta pare.. Tahola ame khub e upokito hobo.. Assalamu alikum..
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমাদের দেশে যেভাবে বিতর নামায পড়া হয় সেভাবে পড়বেন। আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা ঠিক আছে। তবে তৃতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা মিলানোর পর একবার তাকবীর বলবেন। তিনবার নয়।
প্রশ্নঃ 367
আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার, পড়াশুনার ওজরে কি নামাজ ঘরে পড়া জায়েয আছে? যেমন ফজরের নামাজ ও এশার নামাজ (৬ষ্ঠ তলা থাকি)। দোয়া কুন্নত তো একটি দোয়া সুতরাং এটা বেতেরের নামাজ ছাড়াও অন্য যে কোন নফল নামাজে শেষ বৈঠকে পড়া যাবে কি না? বা পড়লে শরিয়ত বহির্ভূত হবে কিনা?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
জামাতে নামায পড়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সা. সহীহ হাদীসে খুবই গুরুত্বারোপ করেছেন। আলেমগন জামাতে নামায পড়াকে ওয়াজিব কিংবা ওয়াজিব পর্যায়ের সুন্নত বলেছেন। সুতরাং পড়শুনার ওযরে ঘরে ফরজ নামায পড়া যাবে না। দুআ কুনুত নফল নামাযের শেষ বৈঠকে এবং সাজদাতে পড়া যাবে।
প্রশ্নঃ 354
আসসালামুআলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ ১. জুমাআর ফরজ সালাতের আগে ৪ রাকাত সুন্নাহ (যাকে কাবালাল জুমাআ বলা হয়) তা কি obligatory সুন্নাহ। হাদিসের আলকে জানতে চাই। ২. বিতির নামাজে কুনুত পরে রুকুতে না গিয়ে ভুলে সরাসরি সিজদায় চলে গেলে কি করতে হবে? আবার নিয়াত বেধে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে? নাকি সিজদা থেকে উঠে আবার রুকু করে সিজদা করে সাহু সিজদা দিয়ে সালাত শেষ করতে হবে? যাযাকাল্লাহু খাইর।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
obligatory বা আবশ্যক সুন্নাত বলতে কিছু নেই, বরং সব সুন্নাতই unobligatory অর্থাৎ আবশ্যকতার অন্তভূক্ত নয়, তবে অনেক করলে সওয়াব আছে। রাসূলুল্লাহ সা. জুমুআর ফরজ সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য বলেছেন। সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি লক্ষ করুন:
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ثُمَّ ادَّهَنَ ، أَوْ مَسَّ مِنْ طِيبٍ ثمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى
সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন ভালভাবে গোসল করে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে (মসজিদে) গমন করবে অতঃপর (মসজিদে) কাউকে না ডিঙিয়ে সাধ্যানুযায়ী নামায পড়বে এবং যখন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য বের হবে তখন চুপ করে তা শুনবে, তার এক জুমুআ থেকে অপর জুমুআর মাঝের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯১০। এই হাদীসে রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। আলেমগণ বলেছেন দুই রাকআত থেকে শুরু করে যত ইচ্ছা পড়বে, যত বেশী পড়বে সওয়াব ততো বেশী হবে। রাকআত সংখ্যার ব্যাপারে বিভিন্ন সাহবী থেকে বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত আছে। দুই রকআত. চার রাকআত ইত্যাদি। চার রাকআতের বিষয়ে নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন:
عبد الرزاق عن الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا وبعدها أربعا حتى جاءنا علي فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم اربعا.
অর্থ: ( তাবেঈ) আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেন, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমুআর পূর্বে চার রাকআত এবং পরে চার রাকআত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আলী রা. আমাদেরকে জুমুআর পর প্রথমে দুই রাকআত এরপর চার রাকআত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফু আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এই হাদীসটির বিষয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, وهذا سند صحيح لا علة فيه অর্থ: এটা সহীহ সনদ, তাতে কোন সমস্যা নেই।সিলসিলাতুয যয়ীফাহ, ১০১৬ নং হাদীসের আলোচনা। উক্ত সহীহ হাদীসটি দ্বারা আমারা জানতে পারলাম যে, প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. চার রাকআত ক্ববলাল জুমুয়া পড়ার আদেশ দিয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝলাম যে, জুমুআর আগে নামায সুন্নাত, তবে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে রাকআত সংখ্যা বিষয়ে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। সুতরাং যে যতটুকু ইচ্ছা করে ততোটুকু পড়তে পারে। একজন সাহবী থেকে চার রাকআত পড়ার নির্দেশ এসেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় চার রাকআতও পড়া যায় এবং এটাও সুন্নাত। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো সাজদা থেকে উঠে রুকু করে পূনরায় সাজদা করতে হবে। এবং সাজদায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করতে হবে।
প্রশ্নঃ 351
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাজে রাফউল ইয়াদাইন করা কি রহিত হয়ে গেছে?
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
নামাযের মধ্যে শুধু প্রথমে একবার রাফয়ে ইয়াদাইন করা এবং একাধিকবার করা দুটোই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। কোনটিই রহিত হয়ে যায়নি। রাসূলুল্লাহ সা. এর ইন্তেকালের পর সাহাবীদের মধ্যে উভয়প্রকারের আমালই বিদ্যমান ছিল। একাধিতক কার রাফয়ে ইদায়ন রহিত হলে তো কোন সাহাবী এমন আমল করতেন না। দুটো আমলই যেহেতু সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত তখন এই নিয়ে বিতর্ক ত্যাগ করা অপরিহার্য্য।
প্রশ্নঃ 336
আসসালামু আলাইকুম আমি বি সি এস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নামাজ নিয়মিত সকল ওয়াক্ত পড়া হয় না। আপনি যদি সুন্নতের আলোকে আমাকে জীবন চালানোর জন্য একটা রুটিন দেন তা আমার জন্য খুব ভাল হয় মেনে চলার জন্য। যদিও আপনার সময় নষ্ট হবে তবুও স্যার আমার জন্য কষ্ট হলেও দেন। আমি নিজেকে আর পরিচালনা করতে পারছি না। এমন একটা রুটিন দিয়েন যা আমি ইনশাআল্লাহ ম্রত্যুর আক পযন্ত মেনে যেতে পারি। আমি হতাশার মধ্যে চলে যাচ্ছি। এখন আমার কি করা উচিত বুঝতে পারছি না।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মহান আল্লাহ মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পালনযোগ্য রুটিন বানানোর জন্য আপনার প্রকৃতি জানা দরকার। তবে সাধারণভাবে আপনার জন্য উচিত হলো নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, সালাতের সাজদার মধ্যে আল্লাহর সাথে কথা বলা ও আল্লাহর কাছে নিজের সফলতার জন্য দুআ করা, সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের সামান্য কিছু দুআ ও ওযীফা করা। হতাশা একটি মহাপাপ। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশা থেকেই হতাশার জন্ম। হতাশা ও অলসতা থেকে মুক্তির কিছু দুআ আছে। রাহে বেলায়াত থেকে দুআগুলো শিখে নিয়ে সালাতের সাজদায় ও অন্যান্য সময়ে পড়তে থাকুন।
প্রশ্নঃ 334
নামাজের মধ্যে যে শইতান ধোকা দেই তার নাম কি ওতার অর্থ কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হব
28 Dec 2025
নামাযের মধ্যে যে শয়তান ধোকা দেয় তার নাম খিনযিব। নিচের হাদীসটি লক্ষ্য করুন: –
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْبَاهِلِىُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِىِّ عَنْ أَبِى الْعَلاَءِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِى الْعَاصِ أَتَى النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ حَالَ بَيْنِى وَبَيْنَ صَلاَتِى وَقِرَاءَتِى يَلْبِسُهَا عَلَىَّ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهُ خِنْزِبٌ فَإِذَا أَحْسَسْتَهُ فَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْهُ وَاتْفِلْ عَلَى يَسَارِكَ ثَلاَثًا قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَهُ اللَّهُ عَنِّى
অর্থ: উসমান ইবনে আবিল আস রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও তেলাওয়াতের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সালাতকে সন্দেহপূর্ণ করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ওটা শয়তান, তার নাম খিনযিব যখন তুমি এমনটি অনুভব করবে তখন আল্লাহ কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (আউযুবিল্লাহ পড়বে) এবং বাম দিবে তিনবার থুঁতু ফেলবে। তিনি বলেন, আমি এমন করতাম আর আল্লাহ আমার থেকে তাকে দূর করে দিতেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৬৮। সুতরাং শয়তান সালাতের ভিতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে উপরুক্ত আমল করতে হবে।
প্রশ্নঃ 332
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাযে কোথায় হাত বাধতে হবে? নাভির উপরে নাকি বুকের উপরে? নাভির উপরে হাত বাধা যাবেনা তার সহীহ প্রমাণ চাই।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সহীহ হাদীসে শুধু হাত বাঁধার কথা বলা হয়েছে। কোথায় বাঁধতে হবে তা বলা হয় নি। বিভিন্ন যয়ীফ হাদীসে হাত নাভীর নিচে বা উপরে বাঁধার কথা বলা হয়েছে। যে কোন এক জায়গায় বাঁধলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। বিতর্ক পত্যিাগ আবশ্যক। বিস্তারিত জানতে পড়ন আস-সুন্নহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান পুস্তকটি।
প্রশ্নঃ 327
ইস্তেখারার নামাজ কি? কেন ও কখন পড় হয়?
28 Dec 2025
গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় সামনে আসলে রাসূলুল্লাহ সা. দু রাকাত নামায পড়ে একটি দুয়া পড়তেন, এটাই ইস্তেখারার নামায। নিচের হাদীসটিতে থেকে আপনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারবেন।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاِسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ
অর্থ: হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. (গুরুত্বপূর্ণ) কাজ সমূহের ক্ষেত্রে আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোন (গুরুত্বপূর্ণ) কাজের ইচ্ছা করে সে যেন ফরজ ব্যতিত দুরাকাত নামায পড়ে অতঃপর এই দুআটি পাঠ করে
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ : وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ.
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৬৬ উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে উক্ত দুআটি পড়তে হবে। এটাই ইস্তিখারা। আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন, রাহে বেলায়াত বইটির ৪৩১-৪৩২ পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 326
হুজুর, আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রশ্ন: নামাযে আমরা সুরা ফাতেহার পর অন্য সুরা বা আয়াত পাঠ করি। সুরা ফাতেহার পর যে সুরা গুলি পাঠ করি তার কোন ধারা বাহিকতা আছে কি না। যেমন কুরানের সিরিয়াল নম্ব্রর অনুযায়ী প্রথমে পরের সুরা পরে তার আগের সুরা পাঠ করা যাবে কি না। যদি না যায়, কখনো ভুল হলে তার সংশোধন কিভাবে করব। দয়া করে যানাবেন।
28 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
নামাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে পড়লে নামাযের কোনই ক্ষতি হবে না। নমাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ফরজ ওয়াজিব কিছু না। তবে ফরজ নামাযে সূরার ধারবাহিকতা রক্ষা করাকে অনেকেই মুস্তাহাব বলেছেন। নফল-সুন্নাতের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই।
প্রশ্নঃ 318
masjider 2nd floor er 1st katar er soyab same hbe ki ground floor er mto?
28 Dec 2025
দ্বিতীয় তলার প্রথম কাতার প্রথম তলার শেষ কাতারের পরের কাতার হিসেবে গণ্য। প্রথম কাতারের যে ফজিলত আছে তা দ্বিতীয় তলার প্রথম কাতারের ক্ষেত্রে প্রযোয্য নয়।
প্রশ্নঃ 311
আমাদের এলাকার মসজিদের ঈমাম একজন সুন্নি। যার আকিদা হল নবিজী হাজির নাজির্। নবিজী গায়েব জানেন। তিনি নূরের তৈরি এবং ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা বৈধ। এখন প্রশ্ন হল এই ঈমামের পিছনে সালাত আদায় করা যাবে কি?
28 Dec 2025
জামাতে নামায আদায় করা আবশ্যক। সুতরাং ইমাম সাহেব গোনাহগার হলেও তার পিছনেই নামায আদায় করতে হবে যতক্ষন না সে স্পষ্ট কোন শিরকে বা কুফরে না লিপ্ত হোন, যেমন কবরে সিজদা করা। কবরে সিজদা করে এমন লোকের পিছনে নামায পড়া হারাম। না, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহন করা জায়েজ হবে না। কারণ যাকাত প্রদানের সময় যাকাত গ্রহীতাকে সম্পদের মালিক বানাতে হয় আর আপনি নিলে সেটা হচ্ছে না। তবে যদি মালিক আপনাকে উকিল (মাধ্যম) বানিয়ে আপনার কাছে আপনার এলাকার গরীবদের জন্য যাকাতের টাকা প্রেরন করে তাহলে জায়েজ হবে। অথবা আপনি যদি বলেন, আমি এই টাকা নেব না, গ্রামে গরীব মানুষদেরকে দেব আর মালিক দেন তাহলে জায়েজ হবে।
প্রশ্নঃ 296
Asalam waleikum. Is Paan haram? Also is tayamum ok in a work environment? I work in a factory in USA and they dont allow time for namaz so in a short time I do namaz. Can you masah in normal socks. Im a female. Thank you
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
পান একটি গাছের পাতা। এটা হারাম নয়। তবে র্জ্দ্দা যা তামাক থেকে উৎপন্ন হয় তা হারাম বলেই অধিকাংশ আলেম মনে করেন। আর এটাই যক্তিযুক্ত, কারণ জর্দ্দা মূলত তামাক আর তা শরীরের ক্ষতি করে। হ্যাঁ, আপনি চামড়ার মোজার উপর কিংবা মোটা কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করতে পারবেন। নামাযের সময় সময় কম থাকলে শুধু ফরজ নামায আদায় করবেন।
প্রশ্নঃ 294
যেখান পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে কাজ করে সেখানে মুসলিমদের কাজ করতে ইসলাম নিসেধ করে; কিন্তু আমাদের দেশে প্রায় সবসরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ছেল ও মেয়ে একসঙ্গে কাজ করে। এক্ষেত্রে আমাদের কি করা উচিত? একই বাপার স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতেও দেখা যাই
27 Dec 2025
নারী-পুরুষ এক সাথে কাজ করা জায়েজ নেই। যদিও নারী পর্দার সাথে থাকে। কারণ দেহের পর্দার পাশাপাশি মনের পর্দাও জরুরী। তবে একান্ত বাধ্য হলে পূর্ণ পর্দার সাথে কাজ করা যেতে পারে। একই বিধান স্কুল কলেজের ক্ষেত্রেও। একান্ত বাধ্য না হলে পুরুষদের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই চাকরী করা ঠিক নয়। পোশাকের পর্দা ছাড়াও পর্দার একটি বড় দিক নারী পুরুষের একত্রে অবস্থান বর্জন করা। একান্ত বাধ্য হলেই শুধু নিজের পোশাকের পরিপূর্ণ পর্দাসহ চাকরী করবেন এবং সাথে সাথে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বা পাশে বসা ও তাদের সাথে খোশগল্প সম্পূর্ণ বর্জন করবেন। এরূপ গল্পগুজব ক্রমান্বয়ে অন্তর থেকে তাকওয়া দূর করে দেয়, এমনকি পারিবারিক জীবনও ভাল লাগে না; বরং কর্মস্থলে এসে গল্প করতেই অধিক ভাল লাগে। এগুলো মুমিন-মুমিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন অবক্ষয়।
প্রশ্নঃ 293
হাইয়া আলাস সালাহ বলার সময় নামাজে দাড়ানো কি সুন্নাহ সম্মত?
27 Dec 2025
তাকবার তাহরীমার পূর্বেই কাতার সোজা করে নামাযের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। তাই ইকামত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতে হবে। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরূপ:
১. عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
২. عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف
ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 291
স্যার আস্সালামুআলাইকুম আমি সপ্নদোষের ব্যাপারে জানতে চাই যে যদি রাতে আমার সপ্নদোষ হয় তাহলে তো আমাকে ফজর নামায আদায় করতে হয় তো ওযু করাটাই তো কষ্টের ব্যাপার সেখানে গোসল করা বাধ্যতামুলক কি না?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হ্যাঁ, স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা অবশ্যক। তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই গোসল ফরজ হয় না বরং সিক্ততা অনুভব করলেই কেবল গোসল ওয়াজিব হবে। আয়েশা রা. বলেন,
سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الرَّجُلِ يَجِدُ الْبَلَلَ وَلاَ يَذْكُرُ احْتِلاَمًا قَالَ يَغْتَسِلُ . وَعَنِ الرَّجُلِ يَرَى أَنَّهُ قَدِ احْتَلَمَ وَلاَ يَجِدُ الْبَلَلَ قَالَ لاَ غُسْلَ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করা হলো এমন লোক সম্পর্কে যে (ঘুম থেকে উঠার পরে) সিক্ততা দেখে কিন্তু তার স্বপ্নদোষের কথা মনে নেই, তিনি বললেন, সে গোসল করবে। এবং এমন লোক সম্পর্কে যে স্বপ্ন দেখে কিন্তু সিক্ততা পাই না, তিনি বলেন তার উপর গোসল ফরজ নয়। … সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং২৩৬; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৩। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন হাদীসটি সহীহ আর শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন,হাদীসটি হাসান লিগয়রিহী। এই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, স্বপ্ন দোষ হলে তথা ঘুমের পরে বস্ত্রে সিক্ততা পাওয়া গেলে গোসল অপরিহার্য। তবে গোসল করলে যদি অসুস্থ হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে তাহলে তায়াম্মুম করেও নামায পড়া যাবে। তবে প্রথমে ওযু করে নিতে হবে।
প্রশ্নঃ 287
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: আমি একজন উনিভার্সিটির ছাত্র, হল এর মসজিদ এ নামাজ পড়ি কিন্তু আমাদের হলের মসজিদের ইমাম সাহেবের কুরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ। এক্ষেত্রে আমি একাকি ঘরে সালাত আদায় করলে সেটা জায়েজ হবে কিনা?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
যদি ইমাম সাহেবের কুরআন পড়া এতটা অশুদ্ধ হয় যে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে আপনাকে জামাতে নামায পড়ার পর পূনরায় একাকী নামায পড়তে হবে। আর যদি অর্থ পরিবর্তন না হয় তাহলে জামাতে নামায পড়বেন। এবং নতুন করে নামায পড়ার প্রয়োজন নেই। সর্বক্ষেত্রে জামাত আবশ্যক।
প্রশ্নঃ 286
আসসালামু আলাইকুম, আমি মহাম্মাদ আল আমিন। আমি স্যার এর একজন ভক্ত এবং নিয়মিত youtube এ স্যার এর লেকচার শুনি। স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া সম্পর্কে বলেছেন যে, ইমাম যখন চুপ থাকবে তখন মুক্তাদি সুরা ফাতেহা পড়বে আর ইমাম যখন কেরাত পড়বে মুক্তাদি তখন শুনবে।আমি জার্মানি তে থাকি। আমার পাশের রুম এর এক বড়ভাই আছেন ।ঊনি আজ বলল যে ইমাম যখন চুপ থাকবে তখন মুক্তাদি সুরা ফাতেহা পড়বে আর ইমাম যখন কেরাত পড়বে মুক্তাদি তখন শুনবে। এটা নাকি কুরআন হাদিস এর কথাও নেই। উলটা এরকম পরলে নাকি বেদাত হবে। অনুগ্রহ করে হাদিস ও কুরআন এই সমস্যার সমাধান দিলে উপকৃত হবো।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনি কী বলতে চেয়েছেন তা অস্পষ্ট। সূরা ফাতিহা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হলো ইমাম যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়ে অর্থাৎ ফজর,মাগরিব ও ইশার নামাযে মুক্তাদিগণ ইমামের পিছনে কুরআন থেকে কোন কিছু পড়বে না আর যে সব নামাযে নিঃশব্দে কুরআন পড়েন সে সব নামাযে কুরআন পাঠ করবে। এই পদ্ধতিটি সহীহ হাদীস দ্বরা প্রমানিত। সাহবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন,
كُنَّا نَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ الإِمَامِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ, وَفِي الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
আমরা জোহর ও আসরের প্রথম দু রাকআতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দু রাকআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৮৪৩। শায়খ আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, জোহর ও আসরের নামাযে কুরআন পড়তে হবে আর অন্যান্য নামাযে চুপ থাকতে হবে। না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
( انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح ) فقال : ( هل قرأ معي منكم أحد آنفا ) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع ) . [قال أبو هريرة : ] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [ وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام ])
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং ৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং ৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 276
আসসালামু আলাইকুম, সালাতের ঐক্য নামের একটা ভিডিও তে দেখলাম আপনি বলছেন রাসুল স: এর পিছনে কিরাত পরার পর জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা কি কিরাত পড়ছ? সাহাবারা বলল হা তখন রাসুল স: বললেন তোমরা এখন থেকে আর পরবেনা। হাদিস তো এখানেই শেষ না পরের কথা টুকু কেন বললেন না। সেটাই তো আসল কথা। তোমরা কিরাত পরবেনা ফাতেহা ছাড়া।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
না, ভাই। হাদীসের কোন অংশ বাদ দিয়ে বলা হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এ অর্থে কয়েকটি হাদীস রয়েছে। আমরা একটি হাদীসের মর্মার্থ বা সার সংক্ষেপ বলেছিলাম আর এবং আপনি অন্য হাদীস ভেবেছেন। উক্ত ভিডিওতে নিম্নের দুটি হাদীসের র্মর্ম সংক্ষেপে বলা হয়েছিল:
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم انصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة فقال هل قرأ معي أحد منكم آنفا ؟ فقال رجل نعم يا رسول الله قال إني أقول مالي أنازع القرآن ؟ ! قال فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه و سلم فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه و سلم من الصلوات بالقراءة حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? আবু হুরায়রা বলেন, এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। তিরমিযী: হাদিস নং ৩১২। ইমাম তিরমিযী (র.) বলেছেন, হাদীসটি হাসান আর শায়খ আলবানী বলেছেন, সহীহ। এই হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। শায়খ আলবানী রহ. নামাযে সূরা ফাতিহার পড়ার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এভাবে:
نصرف من صلاة جهر فيها بالقراءة ( وفي رواية : أنها صلاة الصبح) فقال : (هل قرأ معي منكم أحد آنفا) فقال رجل : نعم أنا يا رسول الله فقال : إني أقول : ( ما لي أنازع). [قال أبو هريرة :] فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم – فيما جهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة – حين سمعوا ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم [وقرؤوا في أنفسهم سرا فيما لا يجهر فيه الإمام] )
একদা স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামায শেষ করে ( কোন কোন বর্ণনায় ফজরের নামায) রাসূল (সা.) ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কেউ কি একটু আগে আমার সাথে পড়েছে? তখন একজন লোক বললেন, হ্যাঁঁ, ইয়া রাসূলূল্লাহ। এরপর রাসূল (সা.) বললেন, আমার সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করা হচ্ছে কেন? (আবু হুরায়রা বলেন,) এরপর থেকে যে সব নামাযে রাসূল (সা.) স্বশব্দে কুরআন পড়তেন তখন মানুষেরা পড়া থেকে বিরত থাকতেন। (এর যে সব নামাযে ইমাম স্বশব্দে কুরআন পড়েন না সেই নামাযে তারা মনে মনে কুরআন পড়তেন। এরপর তিনি আরো বলেন,
,وله شاهد من حديث عمر وفي آخرة ما لى أنازع القرآن ؟ !أما يكفى أحدكم قراءة إمامه ؟ إنما جعل الإمام ليؤتم به, فإذا قرأ فأنصتوا رواه البيهقى فى كتاب وجوب القراءة فى الصلاة كما فى الجامع الكبير للسيوطى
(৩/৩৩৪/২. এই হাদীসটির অর্থকে সমর্থন কারী (শাহেদ) আরো একটি হাদীস আছে যা উমার রা. থেকে বর্ণিত। সেই হাদীসটির শেষে আছে কেন আমার সাথে ঝগড়া করা হচ্ছে? তোমাদের কারো কারো জন্য কি তার ইমামের কুরআন পাঠ যথেষ্ঠ নয়? নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুস্মরণের জন্য সুতরাং তিনি যখন পড়বেন তখন তোমরা চুপ থাকবে। হাদীসটি ইমাম বাইহাক্কী বর্ণনা করেছেন কিতাবু উযুহিল কিরআত ফি আস-সালাত গ্রন্থে। এই কথা উল্লেখ আছে ইমাম সূয়ুতিরি আলজামিউল কাবীর কিতাবে। (সিফাতুস সালাত ৭১ পৃষ্ঠা। মুদ্রণ -১৯৮৭ ইংরেজী) একই ধরণের নির্দেশ নিচের হাদীসটিতেও দেয়া হয়েছে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلَّى الظُّهْرَ فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ أَوْ أَيُّكُمُ الْقَارِئُ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ قَدْ ظَنَنْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا
ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত যে, বাসূল সা. যুহরের নামায পড়ছিলেন,তখন এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে সাব্বিহ-সমা রব্বিকা… এই সূরা পড়তে শুরু করল, যখন রাসূল সা. নামায শেষে পিছনে ফিরলেন তখন বললেন তোমাদের মধ্যথেকে কে পড়ল কিংবা তোমাদের মধ্যে পাঠকারী কে? একজন লোক বললেন আমি। রাসূল সা. বললেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম, কে আমাবে কষ্ট দিেেচ্ছ। সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৩৯৮। এই হাদীসটিতেও পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয় নি। এগুলোর বিপরীতে কোনো কোনো হাদীসে সূরা ফাতিহা পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থে দুটি হাদীস বিদ্যমান। প্রথম হাদীসটি অজ্ঞাত নামা একজন সাহাবী থেকে এবং দ্বিতীয়টি উবাদা ইবনুস সামিত (রা) থেকে। প্রথম হাদীসটি সহীহ এবং দ্বিতীয় হাদীসটি দুর্বল। প্রথম হাদীসটি নিম্নরুপ:
عن محمد بن أبي عائشة عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم قال قال النبي صلى الله عليه و سلم : لعلكم تقرءون والإمام يقرأ مرتين أو ثلاثا قالوا يا رسول الله انا لنفعل قال فلا تفعلوا الا ان يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে আয়েশা একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) একদা বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পড়া অবস্থায ইমামের সাথে সূরা পড়, তিনি দুই তিনবার এই কথা বললেন। তখন সাহাবীর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা এমন করি। তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন করবে না, তবে তোমাদের যে কেউ সূরা ফাতিহা পড়তে পারো। মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং ১৮০৯৫ ও আস-সুনানুল কুবরা: হাদীস নং ৩০৩৯। শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, হাদীসের সনদ সহীহ, ইমাম বায়হাক্কী বলেছেন, সনদটি ভাল, শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, هذا إسناد جيد এটা ভাল সনদ। দ্বিতীয় হাদীস:
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا
অর্থ: উবাদা ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূল সা. এর পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। রাসূল সা.সূরা পড়ছিলেন কিন্তু পড়া তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। নামায শেষে তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা ইমামের পিছনে পড়ছিলে। আমরা বললাম হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে, কেননা যে তা না পড়বে তার নামায হবে না। আবু দাউদ: হাদীস নং৮২৩, তিরমিযী: হাদীস নং৩১১। বিভিন্ন কারণে হাদীসটি দূর্বল। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল ১. এই হাদীসের সনদে মাকহল নামে একজন মুদাল্লীস রাবী আছেন,যিনি এখানের মুয়ানয়ান বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লীস রাবীর মুয়ানয়ান বর্ণিত হাদীস দলীল যোগ্য নয়। ২. তিনি একেক সময় একেক জন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী যদিও হাদীসটি বর্ণনার পর হাসান বলেছেন কিন্তু মহাদ্দিসগনের তাহকীক মুতাবেক হাদীসটি যয়ীফ । আলবানী রহ. যয়ীফ বলেছেন। তাহকীক সহ বিস্তারিত জানার দেখুন যয়ীফ আবু দাউদ ১/৩১৭। উপরের আলোচনা থেকে আশা করি আপনি মূল বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ 270
স্যার রাতে অনেক আজে বাজে সপ্ন দেখে ফযয়ের সালত মিস হলে কি করব। দয়াকয়ে জানাবেন।
27 Dec 2025
ঘুমের শুরুতে দুআ পড়বেন। একটি দোয়া হলো,
بِاسْمِكَ رَبِّى وَضَعْتُ جَنْبِى وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِى فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৫২। হাদীস সহীহ। এছাড়াও সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সা. সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস একবার করে পড়ে দুহাত একত্র করে ফু দিয়ে শরীরে বুলতেন, এভাবে তিনবার করতেন। দোয়া পড়ার পর এলার্ন দিয়ে ঘুমাবেন। আশা করি আপনি যথাসমায়ে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।
প্রশ্নঃ 268
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: ১. এশার সালাত জামাতে গিয়ে শেষ ২ অথবা ১ রাকাত পেলে বাকি ২ অথবা ৩ রাকাত নিজে কিভাবে পড়বো সহিহ হাদিস এর আলোকে জানাবেন। ২.জামাতে ফরজ সালাতে সুরা ফাতিহা কি নিজে পড়বো নাকি শুনবো?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
১। দুই রাকআত পেলে বাকী দুই রাকআতের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পাঠ করবেন। আর এক রাকআত পেলে এক রাকআত পড়ে বসে তাশাহুদু পড়বেন। এরপর বাকী দুই রাকআত পড়বেন। আপনার নিজে আদায় করা প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা পড়বেন।
২। এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত আছে। পড় না পড়র উভয় অবস্থাতেই নামায হবে। ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। দলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা ইনশা আল্লাহ পরবর্তীতে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
প্রশ্নঃ 267
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: পুরুষ ও মহিলার নামাজের মাঝে কি কোনো পার্থক্য আছে? কেউ বলে কোন পার্থক্য নাই। আর কেউ বলে পার্থক্য আছে। দলিল সহ ব্যাখ্যা জানতে চাই।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মহিলা ও পুরুষের মাঝে নামাযে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। তবে রুক, সিজদা ইত্যাদী সময়ে অধিকতর পর্দা রক্ষার্থে এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ মিলিয়ে রাখা ভাল। অধিকাংশ ফকিহ ও ইমামের মত এটাই । হাদীসেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
প্রশ্নঃ 258
assalamu Alaikum. I am a fan of Assunah Trust Dr. Abdullah Jahangir Sir. I have a question to Sir regarding Witr Salah. I offer 3 rakah Witr Salah (two rakahs at a time 1 rakah seperately). Can I offer 2 rakahs of Witr Salah in mosque half an hour later 1 rakah at home?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
না, দুই রাকআত মসজিদে আর এক রাকআত বড়িতে, বিতর নামায এভাবে হবে না।
প্রশ্নঃ 255
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলঃ ১। জামাতে সালাতের সময় শেষ বইঠকে মুক্তাদি ভুলে শুধু মাত্র তাসাহুদ পরলে (দুরুদ ও মাসুরার দুয়া পরতে ভুলে গেলে) কি করবে? ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে সালত শেষ করলে কি তার জন্য যথেস্ট হবে? ২. গাইরে মাহারাম মহিলাদের সাথে রাস্থায় দেখা হলে সালাম দেয়ার বিধান জানতে চাই। (এর মাঝে অনেকে বেপরদাও থাকে) আল্লাহ আপনাদের নেক আমলে বরকত দান করুন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
১। হ্যাঁ, শুধু তাশাহুদু পড়লেই নামায হয়ে যাবে।
২। গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করতে হবে। অন্যথায় গাইরে মাহরাম মহিলাদেরকে সালাম দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ 252
আসসালামুআলাইকু ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার প্রশ্নএকজন মহিলা সন্তান প্রসাব করলে তাকে কত দিন পর নামায আদায় করতে হবে? ৪১ দিনে নাকি তার আগে?
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সন্তান প্রসাব করার পর রক্ত থেকে পবিত্র হলেই সে নামায আদায় করবে। পবিত্র হওয়ার পর থেকেই তার উপর নামায ফরজ। ৪০ দিন অপেক্ষা করা যাবে না। তবে যদি ৪০ দিনে পবিত্র হয় তাহলে ৪০ দিন পর নামায আদায় শুরু করবে। আর ৪০ দিন পরেও যদি রক্ত অব্যাহত থাকে তাহলেও ৪০ দিন পর থেকে নামায পড়তে হবে।
প্রশ্নঃ 247
মুহতারামঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্নঃ আমার জিবনের অনেক ওয়াক্ত সালত কাজা হয়ে গিয়েছে যার কোন হিসাব নেই। আমি কি ভাবে তা আদাই করব? বেশি বেশি নফল পরে না কি উমরি কাজার আদায় করে? উমরি কাজার বিসয়ে কি সহিহ হাদিস আছে? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান কারুন। আমিন।
27 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে কোন মুসলমান ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন নামাযই কাজা করেন নি সুতরাং ইচ্ছাকৃত ভাবে বছর বছর নামায কাজা করলে কি করতে হবে সে বিষয়ে সহীহ হাদীসে পাওয়া যাবে না। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো বহুদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নমায ছেড়ে দিলে (যাকে অনেকেই উমরি কাজা বলে) উক্ত নামায আদায় করতে হবে। তা সে যত ওয়াক্তই হোক না কেন। আর আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যেন তিনি ক্ষমা করে দেন। তবে কোন কোন আলেম বলেছেন,উমরি কাজা করা লাগবে না, আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, মাফ চাইতে হবে। সর্বাবস্থায় যথাসম্ভভ শুধু ফরয সালাতগুলো কাযা আদায় করা উচিত। সাধ্যের মধ্যে কাযা আদায় করার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং তাওবা ইসতিগফার করতে হবে। দলীল এবং ইমাম ও ফকীহদের মতামত বিস্তারতি জানতে দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যতুল কুয়েতিয়্যাহ, ৩৪/২৬; আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ও আদিল্লাতুহু, ২/৩০১; আদদুররিল মুযিয়্যাহ শারহু দুররিল বাহিয়্যাহ, ১/১০৮; আল ফিকহ্ আলা মাজাহিবিল আরবা, ১/৭৫৭।
প্রশ্নঃ 237
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: নামাজ শিক্ষার জন্য আমার একটি ভাল বই দরকার।
24 Dec 2025
আস-সুন্নাহ পালিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে, মা-শা-আল্লাহ। সংগ্রহ করুন।
প্রশ্নঃ 236
আসসালামু আলাইকুম! আমার প্রশ্নটা হলো আমি (ছেলে) তাকবিরে তাহরিমাতে হাত কতদূর উঠাবো? আপনি কোনটার পরামর্শ দেন? আর আপনি personally কতটুক পর্যন্ত হাত উঠান? জানালে উপকৃত হতাম! জাযাকাল্লাহ খাইর!!!
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তাকবীরে তাহরীমাতে হাত কাঁধ কিংবা কান পর্যন্ত উঠাতে হবে। যে কোন একটি পদ্ধতিতে আমল করলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। নিচের হাদীসদুটি দেখুন:
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِىُّ وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِى شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ – وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ – عَنِ الزُّهْرِىِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ مَنْكِبَيْهِ وَقَبْلَ أَنْ يَرْكَعَ وَإِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُهُمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ.
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখেছি, যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন…। সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৮৮৭।
حَدَّثَنِى أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِىُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِىَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ.
অর্থ: মালিক ইবনে হুয়াইরিস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন তাকবীর দিতেন তখন দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাতেন…। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৯১। উপরের হাদীসদ্বয় দ্বারা স্পষ্ট যে, যে কোন পদ্ধতিতে হাত উঠালেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। তবে কান পর্যন্ত উঠালে উভয় হাদীসের উপরই আমল হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ 234
সালাত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোন বইগুলো (বাংলা) দেখতি পারি? এ বিষয়ে আপনার বই কবে বাজারে আসবে?
24 Dec 2025
নিরপেক্ষ ভাবে লেখা বাংলা নামাযের বই চোখে পড়ে না। এই বিষয়ে আস-সুন্নাহ পালিকেশন্স থেকে একটি বই শীঘ্রই বাজারে আসবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নঃ 232
আসসালামু আলায়কুম । শাইখ আসরের সলাত কখন পড়া উত্তম? আমার কাছে একটা সলাতের চিরস্হায়ী সময়সূচি আছে, সেখানে আসরের সলাত আমাদের দেশের আযানের প্রায় একঘণ্টা পূর্বে হয় এবং আমি একটা হাদিস পড়েছি, সেখানে ফজরের ও আসরের সলাত দ্রুত আদায় করতে বলা হয়েছে । এক্ষেত্রে আসরের সলাত কখন পড়ব?
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আসরের সালাত মসজিদে জামাআতের সাথে আদায় করবেন ।উল্লেখিত দুটি সময়ের যে কোন সময় আসরের সালাদ আদায় করা যায়। তবে সর্বাবস্থায় জামাআতের সাথে আদায় করা জরুরী।
প্রশ্নঃ 231
মুহতারাম, আস-সালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন: এলাকার মসজিদের ঈমাম যদি সবসময় হাতেগুনা কয়েকটা সূরা (৫-৬ টা) দিয়েই ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরান, ফরজ নামাজের পরে হাত তুলে মুনাজাত করান, আখেরি ওয়াক্তে নামাজ পরান এবং নামাজে দ্রুত রুকু ও সিজদা দেন তবে কি এই অজুহাতে জামাত ত্যাগ করা যাবে? বিশেষ করে সেই ব্যাক্তি তার বিপরিতে ইনফিরাদী নামাজ পরলে অধিক সুন্নতের কাছাকাছি হতে পারে।
24 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। না, এই অজুহাতে জামাআত ত্যাগ করা জায়েজ হবে না। ইমাম পাপী হলেও তার পিছনে নামায পড়তে হবে। জামাআতে নামায পড়া আবশ্যক। যদি কোন মসজিদের নিয়মিত নিযুক্ত ইমাম পাপী হন তবে তার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ পাপী হবেন। সাধারণ মুসল্লি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। ঐক্য বজায় রেখে উত্তম ইমামের জন্য চেষ্টা করতে হবে। আর আপনি যে শিরকের কথা উল্লেখ করেছেন সম্ভবত তা এমন নয় যে, তার পিছনে সালাতই আদায় করা যাবে না। কারণ শিরকের অনেক পর্যায় আছে। সব শিরকই এই পর্যায়ের নয় যে, শিরক কারীর পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮
প্রশ্নঃ 225
রফউল ইয়াদাইন এর ব্যাপারে কিছু কথা জানতে চাই।
24 Dec 2025
রফউল ইয়াদাইনের অর্থ হাত উঠানো। বিভিন্ন হাদীসে রফউল ইয়াদাইন সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। কোনো হাদীসে একবার, কোনো হাদীসে তিনবার, কোনো হাদীসে চারবার, পাঁচবার রফউল ইয়াদাইন করার কথা আছে। সবগুলোই সহিহ। যেকোনো একটি পদ্ধতি অবলম্বন করলেই সুন্নাহ অনুসরণ করা হবে। বিস্তারত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন। রফেউল ইয়াদাইন নিয়ে ঝগড়ার নিরসন ! !
প্রশ্নঃ 212
আসসালামুয়ালিকুম। আমার প্রস্নঃ বাজারে আহ্ লে হাদিসের প্রতি ওপেন চেলেঞ্জ নামে একটি বই পাওয়া যায়। তাতে এক্ টা হাদিসের উদ্রিতি দেয়া আছেঃ জাবের ইবনে সামুরা (রা) থেকে বরনিত, রাসুল (সা) সাহাবা কেরামদের রাফাউল ইয়াদাঈন করতে দেখে বললেন, আমি তোমাদেরকে রাফাউল ইয়াদাঈন করতে দেখছি। মনে হচ্ছে যেন তোমাদের হাত গুলো দুস্ট ঘোড়ার লেজ এর মত। নামাজে শান্ত থাক। (মুসলিম) আমার প্রশ্নঃ এই হাদিস কি রুকু সিজদায় রাফাউল ইয়াদাঈন এর কথা বলা হয়েছে? না কি অন্ন কিছু?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
সাহাবী জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে উক্ত হাদীসের কয়েকটি মতন (বর্ণনা ) রয়েছে। নিচে দুটি বর্ণনা দেওয়া হল। এখান থেকে বিষয়টি আমাদের জন্য স্পষ্ট হবে।
১। عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ ্র مَا لِى أَرَاكُمْ رَافِعِى أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِى الصَّلاَةِ
অর্থ: জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের কাছে আসলেন। এরপর বললেন, কি হলো, আমি তোমাদের দেখছি তোমরা দুষ্ট ঘোড়ার লেজের মত তোমাদের হাতগুলো উঠাচ্ছ, নামাযে শান্ত থাক। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৯৬।
২। عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَكُنَّا إِذَا سَلَّمْنَا قُلْنَا بِأَيْدِينَا السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ فَنَظَرَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ ্র مَا شَأْنُكُمْ تُشِيرُونَ بِأَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمُسٍ إِذَا سَلَّمَ أَحَدُكُمْ فَلْيَلْتَفِتْ إِلَى صَاحِبِهِ وَلاَ يُومِئْ بِيَدِهِ
অর্থ: জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে নামায পড়ছিলাম। যখন আমরা সালাম ফিরালাম তখন আমরা আমাদের হাত দ্বারা ইশারা করে বললাম, আস-সালামু আলাইকুম, আস-সালামু আলাইকুম। তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কি হল! হাত দ্বারা ইশারা করছ, যেন দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে তখন তার পাশের লোকের দিকে তাকাবে, হাত দ্বারা ইশারা করবে না। সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৯৯৯।
উপরুক্ত হাদীস দুটি দ্বারা স্পষ্ট যে, নামাযে সালাম ফিরানোর সময় সাহাবীরা হাত উঠাতেন আর রাসূলুল্লাহ সা. তা করতে নিষেধ করেছেন। তবে রুকু সিজদাহতে রাফউল ইয়াদাইন করা না করা উভয় ক্ষেত্রেই সহীহ হাদীস আছে। এই নিয়ে বিতর্ক ত্যাগ করা উচিত।
প্রশ্নঃ 209
আস্সালামু আলাইকুম, কেমন আছেন, একটি ব্লগে দেখলাম একজন চরম ভাবে রাসুলের হাদিসের প্রতি ওনিহা সেই বলছে কোরআনে সালাতের কথা বলা হয়েছে কিন্তু কোন ওক্তে কয় রাকাত পড়তে হবে তা নেই এমন কি সে বলে তোমরা যে হাদিসের কথা বলো তাতেও নেই সুতরাং নিজের ইচ্ছা মাপিক রাকাত পড়া যাবে ওক্ত সমূহে। । এমন চরম অনিহা পুর্ণ কথা মানতে পারছি না তাই অনুগ্রহ করে কোরআন ও হাদিস থেকে দলিল গুলো দিয়ে উপকৃত করুন।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হাদীসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের রাকআত সংখা উল্লেখ আছে। ইসলাম সম্পর্কে চরম অজ্ঞ কিংবা ইসলামের চরম শত্রু, এমন লোকেরাই কেবল এধরনের মন্তব্য করতে পারে। নিচে সংক্ষেপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলো: নিচের উল্লেখিত এই হাদীস দ্বারা আমারা জানতে পারি যে, ফজরের নামায দুই রাকআত, জোহর, আসর, ঈশা চার রাকআত আর মাগরিব তিন রাকআত। হাদীসটি হলো:
عَنْ عَائِشَةَ ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَتْ : كَانَ أَوَّلَ مَا افْتُرِضَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاَةُ : رَكْعَتَانِ رَكْعَتَانِ، إِلاَّ الْمَغْرِبَ ، فَإِنَّهَا كَانَتْ ثَلاَثًا ، ثُمَّ أَتَمَّ اللَّهُ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْعِشَاءَ الآخِرَةَ أَرْبَعًا فِي الْحَضَرِ ، وَأَقَرَّ الصَّلاَةَ عَلَى فَرْضِهَا الأَوَّلِ فِي السَّفَرِ تعليق شعيب الأرنؤوط : إسناده حسن من أجل ابن إسحاق
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর উপর প্রথমে দুই দুই রাকআত করে নামায ফরয হয়েছিল, তবে মাগরিব তিন রাকআত ছিল। এরপর আল্লাহ তায়ালা সাধারণ সময়ে (সফর বাদে) জোহর, আসর ও ঈশা চার রাকআত পূর্ণ করে দেন। আর সফর অবস্থায় পূর্বের বিধান বহাল রাখলেন। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৬৩৮১। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরো কিছু হাদীস নিচে উল্লেখ করা হলো যে সব হাদীস থেকে আমরা বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাযের রাকআত সংখা জানতে পারি:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فِى الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِى الْحَضَرِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِى السَّفَرِ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا وَالْمَغْرِبَ فِى الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ سَوَاءً ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ لاَ تَنْقُصُ فِى الْحَضَرِ وَلاَ فِى السَّفَرِ وَهِىَ وِتْرُ النَّهَارِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে সফরে এবং সাধারণ সময়ে নামায পড়েছি। আমি তার সাথে সাধারণ অবস্থায় যোহর চার রাকআত পড়েছি। এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। আমি তাঁর সাথে সফরে জোহর দুই রাকআত পড়েছি এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। এরপর আর কিছু তিনি কোন নামায পড়েন নি। আর মাগরিব সফর ও সাধারণ উভয় অবস্থায় তিন রাকআত পড়েছি। সফরে এবং সাধারণ অবস্থা কোন সময়ই তা কম করা হয় না আর সেটা হলো দিনের বিতর এবং তারপর দুই রাকআত পড়েছি। সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ৫৫৫। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম জোহরের নামায চার রাকআত আর মাগরিবের নামায তিন রাকআত। আর এই নামাযেরগুলোর পরে দু রাকআত করে সুন্নাত আছে।
عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَجُلاً يُصَلِّى بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّى لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ. فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-
অর্থ: কাইস ইবনে আমর বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একজন লোককে দেখলেন, ফজরের নমাযের পর দুই রাকআত নামায পড়ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ফজরের নামায তো দুই রাকআত। তখন লোকটি বলল, আমি এর পূর্বের দুই রাকআত পড়িনি তাই এখন তা পড়ছি। তখন রাসূলুল্লাহ সা. চুপ থাকলেন। সুনানু আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৬৯। হাদীসটি সহীহ। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম ফজরের নামায দুই রাকআত।
عَنْ أَنَسٍ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ وَسَمِعْتُهُمْ يَصْرُخُونَ بِهِمَا جَمِيعًا
অর্থ: আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সফরের সময়) রাসূল সা. মদিনায় যোহর সালাত চার রাকআত আদায় করেন। (সফর শুরু করে) যুল হুলাইফা পৌঁছানোর পর তথায় আসর সালাত (কসর হিসেবে) দু রাকআত আদায় করেন। আমি শুনলাম সাহাবীগণ হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে (কিরান হজ্জের) তালবিয়া পড়ছেন চিৎকার করে। । সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫৪৮। উক্ত হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম জোহর নামায চার রাকআত ও আসরের নামায সফর অবস্থায় দুই রাকআত। এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে নামাযের রাকআত সংখা নিয়ে অনেক হাদীস উল্লেখ আছে। উল্লেখ্য এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামায সমূহের রাকআত সংখা নিয়ে আলোচনা করেছি। সুন্নত নামায নিয়ে নয়। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, কোন ওয়াক্তে নামায কত রাকআত তা হাদীসে বিষদভাবে বর্ণিত আছে। এছাড়াও এটা রাসূলুল্লাহ সা. থেকে এখন পর্যন্ত উম্মতের কর্মধারা দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং কারো কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই।
প্রশ্নঃ 204
আমি খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির শায়েখ এর অনেক বই পড়েছি। আমার প্রশ্ন পুরুষ ও মহিলাদের নামাজে কি কি পার্থক্য আছে? বিশেষ করে রুকু ও সিজদাহ ও বৈঠকের ক্ষেত্রে। দলিল্ভিত্তিক জানতে পারলে উপক্রিত হব। রাহে বেলায়েত বইটিতে খুজেছি কিন্তু পাইনি। সারের নামাজ বিষয়ে কোন বই আছে কি?
23 Dec 2025
প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
শুধু নামায বিষয়ে শায়েখের কোন বই নেই, তবে রাহে বেলায়াত বইয়ে নামায সম্পর্কে একটি আলাদা অধ্যায় আছে। এছাড়া আল ফিকহুল আকবারসহ কয়েকটি বইয়ে নামায বিষয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা আছে।
প্রশ্নঃ 174
Now a days some brothers with Sahih Aqida are saying that we are suppose to follow Saudi for starting Ramadan, yaumul arafat fasting and celebration of Eid occassions. In relevance to their logic they are interpreting the hadiths accordingly. It seems OK when they present their arguments. I have read the relevant fiqh of Abd al-Aziz ibn Baz. In counter to their logic what are we suppose to do now?
23 Dec 2025
হাদীস শরীফে চাঁদ দেখে সিয়াম ও ঈদুল ফিতরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহীত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ
যে দিন সকল মানুষ ঈদুল ফিত্র পালন করবে সে দিনই ঈদুল ফিত্র-এর দিন এবং যেদিন সকল মানুষ ঈদুল আযহা পালন করবে সে দিনই ঈদুল আযহার দিন। তিরমিযী, আস-সুনান ৩/১৬৫ (কিতাবুস সাওম, বাবু মা জাআ ফিল ফিতরি ওয়াল আদহা মাতা ইয়াকূনু) তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মাসরূক বলেন, আমি একবার আরাফার দিনে, অর্থাৎ যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে আয়েশা (রা)-এর নিকট গমন করি। তিনি বলেন, মাসরূককে ছাতু খাওয়াও এবং তাতে মিষ্টি বেশি করে দাও। মাসরূক বলেন, আমি বললাম, আরাফার দিন হিসাবে আজ তো রোযা রাখা দরকার ছিল, তবে আমি একটিমাত্র কারণে রোযা রাখি নি, তা হলো, চাঁদ দেখার বিষয়ে মতভেদ থাকার কারণে আমার ভয় হচ্ছিল যে, আজ হয়ত চাঁদের দশ তারিখ বা কুরবানীর দিন হবে। তখন আয়েশা (রা) বলেন:
اَلنَّحْرُ يَوْمَ يَنْحَرُ الإِمَامُ وَالْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ الإِمَامُ
যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান কুরবানীর দিন হিসাবে পালন করবেন সে দিনই কুরবানীর দিন। আর যেদিন রাষ্ট্রপ্রধান ঈদুল ফিতর পালন করবে সে দিনই ঈদের দিন। বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৫/১৭৫; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৯০; মুনযিরী, তারগীব ২/৬৮। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুমিনের জন্য নিজ দেশের সরকার ও জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ করা রাসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ। অন্য দেশের খবর তো দূরের কথা যদি কেউ নিজে চাঁদ দেখেন কিন্তু রাষ্ট্র তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করে তাহলে তিনিও একাকী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপরীতে ঈদ করতে পারবেন না। সাহাবী-তাবিয়ীগণ বলেছেন যে, এক্ষেত্রে ভুল হলেও ঈদ, হজ্জ, কুরবানী সবই আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ভুলের জন্য মুমিন কখনোই দায়ী হবেন না। ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ২/২৫৬। বর্তমানে সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ বিষয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। তবে সকল দেশে একদিনে ঈদ পালনের নামে একই দেশে একাধিক দিনে ঈদ পালন নিঃসন্দেহে ইসলামী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে তাত্ত্বিক গবেষণা ও মতবিনিময় অবশ্যই হতে পারে। রাষ্ট্র যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কোনো দেশের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ করে ঘোষণা দেয় তবে জনগণ তা অনুসরণ করবে। তবে আমাদের বুঝতে হবে যে, মহান আল্লাহ ইসলামকে সহজ-পালনীয় করেছেন। বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে বিশ্বের কোথাও চাঁদ উঠলে সকল দেশেই তা জানা সম্ভব। কিন্তু অতীতে তা ছিল না। আর দূরবর্তী এলাকার চাঁদের খবর নিতে কেউ চেষ্টা করেন নি। মদীনায় চাঁদ দেখার পরে -ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহায় রাতারাতি বা ৯ দিনের মধ্যে- দ্রুত দূরবর্তী অঞ্চলে সংবাদ প্রদানের চেষ্টা বা সর্বত্র একই দিনে ঈদ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা রাসূলুল্লাহ সা. বা খুলাফায়ে রাশেদীন করেন নি। সাহাবীগণের যুগ থেকেই একাধিক দিবসে ঈদ হয়েছে। মুসলিম, আস-সহীহ ২/৭৬৫ (কিতাবুস সাওম, বাবু … লিকুল্লি বালাদিন রুইয়াতুহুম)। একাধিক দিনে ঈদ পালন বিষয়ক হাদীসটি উদ্ধৃত করে ইমাম তিরমিযী বলেন:
وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتَهُمْ
আলিমগণের সিদ্ধান্ত এ হাদীসের উপরেই: প্রত্যেক দেশের মানুষ তাদের নিজেদের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে । তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৭৬ (কিতাবুস সাওম, বাবু …লিকুল্লি আহলি বালাদিন রুইয়াতুহুম)। বস্তুত, সাহাবী-তাবিয়ীগণ ও পরবর্তী আলিমগণ বিভিন্ন দেশে একাধিক দিনে ঈদ পালনকে ইসলামী নির্দেশনার বিরোধী বলে গণ্য করেন নি। পক্ষান্তরে একই রাষ্ট্রের মধ্যে বা একই ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) অধীনে একাধিক দিনে ঈদ পালনকে সকলেই নিষিদ্ধ, অবৈধ ও ইসলামী নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে গণ্য করেছেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ আদায় করার কথা বলেন নি।
প্রশ্নঃ 173
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমি জানতে চাচ্ছিলাম যে, রাফউল ইয়াদাইন ছাড়া নামাজ কি সুন্নাহ নির্দেশিত? এই ব্যাপারে যদি সহিহ হাদীস থাকে তাহলে জানালে খুব উপকৃত হবো।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। রাফয়ে ইয়াদায়ন করার ব্যাপারে হাদীস কয়েক ধরনের। কোন হাদীসে একবার (শুধু নিয়্যত করার সময়) কোন হাদীসে ৩ বার, কোন হাদীসে প্রত্যেক ওঠা-বসার সময় ইত্যাদী। আমার মনে হয়ে আপনি প্রথমটি অর্খাৎ শুধু নিয়ত করার সময় বাদে অন্য সময় রাফয়ে না করলে নামায হবে কিন তা জানতে চেয়েছেন। হ্যাঁ, এমন করলেও নামায সুন্নাহ সম্মত হবে। হাদীসটি দেখুন: –
حدثنا هناد حدثنا وكيع عن سفيان عن عاصم بن كليب عن عبد الرحمن بن الأسود عن علقمة قال قال عبد الله [بن مسعود] : ألا أصلي بكم صلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم ؟ فصلى فلم يرفع يديه إلا في أول مرة
অর্থ: আলকমাহ থেকে বণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি কি তোমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সা. এর নামায পড়ব না? এরপর তিনি নামায পড়লেন, তিনি শুধু একবারই হাত উঠালেন। জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৭। হাদীসটি বর্ণনা করার পর ইমম তিরমিযী বলেন,
حديث ابن مسعود حديث حسن وبه يقول غير واحد من أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين
ইবনে মাসউদ রা. এর হাদীসটি হাসান। এভাবে আমল করতে বলেছেন, অনেক সাহাবী ও তাবেঈ। قال الشيخ الألباني : صحيح শায়েখ আলবানী রহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ ও যয়ীফ সুনানে তিরমিযী,হাদীস নং ২৫৭। অন্যান্য মুহাদ্দিসগণও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আরো বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুন রফেউল ইয়াদাইন নিয়ে ঝগড়ার নিরসন
প্রশ্নঃ 165
মুনাজাত কি দিয়ে আরম্ভ করা সুন্নাত? দলিল সহ জানাবেন।
23 Dec 2025
এমন কোন সুনির্দিষ্ট দুআ নেই যার মাধ্যমে দুআ বা মুনাজাত আরম্ভ করা সুন্নাত। তবে দুআ করার কিছু আদব আছে। যেমন,দুআর শুরতে ও শেষে দরুদ শরীফ পাঠ করা, দুআর মধ্যে ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম বলা, দুআর সময় ক্বিবলামুখী হওয়া ও দুই হাত বুক পর্যন্ত কিংবা তারো বেশী উঠানো ইত্যাদি। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে দেখুন আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত রাহে বেলায়াত বইটি।
প্রশ্নঃ 159
Will my salah and other ibadah be accepted by Allah?
23 Dec 2025
You are eating from your income. So, there is no problem. It is your Fardh (obligatory) Duty to serve your parents. So stay with them and serve them. Try your best to make all expenses from your income. Pray to Allah for your parents hedayat. In any case you are not permitted to misbehave with them. See Sura Luqman 15 ayat
প্রশ্নঃ 158
Assalamu alaikum .. Sir I hv some problm on wearing of leather belt in namaz . As it permissible in namaz or not if not thn it makrooh or haram or other subcategory plz help . And also if leather is taken through halal way from animal like Ox ..cow etc. Plz hlp with refence.
23 Dec 2025
Wa Alaikumus Salam Wa Rahmatullah. No problem in wearing leather belt in namaz.
প্রশ্নঃ 155
আস-সালামু আলাইকুম, শায়খ আপনার কাছে অনুরোধ কোন ব্যক্তি যদি নামাজরত আবস্হায় থাকে তবে তার সামনে দিয়ে যাওয়ার বিধান ও হাদিস বর্ননা করবেন কি? খুব উপকৃত হতাম।
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، أَوْ شَهْرًا ، أَوْ سَنَةً
নামাযরত ব্যক্তির সামানে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তি যদি জানতো এতে কি পরিমাণ গুনাহ হয় তাহলে সে সামনে দিয়ে যাওয়ার চেয়ে চল্লিশ ( দিন,মাস কিংবা বছর উদ্দেশ্য, বর্ণনা স্পষ্ট নয়) দাঁড়িয়ে থাকাকে উত্তম মনে করত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১০। মুসনাদে বায-যারে (হাদীস নং ৩৭৮২) আছে চল্লিশ বছর। তবে সামনে কতুটুকু পরিমান জায়গার মধ্যে যেতে পারবে না সে বিষয়ে মতভেদ আছে। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
وَاخْتُلِفَ فِي تَحْدِيدِ ذَلِكَ فَقِيلَ إِذَا مَرَّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مِقْدَارِ سُجُودِهِ ، وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ وَقِيلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَدْرَ رَمْيَةٍ بِحَجَرٍ
অর্থ: এর সীমা নিয়ে মতভেদ আছে। কারো মতে, সিজাদা দেয়ার স্থান পর্যন্ত, কেউ কেউ বলেন, তিন হাত, আবার কেউ কেউ বলেন, পাথর নিক্ষেপ করলে যতুটুকু যায় সেই পরিমাণ। ফাতহুল বারী, ১/৫৮৫ (শামেলা)। এজন্য সর্বদা সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া পরিহার করবেন। একান্ত বাধ্য হলে অন্তত দু কাতার দূর থেকে যাবেন।
প্রশ্নঃ 154
assalamualaikum,sir, emamer pisone sura fatiha pora ki foroj? othoba konsomay sura fatiha porta hobe? sura fatiha emamer pisona na porlay namaj hobe ki?
23 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পডতে হবে। তবে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না এই নিয়ে আলেমদের মাঝে কয়েকটি মত রয়েছে রয়েছে। এক. নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। দুই. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। তিন. ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে অর্থাৎ যে সব নামাযে স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় সে সব নামাযে সূরা ফাতিহা পড়বে না। অর যে সব নামাযে কুরআন নিঃশব্দে পড়া হয় অর্থাৎ জোহর এবং আসরের নামাযে পড়া আবশ্যক। চার. কোন সময়ই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না। দলীলের আলোকে মনে হয় সরব নামাযে, অর্থাৎ স্বশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না আর নীরব নামাযে, অর্থাৎ নিঃশব্দে কুরআন পড়া হয় এমন নামাযে ইমামের পিছনে মুক্তাদিও সূরা পড়বেন। দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা ইনশা আল্লাহ পরবর্তীতে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
প্রশ্নঃ 131
AMAR JUHORER WAQT A JODI NAMAJE KHUBI AGROHO BERE JAI TO ASORER SALATE THIK TAR BIPORIT R AIM TAHAJJOT SALAT NIYOMITO ADAY KORTE CHAI KINTU KONO VABEI PARCHINA,HE KONO SIJDATE AMAR MONER THEKE ONEK KICHUR CHAOAR ACHE SETA ARBITE HOITO AMI JANINA AMI KIVABE CHABO,JEMON AMAR SONSARE KONO SOMOSSA ETA ARBITE AMAR JANA NEI AMI SAJDAI KIVABABE BOLBO JANALE KHUB UPOKRITO HOBO INSALLAH
23 Dec 2025
আপনি মনকে ভাল কাজের উপর দৃঢ় করুন। আর বেশী বেশী দোয়া করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি নিয়মিত নামায আদায় করতে পারবেন। তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য নফল আদায় করাও আপনার জন্য তখন সহজ হয়ে যাবে। সিজদায় কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়া কিংবা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়ার অর্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যে কোন দোয়া পাঠ করা যায়। আরবী ছাড়া অন্য ভাষা তথা মাতৃভাষায় দোয়া করার ব্যাপারে সামান্য মতভেদ আছে।কোন কোন হানাফী ফিকহার কিতাবে মাকরুহ বলা হয়েছে। কেউ কেউ মাকরুহ তানযীহ বলেছেন আবার কেউ কেউ মাকরুহ তাহরীমা বলেছেন। তবে অধিকাংশ আলেম জায়েজ বলেছেন। এক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ হলো কুরআন সুন্নাতে বর্ণিত কোন দোয়া পাঠ করা। আর যদি কুরআন-সুন্নাতে বর্ণিত দোয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোন দোয়া সিজদাতে মাতৃভাষায় পাঠ করে তবে আশা করয যায় না-জায়েজ হবে না, জায়েজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 123
বেরেলভী ইমামের পিছনে সালাত
22 Dec 2025
বেরেলভীদের ভিতর কয়েকটি উপদল আছে। তারা সবাই বিদআত ভালবাসেন। অনেকে সুস্পষ্ট শিরকের মধ্যে লিপ্ত। সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক পাওয়া গেলে তার পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না। কিন্তু সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কুফর-শিরক না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অজুহাতে জামাআত বা জুমুআ ত্যাগ করা যাবে না। আপনি যদি অন্য কোন ভাল ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের সুযোগ পান তাহলে ভাল, নইলে এরুপ পাপী ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করতে হবে। নেককার ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। প্রসিদ্ধ কালামবিদ ইমাম আবুল হাসান আশয়ারী র. (৩২৪হি.) বলেন,
ومن ديننا أن نصلي الجمعة والأعياد وسائر الصلوات والجماعات خلف كل بر وفاجر كما روى أن عبد الله بن عمر رضى الله عنهم كان يصلي خلف الحجاج
অর্থ: আর আমাদের দীনের অন্যতম দিক যে, আমরা জুমুয়ার সালাত, ঈদগুলো এবং অন্যান্য সকল সালাত এবং জামাআত নেককার ও বদকারের পিছনে আদায় করি। যেমনিভাবে বর্ণিত আছে,আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে সালাত আদায় করতেন (মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস নং ১৪১৭৫)। আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়ানাহ, ১/২০। দলীলসহ বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার রচিত আল-ফিকহুল আকবার পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৭৯ এবং রাহে বেলায়াত পৃষ্ঠা ৫৬৩-৫৬৮।
প্রশ্নঃ 119
At Foroj prayer about dowa before salam
22 Dec 2025
হ্যাঁ, আপনি প্রচলিত দুআ মাসুরা সহ কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত যে কোনো দুআ বা কিংবা কুরআন বা হাদীসে বর্ণিত দুয়ার অর্থের সাথে মিল রেখে যে কোন দুআ পড়তে পারেন। ছয়টি দুআ মাসুরা সহ এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত বইয়ের ৩৮৩-৩৮৯পৃষ্ঠা।
প্রশ্নঃ 117
hanafi madhab er witr salat er niyom ki correct?
22 Dec 2025
হ্যাঁ, হানাফী মাজাহাবের বিতর সালাতের নিয়ম সঠিক। রাসূলুল্লাহ সা. বিত্র সালাত বিভিন্ন পদ্ধতিতে আদায় করেছেন বলে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত। হানাফী মাযহাবে যে পদ্ধতিতে বিতর পড়া হয় সেটি উক্ত সহীহ পদ্ধতিগুলোর একটি। তা হলো দু রাকআতের শেষে বসে আত-তাহিয়্যাতু পাঠ করে উঠে দাড়িয়ে তৃতীয় রাকআত আদায় করা। আল্লামা ইবনে হাযাম জাহেরী রহ. আল মুহল্লা (২/৮২) বলেছেন,
والوتر وتهجد الليل ينقسم على ثلاثة عشر وجها، أيها أفعل أجزأه
বিতর ও রাতের তাহাজ্জুদ ১৩ টি পদ্ধতি রয়েছে। যে কোন এক পদ্ধতিতে পড়লেই যথেষ্ট হবে। এরপর তিনি দলীল সহ ১৩ পদ্ধতিই উল্লেখ করেছেন। ১২ নং পদ্ধতি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
والثاني عشر: أن يصلي ثلاث ركعات، يجلس في الثانية، ثم يقوم دون تسليم و يأتي بالثالثة، ثم يجلس ويتشهد ويسلم، كصلاة المغرب. وهو اختيار أبي حنيفة
১২নং তিন রাকআত নামায পড়বে, দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, এরপর সালাম না ফিরিয়ে উঠবে এবং তৃতীয় রাকআত পড়বে। তারপর বসে তাশাহুদু পড়ে সালাম ফিরাবে মাগরিবের নামাযের মত। আর এটা আবু হানীফা পছন্দ করেছেন। এরপর তিনি এই মতের পক্ষে নিচের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়েছেন।
عن سعد بن هشام أن عائشة حدثته : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان لا يسلم في ركعتي الوتر
অর্থ: আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বিত্রের দুই রাকআতে সালাম ফিরাতেন না। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৯৮। মুসতাদরক হাকিম, হাদীস নং ১১৩৯। ইমাম জাহবী এবং হাকিম রহ. বলেছেন, হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। অনেক সাহবী রা. থেকে এমন কথা বর্ণিত আছে। ইবনে উমার রা. থেকে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, صلاة المغرب وتر النهار فأوتروا صلاة الليل মাগরিব হলো দিনের বিত্র, তোমরা রাতের বিত্র আদায় করো। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৮৪৭। শায়খ শুয়াইব আরনাউত বলেছেন, বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। এখানে রাসূলুল্লাহ সা. মাগরিবের নামযকে বিতরের নামাযের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন,
الْوِتْرُ ثَلاَثٌ رَكَعَاتٍ كَصَلاَةِ الْمَغْرِبِ
বিতর মাগরিবের মত তিন রাকআত। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৮৯। বর্ণনাকারীগণ ছিকাহ। অন্য সনদেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযী (২৯৪) লিখিত কিতাব সালাতিল বিতর গ্রন্থে অনেক সাহাবী এবং তাবিয়ী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তারা মাগরিবের মত তিন রাকআত বিতর আদায় করতেন। (পৃষ্ঠা ২৯৪) একটি হাদীসে মাগরিবের মত তিন রাকাআত বিতর পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং ৫ বা ৭ রাকআত বিতর পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ হাদীসটি দ্বারা অনেকে প্রমাণ করেন যে, দ্বিতীয় রাকআতে বৈঠক করে তিন রাকআত বিতর পড়া সঠিক নয়। হাদীসটি নিম্নরূপ:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تُوتِرُوا بِثَلاَثٍ أَوْتِرُوا بِخَمْسٍ أَوْ سَبْعٍ ، وَلاَ تُشَبِّهُوا بِصَلاَةِ الْمَغْرِبِ
আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তিন রাকআত বিতর পড়ো না, পাঁচ বা সাত রাকআত পড়ো। মাগরিবের নামাযের সাথে সাদৃশ্য করো না। সুনানে দারে কুতনী, হাদীস নং ১৬৫০। ইমাম দারে কুতনী বলেছেন, হাদীসটির রাবীগণ ছিকাহ। এখানে লক্ষনীয় যে, মাগরিবের মত বিতর না পড়ার এ হাদীসটিতে এবং এ অর্থের অন্যান্য হাদীসে পদ্ধতিগত পার্থক্যের কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং রাকআতের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্পষ্টত বলা হয়েছে, সালাতুল বিত্র মাগরিবের মত তিন রাকআত না পড়ে পাঁচ বা সাত রাকআত পড়। অর্থাৎ তিন রাকআত পড়লেই তা মাগরিবের মত হয়ে গেল, যে পদ্ধতিতেই তা পড়া হোক না কেন। এখন যদি কেউ ধারণা করেন, দ্বিতীয় রাকাতে না বসে তিন রাকআত বিতর পড়ে তিনি এ হাদীসটির উপর আমল করলেন তবে তার এ ধারণাকে সঠিক বলা কষ্টকর। এ হাদীসটির বাহ্যিক নির্দেশনা থেকে আমরা এতটুকুই প্রমাণ করতে পারি যে, তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ নয়, বরং ৫ বা ৭ রাকআত পড়তে হবে। তবে এর বিপরীতে অনেক সহীহ হাদীসে তিন রাকআত বিতর পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তিন রাকআত বিতর পড়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল হাদীসের আলোকে উপরের নিষেধার্থক হাদীসটির অর্থ হলো, শুধু তিন রাকআত বিতর পড়া বৈধ,তবে ৫ বা ৭ রাকতআত পড়া উত্তম। এ অর্থে আয়েশা (রা) বলেন,
لاَ تُوتَرُ بِثَلاَثٍ بُتْرٍ ، صَلِّ قَبْلَهَا رَكْعَتَيْنِ ، أَوْ أَرْبَعًا
তুমি শুধু তিন রাকআত বিতর পড়বে না, তুমি তিন রাকআতের পূর্বে দু রাকআত বা চার রাকআত (কিয়ামুল্লাইল সালাত) পড়বে। মুসান্নফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৬৮৯৮। হাদীসটির সনদ সহীহ বলে প্রতীয়মান। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হানাফী মাজাহাবের বিত্র নামায সুন্নাহ সম্মত। মুমিনগণের উচিৎ পদ্ধতিবিষয়ক বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া। যে পদ্ধতি আপনার নিকট অধিক গ্রহনযোগ্য সে পদ্ধতিতে বিতর আদায় করুন এবং হাদীসে প্রমাণিত অন্যান্য পদ্ধতিকে সম্মান করুন। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত রাহে বেলায়াত ৪১৩-৪১৭।
প্রশ্নঃ 83
স্যার নামাজের ভিতর কিছু খেয়ে ফেললে নামাজ থাকে না কিন্তু শুনেছি কিন্তু অযুও থাকে না, এটা কি ঠিক স্যার?
20 Dec 2025
নামাযের মধ্যে কিছূ খেলে নামায ভেঙ্গে যায়। তবে অযু ভাঙ্গে না। আপনি যা শুনেছেন তা ঠিক নয়।
প্রশ্নঃ 78
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, স্যার শুধু রুকু পেলেই কি নামাজের সেই রাকাত পাওয়া যাবে? সানা ও সুরা ফাতিহা পড়ার সময় যদি না পাই তবুও কি সেই রাকাত পাবো? তাড়াহুড়ো করে রুকু পেলেই কি সেই রাকাত সালাতের অন্তর্ভুক্ত হবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হ্যাঁ, শুধু রুকু পেলেই ঐ রাকায়াত পেয়েছে বলে গন্য হবে। চার ইমাম সহ অধিকাংশ ইমাম ও ফকীহর অভিমত এটাই। তাড়াহুড়ো করে রুকু পেলেও রাকয়াত রাকায়াত পেয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন। বিস্তারিত নিম্নরুপ: আল্লামা ইবনুল মুনযির (মৃত্যু ৩১৯ হি.) বলেন,
وَمِمَّنْ قَالَ إِنَّ مَنْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ رَاكِعًا فَقَدْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَمَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، وَالشَّافِعِيُّ، وَأَحْمَدُ، وَإِسْحَاقُ، وَأَبُو ثَوْرٍ، وَحُكِيَ ذَلِكَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَالنُّعْمَانِ وَفِيهِ قَوْلٌ ثَانٍ: قَالَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَ الْقَوْمَ رُكُوعًا فَلَا يَعْتَدَّ بِالرَّكْعَةِ
অর্থ: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে পেল সে রাকায়াত পেল একথা যারা বলেন, তাদের ভিতর রয়েছেন সাইদ ইবনে মুসায়্যাব, মায়মুন ইবনে মিহরন, সুফইয়ান সাউরী, আউযায়ী, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবু ছাওর। আর এমনই বর্ণিত আছে মালেক ইবনে আনাস ও নুমান (আবু হানীফা) থেকে। এই বিষয়ে আরেকটি মত হল, যে ব্যক্তি লোকদেরকে রুকুতে পাই সে ঐরুকুকে রাকয়াত হিসাবে গন্য করবে না। এটা বলেছেন আবু হুরায়রা র.। আল-আউসাত ফিস-সুনানি ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ: ৪/১৯৬, ২০২৫ নং হাদীসের আলোচনায়। আরো দেখুন, আলফিকহুল ইসলামিয়্যু ওয়া আদিল্লাতহু:২/৩২৫। এই বিষয়ে দলীলসমূহের কিছু নিচে বর্ণণা করা হল:
১. عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ رَاكِعٌ فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا ، وَلاَ تَعُدْ
অর্থ: আবু বাকরতা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূর সা. নামাযে রুকু করছেন এঅবস্থায় তিনি তাঁর কাছে উপনীত হলেন। তখন তিনি কাতারে পৌছার পূর্বেই রুকু করলেন। এরপর বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট বললেন। তখন রাসলুল্লাহ সা. বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন, আর এমন করেব না।সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৭৮৩। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, মুসল্লী যদি ইমামকে রুকুতে পায় তাহলে সে রাকায়াত পেয়েছে হিসাবেই ধরা হবে। কারন এই সাহাবী জামায়াতে নামায পড়তে গিয়ে ইমামকে তথা রাসূলুল্লাহ সা. কে রুকুতে পেয়েছেন আর রাসূল সা. তাঁর প্রশংসা করেছেন এবংতাকে পূনরায় নামায পড়তে আদেশ করেননি।
২. عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم - إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا وَلاَ تَعُدُّوهَا شَيْئًا وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন,রাসূল সা. বলেছেন, আমরা সিজদায় থাকাকালীন যখন তোমরা নামাযে আসবে তখন তোমরা সিজাদাহ করবে আর ওটাকে রাকয়াত হিসাবে গণনা করবে না। এবং যে ব্যক্তি রুকু পেল সে নামায তথা রাকয়াত পেল । সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং ৮৯৩, সহীহ ইবনু খুজায়মা: হাদীস নং ১২১। মুসতাদরকে হাকেম: হাদীস নং ৭৮৩। হাদিসটির সনদে কিছুটা দুর্বলতা আছে তবে এই অর্থের অনেকগুলো সহীহ হাদীস থাকায় হাফেজ জাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাকেম রহ. বলেছেন, বলেছেন সহীহুল ইসনাদ। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এই হাদীসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জন্য দেখুন, সহীহ আবু দাউদ:হাদীস নং ৮৩২।
৩. عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ رَجُلٍ عَنِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ إِذَا جِئْتُمْ وَالإِمَامُ رَاكِعٌ فَارْكَعُوا ، وَإِنْ سَاجِدًا فَاسْجُدُوا ، وَلاَ تَعْتَدُّوا بِالسُّجُودِ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُ الرُّكُوعُ
তাবেঈ আব্দুল আযীয ইবনে রুফা একজন লোক থেকে তিনি রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সা. বলেছেন, ইমাম রুকুতে থাকা অবস্থায় যখন তোমরা আসবে তখন তেমরা রুকু করবে আর সিজদায় থাকা অবস্থায় আসলে সিজদাহ করবে। তবে যখন সিজদার সাথে রুকু থাকবে না তখন তাকে রাকয়াত হিসাবে গন্য করবে না। আসসুনানুল কুবরা: হাদীস নং ২৬৭৯। শায়খ আলবানী রহ. সহীহ আবু দাউদ এর মধ্যে উক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন,
قلت: وإسناده صحيح؛ إن كان الرجل الذي لم يسمَّ صحابيّاً، ولعله الراجح؛فإن عبد العزيز بن رفيع تابعي جليل، روى عن جماعة من الصحابة؛ منهم العبادلة:ابن عمر وابن عباس وابن الزبير. وسواءَّ كان هو واحداً من هؤلاء أو رجلاً آخر من الصحابة؛ فالصحابة كلهم عدول
আমি বলব, হাদীসটির সনদ সহীহ; যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি তিনি যদি সাহাবী হন আর এটাই এখানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। কেননা আব্দুল আযীয ইবনে রুফা একজন বড়মাপের তাবেঈ। তিনি অনেক সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে রয়েছে ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের। বর্ণনাকারী এই সহাবীদের কেউ হোক কিংবা অন্য কোন সাহাবী হোক সমান কথা। কেননা সকল সাহাবী আদেল (ন্যায়পরায়ণ)। সহীহ আবু দাউদ: হাদীস নং৮৩২। এছাড়াও সাহাবীর নাম সহ হাদীসটি উক্ত তাবেয়ী থেকে পাওয়া যায় । শায়খ আলবনী রহ. সিলসিলাতুস সহীহাহ কিতাবে বলেছেন এই হাদীসটি ইসহাক ইবনে মানসরি আলমারওযী মাসাইলে আহমাদ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি নিম্নরুপ:
৪. عبد العزيز بن رفيع عن ابن مغفل المزني قال : قال النبي صلى الله عليه وسلم إذا وجدتم الإمام ساجدا فاسجدوا أو راكعا فاركعوا أو قائما فقوموا و لا تعدوا بالسجود إذا لم تدركوا الركعة
আব্দুল আযীয ইবনে রুফা ইবনে মুগফ্ফাল আলমুযানী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন, যখন তোমরা ইমামকে সিজদারত অবস্থায় পাবে তখন তোমরা সিজদাহ করবে, যখন রুকুরত পাবে তখন রুকু করবে আর যখন দাড়ানো অবস্থায় পাবে তখন দাড়াবে। রুকু না পেলে সিজদাকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করবে না। হাদীসটি উল্লেখ করার পর শায়খ আলবনী বলেছেন, এটা সহীহ সনদ, এর বর্ণনাকারী সবাই ছিকাহ,বুখারী মুসলিমের রাবী। বিস্তারিত দেখুন, সিলসিলাতুস সহীহাহ হাদীস নং ১১৪৪। মারফু হাদীসের পাশাপাশি অনেক সাহবী থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে তারা রুকু পাওয়াকে রাকয়াত পাওয়া হিসাবেই গণ্য করতেন। তার কিছু নিম্নরুপ:
৫. عن مالك عن نافع :أن عبد الله بن عمر بن الخطاب كان يقول إذا فاتتك الركعة فقد فاتتك السجدة
ইমাম মালেক রহ. নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলতেন, যখন তোমার থেকে রুকু ছুটে গেল তখন তোমার থেকে সিজদাহ ছুটে গেল। মুয়ত্তা মালেক: হাদীস নং ১৬।
৬. هُبَيْرَة بن يَرِيم عَنْ عَلِيٍّ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، قَالا: مَنْ لَمْ يُدْرِكِ الرَّكْعَةَ فَلا يَعْتَدُّ بِالسَّجْدَةِ
হুবাইরা ইবনে মারয়াম আলী ও ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন, যে রুকু পাবে না সে সিজদাহকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করবে না। আলমুজামুল কাবীর লিত-তবরনী: হাদীস নং ৯২৪৬ । আল্লামা হ্য়াছামী বলেছেন, বর্ণনাকারীগন ছিকাহ। মাজমাউজ ঝাওইদ: হাদীস নং ২৪০২ একই সনদে বর্ণিত আরেকটি হাদীস,
৭. هُبَيْرَة بن يَرِيم عن بن مسعود قال من فاته الركوع فلا يعتد بالسجود
হুবাইরা ইবনে মারয়াম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যার রুকু ছুটে যাবে সে যেন সিজদাহকে রাকয়াত গন্য না করে। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস নং ৩৩৭২।
৮. عَنْ أَبِى الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِى ابْنَ مَسْعُودٍ قَالَ : مَنْ لَمْ يُدْرِكِ الإِمَامَ رَاكِعًا لَمْ يُدْرِكْ تِلْكَ الرَّكْعَةَ
আবুল আহওয়াস আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিি ন বলেছেন,যে ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল না সে ঐরাকয়াত পেল না। আসসুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্কী: হাদীস নং ২৬৮১। শায়খ আলবানী বলেছেন, সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল: ৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
৯. عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِى ابْنَ مَسْعُودٍ مِنْ دَارِهِ إِلَى الْمَسْجِدِ ، فَلَمَّا تَوَسَّطْنَا الْمَسْجِدَ رَكَعَ الإِمَامُ ، فَكَبَّرَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَكَعَ وَرَكَعْتُ مَعَهُ ، ثُمَّ مَشَيْنَا رَاكِعَيْنِ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى الصَّفِّ حِينَ رَفَعَ الْقَوْمُ رُءُوسَهُمْ ، فَلَمَّا قَضَى الإِمَامُ الصَّلاَةَ قُمْتُ وَأَنَا أَرَى أَنِّى لَمْ أُدْرِكْ ، فَأَخَذَ عَبْدُ اللَّهِ بِيَدِى وَأَجْلَسَنِى ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّكَ قَدْ أَدْرَكْتَ
যায়দ ইবনে ওহাব বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর সাথে তাঁর বাড়ী থেকে মসজিদে গেলাম। আমরা যখন মসজিদের মাঝে তখন ইমাম রুকুতে গেল তখন আব্দুল্লাহ তাকদিয়ে রুকুতে গেলেন, আমিও তাঁর সাথে গেলাম। এরপর আমরা রুকু অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে কাতারে পৌছলাম, এই সময়ের মধ্যে মুসল্লীরা তাদের মাথা উঠালো। যখন ইমাম নামায শেষ করলেন তখন আমি এই ভেবে দাড়ালাম যে আমি ঐরাকয়াত পায়নি। তখন আব্দুল্লাহ আমাকে হাত ধরে বসিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি রাকয়াত পেয়েছ। আসসুনাসনুল কুবরা লিলবায়হাক্কী; হাদীস নং ২৬৯০। শায়খ আলবানী বলেছেন সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল:৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
১০. عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : إذَا جِئْت وَالإِمَامُ رَاكِعٌ فَوَضَعْتَ يَدَيْك عَلَى رُكْبَتَيْك قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ ، فَقَدْ أَدْرَكْت
নাফে ইবনে উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন ইমামের রুকু অবস্থায় যখন আসবে তখন যদি ইমামের মাথা তোলার পূর্বেই তুমি তোমার হাত হাঁটুর উপর রাখ তাহলে তুমি রাকয়াত পাবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা: হাদীস নং ২৫৩৪। শায়খ আলবানী বলেছেন,সনদ সহীহ। ইরওউল গলীল:৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়।
১১. عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، كَانَ يَرْكَعُ عَلَى عَتَبَةِ الْمَسْجِدِ وَوَجْهُهُ إِلَى الْقِبْلَةِ, ثُمَّ يَمْشِي مُعْتَرِضًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ يَعْتَدُّ بِهَا إِنْ وَصَلَ إِلَى الصَّفِّ أَوْ لَمْ يَصِلْ
খারিজা ইবনে যাইদ ইবনে ছাবিত বর্ণনা করেন যে, যাইদ ইবনে ছাবিত মসজিদের চৌকাঠে রুকু করতেন আর তাঁর চেহারা ক্বিবলামখী থাকত। এরপর হেঁটে হেঁটে সামনে যেতেন। তিনি এটাকে রাকয়াত হিসাবে গণ্য করতেন, কাতরে পৌছান কিংবা না পৌছান। শরহে মায়ানিল আছার: হাদীস নং ২৩২৬। শায়খ আলবানী রহ. বলেছেন, সনদ ভাল। ইরওউল গলীল: ৪৯৬ নং হাদীসের আলোচনায়। উক্ত মাসয়ালার ক্ষেত্রে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে শায়খ আলবানী রহ. বলেন,
وردت عن جماعة من الصحابة بأسانيد صحيحة أن مدرك الركوع مدرك للركعة، ولم يصح عن أحد منهم خلاف ذلك
একদল সাহাবী থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, যে রুকু পাবে সে রাকয়াত পাবে। একজন সাহাবী থেকেও সহীহ সূত্রে এর বিপরীত বর্ণিত নেই। সহীহ আবু দাউদ: ৮৩২ নং হাদীসের আলোচনায়। তাড়াহুড়ো না করার দলীল:
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : إذا أتيتم الصلاة فلا تأتوها وأنتم تسعون وأتوها تمشون وعليكم السكينة فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا
অর্থ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তোমরা তাড়াহুড়ো করে নামাযে আসবে না, ধীরস্থীর ভাবে আসবে। ইমামের সাথে যতটুকু পাবে পড়বে আর যা পাবে না পরে পড়বে। সুনানু নাসায়ী: হাদীস নং ৮৬১। শায়খ আলবনী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। এই হাদীসে পষ্টভাবে তাড়াহুড়ো করে নামাযে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যেভাবেই হোক রুকু পেলে রাকয়াত রাকায়অত পেয়েছে বলেই গন্য হবে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হাদীসের আলোকে মুসল্লাীর রুকু পাওয়াকে রাকায়াত পাওয়া হিসাবেই ধরা হবে। আর নামাযে ধীরস্থীর ভাবে আসতে হবে, তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ইমামের সাথে যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকু আদায় করতে হবে বাদবাকী পরে পড়তে হবে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, পুরো নামায পাওয়া জন্য কোন চেষ্টা থাকবে না, মনে কোন চিন্তা থাকবে না। এই হাদীসে শুধু নামাযের জন্য মাসজিদে আসার সময় শান্ত ভাবে আসতে বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 74
ফরজ নামাজের পর জামাতের সাথে মুনাজাত করা জাবে কী।
20 Dec 2025
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । নিচে এব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি । আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলোচ্য: (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা, (২) মুনাজাত করার সময় হাত উঠানো এবং (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা। নামায মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নামাযের শেষে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও আবেগ আসে। এই সময়ে তাড়াহুড়ো করে উঠে চলে যাওয়া মুমিনের উচিত নয়। নামাযের পরে যতক্ষণ সম্ভব নামাযের স্থানে বসে দুআ মুনাজাত ও যিকিরে রত থাকা উচিত। মুমিন যদি কিছু না করে শুধুমাত্র বসে থাকেন তাও তাঁর জন্য কল্যাণকর। নামাযের পরে যতক্ষণ মুসল্লী নামাযের স্থানে বসে থাকবেন ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন:
إَذَا صَلَّى الْمُسْلِمُ ثُمَّ جَلَسَ فِيْ مُصَلاَّهُ لَمْ تَـزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تَدْعُو لَهُ اَللَّهُمَّ اغْـفِـرْ لَـهُ اَللَّهُمَّ ارْحَـمْهُ مَا لَـمْ يُـحْدِثْ أَوْ يَـقُمْ
যদি কোনো মুসলিম সালাত আদায় করে, এরপর সে তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকে, তবে ফিরিশতাগণ অনবরত তাঁর জন্য দুআ করতে থাকেন : হে আল্লাহ একে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, একে রহমত করুন। যতক্ষণ না সে ওযু নষ্ট করে বা তাঁর স্থান থেকে উঠে যায় ততক্ষণ। হাদীসের শিক্ষার আলোকে আমারা দেখতে পাই যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরে কিছু সময় বসে যিক্র ও মুনাজাত করা সুন্নাত সম্মত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরের দুআ কবুল হয় বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। হযরত আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো: কোন্ দুআ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়? তিনি উত্তরে বলেন:
جَـوْفُ الليـلِ الآخِـرُ، ودُبـُر الصلواتِ الـمكتـوبات
রাত্রের শেষ অংশ ও ফরয নামাযের শেষে (দুআ বেশি কবুল হয়)। এভাবে আমরা বুঝতে পারি যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে দুআ করা একটি সুন্নাত সম্মত নেক আমল। সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত নামাযের শেষে কিছু সময় যিকর ও মুনাজাতে কাটানো। এধরনের আরো কিছু দোয়া নামাযের পর রাসূল সাঃ করতেন। (২)হাত তুলে মুনাজাত করা। দুআ-মুনাজাতের একটি আদব হলো, দুই হাত তুলে দুআ করা। এই অর্থে একটি হাদীসে বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ লাজুক দয়াবান। যখন কোনো মানুষ তাঁর দিকে দুখানা হাত উঠায় (দুআ করতে), তখন তিনি তা ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। অন্য বর্ণনায় সালমান ফারসী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
مَا رَفَـعَ قَـوْمٌ أَكُـفَّـهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُوْنَهُ شَيْئًا إِلاَّ كَـانَ حَـقًّا عَـلَى اللهِ أَنْ يَـضَـعَ فِـيْ أَيْدِيْـهِمْ الَّذِيْ سَأَلُوْا
যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য তাদের হাতগুলিকে উঠাবে, তখনই আল্লাহর উপর হক্ক (রহমতের দায়িত্ব) হয়ে যাবে যে তারা যা চেয়েছে তা তিনি তাদের হাতে প্রদান করবেন। হাফিয হাইসামী উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। অন্য হাদীসে মালিক ইবনু ইয়াসার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا
তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন হাতের পেট দিয়ে চাইবে, হাতের পিঠ দিয়ে চাইবে না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। রাসূলূল্লাহ ((সা.) বিভিন্ন সময়ে হাত উঠিয়ে দুআ করতেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَرْفَعُ يَدَيْهِ يَدْعُو حَتَّى إِنِّي لأَسْأَمُ لَهُ مِمَّا يَرْفَعُهُمَا يَدْعُو اللَّهُمَّ فَإِنَّمَا أَنَا بَشْرٌ فَلا تُعَذِّبْنِي بِشَتْمِ رَجُلٍ شَتَمْتُهُ أَوْ آذَيْتُهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত দুখানা উঠিয়ে দুআ করতেন, এমনকি আমি তাঁর (দীর্ঘ সময়) হাত উঠিয়ে দুআ করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম; তিনি এভাবে দুআয় বলতেন : হে আল্লাহ, আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, অন্যান্য সময়ের ন্যায় নামাযের পরেও মুনাজাতের সময় হাত উঠানো উত্তম। তবে যে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ফযীলত বাদ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ফযীলত বাদ দেওয়াই সুন্নাত। যেমন, কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কিন্তু নামাযের পরে ইমামের জন্য এই মুস্তাহাব পরিত্যাগ করাই সুন্নাত। অনেক হাদীস থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনেক সময়, বরং অধিকাংশ সময় দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত উঠাতেন না। বরং শুধু মুখে দুআ-মুনাজাত করতেন। সাহাবীগণ থেকেও আমরা অনুরূপ কর্ম দেখতে পাই। এ সকল ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আমরা কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রেও হাত উঠিয়ে দুআ করা উত্তম এবং হাত না উঠানো অনুচিত? তাহলে তো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্ম অনুচিত পর্যায়ের হয়ে গেল। না কি আমরা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো উত্তম, তবে না উঠালেও দোষ নেই? সেক্ষেত্রে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ অনুত্তম বলে গণ্য হলো। না কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত না উঠানোই উত্তম, তবে হাত উঠানোতে দোষ নেই? অথবা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো জায়েয নয়? তাহলে হাত উঠানোর ফযীলতে বর্ণিত হাদীসের কী হবে? এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যে সকল সময়ে তিনি দুআ-মুনাজাতে হাত উঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত উঠানো সুন্নাত বলে গণ্য হবে। যেমন আরাফার মাঠে, ইসতিসকার দুআয়, যুদ্ধে শুরুতে, বিশেষ আবেগের ক্ষেত্রে, ইত্যাদি। আর যেখানে ও যে সময়ে তিনি হাত উঠাননি বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত না-উঠানো সুন্নাত। অধিকাংশ নিয়মিত মাসনূন দুআ এই প্রকারের। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা আরো বুঝতে পারি যে, এ সকল মুনাজাত পালনের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) দু হাত তুলে মুনাজাত করেন নি। আমরা দেখছি যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুরে বসা, ঠোট নাড়া, কথা বলা ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনা দিচ্ছেন, কিন্তু কখনোই বলছেন না যে, তিনি দুই হাত তুলে এই কথাগুলি বলেছিলেন। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পরের মুনাজাতের ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ নিয়মিত দুআ- মুনাজাতের ক্ষেত্রেই তিনি হাত উঠাতেন না। উপরের বিষয়গুলি সবই সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। এ সকল তথ্যের বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে জানি না। নামাযের পরে সামষ্টিক মুনাজাতের পক্ষের কোনো আলেমও কোথাও উল্লেখ করেন নি বা দাবী করেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবীগণ কখনো ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পরে উপস্থিত মুসাল্লীদের নিয়ে সমবেতভাবে দুআ করেছেন বলে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নামাযের পরে দুআয় একাকী হাত উঠানোর বিষয়ে কিছু কথা বর্ণিত হয়েছে। গত শতাব্দীর কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যে, একদিন ফজরের নামাযের পরে ঘুরে বসে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলে দুআ করেছিলেন। তাঁরা বলেন, ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদ (রা) বলেন:
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ r الْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ انْحَرَفَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালামের পরে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন। এই হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে এ সকল গ্রন্থে সংকলিত হাদীসের ভাষা নিুরূপ: আসওয়াদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালাম ফেরানোর পরে ঘুরে বসলেন। কোন গ্রন্থেই এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন এই অতিরিক্ত কথাটুকু নেই। এজন্য আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান বলেছেন, হাদীসটি নাযীর হুসাইন মুঙ্গীরী এভাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো গ্রন্থে তা খুঁজে পান নি এবং এর সনদ জানতে পারেন নি। অন্য হাদীসে ফাদল ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا، (فَهِيَ خِدَاجٌ)
সালাত দুই রাকআত, দুই রাকআত করে, প্রত্যেক দুই রাকআতে তাশাহ্হুদ পাঠ করবে, বিনীত হবে, কাতর হবে, অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, বেশি করে সাহায্যা প্রার্থনা করবে এবং তোমার দুই হাত প্রভুর দিকে উঠিয়ে দুই হাতের পেট তোমার মুখের দিকে করবে এবং বলবে: হে প্রভু, হে প্রভু। যে এরূপ না করলো তার সালাত অসম্পূর্ণ। এই হাদীসে নামাযের পরে হাত তুলে দোওয়া করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্টতই হাদীসটি নফল নামাযের বিষয়ে, যা দুই রাকআত করে পড়তে হয়। সর্বোপরি হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, উকাইলী, যাহাবী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটির দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) এক ব্যক্তিকে দেখেন যে, সে সালাত শেষ করার পূর্বে তার দুই হাত উত্থিত করে রেখেছে। ঐ ব্যক্তি সালাত শেষ করলে তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ r لَـمْ يَكُـنْ يَرْفَـعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ
রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দুই হাত উঠাতেন না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। সালাত শেষের আগে হাত উঠাতেন না থেকে মনে হয় সালাত শেষের পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলতেন। এখানে ফরয বা নফল সালাতের কথা উল্লেখ করা নেই। তবে যে ব্যক্তিকে ইবনু যুবাইর কথাটি বলেছিলেন সে ব্যক্তি বাহ্যত নফল সালাত আদায় করছিল এবং এজন্যই একাকী সালাতের মধ্যে দুই হাত তুলে দোওয়া করছিল। তার পরেও এই হাদীসের ভিত্তিতে আমরা দাবি করতে পারি যে, তিনি নফল ও ফরয উভয় সালাতের পরেই হাত তুলে দুআ করতেন। তবে অন্যান্য অগণিত সহীহ হাদীস, যেগুলিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফরয সালাতের পরের দুআ, যিকর, বক্তৃতা ও অন্যান্য কর্মের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলি থেকে জানা যায় যে, তিনি ৫ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পরের দুআ-মুনাজাত করার সময় হাত তুলতেন না। সে সকল হাদীস ও এ হাদীসটির সমন্বয়ে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি সম্ভবত মাঝে মাঝে সালাত শেষে দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত তুলতেন বা নফল সালাতে দুআ করলে সালাত শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এ সবই একা একা হাত তুলে দুআ করার বিষয়ে। ফরয নামাযের পরে মুক্তাদীদেরকে নিয়ে সমবেতভাবে হাত তুলে বা হাত না তুলে দুআ তিনি কখনো করেননি। এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত আছে বলে আমাদের জানা নেই। (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘ্নিত হবে। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। তাছাড়া রাসূল সাঃ পরের যুগগুলিতেও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের যুগেও কেউ কখনো ফরয নামাযের পরে সমবেতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেননি। তাঁরা সুযোগ পেলে এই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে যিক্র ও মুনাজাত করতেন। ) হাদীস থেকে বুঝা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)যিকর ও মুনাজাত একাকী পালন করতেন। জামাতে উপস্থিত সাহাবীগণের সাথে একত্রে তা আদায় করতেন না। কখনোই সাহাবীগণ নামাযের পরের মুনাজাতে তাঁর সাথে শরীক হয়েছেন বলে বর্ণিত হয় নি। প্রায় অর্ধ শত সাহাবী থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদীসগুলির একটি হাদীসেও বর্ণিত হয় নি যে, একদিন একটি বারও তিনি মুক্তাদিগণের সাথে একত্রে মুনাজাত করেছেন। পক্ষান্তরে সাধারণ ফযীলত জ্ঞাপক হাদীসের আলোকে অনেক আলিম একে সমর্থন করেছেন। তাঁরা এই জামাতবদ্ধ মুনাজাত-কে মুস্তাহাব বলেছেন। চার ইমাম ও পূর্ববর্তী সকল ফকীহ বলেছেন যে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হয়ে যায়। হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে যে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু এবং সালামেই সালাত শেষ। এগুলির সাথে সঙ্গতি রক্ষার জন্য তাঁরা বলেছেন যে, এই মুনাজাত নামাযের কোনো অংশ নয়। নামাযের পরে অতিরিক্ত একটি মুস্তাহাব কাজ। নামায সালামের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে কেউ যদি এর পরে অন্য কোনো মুস্তাহাব কাজ করে তাহলে দোষ নেই। এখানে মূল হলো মনের আবেগসহ মাসনূন মুনাজাতগুলি পালন করা। নামাযের পরে মুনাজাতের ক্ষেত্রে একাকী মুনাজাতই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি। এছাড়া মনোযোগ আনয়ন ও মাসনূন বাক্য পালনের জন্যও একাকী মুনাজাত উত্তম। জামাতে ইমামের সাথেও মুনাজাত করা যেতে পারে। তবে সদাসর্বদা এইরূপ জামাতবদ্ধ মুনাজাত করা, একে জরুরী মনে করা বা তা পরিত্যাগকারীকে খারাপ মনে করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন । আমীন।
প্রশ্নঃ 70
আপনি এক টিভি প্রশ্ন উত্তরে বলেছেন বুকের উপর হাত রাখার কোন সহি দলিল নাই। স্বালাতে মুবাশশির বইটির লেখক আব্দুল হামীদ ফাইযী তার বইতে লিখছে মহানবী(সঃ)উভায় হাতকে বুকের উপর রাখতেন দলিল হিসাবে বলছেন আবুদাউদ ৭৫৯ নংইবনে খুযাইমাহ ৪৭৯ নংআহমাদ মুসনাদ, আবিশ শায়খ প্রমুখ। বুকের উপরেই হাত বাঁধা সুন্নাহতে প্রমাণিত। সিফাতু স্বালাতিন নাবী(সঃ) আলবানী।
20 Dec 2025
আপনাকে ধন্যবাদ। সহীহ হাদীসে সাহাবী ওয়ায়েল ইবনে হুজর রা. রাসূলুল্লাহ সা. এর নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন,
ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى
অর্থাৎ (রাসূলুল্লাহ সা. ) তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৩। সহীহ বুখারীতে এই বিষয়ে বর্ণিত আরেকটি হাদীস হলো,
عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ. قَالَ أَبُو حَازِمٍ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
তাবেঈ আবু হাযিম সাহাবী সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মানুষদের আদেশ দেওয়া হতো সালাতের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখতে। আবু হাযিম বলেন, এই নির্দেশকে তিনি নাবীউল্লাহ সা. এর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন বলেই আমি জানি। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭৪০। হাত রাখার ব্যাপারে সহীহ সূত্রে অনেক সাহাবী থেকে শুধু এতটুকুই জানা যায় অর্থাৎ বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। হাত রাখার স্থান নিয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো একটিও ইলমী গবেষণার আলোকে সহীহ নয়। ইমাম তিরমিযী রহ. এর বক্তব্য আমাদের এই বিষয়ে একটি সঠিক সমাধান দিতে পারে। অন্য একজন সাহাবী থেকে উপরের অনুরুপ একটি হাদীস বর্ণনা করে তিনি বলেছেন,
والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم والتابعين ومن بعدهم يرون ا يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة ورأى بعضهم أن يضعهما فوق السرة ورأى بعضهم أن يضعهما تحت السرة وكل ذلك واسع عندهم
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবী, তাবেয়ী এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট আমল এর উপরই। তারা মনে করেন ব্যক্তি নামাযের মধ্যে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন নাভির উপর রাখবে আবার কেউ কেউ মনে করেন নাভীর নিচে রাখবে। তাদের নিকট উভয় পদ্ধতি গ্রহনের অবকাশ আছে। জামে তিরমিযী,২৫২ নং হাদীসের আলোচনা। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, এই বিষয়ে মাতামাতি না করে আমাদের উচিৎ যে কোন একটি পদ্ধতির উপর আমল করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান, একটি হাদীসতাত্ত্বিক পর্যালোচনা বইটি।
প্রশ্নঃ 66
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শায়েখ, আপানার কাছে আমার জানার বিষয় হল, জামাতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদিরা কখন দাড়িয়ে কাতার সোজা করবে?
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিরা দাড়িয়ে যাবে এবং কাতার সোজা করবে। সাহাবীদের আমল এমনই ছিল। তাঁরা একামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতেন। আর কাতার সোজা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ সা. এই ব্যাপারে আদেশ দিয়েছেন। তবে ইমাম সাহেব মসজিদে আসার পূর্বে মুক্তাদীদের নামাযে দাড়াতে রাসূল (স.) নিষেধ করেছেন। এই কারনে অধিকাংশ আলেমের মতে ইমাম সাহেব না থাকা অবস্থায় মুক্তাদীরা ইকামতের সময় নামাযে দাড়াবে না। দলীল নিম্নরূপ:
.১عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- مَقَامَهُ
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. কে দেখা গেলে ইকামত শুরু করা হত। আর তিনি তাঁর জায়গায় পৌছানোর পূর্বেই লোকেরা তাদের কাতার গ্রহন করতেন (অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়িয়ে থাকতেন)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০৬। উল্লেখ্য সহীহ মুসলিমের এই স্থানে এই বিষয়ে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে যা উক্ত হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
.عن بن جريج قال أخبرني بن شهاب أن الناس كانوا ساعة يقول المؤذن الله أكبر الله أكبر يقيم الصلاة يقوم الناس إلى الصلاة فلا يأتي النبي صلى الله عليه و سلم مقامه حتى يعدل الصفوف
ইবনে জুরাইজ বলেন, আমাকে ইবনে শিহাব বলেছেন যে, মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলে ইকামত শুরু করা মাত্রই লোকেরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যেত এবং রাসূলুল্লাহ সা. নিজের জায়গায় পৌছাতে পৌছাতে কাতার সোজা হয়ে যেত। মুসান্নফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১৯৪২। হাদীসটির সনদে সাহাবীর নাম নেই তাই হাদীসটি মাকতু। তবে উপরে বর্ণিত সহীহ হাদীস এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে। উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা আমারা জানতে পারছি যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ইকামতের শুরুতেই মুক্তাদীরা নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে এবং দ্রুত কাতার সোজা করবে। কাতার সোজা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. খুবই গুরুত্ব দিতেন। এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিচে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।
النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
অর্থ: সাহাবী নুমান বিন বাশীর বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতার সোজা করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং৭০৭ তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে অধিকাংশ আলেমের নিকট মুক্তাদীরা দাড়াবে না। ইমাম সাহেবকে দেখার পর দাড়াবে। এই বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস আছে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেয়া হবে তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাড়াবে না। চুপ করে বসে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৮। উপরের আলোচনা থেকে আমারা বুঝতে পারলাম যে, জামায়াতে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরা ইকামতের শুরুতেই দাড়াবে এবং কাতার সোজা করবে তবে ইমাম সাহেব উপস্থিত না থাকলে ইমাম সাহেব আসার পর দাঁড়াবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 59
কষ্ট করে ট্রেনে চড়ে গিয়ে কিশোর শোলাকিয়ায় নামাজ পড়া কি বেশি সওয়াব? বিশ্ব এজতেমার মুনাজাতে শরীক হওয়াতে কি বিশেষ কোন ফযীলত আছে?
20 Dec 2025
বেশি সওয়াবের আশায় ঈদের নামাজ পড়ার জন্য শোলাকিয়ায় যাওয়া একটি অনর্থক কাজ। কেননা সওয়াবের আশা করা যায় যদি সফরটি কোন নেক আমলের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। আর শোলাকিয়া গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া কোন ইবাদত বা নেক আমল নয়। অর্থাৎ অন্যমাঠে ঈদের নামায পড়া আর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়া সমান বিষয়। সুতরাং শোলাকিয়া ঈদের মাঠে ঈদের নামায পড়ার মধ্যে বেশি সওয়ার আছে মনে করলে বিদআত হয়ে যাবে।তবে যদি এই উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়ে থাকে যে, ইমাম সাহেবের বয়ানের মাধ্যমে কিছু এলেম অর্জন হবে বা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বন্ধুদের সাথে সাক্ষাত করা যাবে তাহলে সওয়াবের আশা করা যায়। কেননা এই নেক আমল বা সওয়াবের কাজ। বিশ্বএজতেমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই, অর্থাৎ এজতেমায় ওয়াজ শোনার জন্য, দাওয়াতের কাজে নাম লেখানোর জন্য অথবা বড় কোন আলেম এসেছেন, তার সাথে দেখা করে সালাম দেয়া ইত্যাদি এগুলো সওয়াবের কাজ। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে যাওয়া যে, সেখানে অনেক মানুষ দোয়া করছে ফলে উক্ত দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটা দোষণীয় এবং আপত্তিকর। কারন শেখার জন্য মানুষ লাগে, দোয়ার জন্য মানুষ লাগে না। বান্দা যখন যে অবস্থাতেই আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে চান আল্লাহ তার ডাকে সাড়ে দেন। আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
অর্থঃ আমার বান্দা যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। সূরা- বাকারা, আয়াত- ১৮৬। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।
প্রশ্নঃ 41
Tahiyatul mosjid shuru korasi othoba ak rakat por jodi foroj namajer ekamot hoy,tokhon namaj sarar podhoti ki? salam firate hobe ki?
20 Dec 2025
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া অবস্থায় ফরজ নামায শুরু হলে করণীয়এবং ফরজ নামাযের সময় নফল শুরু করার বিধান: হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন,
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَة
অর্থ: যখন নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ নামায ছাড়া অন্য কোন নামায নেই। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১০। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে আলেমগণ ঐক্যমত পোষন করেছেন যে ফরজ নামাযের ইকামত হলে কোন নফল নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকী মাযহাবের আলেমগন বিশেষ সর্তসাপেক্ষে শুধুমাত্র ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। শর্তসমূহ নিম্মরুপ: ১. রাকআত পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা থাকা। ২. মসজিদের বাইরে অথবা পিছনের দিকে কাতার থেকে দূরে কোথাও পড়া। ইমাম নববী রহ. উক্ত হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন,
فِيهَا النَّهْي الصَّرِيح عَنْ اِفْتِتَاح نَافِلَة بَعْد إِقَامَة الصَّلَاة ، سَوَاء كَانَتْ رَاتِبَة كَسُنَّةِ الصُّبْح وَالظُّهْر وَالْعَصْر أَوْ غَيْرهَا ، وَهَذَا مَذْهَب الشَّافِعِيّ وَالْجُمْهُور ، وَقَالَ أَبُو حَنِيفَة وَأَصْحَابه : إِذَا لَمْ يَكُنْ صَلَّى رَكْعَتَيْ سُنَّة الصُّبْح صَلَّاهُمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِد مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الثَّانِيَة . وَقَالَ الثَّوْرِيّ : مَا لَمْ يَخْشَ فَوْت الرَّكْعَة الْأُولَى . وَقَالَتْ طَائِفَة : يُصَلِّيهِمَا خَارِج الْمَسْجِد وَلَا يُصَلِّيهِمَا بَعْد الْإِقَامَة فِي الْمَسْجِ
এই হাদীসের ভিতর স্পষ্ট ভাবে ইকামতের পরে নফল নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। চাই সেটা সুন্নাতে রাতেব হোক, যেমন, ফজর, যোহর, আসরের সুন্নত হোক বা অন্য সুন্নত হোক (যেমন, তাহিয়্যাতুল মসজিদ)। এটাই ইমাম শাফেয়ী এবং জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত। আবু হানিফা এবং তার ছাত্ররা বলেছেন, ফজরের সুন্নত না পড়তে পারলে মসজিদের মধ্যে পড়ে নিবে যদি দ্বিতীয় রাকআত ছুটে না যায়। ইমাম ছাওরি বলেছেন, যদি প্রথম রাকআত ছুটে না যায়। একদল আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছন যে, ইকামতের পর মসজিদের বাইরে পড়বে, ভিতরে পড়বে ন। শরহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম ৩/২৮। তিনি আরো বলেছেন, وقال مالك مثله ان لم يخف فوت الركعة فان خافه صلى مع الامام এবং মালেক রহ. অনুরুপ মত পোষন করেন, যদি রাকআত ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকে। সুতরাং যদি নামায ছুটে যাওয়ার ভয় করে তাহলে ইমামের সাথে ফরজ নামায পড়বে। আলমাজমু ফি শরহিল মুহাযযাব ৪/২১২ আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন,
قال الظواهر : من كان يصلي فأقيمت انقطعت صلاته وليس هذا عند أحد ، وأما إذا أقيمت فلا يشرع في صلاة إلا في سنتي الفجر عند الأحناف والموالك ، ومذهب الأحناف أن يأتي بهما بشرط وجدان الركعة وأدائهما خارج المسجد ، وأما الموالك فقال مالك : يأتي بهما خارج المسجد بشرط رجاء وجدان الركعتين
আহলে জাহেরগণ বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি (সুন্নত) নামায পড়ে আর ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন সে সুন্নত নামায ছেড়ে দিবে। অন্য কেউ এমন কথা বলেনি। পক্ষান্তরে যখন ইকামত দেয়া হয় তখন সুন্নত নামায শুরু করা যাবে না। তবে হানাফী এবং মালেকীদের নিকটে ফজরের সুন্নত আদায় করবে। হানাফীদের অভিমত হলো রাকআত পাওয়া যাবে এবং মসজিদের বাইরে আদায় করবে এই শর্তে আদায় করা যাবে।আর ইমাম মালেক র. বলেছেন, মসজিদের বাইরে এই শর্তে আদায় করা যাবে যে, দুই রাকআত পাওয়ার আশা থাকবে। আলআরফুশ শাজি লিল কাশ্মীরী ১/৪৭০ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.), আবু দারদা (রা.) প্রমুখ সাহাবী এবং কতিপয় তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত আছে যে, তারা ফজরের জামায়াত শুরু হওয়ার পরেও মসজিদের বাইরে, রাস্তায় বা দূরবর্তী কোন কোণে সুন্নাত পড়ে জামাতে শরীক হতেন। শরহে মায়ানিল আছার ১/২৫৪-২৫৬। তবে অনেকগুলো হাদীসে রাসূল সা. ফজরের জামাতয়াত শুরু হলে সুন্নত পড়তে নিষেধ করেছেন। যেমন: মালিক ইবনে বুহাইনা (রা.) থেবে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন,
أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- رَجُلاً يُصَلِّى وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ أَتُصَلِّى الصُّبْحَ أَرْبَعًا.
ফজরের ইকামত শুরু হলো।রাসূল (সা.) দেখেন মুয়াজ্জিনের ইকামতের সময় এক ব্যক্তি নামায (সুন্নত নামায) পড়ছে। তখন তিনি বলেন, তুমি কি ফজরের সালাহ চার রাকআত আদায় করবে। মুসলিম, হাদীস নং৭১১। অন্য হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন,
أقيمت صلاة الصبح فقام رجل يصلي الركعتين فجذب رسول الله صلى الله عليه و سلم بثوبه فقال أتصلي الصبح أربعا
ফজরের নামাযের ইকামতের পরে এক ব্যক্তি দু রাকআত সুন্নত পড়তে শুরু করে, তখন রাসূল (সা.) তার কাপড় ধরে টান দিয়ে বললেন,তুমি কি ফজর চার রাকআত পড়বে। মুসানাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৩০। শায়খ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদীসের ভিত্তিতে কিছু কিছু আলেম বলেন, সুন্নত বা নফল নামায পড়াকালীন সময়ে যদি ফরজ নামায শুরু হয়ে যায় তাহলে সুন্নত ছেড়ে দিয়ে ফরজে শরীক হতে হবে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাত ছেড়ে দিবে না বরং হালকাভাবে আদায় করবে। নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হল: আল্লামা কাশ্মীরী র. উক্ত হাদীসের আলোচনায় বলেন,
ذهب طائفةٌ من أهل الظواهر إلى ظاهر الحديث، وقالوا: إن أُقِيمَتِ الصلاةُ وهو في خلال الصلاة بَطَلَتِ صلاته، ولم يَذْهَب إليه أحدٌ من الأئمة غيرها. وقال الجمهور: بل يُتِمُّها ولا يقطعها
আহলে জাহেরদের একটি দল হাদীসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহন করেন। তারা বলেন, সুন্নত নামায পড়া অবস্থায় ফরজ নামাযের ইকামত দিলে সুন্নত বাতিল হয়ে যায়। তারা ছাড়া ইমামদের কেউ এমন কথা বলেননি। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, সুন্নত পূর্ণ করবে, ছেড়ে দিবে না। ফাইজুল বারী ফি শরহি সহীহ বুখারী ২/৪২২। প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে কুদামাহ আল মুকাদ্দেসী বলেন,
وإذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة فإن كان نافلة أتمها إلا أن يخشى فوات الجماعة فيقطعها
যখন ফরজ নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন ফরজ ব্যতিত অন্য কোন নামায নেই। যদি ঐসময় নফল (সুন্নত) নামায পড়তে থাকে তাহলে পূর্ণ করবে। তবে জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে ছেড়ে দিবে। ঝা-দুল মুসতাক্বনী ১/৫৩ সউদি আরবের প্রখ্যাত হাম্বলী ফকীহ আল্লামা শানকিতি বলেন,
أن تقام الصلاة وأنت في أثناء الصلاة، فإن غلب على ظنك أنك سوف تتم الصلاة قبل أن يركع الإمام ويمكنك أن تدرك الركعة معه فحينئذ تتم الصلاة على قول جماهير العلماء، خلافاً للظاهرية وأهل الحديث، حيث قالوا: إذا أقيمت الصلاة -حتى ولو غلب على ظنك أنك تدرك الإمام في ركوعه- فإنك تقطع هذه الصلاة، ولو كنت في آخرها؛ لظاهر قوله صلى الله عليه وسلم: ( فلا صلاة إلا المكتوبة ) والصحيح مذهب الجمهور؛ لأن الله يقول -كما في التنزيل- : { وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ } [محمد:৩৩]، فنهانا عن إبطال العمل، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: ( إن خير أعمالكم الصلاة )، فنهانا الله عن إبطال العمل، والصلاة عمل، فلا نبطلها إلا بوجه بين، فإنه إذا غلب على ظنك أنك مدرك للركعة جمعت بين الأمرين، والقاعدة: (الجمع بين النصين أولى من العمل بأحدهما وترك الآخر)
অর্থ: নামাযের ইকামত দেয়া হচ্ছে আর তুমি সুন্নত নামায পড়ছো এই অবস্থায় যদি তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, ইমাম সাহেব রুকু করার পূর্বেই তুমি সুন্নত শেষ করতে পারবে এবং তোমার পক্ষে তার সাথে রাকআত পাওয়া সম্ভব তাহলে জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত হলো তুমি সুন্নত নামায পূর্ণ করবে। আহলে জাহের এবং আহলে হাদীসগণ এর বিপরীত মত পোষন করেন। তারা বলেন, যখন ইকামত দেয়া হবে তখন তুমি এই নামায ছেড়ে দিবে, যদিও তোমার ধারণায় প্রবল হয় যে, তুমি ইমাম কে রুকুতে পাবে, কিংবা তুমি নামাযের শেষ দিকে থাক। উক্ত হাদীসের জাহেরী অর্থ গ্রহন করে তারা একথা বলেন।সহীহ হলো জমহুরের মাজহাব। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। (সূরা মুহাম্মাদ:৩৩)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন। আর রাসুল সা. বলেছেন, তোমাদের সবচেয়ে উত্তম আমল হলো নামায। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৭৭)। হাদীসটি সহীহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল বাতিল করতে নিষেধ করেছেন আর নামায হলো আমল সুতরাং সুষ্পষ্ট কারণ ছাড়া আমরা আমল বাতিল করব না। তাই যখন তোমার ধারণায় প্রবল হবে যে, তুমি রাকআত পাবে তখন উভয়টিকে (কুরআন ও হাদীস) একত্রিত করবে। আর কায়দা হলো একটির উপর আমল করে আরেকটি ছেড়ে দেয়া থেকে দুই নসের মাঝে সমন্বয়সাধন করা উত্তম। শারহু ঝাদিল মুসতানকী ৬/৫৮ কুতুবুল ফিক্হ গ্রন্থাকার বলেছেন,
وإن أقيمت الصلاة وهو في صلاة نافلة قد أحرم بها من قبل ; أتمها خفيفة, ولا يقطعها ; إلا أن يخشى فوات الجماعة ; لقول الله تعالى : وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ فإن خشي فوت الجماعة, قطع النافلة ; لأن الفرض أهم
আর যদি ব্যক্তি নফল নামায পড়া অবস্থায় ফরজের ইকামত দেয়া হয় যে নফলের তাহরীমা সে আগেই করেছিল তাহলে হালকা ভাবে সে তা পূর্ণ করবে।ছেড়ে দেবে না। তবে যদি জামায়াত ছুটে যাওয়ার আশংকা করে তাহলে ছেড়ে দিবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা তোমাদের আমলকে নষ্ট করো না। তবে যদি সে জামায়ত ছুটে যাওয়ার আশংক করে তাহলে নফল ছেড়ে দিবে। কেননা ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবুল ফিক্হ ৩/৬৫। এই সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন আল ইনসাফ ২/১৫২ উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, অধিকাংাশ আলেমের মতে ফরজ নামায শুরু হলেই তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ছেড়ে দেয়া যাবে না। বরং ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকলে তা পূর্ণ করবে। তবে যদি ফরজ ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে সহীহ মতানুযায়ী ছালামের মাধ্যমে সুন্নত ছেড়ে দিবে। কেননা আলী রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন,
مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم
অর্থ: নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা আর তার সূচনা হলো তাকবীর আর শেষ হলো সালাম। আল্লাহ তায়লা সবচেয়ে ভাল জানেন।
প্রশ্নঃ 40
(সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেয়ার পর উক্ত ফাকা জায়গা পূরণ করা) একা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে যদি সামনের কাতারের কাউকে টেনে নেওয়া হয় তাহলে সামনের কাতারের ফাঁকা জায়গা কিভাবে পূরণ করবো?
20 Dec 2025
এক্ষেত্রে দুই পাশের মুসুল্লিরা চেপে এসে উক্ত ফাঁকা জায়গা পূরণ করবে। হাদীস শরীফে এভাবে সরে এসে ফাঁকা জায়গা পূরণ করাকে অনেক সওয়াবে বিষয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বারা ইবনে আযেব রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে তিনি বলেন:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله وملائكته يصلون على الذين يصلون الصفوف الأول وما من خطوة أحب إلى الله من خطوة يمشيها العبد يصل بها صفا
অর্থঃ রাসূল সা.বলতেন: নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দুয়া করেন ঐ ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারগুলোতে মিলেমিলে দাড়ায়। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হাটা-চলা হল, যা কাতারের সাথে মিলে দাড়ানোর জন্য হয়ে থাকে। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব,১/১২২, বাব, আত তারগীব ফী ওয়াসলিস সুফুফ ওয়া সাদ্দিল ফারজ। শায়েখ আলবানী হাদীসটি সহী লিগায়রিহী বলেছেন। আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত অপর একটি হাদীসে রাসূল সা. বলেন:
إن الله عز و جل وملائكته عليهم السلام يصلون على الذين يصلون الصفوف ومن سد فرجة رفعه الله بها درجة
অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য যারা কাতারের সাথে মিলে দাড়ায়। আর যারা ফাকা জায়গা বন্ধ করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। শায়েখ শুয়াইব হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বাল,তাহকীক,শুয়াইব আরনাইত, ৬/৮৯ (২৪৬৩১) বাব, হাদীসু সায়্যিদাতু আয়েশা রাঃ। আবু হুরাইরা রাঃ রাসূল সা. থেকে বর্ণানা করেন, তিনি বলেছেন:
من سد فرجة في صف رفعه الله بها في الجنة درجة، وبنى له في الجنة بيتاً
অর্থঃ যে ব্যক্তি কাতারের ফাকা জায়গা পূরণ করবে আল্লাহ জান্নাতে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মান করবেন। আত-তারগীব ওয়াত তারহীব,৩/৩০ (২০০৯)। নামাযের ভিতর প্রয়োজনে হাটা-চলা করার বৈধতার ব্যাপারে চারমাযহাবের উলামায়ে কেরাম একমত। হানাফী উলামায়ে কেরাম বলেন:যদি ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত প্রয়োজনে নামাযের মধ্যে হাটা-চলা করে (কেবলামুখি অবস্থায়) তাহলে তার নামায নষ্ট হবে না। ফাতওয়াযে হিন্দিয়্যাতে এসেছে:
وَلَوْ مَشَى فِي صَلَاتِهِ مِقْدَارَ صَفٍّ وَاحِدٍ لَمْ تَفْسُدْ صَلَاتُهُ وَلَوْ كَانَ مِقْدَارَ صَفَّيْنِ إنْ مَشَى دَفْعَة وَاحِدَةً فَسَدَتْ صَلَاتُهُ وَإِنْ مَشَى إلَى صَفٍّ وَوَقَفَ ثُمَّ إلَى صَفٍّ لَا تَفْسُدُ كَذَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ
অর্থঃযদি ব্যক্তি নামাযে এক কাতার পরিমান হেটে যায় তার নামায নষ্ট হবে না। আর যদি দুই কাতার পরিমান হেটে যায়,সেক্ষেত্রে মাঝের কাতারে না থামলে নামায হবে না। যদি থামে তাহলে নামায হয়ে যাবে ভাঙ্গবে না। ফাতওয়ায়ে কাজী খানে এমনই আছে। ৩/৩১৯, কিতাব, আস সালাম, বাব, ফী মা ইফছিদুহা। ফাতওয়ায়ে শামীতে ইবনে আবেদীন রহঃ বলেন:
مَشَى مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ هَلْ تَفْسُدُ إنْ قَدْرَ صَفٍّ ثُمَّ وَقَفَ قَدْرَ رُكْنٍ ثُمَّ مَشَى وَوَقَفَ كَذَلِكَ وَهَكَذَا لَا تَفْسُدُ ، وَإِنْ كَثُرَ مَا لَمْ يَخْتَلِفْ الْمَكَانُ
অর্থঃব্যক্তি কিবলামুখি হয়ে হাটলো, তার নামায কি নষ্ট হয়ে যাবে, যদি এক কাতার পরিমাণ হেটে এক রুকুন পরিমান থেমে থেকে আবার হাটে এবং এপরিমান থেমে থেকে এভাবে হাটতে থাকে? তার নামায নষ্ট হবে না যদিও হাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে, যদি নামাযের জায়গা ভিন্ন না হয়। (যেমন মসজিদের সীমানার বাইরে চলে যওয়া)। কিতাব, আস সালাত, বাব, মাশইউল মুসুল্লি মুস্তাকবিলাল কিবলাতি।
প্রশ্নঃ 38
সললু কামা রয়াইতুমুনি উসলিল এখানে পুরুষ বা মহিলা আলাদা করা হয়নাই কোন জয়ীফ হাদীস দিয়েও পারথাক্য প্রমানিত নেই তাই দলিল সহ জানতে চাই যে মহিলাদের নামাজে কোন পারথাক্য আছে কি হাদীসে নামবার কিতাবের নাম রাবী সহ জানাবেন
20 Dec 2025
প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসে পুরুষ ও মহিলার নামাযের মাঝে পার্থক্য না করা হলেও অন্যান্য অনেক হাদীসে, ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী গণের কথার আলোকে জানতে পারি যে, কিছু কিছু বিষয়ে পুরুষ এবং মহিলার নাামাযের মাঝে পার্থক্য রয়েছে । নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল। হাদীসের আলোকেঃ
أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل
অর্থঃ (ইমাম বায়হাকী রহঃ ) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মাদ এর সুত্রে তাবেয়ী য়াযীদ ইবনে আবী হাবীব এর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশে) বললেন, যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে । কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষের মত নয়। (সুনানে কুবরা ২ খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৩০১৬। ) প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল বারী (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بنتُ حُجْرِ بن عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَتْ: سَمِعْتُ عَمَّتِي أُمَّ يَحْيَى بنتَ عَبْدِ الْجَبَّارِ بن وَائِلِ بن حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهَا عَبْدِ الْجَبَّارِ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَمِّهَا، عَنْ وَائِلِ بن حُجْرٍ، قَالَ: جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: فساق الحديث . وفيه : يا وائل بن حجر: إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থঃ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন হে ওয়াইল ইবনে হাজ্র ! যখন তুমি নামাজ শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে । আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর । (আল মুজামুল কাবীর, তাবারানী ২২/২৭২, হাদীসটি হাসান। ) সাহাবায়ে কেরামের আছারের আলোকে
عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال : إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذها ببطنها
অর্থঃ হযরত আলী রাঃ বলেন মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে । মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ অনুচ্ছেদ মহিলার তাকবীর, কিয়াম, রুকু ও সিজদা । মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২/৩০৮ তাবেয়ীগণের কথার আলোকেঃ
قال هشيم : أخبرنا شيخ لنا قال :قال سمعت عطاء سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟قال حذو ثديها
অর্থঃ হযরত আতা ইবনে আবি রাবাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হল নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে? তিনি বললেন বুক বরাবর । মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/২৭০। মোটকথা, রাসূল সাঃ এর হাদীস, ছাহাবায়ে কেরামের কথা ও তাবেয়ীগণের ফাতাওয়ার আলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, মহিলাদের নামাজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। আর এই ভিন্নতার ভিত্তি হল মহিলাদের সতর ও পর্দার অধিক সংরক্ষণের বিবেচনা ।
প্রশ্নঃ 29
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত ভাবে মোনাজাত করা যাবে কি না এব্যাপারে কোরআন হাদীসের আলোকে আপনার মতামত জানতে চাই।
20 Dec 2025
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । নিচে এব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি । আশা করি আপনি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলোচ্য: (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা, (২) মুনাজাত করার সময় হাত উঠানো এবং (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিকর ও মুনাজাত করা। (১) নামাযের পরে মুনাজাত করা। নামায মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নামাযের শেষে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও আবেগ আসে। এই সময়ে তাড়াহুড়ো করে উঠে চলে যাওয়া মুমিনের উচিত নয়। নামাযের পরে যতক্ষণ সম্ভব নামাযের স্থানে বসে দুআ মুনাজাত ও যিকিরে রত থাকা উচিত। মুমিন যদি কিছু না করে শুধুমাত্র বসে থাকেন তাও তাঁর জন্য কল্যাণকর। নামাযের পরে যতক্ষণ মুসল্লী নামাযের স্থানে বসে থাকবেন ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন:
إَذَا صَلَّى الْمُسْلِمُ ثُمَّ جَلَسَ فِيْ مُصَلاَّهُ لَمْ تَـزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تَدْعُو لَهُ اَللَّهُمَّ اغْـفِـرْ لَـهُ اَللَّهُمَّ ارْحَـمْهُ مَا لَـمْ يُـحْدِثْ أَوْ يَـقُمْ
যদি কোনো মুসলিম সালাত আদায় করে, এরপর সে তাঁর সালাতের স্থানে বসে থাকে, তবে ফিরিশতাগণ অনবরত তাঁর জন্য দুআ করতে থাকেন : হে আল্লাহ একে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ, একে রহমত করুন। যতক্ষণ না সে ওযু নষ্ট করে বা তাঁর স্থান থেকে উঠে যায় ততক্ষণ। হাদীসের শিক্ষার আলোকে আমারা দেখতে পাই যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরে কিছু সময় বসে যিক্র ও মুনাজাত করা সুন্নাত সম্মত গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরের দুআ কবুল হয় বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। হযরত আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো: কোন্ দুআ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়? তিনি উত্তরে বলেন :
جَـوْفُ الليـلِ الآخِـرُ، ودُبـُر الصلواتِ الـمكتـوبات
রাত্রের শেষ অংশ ও ফরয নামাযের শেষে (দুআ বেশি কবুল হয়)। এভাবে আমরা বুঝতে পারি যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে দুআ করা একটি সুন্নাত সম্মত নেক আমল। সুতরাং আমাদের সকলেরই উচিত নামাযের শেষে কিছু সময় যিকর ও মুনাজাতে কাটানো। এধরনের আরো কিছু দোয়া নামাযের পর রাসূল সাঃ করতেন। (২) হাত তুলে মুনাজাত করা। দুআ-মুনাজাতের একটি আদব হলো, দুই হাত তুলে দুআ করা। এই অর্থে একটি হাদীসে বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ লাজুক দয়াবান। যখন কোনো মানুষ তাঁর দিকে দুখানা হাত উঠায় (দুআ করতে), তখন তিনি তা ব্যর্থ ও শূন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। অন্য বর্ণনায় সালমান ফারসী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :
مَا رَفَـعَ قَـوْمٌ أَكُـفَّـهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُوْنَهُ شَيْئًا إِلاَّ كَـانَ حَـقًّا عَـلَى اللهِ أَنْ يَـضَـعَ فِـيْ أَيْدِيْـهِمْ الَّذِيْ سَأَلُوْا
যখনই কিছু মানুষ আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার জন্য তাদের হাতগুলিকে উঠাবে, তখনই আল্লাহর উপর হক্ক (রহমতের দায়িত্ব) হয়ে যাবে যে তারা যা চেয়েছে তা তিনি তাদের হাতে প্রদান করবেন। হাফিয হাইসামী উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসটির সনদ সহীহ। অন্য হাদীসে মালিক ইবনু ইয়াসার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন:
إِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا
তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন হাতের পেট দিয়ে চাইবে, হাতের পিঠ দিয়ে চাইবে না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। রাসূলূল্লাহ ((সা.) বিভিন্ন সময়ে হাত উঠিয়ে দুআ করতেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন :
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ r يَرْفَعُ يَدَيْهِ يَدْعُو حَتَّى إِنِّي لأَسْأَمُ لَهُ مِمَّا يَرْفَعُهُمَا يَدْعُو اللَّهُمَّ فَإِنَّمَا أَنَا بَشْرٌ فَلا تُعَذِّبْنِي بِشَتْمِ رَجُلٍ شَتَمْتُهُ أَوْ آذَيْتُهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত দুখানা উঠিয়ে দুআ করতেন, এমনকি আমি তাঁর (দীর্ঘ সময়) হাত উঠিয়ে দুআ করাতে ক্লান্ত ও অস্থির হয়ে পড়তাম; তিনি এভাবে দুআয় বলতেন : হে আল্লাহ, আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি কোনো মানুষকে গালি দিয়ে ফেললে বা কষ্ট দিলে আপনি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, অন্যান্য সময়ের ন্যায় নামাযের পরেও মুনাজাতের সময় হাত উঠানো উত্তম। তবে যে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ফযীলত বাদ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ফযীলত বাদ দেওয়াই সুন্নাত। যেমন, কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কিন্তু নামাযের পরে ইমামের জন্য এই মুস্তাহাব পরিত্যাগ করাই সুন্নাত। অনেক হাদীস থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) অনেক সময়, বরং অধিকাংশ সময় দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত উঠাতেন না। বরং শুধু মুখে দুআ-মুনাজাত করতেন। সাহাবীগণ থেকেও আমরা অনুরূপ কর্ম দেখতে পাই। এ সকল ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আমরা কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রেও হাত উঠিয়ে দুআ করা উত্তম এবং হাত না উঠানো অনুচিত? তাহলে তো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্ম অনুচিত পর্যায়ের হয়ে গেল। না কি আমরা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো উত্তম, তবে না উঠালেও দোষ নেই? সেক্ষেত্রে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ অনুত্তম বলে গণ্য হলো। না কি বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত না উঠানোই উত্তম, তবে হাত উঠানোতে দোষ নেই? অথবা বলব যে, এ সকল ক্ষেত্রে হাত উঠানো জায়েয নয়? তাহলে হাত উঠানোর ফযীলতে বর্ণিত হাদীসের কী হবে? এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যে সকল সময়ে তিনি দুআ-মুনাজাতে হাত উঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত উঠানো সুন্নাত বলে গণ্য হবে। যেমন আরাফার মাঠে, ইসতিসকার দুআয়, যুদ্ধে শুরুতে, বিশেষ আবেগের ক্ষেত্রে, ইত্যাদি। আর যেখানে ও যে সময়ে তিনি হাত উঠাননি বলে জানা গিয়েছে সেখানে হাত না-উঠানো সুন্নাত। অধিকাংশ নিয়মিত মাসনূন দুআ এই প্রকারের। বিভিন্ন হাদীস থেকে আমরা আরো বুঝতে পারি যে, এ সকল মুনাজাত পালনের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) দু হাত তুলে মুনাজাত করেন নি। আমরা দেখছি যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুরে বসা, ঠোট নাড়া, কথা বলা ইত্যাদি সব কিছুর বর্ণনা দিচ্ছেন, কিন্তু কখনোই বলছেন না যে, তিনি দুই হাত তুলে এই কথাগুলি বলেছিলেন। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পরের মুনাজাতের ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ নিয়মিত দুআ- মুনাজাতের ক্ষেত্রেই তিনি হাত উঠাতেন না। উপরের বিষয়গুলি সবই সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। এ সকল তথ্যের বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে জানি না। নামাযের পরে সামষ্টিক মুনাজাতের পক্ষের কোনো আলেমও কোথাও উল্লেখ করেন নি বা দাবী করেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবীগণ কখনো ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পরে উপস্থিত মুসাল্লীদের নিয়ে সমবেতভাবে দুআ করেছেন বলে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নামাযের পরে দুআয় একাকী হাত উঠানোর বিষয়ে কিছু কথা বর্ণিত হয়েছে। গত শতাব্দীর কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যে, একদিন ফজরের নামাযের পরে ঘুরে বসে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলে দুআ করেছিলেন। তাঁরা বলেন, ইবনে আবী শাইবা বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদ (রা) বলেন:
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ r الْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ انْحَرَفَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালামের পরে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন। এই হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে এ সকল গ্রন্থে সংকলিত হাদীসের ভাষা নিুরূপ: আসওয়াদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলান। তিনি সালাম ফেরানোর পরে ঘুরে বসলেন। কোন গ্রন্থেই এবং দুই হাত উঠালেন ও দুআ করলেন এই অতিরিক্ত কথাটুকু নেই। এজন্য আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান বলেছেন, হাদীসটি নাযীর হুসাইন মুঙ্গীরী এভাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি কোনো গ্রন্থে তা খুঁজে পান নি এবং এর সনদ জানতে পারেন নি। অন্য হাদীসে ফাদল ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا، (فَهِيَ خِدَاجٌ)
সালাত দুই রাকআত, দুই রাকআত করে, প্রত্যেক দুই রাকআতে তাশাহ্হুদ পাঠ করবে, বিনীত হবে, কাতর হবে, অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, বেশি করে সাহায্যা প্রার্থনা করবে এবং তোমার দুই হাত প্রভুর দিকে উঠিয়ে দুই হাতের পেট তোমার মুখের দিকে করবে এবং বলবে: হে প্রভু, হে প্রভু। যে এরূপ না করলো তার সালাত অসম্পূর্ণ। এই হাদীসে নামাযের পরে হাত তুলে দোওয়া করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্টতই হাদীসটি নফল নামাযের বিষয়ে, যা দুই রাকআত করে পড়তে হয়। সর্বোপরি হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বুখারী, উকাইলী, যাহাবী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটির দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) এক ব্যক্তিকে দেখেন যে, সে সালাত শেষ করার পূর্বে তার দুই হাত উত্থিত করে রেখেছে। ঐ ব্যক্তি সালাত শেষ করলে তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ r لَـمْ يَكُـنْ يَرْفَـعُ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ.
রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাত থেকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দুই হাত উঠাতেন না। হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য। সালাত শেষের আগে হাত উঠাতেন না থেকে মনে হয় সালাত শেষের পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত তুলতেন। এখানে ফরয বা নফল সালাতের কথা উল্লেখ করা নেই। তবে যে ব্যক্তিকে ইবনু যুবাইর কথাটি বলেছিলেন সে ব্যক্তি বাহ্যত নফল সালাত আদায় করছিল এবং এজন্যই একাকী সালাতের মধ্যে দুই হাত তুলে দোওয়া করছিল। তার পরেও এই হাদীসের ভিত্তিতে আমরা দাবি করতে পারি যে, তিনি নফল ও ফরয উভয় সালাতের পরেই হাত তুলে দুআ করতেন। তবে অন্যান্য অগণিত সহীহ হাদীস, যেগুলিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফরয সালাতের পরের দুআ, যিক্র, বক্তৃতা ও অন্যান্য কর্মের বিবরণ বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলি থেকে জানা যায় যে, তিনি ৫ ওয়াক্ত ফরয সালাতের পরের দুআ-মুনাজাত করার সময় হাত তুলতেন না। সে সকল হাদীস ও এ হাদীসটির সমন্বয়ে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি সম্ভবত মাঝে মাঝে সালাত শেষে দুআ-মুনাজাতের জন্য হাত তুলতেন বা নফল সালাতে দুআ করলে সালাত শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এ সবই একা একা হাত তুলে দুআ করার বিষয়ে। ফরয নামাযের পরে মুক্তাদীদেরকে নিয়ে সমবেতভাবে হাত তুলে বা হাত না তুলে দুআ তিনি কখনো করেননি। এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত আছে বলে আমাদের জানা নেই। (৩) উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে জামাতে যিক্র ও মুনাজাত করা। নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদআত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই আমিন বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে মাসবূক মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘিত হবে। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। তাছাড়া রাসূল সাঃ পরের যুগগুলিতেও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের যুগেও কেউ কখনো ফরয নামাযের পরে সমবেতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেননি। তাঁরা সুযোগ পেলে এই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে যিক্র ও মুনাজাত করতেন। ) হাদীস থেকে বুঝা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যিকর ও মুনাজাত একাকী পালন করতেন। জামাতে উপস্থিত সাহাবীগণের সাথে একত্রে তা আদায় করতেন না। কখনোই সাহাবীগণ নামাযের পরের মুনাজাতে তাঁর সাথে শরীক হয়েছেন বলে বর্ণিত হয় নি। প্রায় অর্ধ শত সাহাবী থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদীসগুলির একটি হাদীসেও বর্ণিত হয় নি যে, একদিন একটি বারও তিনি মুক্তাদিগণের সাথে একত্রে মুনাজাত করেছেন। পক্ষান্তরে সাধারণ ফযীলত জ্ঞাপক হাদীসের আলোকে অনেক আলিম একে সমর্থন করেছেন। তাঁরা এই জামাতবদ্ধ মুনাজাত-কে মুস্তাহাব বলেছেন। চার ইমাম ও পূর্ববর্তী সকল ফকীহ বলেছেন যে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হয়ে যায়। হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে যে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু এবং সালামেই সালাত শেষ। এগুলির সাথে সঙ্গতি রক্ষার জন্য তাঁরা বলেছেন যে, এই মুনাজাত নামাযের কোনো অংশ নয়। নামাযের পরে অতিরিক্ত একটি মুস্তাহাব কাজ। নামায সালামের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে কেউ যদি এর পরে অন্য কোনো মুস্তাহাব কাজ করে তাহলে দোষ নেই। এখানে মূল হলো মনের আবেগসহ মাসনূন মুনাজাতগুলি পালন করা। নামাযের পরে মুনাজাতের ক্ষেত্রে একাকী মুনাজাতই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি। এছাড়া মনোযোগ আনয়ন ও মাসনূন বাক্য পালনের জন্যও একাকী মুনাজাত উত্তম। জামাতে ইমামের সাথেও মুনাজাত করা যেতে পারে। তবে সদাসর্বদা এইরূপ জামাতবদ্ধ মুনাজাত করা, একে জরুরী মনে করা বা তা পরিত্যাগকারীকে খারাপ মনে করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন । আমীন। এব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত মুনাজাত ও নামাজ বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।
প্রশ্নঃ 13
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মুহতারাম, রুকু এবং সেজদায় সর্বাধিক কতবার তাসবীহ পাঠ করা যায়? জোড় বিজোড়ের ব্যাপারে কোরআন হাদীস কি বলে?
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিম্নে আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করা হল । আশা করি আপনি তাতে আপনার উত্তর খুঁজে পাবেন। ইনশাল্লাহ। রুকু এবং সেজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পাঠ করা সুন্নাত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃ থেকে বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বলেন:

إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّىَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ

অর্থঃ যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে তখন সে যেন তিনবার সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম বলে। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। আর যখন সেজদা করে তখন সে যেন তিনবার বলে সুবহানা রাব্বীয়াল আলা। আর এটা হল সর্বনিম্ম পরিমান। সুনানে আবু দাউদ, কিতাব,আস-সালাত, বাব, মা ইয়াকুলু ফিররুকুঈ ওয়াস সুজুদী। জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে একবার পড়লেও যথেষ্ঠ হবে। এক্ষেত্রে ফরয হল রুকু এবং সেজদায় এক তাসবীহ পরিমান সময় কাটানো। হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণীত এক হাদীসে এসেছে

أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ وَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ يُصَلِّي كَمَا صَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ثَلاَثًا فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَهُ فَعَلِّمْنِي فَقَالَ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا وَافْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا

অর্থঃ রাসূল সাঃ মসজিদে প্রবেশ করার পর এক ব্যাক্তি প্রবেশ করে রাসূল সাঃ কে সালাম দিলেন এবং রাসূল সাঃ সালামের জবাব দিয়ে বলেন:ফিরে গিয়ে নামাজ পড় কেননা তুমি নামাজ পড়নি। লোকটি ফিরে গিয়ে পূর্বের ন্যায় আবার নামাজ আদায় করলেন এবং ফিরে এসে রাসূল সাঃ কে সালাম প্রদান করলেন। রাসূল সাঃ আবার লোকটিকে বললেন: তুমি ফিরে গিয়ে নামাজ পড়। কেননা তুমি নামাজ পড়নি। এভাবে তিনবার বললেন। অতঃপর লোকটি বললেন: ঐ সত্বার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে সুন্দর করে নামাজ আদায় করতে পারিনা। সুতরাং আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন রাসূল সাঃ বললেন: যখন তুমি নামাজে দাড়াবে তখন তাকবির দিবে। এরপর কোরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ সে অংশ থেকে পড়বে। অতঃপর রুকু করবে শান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত, তারপর মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাড়াবে। এরপর সেজদা করবে শান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। এরপর সেজদা থেকে মাথা উঠিয়ে শান্ত হয়ে বসবে। আর পুরা নামাজ এভাবে আদায় করবে।বুখারী,আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৫৭। তবে সর্বাধিক কতবার পড়া যায় এব্যাপারে হাদীসে সীমাবদ্ধ করা হয়নি । যে যেই পরিমান পড়বে সে সেই পরিমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। ইনশাল্লাহ। তাছাড়া রাসূলে কারীম সাঃ রুকু এবং সেজদায় অধিক সময় ব্যায় করতেন বলে বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়। এ অধিক সময়ে তিনি কতবার তাসবীহ পাঠ করেছে তা গননা করাও একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। অনুরুপভাবে জোড়-বিজোড়ের ব্যাপারেও কোরআন ও নির্ভরযগ্য কোন হাদীসে কিছু বলা হয়নি। একটি হাদীসে এসেছে

رُوِيَ أَنَّهُ عليه السلام كَانَ يَخْتِمُ بِالْوِتْرِ يَعْنِي فِي تَسْبِيحَاتِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

অর্থঃ বর্ণীত আছে যে, রাসূল সাঃ বিজোড়ের মাধ্যমে শেষ করতেন।অর্থাৎ রুকু ও সেজদার তাসবীহ এর ক্ষেত্রে। হাদীসটি মারগিনানী রহঃ তার হেদায়া গ্রন্থে আল আওকাত তুকরাহু ফিহাস সালাত পরিচ্ছেদে এনেছেন। আল্লামা ঝাইলায়ী রহঃ হাদীসটির ব্যাপারে বলেন: গরীব জিদ্দান। নাসবুর রাইয়াহ, বাবু সিফাতিস সালাহ। আর ইবনে হাজার আস ক্বালানী রহঃ বলেন: লাম আজিদহু (হাদীসটি আমি পাইনি)। আদ দিরায়াহ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৭, হাদীস নং ১৭৬। হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণীত আছে তিনি বলেন:

ما رأيت أحدا أشبه صلاة بصلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم من هذا الفتى يعني عمر بن عبد العزيز فحزرنا في ركوعه عشر تسبيحات وفي سجوده عشر تسبيحات

অর্থঃ আমি রাসূল সাঃ এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজ এই যুবক ছাড়া (অর্থৎ ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহঃ) কাউকে পড়তে দেখিনি। আমি তার রুকুতে দশ তাসবীহ গণনা করলাম এবং সেজদায় দশ তাসবীহ গণনা করলাম। নাসায়ী, আস-সুনান, তাহকীক, আলবানী রহঃ, হাদীস নং ১১৩৫। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সবক্ষেত্রে তাাঁর রাসূল সাঃ এর সুন্নাত অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন । আর সঠিক বিষয় একমাত্র তিনিই ভাল জানেন।

প্রশ্নঃ 11
আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে নামায এ আমরা সেজদাই যে দুয়া গুলো পরি, আমি কি সে দুয়া গুলর পাশাপাশি নিজের মত করে বাংলাতে দুয়া করতে পারব। দয়া করে উত্তর দিবেন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন আমিন।
20 Dec 2025

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

ভাই আপনি এই ভিডিওটা দেখুন আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে আশা করি। সিজদায় বাংলা দুআ করা যাবে কি?

প্রশ্নঃ 469
১. ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত (ফজর, যোহর এর সুন্নাত) আদায় না করে কি ফরয সালাতের ইমামতি করতে পারবেন না? দেখা যাচ্ছে ইমাম সাহেব যখন আসলেন তখন সুন্নাত সালাত আদায় এর জন্য পর্যাপ্ত সময় নাই। অর্থাৎ জামাতের সময় হয়ে গেছে। ২. কোন কারনে ইমাম সাহেবের এক ওয়াক্ত বা কয়েক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে গেছে এবং তার এই কাযা নামায আদায় করা হয় নি। এমতাবস্থায় কি তিনি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করতে পারবেন? অর্থাৎ কাযা নামায ব্যতিরেকে কি অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতি করা যায়?
29 Dec 2025

ইমাম সাহেব সুন্নাত সালাত না পড়লেও সালাতে ইমামতি করতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। কাজা নামায ব্যতিরেকে অন্য ওয়াক্তের নামাযের ইমামতিতে কোন সমস্যা নেই।


কপিরাইট স্বত্ব © ২০২৫ আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট - সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত| Design & Developed By Biz IT BD